স্ত্রী সহবাসের দোয়া ও ইসলামিক নিয়ম. Sohobaser Doa

স্ত্রী সহবাসের দোয়া, স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম, সহবাসের দোয়া বাংলায়, সহবাস করার নিয়ম পদ্ধতি, সহবাস পদ্ধতি, সহবাসের নিয়ম, মাসিক বন্ধ হলে কি সহবাস করা যায়, sohobaser doa, sohobaser dua, sohobaser dua in bangla

স্ত্রী-সহবাসের-দোয়া-ও-স্ত্রী-সহবাসের-ইসলামিক-নিয়ম

স্ত্রী সহবাসের দোয়া ও ইসলামিক নিয়ম. Sohobaser Doa

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম, আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে স্ত্রী সহবাসের দোয়া ও স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম এবং এই সম্পর্কিত আরো অনেক কিছু।

Table of Contents - সূচিপত্র

স্ত্রী সহবাসের দোয়া

স্ত্রী সহবাসের দোয়া আরবি

بِاسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا

স্ত্রী সহবাসের দোয়া বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা, ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাজাক্বতানা।

স্ত্রী সহবাসের দোয়া বাংলা অর্থ

হে আল্লাহ! তোমার নামে আরম্ভ করছি। তুমি আমাদের নিকট হতে শয়তানকে দূরে রাখ। আমাদের যে সন্তান দান করবে (এ মিলনের ফলে) তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখো।

স্ত্রী সহবাসের পূর্বে দোয়া পাঠের ফজিলত

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْتِيَ أَهْلَهُ قَالَ بِاسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا، فَإِنَّهُ إِنْ يُقَدَّرْ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ فِي ذَلِكَ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْطَانٌ أَبَدًا ‏”‏‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ তোমাদের কেউ স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গত হতে চাইলে সে বলবেঃ আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের শয়তান থেকে দূরে রাখুন এবং আপনি আমাদেরকে যা দান করেন তা থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন। তারপর তাদের এ মিলনের মাঝে যদি কোন সন্তান নির্ধারিত থাকে তা হলে শয়তান এ সন্তানকে কক্ষনো ক্ষতি করতে পারবে না।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

সহীহ বুখারী ৬৩৮৮

حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَتَى أَهْلَهُ قَالَ ‏{‏اللَّهُمَّ‏}‏ جَنِّبْنِي الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنِي‏.‏ فَإِنْ كَانَ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ لَمْ يَضُرُّهُ الشَّيْطَانُ، وَلَمْ يُسَلَّطْ عَلَيْهِ ‏”‏‏.‏ قَالَ وَحَدَّثَنَا الأَعْمَشُ عَنْ سَالِمٍ عَنْ كُرَيْبٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مِثْلَهُ‏.‏

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন স্ত্রীর নিকট গমন করে এবং বলে, হে আল্লাহ! আমাকে শয়তান হতে রক্ষা আর আমাকে এর মাধ্যমে যে সন্তান দিবে তাকেও শয়তান থেকে হেফাজত কর। তাহলে যদি তাদের কোন সন্তান জন্মায়, তবে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না এবং তার উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না। আসমা (রাঃ) ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর নিকট হতে অনুরূপ রিওয়ায়ত বর্ণনা করেন।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

সহীহ বুখারী ৩২৮৩

স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম

নিয়ত খালেস করে নেয়া

কাজটির মাধ্যমে নিজেকে হারাম পথ থেকে বিরত রাখার, মুসলিম উম্মাহর সংখ্যা বৃদ্ধি করার এবং সাওয়াব অর্জনের নিয়ত করা। এ মর্মে আবু যার রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে,

وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ ‏ ‏.‏ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَأْتِي أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُونُ لَهُ فِيهَا أَجْرٌ؟ قَالَ : ‏‏ أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي حَرَامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ فِيهَا وِزْرٌ فَكَذَلِكَ إِذَا وَضَعَهَا فِي الْحَلاَلِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ

স্ত্রী সহবাসও সদকা। তারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কেউ যদিস্ত্রী সহবাস এতেও কি সে সাওয়াব পাবে? তিনি বললেন, তোমরা কি মনে কর যদি সে কামাচার করে হারাম পথে তাতে কি তার গুনাহ হবে না? অনুরূপভাবে যদি সে কামাচার করে হালাল পথে তবে সে সাওয়াব পাবে। (মুসলিম ২২০১)

সহবাসের সময় আদর-সোহাগ করা

সহবাসের সময় শৃঙ্গার তথা চুম্বন, আলিঙ্গন, মর্দন ইত্যাদি করা। হাদিসে এসেছে,

كان رسول الله ﷺ يُلاعبُ أهله ، ويُقَبلُها

রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আলিঙ্গন, চুম্বন ইত্যাদি করতেন। (যাদুল মা’আদ ৪/২৫৩)

সহবাস শুরু করার সময় দোয়া পড়া

بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا

আল্লাহর নামে শুরু করছি, হে আল্লাহ! আমাদেরকে তুমি শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং আমাদেরকে তুমি যা দান করবে (মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবে) তা থেকে শয়তানকে দূরে রাখ।’

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, এরপরে যদি তাদের দু’জনের মাঝে কিছু ফল দেয়া হয় অথবা বাচ্চা পয়দা হয়, তাকে শয়তান কখনো ক্ষতি করতে পারবে না। (বুখারী ৪৭৮৭)

ইসলামে সহবাসের পজিশন

আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। (সূরা আল বাকারা ২২৩)। 

অর্থাৎ যেমন ভাবে ইচ্ছা কর; সামনের দিক দিয়ে ও পিছনের দিক দিয়ে। কিন্তু যোনীপথে করতে হবে পায়ুপথে নয়।

আর এ ব্যাপারে অনেক হাদীস রয়েছে। দুটি উল্লেখের মাধ্যমে যথেষ্ট মনে করছি।

প্রথম হাদীস

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়াহুদীরা বলতাে, যদি স্বামী স্ত্রীর পিছন দিক দিয়ে তার সম্মুখভাগে সহবাস করে তাহলে সন্তান ট্যারা হবে। অতঃপর “তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর” (সূরা আল বাকারা ২২৩) এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারপর বললেন, সম্মুখ ও পিছন উভয় দিক দিয়ে করা যাবে যদি তা লজ্জাস্থান হয়।

