মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (মক্কার তৎকালীন অবস্থা)

মহানবী সাঃ এর জীবনী, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, রাসুল (সাঃ) এর জীবনী, নবীজির জীবনী, রাসুল সাঃ এর জীবনী, মোহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, হযরত মোহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, বিশ্ব নবীর জীবনী, রাসূল সাঃ এর জীবনী, হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবনী, হজরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, hojrot muhammad ar jiboni, nobijir jiboni, mohanobir jiboni

মহানবী-হযরত-মুহাম্মদ-সাঃ-এর-জীবনী-মক্কার-তৎকালীন-অবস্থা

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (মক্কার তৎকালীন অবস্থা)

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী অর্থাৎ সীরাত আলোচনার ২য় পর্ব এটি। প্রথম পর্বে সীরাত শাস্ত্রের ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছিল। এই পর্বে আরবের তৎকালীন অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করব। তারপর ধাপে ধাপে সীরাত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

মক্কা ও ইসমাঈল বংশ

মক্কায় প্রথম অধিবাসী ছিলেন মা হাজেরা ও তার সন্তান ইসমাইল। পরে সেখানে আসেন ইয়ামান থেকে ব্যবসায়ী কাফেলা বনু জুরহুম। তারা হাজেরার অনুমতিক্রমে যমযম কূপের পাশে বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ইসমাঈল তাদের বংশে বিয়ে করেন। অতঃপর ইব্রাহিম ও ইসমাইলের হাতে কাবাগৃহ নির্মিত হয়। অতঃপর ইসমাইলের বংশধরগণই মক্কা ভূমি ও পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহ আবাদ করেন। তাদের মাধ্যমেই সর্বত্র তাওহীদের দাওয়াত ছড়িয়ে পড়ে।

ইসমাঈল (আঃ) আজীবন স্বীয় বংশের নবী ও শাসক ছিলেন। তার পর তাঁর পুত্র ও বংশধরগণই মক্কা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা শাসন করেন এবং কা’বাগৃহের তত্ত্বাবধানের পবিত্র দায়িত্ব পালন করেন।

ইসমাঈল-পুত্র নাবেত এর বংশধরগণ উত্তর হেজাজ শাসন করেন। তাদের বংশধর ছিলেন ইয়াসরিবের আওস ও খাযরাজ গোত্র। ইসমাইলের অন্য পুত্র কায়দার এর বংশধরগণ মক্কায় বসবাস করেন এবং পরবর্তীতে তাদেরই অন্যতম বিখ্যাত নেতা ছিলেন আদনান। যিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ২১ তম ঊর্ধ্বতন পুরুষ।

ইবনে হিশাম ১/১-২; সফিউর রহমান মুবারকপুরী (১৩৬২-১৪২৭ হিঃ/১৯৪২-২০০৬ খ্রিঃ), আর-রাহীকুল মাখতূম (কুয়েত : ২য় সংস্করণ ১৪১৬/১৯৯৬ খৃঃ) পৃ ৪৮।

মক্কার অবস্থান

মক্কাকে পৃথিবীর নাভি স্থল বলা হয়। কুরআনে একে ‘উম্মুল ক্বোরা’ বা ‘আদি জনপদ’ বলা হয়েছে (আন’আম ৬/৯২; শূরা ৪২/৭)। মক্কাকে মক্কা বলার কারণ দু’টি। এক- জাহেলী যুগে এখানে কোন জুলুম ও অনাচার টিকতে পারতনা। যেই-ই কোন জুলুম করত, সেই-ই ধ্বংস হয়ে যেত। এজন্য এর অন্য একটি নাম ছিল ‘না-সসাহ’ অর্থ বিতাড়নকারী, বিশুদ্ধকারী। কোন রাজা-বাদশা যখনই একে ধ্বংস করতে গিয়েছে, সেই-ই ধ্বংস হয়েছে। এর অন্য একটি নাম হল বাক্কা )। যার দু’টি অর্থ রয়েছে। এক, ভেঙ্গে দেওয়া। সেকারণেই বলা হয়, এটি প্রতাপশালী অহংকারীদের ঘাড় মটকিয়ে দেয়, যখন তারা এখানে কিছু অঘটন ঘটাতে চায়। দুই, ভিড় করা ও কান্নাকাটি করা। কেননা মানুষ এখানে এসে জমা হয় এবং আল্লাহর নিকট কান্নাকাটি করে। (ইবনে হিশাম ১/১১৪)।

জাহেলী যুগে হামলাকারী কাফের নেতা ইয়েমেনের খ্রিষ্টান গভর্নর আবরাহাকে আল্লাহ সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস করেছেন। কিন্তু ইসলামী যুগে মুসলিম জালিমদের আল্লাহ সাথে সাথে ধ্বংস করেননি তাদের ঈমানের কারণে। তাদের কঠিন শাস্তি পরকালে হবে, যদি নাকি তারা তওবা না করে মৃত্যুবরণ করে। আজও যদি কোন কাফের শক্তি কাবা ধ্বংস করতে চায়, সে আল্লাহর গযবে সাথে সাথেই ধ্বংস হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘তারা কি দেখেনা যে, আমরা হারামকে নিরাপদ করেছি। অথচ তাদের চতুষ্পার্শ্বে যারা আছে তারা উৎখাত হয়’ (আনকাবূত ২৯/৬৭)।

তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি এখানে (হারামে) সীমালংঘনের মাধ্যমে পাপকার্যের সংকল্প করে, আমরা তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাবো’ (হজ্জ ২২/২৫)।

চারপাশে পাহাড় ঘেরা উপত্যকায় অবস্থিত মক্কা নগরী। পূর্ব দিকে আবু কুবাইস পাহাড় এবং পশ্চিম দিকে কু‘আইক্বা’আন পাহাড় নতুন চাঁদের মত মক্কাকে বেষ্টন করে রেখেছে। এর নিম্নভূমিতে কাবাগৃহ অবস্থিত। যার চারপাশে কুরাইশদের জনবসতি। নবচন্দ্রের দুই কিনারায় গরীব বেদুঈনদের আবাসভূমি। যারা যুদ্ধ-বিগ্রহে পটু ছিল।

কুরায়েশ বংশ কিনানাহর দিকে সম্পর্কিত। যারা মক্কার অনতিদূরে বসবাস করত। এভাবে এখানকার অধিবাসীরা পরস্পরে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ থাকায় মক্কা একটি সুরক্ষিত দুর্গের শহরে পরিণত হয়। সেকারণ মক্কায় আগত কাফেলা সমূহ সর্বদা নিরাপদ থাকত।

