হযরত আয়েশা রাঃ এর জীবনী pdf download

হযরত আয়েশা রাঃ এর জীবনী pdf download

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম; হযরত আয়েশা রাঃ এর জীবনী সংক্রান্ত বই এর pdf ফাইল ডাউনলোড করতে নিচে দেওয়া বইয়ের নামের উপর ক্লিক করুন; তারপর গুগল ড্রাইভ থেকে download করুন।

সীরাতে আয়েশা রাযি. একটি অসাধারণ ও অতুলনীয় জীবনীগ্রন্থ। রচয়িতা আল্লামা সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী রহ. এই জীবনী রচনার ক্ষেত্রে কোনো ইতিহাস কিংবা অন্য কোনো উৎস গ্রন্থের আশ্রয় গ্রহণ করেননি; আগাগোড়া এই অমূল্য রচনার ক্ষেত্রে উৎস হিসাবে তাঁকে অনুসন্ধান চালাতে হয়েছে হাদীস- ভান্ডার এর মহা সমুদ্রে। এ জীবনীর প্রতিটি তথ্যকে তিনি দলিল- প্রমাণ ও উদ্ধৃতির অলঙ্কার দিয়ে এমনভাবে সাজিয়ে তুলেছেন যে, পাঠক এটা পড়ে আস্থাশীল ও মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না।

উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি.-এর এই জীবনী গ্রন্থের আরও একটি অতুলনীয়তা হলো—হযরত আয়েশা রাযি.-এর বয়স কেন্দ্রিক লেখকের তাহকীক ও গবেষণা। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে একমাত্র কুমারী হযরত আয়েশা রাযি.-এর ব্যাপারে সর্বসম্মত মত হলো— ‘নবীজীর সঙ্গে বিবাহের সময় তাঁর বয়স ছিল ছয়, রোখসতির সময় নয়।’ বয়সের এই ব্যাপারটিকে কেন্দ্র করে ইসলামের দুশমনেরা তো বটেই, এমনকি তথাকথিত কতিপয় ইসলামী পণ্ডিত ব্যক্তিরও পদস্খলন ঘটে গেছে। উম্মুল মুমিনীনের বয়স নিয়ে তারা নানারকম ‘নয়ছয় করেছেন। আল্লামা সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী রহ. বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান ও গবেষণা করেছেন। পক্ষ-বিপক্ষের সকল বক্তব্যের এমন চমৎকার সমাধান দিয়েছেন যে, নির্মোহ পাঠক তাঁর মুন্সিয়ানার প্রশংসা করতে বাধ্য হবেন।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবন কাহিনী pdf. রাসুল (সাঃ) এর জীবনী গ্রন্থ pdf

আল্লামা সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী রহ. (১৮৮৪-১৯৫৩) ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা, বিরল ও অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। সে যুগেও এবং এ যুগেও তার তুলনা শুধু তিনিই। যে কাজেই হাত দিয়েছেন আল্লাহর মেহেরবানিতে ও আপন যোগ্যতায় শীর্ষস্থানটি দখল করেছেন তিনিই। যে বিষয়েই কলম ধরেছেন, তার রচনাই পেয়েছে ‘সেরা রচনা’র স্বীকৃতি। তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে উস্তাদ আল্লামা শিবলী নোমানী রহ. প্রচণ্ড উৎসাহে নিজের পাগড়ি খুলে তাঁর মাথায় পরিয়ে দিয়েছিলেন।

সাইয়্যেদ সুলাইমান রচিত ওমর খৈয়াম সম্পর্কে যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল—আল্লামা ইকবাল মন্তব্য করেছিলেন : ওমর খৈয়ামের ওপর আপনি যা লিখেছেন, তাতে পূর্ব-পশ্চিমের আর কারও পক্ষেই এ বিষয়ে নতুন কিছু লেখা সম্ভব হবে না। আলহামদুলিল্লাহ, আপনার হাতেই এ বিষয়ে রচনার সমাপ্তি ঘটে গেছে।

আর লেখক নদভী নিজে এ রচনা সম্পর্কে সাদামাটা মন্তব্য করেন এই বলে যে, এই রচনা দ্বারা আমার উদ্দেশ্য পশ্চিমা পণ্ডিতদের এই কথা জানানো, যে ওমর খৈয়ামের গবেষণা নিয়ে তোমরা এত গর্বিত, সে বিষয়ে পূর্বদেশীয় আলেমদের গবেষণাও একেবারে কম নয়। তারাও তোমাদের চেয়ে পিছিয়ে নেই। আল্লাহর শুকরিয়া যে, এ রচনা দেখে পশ্চিমারা সেটা মেনেও নিয়েছে।

সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী রহ. নিজ উস্তাদ ও মুরুব্বী আল্লামা শিবলী নোমানীর মতোই একজন হক্কানী আলেম, মুহাক্কিক, গবেষক, মুহাদ্দিস, ফকীহ, সাহিত্যিক ও বক্তা ছিলেন। সারাজীবন লেখালেখির মধ্যে কাটিয়েছেন। ‘দারুল মুসান্নিফীন’ (লেখক সংঘ) প্রতিষ্ঠা করে উর্দু ভাষা ও সাহিত্যকে এমন অসংখ্য কিতাবাদিতে সমৃদ্ধ করেছেন যা নিয়ে পাক-ভারত উপমহাদেশ গৌরব করতে পারে।

তাঁর সম্পর্কে মাওলানা শাহ মঈন উদ্দীন নদভী লিখেছেন : পরিপূর্ণ ইলমের অধিকারী ছিলেন তিনি। তিনি একাই ছিলেন তাঁর উদাহরণ। তাঁর মধ্যে ফুটে উঠেছিল ইবনে রুশদ ও ইবনে খালদুন, ইবনে তাইমিয়া, ইবনে কাইয়্যিম, গাজালী, রুমি, শাহ ওয়ালিউল্লাহ এবং মুজাদ্দিদে আলফেসানী প্রমুখের (রহমাতুল্লাহি আলাইহিম) ইলমী-আমলি নূর ও নূরের ঝলক। তার রচনাবলী থেকে মুসলিম জাতি যে পরিমাণ উপকৃত হয়েছে তার উদাহরণ খুবই বিরল।

‘আজ সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী আমাদের ইলমী জগতের সর্বোচ্চ স্থানে অধিষ্ঠিত আছেন। তিনি শুধু আলেমই নন, তিনি আমিরুল উলামা। তিনি শুধু মুসান্নিফ (লেখক) নন, বরং সকল মুসান্নিফের সরদার। তাঁর অস্তিত্ব ইলম ও ফজলের এক প্রবাহমান সমুদ্রে, যে সমুদ্র থেকে শত শত নদীর শাখা বের হয়েছে এবং হাজারও শুকনো খেত-জমিন তরতাজা ও সজীব হয়েছে।

সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী রহ.-এর অপ্রসিদ্ধ আরও এক বিরল মর্যাদার কথা দিয়েই এই সংক্ষিপ্ত লেখার ইতি টানতে চাই। তিনি ছিলেন হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদে মিল্লাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.-এর মুজাজ ও খলীফা। তিনি ১৯৩৮ ঈসায়ী আগস্ট হযরত থানভী রহ.-এর হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। আধ্যাত্মিক সাধনা পূর্ণ করার পর থানভী রহ. তাকে চিঠি লিখলেন: ‘আমার মনে চায় আপনাকে খেলাফত দিয়ে দিই। আপনার মত জানতে চাই।’

হযরত সুলাইমান নদভী এই চিঠির কোনো উত্তর দিলেন না। বরং তিনি দুই-তিন দিন পর থানাভবন গিয়ে হাজির হলেন। সেখানে অবস্থানকালেও এই বিষয়ে তিনি নীরবই থাকলেন; কোনো কথা বললেন না। থানা ভবন থেকে বিদায় নিয়ে চলে এলেন। এরপর হযরত থানভী রহ. আবার সংবাদ পাঠালেন- আপনি আমার চিঠির কোনো জবাব দেননি। এরই প্রেক্ষিতে তিনি জানালেন- হযরত, আপনার টেলিগ্রাম পাওয়ার পর থেকেই আমার পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে গেছে। আমি পেরেশান হয়ে ভাবছি, আমি কে আর আমার ওপর এত বড় জিম্মাদারি! কী করে সম্ভব! হযরত থানভী রহ. এই জবাবে খুশি হয়ে বললেন, আমার কাঙ্ক্ষিত জবাব আমি পেয়ে গেছি। এরপর ২২ অক্টোবর ১৯৪২ থানভী রহ. তাঁকে খেলাফত প্রদান করে তাঁর প্রতি প্রচণ্ড খুশি ও আস্থা প্রকাশ করে বলেন- আলহামদুলিল্লাহ, এই কাজ নিয়ে আমার আর কোনো চিন্তা নেই। কারণ আমার পর এমন এমন সুযোগ্য লোক আমি রেখে যাচ্ছি!

Tags: আয়েশা রাঃ এর জীবনী pdf, হযরত আয়েশা রাঃ এর জীবনী pdf download, হযরত আয়েশা রাঃ এর জীবনী বই, আয়েশা রাঃ এর জীবনী বই