ইমাম মালেক তালাক অধ্যায় ১ম ভাগ হাদিস নং ১১৪০ – ১১৯০

পরিচ্ছেদ ১

আল-বাত্তা [১] তালাকের বর্ণনা

[১] স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটে এমন তালাক দেয়াকে তালাক-ই-আল-বাত্তা বলা হয়।

১১৪০

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِعَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ إِنِّي طَلَّقْتُ امْرَأَتِي مِائَةَ تَطْلِيقَةٍ فَمَاذَا تَرَى عَلَيَّ فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ طَلُقَتْ مِنْكَ لِثَلَاثٍ وَسَبْعٌ وَتِسْعُونَ اتَّخَذْتَ بِهَا آيَاتِ اللهِ هُزُوًا.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি ইবন আব্বাস (রা)-এর নিকট বলল : আমি আমার স্ত্রীকে একশত তালাক দিয়েছি। আমার সম্পর্কে এ বিষয়ে আপনার কি অভিমত ? ইবনু আব্বাস (রা) তাকে বললেন : তিন তালাক দ্বারা তুমি তোমার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছ। অবশিষ্ট সাতান্নব্বই তালাক দ্বারা তুমি আল্লাহর আয়াত বিদ্রপ করেছ। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৪১

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلًا جَاءَ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَقَالَ إِنِّي طَلَّقْتُ امْرَأَتِي ثَمَانِيَ تَطْلِيقَاتٍ فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ فَمَاذَا قِيلَ لَكَ قَالَ قِيلَ لِي إِنَّهَا قَدْ بَانَتْ مِنِّي فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ صَدَقُوا مَنْ طَلَّقَ كَمَا أَمَرَهُ اللهُ فَقَدْ بَيَّنَ اللهُ لَهُ وَمَنْ لَبَسَ عَلَى نَفْسِهِ لَبْسًا جَعَلْنَا لَبْسَهُ مُلْصَقًا بِهِ لَا تَلْبِسُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ وَنَتَحَمَّلُهُ عَنْكُمْ هُوَ كَمَا يَقُولُوْنَ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ (রা)-এর নিকট এসে বলল : আমি আমার স্ত্রীকে দুইশত তালাক দিয়েছি। ইবনু মাসঊদ (রা) বললেন : তোমাকে কি বলা হয়েছে? সে বলল : আমাকে জানান হয়েছে যে, আমার স্ত্রী আমার নিকট হতে পৃথক হয়ে গিয়েছে। ইবনু মাসঊদ (রা) বললেন : মুফতীগণ ঠিকই বলেছেন। যে আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক তালাক প্রদান করে তার হুকুম আল্লাহ বর্ণনা করেছেন। আর যে ব্যক্তি নিজের প্রতি কোন প্রকার সন্দেহজনক আচরণ করে আমরা তার সন্দেহ তার উপরই আরোপ করব। তোমরা নিজেদের প্রতি সন্দেহজনক আচরণ করো না, যাতে তোমাদের জন্য আমাদের বিপদে পড়তে হয়। মুফতীগণ যা বলেছেন তাই ফতওয়া (সিদ্ধান্ত)। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৪২

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ لَهُ الْبَتَّةُ مَا يَقُولُ النَّاسُ فِيهَا قَالَ أَبُو بَكْرٍ فَقُلْتُ لَهُ كَانَ أَبَانُ بْنُ عُثْمَانَ يَجْعَلُهَا وَاحِدَةً فَقَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ لَوْ كَانَ الطَّلَاقُ أَلْفًا مَا أَبْقَتْ الْبَتَّةُ مِنْهَا شَيْئًا مَنْ قَالَ الْبَتَّةَ فَقَدْ رَمَى الْغَايَةَ الْقُصْوَى.

আবূ বাকর ইবউ হাযম (র) থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইবনু আবদুল ‘আযীয (র) তালাক-ই আল-বাত্তা সম্পর্কে লোকে কি বলে। [অর্থাৎ সাহাবা ও তাঁদের পরবর্তী উলামাগণের এ বিষয়ে কি অভিমত?] ইহা আবূ বাকর ইবন হাযমের কাছে জানতে চাইলে আবূ বাকর বললেন : আবান ইবউ উসমান উহাকে এক তালাক গণ্য করতেন। ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয বললেন : তিনের পরিবর্তে তালাক এক হাজার হলেও তালাক-ই আল-বাত্তা উহার একটিও অবশিষ্ট রাখবে না। যে ব্যক্তি আল-বাত্তা বলল, সে শেষ সীমানায় তীর নিক্ষেপ করল। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৪৩

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ كَانَ يَقْضِي فِي الَّذِي يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ أَنَّهَا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ.

ইবনু শিহাব (র) থেকে বর্ণিতঃ

কেউ নিজের স্ত্রীকে তালাক-ই আল-বাত্তা দিলে মারওয়ান ইবনু হাকাম (র) উহাতে তিন তালাক হয়েছে বলে ফতওয়া দিতেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন : এই বিষয়ে যা আমি শুনেছি তন্মধ্যে এটাই আমার কাছে পছন্দীয়।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদ ২

খালিয়্যা, বারিয়্যা এবং অনুরূপ অন্যান্য কিনায়া তালাকের জন্য প্রযোজ্য শব্দসমূহের বর্ণনা

১১৪৪

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّهُ كُتِبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ مِنْ الْعِرَاقِ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِامْرَأَتِهِ حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ فَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِلَى عَامِلِهِ أَنْ مُرْهُ يُوَافِينِي بِمَكَّةَ فِي الْمَوْسِمِ فَبَيْنَمَا عُمَرُ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ إِذْ لَقِيَهُ الرَّجُلُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَالَ عُمَرُ مَنْ أَنْتَ فَقَالَ أَنَا الَّذِي أَمَرْتَ أَنْ أُجْلَبَ عَلَيْكَ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَسْأَلُكَ بِرَبِّ هَذِهِ الْبَنِيَّةِ مَا أَرَدْتَ بِقَوْلِكَ حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ لَوْ اسْتَحْلَفْتَنِي فِي غَيْرِ هَذَا الْمَكَانِ مَا صَدَقْتُكَ أَرَدْتُ بِذَلِكَ الْفِرَاقَ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ هُوَ مَا أَرَدْتَ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

ইরাক হতে ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-এর নিকট লেখা হল যে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলেছে حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ [তোমার রজ্জু তোমার ঘাড়ে] ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রা) তার নিযুক্ত ইরাকের প্রশাসকের নিকট পত্র লিখলেন হজ্জ মওসুমে সে ব্যক্তিকে আমার সাথে মিলিত হতে নির্দেশ দাও। উমার যখন বায়তুল্লাহর তওয়াফ করেছিলেন তখন এক ব্যক্তি তাঁর সম্মুখে এসে সালাম করল। ‘উমার বললেন, তুমি কে? সে ব্যক্তি বলল, আমি সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তিকে আপনার নিকট (হজ্জ মওসুমে) উপস্থিত হতে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। তারপর ‘উমার (রা) বললেন, এই (পবিত্র কাবা) গৃহের মালিকের কসম দিয়ে তোমাকে আমি প্রশ্ন করছি যে, তুমি তোমার সেই বক্তব্য حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ হবে এর দ্বারা কি উদ্দেশ্য করেছ? সেই ব্যক্তি বলল, এই স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও আপনি আমাকে হলফ করালে আমি সত্য কথা বলতাম না। আমি (এই বক্তব্য দ্বারা স্ত্রীকে) বিদায় (দেয়া)-এর নিয়্যত করেছি। ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বললেন, তুমি যা নিয়্যত করেছ তাই। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৪৫

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ كَانَ يَقُولُ فِي الرَّجُلِ يَقُولُ لِامْرَأَتِهِ أَنْتِ عَلَيَّ حَرَامٌ إِنَّهَا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে “তুমি আমার জন্য হারাম” এরূপ বলেছে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আলী ইবনু আবি তালিব (রা) বলেছেন যে, উহা তিন তালাক গণ্য হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন : এ বিষয়ে আমি যা শুনেছি তন্মধ্যে এটাই উত্তম।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৪৬

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُولُ فِي الْخَلِيَّةِ وَالْبَرِيَّةِ إِنَّهَا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا.

নাফি’ থেকে বর্ণিতঃ

বারিয়্যা এবং খালিয়্যা উভয় শব্দের প্রত্যেকটির দ্বারা তিন তালাক প্রযোজ্য হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৪৭

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّ رَجُلًا كَانَتْ تَحْتَهُ وَلِيدَةٌ لِقَوْمٍ فَقَالَ لِأَهْلِهَا شَأْنَكُمْ بِهَا فَرَأَى النَّاسُ أَنَّهَا تَطْلِيقَةٌ وَاحِدَةٌ.

কাসিম ইবনু মুহাম্মদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

কোন এক গোত্রের দাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিল। সে ব্যক্তি উক্ত দাসীর অভিভাবকদের বলল : আপনারা তার দায়িত্বভার গ্রহণ করুন। এটা দ্বারা লোকেরা এক তালাক প্রদান করেছে বলে অনুমান করলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৪৮

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ شِهَابٍ يَقُولُ فِي الرَّجُلِ يَقُولُ لِامْرَأَتِهِ بَرِئْتِ مِنِّي وَبَرِئْتُ مِنْكِ إِنَّهَا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ بِمَنْزِلَةِ الْبَتَّةِ. قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَقُولُ لِامْرَأَتِهِ أَنْتِ خَلِيَّةٌ أَوْ بَرِيَّةٌ أَوْ بَائِنَةٌ إِنَّهَا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ لِلْمَرْأَةِ الَّتِي قَدْ دَخَلَ بِهَا وَيُدَيَّنُ فِي الَّتِي لَمْ يَدْخُلْ بِهَا أَوَاحِدَةً أَرَادَ أَمْ ثَلَاثًا فَإِنْ قَالَ وَاحِدَةً أُحْلِفَ عَلَى ذَلِكَ وَكَانَ خَاطِبًا مِنْ الْخُطَّابِ لِأَنَّهُ لَا يُخْلِي الْمَرْأَةَ الَّتِي قَدْ دَخَلَ بِهَا زَوْجُهَا وَلَا يُبِينُهَا وَلَا يُبْرِيهَا إِلَّا ثَلَاثُ تَطْلِيقَاتٍ وَالَّتِي لَمْ يَدْخُلْ بِهَا تُخْلِيهَا وَتُبْرِيهَا وَتُبِينُهَا الْوَاحِدَةُ قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ইবন শিহাব (র)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল : “আমি তোমার হতে দায়িত্বমুক্ত হয়েছি। তুমিও আমার হতে দায়িত্বমুক্ত।” এটা দ্বারা তালাক-ই আল-বাত্তা-এর মতো তিন তালাক প্রযোজ্য হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে বলল : “তুমি দায়িত্বমুক্ত” “তুমি আমা হতে পৃথক”। মালিক (র) বলেন : সে স্ত্রী যার সাথে সহবাস করা হয়েছে এরূপ হলে তবে তার স্বামীর উপরিউক্ত বাক্যগুলোর দ্বারা তার উপর তিন তালাক বর্তাবে। আর যদি স্ত্রী এমন হয় যার সাথে সহবাস করা হয়নি, তবে ধর্মত স্বামীকে বিশ্বাস করা হবে এবং তার কাছে জিজ্ঞেস করা হবে সে উপরিউক্ত বাক্যগুলো দ্বার এক তালাক উদ্দেশ্য করেছে, না তিন তালাক। যদি সে এক তালাক উদ্দেশ্য করেছে বলে প্রকাশ করে তা হলে এই বিষয়ে সেই ব্যক্তিকে হলফ দেয়া হবে। (যেহেতু স্বামীর উক্তির দ্বারা স্ত্রীর প্রতি এক তালাক বায়েন প্রযোজ্য হয়েছে, তাই পুনর্বিবাহ ছাড়া স্বামী সেই স্ত্রীকে গ্রহণ করতে পারবে না) তাই সে বিবাহের প্রস্তাবকারী হিসেবে অন্য লোকদের মতো একজন বলে গণ্য হবে। এর কারণ এই যে, যে স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করা হয়েছে সে স্ত্রী তিন তালাক ছাড়া দায়িত্বমুক্ত বা স্বামী হতে পৃথক হবে না। আর যার সাথে সঙ্গম হয়নি সে স্ত্রী এক তালাক দ্বারা দায়িত্বমুক্ত ও পৃথক হয়ে যায়।

মালিক (র) বলেছেন : এ বিষয়ে যা আমি শুনেছি তন্মধ্যে এটাই আমার কাছে উত্তম।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদ ৩

স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদানের বর্ণনা

১১৪৯

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلًا جَاءَ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنِّي جَعَلْتُ أَمْرَ امْرَأَتِي فِي يَدِهَا فَطَلَّقَتْ نَفْسَهَا فَمَاذَا تَرَى فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ أُرَاهُ كَمَا قَالَتْ، فَقَالَ الرَّجُلُ لَا تَفْعَلْ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ أَنَا أَفْعَلُ أَنْتَ فَعَلْتَهُ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তাঁর কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ্ ইবন উমার (রা)-এর কাছে এসে বলল : হে আবূ আবদুর রহমান! আমি আমার স্ত্রীর হস্তে তার অধিকার ন্যস্ত করেছি। সে নিজকে তালাক প্রদান করেছে : এই বিষয়ে আপনার কি অভিমত? ইবনু ‘উমার (রা) বললেন : আমার মতে যেমন বলেছে তেমন হবে। সে ব্যক্তি বলল : হে আবূ আবদুর রহমান! এরূপ করবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

ইবনু উমার বললেন : আমি করিতেছি, না তুমি করেছ (অর্থাৎ স্ত্রীর হাতে ক্ষমতা প্রদান করলে কেন)?