মক্কার সামাজিক অবস্থা

খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীর প্রথমভাগে কুসাই বিন কিলাব কুরাইশ গোত্র নেতাদের জমা করে সমাজ ব্যবস্থাপনার একটি ভিত্তি দান করেন। অতঃপর হারামের আশে-পাশের গাছ-গাছালি কেটে সেখানে পাথর দিয়ে বাড়ি-ঘর তৈরির সূচনা করেন। যা মক্কাকে একটি নগরীর রূপ দান করে। ইতিপূর্বে এখানকার বৃক্ষ সমূহকে অতি পবিত্র মনে করা হত এবং তা কখনোই কাটা হত না। কুছাই ছিলেন প্রথম নেতা, যিনি এখানকার বৃক্ষ কর্তন শুরু করেন। অতঃপর তিনি তার সন্তানদের নগরীর ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন দায়িত্ব প্রদান করেন।

যেমন হিজাবাহ অর্থ কাবা গৃহের তত্ত্বাবধান। সিক্কায়াহ অর্থ হাজীদের জন্য পানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন। রিফাদা অর্থ হাজীদের আপ্যায়ন ও মেহমানদারী। এজন্য সকল গোত্রের নিকট থেকে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা নেওয়া হত। যা দিয়ে অভাবগ্রস্ত হাজীদের আপ্যায়ন করা হত। লেওয়া অর্থ যুদ্ধের পতাকা বহন করা। নাদওয়া অর্থ পরামর্শ সভা। যেখানে বসে পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সমাজের সমস্যাবলীর সুষ্ঠু সমাধান করা হত এবং সামাজিক ঐক্য বজায় রাখা হত। কুছাই নিজেই এর দায়িত্বে ছিলেন এবং তিনি এর দরজাটি কাবামুখী করেন।

বস্তুত পক্ষে দারুন নাদওয়া ছিল মক্কা নগররাষ্ট্রের পার্লামেন্ট স্বরূপ। কুসাই বিন কিলাব ছিলেন যার প্রেসিডেন্ট এবং প্রত্যেক গোত্রনেতা ছিলেন যার মন্ত্রিসভার সদস্য। বহিরাগত যেসব ব্যবসায়ী মক্কায় ব্যবসার জন্য আসতেন, কুছাই তাদের কাছ থেকে দশ শতাংশ হারে চাঁদা নির্ধারণ করেন। যা মক্কা নগরীর সমৃদ্ধির অন্যতম উৎসে পরিণত হয়। এভাবে কুছাই মক্কা নগরীকে একটি সুসংবদ্ধ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ নগরীতে পরিণত করেন। পরবর্তীতেও যা অব্যাহত ছিল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর আবির্ভাবকালে মক্কার নেতা ছিলেন তাঁর দাদা আব্দুল মুত্ত্বালিব বিন হাশেম এবং তাঁর মৃত্যুর পরে ছিলেন চাচা আবু ত্বালেব।

যমযম কুয়া ও মক্কার নেতৃত্ব

মক্কার প্রধান আকর্ষণ হল জমজম কুয়া ও কাবাগৃহ। দু’টিই আল্লাহর অপূর্ব কুদরতের জ্বলন্ত নিদর্শন। যমযম ও কা’বাগৃহের সেবা ও তত্ত্বাবধান কার্যের মধ্যে যেমন তাদের উচ্চ মর্যাদা নিহিত ছিল, তেমনি উক্ত মর্যাদা লাভের প্রতিযোগিতাই ছিল তাদের মধ্যকার পারস্পরিক রেষারেষি ও হানাহানির অন্যতম প্রধান কারণ।

ভূষিত হাজেরা ও তার দুগ্ধপোষ্য সন্তান ইসমাইল এর স্বার্থে আল্লাহর হুকুমে সেখানে জমজম কুয়ার সৃষ্টি হয় (বুখারী হা/৩৩৬৪)। পরবর্তীতে এই পানিকে কেন্দ্র করেই ইয়ামান থেকে আগত ব্যবসায়ী কাফেলা বনু জুরহুমের মাধ্যমে মক্কায় জনবসতি গড়ে উঠে। এরপর ইব্রাহীম ও ইসমাইল এর মাধ্যমে আল্লাহর হুকুমে সেখানে কাবা গৃহ নির্মিত হয় (বাক্বারাহ ২/১২৫)। ইসমাইল তাদের মধ্যে বিবাহ করেন। অতঃপর তাঁর সন্তানেরা বংশ পরম্পরায় যমযম ও কাবার মর্যাদা পূর্ণ দায়িত্বে আসীন ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বনু জুরহুম সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং কিছু হারামকে হালাল করে। তারা বহিরাগতদের উপর যুলুম করে। এমনকি কাবার উদ্দেশ্যে প্রদত্ত উপঢৌকনাদি ভক্ষণ করে।

ফলে আল্লাহ তাদের হাত থেকে দায়িত্ব ছিনিয়ে নেন এবং বনু বকর বিন আব্দে মানাত বিন কিনানাহ ও গুবশান বিন খোযা’আহর মাধ্যমে তাদেরকে হটিয়ে দেন। বনু জুরহুম মক্কা থেকে বিতাড়িত হয়ে ইয়ামনে ফিরে যাওয়ার সময় জমজম কুয়া বন্ধ করে দিয়ে যায়। পরবর্তীতে বনু বকরকে হটিয়ে বনু খোযাআহ মক্কার একক ক্ষমতায় আসে এবং তারা কয়েক যুগ ধরে উক্ত মর্যাদায় আসীন থাকে। এ সময় কুরায়েশ বংশ বিচ্ছিন্ন ও বিভক্ত ছিল। পরে তারা কুসাই বিন কিলাবের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং মক্কার ক্ষমতায় আসে। কুছাই ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পরদাদা হাশেমের দাদা।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (মক্কার তৎকালীন অবস্থা)

কুছাই খোযা’আহ গোত্রের শেষ নেতা হুলাইল বিন হুবশিইয়াহ এর কন্যা হুব্বা কে বিবাহ করেন বিধায় তারা পরবর্তীতে সর্বদা বনু হাশেমের মিত্র ছিল এবং তারা রাসূল (ছাঃ)-কে তাদের ‘ভাগিনার সন্তান’ বলত। তাছাড়া বনু খোযা‘আহ ধারণা করত যে, তাদের নেতা হুলাইল তার জামাতা কুছাইকে পরবর্তী নেতা হিসাবে অছিয়ত করে গেছেন (ইবনু হিশাম ১/১১৩-১৮)। এভাবে মক্কার নেতৃত্বে ছিলেন প্রথমে বনু জুরহুম। অতঃপর বনু খুযা’আহ। অতঃপর বনু কুরায়েশ। রাসূল (ছাঃ)-এর আবির্ভাবকালে কুরায়েশ বংশ মক্কার নেতৃত্বে ছিল। অনুমান করা হয়ে থাকে যে, বনু জুরহুম ২১০০ বছর, বনু খুযা‘আহ ৩০০ বছর মক্কা শাসন করেন। তাদের পর থেকে কুরায়েশ বংশ মক্কা শাসন করে (আর-রাহীক্ব ২৮-২৯)।

