মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (সীরাত শাস্ত্রের ইতিহাস)

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী অর্থাৎ সীরাত আলোচনার পূর্বে সীরাত শাস্ত্রের ইতিহাস এবং রাসুল সাঃ এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে আরবের অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা প্রয়োজন। এই পোস্টে সীরাত শাস্ত্রের ইতিহাস সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করব এবং এই সিরিজের পরবর্তী পোস্টে আরবের তৎকালীন অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করব। তারপর ধাপে ধাপে সীরাত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

মহানবী-হযরত-মুহাম্মদ-সাঃ-এর-জীবনী-সীরাত-শাস্ত্রের-ইতিহাস

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (সীরাত শাস্ত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ)

আরবরা ছিল প্রখর ধীশক্তি সম্পন্ন। সবই তারা মুখস্ত বলত। লেখাকে তারা হীন কাজ মনে করত। সে কারণে পবিত্র কুরআন, কিছু হাদিস ও ইলমে নাহুর মূলনীতি সমূহ ব্যতীত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের সময় কোন জীবন চরিত লিপিবদ্ধ হয়নি। পরে অনারবদের ব্যাপকহারে ইসলাম গ্রহণের প্রেক্ষাপটে মুআবিয়া (রাঃ)-এর খেলাফতকালে (৪১-৬০ হি./৬৬১-৬৮০ খৃ.) এদিকে দৃষ্টি নিবন্ধ হয়। তিনি ইয়ামনের সান’আ থেকে আবিদ বিন শারইয়াহ জুরহুম কে ডেকে আনেন ও তাকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেন। তিনি তার জন্য (বাদশাহদের ও বিগতদের ইতিহাস) রচনা করেন। অতঃপর একাধিক বিদ্বান রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জীবনচরিত লেখার প্রতি আত্মনিয়োগ করেন।

সাহাবীগণ

কুরআন ও হাদীসের মূল উৎস দ্বয়ের পর সাহাবীগণ হলেন সীরাতুর রাসূলের প্রধান উৎস। তাঁরা ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জীবন ও কর্মের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। তাদের বর্ণনা সমূহ হাদীস গ্রন্থ সমূহে মওজুদ রয়েছে। এরপরেও জীবন চরিত বিষয়ে তিনজন সাহাবী প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। তারা হলেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আছ এবং বারা বিন আযেব আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।

তাবেয়ীগণ

অতঃপর তাবেঈ গণের মধ্যে উরওয়া ইবনে যুবায়ের ইবনুল আওয়াম (মৃ. ৯২ বা ৯৪ হি.)। আয়েশা (রাঃ) ছিলেন যার আপন খালা। তাঁর পিতা ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ফুফাতো ভাই প্রখ্যাত সাহাবী যুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রাঃ) এবং মা ছিলেন আসমা বিনতে আবুবকর (রাঃ)। ফলে তাঁর পক্ষে সহজেই সম্ভব ছিল রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ঘরের ও বাইরের বিভিন্ন বিষয় জানা এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাস রচনা করা। বলা চলে যে, প্রথম জীবনীকার মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (৮৫-১৫১ হি.) তার থেকেই বেশি তথ্য নিয়েছেন। বিশেষ করে হাবশায় ও মদীনায় হিজরত এবং বদরের যুদ্ধ বিষয়ক ঘটনাবলী (ইবনে হিশামের ভূমিকা ৪-৫ পৃ)। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর মুক্তদাস ইকরিমা (মৃ. ১০৫)। যার সম্পর্কে তাহাবী (২৩৯-৩২১ হি.) বলেন, ইকরিমা ও যুহরীর উপরেই মাগাযীর অধিকাংশ বর্ণনা আবর্তিত হয়।

অতঃপর আমের বিন শারাহীল আশ-শাবি (২২-১০৪ হি.), আবান ইবনে উসমান বিন আফফান (মৃ. ১০১ বা ১০৫), ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ ইয়ামানী (মৃ. ১১০), আসেম বিন ওমর বিন কাতাদা (মৃ. ১১৯), মুহাম্মাদ বিন মুসলিম ইবনে শিহাব যুহরী (৫০-১২৪)। যারা ২য় শতাব্দী হিজরীর প্রথম সিকিতে এ বিষয়ে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

