কোরআন শব্দের অর্থ কি? কুরআনের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম, আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে কোরআন শব্দের অর্থ কি, আল কুরআনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় এবং কুরআনের নাম সমূহ।
কোরআন শব্দের অর্থ কি
(قرآن) কোরআনের শাব্দিক অর্থ হল পাঠ করা, অধ্যয়ন করা। কোরআন শব্দটি কোরআন মজীদেও এ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
“নিশ্চয়ই উহার সংকলন ও পঠন আমারই দায়িত্ব। সুতরাং আমি যখন তা পাঠ করি, আপনি তখন সে পাঠের অনুসরণ করুন।” (কিয়ামাহ, আয়াত ১৭- ১৮)
কোরআন কাকে বলে
এখানে কোরআন শব্দটি পাঠ করা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। পারিভাষিক অর্থে কোরআন ঐ গ্রন্থকে বুঝায় যা রাসুলুল্লাহর নিকট ওহী মারফত অবতীর্ণ হয়েছে। বর্ণনা পরম্পরায় অধিক সংখ্যক বর্ণনাকারী মারফত বর্ণিত হয়েছে যা পঠিত হয় এবং সে পঠন ইবাদত হিসাবে গণ্য হয়।
কোরআন সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ যা কোটি কোটি মুসলমান প্রতিদিন তেলাওয়াত বা পাঠ করে থাকে নানাভাবে। দৈনিক পাঁচবার নামাজ আদায়ের সময় সবাইকে কোরআনের আয়াত আবৃতি করতে হয়। তাই এ গ্রন্থটি যে সর্বাধিক পঠিত কেতাব তাতে কোন সন্দেহ নেই। এ জন্যই কোরআন সর্বাধিক পঠিত কিতাব (The most read book) হিসেবে খ্যাত। দুনিয়ার কোটি কোটি মানুষের মুখে কোরআনের আয়াত প্রতি নিয়ত আবৃত হচ্ছে। লক্ষ কোটি মুসলমান এ গ্রন্থটি আদি অন্ত কণ্ঠস্থ করছে। দিবা রাত্রি চব্বিশ ঘন্টার প্রতিটি মুহুর্তে এ কিতাব হাজারো মানুষ কর্তৃক পঠিত হচ্ছে। কোন একটি মুহুর্তে কোরআন পঠিত হচ্ছেনা তা বলা যাবে না।
যুগে যুগে প্রতিটি দেশ ও জাতির নিকট আল্লাহ পথ প্রদর্শক পাঠিয়েছেন। তাঁরা আল্লাহর বাণী ও তাঁর প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থা তৎকালীন মানুষের কাছে প্রচার করেছেন। তাঁদের প্রচারিত জীবনাদর্শ ও মূল্যবোধের সার নির্যাস এ গ্রন্থে সন্নিবেশিত হয়েছে যা ইসলাম নামে বর্ণিত হয়েছে। দুনিয়ার সকল জ্ঞান বিজ্ঞানের সমাবেশও এতে রয়েছে। কোরআনে তা (সুরা ইউসুফে) এভাবে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু কোরআন পূর্বেকার সবগ্রন্থের সত্যায়নকারী এবং সকল বিষয়ের বিষদ বিবরণ প্রদানকারী। অপর আয়াতে বলা হয়েছে-
“আমি আপনার প্রতি এ গ্রন্থ নাজিল করেছি এবং তাঁর প্রত্যেক বিষয়ের ব্যাখ্যাস্বরূপ পাঠিয়েছি, হেদায়াত, রহমত এবং মুসলমানদেও জন্য সুসংবাদ।” (আন নাহল, আয়াত-৮৮)