পক্ষান্তরে বনু খোযা‘আহর হাতে ইতিপূর্বে বিতাড়িত বনু বকর সর্বদা রাসূল (ছাঃ)-এর বিরোধী জোটের মিত্র ছিল। সেকারণ পরবর্তীতে বনু খোযা‘আহর উপর বনু বকরের হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ফলেই হুদায়বিয়ার সন্ধি ভেঙ্গে যায় এবং মক্কা বিজয় ত্বরান্বিত হয়। কুরায়েশ বংশ ছিল বনু ইসমাইল এর শ্রেষ্ঠ শাখা এবং কুরাইশ বংশের শ্রেষ্ঠ শাখা ছিল বনু হাশেম গোত্র।

আব্দুল মুত্তালিবের স্বপ্ন

কুছাই এর পর পর্যায়ক্রমে রাসূল (ছাঃ)-এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব মক্কার নেতা হন। তিনি পরপর চার রাত্রি স্বপ্নে দেখেন যে, এক ব্যক্তি এসে তাকে কুয়া খনন করতে বলছে। চতুর্থ রাত্রিতে তাকে কূয়ার নাম ‘যমযম’ ও তার স্থান নির্দেশ করে দেওয়া হয়। তখন আব্দুল মুত্তালিব তার একমাত্র পুত্র হারেছকে সাথে নিয়ে স্থানটি খনন করেন। এ সময় তার অন্য কোন পুত্র সন্তান জন্ম লাভ করেনি। কুরাইশদের সকল গোত্র এই মহান কাজে তাঁর সাথে শরীক হতে চায়। তারা বলে যে, এটি পিতা ইসমাঈল-এর কূয়া। অতএব এতে আমাদের সবার অধিকার আছে। আব্দুল মুত্তালিব বললেন, স্বপ্নে এটি কেবল আমাকেই খাছভাবে করতে বলা হয়েছে।

অতএব আমি তোমাদের দাবি মেনে নিতে পারি না। তখন ঝগড়া মিটানোর জন্য তারা এক গণৎকার মহিলার কাছে বিচার দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু হেজাজ ও শামের মধ্যবর্তী উক্ত দূরবর্তী স্থানে পৌঁছানোর আগেই যখন গোত্রনেতারা পানির সংকটে পড়ে যায় এবং তৃষ্ণায় মৃত্যুর আশংকায় পতিত হয়ে নিজেরা নিজেদের কবর খুঁড়তে শুরু করে, তখন আল্লাহর রহমতে আব্দুল মুত্তালিবের উটের পায়ের তলার মাটি দিয়ে মিষ্টি পানি উথলে ওঠে। যা কওমের সকলে পান করে বেঁচে যায়। এতে তারা কূয়ার উপরে আব্দুল মুত্তালিবের মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যায় এবং তারা সকলে মিলে তার নিকটেই এটি সোপর্দ করে। ঘটনাটি খুবই প্রসিদ্ধ ছিল যা হযরত আলী (রাঃ) হতে ‘হাসান’ সনদে ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন।

ইবনে হিশাম ১/১৪২-৪৫, সনদ জাইয়িদ খবর সহীহ, তাহকীক ইবনে হিশাম ক্রমিক ১৪০।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (মক্কার তৎকালীন অবস্থা)

এভাবে পানির মালিকানার সাথে সাথে বনু হাশিমের উচ্চ মর্যাদা ও নেতৃত্ব সকলের অন্তরে দৃঢ় আসন লাভ করে। তারা সবাই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং গণৎকার মহিলার কাছে না গিয়েই ফিরে আসেন। যমযম কূপের মালিকানা নিয়ে আর কখনোই ঝগড়া করবেন না বলে তারা প্রতিজ্ঞা করেন। এরপর থেকে হাজীদের পানি পান করানো (সিকায়াহ) ও তাদের খাওয়ানো সহ আপ্যায়ন (রিফাদাহ) করার মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব স্থায়ীভাবে বনু হাশেম-এর উপর ন্যস্ত হয়। উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে কুরাইশগন কাবা থেকে দূরে বিভিন্ন কূপ খনন করে পানির চাহিদা মেটাতেন (ইবনে হিশাম ১/১৪২-৪৭)।

বনু জুরহুম মক্কা ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় জমজম কুয়ায় দু’টি সোনার হরিণ, বর্ম, তরবারি ইত্যাদি ফেলে যায়। অতঃপর উক্ত তরবারি উঠিয়ে আব্দুল মুত্তালিব কা’বাগৃহের দরজা ঢালাই করেন এবং হরিণ দু’টিকে দরজার সামনে রেখে দেন বলে যে সব কথা চালু আছে, তা বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়।

ইবনে হিশাম ১/১৪৭; বর্ণনাটি যঈফ, তাহকীক ইবনে হিশাম ক্রমিক ১৪৪; সীরাহ সহীহাহ ১/৯২; আর- রাহীকু ২৮ পৃঃ।

আব্দুল মুত্তালিবের মানত

আল্লাহর হুকুমে জমজম কুয়া খনন ও তার তত্ত্বাবধায়কের উচ্চ মর্যাদা লাভের পর কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আব্দুল মুত্তালিব আল্লাহর নামে মানত করেন যে, যদি আল্লাহ তাঁকে দশটি পুত্র সন্তান দান করেন এবং তারা সবাই বড় হয়ে নিজেদের রক্ষা করার মত বয়স পায়, তাহলে তিনি তাদের একজনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে জবেহ করবেন। অতঃপর লটারিতে বারবার আব্দুল্লাহ নাম উঠতে থাকে। অথচ সেই-ই ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় সন্তান। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ! সে অথবা একশ’ উট। এরপর লটারীতে পরপর তিনবার একশ’ উট উঠে আসে। তখন তিনি তা দিয়ে মানত পূৰ্ণ করেন।

