ইবনে মাজাহ সালাত আদায় করা ও তার নিয়ম কানুন অধ্যায় ৩য় ভাগ হাদিস নং ১০২১ – ১১২০

Table of Contents - সূচিপত্র

৫/৬১. অধ্যায়ঃ

সালাতরত ব্যক্তির থুথু ফেলা।

১০২১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُحَارِبِيِّ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِذَا صَلَّيْتَ فَلاَ تَبْزُقَنَّ بَيْنَ يَدَيْكَ وَلاَ عَنْ يَمِينِكَ وَلَكِنِ ابْزُقْ عَنْ يَسَارِكَ أَوْ تَحْتَ قَدَمِكَ ‏”‏ ‏.‏

তারিক বিন আবদুল্লাহ আল-মুহারিবী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তুমি সালাতরত অবস্থায় তোমার সামনে ও ডানে থুথু ফেলবে না, বরং তোমরা বামে অথবা তোমার পায়ের নিচে থুথু ফেলবে। [১০২১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০২১] তিরমিযী ৫৭১, নাসায়ী ৭২৬, আবূ দাঊদ ৪৭৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৪৯৭, সহীহাহ ১২২৩।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০২২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَأَى نُخَامَةً فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ فَأَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ ‏ “‏ مَا بَالُ أَحَدِكُمْ يَقُومُ مُسْتَقْبِلَهُ – يَعْنِي رَبَّهُ – فَيَتَنَخَّعُ أَمَامَهُ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يُسْتَقْبَلَ فَيُتَنَخَّعَ فِي وَجْهِهِ إِذَا بَزَقَ أَحَدُكُمْ فَلْيَبْزُقَنَّ عَنْ شِمَالِهِ أَوْ لِيَقُلْ هَكَذَا فِي ثَوْبِهِ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ أَرَانِي إِسْمَاعِيلُ يَبْزُقُ فِي ثَوْبِهِ ثُمَّ يَدْلُكُهُ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদে কিবলার দিকে থুথু পতিত দেখতে পেয়ে লোকেদের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, তোমাদের কারো কী হলো যে, তার রবের সামনে দাঁড়ায় এবং তার সামনের দিকে থুথু নিক্ষেপ করে? তোমাদের কেউ কি তার সামনে থেকে তার মুখে থুথু নিক্ষিপ্ত হওয়া পছন্দ করে? অতএব তোমাদের কেউ যখন থুথু ফেলবে, তখন সে যেন তা তার বাম দিকে ফেলে অথবা এভাবে কাপড়ে ফেলে। অতঃপর ইসমাঈল বিন উলাইয়্যা তার থুথু নিক্ষেপ করে তা রগড়িয়ে আমাকে দেখান।[১০২২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০২২] বুখারী ৪০৯, ৪১১, ৪১৪, ৪১৬; মুসলিম ৫৪৮-৫০, নাসায়ী ৩০৯, ৭২৫; আবূ দাঊদ ৪৭৭, ৪৮০; আহমাদ ৭৩৫৭, ৭৪৭৮, ৭৫৫৪, ২৭৪৫৩, ৮০৯৮, ৯১০২, ৯৭৪৬, ১০৫০৮, ১০৬৪২, ১০৬৮০, ১০৮০১, ১১১৫৬, ১১২৩০, ১১৪২৭, ১১৪৬৯; দারিমী ১৩৯৮, মাজাহ ৭৬১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ তারগীব ২৮০

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০২৩

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ زُرَارَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّهُ رَأَى شَبَثَ بْنَ رِبْعِيٍّ بَزَقَ بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَالَ يَا شَبَثُ لاَ تَبْزُقْ بَيْنَ يَدَيْكَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَنْهَى عَنْ ذَلِكَ وَقَالَ ‏ “‏ إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا قَامَ يُصَلِّي أَقْبَلَ اللَّهُ عَلَيْهِ بِوَجْهِهِ حَتَّى يَنْقَلِبَ أَوْ يُحْدِثَ حَدَثَ سُوءٍ ‏”‏ ‏.‏

হুযায়ফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি শাবাস বিন রিবঈকে তার সামনে থুথু ফেলতে দেখে বলেন, হে শাবাছ! তোমার সামনের দিকে থুথু ফেলো না। কেননা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা করতে নিষেধ করতেন এবং বলতেনঃ কোন ব্যক্তি যখন সলাতে দাঁড়ায় তখন আল্লাহ তার সামনে থাকেন, যতক্ষণ না সে সালাত শেষ করে ফিরে যায় অথবা কোন নিকৃষ্ট আচরণ করে।[১০২৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০২৩] হাসান। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ১৫৯৬। উক্ত হাদিসের রাবী আসিম সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা’দ বলেন, তিনি সিকাহ তবে অধিক ভুল করেন। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান তাকে সিকাহ বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

১০২৪

حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَخْزَمَ، وَعَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بَزَقَ فِي ثَوْبِهِ وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ ثُمَّ دَلَكَهُ ‏.‏

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতরত অবস্থায় তাঁর কাপড়ে থুথু ফেলেন, অতঃপর তা ঘষে ফেলেন। [১০২৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০২৪] বুখারী ২৪১, ৪০৫, ৪১৭; নাসায়ী ৩০৮, আবূ দাঊদ ৩৮৯, দারিমী ১৩৯৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৬২. অধ্যায়ঃ

সালাতরত অবস্থায় কাঁকড় স্পর্শ করা।

১০২৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ مَنْ مَسَّ الْحَصَى فَقَدْ لَغَا ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি (সালাতরত অবস্থায়) কাঁকড় স্পর্শ করলো সে বাজে কাজ করলো।[১০২৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০২৫] আহমাদ ৯২০০ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০২৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي مُعَيْقِيبٌ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي مَسْحِ الْحَصَى فِي الصَّلاَةِ ‏ “‏ إِنْ كُنْتَ فَاعِلاً فَمَرَّةً وَاحِدَةً ‏”‏ ‏.‏

মুআইকীব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতরত অবস্থায় পাথর স্পর্শ করা সম্পর্কে বলেছেন, তোমার যদি তা করতেই হয় তবে মাত্র একবার। [১০২৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০২৬] বুখারী ১২০৭, মুসলিম ৫৪১-৩, তিরমিযী ৩৮০, নাসাঈ ১১৯২, আবূ দাঊদ ৯৪৬, আহমাদ ১৫৮৩, ২৩৯৭, দারিমী ১৩৮৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ তারগীব ৫৫৭, সহীহ আবী দাউদ ৮৭২।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০২৭

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ اللَّيْثِيِّ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَإِنَّ الرَّحْمَةَ تُوَاجِهُهُ فَلَا يَمْسَحْ بِالْحَصَى

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ সলাতে দাঁড়ানোর পর যেন আর কাঁকর না সরায়। কেননা তখন রহমাত তার অভিমুখী হয়। [১০২৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৭] তিরমিযী ৩৭৯, আবূ দাঊদ ৯৪৫, দারিমী ১৩৮৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: আবূ দাঊদ ৯৪৫ যঈফ, ইরওয়া ৩৭৭, জামি সগীর ৩১৬ যঈফ, নাসায়ী ১১৯১ যঈফ, তিরমিযী ৩৭৯ যঈফ, মিশকাত ১০০১, ইরওয়াহ ৩৭৭, যঈফ আবূ দাউদ ১৭৫।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৬৩. অধ্যায়ঃ

চাটাইয়ের উপর সালাত পড়া।

১০২৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ، زَوْجُ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُصَلِّي عَلَى الْخُمْرَةِ ‏.‏

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রী মায়মূনা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করতেন। [১০২৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০২৮] বুখারী ৩৩৩, ৩৮৯, ৩৮১, মুসলিম ৫১৩ নাসায়ী ৭৩৮, আবূ দাঊদ ৬৫৬, আহমাদ ২৬২৬৫, ২৬২৬৮, ২৬৩০৯, ২৬৩১১, দারিমী ১৩৭৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৬৬৩।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০২৯

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَلَى حَصِيرٍ ‏.‏

আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করতেন।[১০২৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০২৯] মুসলিম ৫১৯, তিরমিযী ৩৩২, আহমাদ ১১০৯৭, ১১১৬৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৩০

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي زَمْعَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، قَالَ صَلَّى ابْنُ عَبَّاسٍ وَهُوَ بِالْبَصْرَةِ عَلَى بِسَاطِهِ ثُمَّ حَدَّثَ أَصْحَابَهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يُصَلِّي عَلَى بِسَاطِهِ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

বসরায় অবস্থানকালে তার বিছানার উপর সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বিছানার উপর সালাত আদায় করতেন। [১০৩০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৩০] তিরমিযী ৩৩১, আহমাদ ২৪২২, ২৮০৯, ২৯৩৪, ৩৩৬১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৬৬৫। উক্ত হাদিসের রাবী দমআহ বিন সালিহ সম্পর্কে ইবনু আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো সন্দেহ করেন, তবে আমি আশা করি কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদিস বর্ণনা করেন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৬৪. অধ্যায়ঃ

ঠাণ্ডা বা গরমের কারণে কাপড়ের উপর সিজদা করা।

১০৩১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي حَبِيبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ جَاءَنَا النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَصَلَّى بِنَا فِي مَسْجِدِ بَنِي عَبْدِ الأَشْهَلِ فَرَأَيْتُهُ وَاضِعًا يَدَيْهِ عَلَى ثَوْبِهِ إِذَا سَجَدَ ‏.‏

আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান (মাকবূল) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট আসেন এবং আমাদেরকে সাথে নিয়ে আবদুল আশহাল গোত্রের মাসজিদে সালাত পড়েন। সিজদা করাকালে আমি তাঁকে তাঁর উভয় হাত তাঁর কাপড়ের উপর রাখতে দেখেছি। [১০৩১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৩১] আহমাদ ১৮৪৭৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়া ৩১২ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইসমাইল বিন আবু হাবীবাহ সম্পর্কে ইমামগণ বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১০৩২

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الأَشْهَلِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ صَلَّى فِي بَنِي عَبْدِ الأَشْهَلِ وَعَلَيْهِ كِسَاءٌ مُتَلَفِّفٌ بِهِ يَضَعُ يَدَيْهِ عَلَيْهِ يَقِيهِ بَرْدَ الْحَصَى ‏.‏

সাবিত ইবনুস-সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবদুল আশহাল গোত্রে সালাত পড়েন। তাঁর গায়ে জড়ানো ছিল একখানা চাদর। পাথরের ঠাণ্ডা থেকে বাঁচার জন্য তিনি তাঁর দু’হাত ঐ চাদরের উপর রাখেন।[১০৩২]

  •  
  •  
  •  
  •  

যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী ইসমাইল বিন আবু উওয়ায়স সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১০৩৩

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ غَالِبٍ الْقَطَّانِ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي شِدَّةِ الْحَرِّ فَإِذَا لَمْ يَقْدِرْ أَحَدُنَا أَنْ يُمَكِّنَ جَبْهَتَهُ بَسَطَ ثَوْبَهُ فَسَجَدَ عَلَيْهِ ‏.

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা প্রচণ্ড গরমের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে সালাত পড়তাম। আমাদের কেউ (মাটিতে) তাঁর কপাল রাখতে অসমর্থ হলে তার কাপড় বিছিয়ে তার উপর সিজদা করতো। [১০৩৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৩৩] বুখারী ৩৮৫, ৫৪২, ১২০৮, মুসলিম ৬২০, তিরমিযী ৫৮৪, নাসায়ী ১১১৬, আবূ দাঊদ ৬৬০, আহমাদ ১১৫৫৯ দারিমী ১৩৩৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩১১, সহীহ আবী দাউদ ৬৬৬।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৬৫. অধ্যায়ঃ

সলাতে পুরুষদের জন্য তাসবীহ এবং নারীদের জন্য হাততালি।

১০৩৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, পুরুষদের জন্য তাসবীহ এবং নারীদের জন্য হাততালি। [১০৩৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৩৪] বুখারী ১২০৩, মুসলিম ৪২২, তিরমিযী ৩৬৯, নাসায়ী ১২০৭, ১২০৮, ১২০৯, ১২১০, আবূ দাঊদ ৯৩৯, ৯৪৪, আহমাদ ৭২৪৩, ৭৪৯৭, ২৭৪২১, ৮৬৭৪, ৯৩০২, ৯৩৮৯, ৯৭৬৪, ৯৮৫৬, ১০২১৩, ১০৪৭০, দারিমী ১৩৬৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৮৬৭।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৩৫

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَسَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ ‏”‏ ‏.‏

সাহল বিন সা‘দ আস-সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, পুরুষদের জন্য তাসবীহ এবং নারীদের জন্য হাততালি। [১০৩৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৩৫] বুখারী ৬৮৪, ১২০৪, ১২১৮, ১২৩৪, ২৬৯০, ৭১৯০, মুসলিম ৪২১, নাসায়ী ৭৮৪, ৭৯৩, ১১৮৩, আবূ দাঊদ ৯৪০, আহমাদ ২২২৯৫, ২২৩০১, ২২৩০৯, ২২৩৪১, ২২৩৫৬, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩৯২, দারিমী ১৩৬৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৮৬৮।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৩৬

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، وَعُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ قَالَ ابْنُ عُمَرَ رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لِلنِّسَاءِ فِي التَّصْفِيقِ وَلِلرِّجَالِ فِي التَّسْبِيحِ ‏.‏

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নারীদের জন্য হাততালি এবং পুরুষদের জন্য তাসবীহ পাঠের অনুমতি দিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৬৬. অধ্যায়ঃ

জুতা পরে সালাত আদায়।

১০৩৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْسٍ، قَالَ كَانَ جَدِّي أَوْسٌ يُصَلِّي فَيُشِيرُ إِلَىَّ وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ فَأُعْطِيهِ نَعْلَيْهِ وَيَقُولُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُصَلِّي فِي نَعْلَيْهِ ‏.‏

আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

কখনো কখনো সালাতরত অবস্থায় আমার দিকে ইশারা করতেন। আমি তার জুতা জোড়া এগিয়ে দিতাম। তিনি বলতেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে তাঁর জুতাজোড়া পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি।[১০৩৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৩৭] আহমাদ ১৫৭২৪, ১৫৭৩৪, ১৫৭৪৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ইবনু আবু আওস সম্পর্কে ইমামগণ বলেন, তার জারাহ তা’দীল সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৩৮

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ الصَّوَّافُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُصَلِّي حَافِيًا وَمُنْتَعِلاً ‏.‏

আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে খালি পায়েও এবং জুতা পরিহিত অবস্থায়ও সালাত আদায় করতে দেখেছি।[১০৩৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৩৮] আবূ দাঊদ ৬৫৩, আহমাদ ৬৫৯০, ৬৭৮৯, ৬৯৮২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৬৬০।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৩৯

