বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম; ড. খালিদ আবু শাদি লিখিত বই মনের মতো সালাত pdf ডাউনলোড করতে নিচে দেওয়া DOWNLOAD বাটনে ক্লিক করুন।
| লেখক | ড. খালিদ আবু শাদি |
| ধরণ | নামাজ |
| ভাষা | বাংলা |
| প্রকাশক | সন্দীপন প্রকাশন |
| প্রকাশকাল | ২০২১ |
| পৃষ্ঠা | ১৮৮ |
| ফাইল সাইজ | ৯ MB |
| ফাইল টাইপ |
মানুষ কী?—এই প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে না পারলে ‘মানুষের সমস্যাগুলো কী কী তা বুঝাও সম্ভব না, সমাধান কী হবে, তা-ও বাতলানো সম্ভব না। মানুষ কী?—এই প্রশ্নের উত্তর যদি অসম্পূর্ণ-আংশিক-একপেশে হয়, তাহলে যত সমাধানই আপনি খাড়া করবেন সবই হবে অপূর্ণ-আংশিক-একপেশে, যা কখনও কিছুটার সমাধান করবে, কখনও সমস্যাকেই আরও বাড়িয়ে তুলবে।
মনের মতো সালাত pdf – Moner moto salat pdf – ড. খালিদ আবু শাদি
রেনেসাঁ-এনলাইটেনমেন্ট মডার্নিটি প্রভৃতি ধাপ পেরিয়ে গত ৭০০ বছরে ইউরোপ তার চিন্তার অভিযাত্রায় আজ যেখানে এসে পৌঁছেছে, তা হলো—বস্তুবাদ। মানুষ- প্রকৃতি-বিশ্ব-জ্ঞান-মন ইত্যাদি সকল প্রশ্নের বস্তুবাদী সংজ্ঞাকে ভিত্তি ধরে নেয়া হয়েছে; কেননা বস্তু স্পষ্ট-সহজ-বোধগম্য। আর বস্তুর বাইরে সকল কিছুর অস্তিত্বকে হয় অস্বীকার করা হয়েছে, বা অপ্রয়োজনীয় সাব্যস্ত করা হয়েছে। পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র, বিজ্ঞানবাদ, আধুনিক দর্শন, ইতিহাসবাদ (historicism) — সবই বস্তুবাদের সন্তান।
তবে ইউরোপকে একতরফা দোষ দেয়া যায় না, ইউরোপ সাধে পরেনি বস্তুবাদের চশমা। হাজার বছর ধরে জোর করে পরিয়ে রাখা ভাববাদের ঠুলি ইউরোপকে অতিষ্ঠ করে রেখেছিল। মানব প্রবৃত্তির অস্বাভাবিক দমন, যাবতীয় ভোগ পরিত্যাগ, বস্তুগত পরিবর্তনের চেষ্টা ছেড়ে দুঃখকে বরণ, রোগ-ধ্বংস-কষ্টকে প্রায়শ্চিত্ত ভেবে আত্মিক মুক্তির সন্ধান, ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানকে জোর করে অস্বীকার— পৌলীয় খৃষ্টবাদের ইত্যাকার ভাববাদী অত্যাচার কাঁহাতক সইবে ইউরোপ?
উলটোদিকে চার্চ নিজে ভোগ- বিলাসিতার সীমা ছড়িয়ে গেছে—ফ্রান্স জার্মানি-ইটালির এক-তৃতীয়াংশ জমির মালিক চার্চ, পাদ্রীরা বিক্রি করছে বেহেশতের সার্টিফিকেট, মঠবাসী সাধুদের যৌনলীলা চাউর হয়ে গেছে। মানুষের ওপর এই কঠিন জীবনদর্শন চাপিয়ে দিয়ে গুটিকয়েক লোকের সীমাহীন ভোগ-বিলাসিতা-অত্যাচার ইউরোপ আর মেনে নেয়নি।
মনের মতো সালাত pdf – Moner moto salat pdf – ড. খালিদ আবু শাদি
আর যাতে কোনোদিন এই ভাববাদী দুঃশাসন ফিরে না আসে, সেজন্য ‘বস্তুবাদের চরমপন্থা’য় অবস্থান নিয়েছে ইউরোপ। এই অবস্থানেরই ফলাফল আজকের নৈতিকতায় লিবারেলিজম, নারী-দর্শনে নারীবাদ, সফলতার সংজ্ঞায় ভোগবাদ, অর্থক্ষেত্রে পুঁজিবাদ, রাষ্ট্রনীতিতে গণতন্ত্র, সমরনীতিতে রেজিমেন্ট সিস্টেম, ব্যক্তিনীতিতে ক্যারিয়ারিজম, জ্ঞানতত্ত্বে প্রকৃতিবাদ, আধ্যাত্মিকতায় দেশপ্রেম, প্রেরণায় জাতীয়তাবাদ। এই প্রতিটি ক্ষেত্রে একসময় ভাববাদ (পৌলীয় খৃষ্টবাদ) রাজত্ব করেছে। এই প্রতিটি জায়গা থেকে ভাববাদ-কে ঝেটিয়ে বিদায় করতে ইউরোপ বদ্ধপরিকর।