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৫০

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُوْلُ: إِذَا مَلَّكَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ أَمْرَهَا فَالْقَضَاءُ مَا قَضَتْ بِهِ إِلَّا أَنْ يُنْكِرَ عَلَيْهَا وَيَقُولُ لَمْ أُرِدْ إِلَّا وَاحِدَةً فَيَحْلِفُ عَلَى ذَلِكَ وَيَكُونُ أَمْلَكَ بِهَا مَا كَانَتْ فِي عِدَّتِهَا.

নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আব্দুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) বলতেন : যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে (তালাকের) ক্ষমতা প্রদান করে তবে (এক বা একাধিক তালাকের ব্যাপারে) স্ত্রীর ফয়সালাই ফয়সালা। হ্যাঁ, সে যদি উহা অস্বীকার করে এবং বলে, আমি এক তালাক ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য করিনি এবং সেই মতে সে হলফ করেও বলে, তবে ইদ্দতের সময়ের মধ্যে স্ত্রীর অধিকার বিবেচিত হবে স্বামী (অর্থাৎ ইচ্ছা করলে স্বামী স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারবে)। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদ ৪

যে অধিকার প্রদানে এক তালাক ওয়াজিব হয়

১১৫১

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ سَعِيدِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا عِنْدَ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فَأَتَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَتِيقٍ وَعَيْنَاهُ تَدْمَعَانِ فَقَالَ لَهُ زَيْدٌ مَا شَأْنُكَ فَقَالَ مَلَّكْتُ امْرَأَتِي أَمْرَهَا فَفَارَقَتْنِي فَقَالَ لَهُ زَيْدٌ مَا حَمَلَكَ عَلَى ذَلِكَ قَالَ الْقَدَرُ فَقَالَ زَيْدٌ ارْتَجِعْهَا إِنْ شِئْتَ فَإِنَّمَا هِيَ وَاحِدَةٌ وَأَنْتَ أَمْلَكُ بِهَا.

খারিজা ইবনু যায়দ ইবনু সাবিত (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি যায়দ ইবনু সাবিত (রা)-এর কাছে বসা ছিলেন। এই সময় তার কাছে মুহাম্মাদ ইবনু আবী আতীক এলেন। তার চক্ষুদ্বয় অশ্র“সিক্ত ছিল, যায়দ তাঁর উদ্দেশ্যে বললেন : তোমার ব্যাপার কি? তিনি বললেন : আমার স্ত্রীকে আমি ক্ষমতা প্রদান করেছিলাম। সে আমাকে পরিত্যাগ করেছে। যায়দ বললেন : এইরূপ ক্ষমতা কি জন্য প্রদান করলে? তিনি বললেন : তকদীর। যায়দ বললেন : তুমি স্ত্রীর দিকে প্রত্যাবর্তন কর যদি তোমার ইচ্ছা হয়, কারণ উহা এক তালাক মাত্র। তুমি সেই স্ত্রীর অধিক হকদার। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

১১৫২

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَجُلًا مِنْ ثَقِيفٍ مَلَّكَ امْرَأَتَهُ أَمْرَهَا فَقَالَتْ أَنْتَ الطَّلَاقُ فَسَكَتَ ثُمَّ قَالَتْ أَنْتَ الطَّلَاقُ فَقَالَ بِفِيكِ الْحَجَرُ ثُمَّ قَالَتْ أَنْتَ الطَّلَاقُ فَقَالَ بِفَاكِ الْحَجَرُ فَاخْتَصَمَا إِلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ فَاسْتَحْلَفَهُ مَا مَلَّكَهَا إِلَّا وَاحِدَةً وَرَدَّهَا إِلَيْهِ قَالَ مَالِك قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَكَانَ الْقَاسِمُ يُعْجِبُهُ هَذَا الْقَضَاءُ وَيَرَاهُ أَحْسَنَ مَا سَمِعَ فِي ذَلِكَ قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ وَأَحَبُّهُ إِلَيَّ.

কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ ইবন আবী বাকর (র) থেকে বর্ণিতঃ

সাকীফ গোত্রের এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে (তালাকের) ক্ষমতা প্রদান করল। সেই স্ত্রী বলল : তোমাকে তালাক। স্বামী চুপ রইল। স্ত্রী পুনরায় বলল : তোমাকে তালাক। সে ব্যক্তি বলল : তোমার মুখে প্রস্তর (পতিত হোক)। স্ত্রী পুনরায় বলল : তোমাকে তালাক। সে বলল : তোমার মুখে পাথর। উভয়ে বিচার প্রার্থী হয়ে মারওয়ান ইবন হাকামের কাছে উপস্থিত হল। মারওয়ান স্বামীর নিকট হতে এই বিষয়ে হলফ তলব করল যে, সে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রয়োগের দ্বারা এক তালাক ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য করেনি। অতঃপর স্ত্রীকে তার কাছে ফিরিয়ে দিলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন : ‘আবদুর রহমান (র) বলেছেন : কাসিম (র) এই ফয়সালা খুব পছন্দ করতেন এবং এই বিষয়ে যা শুনেছেন তন্মধ্যে এটাকে উত্তম বলে গণ্য করতেন।

মালিক (র) বলেন : আমি এই বিষয়ে যা শুনেছি তন্মধ্যে এটাই সর্বোত্তম এবং আমার নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদ ৫

যে ক্ষমতা প্রদান তালাকের কারণ হয় না তার বর্ণনা

১১৫৩

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ أَنَّهَا خَطَبَتْ عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ قَرِيبَةَ بِنْتَ أَبِي أُمَيَّةَ فَزَوَّجُوهُ ثُمَّ إِنَّهُمْ عَتَبُوا عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَقَالُوا مَا زَوَّجْنَا إِلَّا عَائِشَةَ فَأَرْسَلَتْ عَائِشَةُ إِلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَجَعَلَ أَمْرَ قَرِيبَةَ بِيَدِهَا فَاخْتَارَتْ زَوْجَهَا فَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ طَلَاقًا.

কাসিম ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবী বাকর (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আয়িশা (রা) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবদুর রহমান ইবনু আবী বাকর (রা)-এর জন্য কুরায়যা বিনত আবী উমাইয়ার বিবাহের প্রস্তাব করলেন, (কন্যা কর্তৃপক্ষ) তাঁর কাছে বিবাহ দিলেন। তারপর (কোন কারণে) তাঁরা আবদুর রহমানের উপর অসন্তুষ্ট হলেন [১] এবং তারা বললেন : আমরা আয়িশা (রা)-এর কারণে বিবাহে সম্মত হয়েছি। ‘আয়িশা (রা) আবদুর রহমানের কাছে লোক প্রেরণ করলেন এবং তাদের বক্তব্য অবহিত করলেন। আবদুর রহমান কুরায়যার বিষয় কুরায়যার উপর ন্যস্ত করলেন। কুরায়যা (রা) তাঁর স্বামীকে গ্রহণ করলেন। [২] ইহা তালাক বলে গণ্য হল না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রা) রূঢ় প্রকৃতির ছিলেন। একদিন কোন বিষয়ে তাঁর স্ত্রী অসন্তুষ্ট হয়ে বললেনঃ আপনার সম্পর্কে আমাকে পূর্বেই সতর্ক করা হয়েছিল। -আওজাযুল মাসালিক

[২] অর্থাৎ আবদুর রহমান (রা) কুরায়যা (রা)-কে তাঁর নিকট থাকা না থাকার অধিকার প্রদান করলেন। উত্তরে কুরায়যা (রা) বললেনঃ আমি আবূ বাকর (রা)-এর পুত্রকে ত্যাগ করব না। -আওজাযুল মাসালিক

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

১১৫৪

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَوَّجَتْ حَفْصَةَ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُنْذِرَ بْنَ الزُّبَيْرِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ غَائِبٌ بِالشَّامِ فَلَمَّا قَدِمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَ وَمِثْلِي يُصْنَعُ هَذَا بِهِ وَمِثْلِي يُفْتَاتُ عَلَيْهِ فَكَلَّمَتْ عَائِشَةُ الْمُنْذِرَ بْنَ الزُّبَيْرِ فَقَالَ الْمُنْذِرُ فَإِنَّ ذَلِكَ بِيَدِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ مَا كُنْتُ لِأَرُدَّ أَمْرًا قَضَيْتِهِ فَقَرَّتْ حَفْصَةُ عِنْدَ الْمُنْذِرِ وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ طَلَاقًا.

আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুর রহমানের কন্যা হাফসাকে মুনযির ইবনু যুবায়র-এর নিকট বিবাহ দিলেন। আবদুর রহমান ছিলেন তখন সিরিয়াতে (তিনি তাই এই বিবাহে অনুপস্থিত ছিলেন)। আবদুর রহমান যখন সিরিয়া হতে প্রত্যাবর্তন করলেন (এবং এই বিবাহের সংবাদ অবগত হলেন) তিনি বললেন : আমার মতো লোকের সাথে ইহা করা হল, আমার ব্যাপারে আমাকে উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হল। অতঃপর আয়িশা (রা) মুনযির ইবনু যুবায়র-এর সাথে আলোচনা করলেন। মুনযির বললেন : আবদুর রহমানের হাতেই এর (এই বিবাহ বহাল রাখা না রাখার) ক্ষমতা রয়েছে। আবদুর রহমান বললেন : যে ব্যাপারে আপনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন আমি তাকে পরিবর্তন করব না, তাই হাফসা মুনযিরের কাছেই রইলেন এবং ইহা তালাক বলে গণ্য হয়নি। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

১১৫৫

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ وَأَبَا هُرَيْرَةَ سُئِلَا عَنْ الرَّجُلِ يُمَلِّكُ امْرَأَتَهُ أَمْرَهَا فَتَرُدُّ بِذَلِكَ إِلَيْهِ وَلَا تَقْضِي فِيهِ شَيْئًا فَقَالَا لَيْسَ ذَلِكَ بِطَلَاقٍ ১৭و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ إِذَا مَلَّكَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ أَمْرَهَا فَلَمْ تُفَارِقْهُ وَقَرَّتْ عِنْدَهُ فَلَيْسَ ذَلِكَ بِطَلَاقٍ ২قَالَ مَالِك فِي الْمُمَلَّكَةِ إِذَا مَلَّكَهَا زَوْجُهَا أَمْرَهَا ثُمَّ افْتَرَقَا وَلَمْ تَقْبَلْ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَلَيْسَ بِيَدِهَا مِنْ ذَلِكَ شَيْءٌ وَهُوَ لَهَا مَا دَامَا فِي مَجْلِسِهِمَا.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তার কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, আব্দুল্লাহ্ ইবনু উমার এবং আবূ হুরায়রা (রা)-কে প্রশ্ন করা হল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি স্ত্রীকে তার নিজের বিষয়ে ইখতিয়ার দিয়েছে। স্ত্রী উক্ত ক্ষমতা স্বামীর দিকে ফিরিয়ে দিয়েছে এবং এই ব্যাপারে নিজে ক্ষমতা প্রয়োগ করেনি। (এটার কি হুকুম) তাঁরা উভয়ে বললেন, ইহা তালাক নয়। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

সা’ঈদ ইবনু মুসায়্যিব (র) বলেন : কোন ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে তার (বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যাপারে) ক্ষমতা প্রদান করলে সে যদি স্বামীকে ত্যাগ না করে এবং তার স্ত্রীরূপে বহাল থাকে, তবে এটা তালাক বলে গণ্য হবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন : যেই স্ত্রীলোকের প্রতি তার স্বামী ক্ষমতা অর্পণ করল, অতঃপর তারা উভয়ে মজলিস ত্যাগ করে পৃথক হয়ে গেল। স্ত্রী সেই ক্ষমতা গ্রহণ করেনি। তবে সেই স্ত্রীর হাতে আর কোন ক্ষমতা থাকবে না। তার হাতে ততক্ষণ ক্ষমতা থাকবে যতক্ষণ তারা সেই মসজিস ত্যাগ না করে।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদ ৬

স্ত্রীর সাথে মিলিত হবে না বলে শপথ করলে তার কি হুকুম

১১৫৬

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُوْلُ: إِذَا آلَى الرَّجُلُ مِنْ امْرَأَتِهِ لَمْ يَقَعْ عَلَيْهِ طَلَاقٌ وَإِنْ مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ حَتَّى يُوقَفَ فَإِمَّا أَنْ يُطَلِّقَ وَإِمَّا أَنْ يَفِيءَ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا.

আলী ইবনু আবী তালিব (রা) থেকে বর্ণিতঃ

কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর ব্যাপারে ‘ঈলা’ করলে উহাতে তালাক হবে না। যদি ঈলার পর চার মাস অতিবাহিত হয় (সে কিছু না করে), তবে তাকে বন্দী করা হবে, হয়ত সে তালাক দিবে নতুবা ঈলা হতে ফিরে আসবে (অর্থাৎ স্ত্রীকে গ্রহণ করে কসমের কাফ্ফারা দিবে)। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন, আমাদের কাছে এটাই সিদ্ধান্ত।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৫৭

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُوْلُ: أَيُّمَا رَجُلٍ آلَى مِنْ امْرَأَتِهِ فَإِنَّهُ إِذَا مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ وُقِفَ حَتَّى يُطَلِّقَ أَوْ يَفِيءَ وَلَا يَقَعُ عَلَيْهِ طَلَاقٌ إِذَا مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ حَتَّى يُوْقَفَ.