যুহরী ছিলেন স্বীয় যুগের অত্যন্ত ধীশক্তি সম্পন্ন ও শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস গণের অন্যতম। যদিও কাযী আয়ায প্রমুখ বিদ্বান তার কিছু সমালোচনা করেছেন। কিন্তু নববী, ইরাকী প্রমুখ রিজাল শাস্ত্রের দিকপাল গণ তা খন্ডন করে তাঁর বিশ্বস্ততার সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। তিনিই প্রথম সীরাত বিষয়ক বর্ণনা সমূহের সনদ জমা করেন ও পূর্বাপর সম্পর্ক নির্ধারণে অবদান রাখেন।

তাবে-তাবেয়ীগণ

(১) ইবনে শিহাব যুহরীর ছাত্র মুসা বিন উকবা (মৃত ১৪০ হি.) রচিত ‘মাগাযী’ গ্রন্থকে ইমাম মালেক ও শাফেঈ (রহঃ) ‘বিশুদ্ধতম’ বলেছেন। কিন্তু তা ছিল কলেবরে ছোট। যা আরও বিস্তারিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল।

(২) সুলায়মান বিন তুরখান আত-তাইমী (মৃ. ১৪৩) ‘বিশুদ্ধ জীবনী’ নামে একটি জীবনী লেখেন। কিন্তু তার একটি অধ্যায় ব্যতীত বাকিটা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাকে সনদ বিশ্লেষণকারী বিদ্বানগণের অন্যতম বলে গণ্য করা হত।

(৩) মুহাম্মাদ বিন ইসহাক মাদানী (৮৫-১৫১), যিনি ইবনে শিহাব যুহরীর ছাত্র ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুদ্ধ-বিগ্রহ বিষয়ক ঘটনাবলী বর্ণনার নেতা বলে খ্যাত ছিলেন। কিন্তু তার বর্ণনা সমূহ ‘বিশুদ্ধ’ স্তরে পৌঁছাতে পারেনি। বরং ‘হাসান’ স্তরে পৌঁছে, যখন তিনি তার উপরের সনদ প্রকাশ করেন। কেননা তিনি ‘মুদাল্লিস’ অর্থাৎ ‘উপরের সনদ গোপনকারী’ বলে খ্যাত ছিলেন। তাঁর সীরাত গ্রন্থটিতে ‘হাসান’ ও যঈফ বর্ণনা সমূহ একত্রিত হয়েছে। যাহাবী (৬৭৩-৭৪৮ হি.) বলেন, ইবনে ইসহাক হলেন ‘মাগাযী শাস্ত্রের দলীল’। কিন্তু সেখানে অনেক অজানা ও বিস্ময়কর বস্তু সমূহ রয়েছে। অতএব তার কিতাবটির যাচাই করণ ও বিশুদ্ধ করণ প্রয়োজন রয়েছে। উল্লেখ্য যে, সীরাতে ইবনে ইসহাক-এর পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়া যায় না। যেটা পাওয়া যায় সেটি হল তার পরিমার্জিত সংস্করণ ‘সীরাতে ইবনে হিশাম’ (মা শা-‘আ, ভূমিকা)।

(৪) মামার বিন রাশেদ (মৃ. ১৫৩) যুহরীর ছাত্র ছিলেন। তিনি একজন আল্লাহভীরু ধীমান ও সুন্দর রচয়িতা হিসাবে পরিচিত ছিলেন।

(৫) আবু মা’শার নাজীহ সিন্ধী (মৃ. ১৭১ হি.)।

(৬) আব্দুল মালেক বিন মুহাম্মাদ মাদানী (মৃ. ১৭৬)।

(৭) ইয়াহইয়া বিন সাঈদ উমুভী (মৃ. ১৯৪)।

(৮) অলীদ বিন মুসলিম দিমাশক্কী (মৃ. ১৯৬)।

(৯) ইউনুস বিন বুকাইর (মৃ. ১৯৯), যিনি সীরাতে ইবনে ইসহাকের অন্যতম রাবী ছিলেন।

(১০) মুহাম্মাদ বিন ওমর ওয়াক্বেদী (মৃ. ২০৭), যিনি মুহাদ্দিছগণের নিকট ‘যঈফ’ হিসাবে গণ্য ছিলেন। কিন্তু বিপুল ইলমী উৎসের অধিকারী ছিলেন। তার ব্যক্তিগত লাইব্রেরীতে ৬০০ বস্তা কিতাব ছিল। যা বহনে ১২০টি ভারি বাহন প্রয়োজন হত। আক্বীদা ও শরীআত বিষয়ক নয় এবং বিশুদ্ধ বর্ণনা সমূহের বিরোধী নয়, এমন সব বিষয়ে বিস্তৃত জ্ঞান লাভের জন্য তাঁর রচনাসমূহ উপকারী এবং গ্রহণযোগ্য। তবে তাঁর একক বর্ণনা ‘পরিত্যক্ত’ হিসাবে গণ্য হবে।