ইবনে হিশাম ১/১৫১-৫৫; বর্ণনাটি যঈফ, তাহকীক ইবনে হিশাম ক্রমিক ১৪৮। ড. আকরাম যিয়া ঘটনাটিকে ইবনে আব্বাস থেকে ‘সহীহ’ বলেছেন (সীরাহ সহীহাহ ১/৯২-৯৩)। কিন্তু সেটা প্রমাণিত হয়নি। কেননা ‘আব্দুল মুত্তালিবের মানত’ শিরোনামে ইবনে ইসহাক বলেন, ‘যেমন তারা ধারণা করেন। আল্লাহ সর্বাধিক অবগত’ (ইবনে হিশাম ১/১৫১)। এতেই বুঝা যায়, ঘটনাটি ভিত্তিহীন।

হাকিম বিন হিযাম (রাঃ) বর্ণিত যঈফ হাদিসে এসেছে যে, এটি ছিল রাসূল (ছাঃ) এর জন্মের পাঁচ বছর পূর্বের ঘটনা’ (হাকেম হা/৬০৪৩, ৩/৫৪৯ পৃঃ)।

উক্ত ঘটনাটি প্রমাণিত নয়। তবুও যদি সত্য হয়, তাহলে এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, আল্লাহ আব্দুল মুত্তালিবের মান্নত পরিবর্তনের মাধ্যমে আব্দুল্লাহর ঔরসে তাঁর শেষ নবীর জন্মকে নিরাপদ করেছেন। ফালিল্লাহিল হামদ। নিঃসন্দেহে আল্লাহর কৌশল বুঝা বান্দার পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। উল্লেখ্য যে, ‘আমি দুই যবীহ-এর সন্তান’ অর্থাৎ যবীহ ইসমাঈল ও যবীহ আব্দুল্লাহর সন্তান’ বলে যে হাদীস প্রচলিত আছে, তার কোন ভিত্তি নেই।

হাকেম হা/৪০৪৮, ২/৫৫৯; সিলসিলা যঈফাহ হা/৩৩১।

মক্কার ধর্মীয় অবস্থা

কাবাগৃহের কারণে মক্কা ছিল সমগ্র আরব ভূখণ্ডের ধর্মীয় কেন্দ্রবিন্দু এবং সম্মান ও মর্যাদায় শীর্ষ স্থানীয়। সেকারণ খ্রিস্টান রাজারা এর উপরে দখল কায়েম করার জন্য বারবার চেষ্টা করত। এক সময় ইয়েমেনের খ্রিষ্টান নরপতি আবরাহা নিজ রাজধানী ছানআতে স্বর্ণ-রৌপ্য দিয়ে কাবাগৃহের আদলে একটি সুন্দর গৃহ নির্মাণ করেন এবং সবাইকে সেখানে হজ্জ করার নির্দেশ জারি করেন। কিন্তু জনগণ তাতে সাড়া দেয়নি। বরং কে একজন গিয়ে তার ঐ নকল কাবাগৃহে পায়খানা করে আসে।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি প্রায় ৬০ হাজার সৈন্য ও হস্তিবাহিনী নিয়ে মক্কায় অভিযান করেন কাবাগৃহকে ধ্বংস করার জন্য। অবশেষে আল্লাহর গযবে তিনি নিজে তার সৈন্য-সামন্ত সহ ধ্বংস হয়ে যান। এতে মক্কার সম্মান ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পায় এবং এ ঘটনা বণিকদের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর জন্মের মাত্র ৫০ বা ৫৫ দিন পূর্বে এই অলৌকিক ঘটনা ঘটে। বস্তুতঃ এটা ছিল শেষনবীর আগমনের আগাম শুভ সংকেত মাত্র। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, উক্ত ঘটনার পরে মক্কাবাসীগণ দশ বছর যাবৎ পূর্ণ তাওহীদবাদী ছিল এবং মূর্তিপূজার শিরক পরিত্যাগ করেছিল।

হাকেম হা/৩৯৭৫; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৯৪৪।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (মক্কার তৎকালীন অবস্থা)

সমগ্র আরব উপদ্বীপে মক্কা ছিল বৃহত্তম নগরী এবং মক্কার অধিবাসী ও ব্যবসায়ীদের মর্যাদা ছিল সবার উপরে। হারাম শরীফের উচ্চ মর্যাদার কারণে তাদের মর্যাদা আপামর জনগণের মধ্যে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল যে, চোর-ডাকাতেরাও তাদেরকে সমীহ করত।

এটাই যেখানে বাস্তবতা, সেখানে এই যুগটিকে ‘জাহেলী যুগ’ কেন বলা হয়? এর কারণ সম্ভবত এটাই ছিল যে, তারা ইবরাহীম (আঃ)-এর অনুসারী এবং তাওহীদ পন্থী হওয়া সত্ত্বেও শিরকে লিপ্ত হয়েছিল। তারা আল্লাহর বিধান সমূহকে অগ্রাহ্য করেছিল এবং খোদ আল্লাহর ঘরেই মূর্তি পূজার মত নিকৃষ্টতম শিরকের প্রবর্তন করেছিল। তারা শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে চিনতে পেরেও তাকে অস্বীকার করেছিল। নিঃসন্দেহে এটা ছিল তাদের সবচেয়ে বড় জাহেলিয়াত ও সবচেয়ে বড় মূর্খতা। আর একারণেই ‘জ্ঞানের পিতা’ আবুল হাকাম-কে ‘মূর্খতার পিতা’ আবু জাহল লকব দেওয়া হল।

বুখারী, ফৎহসহ হা/৩৯৫০-এর আলোচনা, ‘মাগাযী’ অধ্যায় ২ অনুচ্ছেদ ৭/৩৩১ পূঃ।

বস্তুতঃ ইসলামের বিরোধী যা কিছু, সবই জাহেলিয়াত। আল্লাহ বলেন,

তবে কি তারা জাহেলিয়াতের বিচার-ফয়সালা কামনা করে? অথচ দৃঢ় বিশ্বাসীদের নিকট আল্লাহর চাইতে উত্তম ফায়সালাকারী আর কে আছে? (মায়েদা ৫/৫০)।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি জাহেলিয়াতের দিকে মানুষকে আহ্বান করে, সে ব্যক্তি জাহান্নামীদের দলভুক্ত।

আহমাদ হা/১৭২০৯; তিরমিযী হা/২৮৬৩; মিশকাত হা/৩৬৯৪; সনদ ছহীহ।

উল্লেখ্য যে, জাহেলী আরবী সাহিত্যের ইতিহাস ইসলাম আগমনের পূর্বে দেড়শ বছরের বেশি নয় (সীরাহ সহীহাহ ১/৭৯)। এক্ষণে আমরা মক্কায় জাহেলিয়াত প্রসারের ইতিবৃত্ত সংক্ষেপে বর্ণনা করব।

