ইমাম মালেক হজ্জ অধ্যায় ২য় ভাগ হাদিস নং ৭৮১ – ৮৭০

Table of Contents - সূচিপত্র

পরিচ্ছেদঃ ২৬

হারাম শরীফের এলাকায় শিকার করা

৭৮১

قَالَ مَالِك كُلُّ شَيْءٍ صِيدَ فِي الْحَرَمِ أَوْ أُرْسِلَ عَلَيْهِ كَلْبٌ فِي الْحَرَمِ فَقُتِلَ ذَلِكَ الصَّيْدُ فِي الْحِلِّ فَإِنَّهُ لَا يَحِلُّ أَكْلُهُ وَعَلَى مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ جَزَاءُ الصَّيْدِ فَأَمَّا الَّذِي يُرْسِلُ كَلْبَهُ عَلَى الصَّيْدِ فِي الْحِلِّ فَيَطْلُبُهُ حَتَّى يَصِيدَهُ فِي الْحَرَمِ فَإِنَّهُ لَا يُؤْكَلُ وَلَيْسَ عَلَيْهِ فِي ذَلِكَ جَزَاءٌ إِلَّا أَنْ يَكُونَ أَرْسَلَهُ عَلَيْهِ وَهُوَ قَرِيبٌ مِنْ الْحَرَمِ فَإِنْ أَرْسَلَهُ قَرِيبًا مِنْ الْحَرَمِ فَعَلَيْهِ جَزَاؤُهُُُُُ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

হারাম শরীফের এলাকায় যদি কোন প্রাণী শিকার করা হয় বা হারাম শরীফের এলাকায় কোন প্রাণীকে লক্ষ করে শিকারী কুকুর ছাড়া হয় আর তা যদি হারাম শরীফের বাইরে নিয়েও তাকে শিকার করে তবু উক্ত পশু খাওয়া হালাল নয়। যে ব্যক্তি ঐ ধরনের কাজ করবে তাকে কাফফারা হিসেবে তার বদলা দিতে হবে। আর যদি হারাম শরীফের বাহিরে কোন প্রাণীকে লক্ষ করে শিকারী কুকুর ছাড়া হয় আর তা হারাম শরীফের ভেতর এনে শিকার করে, তবে তাও খাওয়া জায়েয নয়, কিন্তু উক্ত ব্যক্তির উপর কাফ্‌ফারা আসবে না। তবে হারাম শরীফের অতি নিকট সীমানায় যদি কুকুর ছেড়ে থাকে তবে তাকেও কাফ্‌ফারা দিতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ২৭

শিকার করার প্রতিফল

৭৮২

قَالَ مَالِك قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّدًا فَجَزَاءُ مِثْلِ مَا قَتَلَ مِنْ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ أَوْ عَدْلُ ذَلِكَ صِيَامًا لِيَذُوقَ وَبَالَ أَمْرِهِ } قَالَ مَالِك فَالَّذِي يَصِيدُ الصَّيْدَ وَهُوَ حَلَالٌ ثُمَّ يَقْتُلُهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ بِمَنْزِلَةِ الَّذِي يَبْتَاعُهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ ثُمَّ يَقْتُلُهُ وَقَدْ نَهَى اللهُ عَنْ قَتْلِهِ فَعَلَيْهِ جَزَاؤُهُ – ১২৯৯-وَالْأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّ مَنْ أَصَابَ الصَّيْدَ وَهُوَ مُحْرِمٌ حُكِمَ عَلَيْهِ بِالْجَزَاء.

قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي الَّذِي يَقْتُلُ الصَّيْدَ فَيُحْكَمُ عَلَيْهِ فِيهِ أَنْ يُقَوَّمَ الصَّيْدُ الَّذِي أَصَابَ فَيُنْظَرَ كَمْ ثَمَنُهُ مِنْ الطَّعَامِ فَيُطْعِمَ كُلَّ مِسْكِينٍ مُدًّا أَوْ يَصُومَ مَكَانَ كُلِّ مُدٍّ يَوْمًا وَيُنْظَرَ كَمْ عِدَّةُ الْمَسَاكِينِ فَإِنْ كَانُوا عَشَرَةً صَامَ عَشَرَةَ أَيَّامٍ وَإِنْ كَانُوا عِشْرِينَ مِسْكِينًا صَامَ عِشْرِينَ يَوْمًا عَدَدَهُمْ مَا كَانُوا وَإِنْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْ سِتِّينَ مِسْكِينًا قَالَ مَالِك سَمِعْتُ أَنَّهُ يُحْكَمُ عَلَى مَنْ قَتَلَ الصَّيْدَ فِي الْحَرَمِ وَهُوَ حَلَالٌ بِمِثْلِ مَا يُحْكَمُ بِهِ عَلَى الْمُحْرِمِ الَّذِي يَقْتُلُ الصَّيْدَ فِي الْحَرَمِ وَهُوَ مُحْرِمٌ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন হে মু’মিনগণ, ইহরাম অবস্থায় তোমরা কোন প্রাণী শিকার করো না। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে শিকার করে তবে যা শিকার করল তদ্রূপ একটি গৃহপালিত পশু তাকে বদলা দিতে হবে। এর ফয়সালা তোমাদের মধ্যে দুজন তাকওয়ার অধিকারী লোক করে দেবে। এইরূপ ধার্যকৃত পশু কুরবানী হিসেবে মক্কায় প্রেরিত হবে অথবা উহার কাফফারা হবে মিসকীনকে আহার্য দান করা বা সমপরিমাণ রোযা রাখা যাতে সে স্বীয় কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে পারে।

মালিক (র) বলেন, কোন ইহরামবিহীন ব্যক্তি যদি কোন প্রাণী শিকার করে পরে ইহরাম বেঁধে উক্ত শিকার বধ করে তবে সে ঐ মুহরিম ব্যক্তির মত, যে ব্যক্তি শিকারকৃত প্রাণী খরিদ করে বধ করে। আল্লাহ্ উহা হতে নিষেধ করেছেন, সুতরাং উক্ত ব্যক্তির উপরও উহার বিনিময় প্রদান ওয়াজিব হবে।

মালিক (র) বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত হল, মুহরিম একা বা দলবদ্ধভাবে যেভাবেই শিকার করুন না কেন তাঁর উপর বদলা দেওয়ার হুকুম প্রযোজ্য হবে।

মালিক (র) বলেন, এই বিষয়ে সর্বোত্তম যে কথা আমি শুনেছি তা হল শিকারকৃত প্রাণীটির মূল্য হিসেব করে দেখা হবে যে, ঐ মূল্যের বিনিময়ে কত পরিমাণ শস্য বাজারে পাওয়া যায়। পরে এক এক ‘মুদ’ পরিমাণ শস্য এক একজন মিসকীনদের দিয়ে দেওয়া হবে বা এক এক মুদ হিসেবে যত পরিমাণ মুদ হবে তত সংখ্যক রোযা রাখবে। মিসকীনদের সংখ্যা হিসেবে তা হবে। দশজন মিসকীন হলে দশ রোযা, বিশজন হলে বিশ রোযা, এইভাবে সংখ্যা ষাটের অধিকও যদি হয়ে যায় তবে তত পরিমাণ রোযা তাকে রাখতে হবে।

মালিক (র) বলেন, আমি শুনেছি যে, ইহরামবিহীন ব্যক্তি হারাম শরীফের অভ্যন্তরে কোন প্রাণী শিকার করলে তার উপর ইহরাম বেঁধে হারমের ভিতর বধ করার মত হুকুম হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ২৮

ইহরাম অবস্থায় কোন্ ধরনের প্রাণী হত্যা করা জায়েয

৭৮৩

– حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خَمْسٌ مِنْ الدَّوَابِّ لَيْسَ عَلَى الْمُحْرِمِ فِي قَتْلِهِنَّ جُنَاحٌ الْغُرَابُ وَالْحِدَأَةُ وَالْعَقْرَبُ وَالْفَأْرَةُ وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ.

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, পাঁচ প্রকার প্রাণী মুহরিম ব্যক্তি যদি হত্যা করে তবে তার কোন গুনাহ হবে না কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর, হিংস্র কুকুর (বা হিংস্র জন্তু, যথা বাঘ, চিতাবাঘ ইত্যাদি)। (বুখারী ১৮২৮, মুসলিম ১১৯৯)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭৮৪

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خَمْسٌ مِنْ الدَّوَابِّ مَنْ قَتَلَهُنَّ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ الْعَقْرَبُ وَالْفَأْرَةُ وَالْغُرَابُ وَالْحِدَأَةُ وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ.

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, পাঁচ ধরনের প্রাণী ইহরাম অবস্থায় যদি কেউ হত্যা করে, তবে তার কোন গুনাহ্ হবে না, যথা বিচ্ছু, ইঁদুর, হিংস্র কুকুর, চিল ও কাক। (বুখারী ৩৩১৫, মুসলিম ১২০০)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭৮৫

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خَمْسٌ فَوَاسِقُ يُقْتَلْنَ فِي الْحَرَمِ الْفَأْرَةُ وَالْعَقْرَبُ وَالْغُرَابُ وَالْحِدَأَةُ وَالْكَلْبُ الْعَقُوْرُ.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) থেকে বর্ণিতঃ

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, পাঁচ প্রকার প্রাণী ফাসিক। এগুলো হারাম শরীফের ভিতর ও বাহিরে যেকোন স্থানে পাওয়া গেলে মেরে ফেলা উচিত; যথা ইঁদুর, বিচ্ছু, কাক, চিল ও হিংস্র কুকুর। (সহীহ, মুসলিম ১১৯৮)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭৮৬

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَمَرَ بِقَتْلِ الْحَيَّاتِ فِي الْحَرَمِ ১৩قَالَ مَالِك فِي الْكَلْبِ الْعَقُورِ الَّذِي أُمِرَ بِقَتْلِهِ فِي الْحَرَمِ إِنَّ كُلَّ مَا عَقَرَ النَّاسَ وَعَدَا عَلَيْهِمْ وَأَخَافَهُمْ مِثْلُ الْأَسَدِ وَالنَّمِرِ وَالْفَهْدِ وَالذِّئْبِ فَهُوَ الْكَلْبُ الْعَقُورُ وَأَمَّا مَا كَانَ مِنْ السِّبَاعِ لَا يَعْدُو مِثْلُ الضَّبُعِ وَالثَّعْلَبِ وَالْهِرِّ وَمَا أَشْبَهَهُنَّ مِنْ السِّبَاعِ فَلَا يَقْتُلُهُنَّ الْمُحْرِمُ فَإِنْ قَتَلَهُ فَدَاهُ ১৩وَأَمَّا مَا ضَرَّ مِنْ الطَّيْرِ فَإِنَّ الْمُحْرِمَ لَا يَقْتُلُهُ إِلَّا مَا سَمَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْغُرَابُ وَالْحِدَأَةُ وَإِنْ قَتَلَ الْمُحْرِمُ شَيْئًا مِنْ الطَّيْرِ سِوَاهُمَا فَدَاهُ.

ইবনু শিহাব (র) থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইবনু খাত্তাব (রা) হারাম শরীফে সাপ মারার হুকুম দিয়েছেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন, হিংস্র কুকুর বলতে যাকে হারাম শরীফে হত্যার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা এই ধরনের পশুকে বুঝায় যা মানুষকে কামড়ায় বা হামলা করে বা ভয় প্রদর্শন করে, যেমন সিংহ, বাঘ, চিতাবাঘ ইত্যাদি। কিন্তু যে সমস্ত পশু হিংস্র বটে, তবে হামলা করে না, যেমন হায়েনা, শিয়াল, বিড়াল ইত্যাদি পশু- মুহরিম ব্যক্তির এগুলো মারা উচিত নয়। মারলে তার উপর ফিদইয়া দেওয়া ওয়াজিব।

আর যে সমস্ত পাখির উল্লেখ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) করেছেন (যেমন কাক ও চিল), এগুলো ব্যতীত অন্যান্য ক্ষতিকারক পাখিও মুহরিম ব্যক্তির জন্য হত্যা করলে তাকে ফিদইয়া দিতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ২৯

ইহরাম অবস্থায় কি ধরনের কাজ করা জায়েয

৭৮৭

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللهِ بْنِ الْهُدَيْرِ أَنَّهُ رَأَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يُقَرِّدُ بَعِيرًا لَهُ فِي طِينٍ بِالسُّقْيَا وَهُوَ مُحْرِمٌ قَالَ مَالِك وَأَنَا أَكْرَهُهُ.

বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

রবী’আ ইবনু আবদুল্লাহ্ ইবনু হুদায়র (র) উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-কে সুক্ইয়া নামক জনপদে স্বীয় উটের উকুন বের করে কাদায় ফেলতে দেখেছেন, অথচ তিনি তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন, আমি একে অপছন্দ করি।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৭৮৮

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ أَبِي عَلْقَمَةَ عَنْ أُمِّهِ أَنَّهَا قَالَتْ سَمِعْتُ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُسْأَلُ عَنْ الْمُحْرِمِ أَيَحُكُّ جَسَدَهُ فَقَالَتْ نَعَمْ فَلْيَحْكُكْهُ وَلْيَشْدُدْ وَلَوْ رُبِطَتْ يَدَايَ وَلَمْ أَجِدْ إِلَّا رِجْلَيَّ لَحَكَكْتُ.

আলকামা ইবনু আবি আলকামা (র) থেকে বর্ণিতঃ

আলকামা ইবনু আবি আলকামা (র) তাঁর মাতা হতে বর্ণনা করেন নাবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পত্নী আয়েশা (রা)- কে বলতে শুনেছি, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ইহরাম অবস্থায় শরীর চুলকাতে পারবে কি ? তিনি (আয়েশা রা.) বলেন, হ্যাঁ, চুলকাতে পারবে, ভালভাবে চুলকাতে পারবে। কেউ আমার হাত বেঁধে রাখলে তবে পা দ্বারা যদি সম্ভব হয়, প্রয়োজন হলে তা দিয়েই আমি চুলকাব। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৭৮৯

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ نَظَرَ فِي الْمِرْآةِ لِشَكْوٍ كَانَ بِعَيْنَيْهِ وَهُوَ مُحْرِمٌ.

আইয়ূব ইবনু মূসা (র) থেকে বর্ণিতঃ

চোখে অসুখ হওয়ায় আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) ইহরাম অবস্থায়ও আয়না দেখেছিলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৭৯০

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَكْرَهُ أَنْ يَنْزِعَ الْمُحْرِمُ حَلَمَةً أَوْ قُرَادًا عَنْ بَعِيرِهِ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ.

নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) মুহরিম ব্যক্তির জন্য উটের উকুন ইত্যাদি বের করা মাকরূহ বলে মনে করতেন। মালিক (র) বলেন, আমার নিকট এই মতটিই অধিক প্রিয়। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৭৯১

– و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ أَنَّهُ سَأَلَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ عَنْ ظُفْرٍ لَهُ انْكَسَرَ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَقَالَ سَعِيدٌ اقْطَعْهُ ১৩১৪-و سُئِلَ مَالِك عَنْ الرَّجُلِ يَشْتَكِي أُذُنَهُ أَيَقْطُرُ فِي أُذُنِهِ مِنْ الْبَانِ الَّذِي لَمْ يُطَيَّبْ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَقَالَ لَا أَرَى بِذَلِكَ بَأْسًا وَلَوْ جَعَلَهُ فِي فِيهِ لَمْ أَرَ بِذَلِكَ بَأْسًا ১৩১৫-قَالَ مَالِك وَلَا بَأْسَ أَنْ يَبُطَّ الْمُحْرِمُ خُرَاجَهُ وَيَفْقَأَ دُمَّلَهُ وَيَقْطَعَ عِرْقَهُ إِذَا احْتَاجَ إِلَى ذَلِكَ.

বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ মরইয়াম (র) সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (র)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন, ইহরামকালে আমার একটা নখ ভেঙে গিয়েছে, এখন কি করব ? সাঈদ (র) বললেন, এটা কেটে ফেল। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

ইয়াহইয়া (র) বলেন, মালিক (র)-কে জিজ্ঞেস করা হল মুহরিম ব্যক্তির কানে ব্যথা হলে সে কানে গন্ধবিহীন তেল ব্যবহার করতে পারবে কি ? তিনি বললেন, এতে কোন দোষ নেই। যদি মুখেও ঢালে, তবুও আমি দোষ মনে করি না।

মালিক (র) বলেন, মুহরিম ব্যক্তি যদি ফোঁড়া বা ফোস্কা ফাটিয়ে দেয় বা প্রয়োজনে শিঙ্গা লাগায় তবে কোন গুনাহ হবে না।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৩০

হজ্জে-বদল

৭৯২

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ رَدِيفَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَتْهُ امْرَأَةٌ مِنْ خَثْعَمَ تَسْتَفْتِيهِ فَجَعَلَ الْفَضْلُ يَنْظُرُ إِلَيْهَا وَتَنْظُرُ إِلَيْهِ فَجَعَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْرِفُ وَجْهَ الْفَضْلِ إِلَى الشِّقِّ الْآخَرِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ فَرِيضَةَ اللهِ فِي الْحَجِّ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَثْبُتَ عَلَى الرَّاحِلَةِ أَفَأَحُجُّ عَنْهُ -قَالَ نَعَمْ وَذَلِكَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ.

আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিতঃ

ফযল ইবনু আব্বাস (রা) রসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে তাঁর পেছনে আরোহী ছিলেন। এমন সময় খাস’আম কবীলার এক মহিলা রসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট মাসআলা জানতে এলেন। ফযল তার দিকে তাকাতে লাগলেন আর সে মহিলাটিও ফযলকে দেখতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফযলের চেহারা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন। মহিলাটি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতার উপর হজ্জ এমন সময় ফরয হল যে, বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি এত দুর্বল যে, উটের পিঠে বসতে সক্ষম নন। তাঁর পক্ষ হতে হজ্জ করা আমার জন্য বৈধ হবে কি ? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, করে নাও। এই ঘটনাটি ছিল বিদায় হজ্জের। (বুখারী ১৫১৩, মুসলিম ১৩৩৪)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৩১

শত্রু দ্বারা পথে বাধাপ্রাপ্ত হলে হজ্জ সম্পাদনে ইচ্ছুক ব্যক্তি কি করবে

৭৯৩

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك قَالَ مَنْ حُبِسَ بِعَدُوٍّ فَحَالَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْبَيْتِ فَإِنَّهُ يَحِلُّ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ وَيَنْحَرُ هَدْيَهُ وَيَحْلِقُ رَأْسَهُ حَيْثُ حُبِسَ وَلَيْسَ عَلَيْهِ قَضَاءٌ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

শত্রু যদি কারো যাত্রাপথে বাধার সৃষ্টি করে এবং বায়তুল্লাহ পর্যন্ত সে যদি পৌঁছাতে না পারে তবে যে স্থানে বাধাপ্রাপ্ত হবে সে স্থানেই সে ইহরাম খুলে ফেলবে ও কুরবানী দিবে এবং মাথা কামাবে। তাকে আর দ্বিতীয়বার এই হজ্জ কাযা করতে হবে না।

৯৫و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَلَّ هُوَ وَأَصْحَابُهُ بِالْحُدَيْبِيَةِ فَنَحَرُوا الْهَدْيَ وَحَلَقُوا رُءُوسَهُمْ وَحَلُّوا مِنْ كُلِّ شَيْءٍ قَبْلَ أَنْ يَطُوفُوا بِالْبَيْتِ وَقَبْلَ أَنْ يَصِلَ إِلَيْهِ الْهَدْيُ ثُمَّ لَمْ يُعْلَمْ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِهِ وَلَا مِمَّنْ كَانَ مَعَهُ أَنْ يَقْضُوا شَيْئًا وَلَا يَعُودُوا لِشَيْءٍ.