বুখারী ৮/১৫, মুসলিম ৪/১৫৬, নাসাঈ ৭৬/১-২

দ্বিতীয় হাদীস

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারী মূর্তি পূজকদের এ গােত্রটি ইয়াহুদী আহলে কিতাবদের এ গোত্রের সাথে বসবাস করতাে। আর আনসারগণ জ্ঞানের দিক দিয়ে ইয়াহুদীদেরকে অনেক ক্ষেত্রেই অনুসরণ করতাে। আর আহলে কিতাবদের একটি অভ্যাস ছিল যে, তারা শুধুমাত্র তাদের স্ত্রীদের এক দিক দিয়েই সহবাস করতাে। আর স্ত্রী তার দ্বারা সবচেয়ে বেশি আবৃত হতাে। সুতরাং আনসারদের এই গােত্রটি ইয়াহুদীদের ঐ কাজটি গ্রহণ করেছিল । আর কুরাইশরা এ ক্ষেত্রে তাদের মহিলাদেরকে নিকৃষ্ট ভাবে খোলাখুলি করতাে এবং তাদেরকে সম্মুখ দিয়ে, পিছন দিয়ে, চিৎ করে, উপভোগ করতাে। 

অতঃপর মুহাজিরগন যখন মদীনায় আগমন করলেন, তখন একজন কুরাইশী ব্যক্তি আনসারী এক মহিলাকে বিবাহ করলেন। সে তার স্ত্রীর কাছে তাদের নিয়মে কাজ করলেন। কিন্তু মহিলা তা খারাপ মনে করলেন এবং বললেন, আমাদেরকে শুধুমাত্র একদিক দিয়েই সহবাস করা হয়। সুতরাং তুমি তা-ই কর নতুবা আমার থেকে দূরে থাক। এমনকি তার ব্যাপারটি বিরাট আকার ধারণ করল। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সংবাদ পৌছাল। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এই আয়াতটি নাযিল করলেন। ‘‘তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য ক্ষেত স্বরূপ, তোমরা যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারাে” (সূরা আল বাকারা ২২৩) অর্থাৎ সম্মুখ করে, পিছনে করে ও চিৎ করে। মূল উদ্দেশ্য তার দ্বারা সন্তান হওয়ার স্থান যেন হয়।

আবু দাউদ ১/১৩৭, হাকিম ২/১৯৫/২৭৯; বায়হাকী ৭/১৯৫

সহবাসের নিষিদ্ধ নিয়ম

পায়ুপথে সহবাস করা হারাম

কুরআনের আয়াত ও হাদিস সমূহের অর্থ অনুযায়ী স্ত্রীর নিতম্বে সহবাস করা হারাম।

মহান আল্লাহ বলেন, তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের ক্ষেত স্বরূপ, অতএব যেভাবে ইচ্ছা সহবাস করতে পারাে। (সূরা আল বাকারা ২২৩)। 

আর এ ব্যাপারে অনেক হাদিস রয়েছে।

প্রথম হাদীস

উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাজিরগন যখন মদীনায় আনসারদের নিকট আগমন করলেন তখন তাদের মহিলাদের বিবাহ করলেন। আর মুহাজির মহিলারা চিৎ হতাে, কিন্তু আনসারী মহিলারা চিৎ হতাে না। একদা এক মুহাজির ব্যক্তি তার আনসারী স্ত্রীকে এরূপ ইচ্ছা করল, কিন্তু সে আল্লাহর রাসূল (সা) কে জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত তা করতে অস্বীকৃতি জানাল। উম্মু সালামা বলেন, সেই মহিলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসল, কিন্তু জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করল। তাই উম্মু সালামাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, অতঃপর “তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য ক্ষেত স্বরূপ, তোমরা যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারাে” (সূরা আল-বাকারা ২২৩) আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। তিনি বললেন না, শুধুমাত্র একই রাস্তায় সহবাস করা যাবে।

মুসনাদে আহমদ (৬/৩০৫/৩১০-৩১৮ পৃঃ)। তিরমিযী (৩/৭৫ পৃঃ).ও তিনি তাকে সহীহ বলেছেন এবং আবু ইয়ালা (৩২৯/১) পৃ, ইবনে আবী হাতিম তার তাফসীরে মুহাম্মাদিয়া (৩৯/১) পৃঃ ও ইমাম বায়হাকী (৭/১৯৫) পৃঃ বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর সানাদ মুসলিম এর শর্তানুযায়ী সহীহ।

দ্বিতীয় হাদীস

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উমার বিন খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আগমন করলেন। অতঃপর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তােমাকে কিসে ধ্বংস করল? তিনি বললেন, আমি রাতে আমার সওয়ারী পরিবর্তন করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন উত্তর দিলেন না। অতঃপর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এই আয়াত “তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য ক্ষেত স্বরূপ, তোমরা যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারাে” (সূরা আল-বাকারা ২২৩) অবতীর্ণ করা হলাে। তিনি বললেন, সামনে কর পিছনে কর, আর নিতম্ব ও ঋতুস্রাব থেকে বেঁচে থাক।

নাসাঈ আল-ইশরা ৭৬/২, তিরমিযী (২/১৬২-বুলাক প্রকাশনা) ইবনে আবী হাতিম (৩৯/১) পৃঃ, তাবরানী (৩/১৫৬/২) এবং ওয়াহিদী (৫৩) পৃঃ হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম তিরমিযী তাকে হাসান বলেছেন।

তৃতীয় হাদীস

খুযাইমাহ বিন সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মহিলাদের নিতম্বে সহবাস করা সম্পর্কে বা পুরুষ মহিলার নিতম্বে সহবাস করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন যে, বৈধ। অতঃপর যখন সে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করল, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকলেন। বা তাকে ডাকার আদেশ করা হল, সুতরাং তাকে ডাকা হল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কেমন বললে? কোন দুই ছিদ্রতে পিছন থেকে সম্মুখে হাঁ এটা বৈধ, না পিছন থেকে পিছনে, না বৈধ না। নিশ্চয় আল্লাহ হাক্ক-এর ব্যাপারে লজ্জাবোধ করেন না। তোমরা মহিলাদের নিতম্বে সহবাস করাে না।

ইমাম শাফেয়ী (২/২৬০), বায়হাকী (৭/১৯৬) পৃষ্ঠা, দারেমী (১/১৪৫) পৃষ্ঠা এবং ত্বহাবী (২/২৫) পৃষ্ঠা, ইমাম খাত্তাবী গরীবুল হাদীস (৭৩/২) পৃষ্ঠা। 

চতুর্থ হাদীস

যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর নিতম্বে সহবাস করবে আল্লাহ তার দিকে দেখবেন।

নাসাঈ আল-ইশরাহ (২/৭৭-৭৮/১) পৃষ্ঠা, তিরমিযী (১/২১৮) পৃষ্ঠা, ইবনু হিব্বান (১৩০২) পৃষ্ঠা, ইবনে আব্বাস-এর হাদীস থেকে। 

