বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম; জিম তানভীর লিখিত বই প্রাচীর pdf ডাউনলোড করতে নিচে দেওয়া DOWNLOAD বাটনে ক্লিক করুন।
প্রাচীর pdf
| লেখক | জিম তানভীর |
| ধরণ | ইতিহাস |
| ভাষা | বাংলা |
| প্রকাশক | রেইনড্রপস মিডিয়া |
| প্রকাশকাল | ২০১৫ |
| পৃষ্ঠা | ২৪৫ |
| ফাইল সাইজ | ৩ MB |
| ফাইল টাইপ |
বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলা তারিক মেহান্নার কথাগুলো পড়ি আজকে থেকে প্রায় দুই বছর আগে। কথাগুলো আমাকে এতটাই নাড়া দিয়েছিল যে, আমি সেদিনই কথাগুলো অনুবাদ করতে বসে পড়ি। সম্ভবত সেই লেখাটি আমার করা প্রথম অনুবাদ। পরবর্তীতে আরো কিছু কারাবন্দী ভাইয়ের লেখা পড়া হয়। যতই পড়লাম ততই মনে হতে লাগল, তাদের কথায় কী যেন একটা আছে যেটা অন্য কারো লেখায় নেই। অন্যদের কথা যদি কানে বাজে তবে তাদের কথা যেন হৃদয়ে ধাক্কা দেয়। তাদের চিন্তাগুলো স্ফটিক-স্বচ্ছ ও নির্মোহ, কথাগুলো ইস্পাতদৃঢ়, এবং তাদের উপলব্ধিতে আছে এমন এক তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি যা অনেক ‘স্বাধীন’ মানুষদেরও নেই।
প্রাচীর pdf – Prachir pdf
সময়ের সাথে আবিষ্কার করলাম, সত্য কথা বলার আরেক নাম কারাবাস। আর তাই আমরা দেখি ইসলামের ইতিহাস জুড়ে সত্যভাষী ‘আলিমদের সাথে কারাগারের এক অদ্ভুত সখ্যতা। আর আমাদের এই সম্মানিত ‘আলিমগণ হচ্ছেন নবী ইউসুফ এর গর্বিত উত্তরসূরী, যাকে আল্লাহ কারাগারে প্রেরণ করেছিলেন, দান করেছিলেন নব্যুওয়াত, শিক্ষা দিয়েছিলেন ‘ইলম এবং হিকমাহ এবং সবশেষে দিয়েছিলেন দুনিয়ার বুকে রাজত্ব। আর সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের পূর্ববর্তী ‘আলিমগণ সত্যকে ভালোবেসেছেন নিজের জীবন থেকেও বেশি, তাই আল্লাহ তাদের কলমের দ্বারা দ্বীনকে রক্ষা করেছেন এবং আজও তা করে চলেছেন।
আর এরই সাথে ইতিহাস থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাই, তা হলো, একজন মানুষকে বন্দী করা যায়, হত্যা করা যায় কিন্তু তার চিন্তা ও আদর্শকে দমন করা যায় না। আর তাই আমরা দেখি ইমাম আবু হানিফা, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহদেরকে ৯৯ বন্দী করে থামিয়ে রাখা যায়নি, তারা যে শিক্ষা দিয়েছেন তা আজ পৌঁছে গেছে মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে। এটা আল্লাহর ক্ষমতার এক জাজ্বল্যমান প্রদর্শনী।
প্রাচীর pdf – Prachir pdf
আল্লাহ তা’আলা তার দ্বীনকে আলোকিত রাখবেন আর সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে যেন আমরা শামিল হতে পারি, সে প্রয়াসেই কারাবন্দী ভাইদের লেখা প্রকাশ করা। আল্লাহ তা’আলা হকের জবান পছন্দ করেন, যালিম চায় গলা টিপে সে জবান রুদ্ধ করে দিতে, আর তাই আমরা চাই সে কথাগুলো প্রকাশ করে দিতে। তাই সমসাময়িক কিছু কারাবন্দী ভাইদের অনুদিত লেখার সংকলন এই বই। এ বইয়ের প্রায় সব লেখাই আমাদের ভাইরা লিখেছেন কারাগারে বসে, ইনশা আল্লাহ, লেখাগুলো ঝর্ণা হয়ে আমাদের শুষ্ক হৃদয়ে প্রাণের সঞ্চার ঘটাবে, আমাদের ঈমানের গাছগুলোকে সতেজ করে তুলবে এবং আমাদেরকে এই উপলব্ধি করাতে সক্ষম হবে যে, আমরা মুক্ত হয়েও কতটা বন্দী, আর কারাগারে আমাদের ভাই-বোনেরা বন্দী হয়েও কতটা স্বাধীন!