মালিক (র) বলেন, তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, মক্কার কাফিরগণ হুদায়বিয়ার ময়দানে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণকে মক্কায় যেতে বাধা দিল। তখন তাঁরা সেখানেই ইহরাম খুলে ফেলেছিলেন, হাদয়ী কুরবানী দিয়েছিলেন এবং মাথা কামায়ে ছিলেন। বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ এবং কুরবানীর পশু মক্কায় পৌঁছার পূর্বেই তাঁরা হালাল হয়ে গিয়েছিলেন। পরে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন সঙ্গী বা সাহাবীকে দ্বিতীয়বার এই হজ্জ কাযা করার বা পুনরায় করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে আমাদের জানা নাই। [১] (হাদীসটি মুরসাল, হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন, তবে এই ঘটনাটি বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] শত্রু দ্বারা হজ্জের পধে বাধাপ্রাপ্ত হওয়াকে ইহসার বলা হয়।

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৭৯৪

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ حِينَ خَرَجَ إِلَى مَكَّةَ مُعْتَمِرًا فِي الْفِتْنَةِ إِنْ صُدِدْتُ عَنْ الْبَيْتِ صَنَعْنَا كَمَا صَنَعْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَهَلَّ بِعُمْرَةٍ مِنْ أَجْلِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ ثُمَّ إِنَّ عَبْدَ اللهِ نَظَرَ فِي أَمْرِهِ فَقَالَ مَا أَمْرُهُمَا إِلَّا وَاحِدٌ ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ مَا أَمْرُهُمَا إِلَّا وَاحِدٌ أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ الْحَجَّ مَعَ الْعُمْرَةِ ثُمَّ نَفَذَ حَتَّى جَاءَ الْبَيْتَ فَطَافَ طَوَافًا وَاحِدًا وَرَأَى ذَلِكَ مُجْزِيًا عَنْهُ وَأَهْدَى.১৩২২-قَالَ مَالِك فَهَذَا الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِيمَنْ أُحْصِرَ بِعَدُوٍّ كَمَا أُحْصِرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ فَأَمَّا مَنْ أُحْصِرَ بِغَيْرِ عَدُوٍّ فَإِنَّهُ لَا يَحِلُّ دُونَ الْبَيْتِ.

নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

বিশৃংখলার বৎসর আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) উমরা করার নিয়তে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার সময় বলেছিলেন বায়তুল্লায় যাওয়ার পথে যদি আমি বাধাপ্রাপ্ত হই, তবে রসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে থাকাকালীন এই অবস্থায় আমরা যা করেছিলাম আজও তাই করব। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুদায়বিয়ার বৎসর শুধু উমরার নিয়তেই মক্কা যাত্রা করেছিলেন এই কথা খেয়াল করে আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা)-ও শুধু উমরার ইহরাম বাঁধলেন। পরে চিন্তা করে দেখলেন, বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার বেলায় হজ্জ ও উমরার হুকুম একই ধরনের। তোমাদেরকে সাক্ষী বানাচ্ছি যে, আমি এখন হজ্জ ও উমরা উভয়ই আমার উপর ওয়াজিব করে নিলাম। এই বলে তিনি যাত্রা শুরু করলেন এবং বায়তুল্লাহ্ এসে তাওয়াফ সমাধা করলেন, আর এইটুকুই নিজের জন্য যথেষ্ট মনে করলেন। কুরবানীর যে পশু ছিল তাও নাহর করলেন। [১] (বুখারী ১৬৩৯, মুসলিম ১২৩০)

মালিক (র) বলেন, আমার মতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ যা করেছিলেন হজ্জের পথে বাধাপ্রাপ্ত হলে তাই করা উচিত। তবে শত্রুর দ্বারা নয়, অন্য কোন কারণে বাধাপ্রাপ্ত হলে বায়তুল্লাহ্ না যাওয়া পর্যন্ত আর সে হালাল হবে না।

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] এ সময় হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রা)-এর উপর মক্কায় হামলা চালিয়েছিল। তাই এ সময়টাকে এখানে বিশৃংখলার বৎসর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অতঃপর তিনি সাথীদের দিকে লক্ষ করে বললেন, বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার বেলায় হজ্জ ও উমরার হুকুম একই ধরনের।

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৩২

শত্রু ব্যতীত অন্য কোন কারণে বাধাপ্রাপ্ত হলে কি করণীয়

৭৯৫

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ: الْمُحْصَرُ بِمَرَضٍ لَا يَحِلُّ حَتَّى يَطُوفَ بِالْبَيْتِ وَيَسْعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَإِذَا اضْطُرَّ إِلَى لُبْسِ شَيْءٍ مِنْ الثِّيَابِ الَّتِي لَا بُدَّ لَهُ مِنْهَا أَوْ الدَّوَاءِ صَنَعَ ذَلِكَ وَافْتَدَى.

আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু উমার (রা) থেকে বর্ণিতঃ

অসুস্থতার কারণে যদি কারো যাত্রা বাধাপ্রাপ্ত হয় তবে তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা’য়ী করা ব্যতীত সে হালাল হবে না। কোন কাপড় বা ঔষধ ব্যবহার করার প্রয়োজন হলে (যা ইহরাম অবস্থায় জায়েয নয়) তা ব্যবহার করবে এবং উহার ফিদইয়া দেবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৭৯৬

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا كَانَتْ تَقُوْلُ: الْمُحْرِمُ لَا يُحِلُّهُ إِلَّا الْبَيْتُ.

ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, নাবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিনী আয়েশা (রা) বলতেন, ইহরামকে শুধু বায়তুল্লাহই হালাল করতে পারে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৭৯৭

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي تَمِيمَةَ السَّخْتِيَانِيِّ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ كَانَ قَدِيمًا أَنَّهُ قَالَ: خَرَجْتُ إِلَى مَكَّةَ حَتَّى إِذَا كُنْتُ بِبَعْضِ الطَّرِيقِ كُسِرَتْ فَخِذِي فَأَرْسَلْتُ إِلَى مَكَّةَ وَبِهَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ وَالنَّاسُ فَلَمْ يُرَخِّصْ لِي أَحَدٌ أَنْ أَحِلَّ فَأَقَمْتُ عَلَى ذَلِكَ الْمَاءِ سَبْعَةَ أَشْهُرٍ حَتَّى أَحْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ.

আইয়ূব ইবনু আবি তামীমা সাখতীয়ানী (র) থেকে বর্ণিতঃ

আইয়ূব ইবনু আবি তামীমা সাখতীয়ানী (র) বসরার জনৈক প্রবীণ [১] ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, মক্কার উদ্দেশ্যে একবার রওয়ানা হলাম। পথে উট হতে পড়ে আমার উরু ভেঙে যায়। মক্কায় আমি একজনকে পাঠালাম। তখন সেখানে আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রা), আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) এবং আরও অনেক বিজ্ঞ লোক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের কেউই আমাকে এই অবস্থায় ইহ্‌রাম খুলতে অনুমতি দিলেন না। ফলে সাত মাস পর্যন্ত সেখানে আমি পড়ে রইলাম। শেষে সুস্থ হয়ে উমরা আদায় করে ইহরাম খুললাম। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] আবূ উমার (র) বলেন, বসরার উক্ত ব্যক্তির নাম আবদুল্লাহ্ ইবনু যায়দ। কেউ কেউ তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন ইয়াযিদ ইবনু আবদুল্লাহ্ আশ-শিখ্খীর।

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৭৯৮

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ حُبِسَ دُونَ الْبَيْتِ بِمَرَضٍ فَإِنَّهُ لَا يَحِلُّ حَتَّى يَطُوفَ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ.

বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) বলেন, অসুস্থতার কারণে যদি কেউ যাত্রা করেও কাবায় পৌঁছাতে না পারে তবে তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সা’য়ী না করা পর্যন্ত সে আর হালাল হবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

 

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ حُزَابَةَ الْمَخْزُومِيَّ صُرِعَ بِبَعْضِ طَرِيقِ مَكَّةَ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَسَأَلَ عَلَى الْمَاءِ الَّذِي كَانَ عَلَيْهِ عَنْ الْعُلَمَاءِ فَوَجَدَ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ وَعَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ وَمَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ فَذَكَرَ لَهُمْ الَّذِي عَرَضَ لَهُ فَكُلُّهُمْ أَمَرَهُ أَنْ يَتَدَاوَى بِمَا لَا بُدَّ لَهُ مِنْهُ وَيَفْتَدِيَ فَإِذَا صَحَّ اعْتَمَرَ فَحَلَّ مِنْ إِحْرَامِهِ ثُمَّ عَلَيْهِ حَجُّ قَابِلٍ وَيُهْدِي مَا اسْتَيْسَرَ مِنْ الْهَدْيِ ১৩২৯-قَالَ مَالِك وَعَلَى هَذَا الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِيمَنْ أُحْصِرَ بِغَيْرِ عَدُوٍّ وَقَدْ أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَبَا أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيَّ وَهَبَّارَ بْنَ الْأَسْوَدِ حِينَ فَاتَهُمَا الْحَجُّ وَأَتَيَا يَوْمَ النَّحْرِ أَنْ يَحِلَّا بِعُمْرَةٍ ثُمَّ يَرْجِعَا حَلَالًا ثُمَّ يَحُجَّانِ عَامًا قَابِلًا وَيُهْدِيَانِ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعَ إِلَى أَهْلِهِ.

قَالَ مَالِك وَكُلُّ مَنْ حُبِسَ عَنْ الْحَجِّ بَعْدَ مَا يُحْرِمُ إِمَّا بِمَرَضٍ أَوْ بِغَيْرِهِ أَوْ بِخَطَإٍ مِنْ الْعَدَدِ أَوْ خَفِيَ عَلَيْهِ الْهِلَالُ فَهُوَ مُحْصَرٌ عَلَيْهِ مَا عَلَى الْمُحْصَرِ.

১৩৩১-قَالَ يَحْيَى سُئِلَ مَالِك عَمَّنْ أَهَلَّ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ بِالْحَجِّ ثُمَّ أَصَابَهُ كَسْرٌ أَوْ بَطْنٌ مُتَحَرِّقٌ أَوْ امْرَأَةٌ تُطْلَقُ قَالَ مَنْ أَصَابَهُ هَذَا مِنْهُمْ فَهُوَ مُحْصَرٌ يَكُونُ عَلَيْهِ مِثْلُ مَا عَلَى أَهْلِ الْآفَاقِ إِذَا هُمْ أُحْصِرُوْ.

১৩৩২-قَالَ مَالِك فِي رَجُلٍ قَدِمَ مُعْتَمِرًا فِي أَشْهُرِ الْحَجِّ حَتَّى إِذَا قَضَى عُمْرَتَهُ أَهَلَّ بِالْحَجِّ مِنْ مَكَّةَ ثُمَّ كُسِرَ أَوْ أَصَابَهُ أَمْرٌ لَا يَقْدِرُ عَلَى أَنْ يَحْضُرَ مَعَ النَّاسِ الْمَوْقِفَ قَالَ مَالِك أَرَى أَنْ يُقِيمَ حَتَّى إِذَا بَرَأَ خَرَجَ إِلَى الْحِلِّ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى مَكَّةَ فَيَطُوفُ بِالْبَيْتِ وَيَسْعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ يَحِلُّ ثُمَّ عَلَيْهِ حَجُّ قَابِلٍ وَالْهَدْيُ ১৩৩৩-قَالَ مَالِك فِيمَنْ أَهَلَّ بِالْحَجِّ مِنْ مَكَّةَ ثُمَّ طَافَ بِالْبَيْتِ وَسَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ مَرِضَ فَلَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يَحْضُرَ مَعَ النَّاسِ الْمَوْقِفَ قَالَ مَالِك إِذَا فَاتَهُ الْحَجُّ فَإِنْ اسْتَطَاعَ خَرَجَ إِلَى الْحِلِّ فَدَخَلَ بِعُمْرَةٍ فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَسَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ لِأَنَّ الطَّوَافَ الْأَوَّلَ لَمْ يَكُنْ اااا

نَوَاهُ لِلْعُمْرَةِ فَلِذَلِكَ يَعْمَلُ بِهَذَا وَعَلَيْهِ حَجُّ قَابِلٍ وَالْهَدْيُ فَإِنْ كَانَ مِنْ غَيْرِ أَهْلِ مَكَّةَ فَأَصَابَهُ مَرَضٌ حَالَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْحَجِّ فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَسَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ حَلَّ بِعُمْرَةٍ وَطَافَ بِالْبَيْتِ طَوَافًا آخَرَ وَسَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ لِأَنَّ طَوَافَهُ الْأَوَّلَ وَسَعْيَهُ إِنَّمَا كَانَ نَوَاهُ لِلْحَجِّ وَعَلَيْهِ حَجُّ قَابِلٍ وَالْهَدْيُ.

সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রা) হতে বর্ণিত; মা’বদ ইবনু হুযাবা মাখযুমী (র) মক্কা আসার পথে তাঁর বাহন হতে পড়ে গিয়ে আহত হন। তিনি তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। অতঃপর একটি কূপের নিকট যাত্রা বিরতি করলেন এবং খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন যে, সেখানে আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা), আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রা) এবং মারওয়ান ইবনুল হাকাম (রা) আছেন। তাঁদের নিকট উক্ত ঘটনা বর্ণনা করলে তাঁরা বললেন, প্রয়োজনীয় ঔষধ ব্যবহার কর আর উহার ফিদইয়া আদায় করে দিও। সুস্থ হওয়ার পর উমরা আদায় করে ইহরাম খুলে ফেলো। আগামী বৎসর পুনরায় এই হজ্জ আদায় করে নিও এবং সামর্থ্যানুযায়ী কুরবানী দিও। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন, শত্রু ছাড়া অন্য কোন কারণে হজ্জে বাধ্যপ্রাপ্ত হলে আমাদের নিকটও মাসআলা অনুরূপ।

মালিক (র) বলেন, আবূ আইয়ূব আনসারী (রা) এবং হাব্বান ইবনু আসওয়াদ (রা) যখন হজ্জের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে পারলেন না এবং নাহরের দিন উপস্থিত হলেন, সেই বৎসর দশ তারিখে মক্কায় গিয়ে পৌঁছালেন, তখন উমার ইবনু খাত্তাব (রা) তাদেরকে বলেছিলেন উমরা করে ইহরাম খুলে নিন এবং এই বৎসর ফিরে যান। আগামী বৎসর হজ্জ করবেন এবং কুরবানী দিবেন। কুরবানীর সামর্থ্য না হলে আপনাদেরকে হজ্জের সময় তিনদিন এবং বাড়ি ফিরে সাতদিন রোযা রাখতে হবে।

মালিক (র) বলেন, ইহরাম বাঁধার পর অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে যেমন তারিখে ভুল করার দরুন, যদি হজ্জ করতে না পারে তবে তার হুকুম মুহসারের মত হবে। [১]

ইয়াহইয়া (র) বলেন, মালিক (র)-কে জিজ্ঞেস করা হল মক্কাবাসী কোন ব্যক্তি হজ্জের নিয়তে ইহরাম বাঁধার পর তার পা ভেঙে গেল বা দাস্ত শুরু হল, এখন সে কি করবে ? তিনি বললেন, তার হুকুম মুহসারের মত। মক্কার বাহিরের অধিবাসী কোন ব্যক্তির ইহসার বা বাধ্যপ্রাপ্ত হলে যে হুকুম, এখানেও সে হুকুম প্রযোজ্য হবে।

মালিক (র) বলেন, হজ্জের মাসে কোন ব্যক্তি উমরার ইহরাম বেঁধে মক্কা এল এবং উমরা সমাধা করে মক্কা হতে পুনরায় হজ্জের ইহরাম বাঁধার পর তার পা ভেঙে গেল বা এমন কোন কষ্ট পেল যাতে সে আরাফাতে যেতে আর সক্ষম হল না। তখন সে যখন সুস্থ হবে হারাম শরীফের বারে গিয়ে মক্কায় ফিরে আসবে এবং তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা’য়ী করে ইহরাম খুলে ফেলবে। পরে আগামী বৎসর পুনরায় হজ্জ করবে এবং কুরবানী দিবে।

মালিক (র) বলেন, কোন ব্যক্তি হজ্জের মওসুমে উমরার ইহরাম বেঁধে মক্কায় প্রবেশ করল। অতঃপর উমরা পূর্ণ করে মক্কা হতে হজ্জের ইহরাম বাঁধল। অতঃপর (দুর্ঘটনায় হাত পা) ভাঙল অথবা অন্য কোন বাধার সম্মুখীন হল। ফলে অন্য লোকদের সঙ্গে আরাফাতে উপস্থিত হতে পারেনি। মালিক (র) বলেন, উক্ত ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় থাকবে। যখন সে সুস্থ হবে, হিলের (হারাম শরীফের বারে) দিকে যাবে। অতঃপর মক্কার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। তাওয়াফ করবে ও সাফা-মারওয় সা’য়ী করবে এবং হালাল হবে। তার উপর আগামী বৎসর হাদ্‌য়ী ও হজ্জ ওয়াজিব হবে।

মালিক (র) বলেন, যে ব্যক্তি মক্কা হতে হজ্জের ইহ্‌রাম বেঁধেছে, তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সা’য়ী করেছে, অতঃপর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং লোকের সঙ্গে আরাফাতে উপস্থিত হতে পারেনি। তিনি বলেন, যদি সে হজ্জ করতে না পারে যখন সম্ভব হবে তখন সে হিলের দিকে যাবে এবং উমরার নিয়ত করে মক্কায় প্রবেশ করবে। এর কারণ, প্রথমে সে তাওয়াফ ও উমরার নিয়ত করেনি। এইজন্য সে পুনরায় তাওয়াফ ও সা’য়ী করবে এবং তার উপর আগামী বৎসর হাদ্‌য়ী ও হজ্জ ওয়াজিব হবে।

মালিক (র) বলেন, যে ব্যক্তি হজ্জের ইহরাম বেঁধেছে সে যদি মক্কার বাহিরের লোক হয়, সে অসুস্থতার দরুন যদি হজ্জ করতে না পারে, অথচ এর পূর্বে সে তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সায়ী করেছিল, সেই ব্যক্তি উমরা করে হালাল হবে এবং আরেকবার বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করবে। কারণ তার পূর্বের তাওয়াফ ও সায়ী ছিল হজ্জের নিয়তে। তার উপর আগামী বৎসর হাদ্‌য়ী ও হজ্জ ওয়াজিব হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] উমরা করে ইহরাম খুলবে এবং কুরবানী দিবে।

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৩৩

কা’বা শরীফ নির্মাণ

৭৯৯

قَالَ يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ أَخْبَرَ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَلَمْ تَرَيْ أَنَّ قَوْمَكِ حِينَ بَنَوْا الْكَعْبَةَ اقْتَصَرُوا عَنْ قَوَاعِدِ إِبْرَاهِيمَ قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَفَلَا تَرُدُّهَا عَلَى قَوَاعِدِ إِبْرَاهِيمَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْلَا حِدْثَانُ قَوْمِكِ بِالْكُفْرِ لَفَعَلْتُ قَالَ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ لَئِنْ كَانَتْ عَائِشَةُ سَمِعَتْ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أُرَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَرَكَ اسْتِلَامَ الرُّكْنَيْنِ اللَّذَيْنِ يَلِيَانِ الْحِجْرَ إِلَّا أَنَّ الْبَيْتَ لَمْ يُتَمَّمْ عَلَى قَوَاعِدِ إِبْرَاهِيْمَ.