পঞ্চম হাদীস

যে ব্যক্তি মহিলাদের নিতম্বে সহবাস করবে সে অভিশপ্ত।

ইবনে আদী (২১১/১) হাসান সানাদে উকবাহ বিন আমির এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। আবূ দাউদ (২১৬২) নং এবং আহমাদ (২/৪৪৪ ও ৪৭৯) পৃষ্ঠা।

ষষ্ঠ হাদীস

যে ব্যক্তি ঋতুবতী বা স্ত্রীর নিতম্বে সহবাস করে অথবা কোন জ্যোতিষীর নিকট আসে, অতঃপর তার কথাকে সত্য প্রতিপন্ন করে, তাহলে মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সে অস্বীকার করল।

নাসাঈ ব্যতীত সুনানে আরবাহ অর্থাৎ আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, ইমাম নাসাঈ আল-ইশরা এর (৭৮) পৃষ্ঠা, দারেমী ও আহমাদ (২/৪০৮ ও ৪৭৬)।

সহবাসের নিষিদ্ধ সময়

ঋতুবতীর সাথে সহবাস করা হারাম

স্ত্রীর ঋতু অবস্থায় তার সঙ্গে সহবাস করা স্বামীর উপর হারাম। মহান আল্লাহ বলেন,

আর তারা তোমার কাছে হায়েয ঋতু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও এটা অশুচি বা কষ্ট কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাকো। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন তারা উত্তমরূপে পবিত্র হয়ে যাবে, তখন তাদের কাছে গমন কর যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ যারা তওবা করে এবং অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকে তাদেরকে ভালবাসেন। (সূরা আল বাকারা ২২২)

আর এ সম্পর্কে বহু হাদীস রয়েছে।

প্রথম হাদীস 

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী:

যদি কোন ব্যক্তি ঋতুবর্তী মহিলার সাথে বা তার নিতম্বে সহবাস করে অথবা জ্যোতিষীর নিকট আগমন করে ও সে যা বলে তাকে সত্য প্রতিপন্ন করে, তাহলে মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তার প্রতি সে কুফরী করল।

আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। হাদীস সহীহ।

ঋতুবতীর সঙ্গে সহবাস করলে তার কাফফারা

যার মনে চাহিদা প্রাধান্য পাবে অতঃপর হায়েয থেকে পবিত্র হওয়ার পূর্বেই ঋতুবতীর সঙ্গে সহবাস করবে তার উপর ওয়াজিব যে, সে ইংরেজি প্রায় অর্ধ পাউন্ড অথবা এক চতুর্থাংশ পাউন্ড স্বর্ণ সদকা করবে।

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি হায়েয অবস্থায় তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তি প্রসঙ্গে বলেন, সে এক দীনার স্বর্ণমুদ্রা বা অর্ধ দিনার স্বর্ণমুদ্রা সদকা করবে।

আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ, তাবরানী আল-মু’জামুল কাবীর (৩/১৪/১ ও ১৪৬/১ ও ১৪৮/২) পৃষ্ঠা এবং ইবনুল আরাবী আল-মু’জাম (১৫/১ ও ৪৯/১) পৃষ্ঠা এবং দারেমী, হাকিম ও বাইহাকী বুখারীর শর্ত অনুপাতে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। 

স্বামীর জন্য ঋতুবতীর সাথে যা বৈধ

স্বামীর জন্য ঋতুবর্তীর গুপ্তাঙ্গ ব্যতীত অন্য সব কিছুর দ্বারা আনন্দ ভােগ করা বৈধ। এই ক্ষেত্রে বহু হাদীস রয়েছে।

প্রথম হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী:

তোমরা তাদের সাথে সহবাস ব্যতীত সব কিছু কর।

সহীহ মুসলিম, সহীহ আবু আওয়ানা, সহীহ আবু দাউদ হাদিস নং ২৫০।

দ্বিতীয় হাদীস

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কেউ যখন ঋতু অবস্থায় থাকত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তহবন্দ বা লুঙ্গী পরার নির্দেশ দিতেন। অতঃপর স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করতেন। আয়িশাহ কখনাে বলেছেন, তিনি তাকে স্পর্শ করতেন।

নিহায়াতে রয়েছে (তিনি মুবাশারা দ্বারা স্পর্শ করা ইচ্ছা করেছেন। আর তার আসল হলাে, পুরুষের শরীর মহিলার সঙ্গে ছোঁয়া বা মিলানো। আর কখনো লজ্জাস্থানে ও তার বাইরে সহবাস করার অর্থে আসে)।

এখানে তা থেকে দ্বিতীয় অর্থটি উদ্দেশ্য যা প্রকাশ্য। আর এটাই আয়িশাহ (রাঃ) বলেছেন। শাহবা বিনতে করিম বলেন, আমি আয়েশাকে বললাম, স্বামীর জন্য হায়েয অবস্থায় স্ত্রীর কি কি বৈধ? তিনি বললেন, সহবাস ব্যতীত সবকিছু বৈধ। ইবনু সাঈদ (৮/৪৮৫) পৃষ্ঠা। আর আয়িশাহ (রাঃ) থেকে রোজাদারের ক্ষেত্রে অনুরূপ সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর তার আলোচনা আহাদীসুস সহীহাহ এর প্রথম খণ্ডের (২২০ ও ২২১ পৃষ্ঠায়) রয়েছে। আর বুখারী, মুসলিম ও আবু আওয়ানা হাদীসটিকে তাদের সহীহ সমূহে ও আবু দাউদ তার গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং আবু দাউদের শব্দবিন্যাস (২৬০) নম্বরে সহীহ সূত্রে রয়েছে।

তৃতীয় হাদীস

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন এক স্ত্রী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঋতুবতীর সাথে কিছু ইচ্ছা করতেন তখন তার লজ্জাস্থানে কাপড় দিতেন অতঃপর যা ইচ্ছা করতেন।

ইমাম আবু দাউদ হাদীসটি তার গ্রন্থে (২৬২) নম্বরে বর্ণনা করেছেন। আর বর্ণনা প্রসঙ্গ তারই, মুসলিমের শর্তানুযায়ী তার সানাদ সহীহ এবং ইবনু আব্দিল হাদী তাকে সহীহ বলেছেন আর ইবনু হাজার ও বাইহাকী (১/৩১৪) পৃষ্ঠায় তাকে শক্তিশালী করেছেন। আর অতিরিক্ত তারই।