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَقَدْ رَأَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُصَلِّي فِي النَّعْلَيْنِ وَالْخُفَّيْنِ ‏.‏

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জুতা পরিহিত অবস্থায় এবং মোজা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখেছি।[১০৩৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৩৯] আহমাদ ৪৩৯২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৬৭. অধ্যায়ঃ

সালাতরত অবস্থায় চুল ও কাপড় গুটানো।

১০৪০

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، وَأَبُو عَوَانَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ أُمِرْتُ أَنْ لاَ أَكُفَّ شَعْرًا وَلاَ ثَوْبًا ‏”‏ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আমি যেন (সালাতরত অবস্থায়) চুল বা পরিধেয় বস্ত্র না গুটাই। [১০৪০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৪০] বুখারী ৮০৯-১০, ৮১২, ৮১৫-১৬; মুসলিম ৪৯০/১-৫, তিরমিযী ২৭৩, নাসায়ী ১০৯৩, ১০৯৬-৯৮, ১১১৩, ১১১৫; আবূ দাঊদ ৮৮৯-৯০, আহমাদ ২৫২৩, ২৫৭৯, ২৫৮৩, ২৬৫৩, ২৭৭৩, ২৯৭৬; দারিমী ১৩১৮-১৯, ইবনু মাজাহ ৮৮৩-৮৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৪১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أُمِرْنَا أَلاَّ نَكُفَّ شَعَرًا وَلاَ ثَوْبًا وَلاَ نَتَوَضَّأَ مِنْ مَوْطَإٍ ‏.‏

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা আদিষ্ট হয়েছি যে আমরা যেন চুল ও কাপড় না গুটাই এবং আবর্জনার স্থান অতিক্রম করলে উযু না করি। [১০৪১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৪১] আবূ দাঊদ ২০৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ১৮৩, সহীহ আবী দাউদ ১৯৯।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৪২

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي مُخَوَّلُ بْنُ رَاشِدٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعْدٍ، – رَجُلاً مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ – يَقُولُ رَأَيْتُ أَبَا رَافِعٍ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَأَى الْحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ وَهُوَ يُصَلِّي وَقَدْ عَقَصَ شَعْرَهُ فَأَطْلَقَهُ أَوْ نَهَى عَنْهُ وَقَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ يُصَلِّيَ الرَّجُلُ وَهُوَ عَاقِصٌ شَعْرَهُ ‏.‏

আবূ সা’দ শুরাইবীল (ইব্‌নু সা’দ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মুক্ত করা দাস আবূ রাফি’ (আসলাম) (রাঃ) -কে দেখলাম যে, তিনি হাসান বিন আলী (রাঃ)-কে চুল বাঁধা অবস্থায় সালাত আদায় করতে দেখে তা খুলে দিলেন বা তাকে নিষেধ করলেন এবং বললেন, রসূলুল্লাহব (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুলের খোঁপা বেঁধে পুরুষদের সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন।[১০৪২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৪২] আহমাদ ২৬৬৪৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ২৩৮৬, সহীহ আবূ দাউদ ৬৫৩।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৬৮ অধ্যায়ঃ

সলাতে বিনয়ভাব জাগ্রত করা।

১০৪৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ لاَ تَرْفَعُوا أَبْصَارَكُمْ إِلَى السَّمَاءِ أَنْ تَلْتَمِعَ ‏”‏ ‏.‏ يَعْنِي فِي الصَّلاَةِ ‏.‏

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা সালাতরত অবস্থায় তোমাদের দৃষ্টি আকাশের দিকে উঠাবে না, অন্যথায় তোমাদের দৃষ্টি ছিনিয়ে নেয়া হতে পারে। [১০৪৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

ইমাম ইবনু মাজাহ হাদিসটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৪৪

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَوْمًا بِأَصْحَابِهِ فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ أَقْبَلَ عَلَى الْقَوْمِ بِوَجْهِهِ فَقَالَ ‏”‏ مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ ‏”‏ ‏.‏ حَتَّى اشْتَدَّ قَوْلُهُ فِي ذَلِكَ ‏”‏ لَيَنْتَهُنَّ عَنْ ذَلِكَ أَوْ لَيَخْطَفَنَّ اللَّهُ أَبْصَارَهُمْ ‏”‏ ‏.‏

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত পড়েন। তিনি সালাত শেষ করে লোকেদের দিকে তাঁর মুখ ফিরিয়ে বলেন, লোকেদের কী হলো যে, তারা আকাশের দিকে তাকায়। এ ব্যাপারে তিনি কঠোর মন্তব্য করেন। অবশ্যই তারা যেন তা থেকে বিরত থাকে, অন্যথায় আল্লাহ নিশ্চয় তাদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিবেন। [১০৪৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৪৪] বুখারী ৭৫০, নাসায়ী ১১৯৩, আবূ দাঊদ ৯১৩, আহমাদ ১১৬৫৪, ১১৬৯৪, ১১৭৩৬, ১১৭৪৫, ১২০১৮, ১৩২৯৯, দারিমী ১৩০২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ তারগীব ৫৪৮, সহীহ আবূ দাউদ ৮৪৭

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৪৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ أَوْ لاَ تَرْجِعُ أَبْصَارُهُمْ ‏”‏ ‏.‏

জাবির বিন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, লোকেরা যেন আকাশের দিকে তাদের চোখ তোলা থেকে অবশ্যই বিরত থাকে, অন্যথায় তারা তাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে না।[১০৪৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৪৫] মুসলিম ৪২৮, আবূ দাঊদ ৯১২, আহমাদ ২০৩২৬, ২০৩৬৩, ২০৪৫৭, ২০৫৩৭, দারিমী ১৩০১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ তারগীব সহীহ, আবূ দাউদ ৮৪৬

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৪৬

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ قَالاَ حَدَّثَنَا نُوحُ بْنُ قَيْسٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَتِ امْرَأَةٌ تُصَلِّي خَلْفَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حَسْنَاءُ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ فَكَانَ بَعْضُ الْقَوْمِ يَسْتَقْدِمُ فِي الصَّفِّ الأَوَّلِ لِئَلاَّ يَرَاهَا وَيَسْتَأْخِرُ بَعْضُهُمْ حَتَّى يَكُونَ فِي الصَّفِّ الْمُؤَخَّرِ فَإِذَا رَكَعَ قَالَ هَكَذَا يَنْظُرُ مِنْ تَحْتِ إِبْطِهِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ ‏{وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِينَ}‏ فِي شَأْنِهَا ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক পরমা সুন্দরী মহিলা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পেছনে সলাহ আদায় করতো। কতক লোক সামনের কাতারে এগিয়ে যেতো যাতে তার প্রতি তার দৃষ্টি না পড়ে এবং কতক লোক পেছনের শেষ কাতারে সরে যেতো। সে রুকু’তে গিয়ে নিজ বগলের নিচ দিয়ে (তার প্রতি) তাকাতো। তখন আল্লাহ সেই মহিলাটি সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল করেন (অনুবাদ) : “আমি তোমাদের মধ্যকার অগ্রগামীদেরকেও জানি এবং পশ্চাদগামীদেরকেও জানি”- (সূরা হিজরঃ ২৪)। [১০৪৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৪৬] তিরমিযী ৩১২২, নাসায়ী ৮৭০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ২৪৭২।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৬৯. অধ্যায়ঃ

এক কাপড়ে সালাত পড়া।

১০৪৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَتَى رَجُلٌ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَحَدُنَا يُصَلِّي فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ أَوَكُلُّكُمْ يَجِدُ ثَوْبَيْنِ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! আমাদের কেউ কেউ এক কাপড়ে সালাত পড়ে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের কি দু’টি করে পরিধেয় বস্ত্র আছে? [১০৪৭]

 

তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। সহীহ আবূ দাঊদ।

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৪৭] বুখারী ৩৫৮, ৩৬৫, মুসলিম ৫১১-২, নাসায়ী ৭৬৩, আবূ দাঊদ ৬২৫, আহমাদ ৭১০৯, ৭২১০, ৭৫৫১, ৮৩৪৪, ১০০৪৬, ১০০৮৬, ১০১০৭, ১০১২৫, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩২০, দারিমী ১৩৭০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৪৮

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ يُصَلِّي فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ مُتَوَشِّحًا بِهِ ‏.

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হলেন। তখন তিনি এক কাপড় পরিহিত অবস্থায় তার দু’ প্রান্ত কাঁধের সাথে বেঁধে সালাত পড়ছিলেন। [১০৪৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৪৮] মুসলিম ৫১৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৪৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُصَلِّي فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ مُتَوَشِّحًا بِهِ وَاضِعًا طَرَفَيْهِ عَلَى عَاتِقَيْهِ ‏.‏

উমার বিন আবূ সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে একটি কাপড় জড়িয়ে তার দু’প্রান্ত তাঁর দু’ কাঁধে বেঁধে সালাত আদায় করতে দেখেছি। [১০৪৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৪৯] বুখারী ৩৫৪, ৩৫৫, ৩৫৬, মুসলিম ৫১১-৩, তিরমিযী ৩৩৯, নাসায়ী ৭৬৪, আবূ দাঊদ ৬২৮, আহমাদ ১৫৮৯৪, ১৫৯০০, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩১৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৬৩৯।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৫০

حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الشَّافِعِيُّ، إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَنْظَلَةَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادٍ الْمَخْزُومِيُّ، عَنْ مَعْرُوفِ بْنِ مُشْكَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُصَلِّي بِالْبِئْرِ الْعُلْيَا فِي ثَوْبٍ ‏.‏

কায়সান বিন জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বিরে উলিয়া নামক কূপের নিকট এক কাপড়ে সালাত আদায় করতে দেখেছি। [১০৫০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৫০] আহমাদ ১৫০১৯, ইবনু মাজাহ ১০৫১। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আব্দুর রহমান বিন কায়সান সম্পর্কে ইমামগণ মাসতুর বলেছেন।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

১০৫১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُصَلِّي الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ مُتَلَبِّبًا بِهِ ‏.‏

কায়সান বিন জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে একটি কাপড় পড়ে যোহর ও আসরের সালাত আদায় করতে দেখেছি।[১০৫১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৫১] আহমাদ ১৫০১৯, ইবনু মাজাহ ১০৫০। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী উক্ত হাদিসের রাবী আব্দুর রহমান বিন কায়সান সম্পর্কে ইমামগণ মাসতুর বলেছেন।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৭০. অধ্যায়ঃ

কুরআন তিলাওয়াতের সিজদাসমূহ।

১০৫২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِذَا قَرَأَ ابْنُ آدَمَ السَّجْدَةَ فَسَجَدَ اعْتَزَلَ الشَّيْطَانُ يَبْكِي يَقُولُ يَا وَيْلَهُ أُمِرَ ابْنُ آدَمَ بِالسُّجُودِ فَسَجَدَ فَلَهُ الْجَنَّةُ وَأُمِرْتُ بِالسُّجُودِ فَأَبَيْتُ فَلِيَ النَّارُ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, বনী আদম যখন সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা দেয় তখন শায়তান কাঁদতে কাঁদতে দূরে সরে যায় আর বলেঃ আফসোস! বনী আদমকে সিজদা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং সে সিজদা করছে। তাই তার প্রতিদান জান্নাত। আর আমাকে সিজদা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, আমি তা অমান্য করেছি। তাই আমার প্রতিদান হলো জাহান্নাম।[১০৫২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৫২] মুসলিম ৮১, আহমাদ ৯৪২০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৫৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ خُنَيْسٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، قَالَ قَالَ لِي ابْنُ جُرَيْجٍ يَا حَسَنُ أَخْبَرَنِي جَدُّكَ، عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي يَزِيدَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ الْبَارِحَةَ فِيمَا يَرَى النَّائِمُ كَأَنِّي أُصَلِّي إِلَى أَصْلِ شَجَرَةٍ فَقَرَأْتُ السَّجْدَةَ فَسَجَدْتُ فَسَجَدَتِ الشَّجَرَةُ لِسُجُودِي فَسَمِعْتُهَا تَقُولُ اللَّهُمَّ احْطُطْ عَنِّي بِهَا وِزْرًا وَاكْتُبْ لِي بِهَا أَجْرًا وَاجْعَلْهَا لِي عِنْدَكَ ذُخْرًا ‏.‏ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَرَأَ السَّجْدَةَ فَسَجَدَ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ فِي سُجُودِهِ مِثْلَ الَّذِي أَخْبَرَهُ الرَّجُلُ عَنْ قَوْلِ الشَّجَرَةِ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) , এর সুত্রে আমাকে অবহিত করেন যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, আমি গতরাতে স্বপ্নে দেখলাম যে আমি একটি গাছের গোড়ায় সালাত পরছি এবং তাতে আমি সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করছি। আমি সিজদা করলাম এবং গাছটিও আমার অনুরূপ সিজদা করলো। আমি গাছটিকে বলতে শুনলাম, “হে আল্লাহ! এই সিজদার দ্বারা আমার গুনাহ অপসারিত করুন, আমার জন্য পুরস্কার নির্ধারণ করুন এবং এটাকে আপনার নিকট সঞ্চয় হিসাবে জমা রাখুন”। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করার পর সিজদা দিতে দেখেছি এবং তাঁকে তাঁর সিজদায় সেই দুআ’ করতে শুনলাম, গাছটির যে দুআ’ ঐ ব্যক্তি তাঁকে অবহিত করেছিল। [১০৫৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৫৩] তিরমিযী ৫৭৯, ৩৪২৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ১০৩৬, সহীহাহ ২৭১০।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

১০৫৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَمْرٍو الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنِ ابْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ إِذَا سَجَدَ قَالَ ‏ “‏ اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ أَنْتَ رَبِّي سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي شَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ تَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ ‏”‏ ‏.‏

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর তিলাওয়াতের সিজদায় বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য সিজদা করলাম, তোমার উপর ঈমান আনলাম, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করলাম এবং তুমিই আমার প্রভু। আমার মুখমণ্ডল সেই মহান সত্তাকে সিজদা করলো, যিনি এর কানের শ্রবণশক্তি ও চোখের দৃষ্টিশক্তি দান করেছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কত মহান।”[১০৫৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৫৪] মুসলিম ৭৭১, তিরমিযী ৩৪২১, ৩৪২২, ৩৪২৩, আবূ দাঊদ ৭৬০, আহমাদ ৭৩১, ৮০৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭৩৮।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৭১. অধ্যায়ঃ

কুরআন মাজীদে তিলাওয়াতের সিজদার সংখ্যা।

১০৫৫

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ عُمَرَ الدِّمَشْقِيِّ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، قَالَتْ حَدَّثَنِي أَبُو الدَّرْدَاءِ، أَنَّهُ سَجَدَ مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِحْدَى عَشْرَةَ سَجْدَةً مِنْهُنَّ النَّجْمُ ‏.‏