মানুষের চরম ভাববাদী সংজ্ঞা হটিয়ে এখন মানুষের চরম বস্তুবাদী সংজ্ঞা। অসম্পূর্ণ সংজ্ঞা ও অনুসিদ্ধান্তে আগেও মানবতা ধুঁকেছে, এখনও ধুঁকছে। ভাববাদের যুগে জমিদার যাজকদের অত্যাচারে প্রজারা ভুগেছে। বস্তুবাদের যুগে উন্নত বিশ্বের প্রজাদের ভোগা শেষ শিল্পবিপ্লবের পর পর, এখন ফার্স্ট-ওয়ার্ল্ডের কাছে ভুগছে থার্ড ওয়ার্ল্ড। যেন বিশ্বায়নের গ্লোবাল- ভিলেজে সামন্তরাজা উন্নতবিশ্ব আর প্রজা উন্নয়নশীল-অনুন্নতরা। কিচ্ছু বদলায়নি, মানবজাতি সমাধান পায়নি।
কেন? সমস্যাটা কোথায়? সমস্যাটা মানুষের সংজ্ঞায়। ‘মানুষ স্বার্থপর ও বদ, যৌনতা ও অর্থতাড়িত উন্নত পশু’ এই বস্তুবাদী সংজ্ঞার ওপর রাষ্ট্র দাঁড় করালে তা হবে ‘পশুদেরই রাষ্ট্র’, সমাজের সংজ্ঞা দিলে তা হবে ‘যৌনস্বাধীন স্বার্থপরের সমাজ’, বাজারের সংজ্ঞা দিলে তা হবে ‘দয়ামায়াহীন মুনাফালোভীদের বাজার’। মানুষ বস্তু (দেহ) ও অবস্তুর (আত্মা) সমন্বয়। দুটো মিলেই মানুষ। বলা হচ্ছে— ব্রেইনে ডোপামিন নামক কেমিক্যালের বান, আর তার প্রতিক্রিয়ায় চোখ-মুখের পেশীর সংকোচন— ‘এটাই হাসি-আনন্দ; এর বাইরে আর কিচ্ছু নেই।
মনের মতো সালাত pdf – Moner moto salat pdf – ড. খালিদ আবু শাদি
তাহলে এই আনন্দ’বোধ’-টা কী? এটা তো কেমিক্যালও না, পেশীও না। এই অনুভূতি বোধ টা করল কে? ঠিক ২:০০ টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগকারী সোবহান সাহেবের দেহ তো দেহই আছে। ১:৫৯ মিনিটে কী ছিল তার দেহে, যা ২:০১ মিনিটে আর নেই? কোষগুলো সবই তো তখনো সজীব। বস্তুবাদী পশ্চিমের জবাব হলো—এই বোধ, এই চেতনা, এই ভাব বলে আলাদা কিছু নেই। এগুলো এই ব্রেইন-কেমিক্যালেরই অংশ। হয় না, হিসেব মেলে না। মানুষের বোধ, অনুভব, শিল্প, ধর্মবোধ, শখ, বিবেক—এসবকে কেমিক্যাল বলে দিয়ে দায় এড়ানো যায়, কিন্তু সমাধান মেলে না।
সকল চরমপন্থী মতাদর্শ ও চরমপন্থী জাতির মাঝে তোমরা হচ্ছো মধ্যপন্থী। তোমাদেরকে নমুনা করে অপরাপর জাতিকে / মতাবলম্বীদের বিচার হবে। আর তোমাদের বিচার হবে রাসূলকে মাপকাঠি রেখে। আদর্শগতভাবে অতিভাববাদী খৃষ্টধর্ম আর অতিবস্তুবাদী পশ্চিমা সভ্যতার ঠিক মাঝখানে অবস্থান ইসলামের। আল্লাহ খোদ মুসলিমদের সম্বোধন করেছেন ‘মধ্যপন্থী’ উম্মাহ হিসেবে। ইসলামে আধ্যাত্মিকতা জগত-মায়া-চাহিদাকে ত্যাগ করে নয়, এগুলোকে সাথে নিয়ে এগুলোর ভেতরেই আধ্যাত্মিকতা।
ইসলাম হলো সেই জীবনপদ্ধতি বা জীবনদর্শন (দ্বীন), যা খোদ স্ৰষ্টা দিয়েছেন। ‘বানালেনই যিনি, তিনিই কি জানবেন না?’ যে, মানুষকে কোন উপাদানে বানিয়েছি। বস্তু-অবস্তু, দেহ-আত্মা, ফিতরাত-নৈতিকতা, সমষ্টি-ব্যষ্টি, বায়োলজি- সাইকোলজি, সোশিওবায়োলজি- সোশ্যাল সাইকোলজি ইকোলজি সকল বিষয় ব্যালেন্স করে সর্বাঙ্গসুন্দর, সর্বোচ্চ কল্যাণদাত্রী জীবনপথ ‘সীরাতুল মুস্তাকীম’ দেয়া হয়েছে।
বস্তুকে বস্তু দ্বারা, অবস্তুকে অবস্তু দ্বারা খোরাক দাও। ওষুধও খাও, তাওয়াক্কুলও করো। শুধু বস্তুর পেছনে ছুটলে অবস্তু পেরেশান হয়, শুধু অবস্তুর পেছনে ছুটলে বস্তু কষ্ট পায়। “নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংস কোরো না। নিজের ওপর রহম করো’। মায়া ত্যাগ করে আধ্যাত্মিক উন্নতি হবে না। মায়ার যথার্থ লালনেই চূড়ান্ত মুক্তি।
মনের মতো সালাত pdf