শিরকের প্রচলন

মক্কার বাসিন্দারা মূলত হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর বংশধর ছিল এবং তারা জন্মগতভাবেই তাওহীদ, রিসালাত ও আখেরাতে বিশ্বাসী ছিল। তারা কাবাগৃহকে যথার্থভাবেই আল্লাহর গৃহ বা বায়তুল্লাহ বলে বিশ্বাস করত এবং তার রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান করত। তারা এখানে নিয়মিতভাবে তাওয়াফ, সাঈ তথা হজ্জ ও ওমরাহ করত এবং বহিরাগত হাজীদের নিরাপত্তা ও পানি সরবরাহের দায়িত্ব পালন করত। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ কোন নবী না আসায় শয়তানী প্ররোচনায় তাদের সমাজ নেতা ও ধনিক শ্রেণীর অনেকে পথভ্রষ্ট হয়ে যায় এবং এক সময় তাদের মাধ্যমেই মূর্তিপূজার শিরকের প্রচলন হয়, যেভাবে ইতিপূর্বে নূহ (আঃ)-এর কওমের মধ্যে হয়েছিল।

(১) কুরাইশ বংশের বনু খোযা‘আহ গোত্রের সরদার ‘আমর বিন লুহাই অত্যন্ত ধার্মিক, দানশীল ও দরবেশ স্বভাবের লোক ছিলেন। লোকেরা তাকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করত এবং তার প্রতি অন্ধভক্তি পোষণ করত। তাকে আরবের শ্রেষ্ঠ আলেম ও অলি-আউলিয়াদের মধ্যে গণ্য করা হত। অতএব শয়তান তাকেই বেছে নিল তার কার্যসিদ্ধির জন্য। একবার তিনি শামের ‘বালক্কা’ অঞ্চলের ‘মাআব’ নগরীতে গিয়ে দেখেন যে, সেখানকার লোকেরা জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে ‘হোবল’ মূর্তির পূজা করে। তিনি তাদেরকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলে যে, আমরা এই মূর্তির অসীলায় বৃষ্টি প্রার্থনা করলে বৃষ্টি হয় এবং সাহায্য প্রার্থনা করলে সাহায্য পাই। এরা ছিল আমালেকা গোত্রের লোক এবং ইমলীক বিন লাবেয বিন সাম বিন নূহ-এর বংশধর।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (মক্কার তৎকালীন অবস্থা)

আমর ভাবলেন অসংখ্য নবী-রাসুলের জন্মভূমি ও কর্মভূমি এই শামের ধার্মিক লোকেরা যখন ‘হোবল’ মূর্তির অসীলায় বৃষ্টি প্রার্থনা করে, তখন আমরাও এটা করলে উপকৃত হব। ফলে বহু মূল্যের বিনিময়ে আমর একটা হোবল মূর্তি খরিদ করে নিয়ে গেলেন এবং মক্কার নেতাদের রাজি করিয়ে কাবাগৃহে স্থাপন করলেন। কথিত আছে যে, একটা জিন আমরের অনুগত ছিল। সেই-ই তাকে খবর দেয় যে, নূহ (আঃ)-এর সময়কার বিখ্যাত অদ, সুওয়া, ইয়াগূছ, ইয়াউক্ব, নাসর (নূহ ৭১/২৩) প্রতিমাগুলি জেদ্দার অমুক স্থানে মাটির নীচে প্রোথিত আছে। আমর সেখানে গিয়ে সেগুলো উঠিয়ে এনে তেহামায় রেখে দিলেন। অতঃপর হজ্জ-এর মওসুমে সেগুলিকে বিভিন্ন গোত্রের হাতে সমর্পণ করলেন। এভাবে আমর ছিলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি ইসমাঈল (আঃ)-এর দ্বীনে পরিবর্তন আনেন এবং তাওহীদের বদলে শিরকের প্রবর্তন করেন (আর-রাহীক্ব ৩৫ পৃঃ)।

ইবনে হিশাম ১/৭৭। ভাষ্যকার সুহাইলী বলেন, বলা হয়ে থাকে যে, আমরই প্রথম কাবাগৃহে মূর্তি পূজার সূচনা করেন। এটা তখনকার ঘটনা, যখন বনু জুরহুমকে বিতাড়িত করে বনু খুযা’আহ মক্কার উপরে দখল কায়েম করে। আমর বিন লুহাই এ সময় আরবদের নিকট রব-এর মর্যাদা লাভ করেন। তিনি ধর্মীয় বিধান হিসাবে যেটাই করতেন, লোকেরা সেটাকেই গ্রহণ করত। তিনি হজ্জের মৌসুমে লোকদের খানা-পিনা করাতেন ও বস্ত্র প্রদান করতেন। কখনো কখনো এ মৌসুমে দশ হাজার উট যবেহ করতেন ও দশ হাজার জোড়া বস্ত্র দান করতেন।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (মক্কার তৎকালীন অবস্থা)

সেখানে একটি পাথর ছিল। তায়েফের সাকীফ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি তার উপরে হাজীদের জন্য ছাতু মাখাতেন। সেকারণ উক্ত পাথরটির নাম হয় ‘ছাতু মাখানোর পাথর’। পরে ঐ লোকটি মারা গেলে আমর বিন লুহাই বলেন, লোকটি মরেনি। বরং পাথরের মধ্যে প্রবেশ করেছে। অতঃপর তিনি লোকদের পাথরটিকে পূজা করতে বলেন। লোকেরা তার উপরে একটি ঘর তৈরী করে এর নাম দেয় ‘লাত’ (ইবনু হিশাম ১/৭৭ টীকা-২)। এভাবেই ‘লাত’ প্রতিমার পূজা চালু হয়। যা পরে ত্বায়েফে স্থানান্তরিত হয় এবং ছাক্কীফ গোত্র মুসলমান হওয়ার পরে যা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়’ (দ্রঃ ‘ছাক্বীফ প্রতিনিধি দল’)।

অতঃপর বনু ইসমাইল এর মধ্যে মূর্তিপূজার ব্যাপক প্রসার ঘটে। নূহ (আঃ )-এর কওমের রেখে যাওয়া অদ, সুওয়া, ইয়াগুছ, ইয়াউক, নাস্ত্র (নূহ ৭১/২৩) প্রভৃতি মূর্তিগুলি এখন ইব্রাহীম এর বংশধরগণের দ্বারা পূজিত হতে থাকে। যেমন- বনু হুযায়েল কর্তৃক সুওয়া, ইয়ামনের বনু জুরাশ কর্তৃক ইয়াগুছ, বনু খায়ওয়ান কর্তৃক ইয়াউক, যুল-কুলা কর্তৃক নাস্ত্র, কুরায়েশ ও বনু কেনানাহ কর্তৃক হুবাল ও উযযা, তায়েফের বনু সাকিফ কর্তৃক লাত, মদিনার আউস ও খাজরাজ কর্তৃক মানাত, বনী তাঈ কর্তৃক ফিল্স, ইয়ামনের হিমইয়ার গোত্র কর্তৃক রিয়াম, দাউস ও খাছ‘আম গোত্র কর্তৃক যুল- কাফফায়েন ও যুল-খালাছাহ প্রভৃতি মূর্তি সমূহ পূজিত হতে থাকে (ইবনে হিশাম ১/৭৭-৮৭)।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (মক্কার তৎকালীন অবস্থা)