যখন স্ত্রী পবিত্র হবে তখন তার সঙ্গে সহবাস করা বৈধ

মহান আল্লাহ বলেন, তারা যখন পবিত্রতা অর্জন করবে তখন তোমরা তাদের নিকট আগমন করাে যেভাবে আল্লাহ তোমাদের আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাওবাকারীদেরকে ও পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালবাসেন। (সূরা আল-বাকারা ২২২)

স্ত্রী যখন হায়েয থেকে পবিত্র হবে এবং রক্ত বন্ধ হয়ে যাবে তখন শুধু রক্তের স্থানকে ধৌত করার পর অথবা অযু করার পর অথবা গোসল করার পর তার সঙ্গে সহবাস করা স্বামীর জন্য বৈধ। অর্থাৎ কোন একটি করলেই তার সঙ্গে সহবাস করা বৈধ।

আর তা ইবনে হাযমের মাযহাব যা স্বীয় গ্রন্থে (১০/৮১) পৃষ্ঠায় রয়েছে। তিনি আতা ও কাতাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন, যখন ঋতুবর্তী পবিত্রতা লক্ষ্য করবে, তখন সে তার লজ্জাস্থান ধৌত করবে এবং তার স্বামী তার সঙ্গে সহবাস করবে। আর এটাই আওযায়ীর মাযহাব। যেমন বিদায়াতুল মুজতাহিদ (১/৪৪) পৃষ্ঠায় রয়েছে। ইবনু হাযম বলেন, আমি আতা থেকে বর্ণনা করেছি যে, যখন মহিলা পবিত্রতা হওয়া দেখে ও অযু করে তাহলে তার স্বামীর জন্য তার সঙ্গে সহবাস করা বৈধ। এটা আবু সুলাইমান ও আমাদের সকল সাথীদের কথা। আর যা আতা থেকে উল্লেখ করা হয়েছে তা ইবনে আবী শাইবার মুসান্নাফে (১/৬৬) পৃষ্ঠায় রয়েছে। আর ইবনুল মুনযির, মুজাহিদ ও আতা থেকে বর্ণনা করেছে তারা বলেন, যদি সে পবিত্রতার লক্ষণ দেখে তাহলে পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করাতে কোন দোষ নেই। আর তার স্বামী তার সঙ্গে গোসল করার পূর্বে সহবাস করতে পারে) শাওকানী তাকে (১/২০২) পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।

রোজা থাকা অবস্থায় সহবাস করা হারাম

اُحِلَّ لَکُمۡ لَیۡلَۃَ الصِّیَامِ الرَّفَثُ اِلٰی نِسَآئِکُمۡ ؕ ہُنَّ لِبَاسٌ لَّکُمۡ وَ اَنۡتُمۡ لِبَاسٌ لَّہُنَّ ؕ عَلِمَ اللّٰہُ اَنَّکُمۡ کُنۡتُمۡ تَخۡتَانُوۡنَ اَنۡفُسَکُمۡ فَتَابَ عَلَیۡکُمۡ وَ عَفَا عَنۡکُمۡ ۚ فَالۡـٰٔنَ بَاشِرُوۡہُنَّ وَ ابۡتَغُوۡا مَا کَتَبَ اللّٰہُ لَکُمۡ ۪ وَ کُلُوۡا وَ اشۡرَبُوۡا حَتّٰی یَتَبَیَّنَ لَکُمُ الۡخَیۡطُ الۡاَبۡیَضُ مِنَ الۡخَیۡطِ الۡاَسۡوَدِ مِنَ الۡفَجۡرِ۪ ثُمَّ اَتِمُّوا الصِّیَامَ اِلَی الَّیۡلِ ۚ وَ لَا تُبَاشِرُوۡہُنَّ وَ اَنۡتُمۡ عٰکِفُوۡنَ ۙ فِی الۡمَسٰجِدِ ؕ تِلۡکَ حُدُوۡدُ اللّٰہِ فَلَا تَقۡرَبُوۡہَا ؕ کَذٰلِکَ یُبَیِّنُ اللّٰہُ اٰیٰتِہٖ لِلنَّاسِ لَعَلَّہُمۡ یَتَّقُوۡنَ

অর্থ- সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের জন্য পরিচ্ছদ। আল্লাহ জেনেছেন যে, তোমরা নিজদের সাথে খিয়ানত করছিলে। অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবূল করেছেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন। অতএব, এখন তোমরা তাদের সাথে মিলিত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে দিয়েছেন, তা অনুসন্ধান কর। আর আহার কর ও পান কর যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কাল রেখা থেকে স্পষ্ট হয়। অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর। আর তোমরা মাসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না। এটা আল্লাহর সীমারেখা, সুতরাং তোমরা তার নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবেই আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ মানুষের জন্য স্পষ্ট করেন যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে। (বাকারা-১৮৭)

রোজা থাকা অবস্থায় সহবাস করা হারাম। তবে রমজান মাসে রাত্রি বেলায় সহবাস করা যাবে। দিনের বেলায় সহবাস করা নিষিদ্ধ। ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ সঙ্গম করে ফেললে তাওবা করতে হবে এবং কাযা, কাফফারা আদায় করতে হবে।

ইত্তেকাফের সময় সহবাস করা হারাম
হজ্জের ইহরাম বাঁধা অবস্থায় সহবাস করা হারাম
স্ত্রীর গর্ভপাতের পর ৪০ দিন সময় পর্যন্ত সহবাস করা হারাম

উপরোক্ত সময়গুলো ছাড়া অন্য যেকোন সময় যৌন মিলন করা যাবে। এক্ষেত্রে পূর্ণিমা, আমাবস্যা, দিনের বেলা, শুক্রবার, ঈদের দিনে, ঈদের রাতে, শবে বরাতে, শবে কদরের রাতে ইত্যাদি সময় সহবাস করা যাবে এবং তা বৈধ বা হালাল। এতে কোনো ক্ষতি বা গোনাহ হবে না।

গর্ভাবস্থায় সহবাস

ইসলামে গর্ভকালীন সময়ে সহবাস করতে নিষেধ করা হয়নি। তবে গর্ভাবস্থায় সহবাস করতে অনেকে ইতস্তবোধ করে থাকেন। আবার অনেক নারী সহবাসের কারণে তার গর্ভের সন্তান কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হয় কি না সে চিন্তাও করেন। কিন্তু গর্ভবতী নারী যদি কোনো ক্ষতির সম্মুখীন না হয় তাহলে তার সাথে সহবাস করতে অসুবিধা নেই।

গর্ভকালীন সময়ে তলপেটে ব্যথা এবং গর্ভাশয় থেকে রক্ত পড়া স্বাভাবিক বিষয়। তাই এই বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে। এছাড়া এ সময় অনেক নারীর সহবাসের ইচ্ছা কমে যায়। তাই স্ত্রীর ইচ্ছা ছাড়া জোরপূর্বক যৌন মিলন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