হুজায়মাহ বিনতু হুওয়ায় (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আবূদ-দারদা (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে এগারটি সিজদা করেছেন। সূরা নাজম-এর সিজদাও তার অন্তর্ভুক্ত। [১০৫৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৫৫] তিরমিযী ৫৬৮৭, আহমাদ ২৬৯৪৮, ইবনু মাজাহ ১০৫৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: যঈফ আবূ দাউদ ২৩৮, ২৩৯। উক্ত হাদিসের রাবী উমার আদ-দিমাশকী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে তিনি কে? তা জানা যায়না।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১০৫৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ فَائِدٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنِ الْمَهْدِيِّ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُيَيْنَةَ بْنِ خَاطِرٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي عَمَّتِي أُمُّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ سَجَدْتُ مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِحْدَى عَشْرَةَ سَجْدَةً لَيْسَ فِيهَا مِنَ الْمُفَصَّلِ شَىْءٌ الأَعْرَافُ وَالرَّعْدُ وَالنَّحْلُ وَبَنِي إِسْرَائِيلَ وَمَرْيَمُ وَالْحَجُّ وَسَجْدَةُ الْفُرْقَانِ وَسُلَيْمَانُ سُورَةُ النَّمْلِ وَالسَّجْدَةُ وَفِي ص وَسَجْدَةُ الْحَوَامِيمِ ‏.‏

উইয়াইমির বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে এগারটি সিজদা করেছি, তার মধ্যে মুফাসসাল সূরা ছিল না (সিজদার সূরাসমূহ) : সূরা আ’রাফ, রাদ, নাহল, বানূ ইসরাঈল, মারয়াম, হজ্জ , ফুরকান, নাম্‌ল, আস-সাজদা, সা’দ ও হ’মীম সংযুক্ত সূরাসমূহ। [১০৫৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৫৬] তিরমিযী ৫৬৮৭, আহমাদ ২৬৯৪৮, ইবনু মাজাহ ১০৫৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী উসমান বিন ফায়িদ সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে দুর্বলতা রয়েছে। ইবনু হিব্বান বলেন, তার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। ২. মাহদী বিন আব্দুর রহমান বিন উবায়দাহ বিন খাতির সম্পর্কে ইমামগণ মাজহুল বা অপরিচিত বলেছেন।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১০৫৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ سَعِيدٍ الْعُتَقِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُنَيْنٍ، – مِنْ بَنِي عَبْدِ كِلاَلٍ – عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَقْرَأَهُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَجْدَةً فِي الْقُرْآنِ مِنْهَا ثَلاَثٌ فِي الْمُفَصَّلِ وَفِي الْحَجِّ سَجْدَتَيْنِ ‏.‏

আম্‌র ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে কুরআনের পনেরোটি সাজদাহ্‌ পড়িয়েছেন। তন্মধ্যে মুফাসসাল সূরায় তিনটি এবং সূরা হাজ্জে দুটি সাজদাহ্‌ রয়েছে। [১০৫৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৫৭] আবূ দাঊদ ১৪০১। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: আবূ দাঊদ ১৪০১ যঈফ, মিশকাত ১০২৯। উক্ত হাদিসের রাবী হারিস বিন সাঈদ আল-উতাকী সম্পর্কে ইবনু কাত্তান বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানা যায়না। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি অপরিচিত।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১০৫৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَطَاءِ بْنِ مِينَاءَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَجَدْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي ‏{إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ}‏ وَ ‏{اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ}‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সূরা ইযাসা্‌মাউন শাক্‌কাত ও সূরা ইক্‌রা বিস্‌মে রব্বিকায় সিজদা করেছি। [১০৫৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৫৮] বুখারী ৭৬৬, ৭৬৮, ১০৭৪, ১০৭৮, মুসলিম ৫৭১-৫, তিরমিযী ৫৭৩, নাসায়ী ৯৬১, ৯৬২, ৯৬৩, ৯৬৫, ৯৬৬, ৯৬৭, ৯৬৮, আবূ দাঊদ ১৪০৭, ১৪০৮, আহমাদ ৭১০০, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৪৭৮, দারিমী ১৪৬৮, ১৪৬৯, ১৪৭০, ১৪৭১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ১১৬৮।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৫৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ سَجَدَ فِي ‏{إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ}‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ مَا سَمِعْتُ أَحَدًا يَذْكُرُهُ غَيْرَهُ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইযাস সামাউন শাক্‌কাত সূরাতে সিজদা করেছেন। আবূ বকর বিন আবূ শায়বা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ (রহঃ) সুত্রে বর্ণিত। আমি তাকে ছাড়া আর কাউকে হাদীসটি উল্লেখ করতে শুনিনি। [১০৫৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৫৯] বুখারী ৭৬৬, ৭৬৮, ১০৭৪, ১০৭৮, মুসলিম ৫৭১-৫, তিরমিযী ৫৭৩, নাসায়ী ৯৬১, ৯৬২, ৯৬৩, ৯৬৫, ৯৬৬, ৯৬৭, ৯৬৮, আবূ দাঊদ ১৪০৭, ১৪০৮, আহমাদ ৭১০০, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৪৭৮, দারিমী ১৪৬৮, ১৪৬৯, ১৪৭০, ১৪৭১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ১১৬৯।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৭২. অধ্যায়ঃ

সালাতকে পুর্নাঙ্গ করা।

১০৬০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى وَرَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي نَاحِيَةٍ مِنَ الْمَسْجِدِ فَجَاءَ فَسَلَّمَ فَقَالَ ‏”‏ وَعَلَيْكَ فَارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ ‏”‏ ‏.‏ فَرَجَعَ فَصَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏”‏ وَعَلَيْكَ فَارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ بَعْدُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فِي الثَّالِثَةَ فَعَلِّمْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَأَسْبِغِ الْوُضُوءَ ثُمَّ اسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ وَكَبِّرْ ثُمَّ اقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ قَائِمًا ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ حَتَّى تَسْتَوِيَ قَاعِدًا ثُمَّ افْعَلْ ذَلِكَ فِي صَلاَتِكَ كُلِّهَا ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি মাসজিদে প্রবেশ করে সালাত পড়লো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন মাসজিদের এক পাশে অবস্থান করছিলেন। সে এসে তাঁকে সালাম দিল। তিনি বলেন, তোমার প্রতিও, তুমি ফিরে যাও, আবার সালাত পড়ো। কেননা তুমি সালাত পড়োনি। সে ফিরে যেয়ে সালাত পড়লো, তারপর এসে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে সালাম দিল। তিনি বললেন তোমার প্রতিও, ফিরে যাও এবং সালাত পড়ো। কেননা তুমি সালাত পড়োনি। তৃতীয়বারে সে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বলেন, তুমি সালাত পড়ার ইচ্ছা করলে উত্তমরূপে উযু করো, তারপর কিবলামুখী হয়ে তাকবীর (তাহরীমা) বলো, এরপর কুরআনের যে অংশ তোমার কাছে সহজ সেখান থেকে কিরাআত পাঠ করো, তারপর ধীরস্থিরভাবে রুকূ’ করো, অতঃপর রুকূ’ থেকে দাঁড়িয়ে সোজা হও, তারপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা করো, অতঃপর মাথা তুলে সোজা হয়ে বসো। তুমি তোমার গোটা সালাত এভাবে পড়ো। [১০৬০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৬০] ইবনু মাজাহ ৩৬৯৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ২৮৯, সহীহ আবূ দাউদ ৮০২।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৬১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ السَّاعِدِيَّ، فِي عَشْرَةٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِيهِمْ أَبُو قَتَادَةَ فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏ قَالُوا لِمَ فَوَاللَّهِ مَا كُنْتَ بِأَكْثَرِنَا لَهُ تَبَعَةً وَلاَ أَقْدَمَنَا لَهُ صُحْبَةً ‏.‏ قَالَ بَلَى ‏.‏ قَالُوا فَاعْرِضْ ‏.‏ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ كَبَّرَ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ وَيَقِرَّ كُلُّ عُضْوٍ مِنْهُ فِي مَوْضِعِهِ ثُمَّ يَقْرَأُ ثُمَّ يُكَبِّرُ وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ يَرْكَعُ وَيَضَعُ رَاحَتَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ مُعْتَمِدًا لاَ يَصُبُّ رَأْسَهُ وَلاَ يُقْنِعُ مُعْتَدِلاً ثُمَّ يَقُولُ ‏ “‏ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ‏”‏ ‏.‏ وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ حَتَّى يَقِرَّ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ ثُمَّ يَهْوِي إِلَى الأَرْضِ وَيُجَافِي يَدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ وَيَثْنِي رِجْلَهُ الْيُسْرَى فَيَقْعُدُ عَلَيْهَا وَيَفْتَخُ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ إِذَا سَجَدَ ثُمَّ يَسْجُدُ ثُمَّ يُكَبِّرُ وَيَجْلِسُ عَلَى رِجْلِهِ الْيُسْرَى حَتَّى يَرْجِعَ كُلُّ عَظْمٍ مِنْهُ إِلَى مَوْضِعِهِ ثُمَّ يَقُومُ فَيَصْنَعُ فِي الرَّكْعَةِ الأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ إِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ كَمَا صَنَعَ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلاَةِ ثُمَّ يُصَلِّي بَقِيَّةَ صَلاَتِهِ هَكَذَا حَتَّى إِذَا كَانَتِ السَّجْدَةُ الَّتِي يَنْقَضِي فِيهَا التَّسْلِيمُ أَخَّرَ إِحْدَى رِجْلَيْهِ وَجَلَسَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْسَرِ مُتَوَرِّكًا ‏.‏ قَالُوا صَدَقْتَ هَكَذَا كَانَ يُصَلِّي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏

হারিস বিন রিবঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দশ জন সাহাবীর উপস্থিতিতে বলতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাতের ব্যপারে আমি তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞাত। তারা বলেন, তা কিভাবে? আল্লাহ্‌র শপথ! আপনি আমাদের চেয়ে অধিক কাল তাঁর অনুসারণকারী নন এবং তাঁর সাহচর্য লাভের দিক থেকেও আমাদের অগ্রগামী নন। তিনি বলেন, হ্যাঁ। তারা বলেন, তাহলে আপনার বক্তব্য পেশ করুন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতে দাঁড়িয়ে তাকবীর (তাহরীমা) বলতেন, তারপর তাঁর উভয় হাত তাঁর দু’ কাঁধ বরাবর উঠাতেন এবং তাঁর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্ব স্ব স্থানে স্থির থাকতো। অতঃপর তিনি কিরাআত পড়তেন, অতঃপর তাকবীর বলে তাঁর উভয় কাঁধ বরাবর তাঁর উভয় হাত উঠাতেন। তারপর তিনি রুকূ’ করতেন এবং রুকূ’তে তাঁর উভয় হাত যথাযথভাবে দু’ হাঁটুর উপর রাখতেন, তাঁর মাথা অধিক উঁচু বা নিচু না করে সমানভাবে রাখতেন। অতঃপর তিনি ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে উভয় হাত উভয় কাঁধ বরাবর উঠাতেন, এমনকি তাঁর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্ব স্ব স্থানে স্থির হয়ে যেত। অতঃপর তিনি যমীনের দিকে (সিজদায়) ঝুঁকে যেতেন এবং পার্শ্বদেশ থেকে উভয় হাত আলাদা রাখতেন, অতঃপর মাথা উঠিয়ে বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসতেন এবং সিজদার সময় উভয় পায়ের আঙ্গুলগুলো ভাঁজ করে খাড়া রাখতেন, তারপর সিজদা করতেন, অতঃপর তাকবীর বলে (সিজদা থেকে উঠে) বাম পায়ের উপর বসতেন, এমনকি তাঁর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বস্থানে স্থির হয়ে যেত। অতঃপর তিনি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকাআতেও প্রথম রাকাআতের অনুরূপ করতেন। তিনি দ্বিতীয় রাকাআত থেকে দাঁড়ানোর সময় তাঁর উভয় হাত তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন, যেমন উঠাতেন সালাত শুরু করার সময়। তিনি অবশিষ্ট সালাত এভাবে পড়তেন। শেষ সিজদা করে তিনি সালাম ফিরিয়ে এক পা আগে-পিছে করে, বাম দিকের পাছার উপর ভর করে বসতেন। তারা বলেন, আপনি যথার্থই বলেছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এভাবেই সালাত আদায় করতেন। [১০৬১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৬১] বুখারী ৮২৮, তিরমিযী ২৬০, ৩০৪; নাসায়ী ১০৩৯, ১১৮১; আবূ দাঊদ ৭৩০, ৯৬৩; আহমাদ ২৩০৮৮, দারিমী ১৩০৭, ১৩৫৬; ইবনু মাজাহ ৮৬২, ৮৬৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩০৫, সহীহ আবী দাউদ ৭২০, ৭২১।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৬২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ أَبِي الرِّجَالِ، عَنْ عَمْرَةَ، قَالَتْ سَأَلْتُ عَائِشَةَ كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا تَوَضَّأَ فَوَضَعَ يَدَيْهِ فِي الإِنَاءِ سَمَّى اللَّهَ وَيُسْبِغُ الْوُضُوءَ ثُمَّ يَقُومُ فَيَسْتَقْبِلُ الْقِبْلَةَ فَيُكَبِّرُ وَيَرْفَعُ يَدَيْهِ حِذَاءَ مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ يَرْكَعُ فَيَضَعُ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَيُجَافِي بِعَضُدَيْهِ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ فَيُقِيمُ صُلْبَهُ وَيَقُومُ قِيَامًا هُوَ أَطْوَلُ مِنْ قِيَامِكُمْ قَلِيلاً ثُمَّ يَسْجُدُ فَيَضَعُ يَدَيْهِ تِجَاهَ الْقِبْلَةِ وَيُجَافِي بِعَضُدَيْهِ مَا اسْتَطَاعَ فِيمَا رَأَيْتُ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ فَيَجْلِسُ عَلَى قَدَمِهِ الْيُسْرَى وَيَنْصِبُ الْيُمْنَى وَيَكْرَهُ أَنْ يَسْقُطَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْسَرِ ‏.‏

