|

আর রাহীকুল মাখতুম pdf. Ar Rahikul Makhtum Bangla pdf

আর রাহীকুল মাখতুম pdf. Ar Rahikul Makhtum Bangla pdf

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম; সফিউর রহমান মোবারকপুরী এর লেখা মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর সীরাত বা জীবনী গ্রন্থ আর রাহীকুল মাখতুম এর pdf ফাইল ডাউনলোড করতে নিচে দেয়া বইয়ের নামের উপর ক্লিক করুন।

শায়খ সফিউর রহমান মুবারকপুরী (রহ) ১৯৭৮ সালে যখন রাসূলুল্লাহ (3) জীবনী লিখে প্রথম পুরস্কার (সে সময় আনুমানিক দেড় লক্ষ ভারতীয় টাকা) অর্জনের এক দুর্লভ কৃতিত্বের অধিকারী হন, তখন আমি বাংলায় পড়াশোনা করতাম। পরে সৌভাগ্যক্রমে ‘জামি’আহ সালাফিয়্যাহ’ বেনারসে পড়তে যাওয়ার সুযোগ ঘটে এবং এ আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের শিষ্যত্ব অর্জন করে ধন্য (১৯৮০ হইতে ১৯৮৬ পর্যন্ত) হই।

তিনি তাঁর মূল আরবী গ্রন্থটি উর্দুতে অনুবাদ করে প্রকাশ করেন ১৯৮০ সালে। এ বইয়ের বাংলা অনুবাদের জন্য তিনি সে সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক জনাব ড. মুজিবুর রহমানকে অনুমতি দান করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় জনাব ড. মুহাম্মদ মুজীবুর রহমান সাহেব নিজ কর্ম ব্যস্ততার দরুন এই গুরুদায়িত্ব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রভাষক জনাব মঈনুদ্দিন আহমদ-এর উপর অর্পণ করেন। তিনি মূল বইয়ের প্রায় ১/৩ অংশ অনুবাদ করার পর কোন এক অজ্ঞাত কারণে বন্ধ করে দেন। পরিশেষে এ অনুবাদের কাজে হাতে লাগান কামারখন্দ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ জনাব আব্দুল খালেক রহমানী। তিনি কৃতিত্বের সাথে এ কাজটি সমাধা করেন।

অনুবাদ শিল্প খুবই জটিল ও স্পর্শকাতর। উভয় ভাষায় পারদর্শী না হলে মূল ভাবধারা রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বাংলা ভাষায় যথাযথ জ্ঞান ও যোগ্যতা না থাকলে তাতে সাহিত্য রস সৃষ্টি করা ও তার লালিত্য বজায় রাখা শুধু কঠিনই নয়, দুঃসাধ্য কাজ। সেহেতু এ অনুবাদ গ্রন্থের ভাষা সম্পাদনার গুরুভার গ্রহণ করেন পি.টি. আই রাজশাহীর প্রাক্তন সুপারিনটেনডেন্ট জনাব সাইফুদ্দীন আহমদ। অন্যের অনুবাদের উপর নির্ভরশীল হওয়ার জন্য তিনি স্বাধীনভাবে সাহিত্যাঙ্গনে পদচারণা করতে পারেনি। বরং তাকে অনেক স্থানে ভাব উদ্ধারের জন্য বহু পরিশ্রম করতে হয়েছে।

এ বইয়ের গুরুত্ব ও মূল্য যে কতটা তা পাঠক মাত্রই অনুভব করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ, যদি মূল বই আরম্ভ করার আগে এর ভূমিকা ও পূর্বকথাসমূহ পাঠ করেন। তবে আমাদের দেশে সহজলভ্য যত জীবন চরিত আছে তাতে বিশুদ্ধ ও সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার খুব সামান্য চেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে। লেখক মণ্ডলী ভক্ত হিসেবে শুদ্ধ-অশুদ্ধ তথা সহীহ-যঈফ যে কোন তথ্য পেয়েছে যাচাই না করে সেটাকে বইয়ের পাতায় সাজিয়ে দিয়ে ক্ষান্ত হয়েছেন। পরিণাম স্বরূপ আমরা পেয়েছি বুজুর্গানে দ্বীনের নামে শিরক ও বিদআতের ছড়াছড়ি। কবর পূজা, তাযিয়া পূজা, ঈদে মিলাদুন্নবী সহ অগণিত শরীয়ত বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের রমরমা। আর এগুলোকেই আসল দ্বীন হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমি মাওলানা আকরাম খাঁর (রাহি) ‘মোস্তফা চরিত”-এর ভূমিকার অংশ বিশেষ এখানে তুলে না ধরে পারছি না।

