বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম; হযরত ওমর রাঃ এর জীবনী সংক্রান্ত বই এর pdf ফাইল ডাউনলোড করতে নিচে বইয়ের নামের উপর ক্লিক করুন।
খোলাফায়ে রাশেদূন – বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
গল্পে হযরত উমর রাঃ – ইকবাল কবীর মোহন
ছোটদের হযরত ওমর রাঃ – খান মুহাম্মদ কামরুল আহসান
শহীদে মেহরাব হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাঃ – সাইয়েদ ওমর তেলমেসানী
হযরত ওমর – আবদুল মওদুদ
হযরত ওমর রাঃ কেন অমর – এ,বি,এম কামাল উদ্দিন
নাম ও বংশ পরিচয়ঃ নাম- উমর; উপাধি-ফারুক। পিতার নাম খাত্তাব। পরিচয়-উমর ইবনুল খাত্তাব অধিকাংশ ইতিহাসবিদদের মতে হযরত উমর (রা.) হিজরতের ৪০ বছর পূর্বে ৫৮৩ খ্রিঃ জন্মগ্রহণ করেন।
শৈশব ও যৌবনঃ হযরত উমর (রা.) যৌবনের প্রারম্ভেই যুদ্ধ বিদ্যা, কুন্তি, বক্তৃতা ও বংশ তালিকা শিক্ষা প্রভৃতি বিষয় আয়ত্ত করেন।
তিনি আরবের ওকায মেলায় কুস্তি লড়তেন, কিতাবুল আশরাফ গ্রন্থে উল্লেখ আছে “হযরত উমর (রা.) একজন মস্ত বড় পাহলোয়ান ছিলেন, অশ্বারোহী হিসেবে তাঁর পারদর্শিতা সর্বজনবিদিত।”
ঐতিহাসিক বালাযুরীর মতে রাসূলে করীম (স.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির সময় সমগ্র কুরাইশ বংশে মাত্র সতের জন ব্যক্তি লেখা পড়া জানতো। হযরত উমর (রা.) এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।
তিনি যৌবনের এক পর্যায়ে জীবিকা অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক উন্নতি সাধন করতে সমর্থ হন।
তিনি ব্যবসা উপলক্ষে বিভিন্ন অঞ্চলে গমন করেছিলেন। ফলে অনেক জ্ঞানী-গুণির সাথে মেলামেশার সুযোগ পান। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তাঁর মধ্যে উন্নত ব্যক্তিত্ব, আত্মমর্যাদা, অভিজ্ঞতা এবং বিচার বুদ্ধি ইত্যাদি গুণের সমাবেশ ছিল। আর তা ছিল তাঁর বিভিন্ন গুণীজনের সাথে মেলামেশার ফল।
ইসলাম গ্রহণঃ কুরাইশ সরদারদের মধ্যে হযরত উমর (রা.) ও আবু জাহেল ইসলামের ঘোরতর শত্রু ছিলেন। রাসূলে করীম (স.) তাদের দুজনের জন্য দোয়া করেন-
হে আল্লাহ ! ওমার ইবনে হিশাম (আবু জেহেল) অথবা উমর ইবনুল খাত্তাব এ দু’জনের একজনকে ইসলামে প্রবেশ করার তৌফিক দিয়ে ইসলামকে শক্তিশালী করুন। আল্লাহ তা’আলা হযরত উমর (রা.)-কে গ্রহণ করেন।
বীর শ্রেষ্ঠ উমরের ইসলাম গ্রহণ ইসলামের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূত্রপাত করে। তখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ জন লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এ সময় তাঁর বয়স ছিল সাতাশ বছর। হযরত উমর ইসলাম গ্রহণ করার পর প্রকাশ্যে মুসলমানগণ নামায পড়তে আরম্ভ করে। এ সময় মহানবী (সা.) তাকে (ফারুক) উপাধিতে ভূষিত করেন। (আল ফারুক- শিবলী নোমানী)
হযরত উমর (রা.) -এর ইসলাম গ্রহণের পর হতে ইসলাম প্রচারের গতি তীব্র হয়। তিনি কাফিরদের একত্র করে স্বীয় ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন। ফলে ইসলামের শক্তি ও মর্যাদা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে।