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তুমি কি লক্ষ করনি, তোমার কওম কুরাইশগণ যখন কাবা শরীফ পুনঃনির্মাণ করে তখন ইবরাহীম (আ) যে চৌহদ্দি নিয়ে এটা নির্মাণ করেছিলেন ইহা হতে কিছু কমিয়ে ফেলেছিল ? আয়েশা (রা) বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ্! ইবরাহীম (আ) যেমন বানিয়ে ছিলেন তদ্রূপ আপনি বানিয়ে দিচ্ছেন না কেন ? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার কওমের কুফরির অবস্থা যদি অতি নিকট না হত তবে নিশ্চয়ই আমি তদ্রূপ বানিয়ে দিতাম। [১] আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) বলেন, আয়েশা (রা) যদি এটা রসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট হতে শুনে থাকেন, আমার ধারণা এই কারণেই রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাওয়াফের সময় হাতীম সংলগ্ন রুকনে শামী এবং রুকনে ইরাকী ইস্তিলাম করতেন না, ছুঁতেন না। কেননা ইবরাহীম (আ)-এর বুনিয়াদের উপর কা’বা শরীফের নির্মাণ হয়নি। (বুখারী ১৫৮৩, মুসলিম ১৩৩৩)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] বেশি দিন হয়নি এরা মুসলমান হয়েছে। এখন যদি এটা ভেঙে পুননির্মাণ করতে যাই তবে এদের মনে আঘাত লাগতে পারে।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮০০

– و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَتْ مَا أُبَالِي أَصَلَّيْتُ فِي الْحِجْرِ أَمْ فِي الْبَيْتِ.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) থেকে বর্ণিতঃ

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা) বলেছেন, আমি পরওয়া করি না, নামায হাতীমে আদায় করি বা কা’বা শরীফের অভ্যন্তরে আদায় করি। (অর্থাৎ এই দুই স্থানের মধ্যে কোন পার্থক্য আছে বলে আমি মনে করি না কেননা হাতীমও কা’বার অংশ)। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৮০১

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ شِهَابٍ يَقُولُ سَمِعْتُ بَعْضَ عُلَمَائِنَا يَقُوْلُ: مَا حُجِرَ الْحِجْرُ فَطَافَ النَّاسُ مِنْ وَرَائِهِ إِلَّا إِرَادَةَ أَنْ يَسْتَوْعِبَ النَّاسُ الطَّوَافَ بِالْبَيْتِ كُلِّهِ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ইবনু শিহাব (র)-কে বলতে শুনেছেন কতিপয় আলিমের নিকট শুনেছি, তাঁরা বলেন, হাতীমের পাশে দেয়াল উঠানোর এবং তাওয়াফের মধ্যে শামিল করার কারণ হল এতে সম্পূর্ণ বায়তুল্লাহর তাওয়াফ যেন আদায় হয়ে যায়। (কেননা এটাও বায়তুল্লাহর অংশ)। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৩৪

তাওয়াফের সময় রমল করা (কিছুটা দ্রুত হাঁটা)

৮০২

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّهُ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَمَلَ مِنْ الْحَجَرِ الْأَسْوَدِ حَتَّى انْتَهَى إِلَيْهِ ثَلَاثَةَ أَطْوَافٍ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ الْأَمْرُ الَّذِي لَمْ يَزَلْ عَلَيْهِ أَهْلُ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا.

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে দেখেছি, হাজরে আসওয়াদ হতে আরম্ভ করে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত তাওয়াফে (চক্করে) তিনি রমল করেছেন। [১] (সহীহ, মুসলিম ১২৬৩)

মালিক (র) বলেন, আমাদের শহরস্থ আলিমদের অভিমত এটাই।

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] কুরাইশগণ যখন কা’বা ঘর পুনঃনির্মাণ করেন তখন হালাল উপায়ে অর্জিত অর্থ কম হওয়ায় কিছু স্থান ছেড়ে দিয়েছিলেন। এ স্থানটিকে ‘হাতীম’ বলা হয়। তাওয়াফের সময় ঐ স্থানটিসহ তাওয়াফ করতে হয়। রুকনে শামী ও রুকনে ইরাকী তৎসংলগ্ন দুইটি কোণের নাম।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮০৩

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَرْمُلُ مِنْ الْحَجَرِ الْأَسْوَدِ إِلَى الْحَجَرِ الْأَسْوَدِ ثَلَاثَةَ أَطْوَافٍ وَيَمْشِي أَرْبَعَةَ أَطْوَافٍ.

নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) হাজরে আসওয়াদ হতে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত তিন তাওয়াফে রমল করতেন আর বাকি তাওয়াফগুলোতে সাধারণভাবে চলতেন। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] বুক টান করে হাত দুলিয়ে দ্রুত প্রদক্ষিণ করার নাম ‘রমল’। মক্কার কাফিরগণ মুহাজির সাহাবীগণ সম্পর্কে বলেছিলÑ মদীনার জ্বর এদেরকে দুর্বল করে ফেলেছে। তখন রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের জন্য ‘রমল’ করতে বলেছিলেন।

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৮০৪

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ أَنَّ أَبَاهُ كَانَ إِذَا طَافَ بِالْبَيْتِ يَسْعَى الْأَشْوَاطَ الثَّلَاثَةَ يَقُولُ اللهُمَّ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَا وَأَنْتَ تُحْيِ بَعْدَ مَا أَمَتَّا يَخْفِضُ صَوْتَهُ بِذَلِكَ.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর পিতা যখন বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ করতেন তখন তিন তাওয়াফে দৌড়িয়ে দৌড়িয়ে চলতেন এবং এই দু’আ পড়তেন

اَللّٰهُمَّ لَاۤ إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَا وَأَنْتَ تُحْيِ بَعْدَ مَا أَمَتَّا [২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[২] ‘হে আল্লাহ্, তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ্ নেই, আর মৃত্যুর পর আমাদের যিন্দা করবে তুমিই।’

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৮০৫

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ رَأَى عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ أَحْرَمَ بِعُمْرَةٍ مِنْ التَّنْعِيمِ قَالَ ثُمَّ رَأَيْتُهُ يَسْعَى حَوْلَ الْبَيْتِ الْأَشْوَاطَ الثَّلَاثَة.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ (র) থেকে বর্ণিতঃ

হিশাম ইবনু উরওয়াহ (র) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রা)-কে তান’য়ীম নামক স্থান হতে উমরার ইহ্‌রাম বাঁধতে দেখেছেন এবং বায়তুল্লাহ্‌র চতুষ্পার্শ্বে প্রথম তিন তাওয়াফে রমল করতে দেখেছেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৮০৬

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ إِذَا أَحْرَمَ مِنْ مَكَّةَ لَمْ يَطُفْ بِالْبَيْتِ وَلَا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ حَتَّى يَرْجِعَ مِنْ مِنًى وَكَانَ لَا يَرْمُلُ إِذَا طَافَ حَوْلَ الْبَيْتِ إِذَا أَحْرَمَ مِنْ مَكَّةَ.

নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) যখন মক্কা হতে ইহরাম বাঁধতেন তখন মীনা হতে ফিরে না আসা পর্যন্ত বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করতেন না, রমলও করতেন না। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] মক্কার বাহিরের অধিবাসী ব্যক্তি মক্কা হতে ইহরাম বাঁধলে তাকে ‘রমল’ করতে হয় না।

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৩৫

তাওয়াফ করার সময় ‘ইস্তিলাম’ [১] করা

৮০৭

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا قَضَى طَوَافَهُ بِالْبَيْتِ وَرَكَعَ الرَّكْعَتَيْنِ وَأَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ إِلَى الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ اسْتَلَمَ الرُّكْنَ الْأَسْوَدَ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَََََ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাওয়াফ করার পর দুই রাক’আত নামায আদায় করলেন। অতঃপর তিনি সাফা-মারওয়াব দিকে রওয়ানা হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি হাজরে আসওয়াদ ইস্তিলাম (স্পর্শ) করলেন। (সহীহ, মুসলিম ১২১৮, ইমাম মুসলিম হাদীসটিকে জাবের (র)-এর বরাত দিয়ে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেছেন। তবে ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল।)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] ইস্তিলাম অর্থ কোন জিনিস স্পর্শ করা।

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৮০৮

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ، قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ كَيْفَ صَنَعْتَ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ فِي اسْتِلَامِ الرُّكْنِ فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ اسْتَلَمْتُ وَتَرَكْتُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَبْتَ.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) থেকে বর্ণিতঃ

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রা)-কে বললেন, হে আবূ মুহাম্মদ, কিরূপে তুমি হাজরে আসওয়াদে ইস্তিলাম কর? তিনি বললেন, কখনও ইস্তিলাম করেছি আর কখনও করিনি। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি ঠিক করেছ। (হাকিম ৩/৩০৬, ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮০৯

– و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ أَنَّ أَبَاهُ كَانَ إِذَا طَافَ بِالْبَيْتِ يَسْتَلِمُ الْأَرْكَانَ كُلَّهَا وَكَانَ لَا يَدَعُ الْيَمَانِيَ إِلَّا أَنْ يُغْلَبَ عَلَيْهِ.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) থেকে বর্ণিতঃ

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) বর্ণনা করেন তাঁর পিতা উরওয়া বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করার সময় সকল রুকনই ছুঁতেন। বিশেষত একান্ত বাধ্য না হলে রুকনে ইয়ামানীর ইস্তিলাম পরিত্যাগ করতেন না। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৩৬

ইস্তিলামের সময় হাজরে আসওয়াদে চুমা দেওয়া

৮১০

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ وَهُوَ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ لِلرُّكْنِ الْأَسْوَدِ إِنَّمَا أَنْتَ حَجَرٌ وَلَوْلَا أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبَّلَكَ مَا قَبَّلْتُكَ ثُمَّ قَبَّلَهُ قَالَ مَالِك سَمِعْتُ بَعْضَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَسْتَحِبُّ إِذَا رَفَعَ الَّذِي يَطُوفُ بِالْبَيْتِ يَدَهُ عَنْ الرُّكْنِ الْيَمَانِي أَنْ يَضَعَهَا عَلَى فِيْهِ.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ (র) থেকে বর্ণিতঃ

হিশাম ইবনু উরওয়াহ (র) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন বায়তুল্লাহর তাওয়াফের সময় উমার ইবনু খাত্তাব (রা) হাজরে আসওয়াদকে লক্ষ করে বলতেন, ‘তুমি শুধু একখানা পাথর, লাভ-লোকসানের কোন ক্ষমতা তোমার নেই। রসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে যদি তোমাকে চুমা দিতে না দেখতাম তবে আমিও তোমাকে চুমা দিতাম না।’ অতঃপর তিনি হাজরে আসওয়াদ চুমা দিলেন। [১] (বুখারী ১৬০৫, মুসলিম ১২৭০, মুত্তাসিল ভাবে)

মালিক (র) বলেন, কতিপয় আলিমকে বলতে শুনেছি, রুকনে ইয়ামানী ইস্তিলাম করে হাত দ্বারা মুখ স্পর্শ করা মুস্তাহাব, সরাসরি উহাকে চুমা দিবে না।

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] তাওয়াফ করার সময় হাজরে আসওয়াদের পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করার সময় ভিড় না হলে চুমা খাবে আর সুযোগ না হলে ঐ দিকে মুখ করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে এগিয়ে যাবে।

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৩৭

তাওয়াফের দুই রাক’আত নামায

৮১১

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ كَانَ لَا يَجْمَعُ بَيْنَ السُّبْعَيْنِ لَا يُصَلِّي بَيْنَهُمَا وَلَكِنَّهُ كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ كُلِّ سُبْعٍ رَكْعَتَيْنِ فَرُبَّمَا صَلَّى عِنْدَ الْمَقَامِ أَوْ عِنْدَ غَيْرِهِ ১৩৫৪-و سُئِلَ مَالِك عَنْ الطَّوَافِ إِنْ كَانَ أَخَفَّ عَلَى الرَّجُلِ أَنْ يَتَطَوَّعَ بِهِ فَيَقْرُنَ بَيْنَ الْأُسْبُوعَيْنِ أَوْ أَكْثَرَ ثُمَّ يَرْكَعُ مَا عَلَيْهِ مِنْ رُكُوعِ تِلْكَ السُّبُوعِ -قَالَ لَا يَنْبَغِي ذَلِكَ وَإِنَّمَا السُّنَّةُ أَنْ يُتْبِعَ كُلَّ سُبْعٍ رَكْعَتَيْنِ

১৩৫৫-قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَدْخُلُ فِي الطَّوَافِ فَيَسْهُو حَتَّى يَطُوفَ ثَمَانِيَةَ أَوْ تِسْعَةَ أَطْوَافٍ قَالَ يَقْطَعُ إِذَا عَلِمَ أَنَّهُ قَدْ زَادَ ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَلَا يَعْتَدُّ بِالَّذِي كَانَ زَادَ وَلَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَبْنِيَ عَلَى التِّسْعَةِ حَتَّى يُصَلِّيَ سُبْعَيْنِ جَمِيعًا لِأَنَّ السُّنَّةَ فِي الطَّوَافِ أَنْ يُتْبِعَ كُلَّ سُبْعٍ رَكْعَتَيْنِ

১৩৫৬-قَالَ مَالِك وَمَنْ شَكَّ فِي طَوَافِهِ بَعْدَمَا يَرْكَعُ رَكْعَتَيْ الطَّوَافِ فَلْيَعُدْ فَلْيُتَمِّمْ طَوَافَهُ عَلَى الْيَقِينِ ثُمَّ لِيُعِدْ الرَّكْعَتَيْنِ لِأَنَّهُ لَا صَلَاةَ لِطَوَافٍ إِلَّا بَعْدَ إِكْمَالِ السُّبْعِ وَمَنْ أَصَابَهُ شَيْءٌ يَنْقُضُ وُضُوءَهُ وَهُوَ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ أَوْ يَسْعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ أَوْ بَيْنَ ذَلِكَ فَإِنَّهُ مَنْ أَصَابَهُ ذَلِكَ وَقَدْ طَافَ بَعْضَ الطَّوَافِ أَوْ كُلَّهُ وَلَمْ يَرْكَعْ رَكْعَتَيْ الطَّوَافِ فَإِنَّهُ يَتَوَضَّأُ وَيَسْتَأْنِفُ الطَّوَافَ وَالرَّكْعَتَيْنِ وَأَمَّا السَّعْيُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَإِنَّهُ لَا يَقْطَعُ ذَلِكَ عَلَيْهِ مَا أَصَابَهُ مِنْ انْتِقَاضِ وُضُوئِهِ وَلَا يَدْخُلُ السَّعْيَ إِلَّا وَهُوَ طَاهِرٌ بِوُضُوءٍ.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) থেকে বর্ণিতঃ

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন তিনি দুই সাব্আর মাঝখানে নামায না পড়ে উভয়কে একত্র করতেন না, বরং তিনি প্রত্যেক সাব্আর পর দুই রাক’আত নামায আদায় করতেন মাকামে ইবরাহীমের নিকট, আর কখনও পড়তেন অন্যত্র। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র)-কে জিজ্ঞেস করা হল কেউ যদি কয়েক সাবআর পর একত্রে সবগুলোর নামায আদায় করে তবে তা জায়েয হবে কি ? তিনি বললেন, জায়েয হবে না। প্রতি সাবআর (সাত তাওয়াফ) সঙ্গে সঙ্গেই দুই রাক’আত নামায পড়া সুন্নত।

মালিক (র) বলেন, ভুল করে যদি কেউ আট বা নয় চক্কর (তাওয়াফ) দিয়ে ফেলে তবে যখনই মনে পড়বে তাওয়াফ ছেড়ে দিবে এবং দুই রাক’আত নামায আদায় করে নিবে। অতিরিক্ত তাওয়াফগুলো ধর্তব্যের বলে মনে করবে না এবং দুই সাবআ সমাধা করে পরে একত্রে নামায আদায় করা সঙ্গত নয়। প্রতি সাব্আর (সাত তাওয়াফ) সঙ্গে সঙ্গেই দুই রাক’আত নামায পড়া সুন্নত।

মালিক (র) বলেন, তাওয়াফ করে দুই রাক’আত নামায আদার করার পর সাত তাওয়াফ (চক্কর) পুরা হয়নি বলে যদি কারো মনে সন্দেহ হয় তবে তাকে য়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস)-এর উপর ভিত্তি করে তাওয়াফ পুরো করে আবার দুই রাক’আত নামায আদায় করতে হবে। কারণ সাত চক্কর পূর্ণ করার পরই তাওয়াফের নামায পড়তে হয়।

মালিক (র) বলেন, তাওয়াফ বা সায়ী করার সময় যদি কারো ওযূ নষ্ট হয়ে যায়, তবে ওযূ করে পুনরায় নতুন করে তাওয়াফ করবে এবং সায়ীর যে কয় চক্কর অবশিষ্ট ছিল তা পুরা করবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] তাওয়াফের সাত চক্করকে এ ‘সাবআ’ বলা হয়।

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৩৮

ফজর ও আসরের পর তাওয়াফের নামায আদায় করা

৮১২

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَبْدٍ الْقَارِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ طَافَ بِالْبَيْتِ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بَعْدَ صَلَاةِ الصُّبْحِ فَلَمَّا قَضَى عُمَرُ طَوَافَهُ نَظَرَ فَلَمْ يَرَ الشَّمْسَ طَلَعَتْ فَرَكِبَ حَتَّى أَنَاخَ بِذِي طُوًى فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ سُنَّةَ الطَّوَافِ.

বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

আবদুর রহমান ইবনু আবদ আল-কারিয়্যে (র) ফজরের নামাযের পর উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-এর সঙ্গে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন। আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) যখন তাওয়াফ শেষ করেন তখনও সূর্যোদয় হয়নি। তিনি উটে আরোহণ করে বাহিরে গেলেন এবং যী-তুয়া নামক স্থানে পৌঁছে উট হতে অবতরণ করে দুই রাক‘আত নামায আদায় করেন। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] খুযায়া গোত্রের একটি শাখার নাম “আলকারা”। সেই দিকে সম্পর্কিত বলে “আল-কারিয়্যে” বলা হয়েছে।

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৮১৩

– و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ أَنَّهُ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ يَطُوفُ بَعْدَ صَلَاةِ الْعَصْرِ ثُمَّ يَدْخُلُ حُجْرَتَهُ فَلَا أَدْرِي مَا يَصْنَعُ.

আবু যুবায়র মক্কী (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রা)-কে আসরের পর তাওয়াফ করতে দেখতে পেলাম। তাওয়াফের পর হুজরায় চলে গেলেন। জানি না সেখানে তিনি কি করেছিলেন। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] হুজরায় প্রবেশ করে সে সময় তাওয়াফের দুই রাক’আত নামায আদায় করেছিলেন, না সূর্যাস্তের পরে আদায় করেছিলেন তা জানা নাই।

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৮১৪

– و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ أَنَّهُ قَالَ: لَقَدْ رَأَيْتُ الْبَيْتَ يَخْلُو بَعْدَ صَلَاةِ الصُّبْحِ وَبَعْدَ صَلَاةِ الْعَصْرِ مَا يَطُوفُ بِهِ أَحَدٌ.