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ وَأَبَا بَكْرِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ كَانَا يَقُولَانِ فِي الرَّجُلِ يُولِي مِنْ امْرَأَتِهِ إِنَّهَا إِذَا مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ فَهِيَ تَطْلِيقَةٌ وَلِزَوْجِهَا عَلَيْهَا الرَّجْعَةُ مَا كَانَتْ فِي الْعِدَّةِ.

আব্দুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) থেকে বর্ণিতঃ

কেউ স্ত্রীর সাথে ‘ঈলা’ করলে তবে চার মাস অতিবাহিত হলে তাকে বন্দী করা হবে, যাবৎ তালাক না দেয় অথবা কসম ভঙ্গ করে কাফফারা আদায় করে স্ত্রীকে গ্রহণ করবে। চার মাস অতিবাহিত হলে তাকে বন্দী না করা পর্যন্ত তালাক প্রযোজ্য হবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

ইবনু শিহাব (র) হতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনু মুসায়্যিব এবং আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর (রা) তারা উভয়ে বলতেন : যে ব্যাক্তি স্ত্রীর সাথে ঈলা করেছে, চার মাস অতিবাহিত হলে তা এক তালাক গণ্য হবে। ইদ্দতের ভিতর সে ব্যক্তি স্ত্রীর দিকে রুজূ ‘(উহাকে গ্রহণ) করতে পারবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

১১৫৮

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ كَانَ يَقْضِي فِي الرَّجُلِ إِذَا آلَى مِنْ امْرَأَتِهِ أَنَّهَا إِذَا مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ فَهِيَ تَطْلِيقَةٌ وَلَهُ عَلَيْهَا الرَّجْعَةُ مَا دَامَتْ فِي عِدَّتِهَا قَالَ مَالِك وَعَلَى ذَلِكَ كَانَ رَأْيُ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُولِي مِنْ امْرَأَتِهِ فَيُوقَفُ فَيُطَلِّقُ عِنْدَ انْقِضَاءِ الْأَرْبَعَةِ الْأَشْهُرِ ثُمَّ يُرَاجِعُ امْرَأَتَهُ أَنَّهُ إِنْ لَمْ يُصِبْهَا حَتَّى تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا فَلَا سَبِيلَ لَهُ إِلَيْهَا وَلَا رَجْعَةَ لَهُ عَلَيْهَا إِلَّا أَنْ يَكُونَ لَهُ عُذْرٌ مِنْ مَرَضٍ أَوْ سِجْنٍ أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ مِنْ الْعُذْرِ فَإِنَّ ارْتِجَاعَهُ إِيَّاهَا ثَابِتٌ عَلَيْهَا فَإِنْ مَضَتْ عِدَّتُهَا ثُمَّ تَزَوَّجَهَا بَعْدَ ذَلِكَ فَإِنَّهُ إِنْ لَمْ يُصِبْهَا حَتَّى تَنْقَضِيَ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ وُقِفَ أَيْضًا فَإِنْ لَمْ يَفِئْ دَخَلَ عَلَيْهِ الطَّلَاقُ بِالْإِيلَاءِ الْأَوَّلِ إِذَا مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ عَلَيْهَا رَجْعَةٌ لِأَنَّهُ نَكَحَهَا ثُمَّ طَلَّقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا فَلَا عِدَّةَ لَهُ عَلَيْهَا وَلَا رَجْعَةَ.

قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُولِي مِنْ امْرَأَتِهِ فَيُوقَفُ بَعْدَ الْأَرْبَعَةِ الْأَشْهُرِ فَيُطَلِّقُ ثُمَّ يَرْتَجِعُ وَلَا يَمَسُّهَا فَتَنْقَضِي أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ قَبْلَ أَنْ تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا إِنَّهُ لَا يُوقَفُ وَلَا يَقَعُ عَلَيْهِ طَلَاقٌ وَإِنَّهُ إِنْ أَصَابَهَا قَبْلَ أَنْ تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا كَانَ أَحَقَّ بِهَا وَإِنْ مَضَتْ عِدَّتُهَا قَبْلَ أَنْ يُصِيبَهَا فَلَا سَبِيلَ لَهُ إِلَيْهَا وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ.

قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُولِي مِنْ امْرَأَتِهِ ثُمَّ يُطَلِّقُهَا فَتَنْقَضِي الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ قَبْلَ انْقِضَاءِ عِدَّةِ الطَّلَاقِ قَالَ هُمَا تَطْلِيقَتَانِ إِنْ هُوَ وُقِفَ وَلَمْ يَفِئْ وَإِنْ مَضَتْ عِدَّةُ الطَّلَاقِ قَبْلَ الْأَرْبَعَةِ الْأَشْهُرِ فَلَيْسَ الْإِيلَاءُ بِطَلَاقٍ وَذَلِكَ أَنَّ الْأَرْبَعَةَ الْأَشْهُرِ الَّتِي كَانَتْ تُوقَفُ بَعْدَهَا مَضَتْ وَلَيْسَتْ لَهُ يَوْمَئِذٍ بِامْرَأَةٍ.

قَالَ مَالِك وَمَنْ حَلَفَ أَنْ لَا يَطَأَ امْرَأَتَهُ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا ثُمَّ مَكَثَ حَتَّى يَنْقَضِيَ أَكْثَرُ مِنْ الْأَرْبَعَةِ الْأَشْهُرِ فَلَا يَكُونُ ذَلِكَ إِيلَاءً وَإِنَّمَا يُوقَفُ فِي الْإِيلَاءِ مَنْ حَلَفَ عَلَى أَكْثَرَ مِنْ الْأَرْبَعَةِ الْأَشْهُرِ فَأَمَّا مَنْ حَلَفَ أَنْ لَا يَطَأَ امْرَأَتَهُ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ أَوْ أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ فَلَا أَرَى عَلَيْهِ إِيلَاءً لِأَنَّهُ إِذَا دَخَلَ الْأَجَلُ الَّذِي يُوقَفُ عِنْدَهُ خَرَجَ مِنْ يَمِينِهِ وَلَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ وَقْفٌ قَالَ مَالِك مَنْ حَلَفَ لِامْرَأَتِهِ أَنْ لَا يَطَأَهَا حَتَّى تَفْطِمَ وَلَدَهَا فَإِنَّ ذَلِكَ لَا يَكُونُ إِيلَاءً وَقَدْ بَلَغَنِي أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ سُئِلَ عَنْ ذَلِكَ فَلَمْ يَرَهُ إِيلَاءً.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

মারওয়ান ইবনু হাকাম (র) ফয়সালা দিতেন, যে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে ‘ঈলা’ করেছে, তবে চার মাস অতিবাহিত হলে তা এক তালাক বলে গণ্য হবে। ইদ্দতের ভিতর স্ত্রীর দিকে রুজূ করার ইখতিয়ার স্বামীর থাকবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন : ইবনু শিহাব (যুহরী)-এর অভিমতও অনুরূপ ছিল।

মালিক (র) বলেন : স্ত্রীর সাথে কোন লোক ‘ঈলা’ করলে তাকে বাধ্য করা হবে। চার মাস অতিবাহিত হলে সে স্ত্রীকে তালাক দিবে। অতঃপর যে রুজু করবে, তবে সে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে মিলিত না হলে এবং এইরূপে ইদ্দত খতম হয়ে গেলে সে আর রুজু করতে পারবে না। হ্যাঁ, যদি তার কোন ওযর থাকে, (যেমন) বন্দী থাকা, রোগ বা অনুরূপ অন্য কোন ‘ওযর, তবে (মৌখিকভাবে) তা রুজূ গ্রহণযোগ্য হবে। আর যদি ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর সে পুনরায় সেই স্ত্রীকে বিবাহ করে তাবে যদি সে স্ত্রীর সাথে মিলিত না হয় এবং সেই অবস্থায় চার মাস অতিবাহিত হয় তবে তাকে বাধ্য করা হবে। সে স্ত্রীর দিকে প্রত্যাবর্তন না করলে প্রথম ‘ঈলা’-র দ্বারা স্ত্রীর উপর তালাক প্রযোজ্য হবে না। চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পর আর স্ত্রীর দিকে রুজূ‘ করার ক্ষমতাও তার থাকবে না। কারণ সে বিবাহ করেছে এবং সহবাসের পূর্বে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে, এরূপ অবস্থাতে ইদ্দতও নাই এবং রুজূ‘র অধিকারও থাকবে না।

মালিক (র) বলেন : যে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে ‘ঈলা’ করেছে, চার মাসের পর সে ব্যক্তিকে বাধ্য করা হবে। সে তালাক প্রদান করবে অতঃপর রুজূ‘ করবে, কিন্তু (রুজূ‘করার পর) স্ত্রীর সাথে সঙ্গম না করলে তালাক প্রযোজ্য হবে না। আর যদি ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় তবে সে সেই স্ত্রীর (দিকে রুজূ‘করার) অধিক হকদার হবে। আর যদি মিলিত হওয়ার পূর্বে ইদ্দত শেষ হয়ে যায় তবে সেই স্ত্রীকে রাখার কোন ইখতিয়ার তার নেই।

মালিক (র) বলেন, এটাই উত্তম, যা আমি এই বিষয়ে শুনেছি।

মালিক (র) বলেন : যে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে ‘ঈলা’ করে, অতঃপর স্ত্রীকে তালাক প্রদান করে, তারপর তালাকের ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে চারমাস অতিবাহিত হয়, মালিক (র) বলেন : তখন যদি সে ঈলার উপর স্থির থাকে এবং প্রত্যাবর্তন না করে তবে এটা দুই তালাক বলে গণ্য হবে। আর যদি চারমাস অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে তালাকের ইদ্দত খতম হয়ে যায়, তবে ‘ঈলা’ তালাক বলে গণ্য হবে না। কারণ, যে চারমাস অতিবাহিত হওয়ার পর তাকে বাধ্য করা হতে সেই চারমাস (সময়) অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় সে আর তার স্ত্রী রইল না।

মালিক (র) বলেন : যে ব্যক্তি একদিন অথবা একমাস স্ত্রীর সাথে বসবাস করবে না বলে হলফ করল, অতঃপর চার মাসের অধিক সময় এভাবে অতিবাহিত হল, তবে ইহা ঈলা বলে গণ্য হবে না। কারণ, চার মাসের অধিক সময় স্ত্রীর সাথে সহবাস করবে না বলে হলফ করাকে ঈলা গণ্য করা হয়। আর যে ব্যক্তি চারমাস অথবা ইহা হতে কম সময়ের জন্য হলফ করে আমি তাকে ঈলা বলে মনে করি না। কারণ, সে সময় অতিবাহিত হওয়ার পর, স্বামীকে বাধ্য করার নিয়ম রয়েছে তা অতিক্রম করার পূর্বে সে তার শপথ হতে বের হয়ে আসবে তখন তাকে আর বাধ্য করা যাবে না।

মালিক (র) বলেন : বাচ্চার দুধ না ছাড়ান পর্যন্ত স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করবে বলে হলফ করলে তা ‘ঈলা’ বলে গণ্য হবে না।

মালিক (র) বলেন : আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, আলী ইবনু আবী তালীব (রা)-কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি এটা ‘ঈলা’ নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদ ৭

ক্রীতদাসের ‘ঈলা’

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ إِيلَاءِ الْعَبْدِ فَقَالَ هُوَ نَحْوُ إِيلَاءِ الْحُرِّ وَهُوَ عَلَيْهِ وَاجِبٌ وَإِيلَاءُ الْعَبْدِ شَهْرَانِ.

মালিক (র) ইবনু শিহাব (র)-এর নিকট ক্রীতদাসের ঈলা সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছেন, তিনি বললেন : ক্রীতদাসের ‘ঈলা’ স্বাধীন ব্যক্তির ঈলার মতো। সেই ঈলা তার উপর ওয়াজিব হবে। আর ক্রীতদাসের ‘ঈলা’র সময় হচ্ছে দুই মাস। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

পরিচ্ছেদ ৮

আযাদ ব্যক্তির যিহার

১১৫৯

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ أَنَّهُ سَأَلَ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَةً إِنْ هُوَ تَزَوَّجَهَا فَقَالَ الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ إِنَّ رَجُلًا جَعَلَ امْرَأَةً عَلَيْهِ كَظَهْرِ أُمِّهِ إِنْ هُوَ تَزَوَّجَهَا فَأَمَرَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِنْ هُوَ تَزَوَّجَهَا أَنْ لَا يَقْرَبَهَا حَتَّى يُكَفِّرَ كَفَّارَةَ الْمُتَظَاهِرِ.