(১১) মুহাম্মাদ বিন আয়েয দিমাশক্কী (মৃ.২৩৪)।

(১২) আলী বিন মুহাম্মাদ মাদায়েনী (মৃ.২২৫)।

(১৩) ছালেহ বিন ইসহাক্ব জুরমী নাহভী (মৃ.২২৫)।

(১৪) ইসমাঈল বিন জামী (মৃ.২৭৭)।

(১৫) সাঈদ বিন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ উমুভী (মৃ.২৪৯)।

(১৬) আহমাদ বিন হারেছ আল-খারা (মৃ.২৫৮)।

(১৭) আব্দুল মালেক বিন মুহাম্মাদ বাছরী (মৃ.২৭৬)।

(১৮) ইবরাহীম বিন ইসমাঈল আম্বারী তূসী (মৃ.২৮০)।

(১৯) ইসমাঈল বিন কাযী ইসহাক (মৃ.২৮২) প্রমুখ।

এতদ্ব্যতীত আরও কয়েকজন তাবেঈ ও তাবে তাবেঈ প্রসিদ্ধি লাভ করেন। যেমন আৰু ইসহাক আমর বিন আব্দুল্লাহ সাবীঈ (মৃ.১২৭), ইয়াকুব বিন উৎবা বিন মুগীরা মাদানী (মৃ.১২৮), দাউদ বিন হুসাইন উমুভী (মৃ.১৩৫), আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আযীয হানীফী (মৃ.১৬২), মুহাম্মাদ বিন সালেহ বিন দীনার (মৃ.১৬৮), আব্দুল্লাহ বিন জাফর মাখরামী মাদানী (মৃ.১৭০) প্রমুখ।

উপরে বর্ণিত বিদ্বানগণের রচিত সীরাত গ্রন্থসমূহের বৃহদাংশ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে তাদের থেকে নেওয়া তথ্যাবলীর ভিত্তিতে রচিত পরবর্তী সীরাত গ্রন্থসমূহ যা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে, সেগুলোর মধ্যে প্রসিদ্ধতম গ্রন্থ গুলি নিম্নে প্রদত্ত হলো।

পরবর্তী জীবনীকার গণ

(১) আস-সীরাতুন নববিয়্যাহ (সীরাতে ইবনে হিশাম) – আবু মুহাম্মাদ আবদুল মালেক ইবনে হিশাম বাছরী (মৃ.২১৩ অথবা ২১৮ হি.)।

তাঁর রচিত ‘আস-সীরাতুন নববিয়্যাহ’ গ্রন্থটি ‘সীরাতে ইবনে হিশাম’ নামে পরিচিত। উনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের সিরাত গ্রন্থের পরিমার্জন ও পরিশোধন করেন। সেখান থেকে ইসরাইলি বর্ণনা সমূহ এবং অপ্রয়োজনীয় কবিতাসমূহ দূর করে দেন। তিনি সেখানে ভাষাগত ও বংশ তালিকা বিষয়ে তথ্য সমূহ সংযোজন করেন। এভাবে তিনি কিতাবকে এমনভাবে রূপ দেন, যা ছহীহ হাদীছের বর্ণনা সমূহের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ফলে তা বিদ্বানগণের সন্তুষ্টি লাভ করে এবং পরবর্তীতে রচিত সকল সীরাত গ্রন্থের ভিত্তি হিসাবে পরিগণিত হয়! সেজন্য বলা হয়, তার পরে এমন কোন জীবনীকার নেই, যিনি তাঁর মুখাপেক্ষী হননি’ (সীরাহ সহীহাহ ১/৬৬ পৃঃ)।