এভাবে ক্রমে আরবের ঘরে ঘরে মূর্তি পূজার প্রসার ঘটে। ফলে মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কাবাগৃহের ভিতরে ও চারপাশে ৩৬০টি মূর্তি দেখতে পান। তিনি সবগুলোকে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেন ও কাবাগৃহ পানি দিয়ে ধুয়ে সাফ করে ফেলেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘আমার সম্মুখে (স্বপ্নে) জাহান্নামকে পেশ করা হল, অতঃপর আমাকে দেখানো হল আমর বিন আমের আল-খুযাঈকে। জাহান্নামে সে তার নাড়িভুঁড়ি টেনে বেড়াচ্ছে। এ ব্যক্তিই প্রথম তাদের উপাস্যদের নামে উট ছেড়ে দেওয়ার রেওয়াজ চালু করেছিল (যা লোকেরা রোগ আরোগ্যের পর কিংবা সফর থেকে আসার পর তাদের মূর্তির নামে ছেড়ে দিত)। ঐসব উট সর্বত্র চরে বেড়াত। কারু ফসল নষ্ট করলেও কিছু বলা যেত না বা তাদের মারা যেত না।

বুখারী হা/৩৫২১; মুসলিম হা/৯০৪, ২৮৫৬; মিরকাত শরহ মিশকাত হা/৫৩৪১; সীরাহ সহীহাহ ১/৮৩। ইনিই ছিলেন ‘আমর বিন লুহাই বিন আমের, যিনি সর্বপ্রথম কা’বাগৃহে ‘হোবল’ মূর্তির পূজা শুরু করেন (ইবনে হিশাম ১/৭৬)।

(২) তারা মূর্তির পাশে বসে তাকে উচ্চকণ্ঠে আহ্বান করত ও তাদের অভাব মোচনের জন্য অনুনয়-বিনয় করে প্রার্থনা জানাতো। তারা ধারণা করত যে, এই মূর্তি তাদেরকে আল্লাহর নৈকট্যশীল করবে (যুমার ৩৯/৩) এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবে (ইউনুস ১০/১৮)।

(৩) তারা মূর্তির উদ্দেশ্যে হজ্জ করত, তাওয়াফ করত, তার সামনে নত হত ও সিজদা করত। তাওয়াফের সময় তারা শিরকী তালবিয়াহ পাঠ করত। (হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোনো শরীক নেই, কেবল ঐ শরিক যা তোমার জন্য রয়েছে। তুমি যার মালিক এবং সে যা কিছুর মালিক)। মুশরিকরা ‘লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা’ বলার পর রাসূল (ছাঃ) তাদের উদ্দেশ্যে ক্বাদ ক্বাদ (থামো থামো) বলতেন।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (মক্কার তৎকালীন অবস্থা)

মুসলিম হা/১১৮৫, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে; মিশকাত হা/২৫৫৪ ‘ইহরাম ও তালবিয়াহ’ অনুচ্ছেদ। পক্ষান্তরে ইসলামী তালবিয়াহ হল, আমি হাজির হে আল্লাহ আমি হাজির। আমি হাজির। তোমার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা, অনুগ্রহ ও সাম্রাজ্য সবই তোমার; তোমার কোন শরীক নেই’ (বুখারী হা/৫৯১৫; মুসলিম হা/২৮৬৮)। বৰ্তমান যুগে বহু মুসলমান কবরে সিজদা করে ও কবরবাসীর নিকটে পানাহ চায়। অতঃপর মসজিদে গিয়ে ছালাত আদায় করে। একই সঙ্গে কবর পূজা ও আল্লাহর ইবাদত। যা স্পষ্ট শিরক এবং যা জাহেলী আরবের মুশরিকদের অনুকরণ মাত্র।

এজন্যেই আল্লাহ বলেছেন, তাদের অধিকাংশ আল্লাহকে বিশ্বাস করে। অথচ সেই সাথে শিরক করে (ইউসুফ ১২/১০৬)।

(৪) তারা মূর্তির জন্য নযর-নেয়ায নিয়ে আসত এবং মূর্তির নামে কুরবানী করত (মায়েদা ৫/৩)।

(৫) তারা মূর্তিকে খুশি করার জন্য গবাদিপশু ও চারণক্ষেত্র মানত করত। যাদেরকে কেউ ব্যবহার করতে পারত না (আনআম ৬/১৩৮-১৪০)।

(৬) তারা তাদের বিভিন্ন কাজের ভাল-মন্দ ফলাফল ও শুভাশুভ নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন প্রকারের তীর ব্যবহার করত (মায়েদা ৫/৯০-৯১)। যাতে হ্যাঁ, না, ভাল, মন্দ ইত্যাদি লেখা থাকত। হোবল দেবতার খাদেম সেগুলো একটি পাত্রের মধ্যে ফেলে তাতে ঝাঁকুনি দিয়ে তীরগুলো ঘুলিয়ে ফেলত। অতঃপর যে তীরটা বেরিয়ে আসত, সেটাকেই তারা ভাগ্য মনে করত এবং সে অনুযায়ী কাজ করত।

(৭) এতদ্ব্যতীত তারা জ্যোতিষীদের কথা বিশ্বাস করত এবং বিশেষ বিশেষ নক্ষত্রকে মঙ্গলামঙ্গলের কারণ মনে করত।

বুখারী হা/৮৪৬; মুসলিম হা/৭৩; মিশকাত হা/৪৫৯৬-৯৭।

(৮) তারা পাখি উড়িয়ে দিয়ে বা রেখা টেনে কাজের শুভাশুভ ও ভাল-মন্দ নির্ধারণ করত এবং পাখি ডাইনে গেলে শুভ ও বামে গেলে অশুভ ধারণা করত।

মুসলিম হা/৫৩৭; মিশকাত হা/৪৫৯২।

তারা ফেরেশতাদেরকে ‘আল্লাহর কন্যা’ বলত এবং জিনদের সাথে আল্লাহর আত্মীয়তা সাব্যস্ত করত (ছাফফাত ৩৭/১৫০-৫২, ১৫৮-৫৯)। তারা নিজেদের জন্য পুত্রসন্তান ও আল্লাহর জন্য কন্যাসন্তান নির্ধারণ করত (নাজম ৫৩/২১-২২)।