তিনি লিখেছেন, ‘ঐতিহাসিক হিসেবে (ভক্তের হিসেবে নহে) জগতের সাধু সজ্জন ও মহাপুরুষ গণের জীবন ও চরিত্র আলোচনার চেষ্টা করিলে প্রায়ই দেখতে পাওয়া যায় যে, কিংবদন্তি সংকলক ঐতিহাসিক এবং অন্ধ ভক্ত লেখকগণের দ্বারা তাঁহাদের প্রকৃত জীবন ও জীবনের আদর্শস্থানীয় আসল বিষয় গুলো হয়তো একেবারে ঢেকে গেছে। অথবা এমন পর্বত পরিমাণ ও অন্ধ বিশ্বাসের আবর্জনা রাশির নিচে তাহা চাপা পড়িয়া গিয়াছে। যাহার উদ্ধার একেবারে অসাধ্য না হইলেও সহজসাধ্য নহে। মানুষের দেহের মতো তাহার আভ্যন্তরীণ প্রবৃত্তিগুলো খুব বাবু। এ বাবুগিরির খাতিরে আমাদের জ্ঞান ও বিবেক, স্বাধীন আলোচনা ও গবেষণার দ্বারা, অসত্যের পুঞ্জীভূত ন্যাক্কারজনক আবর্জনা রাশির নিম্ন হতে সত্যের উদ্ধার সাধন করার জন্য পরিশ্রম স্বীকার করতে বড় একটা চাহে না।

এই সহজ মানসিকতা, কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের গাড়ি-পালকি গুলোতে চড়িয়া পরম আনন্দে গা ভাসায় দিয়া শুইয়া পড়ে। ইহা মানবীয় দূর্বলতার সর্বাপেক্ষা মারাত্মক দিক। মহাপুরুষগণের জ্ঞানের গভীরতা, তাঁহাদের চরিত্রের মহিমা তাঁহাদের জীবনের ব্রত ও সাধনা- এইসব লইয়া আলোচনা করিতে গেলে অনেক হাঙ্গামা উপস্থিত হয়। পক্ষান্তরে মহাপুরুষকে ভক্তি করিতে হইলে, তাঁহার জীবনীকে একেবারে বাদ দিয়া গেলেও চলে না। তাই ভক্তগণ খুব সহজে উভয় কুল রক্ষা করার জন্য কিছু আজগুবি, অনৈতিহাসিক গল্প গুজব এবং কিছু অলৌকিক ও অস্বাভাবিক উপকথার আবিষ্কার করেন এবং সেইগুলির মধ্য দিয়া মহাপুরুষের নামে জয়জয়কার করিয়া মনে করিয়া লন যে, তাহাকে যথেষ্ট ভক্তি করা হইল। ক্রমে এইসব কুসংস্কার মূলক উপকথা ও অলৌকিক কেস্সা কাহিনী।

মহাপুরুষগণের জীবনের প্রকৃত শিক্ষণীয় বিষয়গুলো দূরে সরাইয়া দিয়া, ইতিহাস ও পুরাণ- পুস্তকসমূহের পৃষ্ঠায় স্থায়ীভাবে অধিকার জমাইয়া বসে। কালক্রমে তাহা ‘শাস্ত্র’ হইয়া দাঁড়ায় এবং সেগুলি সম্বন্ধে সাধারণ সংস্কারের বিপরীত কেউ কোন কথা বলতে চেষ্টা করলে, তাহাকে শাস্ত্র দ্রোহী, ধর্মদ্রোহী ও কাফের বলিয়া নির্ধারণ করা হয়। যুক্তির দিক দিয়ে কোন কথা বলিয়া উদ্ধার পাবার আশাও এক্ষেত্রে খুব কম। তুমি ঐতিহাসিক, দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক যুক্তি প্রদান করিয়া, এমনকি মূল শাস্ত্র গ্রন্থের শত শত অকাট্য প্রমাণ উদ্ধৃত করিয়া দেখাও, কিন্তু ‘ভক্তের’ নিকট সবই বিফল। তিনি এক কথায় সকল যুক্তির উত্তর দিয়া বলিবেন- প্রাচীন মুনি ঋষি ও শাস্ত্রকারগণ ‘সালাফে সালেহীন’ ও ‘বোজর্গানে দ্বীন কি এই সকল কথা বুঝিতেন না? তোমরা বাপু কি তাঁহাদের বলিয়া গিয়াছে তাহাকেই আঁকড়াইয়া জড়াইয়া ধরিতে হইবে, ‘স্বধর্মে নিধনং শ্রেয় পরোধর্ম ভয়াবহ’। এইটিই হইতেছে মানুষের জ্ঞান ও বিবেকের শোচনীয়তম অধঃপতন।