(২) আত-ত্বাবাক্বাতুল কুবরা – মুহাম্মাদ ইবনু সা’দ বাগদাদী (১৬৮-২৩০ হি.)।

(৩) তারীখু খলীফা বিন খাইয়াত্ব (১৬০-২৪০)।

(৪) আনসাবুল আশরাফ -আহমাদ বিন ইয়াহইয়া বালাযুরী (মৃ. ২৭৯)।

(৫) তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক -মুহাম্মাদ ইবনু জারীর ত্বাবারী (২২৪-৩১০)। তিনি এর মধ্যে ছহীহ-যঈফ যাচাই না করেই অসংখ্য বর্ণনা জমা করেছেন এবং তা বাছাইয়ের জন্য পরবর্তীদের নিকট ছেড়ে যান।

(৬) আদ-দুরার ফী ইখতিছারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার – ইউসুফ ইবনু আব্দিল বার্র কুরতুবী (৩৬৮-৪৬৩)।

(৭) জাওয়ামে’উস সীরাহ -আলী ইবনু হাযম আন্দালুসী (৩৮৪-৪৫৬)।

(৮) আল-কামিল ফিত তারীখ ইযযুদ্দীন ইবনুল আছীর (৫৫৫-৬৩২)।

(৯) উয়ূনুল আছার-মুহাম্মাদ ইবনু সাইয়িদিন নাস (৬৭১-৭৩৪)।

(১০) যাদুল মা’আদ – মুহাম্মাদ ইবনুল ক্বাইয়িম আল-জাওযিয়াহ (৬৯১-৭৫১)।

(১১) আস-সীরাতুন নববিইয়াহ – শামসুদ্দীন যাহাবী (৬৭৩-৭৪৮)।

(১২) আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ – ইসমাঈল ইবনু কাছীর (৭০১-৭৭৪)।

(১৩) ইমতাউল আসমা -আহমাদ আল-মাক্বরেযী (৭৬৪-৮৪৫)।

(১৪) আল-মাওয়াহেবুল লাদুন্নিয়াহ – আহমাদ আল-ক্বাসত্বালানী (৮৫১-৯২৩)।

(১৫) আস-সীরাতুল হালাবিয়াহ – বুরহানুদ্দীন হালাবী (মৃ.৮৪১)। এর মধ্যে অনেক অসার বাক্য এবং ইস্রাঈলী কাহিনীসমূহ রয়েছে।

(১৬) সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ – মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ দিমাশক্কী (মৃ.৯৪২)।

(১৭) শারহুল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়াহ – মুহাম্মাদ আয-যুরকানী (১০৫৫-১১২৩)।

উপরে বর্ণিত গ্রন্থ সমূহের কোনটারই লেখক বিশুদ্ধতার শর্ত করেননি। বরং প্রত্যেকটির মধ্যে সহীহ-যঈফ সব ধরনের বক্তব্য রয়েছে।

ড. আকরাম জিয়া উমরী, ‘সীরাহ নববিয়্যাহ ছহীহাহ’ (রিয়াদ : ১৪৩০/২০০৯) ১/৫৩-৬৯ পৃঃ।

উপরের আলোচনায় যে বিষয়টি এসে গেছে, তা এই যে, পরবর্তী সকল লেখকের মূল ভিত্তি হল সীরাতে ইবনে হিশাম! ফলে বহু বিদ্বান এই গ্রন্থটিকে বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ ও পরিমার্জন করেছেন! তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন আবুল কাসেম আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আস-সুহাইলী (৫০৮-৫৮১ হি.)। যিনি স্পেনে জন্মগ্রহণ করেন ও মরক্কোতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৭ বছর বয়সে অন্ধ হয়ে যান। কিন্তু নিজ দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্বান গণের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেন। তিনি আরবি ভাষা, ব্যাকরণ ও সাহিত্য এবং ইলমে ক্বিরাআত ও ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত হন। অল্পে তুষ্ট থাকা এবং পরহেযগারিতায় অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