হযরত উমর (রা.) মুসলমান হওয়ার পর মুসলমানগণ অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে হিজরত করেন। উমর (রা.) কাফেরদের কোন এক সভায় উচ্চস্বরে ঘোষণা করেন- “আমি মদিনা যাচ্ছি, যে নিজের আপন মাকে কাঁদাতে চাও, ঐ উপত্যকার নিকটে আমার সাথে মোকাবিলা করবে; তবে মনে রাখবে তাকে ফেরানোর সাহস কারো নেই।” হযরত উমর নিরাপদে মদীনায় পৌঁছে গেলেন।
ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, “হযরত উমরের মুসলমান হওয়া ইসলামের বিজয় স্বরূপ। তাঁর হিজরত ছিল আল্লাহর সাহায্য স্বরূপ। তিনি ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন। তাই তো আমরা তাকে হিজরতে, আযান প্রচলনে, বদরে, উহুদে, বানু নাজিরের নির্বাসনে, খন্দকের যুদ্ধে, হুদায়বিয়ার সন্ধিতে, খায়বরের যুদ্ধে, মক্কা বিজয়ে, হোনায়েনের যুদ্ধে। তাবুক অভিযানে আবু বকরের খলিফা নির্বাচনে নিবেদিত প্রাণ হিসেবে পাই।”
হযরত উমর (রা)-এর চরিত্রঃ হযরত উমর (রা.) ইসলামী জগতে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। মহাজ্ঞানী, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, উত্তম ব্যবস্থাপনা, ন্যায়বিচার, ধার্মিকতা, সরলতা, সত্যবাদিতা, সত্যনিষ্ঠ, ধৈর্য ও সহনশীলতা ও কোমলতা সহ বহুমুখী গুণের অধিকারী ছিলেন।
হজরত উমর (রা.) সহজ সরল ও অনাড়ম্বর জীবন যাপন করতেন। বিনয় ও নম্রতার সাথে সারা রাত আল্লাহর ইবাদত করতেন। জাগতিক লোভ-লালসা ও জাঁকজমকতা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি।
হযরত উমর (রা.) মদীনা শহর ও শহরতলীতে গভীর রাতে বের হতেন এবং রাজ্যে কোন গরীব-দুঃখী আছে কিনা তা পরিদর্শন করতেন, প্রয়োজনে তিনি নিজের কাঁধে খাদ্য সামগ্রী বহন করে দীন-দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করতেন। এগুলো ছিল তার জনসেবার উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত।
হযরত উমর (রা.) খিলাফত আলা মিনহাজিন নবুওয়াত’ তথা নবী সা. এর পদ্ধতি আদর্শ ও বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ ও সংরক্ষণ করতে যথেষ্ট যত্নবান ছিলেন। ঐতিহাসিক হিট্টি বলেন, “হযরত উমর (রা.) – এর জীবন চরিত্র অল্প কথায় বলা যায়, সরলতা ও কর্তব্য জ্ঞান ছিল তার জীবনাদর্শ, ন্যায়পরায়ণতা ও একনিষ্ঠতা ছিল তার শাসনের মূলনীতি।
তিনি ছিলেন সঠিক অর্থেই ন্যায়বিচারক। তিনি বিচার বিভাগকে দুর্নীতি মুক্ত করার জন্য জ্ঞানীদের বিচারক নিযুক্ত করতেন। তাঁর ন্যায় ও নিরপেক্ষ বিচারের খ্যাতি সর্বকালের জন্য উজ্জল দৃষ্টান্ত।
এক কথায় হযরত উমর (রা.) -এর মত বহুমুখী গুণে গুনান্বিত ব্যক্তিত্ব পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ন্যায়- পরায়ণতা, সত্য নিষ্ঠা, কোমলতা ও সংযমে তিনি ছিলেন নবী করীম (স.)-এর সার্থক প্রতিচ্ছবি।