আল কুরআনের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
কোরআন মজিদ এমন এক পবিত্র গ্রন্থ- যাতে বেশ কিছু তথ্য বর্ণিত হয়েছে যা দ্বারা তার সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞান লাভ করা যায়। পবিত্র গ্রন্থের নাম, যাঁর নিকট এ পবিত্র গ্রন্থ অবতীর্ণ হয়েছে তাহার নাম, যে মাধ্যমে তা নাযিল হয়েছে তার বর্ণনা, কখন কিভাবে তা প্রেরিত হল তার বিবরণ, কোন ভাষায় এ বাণী প্রেরিত হল তার বর্ণনা এবং সে ভাষায় কেন প্রেরিত হল তার কারণ ব্যাখ্যা এবং গ্রন্থটি যে সন্দেহ মুক্ত ও সংরক্ষিত ঐশী গ্রন্থ এ সব তথ্য কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থের মোকাবেলায় এটি হচ্ছে কোরআনের এক বিশেষ বৈশিষ্ট। কোরআনের (৪৩:৩, ২:১৮৫, ৪৪:৩, ৪৭:১০৬, ১৬:১০২, ৪২:৫১) বর্ণিত আয়াতগুলো দ্রষ্টব্য। কোরআন বর্ণিত এ আয়াতগুলোও প্রনিধানযোগ্য-
(ক) “এ সম্মানিত কোরআন সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ।” (সুরা বুরুজ-২২) (খ) “হে মোহাম্মদ (সা.)! আমরা তোমার নিকট এ কিতাব সঠিক তথ্য সহকারে পাঠিয়েছি, যাতে করে তুমি আল্লাহ প্রদত্ত পদ্ধতিতে মানুষের মাঝে ফয়সালা করতে পার এবং তুমি যেন খেয়ানতকারীদের উকিল না হয়ে পড়।”
(গ) “আমার নিকট এ কোরআন ওহীর মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে যাতে করে তোমাদেরকে এবং যাদের নিকট (এ বাণী) পৌছাবে তাদেরকে সতর্ক করতে পারি।” (সুরা আনয়াম)
উপরে বর্ণিত আয়াতগুলো দ্বারা আমরা এ কিতাবের নাম কোরআন ও আল্লাহর রাসুল মোহাম্মদের (সা.) নিকট ওহীর মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে জানতে পারি।
(ঘ) “যে ব্যক্তি জিবরাইলের দুশমন সে জেনে রাখুক নিশ্চয়ই জিবরাইল তোমার (রাসুলের) অন্তরে কোরআন অবতীর্ণ করেছে।” (আল বাকারাহ
(ঙ) “পবিত্র আত্মা (জিবরাইল) তোমার প্রভু থেকে ইহা যথাযথভাবে তোমার নিকট এসেছে।” (সুরা আন নাহল-১০২)
এ আয়াতগুলোতে জিবরাইল মারফত কোরআন নাজিল হয়েছে বলে বলা হয়েছে।
(চ) “নিশ্চয় আমি কোরআন এক মোবারক রাত্রিতে নাযিল করেছি।”
(ছ) “যারা মুমিন এবং ভাল কাজ করে ও বিশ্বাস করে যা মোহাম্মদের নিকট অবতীর্ণ হয়েছে এবং তা যথাযথ।”
(জ) “নিশ্চয়ই আমি ক্বদরের রাত্রিতে কোরআন নাযিল করেছি।”
(ঝ) “আমি আমার বান্দার উপর যা মিমাংসার দিন (বদর যুদ্ধের দিন ) নাযিল করেছি যখন দু’দল পরস্পর সম্মুখীন হয়েছিল।
উক্ত আয়াতগুলো থেকে জানা যায় যে কোরআন নাযিলের সুচনা রমজান মাসে হয় যে রাত্র কদরের রাত্রি ছিল সে দিন বদর যুদ্ধ সংগঠিত হয়।