তিনি অনেকগুলি গ্রন্থ রচনা করেন। তার মধ্যে সীরাতে ইবনে হিশামের ব্যাখ্যাগ্রন্থ সবচাইতে প্রসিদ্ধ। যা তিনি ৫৬৯ হিজরীতে মিশরে থাকা অবস্থায় মুখে বলার মাধ্যমে পাঁচ মাসে লিপিবদ্ধ করেন। তার পরে আরও অনেকে ব্যাখ্যা লিখেছেন। কিন্তু এ যাবৎ এই কিতাবই শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যা গ্রন্থ হিসেবে পরিগণিত। যার মধ্যে ইবনে ইসহাক ও ইবনে হিশামের সীরাতে যোগ-বিয়োগ ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের ফলে সেটি পৃথক একটি বড় গ্রন্থের রূপ ধারণ করেছে (ইবনে হিশাম, ভূমিকা ১/১২, ১৮-২০ পৃঃ)।

নবী চরিতের হেফাজত

আল্লাহ যেমন কুরআন ও হাদীসকে হেফাযত করেছেন, তেমনি তাঁর প্রিয় রাসূলের জীবন চরিতকেও স্বীয় অনুগ্রহে হেফাজত করেছেন। ফলে যুগে যুগে বিভিন্ন আল্লাহভীরু চরিতকারগণের মাধ্যমে বিশ্লেষিত হয়ে তাঁর বিশুদ্ধ জীবনচরিত মানবজাতির সামনে এসে গিয়েছে। কেননা যাকে আল্লাহ তাঁর ওহী নাযিলের জন্য বেছে নিয়েছিলেন, নিঃসন্দেহে তার জীবনচরিত হবে মানব জাতির জন্য আদর্শ জীবন মুকুর। যার স্বচ্ছ আলোকধারা অন্যের জীবনের অন্ধকার দূর করবে। যঈফ, জাল ও বানোয়াট কাহিনী থেকে মুক্ত করার মাধ্যমেই তাঁর বিশুদ্ধ জীবনচরিত মানুষের নিকট উদ্ভাসিত হবে।

প্রথম যুগের মুহাদ্দিছগণ হাদীসের সহীহ-যঈফ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যেভাবে কঠোর নীতিমালা তৈরি করে ‘রিজাল শাস্ত্র’ প্রণয়ন করেছেন। জীবনচরিত রচনার ক্ষেত্রে অনুরূপ কোন শাস্ত্র রচিত হয়নি। সাথে সাথে ভ্রান্ত আক্বীদাসমূহ থেকে তাওহীদের আক্বীদাকে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে প্রথম যুগের বিদ্বানগণ যত বেশী মনোযোগী ছিলেন, জীবন চরিতের ব্যাপারে অতটা মনোযোগী ছিলেন না। ফলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দুষ্টু পণ্ডিতেরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জীবনচরিতে কলংক লেপনের সুযোগ পেয়েছে। সেজন্যেই দেখা যায়, কোন কোন প্রাচ্যবিদ সীরাতে ইবনে হিশামের চাইতে ওয়াক্বেদীর মাগাযীকে অগ্রাধিকার দেন। অথচ সেটি মুহাদ্দিছগণের নিকট পরিত্যক্ত ও যঈফ।

হাদীস গ্রন্থ ও সীরাত গ্রন্থের মধ্যে পার্থক্য এই যে, সীরাত গ্রন্থগুলোর অধিকাংশ বর্ণনার সনদ মুরসাল ও মুনকাতি বা ছিন্ন সূত্র। এক্ষণে যদি আমরা হাদিস গ্রন্থের ন্যায় সীরাত গ্রন্থ সমূহে ‘সহীহ’ বর্ণনা সমূহকে অগ্রাধিকার দেই এবং হাদিসের সমালোচনার ন্যায় সীরাতের বর্ণনা সমূহের সমালোচনায় দৃষ্টি নিবদ্ধ করি, তাহলে সীরাত গ্রন্থ গুলি হাদীছ গ্রন্থসমূহের ন্যায় নিষ্কলংক হয়ে উঠবে। দেরিতে হলেও এযুগের বিদ্বানগণ সেদিকে পা বাড়িয়েছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এখন সেটা বহুগুণে সহজ হয়ে গেছে। যা বিগত বিদ্বান গণের জন্য অসম্ভব ছিল।

আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে বর্তমান শতাব্দীতে শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী (১৩৩৩-১৪২০ হি./১৯১৪-১৯৯৯ খ্রিঃ), ড. আকরাম জিয়া উমারী (জন্ম : ইরাক ১৯৪২ খৃঃ), মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ঊশান (রিয়াদ) প্রমুখ বিদ্বানগণ এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আমরা তাদের প্রতি চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকব।