আমরাহ (বিনতু আবদুর রাহমান) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সালাত কিরূপ ছিল? তিনি বলেন, তিনি উযু করার সময় বিসমিল্লাহ বলে পাত্রে তাঁর দু’হাত রেখে পূর্ণরূপে উযু করতেন, অতঃপর কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলতেন এবং তাঁর উভয় হাত তাঁর উভয় কাঁধ পর্যন্ত উত্তোলন করতেন, অতঃপর কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলতেন এবং তাঁর উভয় হাত উভয় কাঁধ পর্যন্ত উত্তোলন করতেন অতঃপর (কিরাআত শেষে) রুকূ’ করতেন এবং তাঁর উভয় হাত উভয় হাঁটুতে রাখতেন এবং হাত দুটোকে পৃথক করে রাখতেন। তারপর মাথা উত্তোলন করে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং তোমাদের চাইতে সামান্য বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন। অতঃপর তিনি সিজদা করতেন এবং তাঁর হাত দু’টি কিবলামুখী করে রাখতেন। আমি যতটা দেখেছি, তিনি যথাসাধ্য তাঁর হাত দুটি (পাঁজর থেকে) পৃথক রাখতেন। অতঃপর তিনি তাঁর মাথা তুলে তাঁর বা পায়ের উপর বসতেন এবং ডান পায়ের পাতা খাড়া রাখতেন। তিনি বাঁদিকে ঝুঁকে বসতে অপছন্দ করতেন। [১০৬২]

 

তাহকীক আলবানী : দঈফ জিদ্দান।

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৬২] আবূ দাঊদ ৭৭৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ জিদ্দান। উক্ত হাদিসের রাবী হারিসাহ বিন আবু রিজাল সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু যুরআহ আর-রাযী ও আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন।

হাদিসের মানঃ খুবই দুর্বল

  •  সরাসরি

৫/৭৩. অধ্যায়ঃ

সফরে সালাত কসর (হ্রাস) করা।

১০৬৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ زُبَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عُمَرَ، قَالَ صَلاَةُ السَّفَرِ رَكْعَتَانِ وَالْجُمُعَةُ رَكْعَتَانِ وَالْعِيدُ رَكْعَتَانِ تَمَامٌ غَيْرُ قَصْرٍ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏

উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর যবানীতে সফরের সালাত দু’ রাকাআত, জুমুআহ্‌র সালাত দু’ রাকাআত এবং ঈদের সালাত দু’ রাকাআত। এগুল পূর্ণ সালাত, এগুলোর কসর নাই। [১০৬৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৬৩] আহমাদ ২৫৯, ইবনু মাজাহ ১০৬৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ লিগাইরিহী। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৬৩৮।

হাদিসের মানঃ সহিহ লিগাইরিহি

  •  সরাসরি

১০৬৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، أَنْبَأَنَا يَزِيدُ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ زُبَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ صَلاَةُ السَّفَرِ رَكْعَتَانِ وَصَلاَةُ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَانِ وَالْفِطْرُ وَالأَضْحَى رَكْعَتَانِ تَمَامٌ غَيْرُ قَصْرٍ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏

উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর যবানীতে সফরের সালাত দু’ রাকাআত, জুমুআহ্‌র সালাত দু’ রাকাআত, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সালাত দু’ রাকাআত করে, এগুল কসর ব্যতীত পূর্ণ সালাত। [১০৬৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৬৪] আহমাদ ২৫৯, ইবনু মাজাহ ১০৬৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৬৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَيْهِ، عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ سَأَلْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قُلْتُ لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلاَةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَقَدْ أَمِنَ النَّاسُ فَقَالَ عَجِبْتُ مِمَّا عَجِبْتَ مِنْهُ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ ‏ “‏ صَدَقَةٌ تَصَدَّقَ اللَّهُ بِهَا عَلَيْكُمْ فَاقْبَلُوا صَدَقَتَهُ ‏”‏ ‏.‏

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এই আয়াত উল্লেখপূর্বক (অনুবাদ) : “যদি তোমাদের আশঙ্কা হয় যে, কাফেররা তোমাদের জন্য ফিতনা সৃষ্টি করবে, তবে সালাত সংক্ষিপ্ত করলে এতে তোমাদের কোন দোষ নেই” জিজ্ঞেস করলাম যে, মানুষ তো এখন নিরাপদে আছে? তিনি বলেন, তুমি যে বিষয়ে বিস্ময় বোধ করছো, আমিও সে বিষয়ে বিস্ময় বোধ করেছিলাম। এ বিষয়ে আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এতো একটি দানবিশেষ, যা আল্লাহ্‌ তায়ালা তোমাদের দিয়েছেন। কাজেই তোমরা তাঁর দান গ্রহন করো। [১০৬৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৬৫] মুসলিম ৬৮৬, তিরমিযী ৩০৩৪, নাসায়ী ১৪৩৩, আবূ দাঊদ ১১৯৯, আহমাদ ১৭৫, ২৪৬, দারিমী ১৫০৪, ১৫০৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: আবী দাউদ ১০৮৩।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৬৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أُمَيَّةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَالِدٍ، أَنَّهُ قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ إِنَّا نَجِدُ صَلاَةَ الْحَضَرِ وَصَلاَةَ الْخَوْفِ فِي الْقُرْآنِ وَلاَ نَجِدُ صَلاَةَ السَّفَرِ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بَعَثَ إِلَيْنَا مُحَمَّدًا ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَلاَ نَعْلَمُ شَيْئًا فَإِنَّمَا نَفْعَلُ كَمَا رَأَيْنَا مُحَمَّدًا ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَفْعَلُ ‏.‏

উমাইয়্যাহ বিন আবদুল্লাহ বিন খালিদ থেকে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) কে বলেন, আমরা কুরআনুল কারীমে মুকীম ব্যক্তির সালাত ও ভীতির সালাত (সলাতুল খাউফ) সম্পর্কে বর্ণনা পাই, অথচ মুসাফিরের সলাতের বর্ণনা পাই না। আবদুল্লাহ (রাঃ) তাকে বলেন, আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের নিকট মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে প্রেরণ করেছেন এবং আমরা কিছুই জানতাম না। আমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে যেরূপ করতে দেখেছি, আমরাও অবশ্যি তদ্রূপ করি। [১০৬৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৬৬] নাসায়ী ৪৫৭, ১৪৩৪; আহমাদ ৫৩১১, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩৩৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৬৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ بِشْرِ بْنِ حَرْبٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا خَرَجَ مِنْ هَذِهِ الْمَدِينَةِ لَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْهَا ‏.‏

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ মাদীনাহ শহর থেকে কোথাও রওয়ানা হয়ে গেলে, এখানে ফিরে না আসা পর্যন্ত দু’ রাকাআতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। [১০৬৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৬৭] আহমাদ ৫৭১৬ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী বিশর বিন হারব সম্পর্কে সুলায়মান বিন হারব তাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আলী ইবনুল মাদীনী তাকে দুর্বল বলেছেন।

হাদিসের মানঃ হাসান সহিহ

  •  সরাসরি

১০৬৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، وَجُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَخْنَسِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ افْتَرَضَ اللَّهُ الصَّلاَةَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّكُمْ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي الْحَضَرِ أَرْبَعًا وَفِي السَّفَرِ رَكْعَتَيْنِ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌ তায়ালা তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর যবনীতে (তাঁর বান্দাদের উপর) মুকীম অবস্থায় চার রাকাআত এবং মুসাফির অবস্থায় দু’ রাকাআত সালাত ফার্‌দ করেছেন। [১০৬৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৬৮] মুসলিম ৬৮৭, নাসায়ী ৪৫৬, ১৪৪১-৪২; আবূ দাঊদ ১২৪৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ১১৩৪। উক্ত হাদিসের রাবী জুবারাহ ইবনুল মুগাল্লিস সম্পর্কে মুসলিম বিন কায়স বলেন, ইনশাআল্লাহ্‌ (আল্লাহ্‌ চায়তো) তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যুক ও হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি মুদতারাব ভাবে হাদিস বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৭৪. অধ্যায়ঃ

সফরে দু’ ওয়াক্তের সালাত একত্রে পড়া।

১০৬৯

حَدَّثَنَا مُحْرِزُ بْنُ سَلَمَةَ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، وَسَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، وَعَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، وَطَاوُسٍ، أَخْبَرُوهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَجْمَعُ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ فِي السَّفَرِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يُعْجِلَهُ شَىْءٌ وَلاَ يَطْلُبَهُ عَدُوٌّ وَلاَ يَخَافَ شَيْئًا ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি অবহিত করেন যে, ব্যতিব্যস্ততা, শত্রুর আক্রমণাশঙ্কা এবং অন্য কিছুর ভয়ভীতিমুক্ত অবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফরে মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে পড়তেন। [১০৬৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৬৯] আহমাদ ১৮৭৭ তিরমিযী ৫৫৪ সহীহ। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক সন্দেহ করেন। ইমাম নাসাঈ ও ইবনু আদী তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক সন্দেহ করেন।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১০৭০

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ جَمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ فِي السَّفَرِ ‏.‏

মু’আয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাবূক যুদ্ধের সফরে যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশার সালাত একত্রে আদায় করেন। [১০৭০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৭০] মুসলিম ৭০১-২, তিরমিযী ৫৫৩, নাসায়ী ৫৮৭, আবূ দাঊদ ১২০৬, ১২০৮, ১২২০; আহমাদ ২৫৫৬৫, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩৩০, দারিমী ১৫১৪-১৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩১, সহীহ আবী দাউদ ১০৮৯।

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৫/৭৫. অধ্যায়ঃ

সফরে নফল সালাত।

১০৭১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ حَفْصِ بْنِ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، كَنَّا مَعَ ابْنِ عُمَرَ فِي سَفَرٍ فَصَلَّى بِنَا ثُمَّ انْصَرَفْنَا مَعَهُ وَانْصَرَفَ ‏.‏ قَالَ فَالْتَفَتَ فَرَأَى أُنَاسًا يُصَلُّونَ فَقَالَ مَا يَصْنَعُ هَؤُلاَءِ قُلْتُ يُسَبِّحُونَ ‏.‏ قَالَ لَوْ كُنْتُ مُسَبِّحًا لأَتْمَمْتُ صَلاَتِي يَا ابْنَ أَخِي إِنِّي صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ فِي السَّفَرِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ ثُمَّ صَحِبْتُ أَبَا بَكْرٍ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ صَحِبْتُ عُمَرَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ صَحِبْتُ عُثْمَانَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُمُ اللَّهُ وَاللَّهُ يَقُولُ ‏{لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ ‏}‏ ‏.‏

হাফস বিন আসিম থেকে বর্ণিতঃ

হাফস বিন আসিম বলেন আমরা এক সফরে ইবনু উমার (রাঃ) -এর সাথে ছিলাম। তিনি আমাদের নিয়ে সালাত পড়েন। অতঃপর আমরা সেখান থেকে তার সাথে ফিরে আসি। রাবী বলেন, তিনি একদল লোককে সালাত আদায় করতে দেখে বলেন, ঐ সকল লোক কি করছে? আমি বললাম, তারা নফল সালাত পড়ছে। তিনি বলেন, সফরে নফল সালাত পড়া জরুরী মনে করলে, আমি আমার ফার্‌দ সালাত পুরটাই পড়তাম। হে ভাতিজা, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সফরসঙ্গী ছিলাম। তিনি তাঁর ইন্তিকাল পর্যন্ত সফরে দু’ রাকআতের অধিক সালাত পড়েননি। তারপর আমি আবূ বকর (রাঃ) -এর সফরসঙ্গী ছিলাম, তিনিও দু’ রাকআতের অধিক সালাত পড়েননি। এরপর আমি উমার (রাঃ) -এর সফরসঙ্গী ছিলাম এবং তিনিও দু’ রাকআতের অধিক সালাত পড়েননি। অতঃপর আমি উসমান (রাঃ) -এর সফরসঙ্গী ছিলাম, তিনিও দু’ রাকআতের অধিক সালাত পড়েননি। এই অবস্থায় তারা ইন্তিকাল করেন। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন, “রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মধ্যে অবশ্যি তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ” (সূরা আহ্‌যাব : ২১)। [১০৭১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৭১] বুখারী ১০৮২, ১১০১-২, ১৬৫৫, মুসলিম ৬৮১-২, ৬৯১-৩; নাসায়ী ১৪৫০, ১৪৫৭-৫৮, আবূ দাঊদ ১২২৩, আহমাদ ৪৮৪৩, দারিমী ১৫০৫-৬, ১৮৭৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৫৬৩, সহীহ আবী দাউদ ১১০৮।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৭২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ سَأَلْتُ طَاوُسًا عَنِ السُّبْحَةِ، فِي السَّفَرِ – وَالْحَسَنُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ يَنَّاقٍ جَالِسٌ عِنْدَهُ – فَقَالَ حَدَّثَنِي طَاوُسٌ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ صَلاَةَ الْحَضَرِ وَصَلاَةَ السَّفَرِ فَكُنَّا نُصَلِّي فِي الْحَضَرِ قَبْلَهَا وَبَعْدَهَا وَكُنَّا نُصَلِّي فِي السَّفَرِ قَبْلَهَا وَبَعْدَهَا ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

(উসামাহ) বলেন, আমি তাঊসকে সফরে নফল সালাত পড়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তখন হাসান বিন মুসলিম বিন ইয়ানাকও তার নিকট বসা ছিল। তিনি বলেন, তাঊস (রহ:) আমাকে বললেন যে, তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) -কে বলতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুকীম অবস্থার ও সফরকালের সালাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অতএব আমরা মুকীম ও মুসাফির অবস্থায় ফার্‌দ সলাতের আগে-পরে নফল সালাত পড়তাম। [১০৭২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১২৭২] আহমাদ ২০৬৫ তাহক্বীক্ব আলবানী: মুনকার। তাখরীজ আলবানী: ইবনু মাজাহ ১০৬৬ সহীহ, নাসায়ী ১৪৩৪ সহীহ, ১৪৪১ সহীহ, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ৩০৫ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী উসামাহ বিন যায়দ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ উল্লেখ করে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আল আজালী তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে দলীল হিসেবে নয়। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়।

হাদিসের মানঃ মুনকার

  •  সরাসরি

৫/৭৬. অধ্যায়ঃ

মুসাফির কোন জনপদে অবস্থান করলে কত দিন সালাত কসর করবে?