এই কাজটি সম্পন্ন করার একচ্ছত্র দায়ভার থেকে মুক্তি চেয়ে নেওয়া আমার একান্তই দায়িত্ব। এ কাজটি শেষ করা হয়তো সম্ভবই হতো না, যদি না আল্লাহর একগুচ্ছ বান্দা একনিষ্ঠভাবে এই কাজে নিজেকে ঢেলে দিত। আল্লাহ এই কাজকে গ্রহণ করে নেবেন এবং পাঠকবৃন্দ যেন এই কাজের দ্বারা উপকৃত হতে পারেন, সেই তৌফিক ঢেলে দেবেন, এই কামনা করি।
ঠিক চার বছর আগের এই দিনে আমি স্থানীয় হাসপাতালে আমার শিফটিং ডিউটি শেষ করে গাড়ির দিকে হেঁটে যাচ্ছিলাম। তখন দুই ফেডারেল এজেন্ট (FBI) আমার পথরোধ করে। তারা আমাকে দুটি প্রস্তাবের মাঝে একটি বেছে নিতে বলে। একটি সহজ, অপরটি কঠিন। তাদের ভাষায় “সহজ” প্রস্তাবটি ছিল সরকারের চর অর্থাৎ এজেন্ট হিসেবে কাজ করার। সেটি করলে আমাকে কখনও আদালত বা কারাগারের ত্রিসীমানায়ও যেতে হবে না। আর কঠিন প্রস্তাবটির বাস্তব রূপ আজ আপনারা সবাই দেখতে পাচ্ছেন।
প্রাচীর pdf – Prachir pdf
আমি কঠিন প্রস্তাবটিই বেছে নিয়েছি এবং তাই, গত চার বছরের অধিকাংশ সময় ধরে আমি আলমারির খোপের মতো ছোট্ট একটা কক্ষে দিনের ২৩ ঘন্টাই নিঃসঙ্গ অবস্থায় বন্দী হয়ে কাটিয়েছি। আমাকে এতদিন আটকে রাখতে এবং বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে এফবিআই ও তাদের আইনজীবীরা কঠিন পরিশ্রম করেছে। সরকার সাধারণ মানুষের পকেটের ট্যাক্সের লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করেছে। শেষমেশ আজ আমাকে আপনাদের সামনে হাজির করা হয়েছে যেন আমাকে আরো দীর্ঘদিন কারাভোগের সাজা দেওয়া যায়।
রায় ঘোষণার এই দিনটিকে সামনে রেখে অনেকেই আমাকে অনেক পরামর্শ দিয়েছে। আপনাদের সামনে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কী বললে আমার উপকার হবে, আমার কী কথা বলা উচিত ইত্যাদি নিয়ে অনেকেই পরামর্শ দিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন আমার ক্ষমা চেয়ে আত্মসমর্পণ করা উচিত যাতে করে লঘু শাস্তি হয়। অনেকে বলেছেন ক্ষমা চাই বা না-চাই, আমার কপালে কঠিন শাস্তিই জুটবে। কিন্তু সেসব পরামর্শ উপেক্ষা করে আমি আজকে শুধু নিজেকে নিয়ে কয়েক মিনিট কথা বলতে চাই।
যখন আমি আমেরিকান সরকারের বেতনপুষ্ট গুপ্তচর হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলাম, তখন সরকার আমাকে আটক করল মুজাহিদীনদের সাহায্য করার “অপরাধে”। এই মুজাহিদীনরা মুসলিম বিশ্বের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়ছে। মিডিয়ার ভাষায় এরা হচ্ছে “সন্ত্রাসী” বা “টেররিস্ট”। আমি কোনো মুসলিম দেশে জন্মগ্রহণ করিনি। এই আমেরিকাতেই আমার জন্ম আর বেড়ে ওঠা।
প্রাচীর pdf