বিদআতের প্রচলন

মূর্তিপূজা সত্ত্বেও তারা ধারণা করত যে, তারা দ্বীনে ইবরাহীমের উপরে সঠিক ভাবে কায়েম আছে। কেননা আমর বিন লুহাই তাদের বুঝিয়েছিলেন যে, এগুলো ইবরাহীমী দ্বীনের বিকৃতি নয়, বরং ভাল কিছুর সংযোজন বা ‘বিদআতে হাসানাহ’ মাত্র। এজন্য তিনি বেশ কিছু ধর্মীয় রীতি-নীতি চালু করেছিলেন। যেমন-

(১) তারা হজ্জের মৌসুমে ‘মুযদালিফায়’ অবস্থান করত, যা ছিল হারাম এলাকার অভ্যন্তরে। হারামের বাইরে হওয়ার কারণে তারা আরাফাতের ময়দানে যেত না বা সেখান থেকে মক্কায় ফিরে আসা অর্থাৎ তাওয়াফে এফাযাহ করত না। যা ছিল হজ্জের সবচেয়ে বড় রুকন। তারা মুযদালিফায় অবস্থান করত ও সেখান থেকে মক্কায় ফিরে আসত। সেজন্য আল্লাহ নির্দেশ দেন, ‘অতঃপর তোমরা ঐ স্থান থেকে ফিরে এসো তাওয়াফের জন্য, যেখান থেকে লোকেরা ফিরে আসে (অর্থাৎ আরাফাত থেকে) (বাক্বারাহ ২/১৯৯)।

বুখারী হা/১৬৬৫; মুসলিম হা/১২১৯-২০।

(২) তারা নিজেরা ধর্মীয় বিধান রচনা করেছিল যে, বহিরাগত হাজীগণ মক্কায় এসে প্রথম তাওয়াফের সময় তাদের পরিবেশিত ধর্মীয় পোশাক পরিধান করবে। সম্ভবতঃ এটা তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থদুষ্ট বিদআত ছিল। যদি কেউ (আর্থিক কারণে বা অন্য কারণে) তা সংগ্রহে ব্যর্থ হয়, তবে পুরুষেরা সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে এবং মেয়েরা সব কাপড় খুলে রেখে কেবল ছোট্ট একটা কাপড় পরে তাওয়াফ করবে। এতে তাদের দেহ একপ্রকার নগ্নই থাকত। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, পুরুষেরা দিনের বেলায় ও মেয়েরা রাতের বেলায় তাওয়াফ করত। তাদের এ অন্যায় প্রথা বন্ধ করার জন্য আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন,

হে আদম সন্তান! প্রতি সালাতের সময় তোমরা সুন্দর পোশাক পরিধান কর।

আরাফ ৭/৩১; ইবনে কাসীর, তাফসীর উক্ত আয়াত।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (মক্কার তৎকালীন অবস্থা)

তাদের কাছ থেকে ‘হুমস’ পোশাক কিনতে বাধ্য করার জন্য তারা এ বিধানও করেছিল যে, যদি বহিরাগত কেউ উত্তম পোশাকে এসে তাওয়াফ করে, তাহলে তাওয়াফ শেষে তাদের ঐ পোশাক খুলে রেখে যেতে হবে। যার দ্বারা কেউ উপকৃত হত না’ (ইবনে হিশাম ১/২০২ )।

(৩) তাদের বানানো আরেকটা বিদ’আতী রীতি ছিল এই যে, তারা ইহরাম পরিহিত অবস্থায় স্ব স্ব বাড়ির সম্মুখ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। কিন্তু বাকী আরবরা সকলে স্ব স্ব বাড়ির পিছন দিক দিয়ে গৃহে প্রবেশ করবে। সম্মুখ দরজা দিয়ে নয়। এভাবে তারা তাদের ধার্মিকতার গৌরব সারা আরবের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন,

এ পিছনের দরজা দিয়ে গৃহে প্রবেশ করার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই। বরং কল্যাণ রয়েছে তার জন্য যে আল্লাহকে ভয় করে। অতএব তোমরা গৃহে প্রবেশ কর সম্মুখ দরজা দিয়ে’ (বাক্বারাহ ২/১৮৯)।

বুখারী হা/১৮০৩; কুরতুবী, ইবনু কাসীর, তাফসীর বাকারা ১৮৯ আয়াত।

উপরোক্ত আলোচনায় তৎকালীন আরবের ও বিশেষ করে মক্কাবাসীদের মধ্যে প্রচলিত শিরক ও বিদ’আত সমূহের একটা চিত্র পাওয়া গেল। যা তারা ইবরাহীম (আঃ)-এর একত্ববাদী দ্বীনে হানীফের মধ্যে ধর্মের নামে চালু করেছিল। আর এটাই ছিল বড় জাহেলিয়াত এবং এজন্যেই এ যুগটিকে ‘জাহেলী যুগ’ বলা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন,

যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা অবিশ্বাস করেছে, শয়তান তাদের অভিভাবক। তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। ওরা হল জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে’ (বাক্বারাহ ২/২৫৭)।

ইয়াসরিবে ইহুদী-নাসারাদের অবস্থা

ইতিপূর্বে বলা হয়েছে যে, ইয়াসরিবের অধিবাসী আউস ও খাজরাজগণ ইসমাঈল-পুত্র নাবেত-এর বংশধর ছিলেন। কিন্তু তারা পরে মূর্তিপূজারী হয়ে যায়। সিরিয়া ও ইরাকের পথে ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং মিষ্ট পানি ও উর্বর অঞ্চল বিবেচনায় ইহুদীরা এখানে আগেই আগমন করে। তারা অত্যাচারী রাজা বুখতানছর কর্তৃক কেন’আন (ফিলিস্তিন) থেকে উৎখাত হওয়ার পরে ইয়াসরিবে এসে বসবাস শুরু করেছিল এই উদ্দেশ্যে যে, তারা বায়তুল মুকাদ্দাস হারিয়েছে। অতএব তারা এখন বাইতুল্লাহর নিকটবর্তী থাকবে এবং নিয়মিত হজ্জ-উমরার মাধ্যমে পরকালীন পাথেয় হাসিল করবে। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল এই যে, আখেরী নবীর আবির্ভাব যেহেতু মক্কায় হবে এবং তাঁর আবির্ভাবের সময় আসন্ন, অতএব তারা দ্রুত তাঁর দ্বীন কবুল করবে এবং তাঁর নেতৃত্বে আবার বায়তুল মুকাদ্দাস দখল করবে। তবে তাদের ধারণা ছিল যে, আখেরী নবী অবশ্যই তাদের নবী ইসহাক- এর বংশে হবেন। কিন্তু তা না হয়ে ইসমাঈল-এর বংশে হওয়াতেই ঘটল যত বিপত্তি।