১০৭৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حُمَيْدٍ الزُّهْرِيِّ، قَالَ سَأَلْتُ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ مَاذَا سَمِعْتَ فِي، سُكْنَى مَكَّةَ قَالَ سَمِعْتُ الْعَلاَءَ بْنَ الْحَضْرَمِيِّ، يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ ثَلاَثًا لِلْمُهَاجِرِ بَعْدَ الصَّدَرِ ‏”‏ ‏.‏

সায়িব বিন ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

সায়িব বিন ইয়াযীদ (রাঃ) -কে জিজ্ঞেস করলাম, মক্কায় অবস্থানকারীর সম্পর্কে আপনি কি শুনেছেন? তিনি বলেন আমি আলা’ ইবনুল হাদরামি (রাঃ) -কে বলতে শুনেছি, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তাওয়াফে সদরের পর মুহাজির তিন দিন সালাত কসর করবে। [১০৭৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৭৩] বুখারী ৩৯৩৩, মুসলিম ১৩৫১-৪, তিরমিযী ৯৪৯, নাসায়ী ১৪৫৪-৫৫, আবূ দাঊদ ২০২২, আহমাদ ১৮৫০৫, ২০০০২; দারিমী ১৫১১-১২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ১৭৬৩।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৭৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، وَقَرَأْتُهُ، عَلَيْهِ أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، حَدَّثَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، فِي أُنَاسٍ مَعِي قَالَ قَدِمَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مَكَّةَ صُبْحَ رَابِعَةٍ مَضَتْ مِنْ شَهْرِ ذِي الْحِجَّةِ ‏.‏

জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যিলহাজ্জ মাসের চার তারিখ ভোরে মক্কায় উপনীত হন। [১০৭৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৭৪] বুখারী ২৫০৬, ৭২৩০, ৮৩৬৭; নাসায়ী ২৮০৫, ২৮৭২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ৯৫৭।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৭৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ تِسْعَةَ عَشَرَ يَوْمًا يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فَنَحْنُ إِذَا أَقَمْنَا تِسْعَةَ عَشَرَ يَوْمًا نُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فَإِذَا أَقَمْنَا أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ صَلَّيْنَا أَرْبَعًا ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (মক্কায়) ঊনিশ দিন অবস্থান করেন এবং দু’ রাকআত করে (ফার্‌দ) সালাত পড়েন। অতএব আমরা যখন ঊনিশ দিন অবস্থান করতাম, তখন দু’ রাকআত করে (ফার্‌দ) সালাত পড়তাম এবং তার অধিক দিন অবস্থান করলে পূর্ণ চার রাকআতই পড়তাম। [১০৭৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৭৫] বুখারী ১০৮০, ৪২৯৮, ৪৩০০; তিরমিযী ৫৪৯, আবূ দাঊদ ১২৩০, ইবনু মাজাহ ১০৭৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৫৭৫, সহীহ আবী দাউদ ১১১৪।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৭৬

حَدَّثَنَا أَبُو يُوسُفَ الصَّيْدَلاَنِيُّ، مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الرَّقِّيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَقَامَ بِمَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ خَمْسَ عَشْرَةَ لَيْلَةً يَقْصُرُ الصَّلاَةَ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কাহ বিজয়ের বছর তথায় পনেরো দিন অবস্থান করেন এবং সালাত কসর করেন। [১০৭৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৭৬] বুখারী ১০৮০, ৪২৯৮, ৪৩০০; তিরমিযী ৫৪৯, আবূ দাঊদ ১২৩০, ইবনু মাজাহ ১০৭৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: আবূ দাঊদ ১২৩১ মুনকার, যঈফ আবূ দাউদ ২২৬, ইরওয়াহ ২৬-২৭। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আল আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাসানুল হাদিস। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি সালিহ।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১০৭৭

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، وَعَبْدُ الأَعْلَى، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى مَكَّةَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ حَتَّى رَجَعْنَا ‏.‏ قُلْتُ كَمْ أَقَامَ بِمَكَّةَ قَالَ عَشْرًا ‏.‏

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে মাদীনাহ থেকে মাক্কাহয় রওয়ানা হলাম। আমরা ফিরে না আসা পর্যন্ত দু’ রাকআত করে (ফার্‌দ) সালাত আদায় করেছি। রাবী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কত দিন মক্কায় অবস্থান করেন? আনাস (রাঃ) বলেন, দশ দিন। [১০৭৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৭৭] বুখারী ১০৮১, ৮২৯৭; মুসলিম ৬৯৩, তিরমিযী ৫৪৮, নাসায়ী ১৪৩৮, ১৪৫২; আবূ দাঊদ ১২৩৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৫, সহীহ আবী দাউদ ১১১৬।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৭৭. অধ্যায়ঃ

সালাত ত্যাগকারীর বিধান।

১০৭৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلاَةِ ‏”‏ ‏.‏

জাবির বিন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, বান্দা ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত বর্জন। [১০৭৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৭৮] মুসলিম ৮২, তিরমিযী ২৬১৮, ২৬২০; আবূ দাঊদ ৪৬৭৮, আহমাদ ১৪৫৬১, ১৪৭৬২; দারিমী ১২৩৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৭৯

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلاَةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ ‏”‏ ‏.‏

বুরায়দাহ (ইবনুল হুসায়ব বিন আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস) (রাঃ থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মধ্যে যে অংগীকার রয়েছে তা হলো সালাত। অতএব যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করলো, সে কুফরী করলো। [১০৭৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৭৯] তিরমিযী ২৬২১ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৫৭৪।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৮০

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ لَيْسَ بَيْنَ الْعَبْدِ وَالشِّرْكِ إِلاَّ تَرْكُ الصَّلاَةِ فَإِذَا تَرَكَهَا فَقَدْ أَشْرَكَ ‏”‏ ‏.‏

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মু’মিন বান্দা ও শিরক-এর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত বর্জন করা। অতএব যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করলো, সে অবশ্যই শিরক করলো। [১০৮০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৮০] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ তারগীব ৫৬৫, ১৬৬৭।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৭৮. অধ্যায়ঃ

জুমাআহ্‌র সালাত ফার্‌দ।

১০৮১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ بُكَيْرٍ أَبُو خَبَّابٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَدَوِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏ “‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ قَبْلَ أَنْ تَمُوتُوا وَبَادِرُوا بِالأَعْمَالِ الصَّالِحَةِ قَبْلَ أَنْ تُشْغَلُوا وَصِلُوا الَّذِي بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ رَبِّكُمْ بِكَثْرَةِ ذِكْرِكُمْ لَهُ وَكَثْرَةِ الصَّدَقَةِ فِي السِّرِّ وَالْعَلاَنِيَةِ تُرْزَقُوا وَتُنْصَرُوا وَتُجْبَرُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ قَدِ افْتَرَضَ عَلَيْكُمُ الْجُمُعَةَ فِي مَقَامِي هَذَا فِي يَوْمِي هَذَا فِي شَهْرِي هَذَا مِنْ عَامِي هَذَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَمَنْ تَرَكَهَا فِي حَيَاتِي أَوْ بَعْدِي وَلَهُ إِمَامٌ عَادِلٌ أَوْ جَائِرٌ اسْتِخْفَافًا بِهَا أَوْ جُحُودًا بِهَا فَلاَ جَمَعَ اللَّهُ لَهُ شَمْلَهُ وَلاَ بَارَكَ لَهُ فِي أَمْرِهِ أَلاَ وَلاَ صَلاَةَ لَهُ وَلاَ زَكَاةَ لَهُ وَلاَ حَجَّ لَهُ وَلاَ صَوْمَ لَهُ وَلاَ بِرَّ لَهُ حَتَّى يَتُوبَ فَمَنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ أَلاَ لاَ تَؤُمَّنَّ امْرَأَةٌ رَجُلاً وَلاَ يَؤُمَّنَّ أَعْرَابِيٌّ مُهَاجِرًا وَلاَ يَؤُمَّ فَاجِرٌ مُؤْمِنًا إِلاَّ أَنْ يَقْهَرَهُ بِسُلْطَانٍ يَخَافُ سَيْفَهُ وَسَوْطَهُ ‏”‏ ‏.‏

জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, হে মানবমন্ডলী! তোমরা মরার পূর্বেই আল্লাহ নিকট তওবা করো এবং কর্মব্যস্ত হয়ে পড়ার পূর্বেই সৎ কাজের দিকে দ্রুত ধাবিত হও। তাঁর অধিক যিক্‌রের মাধ্যেমে তোমাদের রবের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করো এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে অধিক পরিমাণে দান-খয়রাত করো, এজন্য তোমাদের রিযিক বাড়িয়ে দেয়া হবে, সাহায্য করা হবে এবং তোমাদের অবস্থার সংশোধন করা হবে। তোমরা জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আমার এই স্থানে আমার এই দিনে, আমার এই মাসে এবং আমার এই বছরে তোমাদের উপর কিয়ামতের দিন পর্যন্ত জুমুআহ্‌র সালাত ফার্দ করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি আমার জীবদ্দশায় বা আমার ইনতিকালের পরে, ন্যায়পরায়ণ অথবা যালেম শাসক থাকা সত্ত্বেও জুমুআহ্‌র সালাত তুচ্ছ মনে করে বা অস্বীকার করে তা বর্জন করবে, আল্লাহ তার বিক্ষিপ্ত বিষয়কে একত্রে গুছিয়ে দিবেন না এবং তার কাজে বরকত দান করবেন না। সাবধান! তা সালাত, যাকাত, হাজ্জ, সওম এবং অন্য কোন নেক আমার গ্রহণ করা হবে না যতক্ষণ না সে তওবা করে। যে ব্যক্তি তওবা করে আল্লাহর তাআলা তার তওবা কবুল করেন। সাবধান! নবী পুরুষের, বেদুইন মুহাজিরের এবং পাপাচারী মু’মিন ব্যক্তির ইমামতি করবে না। তবে স্বৈরাচারী শাসক তাকে বাধ্য করলে এবং তার তরবারি ও চাবুকের ভয় থাকলে স্বতন্ত্র কথা। [১০৮১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৮১] যঈফ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৫৯১। উক্ত হাদিসের রাবী ১. ওয়ালীদ বিন বুকায়র আবু জান্নাব সম্পর্কে ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ২. আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আদ আদাবী সম্পর্কে ওয়াকী ইবনুল জাররাহ বলেন, তিনি বানিয়ে হাদিস বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারী ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। ইবনু হিব্বান বলেন। তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য হবে না। ইমাম দারাকুতনী তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন,

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১০৮২

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ أَبِيهِ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنْتُ قَائِدَ أَبِي حِينَ ذَهَبَ بَصَرُهُ وَكُنْتُ إِذَا خَرَجْتُ بِهِ إِلَى الْجُمُعَةِ فَسَمِعَ الأَذَانَ اسْتَغْفَرَ لأَبِي أُمَامَةَ أَسْعَدَ بْنِ زُرَارَةَ وَدَعَا لَهُ فَمَكَثْتُ حِينًا أَسْمَعُ ذَلِكَ مِنْهُ ثُمَّ قُلْتُ فِي نَفْسِي وَاللَّهِ إِنَّ ذَا لَعَجْزٌ إِنِّي أَسْمَعُهُ كُلَّمَا سَمِعَ أَذَانَ الْجُمُعَةِ يَسْتَغْفِرُ لأَبِي أُمَامَةَ وَيُصَلِّي عَلَيْهِ وَلاَ أَسْأَلُهُ عَنْ ذَلِكَ لِمَ هُوَ فَخَرَجْتُ بِهِ كَمَا كُنْتُ أَخْرُجُ بِهِ إِلَى الْجُمُعَةِ فَلَمَّا سَمِعَ الأَذَانَ اسْتَغْفَرَ كَمَا كَانَ يَفْعَلُ فَقُلْتُ لَهُ يَا أَبَتَاهُ أَرَأَيْتَكَ صَلاَتَكَ عَلَى أَسْعَدَ بْنِ زُرَارَةَ كُلَّمَا سَمِعْتَ النِّدَاءَ بِالْجُمُعَةِ لِمَ هُوَ قَالَ أَىْ بُنَىَّ كَانَ أَوَّلَ مَنْ صَلَّى بِنَا صَلاَةَ الْجُمُعَةِ قَبْلَ مَقْدَمِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مِنْ مَكَّةَ فِي نَقِيعِ الْخَضِمَاتِ فِي هَزْمٍ مِنْ حَرَّةِ بَنِي بَيَاضَةَ ‏.‏ قُلْتُ كَمْ كُنْتُمُ يَوْمَئِذٍ قَالَ أَرْبَعِينَ رَجُلاً ‏.‏

আবদুর রহমান বিন কা‘ব বিন মালিক থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা (কা‘ব বিন মালিক) (রাঃ) অন্ধ হয়ে গেলে আমি ছিলাম তার পরিচালক। আমি তাকে নিয়ে যখন জুমুআহ্‌র সালাত আদায় করতে বের হতাম, তিনি আযান শুনলেই আবূ উমামাহ আসআদ বিন যুরারাহ্ (রাঃ) এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন এবং দুআ’ করতেন। আমি তাকে ক্ষমা প্রার্থনা ও দুআ’ করতে শুনে কিছুক্ষণ থামলাম, অতঃপর মনে মনে বললাম, আল্লাহর শপথ! কি বোকামী! তিনি জুমুআহ্‌র আযান শুনলেই আমি তাকে আবূ উমামাহ (রাঃ) -এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও দুআ’ করতে শুনি, অথচ আমি তাকে তার কারণ জিজ্ঞেস করিনি? আমি তাকে নিয়ে যেমন বের হতাম, তদ্রুপ একদিন তাঁকে নিয়ে জুমুআহ্‌র উদ্দেশে বের হলাম। তিনি যখন আযান শুনলেন তখন তা অভ্যাস মাফিক ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, হে পিতা! জুমুআহ্‌র আযান শুনলেই আমি কি আপনাকে দেখি না যে, আপনি আসআদ বিন যুরারাহ্ (রাঃ) এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তা কেন? তিনি বলেন, প্রিয় বৎস! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মাক্কাহ থেকে (মাদীনাহয়) আসার পূর্বে তিনিই সর্বপ্রথম বনূ বাইয়াদার প্রস্তরম সমতল ভূমিতে অবস্থিত নাকীউল খাযামাত-এ আমাদের নিয়ে জুমুআহ্‌র সালাত পড়েন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা তখন কতজন ছিলেন? তিনি বলেন, চল্লিশজন পুরুষ। [১০৮২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৮২] আবূ দাঊদ ১০৬৯ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৯৮০।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

১০৮৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مَالِكٍ الأَشْجَعِيُّ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، وَعَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ أَضَلَّ اللَّهُ عَنِ الْجُمُعَةِ مَنْ كَانَ قَبْلَنَا كَانَ لِلْيَهُودِ يَوْمُ السَّبْتِ وَالأَحَدُ لِلنَّصَارَى فَهُمْ لَنَا تَبَعٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ نَحْنُ الآخِرُونَ مِنْ أَهْلِ الدُّنْيَا وَالأَوَّلُونَ الْمَقْضِيُّ لَهُمْ قَبْلَ الْخَلاَئِقِ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, জুমুআহ্‌র সলাতের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আমাদের পূর্ববর্তীদের পথভ্রষ্ট করেছেন। ইহূদীদের জন্য ছিল শনিবার এবং খ্রিস্টানদের জন্য রবিবার। কিয়ামাতের দিন পর্যন্ত তারা হবে আমাদের পশ্চাদগামী। আমরা পৃথিবীর অধিবাসীদের মধ্যে সর্বশেষ আগমনকারী, কিন্তু সৃষ্টিকুলের বিচার অনুষ্ঠানের দিক থেকে হবো সর্বপ্রথম। [১৯৮৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৮৩] বুখারী ৮৯৮, মুসলিম ৮৫১-৩, ৮৫৬, নাসায়ী ১৩৬৭-৬৮, আহমাদ ৭২৬৮, ৭৩৫১, ৭৬৪৯, ৮০৫৩, ৮২৯৮, ১০১৫২। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান সহীহ। তাখরীজ আলবানী: তালীকুর রগীব ২৫০, সহীহ তারগীব ৭০১