রমজানে স্ত্রী সহবাসের নিয়ম

রোজা রেখে দিনের বেলায় যৌন মিলন করলে রোজা ভেঙ্গে যায়, এ কারণে ইফতারের প্রথম থেকে শুরু করে সেহরির আগ পর্যন্ত যে কোন সময় যৌন মিলন করা যায়। তবে রমজানের দিনের বেলায় স্বামী স্ত্রী পাশাপাশি ঘুমানো, আদর সােহাগ, চুমু দেয়া, স্তন মর্দন ইত্যাদি জায়েয। কিন্তু তা অবশ্যই হতে হবে বীর্যপাত ব্যতীত। ফরজ রোজা পালনকারী স্বামী-স্ত্রীর এমন কিছু করা জায়েয হবে না যাতে করে বীর্যপাত হয়ে যায়। কিছু লোক আছে যাদের বীর্যপাত দ্রুত হয়ে যায়। এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ফরজ রোজা পালনকালে স্ত্রীকে চুম্বন করা, আলিঙ্গন করা ইত্যাদি থেকে সাবধান থাকতে হবে।

দুই সহবাসের মাঝে ওযু

যদি স্বামী-স্ত্রীর সাথে বৈধ স্থানে সহবাস করে এবং দ্বিতীয়বার সহবাস করার ইচ্ছা করে, তাহলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর প্রেক্ষিতে সে অযু করবে।

তোমাদের কেউ যদি স্ত্রীর সাথে সহবাস করে, অতঃপর পুনরায় তার ইচ্ছা করে, তাহলে সে উভয়ের মাঝে যেন অযু করে। অন্য বর্ণনায় আছে, সালাতের অযুর ন্যায় অযু করবে কেননা তা দ্বিতীয়বারের জন্য অধিক প্রফুল্লকারক।

মুসলিম (১/১৭১) পৃষ্ঠা, ইবনে আবী শাইবা (১/৫১/২) পৃষ্ঠা, আহমাদ (৩/২৮) পৃষ্ঠা, আবু নাঈম এর (২/১২/১)

দুই সহবাসের মাঝে গোসল অতি উত্তম

রাফের হাদিসের প্রেক্ষিতে ওযু থেকে গোসল উত্তম।

নিশ্চয় একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের সাথে সহবাস করলেন। তিনি এর কাছে গােসল করলেন এবং ওর কাছেও গোসল করলেন। রাবী বলেন, আমি  তাকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তাকে একটি গােসলে পরিণত করতে পারলেন না। তিনি বললেন, এটা অধিকতর পরিচ্ছন্ন, অতি উত্তম ও সর্বাধিক পবিত্রতা।

আবু দাউদ ও নাসাঈ ইসরাতুন নিসা (৭৯/১), তাবরানী (৬/৯৬/১)

এক সঙ্গে স্বামী স্ত্রীর গোসল

স্বামী-স্ত্রীর জন্য একস্থানে একত্রে গোসল করা বৈধ। যদিও একে অপরকে দেখে নেয়। আর এ ব্যাপারে অনেক হাদীস রয়েছে।

প্রথম হাদীস

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়ই একই পাত্র থেকে গোসল করতে ছিলাম। আমাদের উভয়ের হাত তার মধ্যে টক্কর খেত। তিনি আমার পূর্বে দ্রুত করতেন, এমনকি আমি বলতাম আমার জন্য রাখেন, আমার জন্য রাখেন। আয়িশাহ বলেন, উভয় অপবিত্র অবস্থায় ছিলেন।

ইমাম বুখারী, মুসলিম ও আবু আওয়ানা তাদের সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। 

দ্বিতীয় হাদীস

মুয়াবিয়াহ বিন হাইদাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কোন লজ্জাস্থান আবৃত করব এবং কোন গুলো খুলব? তিনি বললেন, তুমি তোমার লজ্জাস্থানকে তোমার স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত হেফাজত কর। সে বলল, আমি বললাম, হে রাসূল! যদি কতিপয় কতিপয় এর মাঝে থাকে তাহলে কিরূপ করবে? তিনি বললেন, যদি কেউ সক্ষম হয় যে, সে লজ্জাস্থানকে দেখবে না তাহলে যেন কেউ না দেখে। সে বলল আমি বললাম ? হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ যদি অনাবৃত থাকে? তিনি বললেন, লজ্জাবোেধ করার ব্যাপারে আল্লাহই মানুষদের চেয়ে বেশি হকদার।

আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ ইসরাতুন নিসা (৭৬/১) পৃষ্ঠা, মুসনাদে রুয়ানী (২৭/১৬৯/১-২) পৃষ্ঠা, আহমাদ (৫/৩-৪) পৃষ্ঠা, বাইহাকী (১/১৯৯) পৃষ্ঠা। 

ঘুমের পূর্বে অপবিত্রতার ওযু করা

স্বামী-স্ত্রী উভয় অযু করে ঘুমাবে। এই ব্যাপারে অনেক হাদীস বিদ্যমান। 

প্রথম হাদীস

আয়িশাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্র অবস্থায় যদি কিছু আহার করার বা ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন, তাহলে লজ্জাস্থান ধৌত করতেন এবং সালাতের ন্যায় ওযু করতেন।

বুখারী, মুসলিম ও আবু আওয়ানা তাদের সহীহতে বর্ণনা করেছেন। 

দ্বিতীয় হাদীস

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উমার (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ কি অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে পারে? তিনি বললেন, হাঁ যদি সে ওযু করে। অন্য বর্ণনায় আছে তুমি অযু কর এবং তোমার লিঙ্গ ধৌত কর তারপর ঘুমাও। অন্য বর্ণনায় আছে, হাঁ সে যেন ওযু করে। অতঃপর যেন সে ঘুমায় আর যখন চাইবে তখন গোসল করবে। অন্য এক বর্ণনায় বলেছেন হ্যাঁ। আর সে যদি চায় ওযু করবে।

আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ সহীহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, ইবনে আসাকির (১৩/২২৩/২) পৃষ্ঠা। 

তৃতীয় হাদীস

আম্মার বিন ইয়াসির থেকে বর্ণিত যে, নিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফেরেশতাগণ তিন ব্যক্তির নিকটবর্তী হয় না। কাফেরদের লাশ এবং খালুক জাতীয় সুগন্ধি ব্যবহারকারী ও অপবিত্র যতক্ষণ না সে অযু করে।