শায়খ সফিউর রহমান মুবারাকপুরী হাফিযাহুল্লাহ এ বইয়ে বাস্তব ইতিহাসকেই তুলে ধরেছেন। আশাকরি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল জ্ঞানপিপাসু পাঠক তথা গবেষকদের জন্য এটা প্রামান্য বই হিসেবে গণ্য হবে।

শায়খ এ বইয়ের নামকরণ করেছেন কুরআন মাজীদের আয়াত, “ইয়ুসকওনা মির রাহীকিম মাখতুম’ (সূরাহ তাওফীক) থেকে। জান্নাতের মোহারাংরকিত সুধা যা পান করে জান্নাতিরা এক অভাবনীয় আনন্দ ও তৃপ্তি উপভোগ করবেন। আলাহ্র রাসূলের () জীবনীটাকে স্বর্গের সেই নির্ভেজাল সুধার সঙ্গে তুলনা ক’রে একই নামকরণ করার মাধ্যমে যেন তিনি বলতে চেয়েছেন, কেউ যদি তাঁর জীবন চরিত্রকে অনুশীলন করে ও মেনে চলে তাহলে সে অনুরূপ তৃপ্ত ও অনন্দিত হবে।

বইটিকে অনুবাদ করা ও ছাপানোর যাবতীয় খরচ বহন করেছেন শায়খ মুবারাকপুরী নিজেই। আমি তাঁর একেবারে নিকটের ছাত্র হিসেবে বইটিকে প্রকাশ করার দায়িত্ব বহন করেছি মাত্র। সুতরাং এর ‘কপিরাইট’ শায়খের নিজেরই। ভারত কিংবা বাংলাদেশের যে কেউ বিনা অনুমতিতে অংশবিশেষও যদি ছাপেন তাহলে তিনি আইনত দণ্ডিত হবেন।

পরিশেষে, আমরা যে সকল ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে সক্রিয় সহযোগিতা পেয়েছি তাঁদের নিকটে আমরা ঋণী! বিশেষ করে, আব্বা ইসমাঈল শামশীর (হাফিযাহুল্লাহ) সম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপিকে মূল বইয়ের সাথে মিলিয়ে দেখেছেন! ভাই শামসুযযোহা নূরপুরী প্রথম প্রুফ রিডিং করে আমার শ্রম কিছুটা লাঘব করেছেন।

এ বই ছাপাতে গিয়ে পাগলের মতো মুর্শিদাবাদ হতে কলকাতা দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে! যদি না কম্পোজিটর শ্রীজয়ন্ত সরকারের নিরলস তৎপরতা ও সহযোগিতা পেতাম তাহলে হয়ত আরও কিছুকাল বই প্রকাশে দেরী হতো।

বইটি পাঠক মহলে সমাদৃত হলে অনুবাদকদ্বয়, সম্পাদক মহাশয় ও প্রকাশকসহ সংশিষ্ট ব্যক্তিসমূহের শ্রম সার্থক হবে! শিক্ষিত মহলের নিকট হতে যে কোন প্রকার মন্তব্য ও পরামর্শ সাদরে গৃহীত হবে! খুব সতর্ক দৃষ্টি রাখা সত্ত্বেও বিভিন্ন শব্দের বানানে ভুল থাকার সম্ভাবনা মানবিক কারণে থাকতেই পারে! আশাকরি সংশোধন করে পড়ে নিবেন! তাছাড়া প্রথম খণ্ডে অনিচ্ছাকৃত যান্ত্রিক ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে যাওয়ার কারণে আমরা দুঃখিত! পরবর্তী সংস্করণের জন্য পাঠক মহলের যে কোন পরামর্শ সাদরে গৃহীত হবে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ যেন আমাদের সকলের শ্রমকে পরকালের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করেন। আমীন!!

Similar Posts