হাদিসের মানঃ হাসান সহিহ

  •  সরাসরি

৫/৭৯. অধ্যায়ঃ

জুমুআহর সলাতের ফাদীলাত।

১০৮৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي لُبَابَةَ بْنِ عَبْدِ الْمُنْذِرِ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِنَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ سَيِّدُ الأَيَّامِ وَأَعْظَمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَهُوَ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ يَوْمِ الأَضْحَى وَيَوْمِ الْفِطْرِ فِيهِ خَمْسُ خِلاَلٍ خَلَقَ اللَّهُ فِيهِ آدَمَ وَأَهْبَطَ اللَّهُ فِيهِ آدَمَ إِلَى الأَرْضِ وَفِيهِ تَوَفَّى اللَّهُ آدَمَ وَفِيهِ سَاعَةٌ لاَ يَسْأَلُ اللَّهَ فِيهَا الْعَبْدُ شَيْئًا إِلاَّ أَعْطَاهُ مَا لَمْ يَسْأَلْ حَرَامًا وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ مَا مِنْ مَلَكٍ مُقَرَّبٍ وَلاَ سَمَاءٍ وَلاَ أَرْضٍ وَلاَ رِيَاحٍ وَلاَ جِبَالٍ وَلاَ بَحْرٍ إِلاَّ وَهُنَّ يُشْفِقْنَ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ ‏”‏ ‏.‏

আবূ লুবাবাহ বিন আবদুল মুনযির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, জুমুআহ্‌র দিন হলো সপ্তাহের দিনসমূহের নেতা এবং তা আল্লাহ্‌র নিকট অধিক সম্মানিত। এ দিনটি আল্লাহর নিকট কুরবানীর দিন ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়ে অধিক সম্মানিত। এ দিনে রয়েছে। এ দিনে রয়েছে পাঁচটি বৈশিষ্ট্যঃ এ দিন আল্লাহ আদম (আঃ) -কে সৃষ্টি করেন, এ দিনই আল্লাহ তাঁকে পৃথিবীতে পাঠান এবং এ দিনই আল্লাহ তাঁর মৃত্যু দান করেন। এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোন বান্দা তখন আল্লাহ্‌র নিকট কিছু প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন, যদি না সে হারাম জিনিসের প্রার্থনা করে এবং এ দিনই কিয়ামাত সংঘটিত হবে। নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ, আসমান-যমীন, বায়ু, পাহাড়-পর্বত ও সমুদ্র সবই জুমুআহ্‌র দিন শংকিত হয়। [১০৮৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৮৪] আহমাদ ১৫১২০ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ১৩৬৩।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

১০৮৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏”‏ إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ النَّفْخَةُ وَفِيهِ الصَّعْقَةُ فَأَكْثِرُوا عَلَىَّ مِنَ الصَّلاَةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَىَّ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تُعْرَضُ صَلاَتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ – يَعْنِي بَلِيتَ – ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ ‏”‏ ‏.‏

আওস বিন আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের সর্বোত্তম দিন হলো জুমাআহর দিন। এ দিন আদম (আ.) -কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে এবং তাতে বিকট শব্দ হবে। অতএব তোমরা এ দিন আমার উপর প্রচুর পরিমানে দুরূদ পাঠ করো। তোমাদের দুরূদ অবশ্যই আমার নিকট পেশ করা হয়। এক ব্যক্তি বলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কিভাবে আমাদের দুরূদ আপনার নিকট পেশ করা হবে, অথচ আপনি তো অচিরেই মাটির সাথে একাকার হয়ে যাবেন? তিনি বলেন, আল্লাহ নবীগণের দেহ ভক্ষণ মাটির জন্য হারাম করেছেন। [১০৮৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৮৫] নাই তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৪, মিশকাত ১৩৬১, তাতীক ইবনু খুযাইমাহ, ১৭৫৮, সহীহ, আবী দাউদ ৯৬২।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৮৬

حَدَّثَنَا مُحْرِزُ بْنُ سَلَمَةَ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ الْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ كَفَّارَةُ مَا بَيْنَهُمَا مَا لَمْ تُغْشَ الْكَبَائِرُ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, এক জুমুআহ পরবর্তী জুমাআহ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ, যদি না কবীরা গুনাহ করা হয়। [১০৮৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৮৬] মুসলিম ২৩৩, দি ২১৪, আহমাদ ৭০৮৯, ৮৯৪৪, ১০১৯৮, ২৭২৯০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ তারগীব ৬৮৪

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৮০. অধ্যায়ঃ

জুমুআহ্‌র দিন গোসল করা।

১০৮৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، حَدَّثَنِي أَبُو الأَشْعَثِ، حَدَّثَنِي أَوْسُ بْنُ أَوْسٍ الثَّقَفِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ “‏ مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْتَسَلَ وَبَكَّرَ وَابْتَكَرَ وَمَشَى وَلَمْ يَرْكَبْ وَدَنَا مِنَ الإِمَامِ فَاسْتَمَعَ وَلَمْ يَلْغُ – كَانَ لَهُ بِكُلِّ خَطْوَةٍ عَمَلُ سَنَةٍ أَجْرُ صِيَامِهَا وَقِيَامِهَا ‏”‏ ‏.‏

আওস বিন আওস আস-সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি জুমাআহ্‌র দিন (স্ত্রী সহবাসজনিত) গোসল করলো এবং নিজে গোসল করলো এবং সকাল সকাল যানবাহন ছাড়া পদব্রজে মাসজিদে এসে ইমামের কাছিাকাছি বসলো, মনোযোগ সহকারে প্রথম থেকে খুতবাহ শুনলো এবং অনর্থক কিছু করলো না, তার জন্য প্রতি কদমে এক বছরের সওম রাখো ও তার রাত জেগে সালাত পড়ার সমান নেকী রয়েছে। [১০৮৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৮৭] তিরমিযী ৪৯৬, নাসায়ী ১৩৮১, ১৩৮৪, ১৩৯৮; আবূ দাঊদ ৩৪৫, আহমাদ ১৫৭২৮, ১৫৭৩৯, ১৫৭৪২, ১৬৫১৩, ১৫৪৬-৪৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ১৩৮৮, সহীহ আবী দাউদ ৩৭২।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৮৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ ‏ “‏ مَنْ أَتَى الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ ‏”‏ ‏.‏

ইবনু ইমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে মিম্বারের উপর বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি জুমুআহ্‌র সালাত আদায় করতে আসে সে যেন গোসল করে। [১০৮৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৮৮] বুখারী ৮৭৭, ৮৯৪, ৯১৯; মুসলিম ৮৪৪-১২, তিরমিযী ৪৯২, ৪৯৪; নাসায়ী ১৩৭৬, ১৪০৫-৭; আহমাদ ৪৪৫২, ৪৫৩৯, ৪৯০১, ৪৯২৩, ৪৯৮৫, ৪৯৮৮, ৫০৫৮, ৫০৬৩, ৫১০৭, ৫১২০, ৫১৪৭, ৫১৮৮, ৫২৮৯, ৫৪২৭, ৫৪৫৮, ৫৪৬৪, ৫৭৪৩, ৫৭৯৪, ৫৯২৫, ৫৯৮৪, ৬২৩১, ৬২৯১, ৬৩৩৩; মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৩১, দারিমী ১৫৩৫-৩৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৮৯

حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ ‏”‏ ‏.‏

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, জুমুআহ্‌র দিন প্রত্যেক বালেগ ব্যক্তির গোসল করা কর্তব্য। [১০৮৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৮৯] বুখারী ৮৫৮, ৮৭৯-৮০, ৮৯৫, ২৬৬৫; মুসলিম ৮৪১-২, নাসায়ী ১৩৭৫, ১৩৭৭, ১৩৮৩; আবূ দাঊদ ৩৪১, ৩৪৪, আহমাদ ১০৬৪৪, ১০৮৫৭, ১১১৮৪, ১১২৩১, ১১২৬১; মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৩০, দারিমী ১৫৩৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৩৬৮, ৩৭১।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৮১. অধ্যায়ঃ

জুমুআহ্‌র দিনের গোসল ঐচ্ছিক।

১০৯০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَدَنَا وَأَنْصَتَ وَاسْتَمَعَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى وَزِيَادَةُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ وَمَنْ مَسَّ الْحَصَى فَقَدْ لَغَا ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযু করে জুমুআহ্‌র সলাতে এসে ইমামের নিকটবর্তী হয়ে বসলো এবং নীরবে মনোযোগ সহকারে খুতবাহ শুনলো, তার এক জুমুআহ থেকে পরবর্তী জুমুআহ্‌র মধ্যবর্তী সময়ের এবং আরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। আর যে ব্যক্তি কংকর স্পর্শ করলো, সে অনর্থক কাজ করলো। [১০৯০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৯০] মুসলিম ৮৫৭, তিরমিযী ৪৯৮, আবূ দাঊদ ১০৫০, আহমাদ ৯২০০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৯৬৪।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৯১

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ الْمَكِّيُّ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ مَنْ تَوَضَّأَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَبِهَا وَنِعْمَتْ يُجْزِئُ عَنْهُ الْفَرِيضَةُ وَمَنِ اغْتَسَلَ فَالْغُسْلُ أَفْضَلُ ‏”‏ ‏.‏

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি জুমুআহ্‌র দিন উযু করলো, সে উত্তম কাজই করলো এবং ফরয আদায়ের জন্য তা তার পক্ষে যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি গোসল করে, তবে গোসলই অধিক উত্তম। [১০৯১]

 

তাহকীক আলবানীঃ ‘ফরয আদায়ের জন্য যথেষ্ট’- এ কথা ব্যতীত সহীহ।

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৯১] ফরয আদায়ের জন্য যথেষ্ট- এ কথা ব্যতীত সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৩৮০, মিশকাত ৫৪০। উক্ত হাদিসের রাবী ১. ইসমাইল বিন মুসলিম সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। সুফইয়ান বিন উয়ায়নাহ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইবনু মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়। আমর ইবনুল ফাল্লাস বলেন, হাদিস বর্ণনায় তিনি দুর্বল তাছাড়া তিনি হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ২. ইয়াযীদ আর-রাকশী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুনকারুল হাদিস। শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ বলেন, তার থেকে হাদিস বর্ণনার চেয়ে রাস্তা কেটে বসে যাওয়া আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। আমর ইবনুল ফাল্লাস বলেন, হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৮২. অধ্যায়ঃ

সকাল সকাল জুমাআহ্‌র সালাত আদায় করতে যাওয়ার ফাদীলাত।

১০৯২

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَسَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏”‏ إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ كَانَ عَلَى كُلِّ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ مَلاَئِكَةٌ يَكْتُبُونَ النَّاسَ عَلَى قَدْرِ مَنَازِلِهِمُ الأَوَّلَ فَالأَوَّلَ فَإِذَا خَرَجَ الإِمَامُ طَوَوُا الصُّحُفَ وَاسْتَمَعُوا الْخُطْبَةَ فَالْمُهَجِّرُ إِلَى الصَّلاَةِ كَالْمُهْدِي بَدَنَةً ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ كَمُهْدِي بَقَرَةٍ ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ كَمُهْدِي كَبْشٍ ‏”‏ ‏.‏ حَتَّى ذَكَرَ الدَّجَاجَةَ وَالْبَيْضَةَ زَادَ سَهْلٌ فِي حَدِيثِهِ ‏”‏ فَمَنْ جَاءَ بَعْدَ ذَلِكَ فَإِنَّمَا يَجِيءُ بِحَقٍّ إِلَى الصَّلاَةِ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, জুমুআহ্‌র দিন হলে মাসজিদের প্রতিটি দরজায় ফেরেশতাগণ অবস্থান করেন এবং লোকেদের আগমনের ক্রমানুসারে তাদের নাম লিখেন। যেমন প্রথম আগমনকারীর নাম প্রথমে। ইমাম যখন খুতবাহ দিতে বের হন, তখন তারা তাদের নথি গুটিয়ে নেন এবং মনোযোগ সহাকারে খুতবাহ শোনেন। সলাতে প্রথম আগমনকারীর সাওয়াব একটি উট কুরবানীকারীর সমান, তারপরে আগমনকারীর নেকী একটি গরুর কুরবানীকারীর সমান, তারপর আগমনকারীর নেকী একটি মেষ কুরবানীকারীর সমান, একনকি তিনি মুরগী ও ডিমের কথা উল্লেখ করেন। সাহ্‌ল বিন আবূ সাহ্‌লের রিওয়ায়তে আরো আছেঃ এরপর যে ব্যক্তি আসে, সে কেবল সালাত পড়ার নেকী পায়। [১০৯২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৯২] বুখারী ৮৮১, ৯২৯, ৩২১১; মুসলিম ৮৫০/১-২, তিরমিযী ৪৯৯, নাসায়ী ৮৬৪, ১৩৮৫-৮৮; আবূ দাঊদ ৩৫১, আহমাদ ৭২১৭, ৭৪৬৭, ৭৭০৮, ৯৬১০, ১০০৯৬, ১০১৯০, ১০২৬৮; মুওয়াত্ত্বা মালিক ২২৭, দারিমী ১৫৪৩-৪৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ তারগীব ৭১৩, সহীহ আবূ দাউদ ৩৭৭।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৯৩

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ضَرَبَ مَثَلَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ التَّبْكِيرِ كَنَاحِرِ الْبَدَنَةِ كَنَاحِرِ الْبَقَرَةِ كَنَاحِرِ الشَّاةِ حَتَّى ذَكَرَ الدَّجَاجَةَ ‏.‏

সামুরাহ বিন জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমুআহ্‌র সলাতে সকাল সকাল আগমনের একটি উদাহরণ দেনঃ যেমন উট কুরবানীকারী, গরু কুরবানীকারী, বকরী কুরবানীকারী, এমনকি তিনি মুরগী পর্যন্ত উল্লেখ করেন। [১০৯৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী সাঈদ বিন বাশীর সম্পর্কে শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সত্যবাদী। ইবনু আদী বলেন, তিনি যা বর্ণনা করেছেন তার মাঝে কোন সমস্যা দেখি না তবে সম্ভবত তিনি হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি দুর্বল।