(ঞ) “আমি কোরআন নাযিল করেছি বিভিন্ন ভাগে ভাগে (অংশ অংশ করে যেন আপনি তা মানুষের নিকট ক্রমে ক্রমে পাঠ করতে পারেন এবং আমি তা ধীরে ধীরে যথাযথভাবে অবতীর্ণ করেছি।”
(ট) “আমি তা নাযিল করেছি কোরআন রূপে আরবী ভাষায় যেন তোমরা তা ভালভাবে বুঝতে পার। ”
কোরআনের দীর্ঘকাল ব্যাপী (২৩ বছর) ক্রমান্বয়ে অবতীর্ণ করা এবং রাসুলের নিকট আরবী ভাষায় প্রেরণ সম্বন্ধে উপরে বর্ণিত আয়াতে বলা হয়েছে। আল-কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী আমরা জানতে পারলাম আল্লাহর প্রেরিত বাণী জিবরাইলের মাধ্যমে তাঁর রাসুল মোহাম্মদ (সা.) এর নিকট পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হয় এবং লায়লাতুল কাদরের পবিত্র রজনীতে ওহী নাযিলের সূচনা হয়।
কুরআনের নাম সমূহ
আল্লাহ প্রেরিত বাণী যা আল-কোরআন নামে প্রসিদ্ধ তার আরও বেশ কয়েকটি নাম কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। সর্বাধিক প্রসিদ্ধ নাম আল- কোরআন যার উল্লেখ সর্বমোট একষট্টি বার পাওয়া যায়। অন্যান্য বিভিন্ন নাম যা কোরআনে উল্লিখিত হয়েছে তা কোন কোন মনিষী পঞ্চান্ন (৫৫) বলে উল্লেখ করেছেন। আবার কারো মতে তা নব্বই এর অধিক। আল কোরআনে বর্ণিত অন্যান্য মশহুর নামগুলো এরূপ-
আল-কিতাব বা গ্রন্থ।
আল-ফোরকান অর্থাৎ- পার্থক্য বর্ণনাকারী, হক ও বাতিল সম্বন্ধে সুস্পষ্ট পার্থক্য বর্ণনাকারী।
আল জিকর অর্থাৎ- স্মারক, যা মানুষকে তার কর্তব্য সম্বন্ধে সচেতন করে (আল্লাহর প্রতি ও অপর মানুষের প্রতি)।
আল-হুদা অর্থাৎ- পথ প্রদর্শক, যা মানুষকে সৎ পথ প্রদর্শন করে এবং ন্যায়- নীতির নির্দেশ দেয়।
আল-তানযীল বা অবতীর্ণ বাণী, যে বাণী ওহী মাধ্যমে প্রাপ্ত।
আল-হুকুম বা আদেশ ও নির্দেশ যাতে সঠিক আদেশ ও নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে।
আল-শিফা অর্থাৎ রোগ মুক্তি।
আল-নিয়ামত অর্থাৎ অনুগ্রহ, আশীর্বাদ।
আল-কায়্যুম অর্থাৎ সত্য সংরক্ষক।
আল-নূর অর্থাৎ জ্যোতি।
আল-রহমত অর্থাৎ করুণা।
আল-খায়ের অর্থাৎ কল্যাণ।
আল-হাদী অর্থাৎ পথ প্রদর্শক।
আল-মোহায়মেন অর্থাৎ রক্ষক।
আল-মাওয়েজাহ অর্থাৎ উপদেশ।
আল-বায়ান অর্থাৎ ব্যাখ্যা।
আল-রূহ অর্থাৎ আত্মা-জীবন।
আল-হাবল অর্থাৎ দৃঢ় রজ্জু।
জান্নাত শব্দের অর্থ কি এবং জান্নাত কাকে বলে?
ওহী নাযিলের পদ্ধতি কয়টি ও কি কি?
ওহি শব্দের অর্থ কি? ওহি কাকে বলে? ওহী কত প্রকার ও কি কি?
হাদিস শব্দের অর্থ কি, হাদিস কাকে বলে? হাদিস কত প্রকার ও কি কি?
আখলাক শব্দের অর্থ কি, আখলাক কাকে বলে? আখলাক কত প্রকার ও কি কি?
আকাইদ শব্দের অর্থ কি? আকাইদ কাকে বলে? আকিদা অর্থ কি?