আসবাবুন নুযূল

নবী চরিত রচনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎস হল আয়াতসমূহ নাযিলের কারণ ও প্রেক্ষাপট। কেননা কোন প্রশ্ন বা ঘটনা ব্যতীত বলা চলে যে, কুরআনের অধিকাংশ আয়াতই নাযিল হয়নি। যে কারণে কুরআন এক সাথে নাযিল না হয়ে ক্রমে ক্রমে নাযিল হয়েছে পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী। যাতে প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার কারণে রাসূল (ছাঃ)-এর অন্তর প্রশান্ত হয় (ফুরকান ২৫/৩২) এবং সাথে সাথে অন্যদের বিশ্বাস দৃঢ়তর হয়। ফলে শানে নুযূলের উপরে বড় বড় গ্রন্থ রচিত হয়েছে। যার মধ্যে ঐসবগুলি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসাবে ‘ছাহাবী’ নিজেই বর্ণনা করেন এবং যা বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে। ইতিহাস রচনায় এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

ইমাম বুখারী (রহঃ) স্বীয় ‘সহীহ’ গ্রন্থে এ বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। যেমন তিনি ইফকের ঘটনায় হযরত আয়েশা (রা) থেকে হাদীস এনেছেন। কারণ তিনিই ছিলেন এ ঘটনার মূল চরিত্র। একইভাবে সূরা তাহরীম নাযিলের কারণ সম্বলিত হাদীছ এনেছেন একই রাবী হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে। সূরা মুনাফিকূন-এর শানে নুযূল বিষয়ে যায়েদ বিন আরকাম (রাঃ) থেকে হাদীছ এনেছেন। কেননা তিনিই ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই-এর মুনাফেকীর ঘটনা বিষয়ে মূল সাক্ষ্যদাতা ও বর্ণনাকারী। অমনিভাবে সূরা জুম’আ নাযিলের কারণ বিষয়ে হাদীছ এনেছেন রাবী জাবের বিন আব্দুল্লাহ আনছারী (রাঃ) থেকে। এরূপ বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। অন্যের মাধ্যমে শোনার চাইতে এ ধরনের চাক্ষুষ সাক্ষীর বর্ণনা সর্বাধিক গুরুত্ব বহন করে।

কখনো ঘটনার সাথে সাথে আয়াত নাযিল হয়েছে। যেমন ‘রূহ’ সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর।

ইসরা ১৭/৮৫; বুখারী হা/৪৭২১; মুসলিম হা/২৭৯৪।

কখনো কিছু পরে নাযিল হয়েছে। যেমন আয়েশা (রাঃ)-এর উপরে অপবাদের বিরুদ্ধে ইফকের আয়াত সমূহ। 

নূর ২৪/১১-২০; বুখারী হা/৪৭৫০; মুসলিম হা/১৭৯৭।

কখনো শানে নুযূল হিসাবে বর্ণিত ছহীহ হাদীছ গুলি পরস্পরের বিপরীত হয়। যেমন ছহীহ বুখারীর ‘তাফসীর’ অধ্যায়ে দেখা যায়। কখনো নিকটবর্তী সময়ের মধ্যে কাছাকাছি একই ধরনের একাধিক ঘটনায় একটি আয়াত নাযিল হয়। কখনো একই মর্মে একাধিক আয়াত বিভিন্ন সূরায় নাযিল হয়েছে। এ কারণে ইবনু হাজার আসকালানী (৭৭৩-৮৫২ হি.) বলেন, ‘একই ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটা কিংবা বারবার একই আয়াত নাযিল হওয়ায় কোন বাধা নেই’। যেমন ‘রূহ’ সম্পর্কিত প্রশ্ন মক্কাতেও হয়েছে মদীনাতেও হয়েছে। কিন্তু সে সম্পর্কে মাক্কী সূরা বনী ইস্রাঈলে (১৭/৮৫) আয়াত নাযিল হয়েছে।