হাদিসের মানঃ হাসান সহিহ

  •  সরাসরি

১০৯৪

حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ إِلَى الْجُمُعَةِ فَوَجَدَ ثَلاَثَةً قَدْ سَبَقُوهُ فَقَالَ رَابِعُ أَرْبَعَةٍ وَمَا رَابِعُ أَرْبَعَةٍ بِبَعِيدٍ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ “‏ إِنَّ النَّاسَ يَجْلِسُونَ مِنَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى قَدْرِ رَوَاحِهِمْ إِلَى الْجُمُعَاتِ الأَوَّلَ وَالثَّانِيَ وَالثَّالِثَ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ رَابِعُ أَرْبَعَةٍ وَمَا رَابِعُ أَرْبَعَةٍ بِبَعِيدٍ ‏.‏

আলকামাহ থেকে বর্ণিতঃ

আমি আবদুল্লাহ (রাঃ) -এর সাথে জুমুআহ্‌র সালাত আদায় করতে বের হলাম। তিনি মাসজিদে গিয়ে তিন ব্যক্তিকে দেখেন যে, তারা তার আগে এসেছে। তিনি বলেন, চারজনের মধ্যে (আমি) চতুর্থ। তবে চারজনের মধ্যে চতুর্থ ব্যক্তি খুব দূরে নয়। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের দিন লোকেরা আল্লাহর সামনে বসবে জুমুআহ্‌র সলাতে তাদের আগমনের ক্রমানুসারেঃ প্রথম আগন্তুক, দ্বিতীয় আগন্তুক, তৃতীয় আগন্তুক, চতুর্থ আগন্তুক এভাবে। তিনি বলেন, চারজনের চতুর্থ। আর চারজনের মধ্যে চতুর্থজন খুব দূরে নয়। [১০৯৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৯৪] নাই তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: নাসায়ী ১৪৩০ সহীহ, যঈফ তারগীব ৪৩৬ যঈফ, যিলালি জান্নাহ ৬২০ যঈফ, ফিলাল ৬২০, যঈফাহ ২৮১০। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল মাজীদ বিন আবদুল আযীয সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নন।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৮৩. অধ্যায়ঃ

জুমুআহ্‌র দিন বেশভূষা অবলম্বন করা।

১০৯৫

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ ‏ “‏ مَا عَلَى أَحَدِكُمْ لَوِ اشْتَرَى ثَوْبَيْنِ لِيَوْمِ الْجُمُعَةِ سِوَى ثَوْبِ مِهْنَتِهِ ‏”‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَيْخٌ، لَنَا عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَطَبَنَا النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏ فَذَكَرَ ذَلِكَ ‏.‏

আবদুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি জুমুআহ্‌র দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে মিম্বারের উপর বলতে শুনছেনঃ তোমরা যদি তোমাদের কাজকর্মের পেশাকদ্বয় ছাড়া জুমুআহ্‌র দিনের জন্য আরো দুটি পরিধেয় বস্ত্র ক্রয় করতে।

 

১/১০৯৫ (১) . আবদুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন …… পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। [১০৯৫]

 

তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৯৫] নাসায়ী ১৩৭৪, আবূ দাঊদ ১০৭৮, দারিমী ১৫২৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৯৮৯।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৯৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ زُهَيْرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ خَطَبَ النَّاسَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَرَأَى عَلَيْهِمْ ثِيَابَ النِّمَارِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ مَا عَلَى أَحَدِكُمْ إِنْ وَجَدَ سَعَةً أَنْ يَتَّخِذَ ثَوْبَيْنِ لِجُمُعَتِهِ سِوَى ثَوْبَىْ مِهْنَتِهِ ‏”‏ ‏.‏

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমাআহ্‌র দিন লোকেদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি তাদেরকে দৈনন্দিনের পোশাক পরিহিত দেখেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমাদের কী হলো যে, তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে সে কি তার কামকর্মের পোশাকদ্বয় ছাড়া জুমুআহ্‌র সলাতের জন্য আরো একজোড়া পোশাক গ্রহণ করতে পারে না? [১০৯৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৯৬] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: তালাক ইবনু খুযাইমাহ ১৬৬৫, সহীহ আবী দাউদ ৯৮৯, মিশকাত ১৩৮৯, গয়াতুল মারাম ৭৭।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৯৭

حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ، وَحَوْثَرَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَدِيعَةَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَأَحْسَنَ غُسْلَهُ وَتَطَهَّرَ فَأَحْسَنَ طُهُورَهُ وَلَبِسَ مِنْ أَحْسَنِ ثِيَابِهِ وَمَسَّ مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ مِنْ طِيبِ أَهْلِهِ ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ وَلَمْ يَلْغُ وَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى ‏”‏ ‏.‏

আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি জুমুআহ্‌র দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমুআহ্‌র সলাতে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দু’জনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমুআহ থেকে পরবর্তী জুমুআহ্‌র মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহমসূহ ক্ষমা করা হয়। [১০৯৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৯৭] আহমাদ ২১০২৯ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান সহীহ।

হাদিসের মানঃ হাসান সহিহ

  •  সরাসরি

১০৯৮

حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ خَالِدٍ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ غُرَابٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ أَبِي الأَخْضَرِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ السَّبَّاقِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِنَّ هَذَا يَوْمُ عِيدٍ جَعَلَهُ اللَّهُ لِلْمُسْلِمِينَ فَمَنْ جَاءَ إِلَى الْجُمُعَةِ فَلْيَغْتَسِلْ وَإِنْ كَانَ طِيبٌ فَلْيَمَسَّ مِنْهُ وَعَلَيْكُمْ بِالسِّوَاكِ ‏”‏ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ এই দিনকে মুসলিমদের ঈদের দিনরূপে নির্ধারণ করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি জুমুআহ্‌র সালাত আদায় করতে আসবে সে যেন গোসল করে এবং সুগন্ধি থাকলে তা শরীরে লাগায়। আর মিসওয়াক করাও তোমাদের কর্তব্য। [১০৯৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৯৮] মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৪৬ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ১৩৯৮, ১৩৯৯। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আলী বিন গুরাব সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা’দ বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তার মাঝে দুর্বলতা আছে। উসমান বিন আবু শায়বাহ তাকে সিকাহ বললেও আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেন। ২. সালিহ বিন আবুল আখতার সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইমাম বুখারী তাকে দুর্বল বলেছেন।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৮৪. অধ্যায়ঃ

জুমুআহ্‌র সলাতের ওয়াক্ত।

১০৯৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ مَا كُنَّا نَقِيلُ وَلاَ نَتَغَدَّى إِلاَّ بَعْدَ الْجُمُعَةِ ‏.‏

সাহল বিন সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা জুমুআহ্‌র সালাত পড়ার পরেই দুপুরের আহার করতাম এবং বিশ্রাম নিতাম। [১০৯৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৯৯] বুখারী ৯৩৮-৩৯, ৯৪১, ২৩৪৯, ৫৪০৩, ৬২৪৮, ৬২৭৯; মুসলিম ৮৫৯, তিরমিযী ৫২৫, আবূ দাঊদ ১০৮৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৯৯৭।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১০০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ الْحَارِثِ، قَالَ سَمِعْتُ إِيَاسَ بْنَ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ الْجُمُعَةَ ثُمَّ نَرْجِعُ فَلاَ نَرَى لِلْحِيطَانِ فَيْئًا نَسْتَظِلُّ بِهِ ‏.‏

সালামাহ বিন আমর ইবনুল আকওয়া’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে জুমুআহ্‌র সালাত পড়ে ফেরার সময় দেয়ালের এতটুকু ছায়াও দেখতাম না যার ছায়া আমরা গ্রহণ করতে পারি। [১১০০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১০০] বুখারী ৪১৬৮, মুসলিম ৮৬০/১-২, নাসায়ী ১৩৯১, আবূ দাঊদ ১০৮৫, আহমাদ ১৬০৬১, ১৬১১১; দারিমী ১৫৪৫-৪৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৫৯৮, সহীহ আবী দাউদ ৯৯৬।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১০১

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَعْدِ بْنِ عَمَّارِ بْنِ سَعْدٍ، مُؤَذِّنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّهُ كَانَ يُؤَذِّنُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا كَانَ الْفَىْءُ مِثْلَ الشِّرَاكِ ‏.‏

সা‘দ বিন আয়িয (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সময়ে সূর্য পশ্চিমাকাশে জুতার ফিতার ন্যায় ঢলে পড়ার পর আযান দিতেন। [১১০১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১০১] যঈফ। তাখরীজ আলবানী: নাসায়ী ৫২৪ সহীহ, তিরমিযী ১৪৯ হাসান সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আব্দুর রহমান বিন সা’দ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম বুখারী বলেন, তার ব্যাপারে মন্তব্য রয়েছে। ২. সা’দ বিন আম্মার সম্পর্কে ইবনুল কাত্তান বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১১০২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كُنَّا نُجَمِّعُ ثُمَّ نَرْجِعُ فَنَقِيلُ ‏.‏

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা জুমুআহ্‌র সালাত পড়ে ফিরে আসার পর দুপুরের বিশ্রাম করতাম। [১১০২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১০২] বুখারী ৯০৫ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৯৯৭।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৮৫. অধ্যায়ঃ

জুমুআহ্‌র দিনে খুতবা।

১১০৩

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَخْطُبُ خُطْبَتَيْنِ يَجْلِسُ بَيْنَهُمَا جَلْسَةً ‏.‏ زَادَ بِشْرٌ وَهُوَ قَائِمٌ ‏.‏

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (জুমুআহ্‌র সলাতের) দু’টি খুতবাহ দিতেন এবং দু’ খুতবাহ্‌র মাঝখানে কিছুক্ষণ বসতেন। বিশর (রাঃ) -এর বর্ণনায় আরো আছেঃ তিনি দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিতেন। [১১০৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১০৩] বুখারী ৯২০, ৯২৮; মুসলিম ৮৬১, তিরমিযী ৫০৬, নাসায়ী ১৪১৬, আবূ দাঊদ ১০৯২, দারিমী ১৫৫৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৬০৪, সহীহ আবী দাউদ ১০১২।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১০৪

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُسَاوِرٍ الْوَرَّاقِ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَخْطُبُ عَلَى الْمِنْبَرِ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ ‏.‏

আমর বিন হুরায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে কালো পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় মিম্বারে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে দেখেছি। [১১০৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১০৪] মুসলিম ১৩৫৯, নাসায়ী ৫৩৪৩, ৫৩৪৬; আবূ দাঊদ ৪০৭৭, আহমাদ ১৮২৫৯, ইবনু মাজাহ ২৮২১, ৩৫৮৪, ৩৫৮৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মুখতাসার শামাইয়া ৯৩।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১০৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَخْطُبُ قَائِمًا غَيْرَ أَنَّهُ كَانَ يَقْعُدُ قَعْدَةً ثُمَّ يَقُومُ ‏.‏

জাবির বিন সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিতেন। তবে তিনি একবার কিছুক্ষণ বসতেন, অতঃপর (দ্বিতীয় খুতবাহ দিতে) দাঁড়াতেন। [১১০৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১০৫] মুসলিম ৮৬১-২, ৮৬১-২; তিরমিযী ৫৬০, নাসায়ী ১৪১৫, ১৪১৭-১৮, ১৫৮২-৮৪; আবূ দাঊদ ১০৯৪, ১১০১, ১১০৭; আহমাদ ২০২৮৯, ২০৩০৬, ২০৩২২, ২০৩৩৫, ২০৩৬০, ২০৩৮৩, ২০৪১৩, ২০৪২২, ২০৪২৭, ২০৪৩৯, ২০৪৫২, ২০৪৬৫, ২০৫২০, ২০৫২৯, ২০৪৪৬; দারিমী ১৫৫৭, ১৫৫৯; ইবনু মাজাহ ১১০৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৭১, সহীহ আবী দাউদ ১০০৩, ১০০৪।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১০৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَخْطُبُ قَائِمًا ثُمَّ يَجْلِسُ ثُمَّ يَقُومُ فَيَقْرَأُ آيَاتٍ وَيَذْكُرُ اللَّهَ وَكَانَتْ خُطْبَتُهُ قَصْدًا وَصَلاَتُهُ قَصْدًا ‏.‏

জাবির বিন সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিতেন, তারপর (প্রথম খুতবাহ শেষে) বসতেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে কুরআনের আয়াত পড়তেন এবং আল্লাহ্‌র যিকির করতেন। তাঁর খুতবাহ ও সালাত দু’টোই ছিল নাতিদীর্ঘ। [১১০৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১০৬] মুসলিম ৮৬১-২, ৮৬১-২; তিরমিযী ৫৬০, নাসায়ী ১৪১৫, ১৪১৭-১৮, ১৫৮২-৮৪; আবূ দাঊদ ১০৯৪, ১১০১, ১১০৭; আহমাদ ২০২৮৯, ২০৩০৬, ২০৩২২, ২০৩৩৫, ২০৩৬০, ২০৩৮৩, ২০৪১৩, ২০৪২২, ২০৪২৭, ২০৪৩৯, ২০৪৫২, ২০৪৬৫, ২০৫২০, ২০৫২৯, ২০৪৪৬; দারিমী ১৫৫৭, ১৫৫৯; ইবনু মাজাহ ১১০৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ১০০৯।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১০৭

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَعْدِ بْنِ عَمَّارِ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ إِذَا خَطَبَ فِي الْحَرْبِ خَطَبَ عَلَى قَوْسٍ وَإِذَا خَطَبَ فِي الْجُمُعَةِ خَطَبَ عَلَى عَصًا ‏.‏

সা‘দ বিন আয়িয (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুদ্ধক্ষেত্রে খুতবাহ দিলে ধনুকে ভর করে খুতবাহ দিতেন এবং জুমুআহ্‌র খুতবাহ দিলে লাঠিতে ভর দিয়ে খুতবাহ দিতেন। [১১০৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১০৭] যঈফ। তাখরীজ আলবানী: জামি সগীর ৪৩৮৪ যঈফ, যঈফাহ ৯৬৮। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আব্দুর রহামান বিন সা’দ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম বুখারী বলেন, তার ব্যাপারে মন্তব্য রয়েছে। ২. সা’দ বিন আম্মার সম্পর্কে ইবনুল কাত্তান বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১১০৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي غَنِيَّةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سُئِلَ أَكَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَخْطُبُ قَائِمًا أَوْ قَاعِدًا قَالَ أَوَمَا تَقْرَأُ {وَتَرَكُوكَ قَائِمًا}‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ غَرِيبٌ لاَ يُحَدِّثُ بِهِ إِلاَّ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَحْدَهُ ‏.‏

আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিতেন, না বসে? তিনি বলেন, তুমি কি এ আয়াত পাঠ করোনিঃ “এবং তারা তোমাকে রেখে গেল দাঁড়ানো অবস্থায়” (সূরা জুমুআহঃ ১১)? [১১০৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১০৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ إِذَا صَعِدَ الْمِنْبَرَ سَلَّمَ ‏.‏

জাবির বিন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারে উঠে সালাম দিতেন। হাসান। [১১০৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী ইবনু লাহীআহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আমর ইবনুল ফাল্লাস বলেন, তার কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। কিতাব সমূহ পুড়ে যাওয়ায় যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তা দুর্বল।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৮৬. অধ্যায়ঃ

নীরবে মনোযোগ সহকারে খুতবাহ শুনতে হবে।

১১১০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, জুমুআহ্‌র দিন ইমামের খুতবাহ দানকালে যখন তুমি তোমার সাথীকে বললে, ‘চুপ করো’ তখন তুমি অনর্থক কাজ করলে। [১১১০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১১০] বুখারী ৯৩৪, মুসলিম ৮৫১-২, তিরমিযী ৫১২, নাসায়ী ১৪০১-২, আবূ দাঊদ ১১১২, আহমাদ ৭২৮৮, ৭৬২৯, ৭৭০৬, ৮৮৫৭, ৮৯০২, ৯৯২৭, ১০৩৪২, ১০৫০৭; মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৩২, দারিমী ১৫৪৮-৪৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৬১৯।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১১১

حَدَّثَنَا مُحْرِزُ بْنُ سَلَمَةَ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَرَأَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ تَبَارَكَ وَهُوَ قَائِمٌ فَذَكَّرَنَا بِأَيَّامِ اللَّهِ وَأَبُو الدَّرْدَاءِ أَوْ أَبُو ذَرٍّ يَغْمِزُنِي فَقَالَ مَتَى أُنْزِلَتْ هَذِهِ السُّورَةُ إِنِّي لَمْ أَسْمَعْهَا إِلاَّ الآنَ ‏.‏ فَأَشَارَ إِلَيْهِ أَنِ اسْكُتْ فَلَمَّا انْصَرَفُوا قَالَ سَأَلْتُكَ مَتَى أُنْزِلَتْ هَذِهِ السُّورَةُ فَلَمْ تُخْبِرْنِي فَقَالَ أُبَىٌّ لَيْسَ لَكَ مِنْ صَلاَتِكَ الْيَوْمَ إِلاَّ مَا لَغَوْتَ ‏.‏ فَذَهَبَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ وَأَخْبَرَهُ بِالَّذِي قَالَ أُبَىٌّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ صَدَقَ أُبَىٌّ ‏”‏ ‏.‏

উবাই বিন কা‘ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমুআহ্‌র সলাতে (খুতবাহ দিতে) দাঁড়িয়ে সূরা তাবারাকা (মূল্‌ক) পাঠ করেন এবং আমাদের উদ্দেশে আল্লাহ্‌র দিনসমূহের ইতিহাস বর্ণনা করেন। আবূদ-দারদা’ অথবা আবূ যার (রাঃ) আমাকে খোঁচা মেরে বলেন, সূরাটি কখন নাযিল হয়েছে? আমি তো তা এখনই শুনলাম। তিনি তার দিকে ইশারা করে বলেন, চুপ করুন। সাহাবীরা চলে গেলে তিনি বলেন, আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করলাম সূরাটি কখন নাযিল হয়েছে, অথচ আপনি আমাকে তা অবহিত করেননি? উবাই (রাঃ) বলেন, আজকে আপনার সালাত হয়নি, অনর্থক কাজই হয়েছে। তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তাঁকে বর্ণনা করেন এবং উবাই (রাঃ) যা বলেছেন, তাঁকে তাও অবহিত করেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, উবাই ঠিকই বলেছেন। [১১১১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১১১] আহমাদ ২০৭৮০ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: তালীকুর রগীব ২৫৭, সহীদ তারগীব ৭২০, ইরওয়াহ ৮০-৮১।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৮৭. অধ্যায়:

ইমামের খুতবাহ দানকালে কোন ব্যক্তি মাসজিদে প্রবেশ করলে।

১১১২

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، سَمِعَ جَابِرًا، وَأَبُو الزُّبَيْرِ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ دَخَلَ سُلَيْكٌ الْغَطَفَانِيُّ الْمَسْجِدَ وَالنَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَخْطُبُ ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ أَصَلَّيْتَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ ‏”‏ ‏.‏ وَأَمَّا عَمْرٌو فَلَمْ يَذْكُرْ سُلَيْكًا ‏.‏

জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর খুতবাহ দানকালে সুলাইক আল-গাতাফানী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদে প্রবেশ করেন। তিনি বলেন, তুমি কি সালাত পড়েছ? সে বললো, না। তিনি বলেন, তুমি দু’রাকাআত পড়ে নাও। রাবী আম্‌র বিন দীনারের বর্ণনায় সুলাইক (রাঃ) -এর নাম উল্লেখিত হয়নি। [১১১২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১১২] বুখারী ৯৩০-৩১, ১১৭০; মুসলিম ৮৭১-৬, তিরমিযী ৫১০, নাসায়ী ১৩৯৫, ১৪০৯; আবূ দাঊদ ১১১৫-১৬, আহমাদ ১৩৭৫৯, ১৩৮৯৭, ১৩৯৯৬, ১৪৫৪২, ১৪৬৪৯; দারিমী ১৫৫১, ১৫৫৫; ইবনু মাজাহ ১১১৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ১০২১।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১১৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ وَالنَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَخْطُبُ فَقَالَ ‏”‏ أَصَلَّيْتَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ ‏”‏ ‏.‏

আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর খুতবাহ দানকালে এক ব্যক্তি এসে উপস্থিত হলো। তিনি বলেন, তুমি কি সালাত পড়েছ? সে বললো, না। তিনি বলেন, তুমি দু’ রাকআত পড়ে নাও। [১১১৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১১৩] তিরমিযী ৫১১, নাসায়ী ১৪০৮, দারিমী ১৫৫২। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান সহীহ।

হাদিসের মানঃ হাসান সহিহ

  •  সরাসরি

১১১৪

حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَعَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالاَ جَاءَ سُلَيْكٌ الْغَطَفَانِيُّ وَرَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَخْطُبُ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏”‏ أَصَلَّيْتَ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ تَجِيءَ ‏”‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ وَتَجَوَّزْ فِيهِمَا ‏”‏ ‏.‏

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তারা বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর খুতবারত অবস্থায় সুলাইক আল-গাতফানী (রাঃ) এলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেন, তুমি কি এখানে আসার পূর্বে দু’ রাকআত পড়েছ? সে বললো, না। তিনি বলেন, তুমি সংক্ষেপে দু’ রাকআত পড়ে নাও। [১১১৪]

 

তাহকীক আলবানীঃ ‘তুমি আসার পূর্বে’ এ কথা ব্যতীত সহীহ্। এ কথাটি শায।

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১১৪] বুখারী ৯৩০-৩১, ১১৭০; মুসলিম ৮৭১-৬, তিরমিযী ৫১০, নাসায়ী ১৩৯৫, ১৪০৯; আবূ দাঊদ ১১১৫-১৬, আহমাদ ১৩৭৫৯, ১৩৮৯৭, ১৩৯৯৬, ১৪৫৪২, ১৪৬৪৯; দারিমী ১৫৫১, ১৫৫৫; ইবনু মাজাহ ১১১২। তাহক্বীক্ব আলবানী: তুমি আসার পূর্বে এ কথা ব্যতীত সহীহ্ এ কথাটি শায।

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৫/৮৮. অধ্যায়ঃ

জুমুআহ্‌র দিন লোকের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে যাওয়া নিষেধ।

১১১৫

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَجُلاً، دَخَلَ الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَرَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَخْطُبُ فَجَعَلَ يَتَخَطَّى النَّاسَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ اجْلِسْ فَقَدْ آذَيْتَ وَآنَيْتَ ‏”‏ ‏.‏

জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

জুমুআহ্‌র দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর খুতবারত অবস্থায় এক ব্যক্তি মাসজিদে প্রবেশ করলো। সে লোকের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে দিকে যাচ্ছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তুমি বসো, তুমি (অন্যকে) কষ্ট দিয়েছ এবং অনর্থক কাজ করেছ। [১১১৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১১৫] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: তালীকুর রগীব ১/২৫৬। উক্ত হাদিসের রাবী ইসমাইল বিন মুসলিম সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। সুফইয়ান বিন উয়ায়নাহ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইবনু মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়। আমর ইবনুল ফাল্লাস বলেন, হাদিস বর্ণনায় তিনি দুর্বল তাছাড়া তিনি হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১১৬

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَبَّانَ بْنِ فَائِدٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ مَنْ تَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ اتُّخِذَ جِسْرًا إِلَى جَهَنَّمَ ‏”‏ ‏.‏

মুআয বিন আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, বসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআহ্‌র দিন লোকের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে অগ্রসর হয়েছে, (কিয়ামাতের দিন) তাকে জাহান্নামের পুল বানানো হবে। [১১১৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১১৬] তিরমিযী ৫১৩, আহমাদ ১৫১৮২। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: জামি সগীর ৫৫১৬ যঈফ, তিরমিযী ৫১৩ যঈফ, মিশকাত ১৩৯২, যঈফ তারগীব ৪৩৭, ইবনু খুযাইমাহ ১৮১০ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী ১. রিশদীন বিন সা’দ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল তাকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তার থেকে হাদিস লিপিবদ্ধ করেন নি। আমর ইবনুল ফাল্লাস ও আবু যুরআহ আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী মুনকারুল হাদিস ও তার মাঝে অমনোযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন। ২. যাব্বান বিন ফায়িদ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার থেকে একাধিক মুনকার হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু হিব্বান তাকে মুনকার বলেছেন। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৮৯. অধ্যায়ঃ

ইমামের মিম্বার থেকে নামার পর কথা বলা।

১১১৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يُكَلَّمُ فِي الْحَاجَةِ إِذَا نَزَلَ عَنِ الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ‏.‏

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমুআহ্‌র দিন মিম্বার থেকে নেমে প্রয়োজনীয় কথা বলতেন। [১১১৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১১৭] তিরমিযী ৫১৭, নাসায়ী ১৪১৯, আবূ দাঊদ ১১২০, আহমাদ ১১৮৭৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: শায। তাখরীজ আলবানী: যঈফ আবী দাউদ ২০৯, কিন্তু ইশার কথা সহীহ, সহীহ আবী দাউদ ১৯৭। উক্ত হাদিসের রাবী আবু দাউদ সম্পর্কে ইবনু মাহদী বলেন, তিনি মানুষের মাঝে সত্যবাদী। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তার চেয়ে অধিক স্মৃতিসম্পন্ন ব্যাক্তি আর কাউকে দেখিনি।

হাদিসের মানঃ শায

  •  সরাসরি

৫/৯০. অধ্যায়ঃ

জুমুআহ্‌র সলাতের কিরাআত।

১১১৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَدَنِيُّ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ اسْتَخْلَفَ مَرْوَانُ أَبَا هُرَيْرَةَ عَلَى الْمَدِينَةِ فَخَرَجَ إِلَى مَكَّةَ فَصَلَّى بِنَا أَبُو هُرَيْرَةَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَرَأَ بِسُورَةِ الْجُمُعَةِ فِي السَّجْدَةِ الأُولَى وَفِي الآخِرَةِ ‏{إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ}‏ ‏.‏ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ فَأَدْرَكْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ حِينَ انْصَرَفَ فَقُلْتُ لَهُ إِنَّكَ قَرَأْتَ بِسُورَتَيْنِ كَانَ عَلِيٌّ يَقْرَأُ بِهِمَا بِالْكُوفَةِ ‏.‏ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقْرَأُ بِهِمَا ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

(উবায়দুল্লাহ) বলেন, মারওয়ান ইবনুল হাকাম, আবূ হুরায়রা (রাঃ) -কে মদিনায় তার স্থলাভিষিক্ত করে মাক্কাহয় যান। আবূ হুরায়রা (রাঃ) আমাদের নিয়ে জুমুআহ্‌র দিন সালাত পড়লেন। তিনি প্রথম রাকআতে সূরা জুমুআহ এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা ইযা জাআকাল মুনাফিকূন’ পড়েন। উবায়দুল্লাহ্ (রাঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) সালাত থেকে অবসর হলে আমি তাকে বললাম, আপনি এমন দু’টি সূরা পড়লেন, যা আলী (রাঃ) কূফায় পড়েছিলেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে এ দু’টি সুরাহ পড়তে শুনেছি। [১১১৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১১৮] মুসলিম ৮৭৭, ৫১৯; আবূ দাঊদ ১১২৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৬৪, সহীহ আবী দাউদ ১০২৯।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১১৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، أَنْبَأَنَا ضَمْرَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَتَبَ الضَّحَّاكُ بْنُ قَيْسٍ إِلَى النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ أَخْبِرْنَا بِأَىِّ، شَىْءٍ كَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقْرَأُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ مَعَ سُورَةِ الْجُمُعَةِ قَالَ كَانَ يَقْرَأُ فِيهَا ‏{هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ‏}‏ ‏.‏

নু‘মান বিন বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

(উবায়দুল্লাহ) বলেন, দহ্‌হাক বিন কায়স (রাঃ) নু‘মান বিন বাশীর (রাঃ) -কে লিখে পাঠান যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমুআহ্‌র সলাতে সূরা জুমুআহ্‌র সাথে আর কোন্ সূরা পড়তেন তা আপনি আমাদের অবহিত করুন। তিনি বলেন, তিনি বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ’ সূরা পড়তেন। [১১১৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১১৯] মুসলিম ৮৭১-২, তিরমিযী ৫৩৩, নাসায়ী ১৪২৩-২৪, আবূ দাঊদ ১১২২-২৩, আহমাদ ১৭৯১৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ১০২৮।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১২০

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، عَنْ أَبِي عِنَبَةَ الْخَوْلاَنِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَقْرَأُ فِي الْجُمُعَةِ بِـ ‏{سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى}‏ وَ ‏{هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ}‏ ‏.‏

আবূ ইনাবাহ (আবদুল্লাহ বিন ইনাবাহ) আল-খাওলানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমুআহ্‌র সলাতে “সাব্বিহ ইসমা রব্বিকাল আলা” সূরা এবং ‘হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ’ সূরা পড়তেন। [১১২০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১২০] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ১০২৭, ১০৩০। উক্ত হাদিসের রাবী সাঈদ বিন সিনান সম্পর্কে ইমাম বুখারী, মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ও আহমাদ বিন সালিহ আল-মিশরী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

 

মন্তব্য করুন

Top