সাঈদ ইবনু আমর ইবনু সুলায়মান যুরাক্কী (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (র)-এর নিকট প্রশ্ন করলেন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যে লোক স্ত্রীকে বলল : আমি তোমাকে বিবাহ করলে তুমি তালাক। কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ বললেন : এক ব্যক্তি জনৈকা মহিলার সাথে এই বলে যিহার [১] করল, তার জন্য সে তার মাতার পিঠের তুল্য, যদি সে তাকে বিবাহ করে। উমার ইবনু খাত্তাব (রা) সেই ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন যে, যদি সে তাকে বিবাহ করে তবে যিহারকারীর মতো কাফ্ফারা না দেওয়া পর্যন্ত সে যেন ঐ স্ত্রীর নিকট না যায়। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] তুমি আমার কাছে আমার মায়ের পিঠের তুল্য, তুমি আমার মায়ের সমান, এইরূপ বলার নাম যিহার।

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৬০

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ عَنْ رَجُلٍ تَظَاهَرَ مِنْ امْرَأَتِهِ قَبْلَ أَنْ يَنْكِحَهَا فَقَالَا إِنْ نَكَحَهَا فَلَا يَمَسَّهَا حَتَّى يُكَفِّرَ كَفَّارَةَ الْمُتَظَاهِرِ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (র) এবং সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (র)-এর নিকট প্রশ্ন করল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি এক স্ত্রীলোকের সাথে যিহার করেছে তাকে বিবাহ করার পূর্বে। তারা উভয়ে বললেন : যদি সেই স্ত্রীলোককে বিবাহ করে তাবে সে যিহারের কাফ্ফারা না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত স্ত্রীকে স্পর্শও করবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৬১

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّهُ قَالَ فِي رَجُلٍ تَظَاهَرَ مِنْ أَرْبَعَةِ نِسْوَةٍ لَهُ بِكَلِمَةٍ وَاحِدَةٍ إِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْهِ إِلَّا كَفَّارَةٌ وَاحِدَةٌ.

উরওয়া ইবনু যুবায়র (র) থেকে বর্ণিতঃ

সেই ব্যক্তিকে একটি মাত্র কাফ্ফারা দিতে হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) রবি’আ ইবনু আবদুর রহমান (র) হতে অনুরূপ রেওয়ায়ত করেছেন। মালিক (র) বলেন : এই ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ।

মালিক (র) বলেন : আল্লাহ তা‘আলা তার কিতাবে যিহারের কাফ্ফারা সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন যে, স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে সে একটি ক্রীতদাস আযাদ করবে। যে ইহার সামর্থ্য রাখে না, সে স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে একাধারে দুই মাস রোযা পালন করবে। আর যে ব্যক্তি ইহারও ক্ষমতা রাখে না সে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

১১৬২

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ أَنَّهُ سَمِعَ رَجُلًا يَسْأَلُ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ عَنْ رَجُلٍ قَالَ لِامْرَأَتِهِ كُلُّ امْرَأَةٍ أَنْكِحُهَا عَلَيْكِ مَا عِشْتِ فَهِيَ عَلَيَّ كَظَهْرِ أُمِّي فَقَالَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ يُجْزِيهِ عَنْ ذَلِكَ عِتْقُ رَقَبَةٍ.

হিশাম ইবনু উরওয়া (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি জনৈক লোককে উরওয়া ইবনু যুবায়র (র)-এর নিকট প্রশ্ন করতে শুনেছেন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে নিজের স্ত্রীকে বলেছে “তুমি বেঁচে থাকা পর্যন্ত তোমার উপর যে কোন স্ত্রীলোককে আমি বিবাহ করি, সে আমার জন্য আমার জননীর পিঠের তুল্য।” উরওয়া ইবনু যুবায়র (র) বললেন : এই উক্তির জন্য একটি ক্রীতদাসকে আযাদ করলেই যথেষ্ট হবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদ ৯

ক্রীতদাসের যিহার

১১৬৩

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ ظِهَارِ الْعَبْدِ فَقَالَ نَحْوُ ظِهَارِ الْحُرِّ قَالَ مَالِك يُرِيدُ أَنَّهُ يَقَعُ عَلَيْهِ كَمَا يَقَعُ عَلَى الْحُرِّ قَالَ مَالِك وَظِهَارُ الْعَبْدِ عَلَيْهِ وَاجِبٌ وَصِيَامُ الْعَبْدِ فِي الظِّهَارِ شَهْرَانِ.

قَالَ مَالِك فِي الْعَبْدِ يَتَظَاهَرُ مِنْ امْرَأَتِهِ إِنَّهُ لَا يَدْخُلُ عَلَيْهِ إِيلَاءٌ وَذَلِكَ أَنَّهُ لَوْ ذَهَبَ يَصُومُ صِيَامَ كَفَّارَةِ الْمُتَظَاهِرِ دَخَلَ عَلَيْهِ طَلَاقُ الْإِيلَاءِ قَبْلَ أَنْ يَفْرُغَ مِنْ صِيَامِهِ

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ইবনু শিহাব (র)-কে দাসের যিহার সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন। তিনি বললেন : ক্রীতদাসের যিহার আযাদ ব্যক্তির যিহারের মতো। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন : এটার উদ্দেশ্য হচ্ছে যিহারের দ্বারা আযাদ ব্যক্তির উপর যা বর্তাবে ক্রীতদাসের উপরও তাই বর্তাবে।

মালিক (র) বলেন : ক্রীতদাসের যিহার তার উপর ওয়াজিব হবে। যিহারের ব্যাপারে ক্রীতদাস দুই মাস সিয়াম পালন করবে।

যে ক্রীতদাস নিজের স্ত্রীর সাথে যিহার করেছে, সে উহার উপর ‘ঈলা’ ঢুকাতে পারবে না, কারণ সে যিহারের কাফ্ফারা রোযা পালন করলে তার রোযা হতে অবকাশ পাওয়ার পূর্বেই স্ত্রীর উপর ‘ঈলা’-এর তালাক প্রযোজ্য হবে (কারণ, তার মতে ক্রীতদাসের ঈলার সময় দুই মাস)।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদ ১০

আযাদীর ইখতিয়ার অর্থাৎ স্ত্রী কর্তৃক তালাকের অধিকার প্রাপ্তির পর নিজের অধিকার প্রয়োগ সম্পর্কিত

১১৬৪

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا قَالَتْ: كَانَ فِي بَرِيرَةَ ثَلَاثُ سُنَنٍ فَكَانَتْ إِحْدَى السُّنَنِ الثَّلَاثِ أَنَّهَا أُعْتِقَتْ فَخُيِّرَتْ فِي زَوْجِهَا وَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ وَدَخَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْبُرْمَةُ تَفُورُ بِلَحْمٍ فَقُرِّبَ إِلَيْهِ خُبْزٌ وَأُدْمٌ مِنْ أُدْمِ الْبَيْتِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَمْ أَرَ بُرْمَةً فِيهَا لَحْمٌ فَقَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ وَلَكِنْ ذَلِكَ لَحْمٌ تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ وَأَنْتَ لَا تَأْكُلُ الصَّدَقَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ عَلَيْهَا صَدَقَةٌ وَهُوَ لَنَا هَدِيَّةٌ.

কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (র) থেকে বর্ণিতঃ

‘আয়িশা উম্মুল মু’মিনীন (রা) বলেছেন : বারীরা (রা) সম্পর্কে তিনটি আহকাম জারি করা হয়েছিল। তিনটির সুন্নত বা আহকামের একটি ছিল :

তাকে আযাদ করা হয় এবং তাকে আযাদীর পর স্বামীর সাথে থাকার ব্যাপারে ইখতিয়ার প্রদান করা হয়। (দ্বিতীয় সুন্নত এই) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে কর্তা আযাদ করবে সেই সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করবে। (তৃতীয় সুন্নত এই) রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারীরা (রা)-এর গৃহে প্রবেশ করলেন। তখন ডেকচিতে গোশত সিদ্ধ হচ্ছিল। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে রুটি এবং গৃহে মওজুদ ব্যঞ্জন উপস্থিত করা হল। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি কি ডেকচিতে গোশত সিদ্ধ হতে দেখিনি? (তবে আমার নিকট গোশত পেশ না করার কারণ কি?) তারা বললেন : হ্যাঁ হে রসূলুল্লাহ! তবে উহা ছিল এমন গোশত যা বরীরাকে সদকা স্বরূপ দেওয়া হয়েছিল। আপনি তো সদকার বস্তু আহার করেন না। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : উহা বারীরার জন্য ছিল সদকা কিন্তু (বারীরা মালিক হওয়ার পর) উহা আমাদের জন্য হচ্ছে হাদিয়া। (বুখারী ৫২৭৯, মুসলিম ১৫০৪)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১৬৫

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي الْأَمَةِ تَكُونُ تَحْتَ الْعَبْدِ فَتَعْتِقُ إِنَّ الْأَمَةَ لَهَا الْخِيَارُ مَا لَمْ يَمَسَّهَا قَالَ مَالِك وَإِنْ مَسَّهَا زَوْجُهَا فَزَعَمَتْ أَنَّهَا جَهِلَتْ أَنَّ لَهَا الْخِيَارَ فَإِنَّهَا تُتَّهَمُ وَلَا تُصَدَّقُ بِمَا ادَّعَتْ مِنْ الْجَهَالَةِ وَلَا خِيَارَ لَهَا بَعْدَ أَنْ يَمَسَّهَا.

নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

আব্দুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) বলতেন : কোন ক্রীতদাসী কোন ক্রীতদাসের স্ত্রী থাকলে অতঃপর সেই ক্রীতদাসীকে (মালিক কর্তৃক) আযাদ করা হলে তবে স্বামী তার সাথে সহবাস না করা পর্যন্ত (বিবাহে থাকা না থাকার ব্যাপারে) ক্রীতদাসীর ইখতিয়ার থাকবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন : যদি তার স্বামী তার সাথে সহবাস করার পরে সে ধারণা করে যে, ইখতিয়ারের সম্পর্কে সে অজ্ঞ ছিল তবে তাকে সত্যবাদিনী মনে করা হবে না, তার অজ্ঞতার দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না, সহবাসের পর তার ইখতিয়ারও অবশিষ্ট থাকবে না।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৬৬

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ مَوْلَاةً لِبَنِي عَدِيٍّ يُقَالُ لَهَا زَبْرَاءُ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ عَبْدٍ وَهِيَ أَمَةٌ يَوْمَئِذٍ فَعَتَقَتْ قَالَتْ فَأَرْسَلَتْ إِلَيَّ حَفْصَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَعَتْنِي فَقَالَتْ إِنِّي مُخْبِرَتُكِ خَبَرًا وَلَا أُحِبُّ أَنْ تَصْنَعِي شَيْئًا إِنَّ أَمْرَكِ بِيَدِكِ مَا لَمْ يَمْسَسْكِ زَوْجُكِ فَإِنْ مَسَّكِ فَلَيْسَ لَكِ مِنْ الْأَمْرِ شَيْءٌ قَالَتْ فَقُلْتُ هُوَ الطَّلَاقُ ثُمَّ الطَّلَاقُ ثُمَّ الطَّلَاقُ فَفَارَقَتْهُ ثَلَاثًا.

উরওয়া ইবনু যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিতঃ

বনী আদী কর্তৃক আযাদীপ্রাপ্ত জনৈক ক্রীতদাসী যার নাম যাবরা’ ছিল, সে উরওয়া ইবনু যুবায়রের নিকট ব্যক্ত করেছে যে, সে জনৈক ক্রীতদাসের স্ত্রী ছিল তখন সে (নিজেও) ক্রীতদাসী ছিল। পরে তাকে মুক্তি প্রদান করা হয়। সে বলল : অতঃপর নবীপত্নী হাফসা (রা) আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন : আমি তোমাকে একটি সংবাদ বলব, তুমি তাড়াতাড়ি কোন সিদ্ধান্ত নিবে তা আমি পছন্দ করি না। তোমার স্বামী তোমার সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত তোমার অধিকার তোমারই উপর ন্যস্ত থাকবে। তবে তোমার স্বামী তোমার সাথে মিলিত হলে তোমার কোন অধিকার থাকবে না। সে বলল, এর উত্তরে আমি বললাম, আমি তাকে তালাক দিলাম, পুনরায় তালাক, পুনরায় তালাক, তাকে তিন তালাক দিয়ে পরিত্যাগ করল। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৬৭

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ أَيُّمَا رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً وَبِهِ جُنُونٌ أَوْ ضَرَرٌ فَإِنَّهَا تُخَيَّرُ فَإِنْ شَاءَتْ قَرَّتْ وَإِنْ شَاءَتْ فَارَقَت.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : এমন কোন পুরুষ যে উন্মাদ বা রুগ্ন সে যদি কোন মহিলাকে বিবাহ করে, তবে সেই মহিলাকে অধিকার দেয়া হবে। যদি সে ইচ্ছা করে তা হলে সেই স্বামীর সঙ্গে অবস্থান করবে, আর যদি ইচ্ছা করে বিচ্ছেদ ঘটাবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

১১৬৮

قَالَ مَالِك فِي الْأَمَةِ تَكُونُ تَحْتَ الْعَبْدِ ثُمَّ تَعْتِقُ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا أَوْ يَمَسَّهَا إِنَّهَا إِنْ اخْتَارَتْ نَفْسَهَا فَلَا صَدَاقَ لَهَا وَهِيَ تَطْلِيقَةٌ وَذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا ْ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

যে ক্রীতদাসী কোন ক্রীতদাসের অধীনে থাকা অবস্থায় তার সঙ্গে সঙ্গম বা তাকে স্পর্শ করার পূর্বে স্বাধীন হয়ে যায় এবং নিজের স্বাধীন অধিকার নিজে গ্রহণ করে নেয় তবে সে মোহর পাবে না। আর ইহা এক তালাক বলে গণ্য হবে। মাসয়ালা আমাদের নিকটও তাই।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

১১৬৯

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُوْلُ: إِذَا خَيَّرَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ فَاخْتَارَتْهُ فَلَيْسَ ذَلِكَ بِطَلَاقٍ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ.