আবু দাউদ (২/১৯২/১৯৩) পৃষ্ঠায় দুই সূত্র থেকে এবং আহমাদ, ত্বহাবী ও বাইহাকী একটি সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তিরমিযী ও অন্যান্যরা তাকে সহীহ বলেছেন। 

সহবাসের ওযুর হুকুম

এটা ওয়াজিব নয়। বরং তা উমার (রাঃ)-এর হাদীসের প্রেক্ষিতে সুন্নাতে মুআক্কাদা।

উমার (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের কেউ কি অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে পারে? তিনি বললেন, হ্যা আর যদি সে চায় অযু করে নিবে।

ইমাম ইবনু হিব্বান তার উসাতায ইবনে খুযাইমা থেকে স্বীয় (সহীহ) গ্রন্থে (২৩২) পৃষ্ঠা নিয়ে এসেছেন।

আর এটাকে আয়িশাহ (রাঃ)-এর হাদীস মজবুত করে।

আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন পানি স্পর্শ করা ছাড়াই অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতেন; এমনকি তিনি পরে ঘুম থেকে উঠতেন এবং গোসল করতেন।

ইবনু আবী শাইবা (১/৪৫/১), আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ ইসরাতুন নিসা (৭৯-৮০) পৃষ্ঠা, ত্বহাবী, তায়ালিসি এবং আহমদ ও বাগাবী আলী বিন জাদ এর হাদিস (৯/৮৫/১ ও ১১/১১৪/২) পৃষ্ঠা মুসনাদে আবু ইয়ালা (২২৪/২) এবং বাইহাকী এবং হাকিম বর্ণনা করে সহীহ বলেছেন।

আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্র অবস্থায় রাত্রি যাপন করতেন, তারপর বেলাল তার নিকট আসত এবং তাকে সালাতের সংবাদ দিত। অতঃপর তিনি উঠতেন এবং গোসল করতেন। আর আমি তার মাথা থেকে নির্গত পানির দিকে তাকাতাম। তারপর তিনি মসজিদে বের হতেন আর আমি ফজরের সালাতে তার আওয়াজ শুনতাম। অতঃপর তিনি রােযা অবস্থায় থাকতেন। রাবী মুতাররাফ বলেছেন, আমি আমির-কে বললাম, রামাযান মাসেও কি? তিনি বলেন, হ্যা রামাযান মাসে বা অন্য মাসে একই রকম হত।

ইমাম ইবনু আবী শাইবা শা’বী বর্ণনা থেকে তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আয়িশাহ থেকে (২/১৭৩/২) পৃষ্ঠা সানাদ সহীহ। আহমদ (৬/১০১ ও ২৫৪) পৃষ্ঠা, মুসনাদে আবু ইয়ালা (২২৪/১) পৃষ্ঠা।

ওযুর পরিবর্তে অপবিত্র ব্যক্তির তায়াম্মুম করা

আয়েশার হাদিসের প্রেক্ষিতে তাদের উভয়ের জন্য কখনো ওযুর পরিবর্তে তায়াম্মুম বৈধ আছে। তিনি বলেন,

আর ইবনু আবী শায়বাহ ইবনে আব্বাস থেকে হাসান সানাদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, যদি কোন ব্যক্তি সহবাস করে, অতঃপর পুনরায় ইচ্ছা করে, তাহলে গোসল বিলম্বিত করাতে কোন দোষ নেই।

সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি অপবিত্র ইচ্ছা করে তাহলে অযু করার পূর্বে ঘুমাবে। এ হাদীসের সানাদ সহীহ। আর এটাই জামহুরের মাযহাব।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অপবিত্র হতেন এবং ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন ওযু করতেন বা তায়াম্মুম করতেন।

বাইহাকী (১/২০০) পৃঃ, ইসাম বিন আলী হতে তিনি হিশাম হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে তিনি আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারীতে (১/৩১৩) পৃষ্ঠা (১১৬) সানাদ হাসান বলেছেন।

সহবাসের পর গোসল ফরজ

সহবাস করলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উপর গোসল করা ফরজ। স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের ক্ষেত্রে স্ত্রীর গোপনাঙ্গে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করালেই উভয়ের ওপর গোসল ফরজ হয়ে যাবে। তাতে বীর্যপাত হোক আর না হোক; উভয়কে গোসল করতে হবে।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি স্ত্রীর চার শাখার মাঝে বসে তার সাথে সঙ্গত হলে, তার উপর গোসল ওয়াজিব হয়ে যায়। (বুখারী: ২৯১)

ফরজ গোসল করার সঠিক নিয়ম ও ফরজ গোসলের নিয়ত

ঘুমের পূর্বে গোসল করা উত্তম

আব্দুল্লাহ বিন কাইস এর হাদিসের প্রেক্ষিতে ঘুমের পূর্বে উভয়ের গোসল করা উত্তম।

আবদুল্লাহ বিন কাইস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করে বললাম, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপবিত্র অবস্থায় কিরূপ করতেন? তিনি কি ঘুমের পূর্বে গোসল করতেন, না গোসলের পূর্বে ঘুমাতেন? আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি উভয়টি করতেন। কখনাে গোসল করতেন তারপর ঘুমাতেন আবার কখনাে অযু করতেন, অতঃপর ঘুমাতেন। আমি বললাম, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য যিনি কর্মে প্রশস্ততা করেছেন।

মুসলিম (১/১৭১) পৃষ্ঠা, আবু আওয়ানা (১/২৭৮) পৃষ্ঠা, আহমদ (৬/৭৩ ও ১৪৯) পৃষ্ঠা।

আযলের বৈধতা

স্বামীর জন্য বৈধ যে, সে তার বীর্য তার স্ত্রী হতে দূরে ফেলবে অর্থাৎ আযল করবে। এই বিষয়ে বহু হাদীস আছে।

প্রথম হাদীস

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (কুরআন অবতীর্ণ অবস্থায় আমরা আযল করতাম) অর্থাৎ আমাদের বীর্যকে সহবাসের সময় স্ত্রীদের থেকে দূরে ফেলতাম।

অন্য বর্ণনায় আছে, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় আযল করতাম, অতঃপর এই সংবাদটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌছল তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেননি।

বুখারী (৯/২৫০) পৃষ্ঠা, মুসলিম (৪/১৬০) পৃষ্ঠা দ্বিতীয় বর্ণনাটি মুসলিমের। ইমাম নাসাঈ ইশরাতুন নিসা (৮২/১) পৃষ্ঠা এবং তিরমিযী (২/১৯৩), বাগাবী আলী বিন জাদ এর হাদীসের (৮/৭৬/২) পৃষ্ঠা।

দ্বিতীয় হাদীস

আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আগমন করল এবং বলল আমার এক দাসী আছে, আর আমি তার সাথে আযল করি, আর পুরুষ যা ইচ্ছা করে আমি তা করি, আর ইয়াহুদীরা ধারণা করে যে, ছােট জীবন্ত দাফন কৃত হল আযল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইয়াহুদীরা মিথ্যা বলেছে, ইয়াহুদীরা মিথ্যা বলেছে, আল্লাহ যদি কিছু সৃষ্টি করতে চান তাহলে তুমি তাকে তা হতে বাধা দিতে পারবে না।

নাসাঈ ইশরাতুন নিসা (৮১/১-২) পৃষ্ঠা, আবু দাউদ (১/২৩৮ পৃষ্ঠা), ত্বহাবী আল-মুশকিল-এর (২/৩৭১ পৃষ্ঠা), তিরমিযী (২/১৯৩) পৃষ্ঠা, আহমাদ (৩/৩৩ ও ৫১ ও ৫৩) পৃষ্ঠা সহীহ সনদে।

আর আবু হুরাইরা এর হাদীস থেকে তার প্রমাণ রয়েছে, যা আবু ইয়ালা (২৮৪/১) পৃষ্ঠা এবং বায়হাকী (৭/২৩০) পৃষ্ঠা হাসান সানাদে বর্ণনা করেছেন।

তৃতীয় হাদীস

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নিশ্চয় এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসল এবং বলল, আমার এক দাসী আছে যে, আমাদের সেবিকা ও আমাদের খেজুর বাগানে পানি দেয়। আর আমি তার সঙ্গে সহবাস করি এবং সে গর্ভবতী হবে এটা আমি অপছন্দ করি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (তুমি ইচ্ছা করলে তার সঙ্গে আযল কর। কেননা তার ভাগ্যে যা লেখা হয়েছে তা তার গর্ভে আসবে)। লোকটি কিছুকাল অবস্থান করল। অতঃপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসল এবং বলল, নিশ্চয় দাসীটি গর্ভধারণ করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (আমি অবশ্যই তোমাকে সংবাদ দিয়েছিলাম যে, সে অচিরেই গর্ভধারণ করবে যা তার ভাগ্যে আছে।

মুসলিম (৪/১৬০) পৃষ্ঠা, আবু দাউদ (১/৩৩৯) পৃষ্ঠা, বায়হাকী (৭/২২৯) পৃষ্ঠা এবং আহমদ (৩/৩১২/৩৮৬) পৃষ্ঠা।

আযল পরিত্যাগ করা উত্তম

অনেক কারণে আযল ছেড়ে দেয়া উত্তম।

১ম কারণ: মহিলার আনন্দ ছুটে যাওয়ার কারণে, মহিলাকে কষ্ট দেয়া হয়। 

২য় কারণ: নিশ্চয় আযলে বিবাহ এর কতিপয় উদ্দেশ্য ছুটে যায়। আর তা হলো আমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মতের বংশধর বৃদ্ধি করণ। 

এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: তোমরা স্নেহ পরায়ণা ও অধিক সন্তান দানকারিণী মহিলাকে বিবাহ করাে। কেননা আমি তোমাদের দ্বারা পূর্ববর্তীদের সাথে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় গর্ববোধ করবাে।

আবু দাউদ (১/৩২০) পৃষ্ঠা, নাসাঈ (২/৭১) পৃষ্ঠা, আর হাকিম (২/১৬২) পৃষ্ঠা সহীহ বলেছেন। 

এজন্য নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গোপন হত্যার সাথে তুলনা করেছেন, যখন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আযল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাে তখন তিনি বললেন, এটা হলো গোপন জীবন্ত হত্যা।

মুসলিম (৪/১৬১) পৃষ্ঠা এবং ত্বহাবী মুশকিলুল আসার এর (২/৩৭০-৩৭১) পৃষ্ঠা, আহমদ (৬/৩৬১ ও ৪৩৪) পৃষ্ঠা, বায়হাকী (৭/২৩১) পৃষ্ঠা সাঈদ বিন আবু আইউব থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাকে আকুল আসওয়াদ উরআহ থেকে তিনি আয়িশাহ থেকে এবং তিনি খুযামাহ বিনতে ওয়াহাব থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন ।

আর এজন্যই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) এর হাদীসে ইঙ্গিত করেছেন যে তাকে ছেড়ে দেয়া উত্তম।

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আযলের আলোচনা করা হল। তিনি বলেন, কেন তা তোমাদের কেউ করে? আর তিনি এ কথা বলেননি তোমাদের কেউ যেন তা না করে। কেননা আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেন না এরকম কোন সৃষ্ট আত্মা নাই।

অন্য বর্ণনায় আছে অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা কি অবশ্যই তা করাে, তোমরা কি অবশ্যই তা করাে, তোমরা কি অবশ্যই তা করাে কিয়ামত পর্যন্ত যে সৃষ্টি অস্তিত্ব লাভ করার আছে অবশ্যই তা অস্তিত্ব লাভ করবে।

মুসলিম (৪/১৫৮ ও ১৫৯) পৃ, নাসাঈ ইশরাতুন নিসা (৮২/১) পৃ, ইবনে মানদাহ আত-তাওহীদ (৬০/২) পৃঃ প্রথম বর্ণনাটি দ্বারা এবং বুখারী (৯/২৫১/২৫২) পৃঃ দ্বিতীয় বর্ণনাটির সহিত বর্ণনা করেছেন।

সহবাস সম্পর্কিত কিছু ভুল ধারণা ও কুসংস্কার

আমাদের সমাজে সহবাস সম্পর্কিত কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে আবার এই ধারণাগুলোকে শরীয়ত সম্মত বলে প্রচার করে মানুষের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। তাই ফিতনা থেকে বাঁচতে যৌন মিলন সম্পর্কিত এইসব ভুল ধারণা ও কুসংস্কার সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

  • সহবাস সম্পর্কিত প্রথম ভুল ধারণা হলাে রাত্রি দ্বি-প্রহরের আগে সহবাস করা যাবে না 

  • ফলবান গাছের নিচে সহবাস করা যাবে না

  • রবিবারে সহবাস করা যাবে না 

  • বুধবারের রাত্রে স্ত্রীর সহবাস করা যাবে না 

  • চন্দ্র মাসের প্রথম এবং পনের তারিখ রাতে স্ত্রী সহবাস করা যাবে না 

  • বিদেশ যাওয়ার আগের রাতে স্ত্রী সহবাস করা যাবে না। এই কথার কোন ভিত্তি নেই। 

  • উলঙ্গ হয়ে সহবাস করা যাবে না 

  • জোহরের নামাজের পরে স্ত্রী সহবাস করা যাবে না 

  • ভরা পেটে যৌন মিলন করা যাবে না 

  • উল্টাভাবে সহবাস করা যাবে না 

  • স্বপ্নদোষের পর গোসল না করে স্ত্রী সহবাস করা যাবে না 

  • পূর্ব-পশ্চিম দিকে শুয়ে সহবাস করা যাবে না

এছাড়া সহবাস সম্পর্কে আরও অনেক ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে যেগুলাের কোনো ভিত্তি নেই এবং এগুলো কুরআন-হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই সমস্ত কুসংস্কার থেকে আমাদেরকে বেঁচে থাকার তৌফিক দিন; আমিন।