মদীনায় ইহুদিদের আধিক্য ছিল এবং নাসারা ছিল খুবই কম। তাদের মূল অবস্থান ছিল মদীনা থেকে নাজরান এলাকায়। যা ছিল ৭৩টি পল্লী সমৃদ্ধ খ্রিস্টানদের একটি বিরাট নগরীর নাম। বর্তমানে সড়কপথে এটি মদীনা থেকে ১২০৫ কি.মি. দক্ষিণে ইয়েমেন সীমান্তে অবস্থিত।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (মক্কার তৎকালীন অবস্থা)

ইহুদী ও নাসারাদের মধ্যে তাওরাত-ইনজীলের কোন শিক্ষা অবশিষ্ট ছিল না। তাদের ধর্ম ও সমাজ নেতারা ভক্তদের কাছে ‘রব’-এর আসন দখল করেছিল। ইহুদীরা ওযায়েরকে ‘আল্লাহর বেটা’ বানিয়েছিল এবং নাছারারা মসীহ ঈসাকে একইভাবে ‘বেটা’ দাবী করেছিল (তাওবাহ ৯/৩০-৩১)। বরং তারা মারিয়াম, ঈসা ও আল্লাহকে নিয়ে তিন উপাস্যের সমন্বয়ে ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসী হয়ে পড়েছিল (মায়েদা ৫/৭৩)। তাদের পীর-দরবেশরা ধর্মের নামে বাতিল পন্থায় মানুষের অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন করত এবং তাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখতো (তাওবাহ ৯/৩৪)। আল্লাহ যা হারাম করেছেন, তারা তা হারাম করত না (তাওবা ৯/২৯)। এক কথায় তাওরাত- ইনজীলের বাহক হবার দাবিদার হলেও তারা ছিল পুরা স্বেচ্ছাচারী ও প্রবৃত্তি পূজারী দুনিয়াদার। ঠিক আজকের মুসলিম ধর্মনেতা ও সমাজ নেতাদের অধিকাংশের অবস্থা যেমনটি হয়েছে।

এ যুগের মুসলমানদের অবস্থা বর্ণনা করে ভারতের উর্দু কবি হালী বলেন,

(১) অন্যরা যদি মূর্তি পূজা করে, সে হয় কাফের। যে আল্লাহর বেটা আছে বলে, সে হয় কাফের। (২) আগুনকে কিবলা বললে, সে হয় কাফের। তারকারাজির মধ্যে যে ক্ষমতা আছে বলে, সে কাফের। (৩) কিন্তু মুমিনদের জন্য রাস্তা রয়েছে খোলা। খুশীমনে সে করে পূজা যাকে সে চায়। (৪) নবীকে যে চায় আল্লাহ বলে দেখায়। ইমামদের সম্মান নবীদের উপর উঠায়। (৫) মাজারগুলোতে দিন-রাত নযর-নিয়ায চড়ায়। শহীদদের কাছে গিয়ে গিয়ে কেবলই দো’আ চায়। (৬) এতে তাদের তাওহীদে না কোন ত্রুটি আসে। না ইসলাম বিকৃত হয়, না ঈমান যায়’ (আলতাফ হোসায়েন হালী (১২৫৩-১৩৩২ হিঃ/১৮৩৭-১৯১৪ খৃঃ), মুসাদ্দাসে হালী-উর্দু ষষ্ঠপদী (লক্ষ্ণৌ, ভারত : ১৩২০/১৯০২) ৪৮ পৃঃ)।

ইবনু কাসীর (রহঃ)-এর মন্তব্য

হাফেয ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আরবের লোকেরা প্রাচীনকালে ইবরাহীমী দ্বীনের অনুসারী ছিল। পরে তারা তাওহীদকে শিরকে এবং ইয়াক্বীনকে সন্দেহে রূপান্তরিত করে। এছাড়াও তারা বহু কিছু বিদআতের প্রচলন ঘটায়। একই অবস্থা হয়েছিল তাওরাত ও ইনজীলের অনুসারীদের। তারা তাদের কিতাবে পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। তাতে শাব্দিক যোগ-বিয়োগ করেছিল, রূপান্তর করেছিল ও দূরতম ব্যাখ্যা করেছিল। অতঃপর আল্লাহ মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে প্রেরণ করেন পূর্ণাঙ্গ শরী’আত দিয়ে, যা সমস্ত সৃষ্টিজগতকে শামিল করে’ (ইবনু কাসীর, তাফসীর সূরা জুম’আ ২ আয়াত)।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (মক্কার তৎকালীন অবস্থা)

মহানবী সাঃ এর জীবনী, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, রাসুল (সাঃ) এর জীবনী, নবীজির জীবনী, রাসুল সাঃ এর জীবনী, মোহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, হযরত মোহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, বিশ্ব নবীর জীবনী, রাসূল সাঃ এর জীবনী, হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবনী, হজরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, নবী করিম সাঃ এর জীবনী, রাসুলুল্লাহ সাঃ এর জীবনী, মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী বাংলা

hojrot muhammad ar jiboni, nobijir jiboni, mohanobir jiboni, nobir jiboni, rasuler jiboni, nobijir jiboni bangla, mohanobi hazrat muhammad jiboni, mohanobir jiboni bangla

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (মক্কার তৎকালীন অবস্থা)

মুহাম্মাদ

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জীবনী রচনার হাজার বছর

আল কোরআন বাংলা অনুবাদ. 30 পারা কোরআন শরীফ বাংলা অর্থসহ

হাদিস আরবি বাংলা. হাদীস শরীফ বাংলা. Bangla Hadis

ইসলামিক বই pdf download. Islamic Book pdf Bangla

সহীহ বুখারী শরীফ সব খন্ড pdf. Bukhari Sharif Bangla

সহীহ মুসলিম শরীফ সব খন্ড pdf. Sahih Muslim Sharif Bangla

সুনানে আবু দাউদ pdf. Abu daud sharif bangla pdf

তিরমিজি শরীফ pdf. Tirmizi sharif bangla pdf

সীরাত বিশ্বকোষ pdf

সীরাতে ইবনে হিশাম pdf download. Sirat ibn hisham bangla

সীরাতুল মুস্তফা সাঃ ইদ্রিস কান্ধলভী

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবন কাহিনী pdf. রাসুল (সাঃ) এর জীবনী গ্রন্থ pdf

জীবনী

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (আরবের তৎকালীন অবস্থা)