قَالَ مَالِك فِي الْمُخَيَّرَةِ إِذَا خَيَّرَهَا زَوْجُهَا فَاخْتَارَتْ نَفْسَهَا فَقَدْ طَلُقَتْ ثَلَاثًا وَإِنْ قَالَ زَوْجُهَا لَمْ أُخَيِّرْكِ إِلَّا وَاحِدَةً فَلَيْسَ لَهُ ذَلِكَ وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُهُ.

قَالَ مَالِك وَإِنْ خَيَّرَهَا فَقَالَتْ قَدْ قَبِلْتُ وَاحِدَةً وَقَالَ لَمْ أُرِدْ هَذَا وَإِنَّمَا خَيَّرْتُكِ فِي الثَّلَاثِ جَمِيعًا أَنَّهَا إِنْ لَمْ تَقْبَلْ إِلَّا وَاحِدَةً أَقَامَتْ عِنْدَهُ عَلَى نِكَاحِهَا وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ فِرَاقًا إِنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনু শিহাব (র)-কে বলতে শুনেছেন যে, যখন কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে অধিকার প্রদান করে এবং স্ত্রী নিজেকেই গ্রহণ করে তা হলে ইহা তালাক বলে গণ্য হবে না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন : আমি যা শুনেছি তন্মধ্যে এটাই উত্তম।

মালিক (র) অধিকার প্রাপ্ত মহিলা সম্পর্কে বলেন : যখন কোন মহিলাকে তার স্বামী অধিকার প্রদান করে, অতঃপর সেই স্ত্রী নিজ সত্তাকেই গ্রহণ করে তা হলে ইহা তিন তালাক বলে গণ্য হবে। আর যদি স্বামী বলে যে, তোমাকে শুধুমাত্র এক তালাকের অধিকার প্রদান করছি, তবে এইরূপ কথা বলার অধিকার স্বামীর নেই।

মালিক (র) বলেন, এটাই উত্তম এ ব্যাপারে যা আমি শুনেছি।

মালিক (র) বলেন : যদি স্ত্রীকে অধিকার প্রদান করে, অতঃপর স্ত্রী বলল : আমি এক তালাক গ্রহণ করলাম এবং স্বামী বলল : আমি এরূপ ইচ্ছা করিনি বরং আমি তোমাকে পূর্ণ তিন তালাকের অধিকার প্রদান করেছি। স্ত্রী যদি এক তালাক ব্যতীত গ্রহণ না করে তবে সে এই স্বামীর বিবাহে থাকবে। এই অবস্থায় বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটবে না।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদ ১১

খুলা [১] তালাকের বর্ণনা

[১] দাম্পত্য জীবন সুখের না হলে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকলে অথবা মনের মিল না হলে স্বামী তালাক দিতে রাযী না হলে অথবা অন্য কোন কারণে স্ত্রীর জন্য এটা বৈধ হবে যে, সে অর্থ অথবা মোহর স্বামীকে দিয়ে বলে আমাকে পরিত্যাগ কর, স্বামী যদি বলে আমি তোমাকে পরিত্যাগ করলাম, এর নাম খুলা।

১১৭০

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ عَنْ حَبِيبَةَ بِنْتِ سَهْلٍ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ ثَابِتِ بْنِ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ وَأَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ إِلَى الصُّبْحِ فَوَجَدَ حَبِيبَةَ بِنْتَ سَهْلٍ عِنْدَ بَابِهِ فِي الْغَلَسِ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ هَذِهِ فَقَالَتْ أَنَا حَبِيبَةُ بِنْتُ سَهْلٍ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ مَا شَأْنُكِ قَالَتْ لَا أَنَا وَلَا ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ لِزَوْجِهَا فَلَمَّا جَاءَ زَوْجُهَا ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذِهِ حَبِيبَةُ بِنْتُ سَهْلٍ قَدْ ذَكَرَتْ مَا شَاءَ اللهُ أَنْ تَذْكُرَ فَقَالَتْ حَبِيبَةُ يَا رَسُولَ اللهِ كُلُّ مَا أَعْطَانِي عِنْدِي.

فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ خُذْ مِنْهَا فَأَخَذَ مِنْهَا وَجَلَسَتْ فِي بَيْتِ أَهْلِهَا

হাবীবা বিন্ত সাহল আনসারী (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি সাবিত ইবনু কায়স ইবনু সাম্মাসের স্ত্রী ছিলেন। একদিন রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযের জন্য বের হলেন। এমন সময় হাবীবা বিন্ত সাহালকে প্রভাতে আপন গৃহের দ্বারে উপস্থিত পেলেন। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে হে? তিনি বললেন : ইয়া রসূলাল্লাহ্! আমি হাবীবা বিন্ত সাহল। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : কি ব্যাপার তোমার? তিনি বললেন : আমি আর আমার স্বামী সাবিত ইবনু কায়স-এর সঙ্গে একত্রে থাকতে চাই না। তার স্বামী সাবিত ইবনু কায়স এলে রসূলাল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন : হাবীবা বিন্ত সাহল আল্লাহর ইচ্ছায় তোমার বিষয়ে যা বলার বলেছে।

হাবীবা বললেন : ইয়া রসূলাল্লাহ্! সে যা আমাকে দিয়েছে উহা আমার নিকট রয়েছে। তারপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবিতকে উদ্দেশ্য করে বললেন : হাবীবা হতে (বাগান) গ্রহণ কর। সে তার নিকট হতে উহা গ্রহণ করল এবং হাবীবা তার পরিজনের কাছে চলে গেলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৭১

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ مَوْلَاةٍ لِصَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ أَنَّهَا اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا بِكُلِّ شَيْءٍ لَهَا فَلَمْ يُنْكِرْ ذَلِكَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ ২০৮৪-قَالَ مَالِك فِي الْمُفْتَدِيَةِ الَّتِي تَفْتَدِي مِنْ زَوْجِهَا أَنَّهُ إِذَا عُلِمَ أَنَّ زَوْجَهَا أَضَرَّ بِهَا وَضَيَّقَ عَلَيْهَا وَعُلِمَ أَنَّهُ ظَالِمٌ لَهَا مَضَى الطَّلَاقُ وَرَدَّ عَلَيْهَا مَالَهَا قَالَ فَهَذَا الَّذِي كُنْتُ أَسْمَعُ وَالَّذِي عَلَيْهِ أَمْرُ النَّاسِ عِنْدَنَا.

قَالَ مَالِك لَا بَأْسَ بِأَنْ تَفْتَدِيَ الْمَرْأَةُ مِنْ زَوْجِهَا بِأَكْثَرَ مِمَّا أَعْطَاهَا.

সাফিয়্যা বিন্ত আবূ উবাইদ-এর জনৈকা ক্রীতদাসী থেকে বর্ণিতঃ

যাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে, সে তার স্বামী হতে (খুলা) বিচ্ছেদ গ্রহণ করেছে। তার নিকট যে সম্পদ ছিল উহার বিনিময়ে ‘আব্দুল্লাহ্ ইবনু’ উমার (র) এর প্রতি অস্বীকৃতি জানালেন না। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন : যে স্ত্রী (বিচ্ছেদের বিনিময়ে) স্বামীকে মাল প্রদান করেছে, যদি প্রকাশ পায় যে, স্বামী তার ক্ষতি সাধন করেছে এবং (দুর্ব্যবহার করে মাল প্রদানে) তাকে বাধ্য করেছে। এবং আরও প্রকাশিত হয় যে, সে স্ত্রীর প্রতি জুলুমকারী ছিল, তবে তালাক প্রযোজ্য হবে এবং স্ত্রীর মাল স্ত্রীকে ফেরত দেয়া হবে। মালিক (র) বলেন, এটা আমি শুনেছি, আমাদের মতে এটাই লোকের মধ্যে প্রচলিত নিয়ম।

মালিক (র)-এর মতে স্বামী যা দিয়েছে তা হতে অধিক মাল বিচ্ছেদের ফিদায়া স্বরূপ স্ত্রী কর্তৃক প্রদান করতে কোন ক্ষতি নাই।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদ ১২

খুলা তালাক ও এর ইদ্দত

১১৭২

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ رُبَيِّعَ بِنْتَ مُعَوَّذِ بْنِ عَفْرَاءَ جَاءَتْ هِيَ وَعَمُّهَا إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ فَأَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا فِي زَمَانِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَبَلَغَ ذَلِكَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَلَمْ يُنْكِرْهُ وَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ عِدَّتُهَا عِدَّةُ الْمُطَلَّقَةِ.

১১৮৪-و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ وَابْنَ شِهَابٍ كَانُوا يَقُولُونَ عِدَّةُ الْمُخْتَلِعَةِ مِثْلُ عِدَّةِ الْمُطَلَّقَةِ ثَلَاثَةُ قُرُوءٍ.

قَالَ مَالِك فِي الْمُفْتَدِيَةِ إِنَّهَا لَا تَرْجِعُ إِلَى زَوْجِهَا إِلَّا بِنِكَاحٍ جَدِيدٍ فَإِنْ هُوَ نَكَحَهَا فَفَارَقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا لَمْ يَكُنْ لَهُ عَلَيْهَا عِدَّةٌ مِنْ الطَّلَاقِ الْآخَرِ وَتَبْنِي عَلَى عِدَّتِهَا الْأُولَى قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ.

قَالَ مَالِك إِذَا افْتَدَتْ الْمَرْأَةُ مِنْ زَوْجِهَا بِشَيْءٍ عَلَى أَنْ يُطَلِّقَهَا فَطَلَّقَهَا طَلَاقًا مُتَتَابِعًا نَسَقًا فَذَلِكَ ثَابِتٌ عَلَيْهِ فَإِنْ كَانَ بَيْنَ ذَلِكَ صُمَاتٌ فَمَا أَتْبَعَهُ بَعْدَ الصُّمَاتِ فَلَيْسَ بِشَيْءٍ.

নাফি’ (র) থেকে বর্ণিতঃ

রুবাইয়ে বিনত মুয়াব্বিয ইবনু আফরা (রা) তার ফুফুসহ ‘আব্দুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) সমীপে উপস্থিত হলেন এবং তাকে জ্ঞাত করলেন যে, তিনি তার স্বামীর নিকট হতে খুলা’ তালাক গ্রহণ করেছেন। উসমান ইবনু ‘আফফান (রা)-এর খিলাফতকালে উসমান ইবনু ‘আফফান (রা) উহা অবগত হলেন এবং উহা বহাল রাখলেন। ‘আব্দুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রা) বললেন : খুলা গ্রহণ করবার ইদ্দত তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীলোকের ইদ্দতের মতো। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন : তার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, সাঈদ ইবনু মুসায়্যিব, সুলায়মান ইবনু ইয়াসার ও ইবনু শিহাব (র) তারা সকলেই বলতেন : খুলা’ তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোকের ইদ্দত তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোকের মতো তিন ঋতু। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন : যে স্ত্রীলোক মালের বিনিময়ে তালাক গ্রহণ করেছে, সে নূতন বিবাহ ছাড়া স্বামীর নিকট যাবে না। যদি স্বামী সেই স্ত্রীলোককে বিবাহ করে এবং স্পর্শ করার পূর্বে তালাক প্রদান করে তবে স্ত্রীলোকের জন্য পরবর্তী তালাকের ইদ্দত পালন করতে হবে না। প্রথম তালাকের ইদ্দতের সময় পূর্ণ করবে। মালিক (র) বলেন : এই বিষয়ে যা আমি শুনেছি তন্মধ্যে এটাই সর্বোত্তম।

মালিক (র) বলেন : যে স্ত্রী স্বামীকে এই শর্তে মাল প্রদান করল যে, সে তাকে তালাক দিবে : অতঃপর সে একাধারে (তিন তালাক) প্রয়োগ করল, তবে এই সব তালাকই প্রযোজ্য হবে। আর যদি তালাকের মাঝখানে নীরবতা পাওয়া যায়, তবে নীরবতার পর যেই তালাক দিয়েছে উহা গ্রহণযোগ্য হবে না।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদ ১৩

লি ‘আন [১] সম্পর্কিত

[১] কোন ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীকে যিনার অপবাদ দিলে অথবা স্ত্রী যে সন্তান প্রসব করেছে উহাকে তার সন্তান নয় বলে ঘোষণা করলে তবে স্ত্রী কাযীর নিকট মোকদ্দমা দায়ের করবে, ফরিয়াদ দায়ের করা হলে কাযী উভয়কে কসম করতে বলবে, যার নিয়ম সূরা-এ-নূরে উল্লিখিত হয়েছে। কসম অনুষ্ঠানের পর কাযী তাদেরকে পৃথক করে দিবেন। এর মাধ্যমে উক্ত মহিলা ঐ পুরুষের জন্য চীরতরে হারাম হয়ে যাবে।

১১৭৩

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُوَيْمِرًا الْعَجْلَانِيَّ جَاءَ إِلَى عَاصِمِ بْنِ عَدِيٍّ الْأَنْصَارِيِّ فَقَالَ لَهُ يَا عَاصِمُ أَرَأَيْتَ رَجُلًا وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ سَلْ لِي يَا عَاصِمُ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَ عَاصِمٌ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَكَرِهَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسَائِلَ وَعَابَهَا حَتَّى كَبُرَ عَلَى عَاصِمٍ مَا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا رَجَعَ عَاصِمٌ إِلَى أَهْلِهِ جَاءَهُ عُوَيْمِرٌ فَقَالَ يَا عَاصِمُ مَاذَا قَالَ لَكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عَاصِمٌ لِعُوَيْمِرٍ لَمْ تَأْتِنِي بِخَيْرٍ قَدْ كَرِهَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسْأَلَةَ الَّتِي سَأَلْتُهُ عَنْهَا فَقَالَ عُوَيْمِرٌ وَاللهِ لَا أَنْتَهِي حَتَّى أَسْأَلَهُ عَنْهَا فَقَامَ عُوَيْمِرٌ حَتَّى أَتَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَطَ النَّاسِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ رَجُلًا وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أُنْزِلَ فِيكَ وَفِي صَاحِبَتِكَ فَاذْهَبْ فَأْتِ بِهَا.