স্ত্রী সহবাসের দোয়া ও স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম

সহবাসের দোয়া, স্ত্রী সহবাসের দোয়া, স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম, সহবাসের দোয়া, সহবাসের দোয়া বাংলায়, সহবাস করার নিয়ম পদ্ধতি, সহবাস পদ্ধতি, সহবাসের নিয়ম, সহবাস করার নিয়ম, মাসিক বন্ধ হলে কি সহবাস করা যায়, সহবাস করার ইসলামিক পদ্ধতি, সহবাস করার দোয়া, স্বামী স্ত্রীর সহবাস সম্পর্কিত হাদিস, সহবাসের ইসলামিক নিয়ম, সহবাসের দোয়া আরবিতে, সহবাসের আগে ও পরে করণীয়, সহবাসের দোয়া ও নিয়ম কানুন, স্ত্রী সহবাসের দোয়া, সহবাসের দোয়া আরবি, স্ত্রী সহবাসের দোয়া বাংলায়, সহবাসের দোয়া বাংলা উচ্চারণ

সএী সহবাসের দোয়া, স্বামী ও স্ত্রী সহবাসের দোয়া, স্বামী স্ত্রী সহবাসের দোয়া, স্ত্রী সহবাসের দোয়া বাংলা, স্তী সহবাসের দোয়া, সহবাসের দোয়া বাংলা, সহবাসের দোয়া না পড়লে, সহবাসের দোয়া ইন বাংলা, স্ত্রী সহবাসের দোয়া আরবি, সহবাসের দোয়া আরবী, সহবাসের দোয়া কখন পড়তে হয়, সহবাসের দোয়া ও নিয়ম, স্বামী স্ত্রীর সহবাসের দোয়া, সহবাসের ইসলামিক নিয়ম কানুন, স্বামী স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম, স্ত্রী সহবাসের নিয়ম, সহবাসের নিয়ম, স্ত্রী সহবাসের পূর্বে দোয়া, সহবাসের উত্তম সময়, ইসলামে সহবাসের নিয়ম

স্ত্রী সহবাসের দোয়া ও স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম

ইসলামে সহবাসের নিষিদ্ধ সময় কখন, ইসলামে সহবাসের পজিশন, স্বামী স্ত্রী সহবাসের নিয়ম, ইসলামে সহবাসের উত্তম সময়, সহবাসের পূর্বে দোয়া, সহবাসের নিয়ম নীতি, সহবাসের নিয়ম পদ্ধতি, ইসলামে স্বামী স্ত্রী সহবাসের নিয়ম, সহবাসের নিয়ম কানুন, সহবাসের নিয়ম ও পদ্ধতি, ইসলামে সহবাসের নিয়ম ও পদ্ধতি, হাদীসের আলোকে সহবাসের নিয়ম, স্বামী স্ত্রীর সহবাসের নিয়ম কারণ, ইসলামে স্ত্রী সহবাসের নিয়ম, ইসলামে স্বামী স্ত্রীর সহবাসের নিয়ম, স্বামী স্ত্রীর সহবাসের নিয়ম, ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী স্ত্রীর সহবাসের নিয়ম, সহবাসের নিয়ম ইসলাম

সহবাসের নিয়ম ও দোয়া, ইসলামিক নিয়মে স্ত্রী সহবাসের নিয়ম, ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী সহবাসের নিয়ম, স্বামী স্ত্রী সহবাসের নিয়ম কানুন, ইসলামের দৃষ্টিতে সহবাসের নিয়ম, ইসলামী সহবাসের নিয়ম, ইসলামের দৃষ্টিতে স্ত্রী সহবাসের নিয়ম, স্বামী স্ত্রী মিলনের দোয়া কি, স্বামী স্ত্রী মিলনের সময় কি দোয়া পড়তে হয়, স্বামী স্ত্রী মিলনের পদ্ধতি জানতে চাই, ইসলামিক দৃষ্টিতে সহবাস করার নিয়ম, সহবাস করার নিয়ম ইসলাম কি বলে, ইসলামিক পদ্ধতিতে সহবাস করার নিয়ম, ইসলামিক নিয়মে সহবাস করার নিয়ম, ইসলামিক সহবাস করার নিয়ম

স্ত্রী সহবাসের দোয়া ও স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম

sohobaser doa, sohobaser dua, sohobaser dua in bangla, sohobaser niom, sohobaser dua bangla, sohobaser dowa, sohobaser doya, stri sohobaser dua, sohobaser niyom bangla, sohobaser time, sohobaser doa arbi, stri sohobaser doya, sohobaser poddoti, sohobaser duya, sohobaser niyom, stri sohobaser dua bangla, sohobaser islamic niom, stri sohobaser dowa, sohobaser sothik somoy, duaa sohobaser doa, sohobaser doa bangla, sohobaser niom bangla, sohobaser nisiddho somoy, stri sohobaser niom

স্ত্রী সহবাসের দোয়া ও স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম

সহবাসের দোয়া – Dhaka Post

স্ত্রী সহবাসের দোয়া – Jagonews24

জেনে নিন স্ত্রী সহবাসের দোয়া ও বেশ কিছু নিয়ম – BVNEWS24

সহবাসের দোয়া ও নিয়ম কানুন বাংলায় – প্রবাসীর দিগন্ত

সহবাসের দোয়া ও দোয়ার ফজিলত এবং স্ত্রী সহবাসের কিছু নিয়ম কানুন

স্বামী-স্ত্রী মিলনের আগে দোয়া পড়বেন কেন? – Jagonews24

ইসলামে স্বামী-স্ত্রী সহবাসের নিয়ম ও পদ্ধতি | BD Tweet

স্বামী-স্ত্রী সহবাস এর দোয়া, সহবাসের ইসলামিক নিয়ম ও কিছু

শারীরিক মিলনের যে নিয়ম ইসলামে নিষিদ্ধ ! – ডেইলি বাংলাদেশ

1 thought on “স্ত্রী সহবাসের দোয়া ও ইসলামিক নিয়ম. Sohobaser Doa”

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।