১৩৬২-قَالَ مَالِك وَمَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ بَعْضَ أُسْبُوعِهِ ثُمَّ أُقِيمَتْ صَلَاةُ الصُّبْحِ أَوْ صَلَاةُ الْعَصْرِ فَإِنَّهُ يُصَلِّي مَعَ الْإِمَامِ ثُمَّ يَبْنِي عَلَى مَا طَافَ حَتَّى يُكْمِلَ سُبْعًا ثُمَّ لَا يُصَلِّي حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ أَوْ تَغْرُبَ قَالَ وَإِنْ أَخَّرَهُمَا حَتَّى يُصَلِّيَ الْمَغْرِبَ فَلَا بَأْسَ بِذَلِكَ. ১৩৬৩-قَالَ مَالِك وَلَا بَأْسَ أَنْ يَطُوفَ الرَّجُلُ طَوَافًا وَاحِدًا بَعْدَ الصُّبْحِ وَبَعْدَ الْعَصْرِ لَا يَزِيدُ عَلَى سُبْعٍ وَاحِدٍ وَيُؤَخِّرُ الرَّكْعَتَيْنِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ كَمَا صَنَعَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَيُؤَخِّرُهُمَا بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَإِذَا غَرَبَتْ الشَّمْسُ صَلَّاهُمَا إِنْ شَاءَ وَإِنْ شَاءَ أَخَّرَهُمَا حَتَّى يُصَلِّيَ الْمَغْرِبَ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ.

আবু যুবায়র মক্কী (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমি দেখেছি আসর ও ফজরের পর বায়তুল্লাহ্ খালি হয়ে পড়ত। ঐ সময় কোন তাওয়াফকারী থাকত না। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন, তাওয়াফ শুরু করার পর ফজর বা আসরের জামাতের তাকবীর শুরু হলে ইহা ত্যাগ করে ইমামের সাথে নামাযে শামিল হওয়া উচিত।

নামায পড়ার পর অবশিষ্ট তাওয়াফ পুরা করবে। কিন্তু তাওয়াফের দুই রাক’আত নামায ফজরের সময় সূর্যোদয় এবং আসরের সময় সূর্য অস্থ না যাওয়া পর্যন্ত আদায় করবে না। মাগরিবের পর যদি উহা পড়ে তবে উহাতেও কোন দোষ নাই।

মালিক (র) বলেন, সাত চক্করের উপর বৃদ্ধি না করে যদি কোন ব্যক্তি ফজর ও আসরের পর তাওয়াফ করে এবং তাওয়াফের দুই রাক’আত নামায সূর্যোদয়ের পর আদায় করে নেয়, যেরূপ উমার ইবনু খাত্তাব (রা) করেছিলেন, তাতে কোন দোষ নেই।

আর যদি আসরের পর তাওয়াফ করে থাকে তবে সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে তাওয়াফের নামায আদায় করবে না। সূর্যাস্তের পর ইচ্ছা করলে তাওয়াফের দুই রাক’আত নামায আদায় করে নিবে অথবা ইচ্ছা করলে মাগরিবের নামায সমাপ্ত করার পর আদায় করবে, এতে কোন ক্ষতি নেই।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৩৯

বিদায়ী তাওয়াফ

৮১৫

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ لَا يَصْدُرَنَّ أَحَدٌ مِنْ الْحَاجِّ حَتَّى يَطُوفَ بِالْبَيْتِ فَإِنَّ آخِرَ النُّسُكِ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ ১৩৬৬-قَالَ مَالِك فِي قَوْلِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَإِنَّ آخِرَ النُّسُكِ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ إِنَّ ذَلِكَ فِيمَا نُرَى وَاللهُ أَعْلَمُ لِقَوْلِ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى{ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ } وَقَالَ { ثُمَّ مَحِلُّهَا إِلَى الْبَيْتِ الْعَتِيقِ } فَمَحِلُّ الشَّعَائِرِ كُلِّهَا وَانْقِضَاؤُهَا إِلَى الْبَيْتِ الْعَتِيْقِ.

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বলেছেন, বায়তুল্লাহর তাওয়াফ না করে হাজীগণের কেউ যেন মক্কা হতে না ফিরে। কারণ হজ্জের শেষ আমল হল বায়তুল্লাহর তাওয়াফ। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন, ‘শেষ আমল বায়তুল্লাহর তাওয়াফ’ উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-এর উক্তির অর্থ হল, আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন

وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوْبِ

‘যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মর্যাদা দেবে উহা তার আল্লাহভীতি হতেই উৎসারিত।’ এ সবকিছুরই সম্পর্ক বায়তুল্লাহর সঙ্গে । সুতরাং হজ্জের সমস্ত রুকন ও আমল বায়তুল্লাহ্‌তে যেয়েই শেষ হয়। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] এই তাওয়াফকে তাওয়াফুল-বিদা বা বিদায়ী তাওয়াফ বলা হয়।

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৮১৬

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَدَّ رَجُلًا مِنْ مَرِّ الظَّهْرَانِ لَمْ يَكُنْ وَدَّعَ الْبَيْتَ حَتَّى وَدَّعَ.

ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইবনু খাত্তাব (রা) এক ব্যক্তিকে মাররুয-যাহরান (মক্কা শরীফ হতে ১৮ মাইল দূরে অবস্থিত একটি স্থান) হতে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ সে ‘তাওয়াফুল বিদা’ করে আসেনি। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৮১৭

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ أَفَاضَ فَقَدْ قَضَى اللهُ حَجَّهُ فَإِنَّهُ إِنْ لَمْ يَكُنْ حَبَسَهُ شَيْءٌ فَهُوَ حَقِيقٌ أَنْ يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ الطَّوَافَ بِالْبَيْتِ وَإِنْ حَبَسَهُ شَيْءٌ أَوْ عَرَضَ لَهُ فَقَدْ قَضَى اللهُ حَجَّهُ. ১৩৬৯-قَالَ مَالِك وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا جَهِلَ أَنْ يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ الطَّوَافَ بِالْبَيْتِ حَتَّى صَدَرَ لَمْ أَرَ عَلَيْهِ شَيْئًا إِلَّا أَنْ يَكُونَ قَرِيبًا فَيَرْجِعَ فَيَطُوفَ بِالْبَيْتِ ثُمَّ يَنْصَرِفَ إِذَا كَانَ قَدْ أَفَاضَ.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) থেকে বর্ণিতঃ

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেছেন, তাওয়াফে ইফাযা (তাওয়াফে যিয়ারত) যে ব্যক্তি করতে পেরেছে আল্লাহ্ তার হজ্জ পুরা করে দিয়েছেন। পরে বিশেষ অসুবিধা দেখা না দিলে সে যেন তাওয়াফূল-বিদা’ও করে নেয়। যদি কোন অসুবিধা দেখা দেয় এবং এই কারণে বিদায়ী তাওয়াফ করতে না পারে তবে তাওয়াফে ইফাযা আদায় করায় হজ্জ তার পুরো হয়ে গিয়েছে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন, তাওয়াফে যিয়ারত করার পর তাওয়াফুল বিদা’ জানা না থাকার কারণে যদি কেউ তা না করে মক্কা হতে চলে আসে তবে আর তার জন্য ফিরে যাওয়া জরুরী নয়। তবে মক্কার নিকটবর্তী স্থানে থাকলে পুনরায় গিয়ে বিদায়ী-তাওয়াফ করে নেওয়া উচিত।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৪০

তাওয়াফের বিবিধ রেওয়ায়ত

৮১৮

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الْأَسْوَدِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ شَكَوْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنِّي أَشْتَكِي فَقَالَ طُوفِي مِنْ وَرَاءِ النَّاسِ وَأَنْتِ رَاكِبَةٌ قَالَتْ فَطُفْتُ رَاكِبَةً بَعِيرِي وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَئِذٍ يُصَلِّي إِلَى جَانِبِ الْبَيْتِ وَهُوَ يَقْرَأُ بِالطُّورِ وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ.

নাবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিনী উম্মে সালমা (রা) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আমার অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেন, পুরুষদের পেছনে থেকে কোন বাহনে আরোহণ করে তোমার তাওয়াফ আদায় করে নাও। উম্মে সালমা (রা) বলেন, আমি তাওয়াফ করলাম, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন কা’বা শরীফের এক কোণায় নামাযে দাঁড়িয়ে সূরা তূর পড়িতেছিলেন। (বুখারী ৪৬৪, মুসলিম ১২৭৬)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮১৯

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ أَنَّ أَبَا مَاعِزٍ الْأَسْلَمِيَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ سُفْيَانَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا مَعَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ فَجَاءَتْهُ امْرَأَةٌ تَسْتَفْتِيهِ فَقَالَتْ إِنِّي أَقْبَلْتُ أُرِيدُ أَنْ أَطُوفَ بِالْبَيْتِ حَتَّى إِذَا كُنْتُ بِبَابِ الْمَسْجِدِ هَرَقْتُ الدِّمَاءَ فَرَجَعْتُ حَتَّى ذَهَبَ ذَلِكَ عَنِّي ثُمَّ أَقْبَلْتُ حَتَّى إِذَا كُنْتُ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ هَرَقْتُ الدِّمَاءَ فَرَجَعْتُ حَتَّى ذَهَبَ ذَلِكَ عَنِّي ثُمَّ أَقْبَلْتُ حَتَّى إِذَا كُنْتُ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ هَرَقْتُ الدِّمَاءَ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ إِنَّمَا ذَلِكِ رَكْضَةٌ مِنْ الشَّيْطَانِ فَاغْتَسِلِي ثُمَّ اسْتَثْفِرِي بِثَوْبٍ ثُمَّ طُوفِي.

আবূয যুবায়র মক্কী (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবা মায়িয আসলামী আবদুল্লাহ্ ইবনু সুফইয়ান (র) তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন তিনি আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা)-এর নিকট বসা ছিলেন। তখন এক মহিলা এসে বলল, আমি বায়তুল্লাহ্‌র তাওয়াফের ইচ্ছা করেছিলাম। মসজিদের দরজা পর্যন্ত পৌঁছাতে আমার ঋতুস্রাব আরম্ভ হল। এমতাবস্থায় আমি ফিরে যাই। পরে ঋতুস্রাব বন্ধ হলে আবার তাওয়াফের জন্য আসি, কিন্তু মসজিদের দরজা পর্যন্ত পৌঁছতেই আবার ঋতুস্রাব শুরু হল। ফলে আবার ফিরে গেলাম। শেষে ঋতুস্রাব বন্ধ হলে আবার তাওয়াফ করতে গেলাম। কিন্তু এইবারও দরজা পর্যন্ত যেতে না যেতে পুনরায় রক্ত দেখা দেয়। এখন কি করব ? আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) বললেন, ইহা শয়তানের কাণ্ড! গোসল করে লজ্জাস্থানে কাপড়ের পট্রি দিয়ে তাওয়াফ সেরে নাও। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৮২০

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ كَانَ إِذَا دَخَلَ مَكَّةَ مُرَاهِقًا خَرَجَ إِلَى عَرَفَةَ قَبْلَ أَنْ يَطُوفَ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ يَطُوفُ بَعْدَ أَنْ يَرْجِعَ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ وَاسِعٌ إِنْ شَاءَ اللهُ و১৩৭৪-سُئِلَ مَالِك هَلْ يَقِفُ الرَّجُلُ فِي الطَّوَافِ بِالْبَيْتِ الْوَاجِبِ عَلَيْهِ يَتَحَدَّثُ مَعَ الرَّجُلِ فَقَالَ لَا أُحِبُّ ذَلِكَ لَهُ ১৩৭৫- قَالَ مَالِك لَا يَطُوفُ أَحَدٌ بِالْبَيْتِ وَلَا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ إِلَّا وَهُوَ طَاهِرٌ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, সা’দ ইবনু আবি ওয়াককাস (রা) মক্কায় পৌঁছে যদি দেখতেন নয় তারিখ অতি নিকটবর্তী (সময় অতি অল্প), তবে তাওয়াফ ও সায়ী করার পূর্বেই আরাফাতে চলে যেতেন এবং সেখান হতে ফিরবার পর তাওয়াফ করতেন। মালিক (র) বলেন, সময় সংকীর্ণ হলে এইরূপ করা (আরাফাতে প্রথমে যাওয়া) জায়েয। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র)-কে জিজ্ঞেস করা হল ওয়াজিব তাওয়াফ আদায় করার সময় কারো সাথে কথা বলার জন্য কি থেমে যাওয়া বৈধ ? তিনি বললেন, আমি তা পছন্দ করি না।

মালিক (র) বলেন, তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার সা’য়ী পবিত্রতার সহিত করা উচিত।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৪১

সা’য়ী সাফা হতে শুরু হবে

৮২১

– حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ حِينَ خَرَجَ مِنْ الْمَسْجِدِ وَهُوَ يُرِيدُ الصَّفَا وَهُوَ يَقُولُ نَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللهُ بِهِ فَبَدَأَ بِالصَّفَا.

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদ হতে সাফার উদ্দেশ্যে যখন বের হলেন তখন শুনেছি, তিনি বলতেছেন, আল্লাহ্ যে স্থানটির উল্লেখ প্রথমে করেছিলেন আমরাও সে স্থান হতে শুরু করব। অতঃপর তিনি সাফা হতে সা’য়ী করা শুরু করেন। [১] (সহীহ, মুসলিম ১২১৮)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন, === -নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর বিশেষ নিদর্শন। এই আয়াতটিতে সাফার উল্লেখ প্রথমে করা হয়েছে। তাই রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ বলেছিলেন।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮২২

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا وَقَفَ عَلَى الصَّفَا يُكَبِّرُ ثَلَاثًا وَيَقُولُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ يَصْنَعُ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَيَدْعُو وَيَصْنَعُ عَلَى الْمَرْوَةِ مِثْلَ ذَلِكَ.

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সাফায় গিয়ে দাঁড়াতেন তখন তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন এবং এ দু’আ পড়তেন

لَاۤ إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَه لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ [১] .

তিনবার এটা পড়ে পরে দু’আ করতেন। মারওয়া পাহাড়েও তিনি এরূপ করতেন। (সহীহ, মুসলিম ১২১৮, পূর্বের হাদীসেরই অংশ)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই, সকল সাম্রাজ্য, ক্ষমতা এবং সকল প্রশংসা শুধু তাঁরই, আর তিনি সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাশীল।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮২৩

– و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ وَهُوَ عَلَى الصَّفَا يَدْعُو يَقُولُ اللهُمَّ إِنَّكَ قُلْتَ { ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ } وَإِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ وَإِنِّي أَسْأَلُكَ كَمَا هَدَيْتَنِي لِلْإِسْلَامِ أَنْ لَا تَنْزِعَهُ مِنِّي حَتَّى تَتَوَفَّانِي وَأَنَا مُسْلِمٌ . [১]

নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা)-কে সাফার উপর দাঁড়িয়ে এই দু’আ পড়তে শুনেছেন

اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ قُلْتَ { ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ } وَإِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ وَإِنِّي أَسْأَلُكَ كَمَا هَدَيْتَنِي لِلْإِسْلَامِ أَنْ لَا تَنْزِعَهُ مِنِّي حَتَّى تَتَوَفَّانِي وَأَنَا مُسْلِمٌ.

(হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] ‘হে আল্লাহ্ আপনি বলেছেন, আমার কাছে চাও, আমি তা কবুল করব। আর আপনি কখনও ওয়াদা খেলাফ করেন না। এখন আপনার নিকটই আমি চাতেছি, আমাকে যেরূপ ইসলামের দিকে হিদায়াত করেছেন উহা আমার নিকট হতে ছিনিয়ে দিবেন না। আমার মৃত্যু পর্যন্ত আমি মুসলমান হিসেবে আপনার অনুগত বান্দা হয়েই যেন থাকি।’

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৪২

সা’য়ী সম্পর্কে বিবিধ হাদীস

৮২৪

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ حَدِيثُ السِّنِّ أَرَأَيْتِ قَوْلَ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوْ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا } فَمَا عَلَى الرَّجُلِ شَيْءٌ أَنْ لَا يَطَّوَّفَ بِهِمَا فَقَالَتْ عَائِشَةُ كَلَّا لَوْ كَانَ كَمَا تَقُولُ لَكَانَتْ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لَا يَطَّوَّفَ بِهِمَا إِنَّمَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِي الْأَنْصَارِ كَانُوا يُهِلُّونَ لِمَنَاةَ وَكَانَتْ مَنَاةُ حَذْوَ قُدَيْدٍ وَكَانُوا يَتَحَرَّجُونَ أَنْ يَطُوفُوا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَلَمَّا جَاءَ الْإِسْلَامُ سَأَلُوا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى{ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوْ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا .

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) থেকে বর্ণিতঃ

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেছেন, আমি উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা)-কে বললাম (তখন আমি অল্প বয়ষ্ক), দেখুন, আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেন [১] إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ সুতরাং যে কেউ বায়তুল্লাহ্‌র হজ্জ বা উমরা করবে তার জন্য এই দুটির মধ্যে সা’য়ী করায় কোন গুনাহ্ নেই’ তাই কেউ যদি সা‘য়ী না করে তবে তাতে তার গুনাহ হবে কি ? তিনি বললেন, সাবধান, তুমি যা বুঝেছ তা ঠিক নয়। তাই যদি হত তবে আয়াতে বলার ভঙ্গী হত ‘এই দুইয়ের মধ্যে সায়ী না করায় কোন গুনাহ্ নেই।’ (অথচ আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, সা’য়ী করায় কোন গুনাহ্ নেই।) এই আয়াতটি মূলত আনসারদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছিল। এরা জাহিলী যুগে মানাতের উদ্দেশ্যে ইহরাম বেঁধে হজ্জের নিয়তে আসত। মক্কার পথে কুদায়দ নামক স্থানের বিপরীতে ছিল ওদের দেবী মানাত। সাফা-মারওয়ায় সা’য়ী করা তারা মনে করত গুনাহ্’র কাজ। ইসলাম আসার পর তারা রসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এই সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তখন নাযিল হয় এই আয়াত

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوْ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا [২]

(বুখারী ১৭৯০, মুসলিম ১২৭৭)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] নিশ্চয়ই সাফা মারওয়া আল্ল্হা তা’আলার বিশেষ নিদর্শনসমূহের অন্যতম।’

[২] ‘সাফা ও মারওয়া’ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কেউ কা’বাগৃহের হজ্জ কিংবা উমরা করতে চাইলে এই দুটির মধ্যে তাওয়াফ করলে কোন পাপ নেই। (সূরা: আল-বাকারাহ, ১৫৮)

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮২৫

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ أَنَّ سَوْدَةَ بِنْتَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ كَانَتْ عِنْدَ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ فَخَرَجَتْ تَطُوفُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فِي حَجٍّ أَوْ عُمْرَةٍ مَاشِيَةً وَكَانَتْ امْرَأَةً ثَقِيلَةً فَجَاءَتْ حِينَ انْصَرَفَ النَّاسُ مِنْ الْعِشَاءِ فَلَمْ تَقْضِ طَوَافَهَا حَتَّى نُودِيَ بِالْأُولَى مِنْ الصُّبْحِ فَقَضَتْ طَوَافَهَا فِيمَا بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ وَكَانَ عُرْوَةُ إِذَا رَآهُمْ يَطُوفُونَ عَلَى الدَّوَابِّ يَنْهَاهُمْ أَشَدَّ النَّهْيِ فَيَعْتَلُّونَ بِالْمَرَضِ حَيَاءً مِنْهُ فَيَقُولُ لَنَا فِيمَا بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ لَقَدْ خَابَ هَؤُلَاءِ وَخَسِرُوا.