قَالَ سَهْلٌ فَتَلَاعَنَا وَأَنَا مَعَ النَّاسِ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا فَرَغَا مِنْ تَلَاعُنِهِمَا قَالَ عُوَيْمِرٌ كَذَبْتُ عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللهِ إِنْ أَمْسَكْتُهَا فَطَلَّقَهَا ثَلَاثًا قَبْلَ أَنْ يَأْمُرَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

قَالَ مَالِك قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَكَانَتْ تِلْكَ بَعْدُ سُنَّةَ الْمُتَلَاعِنَيْنِ.

আসিম ইবনু আদী আনসার (রা) থেকে বর্ণিতঃ

ওয়াইমির আজলানী (রা) আগমন করলেন এবং তাকে বললেন : হে আসিম এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে ভিন্ন ব্যক্তিকে (অবৈধ কর্মে লিপ্ত) পেলে। সে ঐ ব্যক্তিকে হত্যা করবে কি? যার ফলে প্রতিশোধ স্বরূপ নিহত ব্যক্তির সম্প্রদায়ের লোকেরা তাকে হত্যা করবে অথবা অন্য কিরূপ করিবে? হে আসিম; আপনি এই বিষয়ে আমার জন্য রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করুন। আসিম! এই ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করলেন।

রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সকল প্রশ্নকে অপছন্দ করলেন এবং তজ্জন্য তাকে তিরস্কার করলেন। রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যা শুনলেন তা আসিমের নিকট অতি ভারী মনে হল।

আসিম যখন পরিজনের নিকট প্রত্যাবর্তন করলেন, তার নিকট তখন ‘উওয়াইমির উপস্থিত হলেন এবং বললেন, হে আসিম! রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে কি বলেছেন? আসিম বললেন : আপনি আমার কাছে কোন ভাল বিষয় নিয়ে আসেননি। আমি যে মাসআলার বিষয়ে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করেছি রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না পছন্দ করেছেন। ‘উওয়াইমির বললেন : এই বিষয়ে রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রশ্ন না করে আমি ক্ষান্ত হব না। তারপর ‘উওয়াইমির অগ্রসর হলেন এবং রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমীপে উপস্থিত হলেন এবং লোকের মাঝখানে আসন গ্রহণ করলেন। তারপর বললেন : ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনি কি হুকুম দেন সেই ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে অন্য লোককে দেখতে পেল সে কি উক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করবে? ফলে, কিসাসস্বরূপ লোকেরা তাকেও হত্যা করবে? অথবা সে ব্যক্তি অন্য কিরূপ করবে? রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমার এবং তোমার স্ত্রী বিষয়ে আয়াত নাযিল হয়েছে, তুমি যাও তাকে নিয়ে আস। সাহল বলেন : তারপর তারা উভয়ে লি’আন করল, অন্য লোকজনের সাথে আমিও তখন রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তারা উভয়ে লি’আন হতে অবসর গ্রহণ করার পর ‘উওয়াইমির বললেন, এই ঘটনার পর যদি এই স্ত্রীকে রাখি তবে আমি তার সম্বন্ধে মিথ্যাবাদী বলে গণ্য হব। তারপর স্ত্রীকে তিন তালাক দিলেন রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোন নির্দেশ দেওয়ার পূর্বে। (বুখারী ৫২৫৯, মুসলিম ১৪৯২)

মালিক (র) বলেন : ইবনু শিহাব (র) বলেছেন, এই ঘটনার পর লি’আয়িশারীদের জন্য এক হুকুম নির্ধারিত রয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১৭৪

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلًا لَاعَنَ امْرَأَتَهُ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَانْتَفَلَ مِنْ وَلَدِهَا فَفَرَّقَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَهُمَا وَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِالْمَرْأَةِ .

قَالَ مَالِك قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى { وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللهِ إِنَّهُ لَمِنْ الصَّادِقِينَ وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَةَ اللهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنْ الْكَاذِبِينَ وَيَدْرَأُ عَنْهَا الْعَذَابَ أَنْ تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللهِ إِنَّهُ لَمِنْ الْكَاذِبِينَ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِينَ }.

قَالَ مَالِك السُّنَّةُ عِنْدَنَا أَنَّ الْمُتَلَاعِنَيْنِ لَا يَتَنَاكَحَانِ أَبَدًا وَإِنْ أَكْذَبَ نَفْسَهُ جُلِدَ الْحَدَّ وَأُلْحِقَ بِهِ الْوَلَدُ وَلَمْ تَرْجِعْ إِلَيْهِ أَبَدًا وَعَلَى هَذَا السُّنَّةُ عِنْدَنَا الَّتِي لَا شَكَّ فِيهَا وَلَا اخْتِلَافَ.

قَالَ مَالِك وَإِذَا فَارَقَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ فِرَاقًا بَاتًّا لَيْسَ لَهُ عَلَيْهَا فِيهِ رَجْعَةٌ ثُمَّ أَنْكَرَ حَمْلَهَا لَاعَنَهَا إِذَا كَانَتْ حَامِلًا وَكَانَ حَمْلُهَا يُشْبِهُ أَنْ يَكُونَ مِنْهُ إِذَا ادَّعَتْهُ مَا لَمْ يَأْتِ دُونَ ذَلِكَ مِنْ الزَّمَانِ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ فَلَا يُعْرَفُ أَنَّهُ مِنْهُ قَالَ فَهَذَا الْأَمْرُ عِنْدَنَا وَالَّذِي سَمِعْتُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ

قَالَ مَالِك وَإِذَا قَذَفَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ بَعْدَ أَنْ يُطَلِّقَهَا ثَلَاثًا وَهِيَ حَامِلٌ يُقِرُّ بِحَمْلِهَا ثُمَّ يَزْعُمُ أَنَّهُ رَآهَا تَزْنِي قَبْلَ أَنْ يُفَارِقَهَا جُلِدَ الْحَدَّ وَلَمْ يُلَاعِنْهَا وَإِنْ أَنْكَرَ حَمْلَهَا بَعْدَ أَنْ يُطَلِّقَهَا ثَلَاثًا لَاعَنَهَا قَالَ وَهَذَا الَّذِي سَمِعْتُ

قَالَ مَالِك وَالْعَبْدُ بِمَنْزِلَةِ الْحُرِّ فِي قَذْفِهِ وَلِعَانِهِ يَجْرِي مَجْرَى الْحُرِّ فِي مُلَاعَنَتِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لَيْسَ عَلَى مَنْ قَذَفَ مَمْلُوكَةً حَدٌّ قَالَ مَالِك وَالْأَمَةُ الْمُسْلِمَةُ وَالْحُرَّةُ النَّصْرَانِيَّةُ وَالْيَهُودِيَّةُ تُلَاعِنُ الْحُرَّ الْمُسْلِمَ إِذَا تَزَوَّجَ إِحْدَاهُنَّ فَأَصَابَهَا وَذَلِكَ أَنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ { وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ } فَهُنَّ مِنْ الْأَزْوَاجِ وَعَلَى هَذَا الْأَمْرُ عِنْدَنَا

قَالَ مَالِك وَالْعَبْدُ إِذَا تَزَوَّجَ الْمَرْأَةَ الْحُرَّةَ الْمُسْلِمَةَ أَوْ الْأَمَةَ الْمُسْلِمَةَ أَوْ الْحُرَّةَ النَّصْرَانِيَّةَ أَوْ الْيَهُودِيَّةَ لَاعَنَهَا. ২১قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُلَاعِنُ امْرَأَتَهُ فَيَنْزِعُ وَيُكَذِّبُ نَفْسَهُ بَعْدَ يَمِينٍ أَوْ يَمِينَيْنِ مَا لَمْ يَلْتَعِنْ فِي الْخَامِسَةِ إِنَّهُ إِذَا نَزَعَ قَبْلَ أَنْ يَلْتَعِنَ جُلِدَ الْحَدَّ وَلَمْ يُفَرَّقْ بَيْنَهُمَا

قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ فَإِذَا مَضَتْ الثَّلَاثَةُ الْأَشْهُرِ قَالَتْ الْمَرْأَةُ أَنَا حَامِلٌ قَالَ إِنْ أَنْكَرَ زَوْجُهَا حَمْلَهَا لَاعَنَهَا. ২১قَالَ مَالِك فِي الْأَمَةِ الْمَمْلُوكَةِ يُلَاعِنُهَا زَوْجُهَا ثُمَّ يَشْتَرِيهَا إِنَّهُ لَا يَطَؤُهَا وَإِنْ مَلَكَهَا وَذَلِكَ أَنَّ السُّنَّةَ مَضَتْ أَنَّ الْمُتَلَاعِنَيْنِ لَا يَتَرَاجَعَانِ أَبَدًا

قَالَ مَالِك إِذَا لَاعَنَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا فَلَيْسَ لَهَا إِلَّا نِصْفُ الصَّدَاقِ

আব্দুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর প্রতি লি’আন করেছে এবং ছেলের নসবকে অস্বীকার করেছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়কে পৃথক করে দিয়েছেন এবং স্ত্রীকে ছেলেটি প্রদান করেছেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন : আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন :

وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللهِ إِنَّهُ لَمِنْ الصَّادِقِينَ وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَةَ اللهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنْ الْكَاذِبِينَ وَيَدْرَأُ عَنْهَا الْعَذَابَ أَنْ تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللهِ إِنَّهُ لَمِنْ الْكَاذِبِينَ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِيْنَ.

“এবং যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নেই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে আল্লাহ্‌র নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চাশবারে বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহ্‌র লা’নত। তবে স্ত্রীর শাস্তি রহিত হবে যদি সে চারবার আল্লাহর নামে শপথ করে সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামীই মিথ্যাবাদী এবং পঞ্চমবারে বলে, ‘তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার নিজের উপর নেমে আসবে আল্লাহর গযব।”

মালিক (র) বলেন : আমাদের নিকট বিধান হল এই, লি’আয়িশারী তারা পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে না, যদি স্বামী মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হয়, তবে তাকে শাস্তি (প্রয়োগ) দেয়া হবে এবং ছেলেকে তার সাথে যুক্ত করা হবে। স্ত্রী সেই স্বামীর নিকট আর কখনো ফিরে যাবে না। মালিক (র) বলেন, আমাদের নিকট এটাই নিয়ম যাতে কোন প্রকার মতানৈক্য বা সন্দেহ নেই।

মালিক (র) বলেন : কোন ব্যক্তি যদি স্ত্রীকে বায়েন তালাক দেয় যাতে স্ত্রীর দিকে তার রুজূ করার অধিকার থাকে না, তারপর স্ত্রীর গর্ভ অস্বীকার করে, তবে তাকে লি’আন করতে হবে। যদি স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয় এবং স্ত্রীর গর্ভধারণ সেই ব্যক্তির পক্ষ হতে হওয়ারই সম্ভাবনা অধিক থাকে এবং স্ত্রীও উহার দাবি করে। অবশ্য যদি তালাকের পর এইরূপ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত না হয় যাতে স্বামী হতে গর্ভধারণের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। যাতে এ গর্ভধারণ উক্ত স্বামী দ্বারা হয়েছে বলে অনুমান করা যায় না। আমাদের নিকট এটাই হুকুম আর এটাই আমি বিজ্ঞ আলিমদের নিকট হতে শুনেছি।

মালিক (র) বলেন : তখন কোন ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করল। তিন তালাক দেয়ার পর স্ত্রী যখন অন্তঃসত্ত্বা অথচ সে ব্যক্তি এই গর্ভধারণ তার পক্ষ হতে হয়েছে বলে স্বীকারও করে, তারপর সে ধারণা করে যে, সে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পূর্বে যিনা করতে দেখেছে, তবে তাকে শাস্তি দেয়া হবে (অর্থাৎ তার উপর ইসলামী বিধানমতে হদ জারি করা হবে) সে লি’আন করবে না। আর যদি তিন তালাক দেয়ার পর সেই স্ত্রীর গর্ভধারণ (তার পক্ষ হতে হওয়ার ব্যাপার) সে অস্বীকার করে সে লি’আন করবে। মালিক (র) বলেন : আমি এরূপই শুনেছি।