শানে নুযূলের ব্যাপারে সবচেয়ে বিস্তৃত গ্রন্থ হল সহীহ বুখারী। সেখানে সর্বাধিক বর্ণনাকারী সাহাবী হলেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)। এরপরেই হল মুসতাদরাকে হাকেম-এর স্থান। সেখানেও অধিকাংশ বর্ণনা এসেছে ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে মোট ২৯ টি। এর পরে এসেছে হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে মোট ৭টি। এর পরের স্থান মুসনাদে আহমাদের। যেখানে ২৮টি শানে নুযূল বর্ণিত হয়েছে। যার অধিকাংশ সহীহ ও কিছু সংখ্যক যঈফ। ছহীহ গুলির বেশিরভাগ সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে। তাফসীরের কিতাব গুলো মারফু-মওকুফ, সহীহ-যঈফ প্রভৃতি বর্ণনায় ভরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হল তাফসীরে ইবনে জারীর তাবারী। যেখানে পুনরুক্তি ছাড়াই প্রায় ৫০০ শানে নুযূল বর্ণিত হয়েছে। একটি আয়াতের গড়ে ৫টি করে শানে নুযূল এসেছে।

কিন্তু এইসব বর্ণনার জন্য তিনি বিশুদ্ধতার শর্ত আরোপ করেননি। বরং অধিকাংশই মওকুফ ও মাকতূ (যঈফ)। ছাহাবীগণের দিকে বিশুদ্ধভাবে সম্পর্কিত শানে নুযূলযুক্ত আয়াতের সংখ্যা ৩০০ পর্যন্ত পৌঁছবে না। অথচ কুরআনের মোট আয়াত সংখ্যা ৬২০০-এর উপরে (কুরতুবী)। কয়েকটি গ্রন্থ এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ। আর তা হল, ওয়াহেদীর ‘আসবাবুন নুযূল’, সৈয়ূতীর ‘লুবাবুন নুকূল’ ও ইবনু হাজারের ‘আল-উজাব ফিল আসবাব’। ওয়াহেদীর চাইতে সৈয়ূতীর কিতাবে ৩৭০টি বর্ণনা বেশী রয়েছে’ (আলোচনা দ্রঃ সীরাহ ছহীহাহ ১/১৯-২২)।

নবী চরিত রচনায় কুরআন ও হাদীসের গুরুত্ব

পুরা কুরআনটাই নবী জীবনের আয়না সদৃশ। এর গভীরে ডুব দিলেই চোখের সামনে নবী চরিত ভেসে ওঠে! কারণ কুরআন একত্রে একদিনে নাযিল হয়নি! বরং ঘটনা ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছে! যখনই সমস্যার উদ্ভব হয়েছে, তখনই তার জবাব এসেছে কুরআনে! ফলে সেগুলো নবী চরিতের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। চাই সেগুলো উপদেশ মূলক হোক বা বিগত দিনের শিক্ষণীয় কাহিনী হোক বা যুদ্ধ সম্পর্কিত বর্ণনা হোক।

যেমন রাসূল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীর মধ্যে বদর যুদ্ধ সম্পর্কে সূরা আনফাল (পুরোটা), উহুদ যুদ্ধ সম্পর্কে সূরা আলে ইমরান (১২১-১৭৯=৬০টি আয়াত), খন্দক ও বনু কুরায়যা যুদ্ধ সম্পর্কে সূরা আহযাব (৯-২০, ২২-২৭ আয়াত), বনু নাযিরের যুদ্ধ সম্পর্কে সূরা হাশর (২-১৭ আয়াত), হোনায়েন যুদ্ধ সম্পর্কে সূরা তওবা (২৫-২৬ আয়াত) এবং ৯ম হিজরীতে আবু বকর ও আলী (রাঃ)-এর মাধ্যমে হজ্জের ময়দানে মুশরিকদের সাথে সকল প্রকার চুক্তি ও সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা জারি করা ও তাবুক যুদ্ধ বিষয়ে সূরা তওবা ১-১১০ পর্যন্ত আয়াতসমূহ নাযিল হয়।

অন্যান্য সূরাতেও বিভিন্ন যুদ্ধ সম্পর্কে মাঝে-মধ্যে আলোচনা এসেছে! অনুরূপভাবে ইহুদি ও মুসলমানদের মধ্যকার আক্বীদা বা বিশ্বাসগত যুদ্ধ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে সূরা বাকারাতে এবং বস্তুগত যুদ্ধ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে সূরা হাশর ও আহযাবে। এমনকি তৎকালীন বিশ্বশক্তি রোমক ও পারসিকদের মধ্যকার যুদ্ধ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে সূরা রূম-এ। তবে এর দ্বারা এটা ধারণা করা যাবে না যে, সেখানে এসব ঘটনার ধারাবাহিক ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। কেননা কুরআন কোন ইতিহাস গ্রন্থ নয়। এটি একটি জীবন গ্রন্থ। এখানে মানুষের সুষ্ঠু ও সুন্দর জীবন গড়ায় যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু আল্লাহ বর্ণনা করেছেন।