১৩৮৩-قَالَ مَالِك مَنْ نَسِيَ السَّعْيَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فِي عُمْرَةٍ فَلَمْ يَذْكُرْ حَتَّى يَسْتَبْعِدَ مِنْ مَكَّةَ أَنَّهُ يَرْجِعُ فَيَسْعَى وَإِنْ كَانَ قَدْ أَصَابَ النِّسَاءَ فَلْيَرْجِعْ فَلْيَسْعَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ حَتَّى يُتِمَّ مَا بَقِيَ عَلَيْهِ مِنْ تِلْكَ الْعُمْرَةِ ثُمَّ عَلَيْهِ عُمْرَةٌ أُخْرَى وَالْهَدْيُ ১৩৮৪-و سُئِلَ مَالِك عَنْ الرَّجُلِ يَلْقَاهُ الرَّجُلُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَيَقِفُ مَعَهُ يُحَدِّثُهُ فَقَالَ لَا أُحِبُّ لَهُ ذَلِكَ ১৩৮৫-قَالَ مَالِك وَمَنْ نَسِيَ مِنْ طَوَافِهِ شَيْئًا أَوْ شَكَّ فِيهِ فَلَمْ يَذْكُرْ إِلَّا وَهُوَ يَسْعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَإِنَّهُ يَقْطَعُ سَعْيَهُ ثُمَّ يُتِمُّ طَوَافَهُ بِالْبَيْتِ عَلَى مَا يَسْتَيْقِنُ وَيَرْكَعُ رَكْعَتَيْ الطَّوَافِ ثُمَّ يَبْتَدِئُ سَعْيَهُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) থেকে বর্ণিতঃ

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) বর্ণনা করেন আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা)-এর কন্যা সাওদা (র) ছিলেন উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (র)-এর স্ত্রী। একবার হজ্জ বা উমরার সময় তিনি সাফা-মারওয়ার সা’য়ীর জন্য বের হন। তিনি মোটা ধরনের মহিলা ছিলেন। ইশার নামায পড়ে মানুষ যখন বের হয়েছিল তখন তিনি হেঁটে হেঁটে হজ্জ অথবা উমরার তাওয়াফ ও সা’য়ী শুরু করেছিলেন। কিন্তু তখনও সা’য়ী শেষ হতে পারেনি, আর এইদিকে ফজরের আযান হয়ে যায়। সা’য়ী শেষ করতে তাঁর ইশা হতে ফজর পর্যন্ত সময় লেগেছিল। উরওয়াহ্ কাউকেও কোন কিছুতে আরোহণ করে সায়ী করতে দেখলে কঠোরভাবে নিষেধ করতেন। [১] লোকেরা তাঁকে দেখলে অসুস্থতার বাহানা করত। তিনি পরে আমাদের নিকট আলাপে বলতেন, এরা (যারা সওয়ার হয়ে সা’য়ী করে) ক্ষতিগ্রস্থ, তারা স্বীয় উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেনি। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন, উমরা করার সময় সাফা-মারওয়ার সা’য়ী করতে যদি ভুলে যায় এবং মক্কা হতে দূরে চলে যাওয়ার পর এটা স্মরণ হলে তাকে পুনরায় মক্কায় এসে সা’য়ী করতে হবে। আর এর মধ্যে স্ত্রী সহবাস করে থাকলে তবে ফিরে এসে সা’য়ী করবে এবং দ্বিতীয়বার উমরা করবে এবং হাদয়ী কুরবানী দেবে।

মালিক (র)-কে জিজ্ঞেস করা হল সা’য়ী করার সময় যদি কেউ কারো সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করে তবে কেমন হবে ? তিনি বললেন, আমি এটাকে পছন্দ করি না।

মালিক (র) বলেন, কেউ যদি তাওয়াফ করতে গিয়ে কোন চক্কর ভুলে যায় বা এই সম্পর্কে তার সন্দেহ হয়, পরে সা’য়ী করার সময় যদি তার উহা খেয়াল হয় তবে সা’য়ী মওকুফ করে দেবে এবং প্রথমে য়াকীনের উপর ভিত্তি করে তাওয়াফ পুরা করে দুই রাক’আত তাওয়াফের নামায আদায় করে নূতনভাবে সা’য়ী করবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] পায়ে হেঁটে সা’য়ী করা আফজল এবং সুন্নত। সা’য়ী করতে গিয়ে স্ত্রীর ফজর পর্যন্ত সময় লাগলেও উরওয়াহ্ (র) তাঁকে সওয়ার হতে অনুমতি দেননি।

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৮২৬

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا نَزَلَ مِنْ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ مَشَى حَتَّى إِذَا انْصَبَّتْ قَدَمَاهُ فِي بَطْنِ الْوَادِي سَعَى حَتَّى يَخْرُجَ مِنْهُ ১৩৮৭-قَالَ مَالِك فِي رَجُلٍ جَهِلَ فَبَدَأَ بِالسَّعْيِ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ قَبْلَ أَنْ يَطُوفَ بِالْبَيْتِ قَالَ لِيَرْجِعْ فَلْيَطُفْ بِالْبَيْتِ ثُمَّ لْيَسْعَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَإِنْ جَهِلَ ذَلِكَ حَتَّى يَخْرُجَ مِنْ مَكَّةَ وَيَسْتَبْعِدَ فَإِنَّهُ يَرْجِعُ إِلَى مَكَّةَ فَيَطُوفُ بِالْبَيْتِ وَيَسْعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَإِنْ كَانَ أَصَابَ النِّسَاءَ رَجَعَ فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَسَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ حَتَّى يُتِمَّ مَا بَقِيَ عَلَيْهِ مِنْ تِلْكَ الْعُمْرَةِ ثُمَّ عَلَيْهِ عُمْرَةٌ أُخْرَى وَالْهَدْيُ.

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিতঃ

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ (রা) বর্ণনা করেন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাফা ও মারওয়াতে সা’য়ী করতে এলে সাধারণভাবে হাঁটতেন, মধ্যবর্তী নিম্নভূমিতে (বাতনে ওয়াদী) যখন চলতেন তখন ইহা হতে বের না হওয়া পর্যন্ত দ্রুত চলতেন। (সহীহ, মুসলিম ১২১৮)

মালিক (র) বলেন, যে ব্যক্তি অজ্ঞতার কারণে তাওয়াফের পূর্বে সা’য়ী করে ফেলে তবে সে ফিরে এসে তাওয়াফ করার পর পুনরায় সা’য়ী করবে। তাওয়াফের কথা ভুলে মক্কা হতে দূরে চলে গেলে যত দূরেই যাক তাকে ফিরে আসতে হবে এবং বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা’য়ী করতে হবে। আর স্ত্রী সহবাস করে থাকলে তবে ফিরে এসে তাওয়াফ ও সা’য়ী করতে হবে এবং উমরার বাকি কার্যাদি সমাধা করবে। তার পক্ষে পুনরায় উমরা করা এবং হাদ্‌য়ী কুরবানী করা ওয়াজিব।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৪৩

আরাফাত দিবসে রোযা

৮২৭

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ عُمَيْرٍ مَوْلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ بِنْتِ الْحَارِثِ أَنَّ نَاسًا تَمَارَوْا عِنْدَهَا يَوْمَ عَرَفَةَ فِي صِيَامِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ بَعْضُهُمْ هُوَ صَائِمٌ وَقَالَ بَعْضُهُمْ لَيْسَ بِصَائِمٍ فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ بِقَدَحِ لَبَنٍ وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى بَعِيرِهِ فَشَرِبَ.

হারিস তনয়া উম্মুল ফযল (রা) থেকে বর্ণিতঃ

আরাফাত দিবসে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রোযাদার কিনা এই সম্পর্কে কতিপয় সাহাবী আমার কাছে এসে তাঁদের সন্দেহ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ বলেছেন, তিনি রোযা রেখেছেন, কেউ কেউ বললেন, আজ রোযা রাখেননি। উম্মুল ফযল (রা) তখন রসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খিদমতে একটি দুধভর্তি পেয়ালা পাঠালেন। তিনি তা পান করলেন। তখন তিনি আরাফাতে একটি উটের উপর আসীন ছিলেন। (বুখারী ১৯৮৮, মুসলিম ১১২৩)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮২৮

– و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ كَانَتْ تَصُومُ يَوْمَ عَرَفَةَ قَالَ الْقَاسِمُ وَلَقَدْ رَأَيْتُهَا عَشِيَّةَ عَرَفَةَ يَدْفَعُ الْإِمَامُ ثُمَّ تَقِفُ حَتَّى يَبْيَضَّ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ النَّاسِ مِنْ الْأَرْضِ ثُمَّ تَدْعُو بِشَرَابٍ فَتُفْطِرُ.

কাসিম ইবনু মুহাম্মদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা) আরাফাত দিবসে রোযা রাখতেন। কাসিম ইবনু মুহাম্মদ বলেন, আমি তাঁকে (আয়েশা রা.)-কে আরাফাত দিবসে সন্ধ্যায় দেখেছি, ইমামের (আমীরুল মু’মিনীন) প্রত্যাবর্তনের পরও তিনি (আয়েশা রা) আপেক্ষা করলেন এবং পরে ভিড় কমে পথ পরিষ্কার হলে পানি এনে ইফতার করলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৪৪

মিনা’র দিবসগুলোর রোযা

৮২৯

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ صِيَامِ أَيَّامِ مِنًى.

সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (র) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আইয়্যামে তাশরীকে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] কুরবানীর ঈদের পর তিনদিন (১৩ তারিখ পর্যন্ত) হল আইয়্যামে তাশরীক।

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৮৩০

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ عَبْدَ اللهِ بْنَ حُذَافَةَ أَيَّامَ مِنًى يَطُوفُ يَقُولُ إِنَّمَا هِيَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ وَذِكْرِ اللهِ.

ইবনু শিহাব (র) থেকে বর্ণিতঃ

মিনার দিবসগুলোতে আবদুল্লাহ্ ইবনু হুযাফা (রা)-কে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুরে ফিরে ঘোষণা প্রচার করতে বললেন, খাওয়া, পান করা আর আল্লাহর স্মরণের জন্য এই দিনগুলো। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৮৩১

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ صِيَامِ يَوْمَيْنِ يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ الْأَضْحَى.

আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুইদিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন ঈদুল ফিতরের দিন আর ঈদুল আযহার দিন। (সহীহ, মুসলিম ১১৩৮)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৩২

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْهَادِي عَنْ أَبِي مُرَّةَ مَوْلَى أُمِّ هَانِئٍ أُخْتِ عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى أَبِيهِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ فَوَجَدَهُ يَأْكُلُ قَالَ فَدَعَانِي قَالَ فَقُلْتُ لَهُ إِنِّي صَائِمٌ فَقَالَ هَذِهِ الْأَيَّامُ الَّتِي نَهَانَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صِيَامِهِنَّ وَأَمَرَنَا بِفِطْرِهِنَّ قَالَ مَالِك هِيَ أَيَّامُ التَّشْرِيْقِ.

আবদুল্লাহ্ ইবনু আমর (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমর ইবনু ‘আস (রা)-এর নিকট গেলেন। দেখতে পেলেন তিনি আহার করতেছেন, আবদুল্লাহকেও তিনি ডাকলেন। আমি বললাম আমি আজ রোযা আছি। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে দিনে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন সে দিনগুলোতে তুমি রোযা রাখলে! পরে তিনি আবদুল্লাহকে রোযা ভেঙে ফেলতে হুকুম করলেন। (সহীহ, আবূ দাঊদ ২৪১৮, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন [সহীহ ও যয়ীফ সুনানে আবূ দাঊদ])

 

মালিক (র) বলেন, এই দিনগুলো হচ্ছে আইয়্যামে তাশরীক, (যিলহজ্জ মাসের) ১১, ১২ এবং ১৩ তারিখ) যেগুলোতে আমর ইবনু আস (রা) তাঁর পুত্রকে রোযা রাখতে নিষেধ করলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৪৫

কোন্ ধরনের পশু হাদ্‌য়ীর উপযুক্ত

৮৩৩

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَهْدَى جَمَلًا كَانَ لِأَبِي جَهْلِ بْنِ هِشَامٍ فِي حَجٍّ أَوْ عُمْرَةٍ

আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ বক্‌র ইবনু হাযম (র) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হজ্জ বা উমরাতে একটি উট যাহা পূর্বে (আবূ জাহ্‌ল ইবনু হিশামের ছিল) হাদ্‌য়ী হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। [১] (হাসান আবূ দাঊদ ১৭৪৯, ইমাম আবূ দাঊদ সাহাবী ইবনু আব্বাস এর বরাতে মুত্তাসিল সনদে বর্ণনা করেন, আলবানী হাদীসটি হাসান বলেছেন [সহীহ, সুনানে আবূ দাঊদ] আর ইমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিমিত্ত হারম শরীফে কুরবানীর উদ্দেশ্যে প্রেরিত পশুকে হাদয়ী বলা হয়।

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৩৪

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى رَجُلًا يَسُوقُ بَدَنَةً فَقَالَ ارْكَبْهَا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّهَا بَدَنَةٌ فَقَالَ ارْكَبْهَا وَيْلَكَ فِي الثَّانِيَةِ أَوْ الثَّالِثَةِ.

আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে একটি কুরবানীর উট হাকিয়ে নিয়ে যেতে দেখতে পেয়ে বললেন, এর উপর আরোহণ কর। সে বলল, হে আল্লাহর রসূল, এটা তো কুরবানীর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছি। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার অনিষ্ট হোক, আরোহণ কর। এই কথা তিনি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারে বলেছিলেন। [১] (বুখারী ১৬৮৯, মুসলিম ১৩২২)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] তোমার অনিষ্ট হোক, === এই শব্দটি আরবি ভাষায় প্রচলিত শব্দ, তার অনিষ্ট হওয়াটা উদ্দেশ্য নয়। উক্ত ব্যক্তির হাঁটার কষ্ট দেখে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কথা বলেন।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৩৫

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ دِينَارٍ أَنَّهُ كَانَ يَرَى عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ يُهْدِي فِي الْحَجِّ بَدَنَتَيْنِ بَدَنَتَيْنِ وَفِي الْعُمْرَةِ بَدَنَةً بَدَنَةً قَالَ وَرَأَيْتُهُ فِي الْعُمْرَةِ يَنْحَرُ بَدَنَةً وَهِيَ قَائِمَةٌ فِي دَارِ خَالِدِ بْنِ أَسِيدٍ وَكَانَ فِيهَا مَنْزِلُهُ قَالَ وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ طَعَنَ فِي لَبَّةِ بَدَنَتِهِ حَتَّى خَرَجَتْ الْحَرْبَةُ مِنْ تَحْتِ كَتِفِهَا.

আবদুল্লাহ্ ইবনু দীনার (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) হজ্জের সময় দুটি করে আর উমরার সময় একটি করে কুরবানী দিতেন। আমি তাঁকে খালিদ ইবনু উসাইদের ঘরে বাঁধা তাঁর উমরার কুরবানীর উটটিকে নাহর করতে দেখেছি। আমি উমরার সময় দেখেছি তাঁর কুরবানীর উটের উপর এমন জোরে বর্শা মেরেছিলেন (নাহর করার জন্য) যে, উহা ভেদ করে অপরদিকে গিয়ে ঘাড়ের নিচ দিকে বের হয়ে গিয়েছিল। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৩৬

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيْزِ أَهْدَى جَمَلًا فِي حَجٍّ أَوْ عُمْرَةٍ.

ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইবনু আবদুল আযীয (র) হজ্জ কিংবা উমরার সময় একটি উট হাদ্‌য়ী হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৩৭

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الْقَارِئِ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ الْمَخْزُومِيَّ أَهْدَى بَدَنَتَيْنِ إِحْدَاهُمَا بُخْتِيَّةٌ.

আবূ জা’ফর কারী (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আইয়াশ ইবনু আবি রবী’আ মাখযুমী দুটি উটের কুরবানী করেছিলেন। এর মধ্যে একটি বুখতী ধরনের উষ্ট্রীও ছিল। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] লম্বা গর্দানওয়ালা অভিজাত উষ্ট্রীকে বুখতী বলা হয়- আল বেদায়া ওয়ান নেহায়াতে রয়েছে।

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৩৮

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُوْلُ إِذَا نُتِجَتْ النَّاقَةُ فَلْيُحْمَلْ وَلَدُهَا حَتَّى يُنْحَرَ مَعَهَا فَإِنْ لَمْ يُوجَدْ لَهُ مَحْمَلٌ حُمِلَ عَلَى أُمِّهِ حَتَّى يُنْحَرَ مَعَهَا.

নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) বলেন, কুরবানীর উদ্দেশ্যে প্রেরিত উষ্ট্রীর যদি বাচ্চা পয়দা হয় তবে মার সঙ্গে বাচ্চাটিকেও কুরবানীর জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। লইয়া যাওয়ার জন্য যদি কোন যানবাহন না পাওয়া যায় তবে বাচ্চাটিকে মার উপর চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে মার সাথে বাচ্চাটিকে নাহর করা যায়। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৩৯

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ أَنَّ أَبَاهُ قَالَ: إِذَا اضْطُرِرْتَ إِلَى بَدَنَتِكَ فَارْكَبْهَا رُكُوبًا غَيْرَ فَادِحٍ وَإِذَا اضْطُرِرْتَ إِلَى لَبَنِهَا فَاشْرَبْ بَعْدَ مَا يَرْوَى فَصِيلُهَا فَإِذَا نَحَرْتَهَا فَانْحَرْ فَصِيلَهَا مَعَهَا.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) থেকে বর্ণিতঃ

কুরবানীর উদ্দেশ্যে নীত কুরবানীর পশুর উপর প্রয়োজন হলে আরোহণ করতে পার। তবে এভাবে ব্যবহার করবে না যে, উহার কোমর ভেঙে যায়। দুধের প্রয়োজন হলে এর বাচ্চা পরিতৃপ্ত হয়ে খাওয়ার পর (অবশিষ্ট দুধ) পান করতে পার, আর একে নাহর করার সময় বাচ্চাটিকেও নাহর করতে হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৪৬

হাদ্‌য়ী হাঁকিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি

৮৪০

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ إِذَا أَهْدَى هَدْيًا مِنْ الْمَدِينَةِ قَلَّدَهُ وَأَشْعَرَهُ بِذِي الْحُلَيْفَةِ يُقَلِّدُهُ قَبْلَ أَنْ يُشْعِرَهُ وَذَلِكَ فِي مَكَانٍ وَاحِدٍ وَهُوَ مُوَجَّهٌ لِلْقِبْلَةِ يُقَلِّدُهُ بِنَعْلَيْنِ وَيُشْعِرُهُ مِنْ الشِّقِّ الْأَيْسَرِ ثُمَّ يُسَاقُ مَعَهُ حَتَّى يُوقَفَ بِهِ مَعَ النَّاسِ بِعَرَفَةَ ثُمَّ يَدْفَعُ بِهِ مَعَهُمْ إِذَا دَفَعُوا فَإِذَا قَدِمَ مِنًى غَدَاةَ النَّحْرِ نَحَرَهُ قَبْلَ أَنْ يَحْلِقَ أَوْ يُقَصِّرَ وَكَانَ هُوَ يَنْحَرُ هَدْيَهُ بِيَدِهِ يَصُفُّهُنَّ قِيَامًا وَيُوَجِّهُهُنَّ إِلَى الْقِبْلَةِ ثُمَّ يَأْكُلُ وَيُطْعِمُ.

নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) মদীনা হতে যখন কুরবানীর পশু (হাদ্‌য়ী) নিয়ে যেতেন তখন যুল-হুলায়ফা পৌঁছে এর গলায় চিহ্নের জন্য কিছু একটা লটকিয়ে দিতেন এবং সেখানেই উহার ইশআর (কাঁধের চামড়া যখম করে রক্ত মাখিয়ে দেওয়া) করতেন। প্রথমে ঐ পশুটির মুখ কিবলার দিকে করে এর গলায় দুটি জুতা লটকিয়ে দিতেন, পরে বাম দিকের কাঁধের চামড়া চিরে তা রক্তাক্ত করতেন এবং নিজের সঙ্গে তা হাঁকিয়ে নিয়ে চলতেন। আরাফাতে পৌঁছে সকলে যেখানে অবস্থান করতেন, তিনিও সেখানে অবস্থান করতেন। সকলেই যখন ফিরে আসত কুরবানীর পশুটিও সঙ্গে ফিরত। ইয়াওমুন নাহরের সকালে মিনায় পৌঁছে মাথা কামানো বা চুল ছাঁটার পূর্বেই কুরবানীর পশুটি নাহর করতেন। আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) স্বীয় কুরবানীর পশুটি স্বহস্তে নাহর করতেন। কিবলামুখ করে প্রথমে কুরবানীর পশুগুলো কাতার করে দাঁড় করাতেন, পরে এগুলো নাহর করতেন এবং এই গোশত নিজেও খেতেন এবং অন্যদেরকেও খাওয়াইতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৪১

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ إِذَا طَعَنَ فِي سَنَامِ هَدْيِهِ وَهُوَ يُشْعِرُهُ قَالَ بِسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ.

নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) ইশআর করার উদ্দেশ্যে যখন কুরবানীর উটের কুঁজে যখম করতেন তখন ‘বিসমিল্লাহি্‌ ওয়াল্লাহু আকবার’ বলতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

১৪৫و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُوْلُ: الْهَدْيُ مَا قُلِّدَ وَأُشْعِرَ وَوُقِفَ بِهِ بِعَرَفَةَ.

নাফি’ (র) হতে বর্ণিত; আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) বলতেন, কাদয়ী হল সেই পশু যার গলায় হার লটকানো হয়েছে, যার কুঁজ চিরে যখম করা হয়েছে এবং আরাফাতের ময়দানে নিয়ে দাঁড় করানো হয়েছে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

১৪৬و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يُجَلِّلُ بُدْنَهُ الْقُبَاطِيَّ وَالْأَنْمَاطَ وَالْحُلَلَ ثُمَّ يَبْعَثُ بِهَا إِلَى الْكَعْبَةِ فَيَكْسُوهَا إِيَّاهَا.

নাফি’ (র) হতে বর্ণিত; আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) কুরবানীর উটসমূহকে মিসরীয় কুবাতি ও আনমাত কাপড় পরাতেন। কুরবানীর পর কাপড়সমূহ বায়তুল্লাহর গিলাফ হিসেবে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

১৪৭و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَأَلَ عَبْدَ اللهِ بْنَ دِينَارٍ مَا كَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ يَصْنَعُ بِجِلَالِ بُدْنِهِ حِينَ كُسِيَتْ الْكَعْبَةُ هَذِهِ الْكِسْوَةَ قَالَ كَانَ يَتَصَدَّقُ بِهَا.

মালিক (র) আবদুল্লাহ্ ইবনু দীনার (রা)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন পরে বায়তুল্লাহ্‌র জন্য যখন আলাদা গিলাফ বানিয়ে নেওয়া হল তখন আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) কুরবানীর উটসমূহের এই কাপড়-চোপড় কি করতেন? তিনি বললেন, এইগুলো তিনি তখন খয়রাত করে দিতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৪২

و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُوْلُ: فِي الضَّحَايَا وَالْبُدْنِ الثَّنِيُّ فَمَا فَوْقَهُ.

নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) বলতেন, কুরবানীর উট পাঁচ বা ততোধিক বৎসর বয়সের হতে হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

১৪৯و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ لَا يَشُقُّ جِلَالَ بُدْنِهِ وَلَا يُجَلِّلُهَا حَتَّى يَغْدُوَ مِنْ مِنًى إِلَى عَرَفَةَ.

নাফি’ (র) হতে বর্ণিত; আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) তাঁর কুরবানীর উটের কাপড়-চোপড় মিনা হতে আরাফাতে না যাওয়া পর্যন্ত ছিড়তেন না বা পরাতেন না। (মাওকুফ, হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لِبَنِيهِ يَا بَنِيَّ لَا يُهْدِيَنَّ أَحَدُكُمْ مِنْ الْبُدْنِ شَيْئًا يَسْتَحْيِي أَنْ يُهْدِيَهُ لِكَرِيمِهِ فَإِنَّ اللهَ أَكْرَمُ الْكُرَمَاءِ وَأَحَقُّ مَنْ اخْتِيرَ لَهُ.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ (র) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন তিনি স্বীয় পুত্রগণকে বলতেন, বৎসগণ আল্লাহর নামে তোমরা এমন উট কুরবানী দিও না একজন দোস্তকে যা দিতে লজ্জা কর। আল্লাহ তা’আলা সবচাইতে সম্মানিত। সুতরাং সর্বোত্তম বস্তুই তাঁর জন্য নির্বাচন করা উচিত।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৪৭

হাদ্‌য়ীর পশু যদি ক্লান্ত হয়ে যায় বা হারিয়ে যায় তবে কি করতে হবে

৮৪৩

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ صَاحِبَ هَدْيِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ أَصْنَعُ بِمَا عَطِبَ مِنْ الْهَدْيِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُّ بَدَنَةٍ عَطِبَتْ مِنْ الْهَدْيِ فَانْحَرْهَا ثُمَّ أَلْقِ قِلَادَتَهَا فِي دَمِهَا ثُمَّ خَلِّ بَيْنَهَا وَبَيْنَ النَّاسِ يَأْكُلُونَهَا.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ (র) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদ্‌য়ী নিয়ে যাচ্ছিলেন সে ব্যক্তি তাঁকে বলল, পথে যদি হাদ্‌য়ীর কোন একটি মারা যাওয়ার উপক্রম হয় তবে কি করবে? তিনি বললেন, এমন হতে দেখলে ঐ পশুটিকে ‘নাহর’ করে গলায় বাঁধা হারটি রক্ত মেখে রেখে দেবে। এতে লোকগণ এর গোশত খেয়ে নিতে পারবে। [১] (সহীহ, আবূ দাঊদ মুত্তাসিল সনদে নাজিয়ার বরাত দিয়ে বর্ণনা করেন, [আবূ দাঊদ ১৭৬২, তিরমিযী ৯১০, ইবনু মাজাহ ৩১০৬] আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন [সহীহ সুনানে আবূ দাঊদ] এবং ইমাম মুসলিম মারফু ও মুত্তাসিল সনদে আবূ আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন ১৯২৫)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদয়ী নিয়ে যে ব্যক্তি যাচ্ছিল তাঁর নাম নাদিয়া ইবনু যুনদুব আসলামী (রা) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেউ কেউ তাঁর নাম যাকওয়ান বলে উল্লেখ করেছেন।

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৪৪

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ مَنْ سَاقَ بَدَنَةً تَطَوُّعًا فَعَطِبَتْ فَنَحَرَهَا ثُمَّ خَلَّى بَيْنَهَا وَبَيْنَ النَّاسِ يَأْكُلُونَهَا فَلَيْسَ عَلَيْهِ شَيْءٌ وَإِنْ أَكَلَ مِنْهَا أَوْ أَمَرَ مَنْ يَأْكُلُ مِنْهَا غَرِمَهَا.

সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (র) থেকে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি হাদ্‌য়ী নিয়ে রওয়ানা হয়েছে, সে যদি এটাকে পথে মারা যেতে দেখে, তবে ‘নাহর’ করে রেখে দেবে, যাতে লোকজন উহা খেয়ে নিতে পারে। ঐ ব্যক্তির কোন বদলা দিতে হবে না। কিন্তু এর গোশত নিজে খেলে বা অন্য কাউকেও খেতে বললে বদলা দিতে হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ الدِّيلِيِّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ مِثْلَ ذَلِكَ.

মালিক (র) সাওর ইবনু যায়দ দীলি (র) হতে বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা)-ও উপরিউক্ত মত ব্যক্ত করেছেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৪৫

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ مَنْ أَهْدَى بَدَنَةً جَزَاءً أَوْ نَذْرًا أَوْ هَدْيَ تَمَتُّعٍ فَأُصِيبَتْ فِي الطَّرِيقِ فَعَلَيْهِ الْبَدَلُ.

ইবনু শিহাব (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, কাফফারা, মানত বা হজ্জে তামাত্তু’র কুরবানীর উট নিয়ে রওয়ানা হওয়ার পর পথে যদি মারা যায় বা নষ্ট হয়ে যায় তবে এর পরিবর্তে আরেকটি উট কুরবানী দিতে হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

১৫৫و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ أَهْدَى بَدَنَةً ثُمَّ ضَلَّتْ أَوْ مَاتَتْ فَإِنَّهَا إِنْ كَانَتْ نَذْرًا أَبْدَلَهَا وَإِنْ كَانَتْ تَطَوُّعًا فَإِنْ شَاءَ أَبْدَلَهَا وَإِنْ شَاءَ تَرَكَهَا.

১৪১৯-و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ أَهْلَ الْعِلْمِ يَقُولُونَ لَا يَأْكُلُ صَاحِبُ الْهَدْيِ مِنْ الْجَزَاءِ وَالنُّسُكِ.

নাফি’ (র) হতে বর্ণিত; আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেছেন, কুরবানীর পশু পথে মারা গেলে বা হারিয়ে গেলে তা মানতের হয়ে থাকলে এর পরিবর্তে আরেকটি কুরবানী দিতে হবে, আর নফলী হয়ে থাকলে আরেকটি কুরবানী দেওয়া না দেওয়া মালিকের ইচ্ছাধীন থাকবে।

মালিক (র) বলেন, তিনি বিজ্ঞ আলিমগণকে বলতে শুনেছেন, শাস্তিস্বরূপ অথবা ইহরামের পরিপন্থী পরিচ্ছন্নতা ও আরাম-আয়েশ গ্রহণ করার দরুন যে হাদ্‌য়ী (কুরবানী) ওয়াজিব তা হতে কুরবানী প্রদানকারী আহার করবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৪৮

মুহরিম ব্যক্তি স্ত্রী সহবাস করলে তার কুরবানী

৮৪৬

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ وَعَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ وَأَبَا هُرَيْرَةَ سُئِلُوا عَنْ رَجُلٍ أَصَابَ أَهْلَهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ بِالْحَجِّ فَقَالُوا يَنْفُذَانِ يَمْضِيَانِ لِوَجْهِهِمَا حَتَّى يَقْضِيَا حَجَّهُمَا ثُمَّ عَلَيْهِمَا حَجُّ قَابِلٍ وَالْهَدْيُ قَالَ وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَإِذَا أَهَلَّا بِالْحَجِّ مِنْ عَامٍ قَابِلٍ تَفَرَّقَا حَتَّى يَقْضِيَا حَجَّهُمَا.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, উমার ইবনু খাত্তাব (রা), আলী ইবনু আবি তালিব (রা) ও আবূ হুরায়রা (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ইহরাম অবস্থায় কেউ যদি স্ত্রীর সহিত সহবাস করে তবে সে কি করবে? তাঁরা বললেন, স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই হজ্জের অবশিষ্ট রুকনগুলো আদায় করে হজ্জ পুরা করবে। আগামী বৎসর তাদেরকে পুনরায় হজ্জ করতে হবে এবং কুরবানী দিতে হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন, আলী ইবনু আবি তালিব (রা) বলেছেন, আগামী বৎসর পুনরায় হজ্জের ইহরাম বাঁধলে হজ্জ পুরা না হওয়া পর্যন্ত তারা স্বামী-স্ত্রী দু’জনে আলাদা আলাদা থাকবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৪৭

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ يَقُوْلُ: مَا تَرَوْنَ فِي رَجُلٍ وَقَعَ بِامْرَأَتِهِ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَلَمْ يَقُلْ لَهُ الْقَوْمُ شَيْئًا فَقَالَ سَعِيدٌ إِنَّ رَجُلًا وَقَعَ بِامْرَأَتِهِ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَبَعَثَ إِلَى الْمَدِينَةِ يَسْأَلُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ بَعْضُ النَّاسِ يُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا إِلَى عَامٍ قَابِلٍ فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ لِيَنْفُذَا لِوَجْهِهِمَا فَلْيُتِمَّا حَجَّهُمَا الَّذِي أَفْسَدَاهُ فَإِذَا فَرَغَا رَجَعَا فَإِنْ أَدْرَكَهُمَا حَجٌّ قَابِلٌ فَعَلَيْهِمَا الْحَجُّ وَالْهَدْيُ وَيُهِلَّانِ مِنْ حَيْثُ أَهَلَّا بِحَجِّهِمَا الَّذِي أَفْسَدَاهُ وَيَتَفَرَّقَانِ حَتَّى يَقْضِيَا حَجَّهُمَا قَالَ مَالِك يُهْدِيَانِ جَمِيعًا بَدَنَةً بَدَنَةً.

১৪২৩-قَالَ مَالِك فِي رَجُلٍ وَقَعَ بِامْرَأَتِهِ فِي الْحَجِّ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَنْ يَدْفَعَ مِنْ عَرَفَةَ وَيَرْمِيَ الْجَمْرَةَ إِنَّهُ يَجِبُ عَلَيْهِ الْهَدْيُ وَحَجُّ قَابِلٍ قَالَ فَإِنْ كَانَتْ إِصَابَتُهُ أَهْلَهُ بَعْدَ رَمْيِ الْجَمْرَةِ فَإِنَّمَا عَلَيْهِ أَنْ يَعْتَمِرَ وَيُهْدِيَ وَلَيْسَ عَلَيْهِ حَجُّ قَابِلٍ. ১৪২৪-قَالَ مَالِك وَالَّذِي يُفْسِدُ الْحَجَّ أَوْ الْعُمْرَةَ حَتَّى يَجِبَ عَلَيْهِ فِي ذَلِكَ الْهَدْيُ فِي الْحَجِّ أَوْ الْعُمْرَةِ الْتِقَاءُ الْخِتَانَيْنِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ مَاءٌ دَافِقٌ قَالَ وَيُوجِبُ ذَلِكَ أَيْضًا الْمَاءُ الدَّافِقُ إِذَا كَانَ مِنْ مُبَاشَرَةٍ فَأَمَّا رَجُلٌ ذَكَرَ شَيْئًا حَتَّى خَرَجَ مِنْهُ مَاءٌ دَافِقٌ فَلَا أَرَى عَلَيْهِ شَيْئًا ১৪২৫-وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا قَبَّلَ امْرَأَتَهُ وَلَمْ يَكُنْ مِنْ ذَلِكَ مَاءٌ دَافِقٌ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ فِي الْقُبْلَةِ إِلَّا الْهَدْيُ ১৪২৬-وَلَيْسَ عَلَى الْمَرْأَةِ الَّتِي يُصِيبُهَا زَوْجُهَا وَهِيَ مُحْرِمَةٌ مِرَارًا فِي الْحَجِّ أَوْ الْعُمْرَةِ وَهِيَ لَهُ فِي ذَلِكَ مُطَاوِعَةٌ إِلَّا الْهَدْيُ وَحَجُّ قَابِلٍ إِنْ أَصَابَهَا فِي الْحَجِّ وَإِنْ كَانَ أَصَابَهَا فِي الْعُمْرَةِ فَإِنَّمَا عَلَيْهَا قَضَاءُ الْعُمْرَةِ الَّتِي أَفْسَدَتْ وَالْهَدْيُ .

ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি সমবেত লোকদেরকে লক্ষ করে বলতেছিলেন ইহরাম অবস্থায় যে ব্যক্তি স্ত্রী-সহবাস করে তার সম্পর্কে তোমরা কি বল? উপস্থিত সকলেই চুপ হয়ে রইলেন। শেষে সাঈদ (রা) নিজেই বললেন, এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করেছিল। পরে সে এই সম্পর্কে মাসআলা জিজ্ঞেস করার জন্য এক ব্যক্তিকে মদীনা শরীফে প্রেরণ করে। কেউ কেউ জবাব দিলেন স্বামী-স্ত্রী এক বৎসর পর্যন্ত দু’জনেই আলাদা হয়ে থাকবে।

কিন্তু সাঈদ (র) বললেন, এই বৎসর তারা হজ্জে অবশিষ্ট কাজসমূহ পুরা করবে। পরের বৎসর জীবিত থাকলে পুনরায় হজ্জ করবে এবং কুরবানী দিবে। প্রথম হজ্জের ইহরাম যে স্থান হতে বেঁধেছিল এই হজ্জের ইহরামও সেই স্থান হতে বাঁধবে। আর কাযা হজ্জ করতে যখন আসবে তখন দু’জনেই তারা হজ্জ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আলাদা আলাদা থাকবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন, উভয়কেই এক একটি করে কুরবানী করতে হবে।

মালিক (র) বলেন, আরাফাতে অবস্থানের পর এবং প্রস্তর নিক্ষেপের পূর্বে যদি কেউ স্ত্রী সহবাস করে তবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হবে এবং আগামী বৎসর পুনরায় তাকে হজ্জ করতে হবে। রমিয়ে হাজর বা প্রস্তর নিক্ষেপের পর যদি স্ত্রী সহবাস করে, তবে তাকে একটি উমরা এবং একটি কুরবানী করতে হবে। পরেরবার পুনরায় হজ্জ করতে হবে না।

মালিক (র) বলেন, স্খলন না হয়ে শুধু পুরুষাঙ্গ প্রবিষ্ট হলেও হজ্জ ও উমরা বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং হাদ্‌য়ী ওয়াজিব হবে। প্রবিষ্ট না হয়েও যদি রতিলীলায় স্খলন হয়ে যায় তবুও হজ্জ বিনষ্ট হয়ে যাবে।

আর কল্পনা করার দরুন যদি কারো স্খলন হয়ে যায় তবে এতে কিছুই ওয়াজিব হবে না।

মালিক (র) বলেন, কেউ স্ত্রীকে চুমা খেলে স্খলন না হলেও তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।

মালিক (র) বলেন, কোন মুহরিম মহিলার স্বামী যদি তার সম্মতিক্রমে তার সঙ্গে হজ্জ ও উমরার মধ্যে কয়েকবার সহবাস করে তবে ঐ মহিলাকে পরের বৎসর এই হজ্জের কাযা আদায় করতে হবে এবং কুরবানী দিতে হবে। আর এইরূপ সহবাস উমরার মধ্যে হলেও অতি সত্বর উমরা কাযা করতে হবে ও কুরবানী দিতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৪৯

যে ব্যক্তি হজ্জ পেল না তার কুরবানী

৮৪৮

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ أَنَّ أَبَا أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيَّ خَرَجَ حَاجًّا حَتَّى إِذَا كَانَ بِالنَّازِيَةِ مِنْ طَرِيقِ مَكَّةَ أَضَلَّ رَوَاحِلَهُ وَإِنَّهُ قَدِمَ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ يَوْمَ النَّحْرِ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ عُمَرُ اصْنَعْ كَمَا يَصْنَعُ الْمُعْتَمِرُ ثُمَّ قَدْ حَلَلْتَ فَإِذَا أَدْرَكَكَ الْحَجُّ قَابِلًا فَاحْجُجْ وَأَهْدِ مَا اسْتَيْسَرَ مِنْ الْهَدْيِ.

সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবূ আইয়ুব আনসারী (রা) হজ্জের নিয়তে রওয়ানা হয়েছিলেন। মক্কার পথে নাযিয়া নামক স্থানে পৌঁছার পর তাঁর উটটি হারিয়ে যায়। নাহর দিবস অর্থাৎ দশ তারিখে তিনি উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে ঘটনা বিবৃত করলেন। তখন উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বললেন, এখন উমরা করে ইহরাম খুলে ফেল। আগামী বৎসর হজ্জ করে নিও এবং সামর্থ্যানুসারে একটি কুরবানী করো। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৪৯

و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ هَبَّارَ بْنَ الْأَسْوَدِ جَاءَ يَوْمَ النَّحْرِ وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَنْحَرُ هَدْيَهُ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَخْطَأْنَا الْعِدَّةَ كُنَّا نَرَى أَنَّ هَذَا الْيَوْمَ يَوْمُ عَرَفَةَ فَقَالَ عُمَرُ اذْهَبْ إِلَى مَكَّةَ فَطُفْ أَنْتَ وَمَنْ مَعَكَ وَانْحَرُوا هَدْيًا إِنْ كَانَ مَعَكُمْ ثُمَّ احْلِقُوا أَوْ قَصِّرُوا وَارْجِعُوا فَإِذَا كَانَ عَامٌ قَابِلٌ فَحُجُّوا وَأَهْدُوا فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعَ.

قَالَ مَالِك وَمَنْ قَرَنَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ ثُمَّ فَاتَهُ الْحَجُّ فَعَلَيْهِ أَنْ يَحُجَّ قَابِلًا وَيَقْرُنُ بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ وَيُهْدِي هَدْيَيْنِ هَدْيًا لِقِرَانِهِ الْحَجَّ مَعَ الْعُمْرَةِ وَهَدْيًا لِمَا فَاتَهُ مِنْ الْحَجِّ.

সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (র) থেকে বর্ণিতঃ

ইয়াওমুন-নাহারে অর্থাৎ দশ তারিখে হাব্বার ইবনু আসওয়াদ (রা) হজ্জের জন্য এসে পৌঁছেন। উমার ইবনু খাত্তাব (রা) তখন তাঁর কুরবানীর পশুগুলো ‘নাহর’ করতেছিলেন। হাব্বার বললেন, আমীরুল মু’মিনীন! তারিখের ব্যাপারে আমাদের ভুল হয়ে গিয়েছে। আমরা ধারণা করেছিলাম আজ আরাফাতের দিন। উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বললেন, তুমি সঙ্গিগণসহ মক্কায় চলে যাও এবং তাওয়াফ করে নাও। কোন কুরবানীর পশু সঙ্গে থাকলে উহার কুরবানী করে ফেল। পরে মাথা কামায়ে বা চুল ছেঁটে বাড়ি ফিরে যাও। আগামী বৎসর পুনরায় হজ্জ করবে এবং কুরবানী দিবে। যার কুরবানী করার সমর্থ্য নেই সে তিনদিন হজ্জের সময় এবং বাড়ি ফিরে সাতদিন রোযা রাখবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন, হজ্জে কিরানের ইহরাম বাঁধার পর যদি হজ্জ পায়, তবে পরের বৎসরও হজ্জে কিরান করবে এবং তাকে দুটি কুরবানী দিতে হবে একটি হজ্জে কিরানের আর একটি গত বৎসর হজ্জ না পাওয়ার।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৫০

তাওয়াফে যিয়ারতের পূর্বে স্ত্রী সহবাস করলে তার কুরবানী

৮৫০

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ وَقَعَ بِأَهْلِهِ وَهُوَ بِمِنًى قَبْلَ أَنْ يُفِيضَ فَأَمَرَهُ أَنْ يَنْحَرَ بَدَنَةً.

আতা ইবনু রাবাহ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা)-এর নিকট এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হল, যে ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় মিনাতে তাওয়াফে ইফাযার পূর্বে স্ত্রী সহবাস করেছে, তিনি তাকে একটি উট কুরবানী করতে হুকুম দেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৫১

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ الدِّيلِيِّ عَنْ عِكْرِمَةَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَا أَظُنُّهُ إِلَّا عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ: الَّذِي يُصِيبُ أَهْلَهُ قَبْلَ أَنْ يُفِيضَ يَعْتَمِرُ وَيُهْدِي.

ইকরামা (রা) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) বলেন, তাওয়াফে যিয়ারত করার পূর্বে কেউ যদি স্ত্রীসহবাস করে তবে তাকে উমরা এবং কুরবানী করতে হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৫২

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ رَبِيعَةَ بْنَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَقُولُ فِي ذَلِكَ مِثْلَ قَوْلِ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ.

ইকরামা (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) হতে যেরূপ বর্ণনা করেছেন মালিক (র) রবী’আ ইবনু আবূ আবদুর রহমানকে এ সম্পর্কে অনুরূপ বলতে শুনেছেন। মালিক (র) বলেন, এই বিষয়ে যা শুনেছি তন্মধ্যে ইটাই আমার পছন্দনীয়। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

 

১৬২و سُئِلَ مَالِك عَنْ رَجُلٍ نَسِيَ الْإِفَاضَةَ حَتَّى خَرَجَ مِنْ مَكَّةَ وَرَجَعَ إِلَى بِلَادِهِ فَقَالَ أَرَى إِنْ لَمْ يَكُنْ أَصَابَ النِّسَاءَ فَلْيَرْجِعْ فَلْيُفِضْ وَإِنْ كَانَ أَصَابَ النِّسَاءَ فَلْيَرْجِعْ فَلْيُفِضْ ثُمَّ لْيَعْتَمِرْ وَلْيُهْدِ وَلَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَشْتَرِيَ هَدْيَهُ مِنْ مَكَّةَ وَيَنْحَرَهُ بِهَا وَلَكِنْ إِنْ لَمْ يَكُنْ سَاقَهُ مَعَهُ مِنْ حَيْثُ اعْتَمَرَ فَلْيَشْتَرِهِ بِمَكَّةَ ثُمَّ لْيُخْرِجْهُ إِلَى الْحِلِّ فَلْيَسُقْهُ مِنْهُ إِلَى مَكَّةَ ثُمَّ يَنْحَرُهُ بِهَا.

ইয়াহইয়া (র) বলেন, মালিক (র)-কে জিজ্ঞেস করা হল তাওয়াফে যিয়ারত ভুলে গিয়ে যদি বাড়ি ফিরে আসে তবে সে কি করবে? তিনি বললেন, স্ত্রীসম্ভোগ না করে থাকলে মক্কায় ফিরে যাবে এবং তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করবে। আর স্ত্রীসম্ভোগ করে থাকলে মক্কায় ফিরে গিয়ে তাওয়াফ আদায় করবে এবং উমরা করে একটি কুরবানী দিবে। মক্কা হতে উট ক্রয় করে কুরবানী দিলে হবে না। সঙ্গে যদি কুরবানীর পশু এনে না থাকে তবে মক্কা হতে কুরবানীর পশু কিনে এটাসহ হারাম শরীফের বাহিরে চলে যাবে এবং সে স্থান হতে এটাকে মক্কায় হাঁকিয়ে নিয়া আসবে এবং পশু সেখানে ‘নাহর’ করবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৫১

সামর্থ্যানুসারে কুরবানী করা

৮৫৩

و حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَانَ يَقُولُ { مَا اسْتَيْسَرَ مِنْ الْهَدْيِ } شَاةٌ.

জা’ফর ইবনু মুহাম্মদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আলী ইবনু আবি তালিব (রা) বলতেন, [১] مَا اسْتَيْسَرَ مِنْ الْهَدْيِ এই কথার অর্থ হল, অন্তত একটি বকরী কুরবানী করা। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] তবে সহজলভ্য কুরবানী করো। (সূরা: আল-বাকারাহ, ১৯৬)

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৫৪

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ كَانَ يَقُولُ مَا اسْتَيْسَرَ مِنْ الْهَدْيِ شَاةٌ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ لِأَنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ { يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّدًا فَجَزَاءٌ مِثْلُ مَا قَتَلَ مِنْ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ أَوْ عَدْلُ ذَلِكَ صِيَامًا } فَمِمَّا يُحْكَمُ بِهِ فِي الْهَدْيِ شَاةٌ وَقَدْ سَمَّاهَا اللهُ هَدْيًا وَذَلِكَ الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ عِنْدَنَا وَكَيْفَ يَشُكُّ أَحَدٌ فِي ذَلِكَ وَكُلُّ شَيْءٍ لَا يَبْلُغُ أَنْ يُحْكَمَ فِيهِ بِبَعِيرٍ أَوْ بَقَرَةٍ فَالْحُكْمُ فِيهِ شَاةٌ وَمَا لَا يَبْلُغُ أَنْ يُحْكَمَ فِيهِ بِشَاةٍ فَهُوَ كَفَّارَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ إِطْعَامِ مَسَاكِيْنَ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা) বলেছেন, مَا اسْتَيْسَرَ مِنْ الْهَدْيِ এর অর্থ হল, অন্তত একটি বকরী কুরবানী করা। (হাদীসটি ইমাম মালিক (র) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন, এই বর্ণনাটি আমার নিকট খুবই প্রিয়। কেননা কুরআনুল করীমে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, হে মু’মিনগণ, তোমরা যখন ইহরাম অবস্থায় থাক তখন তোমরা কোন প্রাণী বধ করো না। কেউ যদি কোনকিছু ইচ্ছাকৃতভাবে বধ করে তবে যে ধরনের পশু সে বধ করেছে সেই ধরনের কোন পশু তাকে প্রতিদান (জরিমানা) দিতে হবে। তোমাদের দুইজন ন্যায়নিষ্ঠ লোক এর ফয়সালা করে দেবে। এই প্রতিদান বায়তুল্লাহতে প্রেরিত হাদ্‌য়ী হবে অথবা কাফ্‌ফারা হিসেবে হবে যা মিসকীনদেরকে আহার করানো হবে অথবা তাকে তৎপরিমাণ রোযা রাখতে হবে যাতে সে তার কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করে নেয়। যা হোক, শিকারকৃত পশুর পরিবর্তে কোন সময়ে বকরীও ওয়াজিব হতে পারে। উক্ত আয়াতে উহাকেও হাদ্‌য়ী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কথায় একজন কি করে সন্দেহ করতে পারে? কারণ যে পশু উট বা গরুর সমতুল্য নয় উহার প্রতিদানে (জরিমানা) একটি বকরীই ওয়াজিব হতে পারে। একটি বকরীর সমতুল্যও যেখানে হবে না সেখানে কাফফারা ওয়াজিব হবে। সে রোযার মাধ্যমে উহা আদায় করুক বা মিসকীনদেরকে আহার করিয়ে তা আদায় করুক, উভয় অবস্থায় ইহা কাফফারা হিসেবেই গণ্য হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৫৫

নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলতেন, مَا اسْتَيْسَرَ مِنْ الْهَدْيِ আয়াতটির অর্থ হল অন্ততপক্ষে একটি উট বা গাভী কুরবানী করতে হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৫৬

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّ مَوْلَاةً لِعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ يُقَالُ لَهَا رُقَيَّةُ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا خَرَجَتْ مَعَ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِلَى مَكَّةَ قَالَتْ فَدَخَلَتْ عَمْرَةُ مَكَّةَ يَوْمَ التَّرْوِيَةِ وَأَنَا مَعَهَا فَطَافَتْ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ دَخَلَتْ صُفَّةَ الْمَسْجِدِ فَقَالَتْ أَمَعَكِ مِقَصَّانِ فَقُلْتُ لَا فَقَالَتْ فَالْتَمِسِيهِ لِي فَالْتَمَسْتُهُ حَتَّى جِئْتُ بِهِ فَأَخَذَتْ مِنْ قُرُونِ رَأْسِهَا فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ ذَبَحَتْ شَاةً.

আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ বক্‌র (র) থেকে বর্ণিতঃ

আম্‌রাহ বিন্‌ত আবদুর রহমানের আদায়কৃত দাসী রুকাইয়া (র) খবর দিয়েছেন তিনি একবার ‘আমরাহ্ বিন্‌ত আবদুর রহমানের সঙ্গে মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হন। তিনি বলেন, যিলহজ্জ মাসের অষ্টম তারিখে তিনি (আমরাহ) মক্কায় গিয়ে উপনীত হন। আমি তাঁর সাথে সাথেই ছিলাম। তিনি কা’বা শরীফের তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সা’য়ী করে মসজিদে গেলেন। আমাকে বললেন, তোমার নিকট কাঁচি আছে কি? আমি বললাম নাই। তিনি বললেন, একটি কাঁচি খুঁজে আন। আমি তাই করলাম। তিনি উহা দ্বারা তাঁর চুলের কিছু অংশ কাটলেন। পরে কুরবানীর দিন (ইয়াওমুন-নাহরে) তিনি একটি বকরী যবেহ করলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৫২

কুরবানী হাদ্‌য়ী-র বিভিন্ন আহকাম

৮৫৭

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ صَدَقَةَ بْنِ يَسَارٍ الْمَكِّيِّ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ جَاءَ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ وَقَدْ ضَفَرَ رَأْسَهُ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنِّي قَدِمْتُ بِعُمْرَةٍ مُفْرَدَةٍ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ لَوْ كُنْتُ مَعَكَ أَوْ سَأَلْتَنِي لَأَمَرْتُكَ أَنْ تَقْرِنَ فَقَالَ الْيَمَانِي قَدْ كَانَ ذَلِكَ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ خُذْ مَا تَطَايَرَ مِنْ رَأْسِكَ وَأَهْدِ فَقَالَتْ امْرَأَةٌ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ مَا هَدْيُهُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَقَالَ هَدْيُهُ فَقَالَتْ لَهُ مَا هَدْيُهُ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ لَوْ لَمْ أَجِدْ إِلَّا أَنْ أَذْبَحَ شَاةً لَكَانَ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَصُوْمَ.

সাদাকাহ ইবনু ইয়াসার মক্কী (র) থেকে বর্ণিতঃ

ইয়ামনের অধিবাসী এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা)-এর নিকট আসে। চুলগুলো তার জটপাকানো ছিল। সে বলল, হে আবূ আবদুর রহমান! আমি শুধু উমরার হইরাম বেঁধে এসেছি। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বললেন, তুমি যদি আমার সঙ্গে থাকতে বা আমার নিকট পূর্বে জিজ্ঞেস করতে তবে তোমাকে আমি হজ্জে কিরান করার কথা বলতাম। লোকটি বললঃ উহার সময় অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বললেন, তোমরা এই লম্বা চুলগুলো কেটে ফেল এবং কুরবানী কর। ইরাকের অধিবাসী একজন মহিলা তখন বলল, হে আবূ আবদুর রহমান! এই লোকটির হাদয়ী (কুরবানী) কি হবে? তিনি বললেন, উত্তম হাদয়ী সে দিবে। মহিলাটি পুনরায় বলল, ইহা কি হবে? আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) বললেন, যবেহ করবার জন্য বকরী ব্যতীত অন্য কিছু যদি না পায় বা দিতে অসমর্থ হয়, তবে আমার কাছে রোযা রাখা অপেক্ষা বকরী হাদয়ী দেওয়াই উত্তম। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৫৮

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُوْلُ: الْمَرْأَةُ الْمُحْرِمَةُ إِذَا حَلَّتْ لَمْ تَمْتَشِطْ حَتَّى تَأْخُذَ مِنْ قُرُونِ رَأْسِهَا وَإِنْ كَانَ لَهَا هَدْيٌ لَمْ تَأْخُذْ مِنْ شَعْرِهَا شَيْئًا حَتَّى تَنْحَرَ هَدْيَهَا.

নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলতেন, ইহরামরত স্ত্রীলোক তার চুলের গোছা না কাটা পর্যন্ত সে চুল আচঁড়াবে না। সঙ্গে হাদ্‌য়ী থাকলে তা যবেহ না করা পর্যন্ত সে চুল কাটবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৫৯

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ بَعْضَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَقُولُ لَا يَشْتَرِكُ الرَّجُلُ وَامْرَأَتُهُ فِي بَدَنَةٍ وَاحِدَةٍ لِيُهْدِ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا بَدَنَةً بَدَنَةً ৪৪৪-و سُئِلَ مَالِك عَمَّنْ بُعِثَ مَعَهُ بِهَدْيٍ يَنْحَرُهُ فِي حَجٍّ وَهُوَ مُهِلٌّ بِعُمْرَةٍ هَلْ يَنْحَرُهُ إِذَا حَلَّ أَمْ يُؤَخِّرُهُ حَتَّى يَنْحَرَهُ فِي الْحَجِّ وَيُحِلُّ هُوَ مِنْ عُمْرَتِهِ فَقَالَ بَلْ يُؤَخِّرُهُ حَتَّى يَنْحَرَهُ فِي الْحَجِّ وَيُحِلُّ هُوَ مِنْ عُمْرَتِهِ.

১৪৪৫-قَالَ مَالِك وَالَّذِي يُحْكَمُ عَلَيْهِ بِالْهَدْيِ فِي قَتْلِ الصَّيْدِ أَوْ يَجِبُ عَلَيْهِ هَدْيٌ فِي غَيْرِ ذَلِكَ فَإِنَّ هَدْيَهُ لَا يَكُونُ إِلَّا بِمَكَّةَ كَمَا قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ } وَأَمَّا مَا عُدِلَ بِهِ الْهَدْيُ مِنْ الصِّيَامِ أَوْ الصَّدَقَةِ فَإِنَّ ذَلِكَ يَكُونُ بِغَيْرِ مَكَّةَ حَيْثُ أَحَبَّ صَاحِبُهُ أَنْ يَفْعَلَهُ فَعَلَهُ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

কতিপয় আলিমের কাছে শুনেছেন স্বামী-স্ত্রী কুরবানীতে একই উটে শরীক হবে না। প্রত্যেকেরই আলাদা উট কুরবানী করা উচিত।

মালিক (র)-এর নিকট জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, হজ্জের সময় ‘নাহর’ করার জন্য যদি কারো সঙ্গে মক্কায় হাদ্‌য়ী পাঠিয়ে দেয় আর সে নিজে উমরার ইহরাম বেঁধে আসে তবে উমরা শেষ হতেই সে ঐ হাদ্‌য়ীটি ‘নাহর’ করতে পারবে কি অথবা উহা ‘নাহর’ করার জন্য হজ্জ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে কি অপেক্ষা করবে? তিনি উত্তরে বললেন, উমরা করে সে ইহরাম খুলে ফেলবে এবং কুরবানীর জন্য হজ্জ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। এবং ‘ইয়াওমুন-নাহরের সময় উহাকে সে ‘নাহর’ করবে এবং এই কুরবানীকে তার উমরারই অংশবিশেষ জানবে।

মালিক (র) বলেন, ইহরাম অবস্থায় শিকার করার কারণে বা অন্য কোন কারণে যদি কারো উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হয়ে যায়, তবে উহাকে মক্কায় নিয়ে আসা উচিত। কারণ আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ এমন হাদ্‌য়ী যা কা’বায় পৌঁছায়।’ শিকার করার কারণে বা কুরবানীর পরিবর্তে রোযা বা সাদকা করতে হলে তার ইখতিয়ার থাকবে হারাম্ বা হারাম্ শরীফের বাহিরে যেকোন স্থানে ইচ্ছা সে উহা করতে পারবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৬০

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ خَالِدٍ الْمَخْزُومِيِّ عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ مَوْلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ كَانَ مَعَ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرٍ فَخَرَجَ مَعَهُ مِنْ الْمَدِينَةِ فَمَرُّوا عَلَى حُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ وَهُوَ مَرِيضٌ بِالسُّقْيَا فَأَقَامَ عَلَيْهِ عَبْدُ اللهِ بْنُ جَعْفَرٍ حَتَّى إِذَا خَافَ الْفَوَاتَ خَرَجَ وَبَعَثَ إِلَى عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَأَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ وَهُمَا بِالْمَدِينَةِ فَقَدِمَا عَلَيْهِ ثُمَّ إِنَّ حُسَيْنًا أَشَارَ إِلَى رَأْسِهِ فَأَمَرَ عَلِيٌّ بِرَأْسِهِ فَحُلِّقَ ثُمَّ نَسَكَ عَنْهُ بِالسُّقْيَا فَنَحَرَ عَنْهُ بَعِيرًا قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَكَانَ حُسَيْنٌ خَرَجَ مَعَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فِي سَفَرِهِ ذَلِكَ إِلَى مَكَّةَ.

আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফর (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আবদুর রহমান ইবনু জা’ফর (র)-এর সহিত মদীনা হতে যাত্রা করেন, পথে সুক্ইয়া নামক স্থানে হুসায়ন ইবনু আলী (রা)-এর সাথে তাদের সাক্ষাৎ হয়। তিনি [হুসায়ন (রা)] সেখানে অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফরও সেখানে রয়ে গেলেন। হজ্জের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে দেখে তিনি পুনরায় রওয়ানা হয়ে পড়েন এবং একজন লোককে খবর দিয়ে আলী ইবনু আবি তালিব (রা) ও তাঁর স্ত্রী আসমা বিন্‌ত উমাইসের নিকট পাঠিয়ে দিলেন। তাঁরা ঐ সময় মদীনায় ছিলেন। তাঁরা খবর পেয়ে সুকইয়ায় অসুস্থ পুত্রের নিকট এলেন। তিনি (হুসায়ন রা.) নিজের মাথার দিকে ইশারা করে দেখালেন। আলী (রা)-এর নির্দেশে তখন সেখানেই তাঁর মাথা কামান হল এবং একটি উট কুরবানী দেওয়া হল। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ (র) বলেন, হুসায়ন (রা) ঐ সময় উসমান ইবনু আফফান (রা)-এর সহিত হজ্জ করতে রাওয়ানা হয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৫৩

আরাফাত ও মুযদালিফায় অবস্থান

৮৬১

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عَرَفَةُ كُلُّهَا مَوْقِفٌ وَارْتَفِعُوا عَنْ بَطْنِ عُرَنَةَ وَالْمُزْدَلِفَةُ كُلُّهَا مَوْقِفٌ وَارْتَفِعُوا عَنْ بَطْنِ مُحَسِّرٍ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আরাফাতের সারা ময়দানে অবস্থান করা যায়, তবে তোমরা ‘বাতনে উরানায়’ অবস্থান করো না। এমনিভাবে মুযদালিফার সারা ময়দানে অবস্থান করা যায় তবে তোমরা ‘বাতনে মুহাস্‌সিরে’ অবস্থান করো না। (সহীহ, ইমাম মুসলিম জাবের (রা) থেকে বর্ণনা করেন ১২১৮, আর ইমাম মলিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি, মুরসাল)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৬২

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ اعْلَمُوا أَنَّ عَرَفَةَ كُلَّهَا مَوْقِفٌ إِلَّا بَطْنَ عُرَنَةَ وَأَنَّ الْمُزْدَلِفَةَ كُلَّهَا مَوْقِفٌ إِلَّا بَطْنَ مُحَسِّرٍ ১৪৫قَالَ مَالِك قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ } قَالَ فَالرَّفَثُ إِصَابَةُ النِّسَاءِ وَاللهُ أَعْلَمُ قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ } قَالَ وَالْفُسُوقُ الذَّبْحُ لِلْأَنْصَابِ وَاللهُ أَعْلَمُ قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللهِ بِهِ }.

قَالَ وَالْجِدَالُ فِي الْحَجِّ أَنَّ قُرَيْشًا كَانَتْ تَقِفُ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ بِالْمُزْدَلِفَةِ بِقُزَحَ وَكَانَتْ الْعَرَبُ وَغَيْرُهُمْ يَقِفُونَ بِعَرَفَةَ فَكَانُوا يَتَجَادَلُونَ يَقُولُ هَؤُلَاءِ نَحْنُ أَصْوَبُ وَيَقُولُ هَؤُلَاءِ نَحْنُ أَصْوَبُ فَقَالَ اللهُ تَعَالَى وَ { لِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا هُمْ نَاسِكُوهُ فَلَا يُنَازِعُنَّكَ فِي الْأَمْرِ وَادْعُ إِلَى رَبِّكَ إِنَّكَ لَعَلَى هُدًى مُسْتَقِيمٍ } فَهَذَا الْجِدَالُ فِيمَا نُرَى وَاللهُ أَعْلَمُ وَقَدْ سَمِعْتُ ذَلِكَ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ

আবদুল্লাহ্‌ ইবনু যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিতঃ

তোমরা বিশ্বাস কর ‘বাতনে উরানা’ ব্যতীত সমগ্র আরাফাতের ময়দানই অবস্থান করার স্থান, এমনভাবে বাতনে মুহাসসির ব্যতীত মুযদালিফার সারাটা ময়দানেই অবস্থান করা যায়। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেন

فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ [১]

‘রাফাস’ অর্থ হল স্ত্রীসম্ভোগ। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। আল্লাহ্ তা’আলা অন্যত্র ইরশাদ করেন

أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ [২]

মালিক (র) বলেন, ফুসুক অর্থ হল, দেব- দেবীর নামে পশু উৎসর্গ করা, আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন,

أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللهِ بِهِ [৩]

মালিক (র) বলেন, হজ্জে জিদাল বা ঝগড়া-বিবাদ হল, কুরাইশ গোত্রের লোকজন তৎকালে হজ্জের সময় মুযদালিফার কুযাহ্ নামক স্থানে অবস্থান করত। আর অন্যরা আরাফাতে অবস্থান করত। উভয় দল তখন পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত হত, একদল বলত, আমরাই সত্যপথের অনুসারী; অপর দল বলত, আমরাই কেবল সত্যপথের অনুসারী। আল্লাহ্ তা’আলা আয়াত নাযিল করে ইরশাদ করলেন,

لِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا هُمْ نَاسِكُوهُ فَلَا يُنَازِعُنَّكَ فِي الْأَمْرِ وَادْعُ إِلَى رَبِّكَ إِنَّكَ لَعَلَى هُدًى مُسْتَقِيمٍ [৪]

হজ্জের সময় ঝগড়া-বিবাদ বলতে এই কথাই বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ্ অধিক জ্ঞাত। আলিমগণের নিকটও আমি এই ব্যাখ্যা শুনেছি।

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] হজ্জের সময়ে স্ত্রীসম্ভোগ অন্যায় আচরণ ও কলহ-বিবাদ বিধেয় নয়। ২ ঃ ১৯৭

[২] সিয়ামের রাত্রে তোমাদের জন্য স্ত্রীসম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে। (সূরা: আল-বাকারাহ, ১৮৭)

[৩] অথবা যা অবৈধ, আল্লাহ্ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গের কারণে। (সূরা: আল-মায়িদাহ, ১৪৫)

[৪] আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছি ‘ইবাদত পদ্ধতি’ যা তারা অনুসরণ করে সুতরাং তারা যেন তোমার সাথে বিতর্ক না করে এই ব্যাপারে। তুমি তাদেরকে তোমার প্রতিপালকের দিকে আহবান কর। তুমিতো সরল পথেই প্রতিষ্ঠিত। (সূরা: হাজ্জ, ৬৭)

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৫৪

অপবিত্র অবস্থায় ওয়াকুফ (অবস্থান) করা এবং আরোহী অবস্থায় ওয়াকুফ করা

৮৬৩

سُئِلَ مَالِك هَلْ يَقِفُ الرَّجُلُ بِعَرَفَةَ أَوْ بِالْمُزْدَلِفَةِ أَوْ يَرْمِي الْجِمَارَ أَوْ يَسْعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَهُوَ غَيْرُ طَاهِرٍ فَقَالَ كُلُّ أَمْرٍ تَصْنَعُهُ الْحَائِضُ مِنْ أَمْرِ الْحَجِّ فَالرَّجُلُ يَصْنَعُهُ وَهُوَ غَيْرُ طَاهِرٍ ثُمَّ لَا يَكُونُ عَلَيْهِ شَيْءٌ فِي ذَلِكَ وَلَكِنْ الْفَضْلُ أَنْ يَكُونَ الرَّجُلُ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ طَاهِرًا وَلَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَتَعَمَّدَ ذَلِكَ১৪৫৩-و سُئِلَ مَالِك عَنْ الْوُقُوفِ بِعَرَفَةَ لِلرَّاكِبِ أَيَنْزِلُ أَمْ يَقِفُ رَاكِبًا فَقَالَ بَلْ يَقِفُ رَاكِبًا إِلَّا أَنْ يَكُونَ بِهِ أَوْ بِدَابَّتِهِ عِلَّةٌ فَاللهُ أَعْذَرُ بِالْعُذْرِ.

ইয়াহইয়া (র) থেকে বর্ণিতঃ

মালিক (র)-কে জিজ্ঞেস করা হল অপবিত্র কোন ব্যক্তি আরাফাত বা মুযদালিফায় অবস্থান বা প্রস্তর নিক্ষেপ বা সাফা-মারওয়ার সা’য়ী করতে পারবে কি? তিনি বললেন, ঋতুমতী স্ত্রীলোক হজ্জের যে সমস্ত আহকাম-আরকান আদায় করতে পারে তার ওযূবিহীন অবস্থায় তাকে আদায় করতে হয়। তদ্রূপ ওযূ ছাড়া পুরুষ ও স্ত্রীলোক এইগুলো করতে পারে। এতে দোষের কিছু হয় না। তবে ওযূসহ ঐ সমস্ত বিষয় আদায় করা উত্তম। স্বেচ্ছায় ওযূবিহীন অবস্থায় এইসব কাজ করা ঠিক নয় ।

মালিক (র)-কে জিজ্ঞেস করা হল কোন ব্যক্তি আরোহী হলে আরাফাতে অবস্থানকালে সে আরোহী অবস্থায় থাকবে কিনা। তিনি বললেন, আরোহী অবস্থায় ওয়াকুফ করবে। তবে তার বা তার ভারবাহী পশুর কোন অসুবিধা থাকলে আল্লাহ্ তা’আলা কবূল করবেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৫৫

যার হজ্জ ছুটে গিয়েছে তার আরাফাতে অবস্থান করা

৮৬৪

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُولُ مَنْ لَمْ يَقِفْ بِعَرَفَةَ مِنْ لَيْلَةِ الْمُزْدَلِفَةِ قَبْلَ أَنْ يَطْلُعَ الْفَجْرُ فَقَدْ فَاتَهُ الْحَجُّ وَمَنْ وَقَفَ بِعَرَفَةَ مِنْ لَيْلَةِ الْمُزْدَلِفَةِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَطْلُعَ الْفَجْرُ فَقَدْ أَدْرَكَ الْحَجَّ.

নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) বলেন, মুযদালিফার রাত্রির (১০ তারিখের রাত্রি) কিছু অংশ হতে আরাফাতে অবস্থান না করলে হজ্জ হবে না। আর যে ব্যক্তি ইয়াওমুন-নাহরের ফজর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আরাফাতে অবস্থান করতে পারবে তার হজ্জ হয়ে যাবে। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] যিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখে সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পড়ার সময় হতে ইয়াওমুন নাহরের ফজর পর্যন্ত হল ওয়াকুফ বা আরাফাতে অবস্থানের সময়। এই সময়ের ভিতর আরাফাতে অবস্থান না হলে হজ্জ হবে না।

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৬৫

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ أَدْرَكَهُ الْفَجْرُ مِنْ لَيْلَةِ الْمُزْدَلِفَةِ وَلَمْ يَقِفْ بِعَرَفَةَ فَقَدْ فَاتَهُ الْحَجُّ وَمَنْ وَقَفَ بِعَرَفَةَ مِنْ لَيْلَةِ الْمُزْدَلِفَةِ قَبْلَ أَنْ يَطْلُعَ الْفَجْرُ فَقَدْ أَدْرَكَ الْحَجَّ.

১৪৫৭-قَالَ مَالِك فِي الْعَبْدِ يُعْتَقُ فِي الْمَوْقِفِ بِعَرَفَةَ فَإِنَّ ذَلِكَ لَا يُجْزِي عَنْهُ مِنْ حَجَّةِ الْإِسْلَامِ إِلَّا أَنْ يَكُونَ لَمْ يُحْرِمْ فَيُحْرِمُ بَعْدَ أَنْ يُعْتَقَ ثُمَّ يَقِفُ بِعَرَفَةَ مِنْ تِلْكَ اللَّيْلَةِ قَبْلَ أَنْ يَطْلُعَ الْفَجْرُ فَإِنْ فَعَلَ ذَلِكَ أَجْزَأَ عَنْهُ وَإِنْ لَمْ يُحْرِمْ حَتَّى طَلَعَ الْفَجْرُ كَانَ بِمَنْزِلَةِ مَنْ فَاتَهُ الْحَجُّ إِذَا لَمْ يُدْرِكْ الْوُقُوفَ بِعَرَفَةَ قَبْلَ طُلُوعِ الْفَجْرِ مِنْ لَيْلَةِ الْمُزْدَلِفَةِ وَيَكُوْنُ عَلَى الْعَبْدِ حَجَّةُ الْإِسْلَامِ يَقْضِيْهَا.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, মুযদালিফার রাত ফজর হওয়া পর্যন্তও যদি কেউ (কিছু সময়ের জন্য) আরাফাতে অবস্থান না করে থাকে তবে তার হজ্জ বিনষ্ট হবে। আর যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাতে ফজরের পূর্ব পর্যন্ত ইহরাম বেঁধে (কিছু সময়) আরাফাতে অবস্থান করতে পারবে তার হজ্জ হয়ে যাবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন, আরাফাতে অবস্থানকালে যদি কোন ক্রীতদাস আযাদ হয়ে যায় তবে এই হজ্জ দ্বারা তার ফরয হজ্জ আদায় হবে না। কিন্তু আযাদ হওয়ার পূর্বে সে যদি ইহরাম না বেঁধে থাকে এবং আযাদ হওয়ার পর ইয়াওমুন-নাহরের ফজরের পূর্বে ইহরাম বেঁধে আরাফাতে অবস্থান করে নিতে পারে তবে তার ফরয হজ্জ আদায় হয়ে যাবে। আর ইয়াওমুন-নাহরের ফজর পর্যন্ত সে যদি ইহরাম না বাঁধে তবে তার অবস্থা ঐ ব্যক্তির মত হবে যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাত্রের ফজর পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করে নাই, ফলে তার হজ্জ বিনষ্ট হয়ে গিয়েছে। সুতরাং ঐ আযাদ ক্রীতদাসেরও পুনরায় ফরয হজ্জ আদায় করতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদঃ ৫৬

মহিলা ও শিশুদেরকে প্রথমে রওয়ানা করে দেওয়া

৮৬৬

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ سَالِمٍ وَعُبَيْدِ اللهِ ابْنَيْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ أَبَاهُمَا عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يُقَدِّمُ أَهْلَهُ وَصِبْيَانَهُ مِنْ الْمُزْدَلِفَةِ إِلَى مِنًى حَتَّى يُصَلُّوا الصُّبْحَ بِمِنًى وَيَرْمُوا قَبْلَ أَنْ يَأْتِيَ النَّاسُ.

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) শিশু ও মহিলাদেরকে প্রথম মুযদালিফা হতে মিনায় পাঠিয়ে দিতেন, মিনায় ফজরের নামায আদায় করার পরপরই অন্যান্য লোক আসার পূর্বে যেন তারা প্রস্তর নিক্ষেপ করে নিতে পারেন। (বুখারী ১৬৭৬, মুসলিম ১২৯৫)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৬৭

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ أَنَّ مَوْلَاةً لِأَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَخْبَرَتْهُ قَالَتْ جِئْنَا مَعَ أَسْمَاءَ ابْنَةِ أَبِي بَكْرٍ مِنًى بِغَلَسٍ قَالَتْ فَقُلْتُ لَهَا لَقَدْ جِئْنَا مِنًى بِغَلَسٍ فَقَالَتْ قَدْ كُنَّا نَصْنَعُ ذَلِكَ مَعَ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْكِ.

আতা ইবনু রাবা’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আসমা বিন্‌ত আবি বক্‌র (রা)-এর আযাদ দাসী বর্ণনা করেন, অন্ধকার থাকতেই আসমা বিন্‌ত আবি বক্‌র (রা)-এর সাথে আমরা মিনায় চলে এলাম। আসমাকে তখন আমি বললাম অন্ধকার থাকতেই যে মিনায় আমরা চলে এলাম? তিনি বললেন, তোমাদের হতে যিনি শ্রেষ্ঠ ছিলেন অর্থাৎ রসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর আমলেও আমরা এই ধরনের আমল করেছি। (বুখারী ১৬৭৯, মুসলিম ১২১৯)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৬৮

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللهِ كَانَ يُقَدِّمُ نِسَاءَهُ وَصِبْيَانَهُ مِنْ الْمُزْدَلِفَةِ إِلَى مِنًى.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, তালহা ইবনু উবায়দুল্লাহ্ (র) তাঁর পরিবারের মহিলা ও শিশুদেরকে মুযদালিফা হতে মিনায় আগেই পাঠিয়ে দিতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৬৯

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ بَعْضَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَكْرَهُ رَمْيَ الْجَمْرَةِ حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ مِنْ يَوْمِ النَّحْرِ وَمَنْ رَمَى فَقَدْ حَلَّ لَهُ النَّحْرُ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

কতিপয় আলিমের নিকট শুনেছেন যে, তাঁরা ইয়াওমুন-নাহরের ফজর হওয়ার পূর্বে প্রস্তর নিক্ষেপ করা মাকরূহ বলে মনে করতেন। যে ব্যক্তি প্রস্তর নিক্ষেপ করেছে তার জন্য নাহর করা হালাল হয়ে গিয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৮৭০

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا كَانَتْ تَرَى أَسْمَاءَ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ بِالْمُزْدَلِفَةِ تَأْمُرُ الَّذِي يُصَلِّي لَهَا وَلِأَصْحَابِهَا الصُّبْحَ يُصَلِّي لَهُمْ الصُّبْحَ حِينَ يَطْلُعُ الْفَجْرُ ثُمَّ تَرْكَبُ فَتَسِيرُ إِلَى مِنًى وَلَا تَقِفُ.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (র) থেকে বর্ণিতঃ

মুযদালিফা অবস্থানকালে আসমা বিন্‌তে আবি বাক্‌র (রা)-কে দেখেছি, যে ব্যক্তি তাঁদের নামায পড়াতেন তাঁকে তিনি বলতেন, সুবহে সাদিক হওয়ামাত্রই যেন নামায পড়িয়ে দেন। পরে নামায পড়ামাত্র আর বিলম্ব না করে তিনি মিনায় চলে আসতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

মন্তব্য করুন

Top