মালিক (র) বলেন : যিনার অপবাদারোপ করা এবং লি’আন এর ব্যাপারে ক্রীতদাস ও স্বাধীন ব্যক্তির হুকুম একই। অর্থাৎ এই দুই ব্যাপারে ক্রীতদাসের হুকুম আযাদ ব্যক্তির মতো। কিন্তু নিজের ক্রীতদাসীর প্রতি অপবাদ দিলে মনিবের উপর হদ জারি হবে না। অর্থাৎ মনিবকে শাস্তি দেয়া হবে না।

মালিক (র) বলেন : মুসলিম ক্রীতদাসী, খ্রীস্টান ও ইহুদী স্বাধীন স্ত্রীলোক স্বাধীন মুসলিম স্বামীর প্রতি লি’আন করবে, যদি সেই মুসলিম এদের কাউকেও বিবাহ করে এবং তার সাথে সহবাস করে থাকে। কারণ আল্লাহ্ কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেন :

وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ

“যারা স্ত্রীগণের প্রতি অপবাদ দেয়া”। উপরিউক্ত মহিলাগণও স্ত্রীর অন্তর্ভুক্ত। (তাই তাদের প্রতি অপবাদ আরোপ করলে লি’আন করতে হবে।) মালিক (র) বলেন : আমাদের নিকট এটাই সিদ্ধান্ত।

মালিক (র) বলেন : কোন মুসলিম আযাদ নারীকে অথবা মুসলিম ক্রীতদাসীকে অথবা আযাদ খ্রীস্টান অথবা ইহুদী নারীকে কোন ক্রীতদাস বিবাহ করলে সে স্ত্রীর সাথে লি’আন করতে পারবে।

মালিক (র) বলেন : যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সাথে লি’আন করেছে, অতঃপর সে এটা হতে ফিরে আসে (রুজূ’ করে) এবং মিথ্যা বলেছে বলে স্বীকার করে, একবার অথবা দুইবার কসম খাওয়ার পর পঞ্চমবারের লা’নত উচ্চারণ না করা পর্যন্ত। সে যদি লি’আন সমাপ্ত করার পূর্বে রুজূ’ করে তবে তাকে হদ লাগানো (শাস্তি দেয়া) হবে এবং তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে না।

মালিক (র) বলেন : ক্রীতদাসী স্ত্রীর সাথে তার স্বামী লি’আন করেছে, অতঃপর সে ক্রীতদাসীকে খরিদ করেছে, তবে সে মালিক হলেও এর সাথে সহবাস করতে পারবে না। কারণ নিয়ম হচ্ছে, পরস্পর লি’আয়িশারী কখনও একে অপরের প্রতি প্রত্যাবর্তন (রুজূ’) করতে পারে না।

মালিক (র) বলেন : কোন ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে সংগত হওয়ার পূর্বে স্ত্রীর সাথে লি’আন করলে তবে সে মহরের অর্ধেক পাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদ ১৪

যে দম্পতি লি’আন করেছে তাদের সন্তানের মিরাস

১১৭৫

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ كَانَ يَقُولُ فِي وَلَدِ الْمُلَاعَنَةِ وَوَلَدِ الزِّنَا إِنَّهُ إِذَا مَاتَ وَرِثَتْهُ أُمُّهُ حَقَّهَا فِي كِتَابِ اللهِ تَعَالَى وَإِخْوَتُهُ لِأُمِّهِ حُقُوقَهُمْ وَيَرِثُ الْبَقِيَّةَ مَوَالِي أُمِّهِ إِنْ كَانَتْ مَوْلَاةً وَإِنْ كَانَتْ عَرَبِيَّةً وَرِثَتْ حَقَّهَا وَوَرِثَ إِخْوَتُهُ لِأُمِّهِ حُقُوقَهُمْ وَكَانَ مَا بَقِيَ لِلْمُسْلِمِينَ قَالَ مَالِك وَبَلَغَنِي عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ مِثْلُ ذَلِكَ وَعَلَى ذَلِكَ أَدْرَكْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, যে স্ত্রীলোক ও তার স্বামীর মধ্যে লি’আন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেই স্ত্রীলোকের সন্তান এবং জারজ সন্তানের ব্যাপারে উরওয়া ইবনু যুবায়ের (র) বলতেন সেই সন্তানের মৃত্যু হলে তার মাতা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তার নির্ধারিত অংশ পাবে এবং তার ভগ্নিগণও তাদের অংশ পাবে। অবশিষ্ট যা থাকে তা পাবে তার জননীকে যে আযাদ করেছে সে, যদি সে আযাদ স্ত্রীলোক হয়। আর যদি সে স্ত্রীলোক আরবী (আযাদ) হয় তবে সে তার অংশ পাবে। এবং তার ভগ্নিগণও তাদের অংশ পাবে। অবশিষ্ট মাল মুসলমানদের কল্যাণের জন্যে (বায়তুলমালে) থাকবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন : সুলায়মান ইবনু ইয়াসারের নিকট হতেও আমার কাছে অনুরূপ রেওয়ায়ত পৌঁছেছে।

মালিক (র) বলেন : আমাদের শহরবাসী আলেমগণকেও আমি এই ফায়সালার উপর পেয়েছি।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদ ১৫

বাকিরা (কুমারী) স্ত্রীলোকের তালাক

১১৭৬

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِيَاسِ بْنِ الْبُكَيْرِ أَنَّهُ قَالَ: طَلَّقَ رَجُلٌ امْرَأَتَهُ ثَلَاثًا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا ثُمَّ بَدَا لَهُ أَنْ يَنْكِحَهَا فَجَاءَ يَسْتَفْتِي فَذَهَبْتُ مَعَهُ أَسْأَلُ لَهُ فَسَأَلَ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ وَأَبَا هُرَيْرَةَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَا لَا نَرَى أَنْ تَنْكِحَهَا حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَكَ قَالَ فَإِنَّمَا طَلَاقِي إِيَّاهَا وَاحِدَةٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنَّكَ أَرْسَلْتَ مِنْ يَدِكَ مَا كَانَ لَكَ مِنْ فَضْلٍ.

মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াস ইবনু বুকাইর (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : এক ব্যক্তি সহবাসের পূর্বে স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে, তারপর সেই স্ত্রীকে সে বিবাহ করার ইচ্ছা করল। তাই সে ফতোয়া জিজ্ঞেস করতে এল। ফতোয়া জিজ্ঞেস করার জন্য আমিও তার সাথে গমন করলাম। অতঃপর এই বিষয়ে আব্দুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস ও আবূ হুরায়রা (রা)-এর নিকট সে জিজ্ঞেস করল। তারা উভয়ে বললেন : তোমার জন্য তাকে বিবাহ করার কোন পথ দেখি না, যতক্ষণ না তুমি ছাড়া অন্য স্বামীর সাথে বিবাহের মাধ্যমে সহবাস হয়। সে বলল : আমি তাকে একত্রে তিন তালাক দিয়েছি। ইবনু আব্বাস (রা) বললেন, তোমার হাতে এই ব্যাপারে যতদূর ক্ষমতা ছিল তুমি তা পূর্ণভাবে প্রয়োগ করে ফেলেছ। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৭৭

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ

الْأَشَجِّ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ يَسْأَلُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلَاثًا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا قَالَ عَطَاءٌ فَقُلْتُ إِنَّمَا طَلَاقُ الْبِكْرِ وَاحِدَةٌ فَقَالَ لِي عَبْدُ اللهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ إِنَّمَا أَنْتَ قَاصٌّ الْوَاحِدَةُ تُبِينُهَا وَالثَّلَاثَةُ تُحَرِّمُهَا حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ.

আতা ইবনু ইয়াসার (র) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আমর ইবনু আস (রা)-এর নিকট এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করতে এল, যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে তিন তালাক দিয়েছে। আতা বললেন, কুমারীর জন্য হচ্ছে এক তালাক। তখন আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর আমাকে বলল : তুমি তো হলে একজন বক্তা (ফতোয়া দেয়া তোমার কাজ নয়)। এক তালাক তাকে স্বামী হতে পৃথক করবে এবং তিন তালাক তাকে হারাম করবে যাবৎ সে (স্ত্রী) অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৭৮

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْأَشَجِّ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا مَعَ عَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ وَعَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ فَجَاءَهُمَا مُحَمَّدُ بْنُ إِيَاسِ بْنِ الْبُكَيْرِ فَقَالَ إِنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلَاثًا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا فَمَاذَا تَرَيَانِ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ الزُّبَيْرِ إِنَّ هَذَا الْأَمْرَ مَا لَنَا فِيهِ قَوْلٌ فَاذْهَبْ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ فَإِنِّي تَرَكْتُهُمَا عِنْدَ عَائِشَةَ فَسَلْهُمَا ثُمَّ ائْتِنَا فَأَخْبِرْنَا فَذَهَبَ فَسَأَلَهُمَا فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لِأَبِي هُرَيْرَةَ أَفْتِهِ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَقَدْ جَاءَتْكَ مُعْضِلَةٌ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ الْوَاحِدَةُ تُبِينُهَا وَالثَّلَاثَةُ تُحَرِّمُهَا حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مِثْلَ ذَلِكَ.

قَالَ مَالِك وَعَلَى ذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا ২১১১-وَالثَّيِّبُ إِذَا مَلَكَهَا الرَّجُلُ فَلَمْ يَدْخُلْ بِهَا إِنَّهَا تَجْرِي مَجْرَى الْبِكْرِ الْوَاحِدَةُ تُبِينُهَا وَالثَّلَاثُ تُحَرِّمُهَا حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ

মু’আবিয়া ইবনু আবি ‘আইয়াশ আনসারী (রা) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রা) ও আসিম ইবনু উমার (রা)-এর সাথে বসা ছিলেন। এমন সময় তাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াস ইবনু বুকাইর উপস্থিত হলেন এবং বললেন : এক বেদুঈন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে সঙ্গমের পূর্বে তিন তালাক দিয়েছে সে ব্যাপারে আপনাদের অভিমত কি? আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র বললেন : এ বিষয়ে আমাদের নিকট কোন রেওয়ায়ত পৌঁছেনি, তাই তুমি আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আব্বাস ও আবূ হুরায়রা (রা)-এর কাছে যাও এবং তাদের উভয়ের নিকট প্রশ্ন কর। আমি তাদের উভয়কে ‘আয়িশা সিদ্দীকা (রা)-এর নিকট দেখে এসেছি। তাদের নিকট হতে ফতোয়া জিজ্ঞেস করার পর আমার কাছে এসে বলে যাবে।

মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াস সেখানে গেলেন এবং উভয়কে প্রশ্ন করলেন। ইবনু ‘আব্বাস আবূ হুরায়রা (রা)-কে বললেন, হে আবূ হুরায়রা! আপনি ফতোয়া বলুন। আপনার নিকট কঠিন মাস’আলা উপস্থিত হয়েছে। আবূ হুরায়রা (রা) বললেন : এক তালাক স্ত্রীকে স্বামী হতে পৃথক করবে (বিচ্ছেদ ঘটাবে), তিন তালাক তাকে হারাম করে দিবে যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে। ইবনু আব্বাসও অনুরূপ বললেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন, এই বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ।

মালিক (র) বলেন : অকুমারী নারীর কেউ মালিক হলে এবং উহার সাথে সংগত না হলে তবে তালাকের ব্যাপারে তারও কুমারীর মতো মাস’আলা হবে। এক তালাক তাকে পৃথক করবে এবং তিন তালাক তাকে হারাম করবে যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদ ১৬

পীড়িত ব্যক্তির তালাক

১১৭৯

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ وَكَانَ أَعْلَمَهُمْ بِذَلِكَ وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ وَهُوَ مَرِيضٌ فَوَرَّثَهَا عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ مِنْهُ بَعْدَ انْقِضَاءِ عِدَّتِهَا.

আবূ সালমা ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রা) থেকে বর্ণিতঃ

আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রা) তার স্ত্রীকে আল-বাত্তা (পূর্ণ) তালাক প্রদান করলেন। তখন তিনি পীড়িত ছিলেন। সেই স্ত্রীকে ‘উসমান (রা) ‘আবদুর রহমান ইবনু আওফের সম্পদ হতে মীরাস দিলেন ইদ্দত সমাপ্তির পর। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৮০

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْفَضْلِ عَنْ الْأَعْرَجِ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ وَرَّثَ نِسَاءَ ابْنِ مُكْمِلٍ مِنْهُ وَكَانَ طَلَّقَهُنَّ وَهُوَ مَرِيضٌ.

আ’রজ (র) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনু মুকমিলের পত্নীগণকে তার সম্পত্তি হতে উসমান ইবনু আফফান (রা) মীরাস দিয়েছেন। ইবনু মুকমিল [১] তাদেরকে তালাক দিয়েছিলেন পীড়িত অবস্থায়। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনু মুকমিল ইবনু আউফ ইবনু আবদুল হারিস। তিনি সাহাবী কিনা এ বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে।

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৮১

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ رَبِيعَةَ بْنَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَقُولُ بَلَغَنِي أَنَّ امْرَأَةَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ سَأَلَتْهُ أَنْ يُطَلِّقَهَا فَقَالَ إِذَا حِضْتِ ثُمَّ طَهُرْتِ فَآذِنِينِي فَلَمْ تَحِضْ حَتَّى مَرِضَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فَلَمَّا طَهُرَتْ آذَنَتْهُ فَطَلَّقَهَا الْبَتَّةَ أَوْ تَطْلِيقَةً لَمْ يَكُنْ بَقِيَ لَهُ عَلَيْهَا مِنْ الطَّلَاقِ غَيْرُهَا وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ يَوْمَئِذٍ مَرِيضٌ فَوَرَّثَهَا عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ مِنْهُ بَعْدَ انْقِضَاءِ عِدَّتِهَا.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রবী’আ ইবনু আবী ‘আবদির রহমানকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন : আমার নিকট রেওয়ায়াত পৌঁছেছে যে, ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রা)-এর এক স্ত্রী তার নিকট তালাক চাইলেন। তিনি বলেন : তোমার মাসিক ঋতুর পর তুমি যখন পবিত্র হও তখন আমাকে অবগত করিও। তার ঋতু আসার পূর্বে আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। সে যখন ঋতু হতে পবিত্র হল তখন ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফকে খরব দিল। তিনি স্ত্রীকে আল-বাত্তা তালাক দিলেন অথবা এমন তালাক দিলেন যে তালাক দেয়ার পরে আর কোন তালাক দেয়ার অবকাশ থাকে না। ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ তখন পীড়িত ছিলেন। অতঃপর ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর ‘উসমান (রা) ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফের সম্পদ হতে স্ত্রীকে মীরাস দিলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৮২

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ قَالَ كَانَتْ عِنْدَ جَدِّي حَبَّانَ امْرَأَتَانِ هَاشِمِيَّةٌ وَأَنْصَارِيَّةٌ فَطَلَّقَ الْأَنْصَارِيَّةَ وَهِيَ تُرْضِعُ فَمَرَّتْ بِهَا سَنَةٌ ثُمَّ هَلَكَ عَنْهَا وَلَمْ تَحِضْ فَقَالَتْ أَنَا أَرِثُهُ لَمْ أَحِضْ فَاخْتَصَمَتَا إِلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَقَضَى لَهَا بِالْمِيرَاثِ فَلَامَتْ الْهَاشِمِيَّةُ عُثْمَانَ فَقَالَ هَذَا عَمَلُ ابْنِ عَمِّكِ هُوَ أَشَارَ عَلَيْنَا بِهَذَا يَعْنِي عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ.

মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু হাব্বান (র) থেকে বর্ণিতঃ

আমার দাদা হাব্বানের ছিল দুই পত্নী। একজন হাশিমী বংশের অপর জন আনসার গোত্রের। তারপর তিনি আনসারী স্ত্রীকে তালাক দিলেন। তখন সেই স্ত্রী সন্তানকে দুধপান করাচ্ছিল। এইরূপ এক বৎসর অতিবাহিত হলে পর হাব্বান ইন্তেকাল করেন। তার স্ত্রী আর ঋতুমতী হয়নি। স্ত্রী দাবি করল যে, আমি তার মীরাস (সম্পদের অংশ) পাব। আমার মাসিক ঋতু আসেনি। বিবাদ নিয়ে উভয় পত্নী উসমান ইবনু আফফান (রা)-এর নিকট উপস্থিত হল। উসমান (রা) আনসারী পত্নীনর জন্য মীরাস প্রদানের ফয়সালা দিলেন। এতে হাশিমীয় পত্নী উসমান (রা)-কে দোষারোপ [১] করলেন। তিনি (উসমান রা)বললেন : এটা তোমার চাচাতো ভাই এর ফয়সালা। তিনি আমাদেরকে এ পরামর্শ দিয়েছেন। চাচাতো ভাই হলেন ‘আলী ইবনু আবী তালিব (রা)। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] হাশিমীয় স্ত্রী বললেন, আনসারী স্ত্রীকে তালাক প্রদানের পর কিভাবে তাকে মীরাস দেয়া হল? উত্তরে উসমান ইবনু আফফান (রা) বললেন ঃ আমি এই বিষয়ে আলিমদের সাথে পরামর্শ করেছি। বিশেষভাবে তোমার চাচাতো ভাই আলী ইবনু আবূ তালিবের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  ব্যাখ্যা
  •   সরাসরি

১১৮৩

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ شِهَابٍ يَقُولُ إِذَا طَلَّقَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ ثَلَاثًا وَهُوَ مَرِيضٌ فَإِنَّهَا تَرِثُهُ ২১১৮-قَالَ مَالِك وَإِنْ طَلَّقَهَا وَهُوَ مَرِيضٌ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا فَلَهَا نِصْفُ الصَّدَاقِ وَلَهَا الْمِيرَاثُ وَلَا عِدَّةَ عَلَيْهَا وَإِنْ دَخَلَ بِهَا ثُمَّ طَلَّقَهَا فَلَهَا الْمَهْرُ كُلُّهُ وَالْمِيرَاثُ الْبِكْرُ وَالثَّيِّبُ فِي هَذَا عِنْدَنَا سَوَاءٌ.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ইবনু শিহাবকে বলতে শুনেছেন, কোন ব্যক্তি পীড়িতাবস্থায় স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে তবে সে (স্বামীর) মীরাস পাবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন : যদি কোন ব্যক্তি তার পীড়িত অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয় তার সাথে সংগত হওয়ার পূর্বে তবে সে স্ত্রী মহরের অর্ধেক পাবে এবং সে (স্বামীর) মীরাস পাবে, তার ইদ্দত পালন করতে হবে না। আর যদি সে স্ত্রীর সাথে সংগত হয়ে তারপর তালাক দেয় তবে সে পূর্ণ মহর এর হকদার হবে এবং মীরাসও পাবে।

মালিক (র) বলেন : কুমারী এবং অকুমারী এই ব্যাপারে আমাদের মতে সমান।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদ ১৭

তালাক প্রাপ্তাকে মুত‘আ [১] প্রদানের বর্ণনা

[১] সদ্ব্যবহারের নিদর্শনস্বরূপ তালাকের পর স্ত্রীকে এক জোড়া কাপড় বা অন্য কিছু প্রদান করাকে মুত’আ বলা হয়। সকল প্রকার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে নফল (বাধ্যতামূলক নয়) স্বরূপ মুত’আ প্রদান করা যায়। কিন্তু যে স্ত্রীর মহর ধার্য করা হয় নি এবং সঙ্গমের পূর্বে তাকে তালাক দেয়া হয়েছে সেই স্ত্রীকে মুত’আ প্রদান করা ওয়াজিব।

১১৮৪

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ طَلَّقَ امْرَأَةً لَهُ فَمَتَّعَ بِوَلِيدَةٍ.

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لِكُلِّ مُطَلَّقَةٍ مُتْعَةٌ إِلَّا الَّتِي تُطَلَّقُ وَقَدْ فُرِضَ لَهَا صَدَاقٌ وَلَمْ تُمْسَسْ فَحَسْبُهَا نِصْفُ مَا فُرِضَ لَهَا

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

তার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ তার এক স্ত্রীকে তালাক দিলেন এবং এক ক্রীতদাসী তাকে মুত’আ স্বরূপ দান করলেন। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

নাফি’ (র) হতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রা) বলতেন, প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী মুত’আ পাবে। তবে যে স্ত্রীর মহর ধায্য করা হয়েছে এবং তাকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দেয়া হয়েছে, সে ধার্যকৃত মহরের অর্ধেক মাত্র পাবে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৮৫

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ قَالَ: لِكُلِّ مُطَلَّقَةٍ مُتْعَةٌ قَالَ مَالِك وَبَلَغَنِي عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ مِثْلُ ذَلِكَ. ২১২৩-قَالَ مَالِك لَيْسَ لِلْمُتْعَةِ عِنْدَنَا حَدٌّ مَعْرُوفٌ فِي قَلِيلِهَا وَلَا كَثِيرِهَا.

মালিক (র) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনু শিহাব (র) বলতেন প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর জন্য মুত’আ রয়েছে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

মালিক (র) বলেন : কাশিম মুহাম্মদ (র) হতেও অনুরূপ রেওয়ায়ত আমার কাছে পৌঁছেছে।

মালিক (র) বলেন : আমাদের নিকট মুত’আর ব্যাপারে কম-বেশি কোন নির্দিষ্ট পরিমাণে নাই।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

পরিচ্ছেদ ১৮

ক্রীতদাসের তালাক

১১৮৬

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ نُفَيْعًا مُكَاتَبًا كَانَ لِأُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ عَبْدًا لَهَا كَانَتْ تَحْتَهُ امْرَأَةٌ حُرَّةٌ فَطَلَّقَهَا اثْنَتَيْنِ ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يُرَاجِعَهَا فَأَمَرَهُ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَأْتِيَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَيَسْأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَلَقِيَهُ عِنْدَ الدَّرَجِ آخِذًا بِيَدِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فَسَأَلَهُمَا فَابْتَدَرَاهُ جَمِيعًا فَقَالَا حَرُمَتْ عَلَيْكَ حَرُمَتْ عَلَيْكَ.

সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (র) থেকে বর্ণিতঃ

নুফা“ঈ নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্নী উম্মে সালমা (রা)-এর মুকাতব [১] অথবা ক্রীতদাস ছিল; তাঁর স্ত্রী ছিল আযাদ। সে তাকে দুই তালাক দিয়ে পুনরায় রুজূ করার ইচ্ছা করল। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী (রা) তাকে উসমান ইবনু আফফান (রা)-এর নিকট যাওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং এই বিষয়ে তার নিকট প্রশ্ন করতে বললেন। যায়দ ইবনু সাবিত (রা)-এর হাত ধরাবস্থায় মসজিদের সিঁড়ির নিকটে তার সাক্ষাত পেল। সে (এই মাস’আলার ব্যাপারে) উভয়ের কাছে প্রশ্ন করলে তাঁরা উভয়ে সাথে সাথে উত্তর দিলেন। তোমার উপর হারাম হয়েছে, তোমার উপর হারাম হয়েছে (তার স্ত্রী তাহার উপর হারাম)। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১] মুকাতব: টাকা অথবা অন্য কিছুর বিনিময়ে যে ক্রীতদাসের মুক্তি ধার্য করা হয়েছে।

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৮৭

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ نُفَيْعًا مُكَاتَبًا كَانَ لِأُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَلَّقَ امْرَأَةً حُرَّةً تَطْلِيقَتَيْنِ فَاسْتَفْتَى عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَقَالَ حَرُمَتْ عَلَيْكَ.

সা’ঈদ ইবনু মুসায়্যিব (র) থেকে বর্ণিতঃ

নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্নী উম্মে সালমা (রা)-এর মুকাতব নুফা’ঈ তার আযাদ স্ত্রীকে দুই তালাক দিলেন, অতঃপর উসমান ইবনু আফফান (রা)-এর নিকট ফতোয়া জিজ্ঞেস করলেন। ‘উসমান (রা) উত্তরে বললেন, তোমার জন্য হারাম হয়েছে । (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

১১৮৮

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ أَنَّ نُفَيْعًا مُكَاتَبًا كَانَ لِأُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَفْتَى زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ فَقَالَ إِنِّي طَلَّقْتُ امْرَأَةً حُرَّةً تَطْلِيقَتَيْنِ فَقَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ حَرُمَتْ عَلَيْكَ.

মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম ইবনু হারিস তায়মী (র) থেকে বর্ণিতঃ

নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী উম্মি সালামা (রা)-এর মুকাতব নুফা’ই যায়দ ইবনু সাবিত (রা)-এর নিকট ফতোয়া চাইলেন এই বলে আমি আযাদ স্ত্রীকে দুই তালাক দিয়েছি। এখন ফতোয়া কি? যায়দ ইবনু সাবিত বললেন : (তোমার জন্য) এই স্ত্রী হারাম হয়ে গিয়েছে। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৮৯

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُوْلُ: إِذَا طَلَّقَ الْعَبْدُ امْرَأَتَهُ تَطْلِيقَتَيْنِ فَقَدْ حَرُمَتْ عَلَيْهِ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ حُرَّةً كَانَتْ أَوْ أَمَةً وَعِدَّةُ الْحُرَّةِ ثَلَاثُ حِيَضٍ وَعِدَّةُ الْأَمَةِ حَيْضَتَانِ.

আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রা) থেকে বর্ণিতঃ

কোন ক্রীতদাস স্ত্রীকে দুই তালাক প্রদান করলে সে স্ত্রী তার জন্য হারাম হবে যাবৎ দ্বিতীয় স্বামীর পাণি গ্রহণ না করবে; (স্ত্রী) আযাদ হোক বা ক্রীতদাসী হোক। আর আযাদ স্ত্রীলোকের ইদ্দত হচ্ছে তিন হায়য (মাসিক ঋতু), ক্রীতদাসীর ইদ্দত হচ্ছে দুই হায়য। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১১৯০

و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُوْلُ: مَنْ أَذِنَ لِعَبْدِهِ أَنْ يَنْكِحَ فَالطَّلَاقُ بِيَدِ الْعَبْدِ لَيْسَ بِيَدِ غَيْرِهِ مِنْ طَلَاقِهِ شَيْءٌ فَأَمَّا أَنْ يَأْخُذَ الرَّجُلُ أَمَةَ غُلَامِهِ أَوْ أَمَةَ وَلِيدَتِهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ.

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) থেকে বর্ণিতঃ

যে নিজের ক্রীতদাসকে বিবাহ করার অনুমতি দিয়েছে তার ক্রীতদাসের তালাকের ক্ষমতা থাকবে, অন্যের হাতে তালাকের কোন ক্ষমতা থাকবে না। তবে ক্রীতদাস ও ক্রীতদাসীর বাদীকে নিজের অধিকারে রাখতে কোন দোষ নাই। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।