তাই কুরআন থেকে ফায়দা নিতে গেলে অবশ্যই তাকে প্রথমে ছহীহ হাদীছের সাহায্য নিতে হবে! সেই সাথে বিশ্বস্ত তাফসীর সমূহের সাহায্য নিতে হবে! যেমন তাফসীর ইবনে জারীর, কুরতুবী, ইবনু কাছীর, কাসেমী প্রভৃতি! কুরআনের ব্যাখ্যায় নিজস্ব রায় ও রুচিকে অগ্রাধিকার দেয়া যাবে না! দিলে তাকে অবশ্যই ভ্রান্তিতে পড়তে হবে! আধুনিক ঐতিহাসিক ও প্রাচ্যবিদদের অনেকে এমন বিভ্রান্তিতে পড়েছেন! কুরআনে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বিশেষণ হিসেবে তাকে Unlettered Prophet বা নিরক্ষর নবী বলা হয়েছে (আরাফ ৭/১৫৭-৫৮; জুম’আ ৬২/২)।

আর কুরাইশদের উম্মি বলা হত এবং তাদের মধ্যেই মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর জন্ম হয়েছে! ফলে কুরআন ও কুরআনের ব্যাখ্যায় নিজের পক্ষ থেকে কোনরূপ যোগ-বিয়োগ করার সন্দেহ থেকে তিনি মুক্ত ছিলেন! বস্তুতঃ হাদিস সমূহে নবীচরিতের বিভিন্ন দিক ও বিভাগ সমূহ বিস্তৃতভাবে এসেছে! তাঁর আক্বীদা, ইবাদত, আখলাক, আচরণ, রাজনীতি, অর্থনীতি, যুদ্ধনীতি, সমাজনীতি সবকিছু হাদীছের বুকে সঞ্চিত রয়েছে! অতএব কুরআন ও হাদীছ হল নবীচরিতের মূল খনি! বিশ্বস্ত তাফসীর সমূহে যা একত্রে জমা করা হয়েছে মাত্র।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (সীরাত শাস্ত্রের ইতিহাস)

মহানবী সাঃ এর জীবনী, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, রাসুল (সাঃ) এর জীবনী, নবীজির জীবনী, রাসুল সাঃ এর জীবনী, মোহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, হযরত মোহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, বিশ্ব নবীর জীবনী, রাসূল সাঃ এর জীবনী, হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবনী, হজরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, নবী করিম সাঃ এর জীবনী, রাসুলুল্লাহ সাঃ এর জীবনী, মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী বাংলা

hojrot muhammad ar jiboni, nobijir jiboni, mohanobir jiboni, nobir jiboni, rasuler jiboni, nobijir jiboni bangla, mohanobi hazrat muhammad jiboni, mohanobir jiboni bangla

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী (সীরাত শাস্ত্রের ইতিহাস)

মুহাম্মাদ

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর জীবনী রচনার হাজার বছর

আল কোরআন বাংলা অনুবাদ. 30 পারা কোরআন শরীফ বাংলা অর্থসহ

হাদিস আরবি বাংলা. হাদীস শরীফ বাংলা. Bangla Hadis

ইসলামিক বই pdf download. Islamic Book pdf Bangla

সহীহ বুখারী শরীফ সব খন্ড pdf. Bukhari Sharif Bangla

সহীহ মুসলিম শরীফ সব খন্ড pdf. Sahih Muslim Sharif Bangla

সুনানে আবু দাউদ pdf. Abu daud sharif bangla pdf

তিরমিজি শরীফ pdf. Tirmizi sharif bangla pdf

সীরাত বিশ্বকোষ pdf

সীরাতে ইবনে হিশাম pdf download. Sirat ibn hisham bangla

সীরাতুল মুস্তফা সাঃ ইদ্রিস কান্ধলভী

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবন কাহিনী pdf. রাসুল (সাঃ) এর জীবনী গ্রন্থ pdf

জীবনী

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী