| |

ইবনে মাজাহ সালাত আদায় করা ও তার নিয়ম কানুন অধ্যায় ১ম ভাগ হাদিস নং ৮০৩ – ৯১০

Table of Contents

৫/১. অধ্যায়ঃ

সালাত শুরু করা।

৮০৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الطَّنَافِسِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ السَّاعِدِيَّ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَقَالَ ‏ “‏ اللَّهُ أَكْبَرُ ‏”‏ ‏.‏

আবু হুমায়দ আস-সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সলাতে কিবলামুখী হতেন তখন তাঁর দু’হাত উত্তোলন করে আল্লাহু আকবার (তাকবির তাহরীমা) বলতেন। [৮০১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮০১] বুখারী ৮২৮, তিরমিযী ৩০৪, আবূ দাঊদ ৭৩০, আহমাদ ২৩০৮৮, দারিমী ১৩৫৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৮১০।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮০৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيُّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ عَلِيٍّ الرِّفَاعِيُّ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَسْتَفْتِحُ صَلاَتَهُ يَقُولُ ‏ “‏ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ ‏”‏ ‏.‏

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত শুরু করে (তাকবীরে তাহরীমার পর) বলতেন: “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা” (হে আল্লাহ! আমি আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বরকতপূর্ণ, আপনার মাহাত্ন সুউচ্চ এবং আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই)। [৮০২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮০২] তিরমিযী ২৪২, নাসায়ী ৮৯৯, ৯০০; আবূ দাঊদ ৭৭৫, আহমাদ ১১০৮১, দারিমী ১২৩৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৫১, মিশকাত ৮১৬, সহীহ আবূ দাউদ ৭৪৮।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮০৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا كَبَّرَ سَكَتَ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ ‏.‏ قَالَ فَقُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَرَأَيْتَ سُكُوتَكَ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ فَأَخْبِرْنِي مَا تَقُولُ قَالَ ‏ “‏ أَقُولُ اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَاىَ كَالثَّوْبِ الأَبْيَضِ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَاىَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকবীরে তাহরীমা বলার পর, তাকবীর ও কিরাআতের মাঝখানে কিছুক্ষণ নীরব থাকতেন। রাবী বলেন, আমি বললাম, আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আপনি তাকবীর ও কিরাআতের মাঝখানে চুপ থাকেন কেন? তখন আপনি কী বলেন আমাকে বলুন! তিনি বলেন: আমি বলিঃ (আল্লাহুম্মা বা’ইদ বাইনি ওয়া বাইনা খাতাইয়াইয়া কামা বায়াদতা বাইনাল মাশরিক্বি ওয়াল মাগরিব। আল্লাহুম্মা নাক্কিনী মিন খাতাইয়াইয়া কাস-সাওবিল আবইয়াদু মিনাদ দানাস। আল্লাহুম্মাগসিলনী মিন খাতাইয়াইয়া বিল মায়ি ওয়াস-সালজি ওয়াল বারাদ।) “হে আল্লাহ্! আপনি আমার ও আমার গুনাহের মাঝে এরূপ দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যেরূপ আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার পাপরাশি থেকে পবিত্র করুন, যেমন ময়লা থেকে ধবধবে সা’দা কাপড় পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহসমূহ হিমশীতল পানি দিয়ে ধৌত করুন।” [৮০৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮০৩] বুখারী ৭৪৪, মুসলিম ৫৯৮, নাসায়ী ৮৯৪-৯৫, আবূ দাঊদ ৭৮১, আহমাদ ৭১২৪, ১০৩৬; দারিমী ১২৪৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩৪১, মিশকাত ৮১৫, সহীহ আবূ দাউদ ৭৪৯।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮০৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِمْرَانَ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا حَارِثَةُ بْنُ أَبِي الرِّجَالِ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ قَالَ ‏ “‏ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ ‏”‏ ‏.‏

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত শুরু করে বলতেন- (সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বি হামদিকা তাবারাকাসমুকা ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা ওয়ালা ইলাহা গাইরুক) “হে আল্লাহ্! আমি আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করছি, আপনার নাম বরকতময় এবং আপনার মাহাত্ন্য সুউচ্চ। আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই।” [৮০৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮০৪] তিরমিযী ২৪৩, আবূ দাঊদ ৭৭৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৮ সহীহ আবূ দাউদ ৭৫০। উক্ত হাদিসের রাবী হারিসাহ বিন আবু রিজাল সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু যুরআহ আর-রাযী ও আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/২. অধ্যায়ঃ

সলাতের মধ্যে আশ্রয় প্রার্থনা।

৮০৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَاصِمٍ الْعَنَزِيِّ، عَنِ ابْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حِينَ دَخَلَ فِي الصَّلاَةِ قَالَ ‏ “‏ اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا – ثَلاَثًا – الْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا الْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا – ثَلاَثًا – سُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً – ثَلاَثَ مَرَّاتٍ – اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ عَمْرٌو هَمْزُهُ الْمُوتَةُ وَنَفْثُهُ الشِّعْرُ وَنَفْخُهُ الْكِبْرُ ‏.‏

জুবায়র বিন মুতঈম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে) দেখেছি যে, তিনি সালাতে প্রবেশ করে বলতেন: “আল্লাহু আকবার কাবীরা” তিনবার, “আলহামদু লিল্লাহি কাসীরা” তিনবার এবং “সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসীলা” তিনবার। অতঃপর তিনি বলতেনঃ (আল্লাহুম্মা ইন্নী আউজুবিকা মিনাশ শাইতনির রজীম, মিন হামযিহি ওয়া নাফখিহি ওয়া নাফসিহি।) “ (হে আল্লাহ্! আমি বিতাড়িত শয়তানের শয়তানী, তার অশ্লীল কবিতা এবং তার অহংকার হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাই) আমর (রহঃ) বলেন, অর্থ তার শয়তানী অর্থ তার অশ্লীল কবিতা এবং অর্থ তার অহমিকা। [৮০৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮০৫] আবূ দাঊদ ৭৬৪ তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: তিরমিযী ২৪২ সহীহ, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ৪৬৮ যঈফ, ইরওয়াহ ৫৬৪ মিশকাত ৮১৭, যঈফ আবূ দাউদ ১৩০।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৮০৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ وَهَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ هَمْزُهُ الْمُوتَةُ وَنَفْثُهُ الشِّعْرُ وَنَفْخُهُ الْكِبْرُ ‏.‏

ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেনঃ (আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাশ শাইতনির রজীম ওয়া হামযিহি, ওয়া নাফখিহি ওয়া নাফসিহি)। রাবী বলেন, এর অর্থ, তার শয়তানী, অর্থ, তার অশ্লীল কবিতা এবং -এর অর্থ, তার অহমিকা। [৮০৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮০৬] আহমাদ ৩৮১৮, ৩৮২০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৩. অধ্যায়ঃ

সালাতের মধ্যে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা।

৮০৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ هُلْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَؤُمُّنَا فَيَأْخُذُ شِمَالَهُ بِيَمِينِهِ ‏.‏

হুলব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের ইমামতি করতেন। তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন।[৮০৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮০৭] তিরমিযী ২৫২ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৮০৩।

হাদিসের মানঃ হাসান সহিহ

  •  সরাসরি

৮১০

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، ح وَحَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُصَلِّي فَأَخَذَ شِمَالَهُ بِيَمِينِهِ ‏.‏

ওয়ায়িল বিন হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে সালাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে তাঁর বাম হাত ধরেন। [৮০৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮০৮] মুসলিম ৪০১, নাসায়ী ৮৮৭, ৮৮৯; আবূ দাঊদ ৭২৩, ৭২৬, ৯৫৭; আহমাদ ১৮৩৬৫, ১৮৩৭৮, ১৮৩৮৮, ১৩৩৯৮; দারিমী ১২৪১, ১৩৫৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৭১৬।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮১১

حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْهَرَوِيُّ، إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَاتِمٍ أَنْبَأَنَا هُشَيْمٌ، أَنْبَأَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَبِي زَيْنَبَ السُّلَمِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ مَرَّ بِي النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَنَا وَاضِعٌ يَدِي الْيُسْرَى عَلَى الْيُمْنَى فَأَخَذَ بِيَدِي الْيُمْنَى فَوَضَعَهَا عَلَى الْيُسْرَى ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, আমি আমার বাম হাত ডান হাতের উপর রেখেছিলাম। তিনি আমার ডান হাত ধরে বাম হাতের উপর রাখেন। [৮০৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮০৯] নাসায়ী ৮৮৮, আবূ দাঊদ ৭৫৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৭১৬।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৪. অধ্যায়ঃ

কিরআত শুরু করা।

৮১২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَفْتَتِحُ الْقِرَاءَةَ بِـ ‏{الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ }‏

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলহামদু লিল্লাহি রাবিবল আলামীন (সূরা ফাতিহাহ) দ্বারা কিরাআত শুরু করতেন। [৮১০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮১০] মুসলিম ৪৯৮, আবূ দাঊদ ৭৮৩, আহমাদ ২৩৫১০, ২৪৮৫৪, ২৫০৮৯, ২৫৮৭০; দারিমী ১২৩৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩১৬, সহীহ আবূ দাউদ ৭৫২।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮১৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا جُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ يَفْتَتِحُونَ الْقِرَاءَةَ بِـ ‏{الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ}‏

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) , আবূ বকর (রাঃ) ও উমার (রাঃ) “আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” দ্বারা কিরাআত শুরু করতেন। [৮১১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮১১] বুখারী ৭৪৩, মুসলিম ৩৯৯, তিরমিযী ২৪৬, নাসায়ী ৯০২-৩, ৯০৬-৭; আবূ দাঊদ ৭৮২, আহমাদ ১১৫৮০, ১১৬৭৪, ১১৭২৫, ১২৩০৩, ১২৪৭৬, ১২৬৯০, ১২৭১২, ১২৯২৪, ১৩২৬৮, ১৩৩৭৩, ১৩৪৭৮, ১৩৫৪৫, ১৩৬৩৭, ১৩৬৬৩; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৭৯, দারিমী ১২৪০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৭৫১। উক্ত হাদিসের রাবী জুবারাহ ইবনুল মুগাল্লিস সম্পর্কে মুসলিম বিন কায়স বলেন, ইনশাআল্লাহ্‌ (আল্লাহ্‌ চায়তো) তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যুক ও বানিয়ে হাদিস বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি মুদতারাব ভাবে হাদিস বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮১৪

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَبَكْرُ بْنُ خَلَفٍ، وَعُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ رَافِعٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ عَمِّ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَفْتَتِحُ الْقِرَاءَةَ بِـ ‏{الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ}‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) “আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” দ্বারা কিরাআত শুরু করতেন। [৮১২]

  •  
  •  
  •  
  •  

সহীহ লিগাইরিহী।

হাদিসের মানঃ সহিহ লিগাইরিহি

  •  সরাসরি

৮১৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عَبَايَةَ، حَدَّثَنِي ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُغَفَّلِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ وَقَلَّمَا رَأَيْتُ رَجُلاً أَشَدَّ عَلَيْهِ فِي الإِسْلاَمِ حَدَثًا مِنْهُ فَسَمِعَنِي وَأَنَا أَقْرَأُ ‏{بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}‏ فَقَالَ أَىْ بُنَىَّ إِيَّاكَ وَالْحَدَثَ فَإِنِّي صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ وَمَعَ عُمَرَ وَمَعَ عُثْمَانَ فَلَمْ أَسْمَعْ رَجُلاً مِنْهُمْ يَقُولُهُ فَإِذَا قَرَأْتَ فَقُلِ ‏{الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ}‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ইসলামে নতুন কিছু উদ্ভাবন বা প্রচলনের বিরুদ্ধে আমার পিতার চাইতে অধিক কঠোর মনোভাবাপন্ন লোক আমি খুব কমই দেখেছি। তিনি আমাকে (সালাতের মধ্যে) বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়তে শুনে বলেন, প্রিয় বৎস! বিদআত থেকে বিরত থাকো। কেননা আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) , আবূ বকর (রাঃ) , উমার (রাঃ) ও উসমান (রাঃ) -এর সাথে সালাত আদায় করেছি, কিন্তু আমি তাদের কাউকে বিসমিল্লাহ পড়তে শুনিনি। অতএব তুমি “আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” দ্বারাই কিরাআত শুরু করবে। [৮১৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮১৩] তিরমিযী ২৪৪, নাসায়ী ৯০৮, আহমাদ ১৬৩৪৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী (ইয়াযীদ) বিন আবদুল্লাহ বিন মুগাফফাল এর জারাহ তা’দীল সম্পর্কে কোনটিই আলোচনা করা হয়নি।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৫. অধ্যায়ঃ

ফজরের সলাতের কিরাআত।

৮১৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ، عَنْ قُطْبَةَ بْنِ مَالِكٍ، سَمِعَ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقْرَأُ فِي الصُّبْحِ ‏{وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ لَهَا طَلْعٌ نَضِيدٌ }‏ ‏.‏

কুতবাহ বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ফজরের সালাতে “ওয়ান-নাখলা বাসিকাতিল লাহা তালউন নাদীদ” (সূরা কাফ থেকে) তিলাওয়াত করতে শুনেছেন। [৮১৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮১৪] মুসলিম ৪৫৭, তিরমিযী ৩০৬, নাসায়ী ৯৫০, আহমাদ ১৮৪২৪, দারিমী ১২৯৭-৯৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৬৩।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮১৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ أَصْبَغَ، مَوْلَى عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، قَالَ صَلَّيْنَا مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَكَانَ يَقْرَأُ فِي الْفَجْرِ فَكَأَنِّي أَسْمَعُ قِرَاءَتَهُ ‏{فَلاَ أُقْسِمُ بِالْخُنَّسِ الْجَوَارِ الْكُنَّسِ}‏ ‏.‏

আমর ইবনু হুরাইস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সালাত পড়লাম এবং তিনি ফজরের সলাতে (সূরা তাকবীর) পড়লেন। আমি যেন (এখনো) তার কিরাআত পাঠ শুনছি। [৮১৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮১৫] মুসলিম ৪৫৬, নাসায়ী ৯৫১, আবূ দাঊদ ৮১৭, আহমাদ ১৮২৫৮, দারিমী ১২৯৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৭৭৬।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

৮১৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ، عَنْ أَبِي بَرْزَةَ، ح وَحَدَّثَنَا سُوَيْدٌ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، حَدَّثَهُ أَبُو الْمِنْهَالِ، عَنْ أَبِي بَرْزَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَقْرَأُ فِي الْفَجْرِ مَا بَيْنَ السِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ ‏.‏

আবূ বারযাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের সলাতে ষাট থেকে এক শত আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন। [৮১৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮১৬] বুখারী ৫৪১, মুসলিম ৪৬১, নাসায়ী ৪৯৫, ৫২৫, ৫৩০, ৯৪৮, আবূ দাঊদ ৩৯৮, আহমাদ ১৯২৬৫, ১৯৩৬৮, ১৯২৯৪, ১৯৩০১, ১৯০১০; দারিমী ১৩০০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮১৯

حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ حَجَّاجٍ الصَّوَّافِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُصَلِّي بِنَا فَيُطِيلُ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى مِنَ الظُّهْرِ وَيُقْصِرُ فِي الثَّانِيَةِ وَكَذَلِكَ فِي الصُّبْحِ ‏.‏

আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে সাথে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তিনি যোহরের প্রথম রাকাআত দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকাআত সংক্ষেপ করতেন। তিনি ফজরের সলাতেও এরূপ করতেন। [৮১৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮১৭] বুখারী ৭৫৯, ৭৭৬, ৭৭৮, ৭৭৯; মুসলিম ৪৫১, নাসায়ী ৯৭৪-৭৮, আবূ দাঊদ ৭৯৮, দারিমী ১২৯১, ১২৯৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৭৬৩।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮২০

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ، قَالَ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ بـ ‏{الْمُؤْمِنُونَ}‏ فَلَمَّا أَتَى عَلَى ذِكْرِ عِيسَى أَصَابَتْهُ شَرْقَةٌ فَرَكَعَ ‏.‏ يَعْنِي سَعْلَةً ‏.‏

আব্দুল্লাহ ইবনুস সায়িব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের সলাতে “সূরা মু’মিনূন” তিলাওয়াত করলেন। তিনি তিলাওয়াত করতে করতে ঈসা (আলায়হিস সালাম) -এর প্রসঙ্গ পর্যন্ত উপনীত হলে তাঁর হাঁচি (বা কফ) আসে। তিনি তখন রুকূতে চলে গেলেন। [৮১৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮১৮] মুসলিম ৪৫৫, নাসায়ী ৮৮২, ১০০৭; আবূ দাঊদ ৬৪৯, আহমাদ ১৪৯৬৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩৯৭, সহীহ আবূ দাউদ ৫৫৬।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৬. অধ্যায়ঃ

জুমুআহ্‌র দিন ফজরের সলাতের কিরাআত।

৮২১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُخَوَّلٍ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقْرَأُ فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ‏{الم * تَنْزِيلُ }‏ وَ ‏{هَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ}‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমুআহর দিন ফজরের সলাতে সূরা আলিফ-লাম-মিম তানযীল আস-সাজদা এবং হাল আতা আলাল ইনসানে (সূরা আদ-দাহর) তিলাওয়াত করতেন। [৮১৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮১৯] মুসলিম ৮৭৯, তিরমিযী ৫২০, সা ৯৫৬, ১৪২১; আবূ দাঊদ ১০৭৪, আহমাদ ১৯৯৪, ২৪৫২, ২৭৯৬, ৩০৩১, ৩০৮৬, ৩১৫০, ৩৩১৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৯৫, সহীহ আবূ দাউদ ৯৮৫।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮২২

حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ نَبْهَانَ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقْرَأُ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ‏{الم * تَنْزِيلُ}‏ وَ ‏{هَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ}‏

সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমুআহর দিন ফজরের সলাতে আলিফ-লাম-মীম তানযীল এবং হাল আতা আলাল ইনসান সূরাদ্বয় তিলাওয়াত করতেন। [৮২০]

  •  
  •  
  •  
  •  

সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী হারিস বিন নাহবান সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার থেকে হাদিস লিখা হয় না। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি দুর্বল। আহমাদ বিন হাম্বল ও ইমাম বুখারী বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইমাম নাসাঈ বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, কোন সমস্যা নেই। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮২৩

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَقْرَأُ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ‏{الم * تَنْزِيلُ}‏ وَ ‏{هَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ}‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমুআহর দিন ফজরের সলাতে আলিফ-লাম-মীম-তানযীল এবং হাল আতা আলাল ইংসান সূরাদ্বয় তিলাওয়াত করতেন। [৮২১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮২১] বুখারী ৮৯১, ১০৬৮; মুসলিম ৮৮০/১-২, নাসায়ী ৯৫৫, আহমাদ ৯২৭৭, ৯৭৫২; দারিমী ১৫৪২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৬২৮।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮২৪

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَنْبَأَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ، أَنْبَأَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ أَبِي فَرْوَةَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَقْرَأُ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ‏{الم * تَنْزِيلُ}‏ وَ ‏{هَلَ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ}‏ ‏.‏ قَالَ إِسْحَاقُ هَكَذَا حَدَّثَنَا عَمْرٌو عَنْ عَبْدِ اللَّهِ لاَ أَشُكُّ فِيهِ ‏.‏

আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমুআহর দিন ফজরের সলাতে আলিফ-লাম-মীম তাংযীল এবং হাল আতা আলাল ইংসান সুরাদ্বয় তিলাওয়াত করতেন।[৮২২]

  •  
  •  
  •  
  •  

সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/৭. অধ্যায়ঃ

যোহর ও আসর সলাতের কিরাআত।

৮২৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ قَزَعَةَ، قَالَ سَأَلْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ لَيْسَ لَكَ فِي ذَلِكَ خَيْرٌ ‏.‏ قُلْتُ بَيِّنْ رَحِمَكَ اللَّهُ ‏.‏ قَالَ كَانَتِ الصَّلاَةُ تُقَامُ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ الظُّهْرَ فَيَخْرُجُ أَحَدُنَا إِلَى الْبَقِيعِ فَيَقْضِي حَاجَتَهُ وَيَجِيءُ فَيَتَوَضَّأُ فَيَجِدُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى مِنَ الظُّهْرِ ‏.‏

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেন, এতে তোমার জন্য কোন কল্যাণ নেই। আমি বললাম, আপনি স্পষ্ট করে বলুন, আল্লাহ আপনাকে অনুগ্রহ করুন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর জন্য যোহর সলাতের ইকামত দেয়া হতো। আমাদের কেউ আল-বাকী নামক স্থানে গিয়ে তার প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে এসে উযুর করতো, অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে যোহরের প্রথম রাকআতেই পেতো। [৮২৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮২৩] মুসলিম ৪৫৪, নাসায়ী ৯৭৩, আহমাদ ১০৯১৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮২৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، قَالَ قُلْتُ لِخَبَّابٍ بِأَىِّ شَىْءٍ كُنْتُمْ تَعْرِفُونَ قِرَاءَةَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ قَالَ بِاضْطِرَابِ لِحْيَتِهِ ‏.‏

আবূ মা’মার থেকে বর্ণিতঃ

আমি খাব্বাব (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর যোহর ও আসর সলাতের কিরাআত কিসের মাধ্যমে বুঝতেন? তিনি বলেন, তাঁর দাড়ি নড়াচড়ার মাধ্যমে। [৮২৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮২৪] বুখারী ৭৪৬, ৭৬০-৬১, ৭৭৭; আবূ দাঊদ ৮০১, আহমাদ ২০৫৫২, ২০৫৭৩, ২৬৬৭৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৭৬৪।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮২৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنِي بُكَيْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَشْبَهَ صَلاَةً بِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مِنْ فُلاَنٍ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ يُطِيلُ الأُولَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ وَيُخَفِّفُ الأُخْرَيَيْنِ وَيُخَفِّفُ الْعَصْرَ ‏.‏

আবূ হূরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাতের সাথে অমুকের সলাতের চাইতে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ আর কারো সালাত দেখিনি। রাবী বলেন, তিনি যোহরের প্রথম দু’রাকাআত দীর্ঘ করতেন এবং পরবর্তী দু’রাকআত সংক্ষেপ করতেন এবং আসরের সালাত সংক্ষেপ করতেন।[৮২৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮২৫] নাসায়ী ৯৮২, আহমাদ ৮১৬৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৮৫৩।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮২৮

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدٌ الْعَمِّيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ اجْتَمَعَ ثَلاَثُونَ بَدْرِيًّا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالُوا تَعَالَوْا حَتَّى نَقِيسَ قِرَاءَةَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِيمَا لَمْ يَجْهَرْ فِيهِ مِنَ الصَّلاَةِ ‏.‏ فَمَا اخْتَلَفَ مِنْهُمْ رَجُلاَنِ فَقَاسُوا قِرَاءَتَهُ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى مِنَ الظُّهْرِ بِقَدْرِ ثَلاَثِينَ آيَةً وَفِي الرَّكْعَةِ الأُخْرَى قَدْرَ النِّصْفِ مِنْ ذَلِكَ وَقَاسُوا ذَلِكَ فِي صَلاَةِ الْعَصْرِ عَلَى قَدْرِ النِّصْفِ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ الأُخْرَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ ‏.‏

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তিরিশজন সাহাবী সমবেত হয়ে বলেন, আসুন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নীরবে পঠিত (যোহর ও আসর) সলাতের কিরাআত সম্পর্কে অনুমান করি। তাদের মধ্যে দু’জন সাহাবীও তাদের এ অনুমানে মতভেদ করেননি যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যোহরের প্রথম রাকআতে ত্রিশ আয়াত এবং দ্বিতীয় রাকআতে তার অর্ধেক সংখ্যক আয়াত তিলাওয়াত করতেন। এভাবে তারা অনুমান করলেন যে, তিনি আসরের সলাতে যুহরের দ্বিতীয় রাকআতে পঠিত কিরাআতের সমপরিমাণ কিরাআত পড়তেন। [৮২৬]

তাহকীক আলবানীঃ দঈফ, তবে সহীহ মুসলিমে কিয়াস শব্দ ব্যতীত মারফূ’ সূত্রে বর্ণনা রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮২৬] মুসলিম ৪৫২, নাসায়ী ৪৭৫-৭৬, আবূ দাঊদ ৮০৪, আহমাদ ১১৩৯৩, দারিমী ১২৮৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ, তবে সহীহ মুসলিমে কিয়াস শব্দ ব্যতীত মারফূ সূত্রে বর্ণনা রয়েছে। উক্ত হাদিসের রাবী যায়দ আল আম্মী সম্পর্কে ইমাম দারাকুতনী সালিহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল।

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৫/৮. অধ্যায়ঃ

যোহর ও আসর সলাতে কখনো সশব্দে কুরআন তিলাওয়াত।

৮২৯

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ الصَّوَّافُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقْرَأُ بِنَا فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ مِنْ صَلاَةِ الظُّهْرِ وَيُسْمِعُنَا الآيَةَ أَحْيَانًا ‏.‏

আবূ কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরসহ যোহরের সালাত পড়াকালে প্রথম দু’রাকাআতে কখনো কখনো আমাদের শুনিয়ে কিরাআত পাঠ করতেন। [৮২৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮২৭] বুখারী ৭৬২, ৭৭৬, ৭৭৮-৭৯; মুসলিম ৪৫১-২, নাসায়ী ৯৭৪-৭৬, আবূ দাঊদ ৭৯৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭৬৩।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৩০

حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ، عَنْ هَاشِمِ بْنِ الْبَرِيدِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُصَلِّي بِنَا الظُّهْرَ فَنَسْمَعُ مِنْهُ الآيَةَ بَعْدَ الآيَاتِ مِنْ سُورَةِ لُقْمَانَ وَالذَّارِيَاتِ ‏.‏

আল- বারা’ বিন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে যুহরের সালাত করতেন। আমরা সূরা লুকমান ও সূরা যারিয়াত থেকে তাঁর পঠিত আয়াতের পর আয়াত শুনতে পেতাম। [৮২৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮২৮] নাসায়ী ৯৭১ তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: যঈফা ৪১২০ যঈফ। হাদিসের রাবী আবু ইসহাক সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও তাদলিসের অভিযগে অভিযুক্ত করেছেন। হাশিম বিন বারীদ আবু ইসহাক থেকে আনআন শব্দে বর্ণনা করায় সানাদটি দুর্বল।

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৫/৯. অধ্যায়ঃ

মাগরিবের সলাতের কিরাআত।

৮৩১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أُمِّهِ، – قَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ هِيَ لُبَابَةُ – أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِالْمُرْسَلاَتِ عُرْفًا ‏.‏

লুবাবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে মাগরিবের সলাতে “ওয়াল মুরসলাতে উরফা” সূরা থেকে তিলাওয়াত করতে শুনেছেন। [৮২৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮২৯] বুখারী ৭৬৩, ৪৪২৯; মুসলিম ৪৬২, তিরমিযী ৩০৮, নাসায়ী ৯৮৫-৮৬, আবূ দাঊদ ৮১০, আহমাদ ২৬৩২৭, ২৬৩৪০; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৭৩, দারিমী ১২৭৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭৭১।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৩২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِالطُّورِ ‏.‏ قَالَ جُبَيْرٌ فِي غَيْرِ هَذَا الْحَدِيثِ فَلَمَّا سَمِعْتُهُ يَقْرَأُ ‏{أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَىْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ}‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏{فَلْيَأْتِ مُسْتَمِعُهُمْ بِسُلْطَانٍ مُبِينٍ }‏ كَادَ قَلْبِي يَطِيرُ ‏.‏

জুবায়র বিন মুতইম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে মাগরিবের সলাতে সূরা তূর থেকে তিলাওয়াত করতে শুনেছি। জুবায়র (রাঃ) অন্য হাদীসে বলেন, আমি যখন তাঁকে তিলাওয়াত করতে শুনলাম (অনুবাদ) ঃ “তারা কি সৃষ্টিকর্তা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, না তারা নিজেরাই সৃষ্টিকর্তা?….তাহলে তাদের সেই শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ পেশ করুন” (সূরা তূরঃ ৩৫-৩৮) , তখন আমার অন্তর উড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। [৮৩০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৩০] বুখারী ৭৬৫, ৩০৫০, ৪০২৩, ৪৮৫৪; মুসলিম ৪৬৩, নাসায়ী ৯৮৭, আবূ দাঊদ ৮১১, আহমাদ ১৬২৯৩, ১৬৩২১, ১৬৩৩২, ২৭৫৯৭; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৭২, দারিমী ১২৯৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৭৭২।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৩৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ بُدَيْلٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ ‏{قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ}‏ وَ ‏{قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ}‏ ‏.

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাগরিবের সলাতে সূরা কাফিরূন ও সূরা ইখলাস তিলাওয়াত করতেন। [৮৩১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৩১] শায। সঠিক কথা হলো উক্ত সূরাদ্বয় রাসুল (সাঃ) মাগরিবের সুন্নাত সালাতে তিলাওয়াত করতেন। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৮৫০।

হাদিসের মানঃ শায

  •  সরাসরি

৫/১০. অধ্যায়ঃ

ইশার সলাতের কিরাআত।

৮৩৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ زُرَارَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، جَمِيعًا عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، أَنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ الْعِشَاءَ الآخِرَةَ قَالَ فَسَمِعْتُهُ يَقْرَأُ بِالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ

বারা’ বিন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে ইশার সলাতে পড়েন। তিনি বলেন, আমি তাঁকে সূরা ওয়াত-তীন ওয়ায-যাইতূন পড়তে শুনেছি।

  •  
  •  
  •  
  •  

সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৩৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ زُرَارَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، جَمِيعًا عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنِ الْبَرَاءِ، مِثْلَهُ ‏.‏ قَالَ فَمَا سَمِعْتُ إِنْسَانًا، أَحْسَنَ صَوْتًا أَوْ قِرَاءَةً مِنْهُ ‏.‏

বারা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আরো বলেন, আমি তাঁর চাইতে উত্তম ও সুমধুর কন্ঠে তিলাওয়াত আর কোন মানুষের নিকট শুনিনি। [৮৩৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৩৩] বুখারী ৭৬৭, ৭৬৯, ৪৯৫২, ৭৫৪৬; মুসলিম ৪৬১-৩, তিরমিযী ৩১০, নাসায়ী ১০০০-১, আবূ দাঊদ ১২২১, আহমাদ ১৮০৩৩, ১৮০৫৬, ১৮২০৬, ১৮২২৩, ১৮২৩৩; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৭৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৩৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، صَلَّى بِأَصْحَابِهِ الْعِشَاءَ فَطَوَّلَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ اقْرَأْ بِالشَّمْسِ وَضُحَاهَا وَسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى وَاقْرَأْ بِسْمِ رَبِّكَ ‏”‏ ‏.‏

মুআয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

মুআয বিন জাবাল (রাঃ) তার সংগীদের নিয়ে ইশার সালাত পড়লেন এবং তাদের সালাত দীর্ঘায়িত করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহি আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তুমি সূরা ওয়াশ-শামস, সুরাহ আলা, সুরাহ লায়ল ও আলাক ইত্যাদি (ক্ষুদ্র সূরা) পাঠ করবে। [৮৩৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৩৪] বুখারী ৭০১, ৭০৫, ৬১০৬; মুসলিম ৪৬৫, নাসায়ী ৮৩৫, আবূ দাঊদ ৭৯০, আহমাদ ১৩৮৯৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/১১. অধ্যায়ঃ

ইমামের পিছনে কিরাআত পড়া।

৮৩৭

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَسَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ ‏”‏ ‏.‏

উবাদাহ ইবনুস-সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহাহ পাঠ করেনি, তার সালাত হয়নি। [৮৩৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৩৫] বুখারী ৭৫৬, মুসলিম ৩৯১-৩, তিরমিযী ২৪৭, নাসায়ী ৯১০-১১, ৯২০; আবূ দাঊদ ৮২২-২৪, আহমাদ ২২১৬৯, ২২১৮৬, ২২২৩৭, ২২২৪০; দারিমী ১২৪২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩০২, সহীহ আবী দাউদ ৭৮০।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৩৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ، أَنَّ أَبَا السَّائِبِ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ مَنْ صَلَّى صَلاَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهِيَ خِدَاجٌ غَيْرُ تَمَامٍ ‏”‏ ‏.‏ فَقُلْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَإِنِّي أَكُونُ أَحْيَانًا وَرَاءَ الإِمَامِ ‏.‏ فَغَمَزَ ذِرَاعِي وَقَالَ يَا فَارِسِيُّ اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ ‏.‏

আবূস সায়িব, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি কোন সালাত পড়লো এবং তাতে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পড়েনি তার সালাত অসম্পুর্ন। আবূস সাইব (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা! আমি কখনো কখনো ইমামের সাথে সালাত পড়ি। তিনি আমার বাহুতে খোঁচা দিয়ে বলেন, হে ফারিসী! তুমি তা মনে মনে পড়ো। [৮৩৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৩৬] মুসলিম ৩৯৫, তিরমিযী ২৯৫৩, নাসায়ী ৯০৯, আবূ দাঊদ ৮১৯-২১, আহমাদ ৭২৪৯, ৭৭৭৭, ৭৮৪১, ৯২৪৫, ৯৫৮৪, ৯৬১৬, ৯৮৪২, ৯৯৪৬; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৮৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭৭৯।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৩৯

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُضَيْلِ، ح وَحَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، جَمِيعًا عَنْ أَبِي سُفْيَانَ السَّعْدِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ بِـ ‏{الْحَمْدُ لِلَّهِ‏}‏ وَسُورَةٍ فِي فَرِيضَةٍ أَوْ غَيْرِهَا ‏”‏ ‏.‏

আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফারদ্‌ অথবা অন্য সলতে সূরা ফাতিহা ও অন্য কোন সূরা পড়েনি তার সালাত হয়নি। [৮৩৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৩৭] আবূ দাঊদ ৮১৮ তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: জামি সগীর ৫২৬৬, ৬২৯৯ যঈফ, তিরমিযী ৪৮১ , সহীহ আবূ দাউদ ৭৭৭, এর মূল মুসলিম আছে। উক্ত হাদিসের রাবী আবু সুফইয়ান তরীফ আস-সা’দী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহণযোগ্য নয়। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৮৪০

حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ يَعْقُوبَ الْجَزَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ “‏ كُلُّ صَلاَةٍ لاَ يُقْرَأُ فِيهَا بِأُمِّ الْكِتَابِ فَهِيَ خِدَاجٌ ‏”‏ ‏.‏

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ যে কোন সলাতে সূরা ফাতিহা না পড়া হলে তা অসম্পূর্ণ। [৮৩৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৩৮] আহমাদ ২৪৫৭৫, ২৫৮২৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান সহীহ।

হাদিসের মানঃ হাসান সহিহ

  •  সরাসরি

৮৪১

حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السُّكَيْنِ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ السَّلْعِيُّ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ كُلُّ صَلاَةٍ لاَ يُقْرَأُ فِيهَا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَهِيَ خِدَاجٌ فَهِيَ خِدَاجٌ ‏”‏ ‏.‏

আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে কোন সলাতে সূরা ফাতিহা না পড়লে তা অসম্পূর্ণ তা অসম্পূর্ণ।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাসান সহীহ।

হাদিসের মানঃ হাসান সহিহ

  •  সরাসরি

৮৪২

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ يُونُسَ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ سَأَلَهُ رَجُلٌ فَقَالَ أَقْرَأُ وَالإِمَامُ يَقْرَأُ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَفِي كُلِّ صَلاَةٍ قِرَاءَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ نَعَمْ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ وَجَبَ هَذَا ‏.‏

আবূদ-দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করলো, ইমামের কিরাআত পড়ার সাথে সাথে আমিও কি কিরাআত পড়বো? তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করলো, প্রত্যেক সলাতেই কি কিরাআত আছে? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, হাঁ। উপস্থিত লোকেদের মধ্যে একজন বললো, এটি বাধ্যতামূলক হয়ে গেলো। [৮৪০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৪০] নাসায়ী ৯২৩, আহমাদ ২৬৯৮২। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী মুআবিয়াহ বিন ইয়াহইয়া সম্পর্কে আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। আবু হাতিম আর-রাযী ও আবু দাউদ আস-সাজিসতানী ও ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

৮৪৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ يَزِيدَ الْفَقِيرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا نَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ خَلْفَ الإِمَامِ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ وَفِي الأُخْرَيَيْنِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ ‏.‏

জাবির বিন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা যোহর ও আসর সলাতের প্রথম দু’রাকআতে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহাহ ও অন্য সূরা এবং শেষ দু’রাকাআতে কেবল সূরা ফাতিহাহ পড়তাম। [৮৪১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৪১] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৫০৬।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/১২. অধ্যায়ঃ

ইমামের নীরবতা অবলম্বনের দু’টি স্থান।

৮৪৪

حَدَّثَنَا جَمِيلُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ جَمِيلٍ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ سَكْتَتَانِ حَفِظْتُهُمَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏ فَأَنْكَرَ ذَلِكَ عِمْرَانُ بْنُ الْحُصَيْنِ فَكَتَبْنَا إِلَى أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ بِالْمَدِينَةِ فَكَتَبَ أَنَّ سَمُرَةَ قَدْ حَفِظَ ‏.‏ قَالَ سَعِيدٌ فَقُلْنَا لِقَتَادَةَ مَا هَاتَانِ السَّكْتَتَانِ قَالَ إِذَا دَخَلَ فِي صَلاَتِهِ وَإِذَا فَرَغَ مِنَ الْقِرَاءَةِ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ بَعْدُ وَإِذَا قَرَأَ ‏{غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ}‏ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ يُعْجِبُهُمْ إِذَا فَرَغَ مِنَ الْقِرَاءَةِ أَنْ يَسْكُتَ حَتَّى يَتَرَادَّ إِلَيْهِ نَفَسُهُ ‏.‏

সামুরাহ বিন জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নিরবতা অবলম্বনের দু’টি স্থান রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কণ্ঠস্থ করেছি। ইমরান ইবনুল হুসায়ন (রাঃ) তা অস্বিকার করেন (এবং বলেন, আমরা একটি স্থান জানি)। আমরা বিষয়টি মদীনাতে উবাই বিন কা’ব (রাঃ) -কে লিখে জানালাম। তিনি লিখেন, সামুরা (রাঃ) বিষয়টি স্মরণ রেখেছেন। অধস্তন রাবী সাঈদ (রাঃ) বলেন, আমরা কাতাদাহ (রাঃ) -কে বললাম, সেই নিরবতা অবলম্বনের স্থান দু’টি কী কী? তিনি বলেন, যখন তিনি তাঁর সলাতে প্রবেশ করতেন এবং যখন তিনি কিরাআত শেষ করতেন, অত:পর তিনি বলেন, যখন তিনি “গাইরিল মাগযূবি আলাইহিম ওয়ালায যআল্লীন” পড়তেন। রাবী বলেন, কিরাআত পাঠ শেষ করে নি:শ্বাস নেওয়ার জন্য তিনি নিরবতা অবলম্বন করতেন, এটা লোকেদের ভালো লাগতো। [৮৪২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৪২] তিরমিযী ২৫১, আবূ দাঊদ ৭৭৭, আহমাদ ১৯৫৭৭, ১৯৬১৯, ১৯৬৫৩, ১৯৭১৬, ১৯৭৩১, ১৯৭৫৩; দারিমী ১২৪৩, মাজাহ ৮৪৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৫০৫ মিশকাত ৮০৮, যঈফ আছে, দাউদ ১৩৩৯, ৯৩৫। উক্ত হাদিসের রাবী জামীল ইবনুল হাসান বিন জামীল আল আতাকী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে অপরিচিত। ইবনু আদী বলেন, আমি আশা করি তিনি ভাল।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৮৪৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ خِدَاشٍ، وَعَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ إِشْكَابَ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ قَالَ سَمُرَةُ حَفِظْتُ سَكْتَتَيْنِ فِي الصَّلاَةِ سَكْتَةً قَبْلَ الْقِرَاءَةِ وَسَكْتَةً عِنْدَ الرُّكُوعِ ‏.‏ فَأَنْكَرَ ذَلِكَ عَلَيْهِ عِمْرَانُ بْنُ الْحُصَيْنِ فَكَتَبُوا إِلَى الْمَدِينَةِ إِلَى أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ فَصَدَّقَ سَمُرَةَ ‏.‏

সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি সলাতের মধ্যে নীরবতা অবলম্বনের দু’টি স্থান স্মৃতিতে ধরে রেখেছিঃ একটি কিরাআত শুরু করার পূর্বে এবং অপরটি রূকু’র সময়। ইমরান ইবনুল হুসায়ন (রাঃ) তা অস্বীকার করেন। তারা বিষয়টি সম্পর্কে মদীনাতে উবাই বিন কা’ব (রাঃ) -কে লিখেন। তিনি সামুরা (রাঃ) -এর মত সমর্থন করেন। [৮৪৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৪৩] তিরমিযী ২৫১, আবূ দাঊদ ৭৭৭, আহমাদ ১৯৫৭৭, ১৯৬১৯, ১৯৬৫৩, ১৯৭১৬, ১৯৭৩১, ১৯৭৫৩; দারিমী ১২৪৩, মাজাহ ৮৪৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: আবূ দাঊদ ৭৭৭ যঈফ।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৫/১৩. অধ্যায়:

ইমাম যখন কিরাআত পড়েন তখন তোমরা নীরব থাকো।

৮৪৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏”‏ إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا وَإِذَا قَالَ ‏{غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ}‏ فَقُولُوا آمِينَ وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ‏.‏ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعِينَ ‏”‏ ‏.

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, অনুসরণ করার জন্যই তো ইমাম নিযুক্ত করা হয়। সুতরাং ইমাম যখন তাকবীর বলেন, তোমরাও তাকবীর বলো। যখন তিনি কিরাআত পড়েন তখন তোমরা নীরব থাকো। যখন তিনি “গাইরিল মাগযূবি আলাইহিম ওয়ালায-যুআলীন” বলেন, তখন তোমরা ‘আমীন’ বলো। যখন তিনি রুকু’ করেন, তখন তোমরাও রুকু’ করো। আর যখন তিনি “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলেন, তখন তোমরা “আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ” বলো। যখন তিনি সিজদা করেন, তখন তোমরাও সিজদা করো। তিনি বসা অবস্থায় সালাত পড়লে তোমরাও সকলে বসা অবস্থায় সালাত পড়ো।[৮৪৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৪৪] বুখারী ৭২২, ৭৩৪; মুসলিম ৪১৪-১৭, নাসায়ী ৯২১-২২, আবূ দাঊদ ৬০৩, আহমাদ ৭১০৪, ৮২৯৭, ৮৬৭২, ৯০৭৪, ৯১৫১, ২৭২০৯, ২৭২১৫, ২৭২৭৩, ২৭৩৮৩; দারিমী ১৩১১, মাজাহ ৯৬০, ১২৩৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৮৫৭।

হাদিসের মানঃ হাসান সহিহ

  •  সরাসরি

৮৪৭

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي غَلاَّبٍ، عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِذَا قَرَأَ الإِمَامُ فَأَنْصِتُوا فَإِذَا كَانَ عِنْدَ الْقَعْدَةِ فَلْيَكُنْ أَوَّلَ ذِكْرِ أَحَدِكُمُ التَّشَهُّدُ ‏”‏ ‏.‏

আবূ মূসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন ইমামের কিরাআত পাঠের সময় তোমরা নীরব থাকবে। তিনি তাশাহুদ পাঠের জন্য বসলে তোমাদের যে কোন মুসল্লির প্রথম যিকির যেন হয় তাশাহুদ।[৮৪৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৪৫] মুসলিম ৪০৪, ৮৩০, ১০৬৪, ১১৭২, ১১৭৩, ১২৮০; আবূ দাঊদ ৯৭২, আহমাদ ১৯০১০, ১৯০৫৮, ১৯১৩০, ১৯১৬৬; দারিমী ১৩১২, মাজাহ ৯০১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ২৬৩।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৪৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ أُكَيْمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ صَلَّى النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِأَصْحَابِهِ صَلاَةً نَظُنُّ أَنَّهَا الصُّبْحُ فَقَالَ ‏”‏ هَلْ قَرَأَ مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ رَجُلٌ أَنَا ‏.‏ قَالَ ‏”‏ إِنِّي أَقُولُ مَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাত পড়লেন, আমাদের মতে তা ছিল ফজরের সালাত। সালাত শেষে তিনি বলেন, তোমাদের কেউ কি কিরাআত পড়েছে? এক ব্যক্তি বললো, আমি পড়েছি। তিনি বলেন, তাই তো (মনে মনে) বলছিলাম আমার কুরআন পাঠে বিঘ্ন ঘটছে কেন! [৮৪৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৪৬] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৮৫৫, সহীহ, আবী দাউদ ৭৮১।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৪৯

حَدَّثَنَا جَمِيلُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ أُكَيْمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَزَادَ فِيهِ قَالَ فَسَكَتُوا بَعْدُ فِيمَا جَهَرَ فِيهِ الإِمَامُ ‏.

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে সালাত পড়লেন…উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এই বর্ণনায় আরো আছেঃ যে সলাতে ইমাম সশব্দে কিরাআত পড়েন, তখন থেকে সেই সলাতে তারা কিরাআত পাঠ ত্যাগ করেন।[৮৪৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৪৭] তিরমিযী ৩১২, নাসায়ী ৯১৯, আবূ দাঊদ ৮২৬, আহমাদ ৭২২৮, ৭৭৬০, ৭৭৭৪, ৭৯৪৭, ৯৯৪৫; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৯৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৫০

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ فَإِنَّ قِرَاءَةَ الإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ ‏”‏ ‏.‏

জাবীর বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যাদের ইমাম আছে ইমামের কিরাআতই তার কিরাআত। [৮৪৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৪৮] আহমাদ ১৪২৩৩ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: ইরওযা ৮৫০। উক্ত হাদিসের রাবী জাবির (বিন ইয়াযীদ ইবনু হারিস) সম্পর্কে ওয়াকী ইবনুল জাররাহ সিকাহ বললেও আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যা কথা বলেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি মিথ্যুক। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। আল জাওযুজানী তাকে মিথ্যুক বলেছেন।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

৫/১৪. অধ্যায়ঃ

সশব্দে আমীন বলা।

৮৫১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ إِذَا أَمَّنَ الْقَارِئُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ تُؤَمِّنُ فَمَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যখন কুরআন পাঠকারী (ইমাম) আমীন বলেন, তখন তোমরাও আমীন বলো। কেননা ফেরেশতাগণও তখন আমীন বলেন অতএব যার আমীন বলা ফেরেশতাদের আমীন বলার সাথে হয় তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করা হয়। [৮৪৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৪৯] বুখারী ৭৮০-৮২, ৪৪৭৫, ৬৪০২; মুসলিম ৪১০/১-৪, তিরমিযী ২৫০, নাসায়ী ৯২৫-৩০, আবূ দাঊদ ৯৩৫-৩৬, আহমাদ ৭১৪৭, ৭২০৩, ৭৬০৪, ২৭৩৩৮, ২৭২১৫, ৯৫১২, ৯৬০৫; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৯৫-৯৭, দারিমী ১২৪৫-৪৬, মাজাহ ৮৫২, ৮৫৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩৪৪, সহীহ আবী দাউদ ৮৬৬।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৫২

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ، وَجَمِيلُ بْنُ الْحَسَنِ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ الْمِصْرِيُّ، وَهَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ الْحَرَّانِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، جَمِيعًا عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِذَا أَمَّنَ الْقَارِئُ فَأَمِّنُوا فَمَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন কুরান পাঠকারী (ইমাম) আমীন বলে, তখন তোমরাও আমীন বলো। যার আমীন বলা ফেরেশতাদের আমীন বলার সাথে হয়, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। [৮৫০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৫০] বুখারী ৭৮০-৮২, ৪৪৭৫, ৬৪০২; মুসলিম ৪১০/১-৪, তিরমিযী ২৫০, নাসায়ী ৯২৫-৩০, আবূ দাঊদ ৯৩৫-৩৬, আহমাদ ৭১৪৭, ৭২০৩, ৭৬০৪, ২৭৩৩৮, ২৭২১৫, ৯৫১২, ৯৬০৫; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৯৫-৯৭, দারিমী ১২৪৫-৪৬, মাজাহ ৮৫১, ৮৫৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৫৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ رَافِعٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ عَمِّ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ تَرَكَ النَّاسُ التَّأْمِينَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا قَالَ ‏”‏ ‏{غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ}‏ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ آمِينَ ‏”‏ ‏.‏ حَتَّى يَسْمَعَهَا أَهْلُ الصَّفِّ الأَوَّلِ فَيَرْتَجُّ بِهَا الْمَسْجِدُ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, লোকেরা আমীন বলা ত্যাগ করেছে। অথচ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘গাইরিল মাগযূবি আলাইহিম ওয়ালায যআললীন’ বলার পর আমীন’ বলতেন, এমনকি প্রথম সারির লোকেরা তা শুনতে পেতো এবং এতে মাসজিদে প্রতিধ্বনি হতো।[৮৫১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৫১] বুখারী ৭৮০-৮২, ৪৪৭৫, ৬৪০২; মুসলিম ৪১০/১-৪, তিরমিযী ২৫০, নাসায়ী ৯২৫-৩০, আবূ দাঊদ ৯৩৫-৩৬, আহমাদ ৭১৪৭, ৭২০৩, ৭৬০৪, ২৭৩৩৮, ২৭২১৫, ৯৫১২, ৯৬০৫; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৯৫-৯৭, দারিমী ১২৪৫-৪৬, মাজাহ ৮৫১, ৮৫২। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: আবূ দাঊদ ৯৩৪ যঈফ, ৯৩৫ ৯৭২ সহীহ; জামি সগীর ৬৭২ সহীহ, ৭০৭, ২৩৫৯ সহীহ, ৪৩৬৬ যঈফ, ইবনু মাজাহ ৮৪৬ হাসান সহীহ; নাসায়ী ৮৩০ সহীহ, ৯০৫ যঈফ, ৯২৭, ৯২৯, ৯৩২, ১০৬৪ সহীহ; তিরমিযী ২৪৮ সহীহ; মিশকাত ৮২৫ মুত্তাফাকুন আলাইহি, ৮২৬ সহীহ, ৮৪৫ সহীহ; সহীহ তারগীব ৫১৪, ৫১৬, ৫১৭ সহীহ, ২৬৯ যঈফ; যঈফা ৯৫২ যঈফ; ইবনু খুযাইমাহ ১৮৫৪, ১৫৯৩ সহীহ; সহীহাহ ৪৬৫, যঈফ, আবূ দাউদ ৪৬৬। উক্ত হাদিসের রাবী ১. বিশর বিন রাফি’ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি মুনকার ভাবে হাদিস বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারী বলেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। ২. আবু আবদুল্লাহ সম্পর্কে ইমাম যাহাবী ও ইবনুল কাত্তান বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায় না।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৮৫৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي لَيْلَى، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ حُجَيَّةَ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا قَالَ ‏{وَلاَ الضَّالِّينَ}‏ قَالَ ‏ “‏ آمِينَ ‏”‏ ‏.‏

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ‘ওয়ালাদ দাল্লীন’ বলার (পড়ার) পর আমিন’ বলতে শুনেছি। [৮৫২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৫২] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، وَعَمَّارُ بْنُ خَالِدٍ الْوَاسِطِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَلَمَّا قَالَ ‏{وَلاَ الضَّالِّينَ}‏ ‏.‏ قَالَ ‏ “‏ آمِينَ ‏”‏ ‏.‏ فَسَمِعْنَاهَا ‏.‏

ওয়ায়িল বিন হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সালাত পড়লাম। তিনি “ওয়ালায যআল্লীন” বলার পর “আমীন” বলেছেন। আমরা তা তাঁকে বলতে শুনেছি। [৮৫৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৫৩] তিরমিযী ২৪৮, নাসায়ী ৮৭৯, ৯৩২; আবূ দাঊদ ৯৩২-৩৩, আহমাদ ১৮৩৬২, ১৮৩৬৫, ১৮৩৮৮; ১২৪৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত সহীহাহ ৪৬৫৪, সহীহ আবী দাউদ ৮৬৩, ৮৬৪।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৫৬

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ مَا حَسَدَتْكُمُ الْيَهُودُ عَلَى شَىْءٍ مَا حَسَدَتْكُمْ عَلَى السَّلاَمِ وَالتَّأْمِينِ ‏”‏ ‏.‏

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ইয়াহুদীরা তোমাদের কোন ব্যপারে এত বেশী ঈর্ষান্বিত নয় যতটা তারা তোমাদের সালাম ও আমীনের ব্যাপারে ঈর্ষান্বিত। [৮৫৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৫৪] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৬৯১।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৫৭

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الْخَلاَّلُ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَأَبُو مُسْهِرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ صَالِحِ بْنِ صُبَيْحٍ الْمُرِّيُّ، حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ مَا حَسَدَتْكُمُ الْيَهُودُ عَلَى شَىْءٍ مَا حَسَدَتْكُمْ عَلَى آمِينَ فَأَكْثِرُوا مِنْ قَوْلِ آمِينَ ‏”‏ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ইহূদীরা তোমাদের আমীন বলায় যত বেশী ঈর্ষান্বিত হয়, আর কোন জিনিসে তত ঈর্ষান্বিত হয় না। তাই তোমরা অধিক পরিমাণে আমীন বলো। [৮৫৫]

তাহকীক আলবানীঃ দঈফ জিদ্দান, অধিক বলার কথা ব্যতীত সহীহ সূত্রে বর্ণিত আছে।

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৫৫] যঈফ জিদ্দান, অধিক বলার কথা ব্যতীত সহীহ সূত্রে বর্ণিত আছে।। তাখরীজ আলবানী: জামি সগীর ৫০৫৩ যঈফ জিদ্দান, যঈফ তারগীব ৫১৫ সহীহ, যঈফ তারগীব ২৭০ যঈফ জিদ্দান।উক্ত হাদিসের রাবী তালহাহ বিন আমর সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন,তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আবু দাউদ আস-সাজিসতানী তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়।

হাদিসের মানঃ খুবই দুর্বল

  •  সরাসরি

৫/১৫. অধ্যায়ঃ

রুকূ‘তে যেতে ও রুকূ‘ থেকে মাথা তুলতে রাফউল ইয়াদাইন করা।

৮৫৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَأَبُو عُمَرَ الضَّرِيرُ قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا رَكَعَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ وَلاَ يَرْفَعُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ ‏.‏

ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে দেখেছি যে, তিনি সলাত শুরু করতে তাঁর দু’ হাত তাঁর দু’ কাঁধ পর্যন্ত উত্তোলন করতেন, তিনি রুকূ‘তে যেতে এবং রুকূ‘ থেকে মাথা তুলতেও তাই করতেন, কিন্তু দু‘ সাজদাহর মাঝখানে হাত উত্তোলন করতেন না। [৮৫৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৫৬] বুখারী ৭৩৫-৩৬, ৭৩৮-৩৯; মুসলিম ৩৯০/১-২, তিরমিযী ২৫৫, নাসায়ী ৮৭৬-৭৮, ১০২৫, ১০৫৯, ১০৮৮, ১১৪৪; আবূ দাঊদ ৭২১-২২, ৭৪১; আহমাদ ৪৫২৬, ৪৬৬০, ৫০৬১, ৫২৫৭; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৬৫, দারিমী ১২৫০, ১৩০৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭১২, ৭১৩।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৫৯

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يَجْعَلَهُمَا قَرِيبًا مِنْ أُذُنَيْهِ وَإِذَا رَكَعَ صَنَعَ مِثْلَ ذَلِكَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ صَنَعَ مِثْلَ ذَلِكَ ‏.‏

মালিক ইবনুল হুয়াইরিস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাকবীরে তাহরীমা বলতেন তখন তাঁর দু’ হাত তাঁর উভয় কানের কাছাকাছি পর্যন্ত উঠাতেব। তিনি তিনি রুকূ‘তে যেতেন তাই করতেন এবং রুকূ‘ থেকে মাথা তুলতেও অনুরূপ করতেন। [৮৫৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৫৭] বুখারী ৭৩৭, মুসলিম ৩৯১-২, নাসায়ী ৮৮০-৮১, ১০২৪, ১০৫৬, ১০৮৫; আবূ দাঊদ ৭৪৫, আহমাদ ১৫১৭২, ২০০০৭; দারিমী ১২৫১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওযা ৬৭ সহীহ আবী দাউদ ৭৩০।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৬০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي الصَّلاَةِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ حِينَ يَفْتَتِحُ الصَّلاَةَ وَحِينَ يَرْكَعُ وَحِينَ يَسْجُدُ ‏.‏

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে দেখেছি যে, তিনি সলাত শুরু করতে, রুকূ‘তে যেতে এবং সিজদায় যেতে তাঁর দু’ হাত তাঁর দু’কাঁধ বরাবর উত্তোলন করতেন। [৮৫৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৫৮] বুখারী ৭৮৫, ৭৮৯, ৮০৩; মুসলিম ৩৯১-২, তিরমিযী ২৫৪, নাসায়ী ১০২৩, আবূ দাঊদ ৮৩৬, আহমাদ ৭১৭৯, ৭১৬০১, ১০১৪১, ১০৪৪০; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৬৮, দারিমী ১২৩৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭২৪।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৬১

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا رِفْدَةُ بْنُ قُضَاعَةَ الْغَسَّانِيُّ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عُمَيْرِ بْنِ حَبِيبٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَرْفَعُ يَدَيْهِ مَعَ كُلِّ تَكْبِيرَةٍ فِي الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু উবায়দ বিন উমায়র এর দাদা উমায়র বিন হাবীব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি (দাদা) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফরয সলাতের প্রতিটি তাকবীরের সাথে তাঁর দু’হাত উপরে উঠাতেন। [৮৫৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৫৯] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭২৪। উক্ত হাদিসের রাবী রিফাদাহ বিন কুদআহ আল গাসসানী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম বুখারী বলেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আল উকায়লী বলেন, তার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৬২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ سَمِعْتُهُ وَهُوَ، فِي عَشَرَةٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَحَدُهُمْ أَبُو قَتَادَةَ بْنُ رِبْعِيٍّ قَالَ أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ إِذَا قَامَ فِي الصَّلاَةِ اعْتَدَلَ قَائِمًا وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ قَالَ ‏”‏ اللَّهُ أَكْبَرُ ‏”‏ ‏.‏ وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ فَإِذَا قَالَ ‏”‏ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ‏”‏ ‏.‏ رَفَعَ يَدَيْهِ فَاعْتَدَلَ فَإِذَا قَامَ مِنَ الثِّنْتَيْنِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ كَمَا صَنَعَ حِينَ افْتَتَحَ الصَّلاَةَ ‏.‏

আবূ হুমায়দ আস-সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আবু কাতাদাহ (রাঃ) সহ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দশজন সাহাবীর উপস্থিতিতে বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাত সম্পর্কে তোমাদের চেয়ে অধিক অবগত। তিনি যখন সলাতে দাঁড়াতেন সোজা হয়ে দাঁড়াতেন এবং তাঁর দু’ হাত তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন, অতঃপর আল্লাহু আকবার বলতেন। তিনি যখন রুকূ‘তে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখনও তাঁর দু’ হাত তাঁর দু’ কাঁধ বরাবর উঠাতেন। অতঃপর তিনি যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলতেন, তাঁর দু’ হাত উত্তোলন করতেন এবং সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তিনি দ্বিতীয় রাক্‌আতে দু’ সাজাদাহ থেকে যখন দাঁড়াতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং তাঁর দু’ হাত তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন, যেমনটি তিনি সলাত শুরু করার সময় করতেন। [৮৬০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৬০] বুখারী ৮২৮, তিরমিযী ২৬০, ৩০৪; নাসায়ী ১০৩৯, ১১৮১; আবূ দাঊদ ৭৩০, ৯৬৩; আহমাদ ২৩০৮৮, দারিমী ১৩০৭, ১৩৫৬; মাজাহ ৮৬৩, ১০৬১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৬৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ سَهْلٍ السَّاعِدِيُّ، قَالَ اجْتَمَعَ أَبُو حُمَيْدٍ وَأَبُو أُسَيْدٍ السَّاعِدِيُّ وَسَهْلُ بْنُ سَعْدٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ فَذَكَرُوا صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَامَ فَكَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ ثُمَّ رَفَعَ حِينَ كَبَّرَ لِلرُّكُوعِ ثُمَّ قَامَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ وَاسْتَوَى حَتَّى رَجَعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ ‏.‏

আব্বাস বিন সাহল আস-সাইদী বলেন, আবু হুমায়দ, আবু উসাইদ আস-সাইদী, সাহল বিন সা‘দ ও মুহাম্মাদ বিন মাসলামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আব্বাস বিন সাহল আস-সাইদী বলেন, আবু হুমায়দ, আবু উসাইদ আস-সাইদী, সাহল বিন সা‘দ ও মুহাম্মাদ বিন মাসলামা (রাঃ) একত্র হয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাত সম্পর্কে আলোচনা করেন। আবূ হুমায়দ (রাঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাত সম্পর্কে তোমাদের চেয়ে অধিক অবগত। রসূলুল্লাহ্ যে সলাতে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলতেন এবং তাঁর উভয় হাত উপরে উঠাতেন। তিনি তাকবীর বলে রুকূতে যাওয়ার সময়ও উপরে উঠাতেন, অতঃপর দাঁড়াতেন এবং তাঁর দু’ হাত উপরে উঠাতেন ও সোজা হয়ে দাঁড়াতেন, যাতে সকল প্রত্যঙ্গ যথাস্থানে এসে স্থির হয়।” [৮৬১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৬১] বুখারী ৮২৮, তিরমিযী ২৬০, ৩০৪; নাসায়ী ১০৩৯, ১১৮১; আবূ দাঊদ ৭৩০, ৯৬৩; আহমাদ ২৩০৮৮, দারিমী ১৩০৭, ১৩৫৬; মাজাহ ৮৬২, ১০৬১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭২৩।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৬৪

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ أَبُو أَيُّوبَ الْهَاشِمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يَكُونَا حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ وَإِذَا قَامَ مِنَ السَّجْدَتَيْنِ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ ‏.‏

আলী বিন আবূ তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ফার্‌দ সলাত আদায় করতে দাঁড়াতেন তখন তাকবীর বলতেন এবং তাঁর দু’ হাত তাঁর দু’ কাঁধ বরাবর উঠাতেন। যখন তিনি রুকূ‘তে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখনও অনুরূপ করতেন, যখন রুকূ‘ থেকে মাথা উঠাতেন, তখনও অনুরূপ করতেন। যখন তিনি দু’ রাকআত শেষ করে দাঁড়াতেন তখনও অনুরূপ করতেন। [৮৬২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৬২] মুসলিম ৭৭১, তিরমিযী ৩৪২৩, নাসায়ী ৮৯৭, আবূ দাঊদ ৭৬০, আহমাদ ৭৩১, ৮০৫; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৬৬, দারিমী ১২২৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭২৯।

হাদিসের মানঃ হাসান সহিহ

  •  সরাসরি

৮৬৫

حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَاشِمِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ رِيَاحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ عِنْدَ كُلِّ تَكْبِيرَةٍ ‏.‏

ইবনু আব্বাস(রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি তাকবীরের সময় তাঁর দু’ হাত উপরে উঠাতেন। [৮৬৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৬৩] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭২৪। উক্ত হাদিসের রাবী উমার বিন রিয়াহ সম্পর্কে ইমাম নাসাঈ তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আস-সাজী বলেন, তার হাদিস বাতিল। ইবনু আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আল উকায়লী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৬৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلاَةِ وَإِذَا رَكَعَ ‏.‏

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত শুরু করার সময় এবং রুকূ‘ যাওয়ার সময় তাঁর দু’হাত (উপরে) উঠাতেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৬৭

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ قُلْتُ لأَنْظُرَنَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَيْفَ يُصَلِّي فَقَامَ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى حَاذَتَا أُذُنَيْهِ فَلَمَّا رَكَعَ رَفَعَهُمَا مِثْلَ ذَلِكَ فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَهُمَا مِثْلَ ذَلِكَ ‏.‏

ওয়ায়িল বিন হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি মনে মনে ভাবছিলাম যে, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিভাবে সলাত পড়েন আমি তা অবশ্যই দেখবো। তিনি দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হলেন এবং তাঁর দু’ হাত তাঁর দু’ কান বরাবর উঠালেন। তিনি রুকূ‘তে যাওয়ার সময়ও তার দু’ হাত অনুরূপভাবে উঠালেন। তিনি যখন রুকু‘ থেকে তাঁর মাথা উঠালেন তখনও তাঁর উভয় হাত অনুরূপভাবে উঠালেন। [৮৬৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৬৫] মুসলিম ২৭৪, ৪০১; তিরমিযী ৯৮, নাসায়ী ৮৭৯, ৮৮২, ৮৮৭, ৮৮৯, ৯৩২, ১১৫৯; আবূ দাঊদ ৭২৩-২৬, ৭২৮, ৭৩০, ৭৩৭, ৯৩৩, ৯৫৭, ৯৯৭; আহমাদ ১৮৩৬৫, ১৮৩৭৮, ১৮৩৮৮, ১৮৩৯৮; দারিমী ১২৪১, ১২৪৭, ১২৫২, ১২৫৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৭১৬-৭১৮।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৬৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو حُذَيْفَةَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، كَانَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ رَفَعَ يَدَيْهِ وَإِذَا رَكَعَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ وَيَقُولُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ ‏.‏ وَرَفَعَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ يَدَيْهِ إِلَى أُذُنَيْهِ ‏.‏

আবুয-যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

জাবির বিন আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) যখন সলাত শুরু করতেন, তখন তার উভয় হাত উপরে উঠাতেন। তিনি যখন রুকূ‘ করতেন এবং রুকূ‘ থেকে তার মাথা উঠাতেন, তখনও অনুরূপ করতেন। তিনি বলতেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে এরূপ করতে দেখেছি। অধস্তন রাবী ইবরাহীম বিন তাহমান (রহঃ) তার দু’ হাত তার দু কান পর্যন্ত উঠালেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/১৬ অধ্যায়ঃ

সলাতে রুকূ

৮৬৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ بُدَيْلٍ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا رَكَعَ لَمْ يَشْخَصْ رَأْسَهُ وَلَمْ يُصَوِّبْهُ وَلَكِنْ بَيْنَ ذَلِكَ ‏.‏

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন রুকূ‘ করতেন, তখন তাঁর মাথা উঁচুও করতেন না, নিচুও করতেন না, বরং সোজা রাখতেন। [৮৬৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৬৭] মুসলিম ৪৯৮, আবূ দাঊদ ৭৮৩, আহমাদ ২৩৫১০, ২৫০৮৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭৬২

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৭০

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ لاَ تُجْزِئُ صَلاَةٌ لاَ يُقِيمُ الرَّجُلُ فِيهَا صُلْبَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ ‏”‏ ‏.‏

আবূ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি রুকূ‘ও সাজদাহ করে তার পিঠ সোজা করে না, তার সলাত পূর্ণাঙ্গ হয় না। [৮৬৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৬৮] তিরমিযী ২৬৫, নাসায়ী ১০২৭, ১১০১১; আবূ দাঊদ ৮৫৫, আহমাদ ১৬৬২৫, ১৬৬৫৪; দারিমী ১৩২৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৮৭৮, সহীহ আবী দাউদ ৮০১।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৭১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُلاَزِمُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَدْرٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ شَيْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، ‏.‏ عَلِيِّ بْنِ شَيْبَانَ – وَكَانَ مِنَ الْوَفْدِ – قَالَ خَرَجْنَا حَتَّى قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَبَايَعْنَاهُ وَصَلَّيْنَا خَلْفَهُ فَلَمَحَ بِمُؤْخِرِ عَيْنِهِ رَجُلاً لاَ يُقِيمُ صَلاَتَهُ – يَعْنِي صُلْبَهُ – فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ الصَّلاَةَ قَالَ ‏ “‏ يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لاَ يُقِيمُ صُلْبَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ ‏”‏ ‏.

আলী বিন শায়বান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ছিলেন প্রতিনিধি দলের সদস্য। তিনি বলেন, আমরা রওনা হয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এলাম, তাঁর হাতে বাইআত গ্রহণ করলাম এবং তার পিছনে সলাত পড়লাম। তিনি এক ব্যক্তির দিকে হালকা দৃষ্টিতে তাকান যে রুকূ‘ ও সাজদা্হয় তার পিঠ সোজা রাখেনি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত শেষ করে বলেন, হে মুসলিম সমাজ! যে ব্যক্তি রুকূ‘ ও সাজদাহয় তার পিঠ সোজা করে না তার সলাত হয় না। [৮৬৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৬৯] আহমাদ ১৫৮৬২ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ২৫৩৬।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৭২

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ عَطَاءٍ، حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ رَاشِدٍ، قَالَ سَمِعْتُ وَابِصَةَ بْنَ مَعْبَدٍ، يَقُولُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُصَلِّي فَكَانَ إِذَا رَكَعَ سَوَّى ظَهْرَهُ حَتَّى لَوْ صُبَّ عَلَيْهِ الْمَاءُ لاَسْتَقَرَّ ‏.‏

ওয়াবিসাহ বিন মা‘বাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে সলাত আদায় করতে দেখেছি। তিনি যখন রুকূ‘ করতেন তখন তাঁর পিঠ এমনভাবে সোজা করতেন যে, তার উপর পানি ঢাললে অবশ্যি তা স্থির থাকতো। [৮৭০]

  •  
  •  
  •  
  •  

সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আবদুল্লাহ বিন উসমান ইবনু আতা সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে তেমন কোন সমস্যা নেই। ২. রাশিদ সম্পর্কে ইমামগন বলেন, তিনি অপরিচিত। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/১৭. অধ্যায়:

দু’ হাঁটুর উপর দু’ হাত রাখা।

৮৭৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ رَكَعْتُ إِلَى جَنْبِ أَبِي فَطَبَّقْتُ فَضَرَبَ يَدِي وَقَالَ قَدْ كُنَّا نَفْعَلُ هَذَا ثُمَّ أُمِرْنَا أَنْ نَرْفَعَ إِلَى الرُّكَبِ ‏.‏

মুসআব বিন সা’দ থেকে বর্ণিতঃ

আমি আমার পিতা (সাদ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) এর পাশে রুকূ‘তে গেলাম এবং উভয় হাতের আঙ্গুলগুলো একত্র করে তা দু’ হাঁটুর মাঝখানে রাখলাম। তিনি আমার হাতে আঘাত করে বলেন, আমরা (প্রথমে) এরূপ করতাম, অতঃপর আমাদেরকে হাঁটুর উপর হাত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। [৮৭১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৭১] বুখারী ৭৯০, মুসলিম ৫৩১-৩, তিরমিযী ২৫৯, নাসায়ী ১০৩২-৩৩, আবূ দাঊদ ৮৬৭, আহমাদ ১৫৭৪, ১৫৮০; দারিমী ১৩০৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৮১৩

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৭৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ أَبِي الرِّجَالِ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَرْكَعُ فَيَضَعُ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَيُجَافِي بِعَضُدَيْهِ ‏.‏

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – রুকূ‘ করার সময় তাঁর দু’ হাত তাঁর দু’ হাঁটুতে রাখতেন এবং তাঁর বাহুদ্বয় তাঁর বগল থেকে আলাদা রাখতেন। [৮৭২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৭২] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭২৩। উক্ত হাদিসের রাবী হারিসাহ বিন আবু রিজাল সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু যুরআহ আর-রাযী ও আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/১৮. অধ্যায়ঃ

রুকূ‘ থেকে মাথা তোলার সময় যা বলবে।

৮৭৫

حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ وَيَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ إِذَا قَالَ ‏”‏ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্’ বলার পর বলতেন “রাব্বানা ওয়া লাকাল হাম্দহ্”। [৮৭৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৭৩] বুখারী ৭৯৬, ৩২২৮; মুসলিম ৪০৯, তিরমিযী ২৬৭, নাসায়ী ১০৬৩, আবূ দাঊদ ৪৪৮, আহমাদ ৮৭৮৮, ৯১২১, ৯৬০৫, ২৭২১৫,২৭৬০৬; মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৯৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭৮৭।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৭৬

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، ‏.‏ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ إِذَا قَالَ الإِمَامُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ‏.‏ فَقُولُوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ ‏”‏ ‏.‏

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ইমাম যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদা” বলেন তখন তোমরা বলবে “রব্বানা ওয়ালাকাল হাম্‌দ” (হে আমাদের রব! সকল প্রশংসা তোমার জন্য)। [৮৭৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৭৪] বুখারী ৬৮৯, ৭৩২-৩৩, ৮০৫, ১১১৪; মুসলিম ৪১১, তিরমিযী ৩৬১, নাসায়ী ৭৯৪, ৮৩২, ১০৬১; আবূ দাঊদ ৬০১, আহমাদ ১১৬৬৪, ১২২৪১; মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩০৬, দারিমী ১২৫৬, মাজাহ ১২৩৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ লিগাইরিহী।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৭৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ “‏ إِذَا قَالَ الإِمَامُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ‏.‏ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ ‏”‏ ‏.‏

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছেনঃ ইমাম যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলে তখন তোমরা বলবে, আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া লাকাল হাম্‌দ’। [৮৭৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৭৫] মুসলিম ৪৭৭, নাসায়ী ১০৬৮, আবূ দাঊদ ৮৪৭, আহমাদ ১১৪১৮, দারিমী ১৩১৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭৯৩, ৭৯৪।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

৮৭৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ الْحَسَنِ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَالَ ‏ “‏ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ ‏”‏ ‏.‏

বিন আবূ আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন রুকূ থেকে মাথা তুলতেন তখন বলতেন (অনুবাদ) – “ যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র প্রশংসা করে আল্লাহ তা শুনেন। আমাদের প্রতিপালক! তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা, আকাশমণ্ডলী, যমীন ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে এবং তুমি যা চাও সব কিছুই তোমার প্রশংসায় পূর্ণ”। [৮৭৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৭৬] মুসলিম ৪৭৬, আবূ দাঊদ ৮৪৬, আহমাদ ১৮৬২৫, ১৮৬৩৯, ১৮৬৫৭-৫৮, ১৮৯১১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭৯২।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৭৯

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى السُّدِّيُّ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا جُحَيْفَةَ، يَقُولُ ذُكِرَتِ الْجُدُودُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ فَقَالَ رَجُلٌ جَدُّ فُلاَنٍ فِي الْخَيْلِ ‏.‏ وَقَالَ آخَرُ جَدُّ فُلاَنٍ فِي الإِبِلِ ‏.‏ وَقَالَ آخَرُ جَدُّ فُلاَنٍ فِي الْغَنَمِ ‏.‏ وَقَالَ آخَرُ جَدُّ فُلاَنٍ فِي الرَّقِيقِ ‏.‏ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ صَلاَتَهُ وَرَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ آخِرِ الرَّكْعَةِ قَالَ ‏ “‏ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ ‏”‏ ‏.‏ وَطَوَّلَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ صَوْتَهُ بِالْجَدِّ لِيَعْلَمُوا أَنَّهُ لَيْسَ كَمَا يَقُولُونَ ‏.‏

আবূ জুহাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতরত থাকা অবস্থায় তাঁর নিকটেই ধন-সম্পদ সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছিল। এক ব্যক্তি বলেন, অমুকের অনেক ঘোড়া আছে। আরেকজন বলেন, অমুকের অনেক উট আছে। আর একজন বলেন, অমুকের অনেক বক্‌রী আছে। অন্যজন বলেন অনেক দাস-দাসী আছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শেষ রাক্‌আতের রুকূ’ থেকে মাথা উঠিয়ে বলেনঃ “হে আল্লাহ্‌! আমাদের প্রভূ! তোমার জন্য সকল প্রশংসা, আসমান, যমীন ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে এবং তুমি যা চাও সব কিছুই তোমার প্রশংসায় পূর্ণ। হে আল্লাহ্‌! তুমি কাউকে দান করলে তাঁর কোন প্রতিরোধকারী নাই এবং তুমি কাউকে দান না করলে কেউ তাকে দান করতে পারে না। সম্পদশালীকে তাঁর সম্পদ তোমার বিপরীতে উপকৃত করতে পারে না।” রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘সম্পদ’ শব্দটি উচ্চৈঃস্বরে বললেন, যাতে লোকেরা বুঝতে পারে যে, তারা যা বলছে তা তেমন নয়। [৮৭৭]

তাহকীক আলবানীঃ দঈফ, কিন্তু উল্লেখিত দুআটি সহীহ, সিফাতুস সালাত ৩১৩৭।

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৭৭] যঈফ। তাখরীজ আলবানী: যঈফ, কিন্তু উল্লেখিত দুআটি সহীহ, সিফাতুস সালাত ৩১৩৭। উক্ত হাদিসের রাবী উমার সম্পর্কে ইমামগন বলেন, তিনি অপরিচিত।

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৫/১৯. অধ্যায়ঃ

সিজদা করা।

৮৮০

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَصَمِّ، عَنْ عَمِّهِ، يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ عَنْ مَيْمُونَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ إِذَا سَجَدَ جَافَى يَدَيْهِ فَلَوْ أَنَّ بَهْمَةً أَرَادَتْ أَنْ تَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ لَمَرَّتْ ‏.

মায়মূনাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাজদাহ্‌তে তাঁর দু’ হাত (বগল থেকে) এতটা বিস্তার (ফাঁকা) করে রাখতেন যে, বকরীর বাচ্চা যেতে চাইলে তাঁর দু’ হাতের মাঝখানের ফাঁক দিয়ে চলে যেতে পারতো। [৮৭৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৭৮] মুসলিম ৪৯৬, ৪৯১-২; নাসায়ী ১১০৯, ১১৪৭; আবূ দাঊদ ৮৯৮, আহমাদ ২৬২৬৯, ২৬২৭৮, ২৬২৯১, ২৬৩০৪; দারিমী ১৩৩০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৮৩৫।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৮১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَقْرَمَ الْخُزَاعِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ مَعَ أَبِي بِالْقَاعِ مِنْ نَمِرَةَ فَمَرَّ بِنَا رَكْبٌ فَأَنَاخُوا بِنَاحِيَةِ الطَّرِيقِ فَقَالَ لِي أَبِي كُنْ فِي بَهْمِكَ حَتَّى آتِيَ هَؤُلاَءِ الْقَوْمَ فَأُسَائِلَهُمْ ‏.‏ قَالَ فَخَرَجَ وَجِئْتُ – يَعْنِي دَنَوْتُ – فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَحَضَرْتُ الصَّلاَةَ فَصَلَّيْتُ مَعَهُمْ فَكُنْتُ أَنْظُرُ إِلَى عُفْرَتَىْ إِبْطَىْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كُلَّمَا سَجَدَ ‏.

‏ قَالَ ابْنُ مَاجَهْ النَّاسُ يَقُولُونَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَقَالَ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ يَقُولُ النَّاسُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ ‏.‏

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، وَصَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، وَأَبُو دَاوُدَ قَالُوا حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَقْرَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَحْوَهُ ‏.‏

আকরাম আল-খুযাঈ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

(উবায়দুল্লাহ্‌) বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে নামিরা এলাকায় এক সমতল ভূমিতে ছিলাম। আমাদের নিকট দিয়ে কতক আরোহী অতিক্রম করে এবং তারা রাস্তার এক প্রান্তে তাদের উট বসায়। আমার পিতা আমাকে বলেন, তুমি তোমার বকরীর পালের সাথে থাকো যাবত না আমি তাদের জিজ্ঞেস করে আসি যে, তারা কারা। রাবী বলেন, এরপর তিনি বেরিয়ে গেলেন এবং আমিও তার কাছে পৌছলাম। তিনি ছিলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। ইত্যবসরে সলাতের ওয়াক্‌ত হলো। আমি তাদের সাথে সালাত পড়লাম। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখনই সাজদাহ্‌ করেছেন, আমি তাঁর দু’ বগলের শুভ্রতার দিকে দৃষ্টিপাত করেছি। [৮৭৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৭৯] তিরমিযী ২৭৪, আহমাদ ১৫৯৬৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৮২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا سَجَدَ وَضَعَ رُكْبَتَيْهِ قَبْلَ يَدَيْهِ وَإِذَا قَامَ مِنَ السُّجُودِ رَفَعَ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ ‏.‏

ওয়ায়িল বিন হুজর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে দেখেছি যে, তিনি সাজদা্‌য় দু’ হাতের আগে দু’ হাঁটু রাখতেন। তিনি সাজদাহ্‌ থেকে দাঁড়াতে তাঁর দু’ হাঁটুর আগে দু’ হাত উঠাতেন। [৮৮০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৮০] তিরমিযী ২৬৮, নাসায়ী ১০৮৯, ১১৫৪; আবূ দাঊদ ৮৩৮, দারিমী ১৩২০। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩৫৭, মিশকাত ৮৯৮, যঈফ আবূ দাউদ ১৫১। উক্ত হাদিসের রাবী আসিম বিন কুলায়ব সম্পর্কে আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তার এককভাবে হাদিস বর্ণনায় দলীল হিসেবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৮৮৩

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، وَحَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ أُمِرْتُ أَنْ أَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ أَعْظُمٍ ‏”‏ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি সাত অঙ্গে সিজদা করতে আদিষ্ট হয়েছি। [৮৮১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৮১] বুখারী ৮০৯-১০, ৮১২, ৮১৫-১৬; মুসলিম ৪৯০/১-৫, তিরমিযী ২৭৩, নাসায়ী ১০৯৩, ১০৯৬-৯৮, ১১১৩, ১১১৫; আবূ দাঊদ ৮৮৯-৯০, আহমাদ ২৫২৩, ২৫৭৯, ২৫৮৩, ২৬৫৩, ২৭৭৩, ২৯৭৬; দারিমী ১৩১৮-১৯, মাজাহ ৮৮৪, ১০৪০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৮২৯, ইরওয়াহ ৩১০।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৮৪

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ أُمِرْتُ أَنْ أَسْجُدَ عَلَى سَبْعٍ وَلاَ أَكُفَّ شَعَرًا وَلاَ ثَوْبًا ‏”‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ طَاوُسٍ فَكَانَ أَبِي يَقُولُ الْيَدَيْنِ وَالرُّكْبَتَيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ وَكَانَ يَعُدُّ الْجَبْهَةَ وَالأَنْفَ وَاحِدًا ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি সাত অঙ্গে সিজদাহ্‌ করতে এবং চুল ও পরিধেয় বস্ত্র না গুটাতে আদিষ্ট হয়েছি। বিন তাউস (রাঃ) বলেন, আমার পিতা বলতেন, (সাত অঙ্গ হলো) দু’ হাত, দু’ হাঁটু, দু’ পা এবং কপাল ও নাক। তিনি নাক ও কপালকে একটি অঙ্গ গণ্য করতেন। [৮৮২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৮২] বুখারী ৮০৯-১০, ৮১২, ৮১৫-১৬; মুসলিম ৪৯০/১-৫, তিরমিযী ২৭৩, নাসায়ী ১০৯৩, ১০৯৬-৯৮, ১১১৩, ১১১৫; আবূ দাঊদ ৮৮৯-৯০, আহমাদ ২৫২৩, ২৫৭৯, ২৫৮৩, ২৬৫৩, ২৭৭৩, ২৯৭৬; দারিমী ১৩১৮-১৯, মাজাহ ৮৮৩, ১০৪০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩১০, সহীহ আবী দাউদ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৮৫

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ “‏ إِذَا سَجَدَ الْعَبْدُ سَجَدَ مَعَهُ سَبْعَةُ آرَابٍ وَجْهُهُ وَكَفَّاهُ وَرُكْبَتَاهُ وَقَدَمَاهُ ‏”‏ ‏.‏

আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছেনঃ বান্দা যখন সিজদা করে তখন তার সাথে তার সাতটি অঙ্গ সিজদা করে- তার মুখমণ্ডল, তার দু’ হাতের তালু, তার দু’ হাঁটু ও তার দু’ পা। [৮৮৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৮৩] মুসলিম ৪৯১, তিরমিযী ২৭২, নাসায়ী ১০৯৪, ১০৯৯; আবূ দাঊদ ৮৯১, আহমাদ ১৭৮৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৮৩০।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৮৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا أَحْمَرُ، صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ إِنْ كُنَّا لَنَأْوِي لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مِمَّا يُجَافِي بِيَدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ إِذَا سَجَدَ ‏.‏

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহাবী আহমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সিজদারত অবস্থায় তাঁর বাহুদয় (বগল থেকে) এতটা পৃথক করে রাখতেন যে, তাঁর অত্যধিক কষ্টে আমাদের মনে সহানুভূতি জাগতো। [৮৮৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৮৪] আবূ দাঊদ ৯০০, আহমাদ ১৮৫৩৩, ১৯৮২৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৮৩৭।

হাদিসের মানঃ হাসান সহিহ

  •  সরাসরি

৫/২০. অধ্যায়ঃ

রুকূ’ ও সিজদার তাসবীহ।

৮৮৭

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ الْبَجَلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَيُّوبَ الْغَافِقِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عَمِّي، إِيَاسَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ، يَقُولُ لَمَّا نَزَلَتْ ‏{فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ}‏ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏”‏ اجْعَلُوهَا فِي رُكُوعِكُمْ ‏”‏ ‏.‏ فَلَمَّا نَزَلَتْ ‏{سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى}‏ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏”‏ اجْعَلُوهَا فِي سُجُودِكُمْ ‏”‏ ‏.‏

উকবাহ বিন আমির আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন নাযিল হয় (অনুবাদ) , “অতএব তুমি তোমার মহান প্রভুর নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো।” (সূরা ওয়াকিয়াঃ ৭৪ ও ৯৬ এবং আল-হাক্কাহ ৫২) , তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের বলেন, একে তোমাদের রুকূ’তে স্থাপন করো। আবার যখন নাযিল হয় (অনুবাদ) : “তুমি তোমার মহান প্রভুর নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো” (সূরা আল-আলাঃ ১) , তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের বলেন, একে তোমাদের সাজদা্‌হয় স্থাপন করো।” [৮৮৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৮৫] আবূ দাঊদ ৮৬৯, আহমাদ ১৬৯৬১, দারিমী ১৩০৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: আবূ দাঊদ ৮৬৯ যঈফ, মিশকাত ৮৭৯ হাসান, ইরওয়াহ ৩৩৪। উক্ত হাদিসের রাবী মুসা বিন আইয়্যুব আল গাফিকী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান ও ইমাম যাহাবী তাকে সিকাহ বললেও আল উকায়লী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৮৮৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ الْمِصْرِيُّ، أَنْبَأَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي الأَزْهَرِ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ إِذَا رَكَعَ ‏”‏ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ ‏”‏ ‏.‏ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ وَإِذَا سَجَدَ قَالَ ‏”‏ سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى ‏”‏ ‏.‏ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ‏.‏

হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে রুকূ’তে “সুবহানা রব্বিয়াল আযীম” তিনবার বলতে এবং সাজদা্‌হয় “সুবহানা রব্বিয়াল আলা” তিনবার বলতে শুনেছেন। [৮৮৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৮৬] মুসলিম ৭৭২, তিরমিযী ২৬২, নাসায়ী ১০০৮, ১০৪৬, ১০৬৯, ১১৩৩, ১১৪৫, ১৬৬৪-৬৫; আবূ দাঊদ ৮৭১, ৮৭৪; আহমাদ ২২৭৫০, ২২৮৫৮, ২২৮৬৬, ২২৮৯০; দারিমী ১৩০৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩৩৩, সহীহ আবী দাউদ ৮২৮।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৮৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ ‏ “‏ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ‏”‏ ‏.‏ يَتَأَوَّلُ الْقُرْآنَ ‏.‏

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রুকূ’ ও সিজদায় প্রায়ই বলতেনঃ “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগফির লী” (হে আল্লাহ! আমি তোমার প্রশংসা সহকারে তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, হে আল্লাহ! তুমি আমায় ক্ষমা করো)। তিনি কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী তা করতেন। [৮৮৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৮৭] বুখারী ৭৯৪, ৮১৭, ৪২৯৩, ৪৯৬৭-৬৮; মুসলিম ৪৮১-২, নাসায়ী ১০৪৭, ১১২২-২৩; আবূ দাঊদ ৮৭৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৮২১।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৯০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ يَزِيدَ الْهُذَلِيِّ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِذَا رَكَعَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ فِي رُكُوعِهِ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ ‏.‏ ثَلاَثًا فَإِذَا فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ تَمَّ رُكُوعُهُ وَإِذَا سَجَدَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ فِي سُجُودِهِ سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى ‏.‏ ثَلاَثًا فَإِذَا فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ تَمَّ سُجُودُهُ وَذَلِكَ أَدْنَاهُ ‏”‏ ‏.‏

বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের যে কেউ রুকূ’তে গিয়ে যেন তাঁর রুকূ’তে “সুবহানা রব্বিয়াল আযীম” তিনবার বলে। সে তাই করলে তাঁর রুকূ’ পূর্ণ হলো। তোমাদের যে কেউ তাঁর সিজদায় গিয়ে যেন “সুবহানা রব্বিয়াল আলা” তিনবার বলে। সে তাই করলে তাঁর সিজদা পূর্ণ হলো। আর এটা হল তাঁর ন্যূনতম সংখ্যা। [৮৮৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৮৮] তিরমিযী ২৬১, আবূ দাঊদ ৮৮৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: জামি সগীর ৫২৫ যঈফ, মিশকাত ৮৮০ লাম তাতিম্মা, তিরমিযী ২৬১ যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ ১৫৫। উক্ত হাদিসের রাবী ইসহাক বিন ইয়াযীদ আল-হুযালী সম্পর্কে ইমামগন মাজহুল বা অপরিচিত বলেছেন।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৫/২১. অধ্যায়ঃ

সুষ্ঠুভাবে সিজদা করা।

৮৯১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِذَا سَجَدَ أَحَدُكُمْ فَلْيَعْتَدِلْ وَلاَ يَفْتَرِشْ ذِرَاعَيْهِ افْتِرَاشَ الْكَلْبِ ‏”‏ ‏.‏

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন সুষ্ঠুভাবে তাঁর সিজদা করে। সে যেন কুকুরের ন্যায় তাঁর বাহুদ্বয় মাটিতে বিছিয়ে না দেয়। [৮৮৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৮৯] তিরমিযী ২৭৫ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৯১, সহীহ আবূ দাউদ ৮৩৪।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৯২

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ اعْتَدِلُوا فِي السُّجُودِ وَلاَ يَسْجُدْ أَحَدُكُمْ وَهُوَ بَاسِطٌ ذِرَاعَيْهِ كَالْكَلْبِ ‏”‏ ‏.‏

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা সুষ্ঠুভাবে সিজদা করো। তোমাদের কেউ যেন কুকুরের ন্যায় তাঁর বাহুদ্বয় মাটিতে বিছিয়ে দিয়ে সিজদা না করে। [৮৯০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৯০] বুখারী ৫৩২, ৮২২; মুসলিম ৪৯৩, তিরমিযী ২৭৬, নাসায়ী ১০২৮, ১১০৩, ১১১০; আবূ দাঊদ ৮৯৭, আহমাদ ১১৬৫৫, ১১৭৩৮, ১২৪০১, ১২৪২৯, ১২৫৭৯, ১২৮২০, ১৩০০৭, ১৩৪৮৩, ১৩৫৬১, ১৩৬৮৩; দারিমী ১৩২২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩৭২

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/২২. অধ্যায়ঃ

দু’ সাজদাহ্‌র মাঝখানে বসা।

৮৯৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ بُدَيْلٍ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ لَمْ يَسْجُدْ حَتَّى يَسْتَوِيَ قَائِمًا فَإِذَا سَجَدَ فَرَفَعَ رَأْسَهُ لَمْ يَسْجُدْ حَتَّى يَسْتَوِيَ جَالِسًا وَكَانَ يَفْتَرِشُ رِجْلَهُ الْيُسْرَى ‏.

আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রুকূ’ থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে না দাঁড়ানো পর্যন্ত সিজদায় যেতেন না। তিনি এক সাজদাহ্‌ থেকে তাঁর মাথা তুলে সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত দ্বিতীয় সাজা্‌হয় যেতেন না এবং তিনি তাঁর বাম পা বিছিয়ে বসতেন। [৮৯১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৯১] মুসলিম ৪৯৮, আবূ দাঊদ ৭৮৩, আহমাদ ২৩৫১০, ২৫০৮৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৭৫২।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৯৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ لاَ تُقْعِ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ ‏”‏ ‏.‏

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, হে আলী! তুমি কুকুরের ন্যায় বসো না। [৮৯২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৯২] তিরমিযী ২৮২ তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী হারিস (বিন আবদুল্লাহ) সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে সিকাহ বললেও আলী ইবনুল মাদীনী তাকে মিথ্যুক বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৮৯৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ثَوَابٍ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ النَّخَعِيُّ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي مُوسَى، وَأَبِي، إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ يَا عَلِيُّ لاَ تُقْعِ إِقْعَاءَ الْكَلْبِ ‏”‏ ‏.‏

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, হে আলী! তুমি কুকুরের ন্যায় বসো না। [৮৯৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৯৩] তিরমিযী ২৮২ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী ১. মুহাম্মাদ বিন সাওয়াব সম্পর্কে ইবনু আবু হাতিম ও ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও মুসলিম বিন কাসিম তাকে দুর্বল বলেছেন। ২. আবু মালিক সম্পর্কে আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নন ও তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যাবে না। ৩. হারিস (বিন আবদুল্লাহ) সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে সিকাহ বললেও আলী ইবনুল মাদীনী তাকে মিথ্যুক বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

৮৯৬

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا الْعَلاَءُ أَبُو مُحَمَّدٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ قَالَ لِي النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِذَا رَفَعْتَ رَأْسَكَ مِنَ السُّجُودِ فَلاَ تُقْعِ كَمَا يُقْعِي الْكَلْبُ ضَعْ أَلْيَتَيْكَ بَيْنَ قَدَمَيْكَ وَأَلْزِقْ ظَاهِرَ قَدَمَيْكَ بِالأَرْضِ ‏”‏ ‏.‏

আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেছেন, তুমি সিজদা থেকে তোমার মাথা তুলে কুকুরের মত বসো না। তোমার উভয় নিতম্ব তোমার দু’ পায়ের পাতার মাঝখানে রাখো এবং তোমার দু’ পায়ের পিঠ মাটির সাথে স্থাপন করো। [৮৯৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৯৪] নাই তাহক্বীক্ব আলবানী: মাওযু। তাখরীজ আলবানী: জামি সগীর ৫২২ মাউযূ, যঈফা ২৬১৫। উক্ত হাদিসের রাবী আল আলা আবু মুহাম্মাদ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার ব্যপারে সমালোচনা রয়েছে। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য।

হাদিসের মানঃ জাল হাদিস

  •  সরাসরি

৫/২৩. অধ্যায়ঃ

দু’ সাজদা’হ্র মাঝখানে পড়ার দু’আ।

৮৯৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ الأَحْنَفِ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَقُولُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ ‏ “‏ رَبِّ اغْفِرْ لِي رَبِّ اغْفِرْ لِي ‏”‏ ‏.‏

হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’ সাজদাহ্‌র মাঝখানে বসে বলতেন “রাব্বীগফির লী রাব্বীগফির লী” (“প্রভু! আমায় ক্ষমা করুন, প্রভু! আমায় ক্ষমা করুন”) [৮৯৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৯৫] নাসায়ী ১০৬৯, ১১৪৫; আবূ দাঊদ ৮৭৪, আহমাদ ২২৮৬৬, দারিমী ১৩২৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩৩৫।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮৯৮

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ صَبِيحٍ، عَنْ كَامِلٍ أَبِي الْعَلاَءِ، قَالَ سَمِعْتُ حَبِيبَ بْنَ أَبِي ثَابِتٍ، يُحَدِّثُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ فِي صَلاَةِ اللَّيْلِ ‏ “‏ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَاجْبُرْنِي وَارْزُقْنِي وَارْفَعْنِي ‏”‏ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতের সলাতে দু’সাজদাহ্‌র মাঝখানে (বসে) বলতেনঃ “রাব্বিগফির লী ওয়ারহামনী ওয়াজবুরনী ওয়ারযুকনী ওয়ারফা’নী (হে প্রভু! আমায় ক্ষমা করুন, আমায় দয়া করুন, আমার বিপদ দূর করুন, আমাকে রিযিক দান করুন এবং আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন)। [৮৯৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৯৬] তিরমিযী ২৮৪, আবূ দাঊদ ৮৫০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৭৯৬।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫/২৪. অধ্যায়ঃ

তাশাহ্‌হুদ সম্পর্কে।

৮৯৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قُلْنَا السَّلاَمُ عَلَى اللَّهِ قَبْلَ عِبَادِهِ السَّلاَمُ عَلَى جِبْرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَعَلَى فُلاَنٍ وَفُلاَنٍ ‏.‏ يَعْنُونَ الْمَلاَئِكَةَ ‏.‏ فَسَمِعَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏ “‏ لاَ تَقُولُوا السَّلاَمُ عَلَى اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلاَمُ فَإِذَا جَلَسْتُمْ فَقُولُوا التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ فَإِنَّهُ إِذَا قَالَ ذَلِكَ أَصَابَتْ كُلَّ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالأَرْضِ ‏.‏ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ‏”‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا الثَّوْرِيُّ، عَنْ مَنْصُورٍ، وَالأَعْمَشِ، وَحُصَيْنٍ، وَأَبِي، هَاشِمٍ وَحَمَّادٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ، وَعَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، وَأَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَحْوَهُ ‏.‏

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، وَمَنْصُورٍ، وَحُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، ح

قَالَ وَحَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، وَالأَسْوَدِ، وَأَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يُعَلِّمُهُمُ التَّشَهُّدَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ ‏.‏

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সালাত পড়ার সময় বলতাম “আল্লাহর উপর সালাম তার বান্দাদের পক্ষ থেকে, জিবরাঈল, মীকাইল ও অমুক অমুক ফেরেশতাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হোক। আমাদের এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “তোমরা আসসালামু আলাল্লাহ বলো না। আল্লাহ্ই তো সালাম (শান্তিদাতা)। অতয়েব তোমরা বসে বলবে: “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি — আব্দুহু ওয়া রাসুলুহু” অর্থাৎ “সমস্ত সম্মান, ইবাদত, উপাসনা ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক,আল্লাহর রহমত ও প্রাচুর্যও। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক”। সে এ কথা বললে আসমান ও যমীনের সকল নেক বান্দাদের নিকট তা পৌছে। “আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, আমি আরও সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মদ তার বান্দা ও রসূল”।

(উপরোক্ত হাদীসটি ১৫ টি সনদে বর্ণিত হয়েছে, অপর সনদগুলো হলঃ)

১. আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

২. আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন…..পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। [৮৯৭]

তাহকীক আলবানী: সহীহ।

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৯৭] বুখারী ৮৩১, ৮৩৫, ১২০২, ৬২৩০, ৬২৬৫, ৬৩২৮, ৬৩৮১; মুসলিম ৪০২, তিরমিযী ২৮৯, নাসায়ী ১১৬২-৬৪, ১১৬৬-৭১, ১২৯৮; আবূ দাঊদ ৯৬৮, আহমাদ ৩৫৫২, ৩৬১৫, ৩৯০৯, ৩৯২৫, ৩৯৯৬, ৪০০৭, ৪০৫৪, ৪০৯০, ৪১৪৯, ৪১৬৬, ৪১৭৮, ৪২৯৩, ৪৩৬৯, ৪৪০৮; দারিমী ১৩৪০-৪১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৮৮৯।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৯০০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، وَطَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُعَلِّمُنَا التَّشَهُّدَ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ فَكَانَ يَقُولُ ‏ “‏ التَّحِيَّاتُ الْمُبَارَكَاتُ الصَّلَوَاتُ الطَّيِّبَاتُ لِلَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ‏”‏ ‏.

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে তাশাহুদ শিক্ষা দিতেন, যেমন তিনি আমদেরকে কুরআনের সুরা শিখাতেন। তিনি বলতেনঃ (আরবি) (আত্তাহিয়্যাতুল মুবারাকাতুস সলাওয়াতুত তায়্যিবাতু লিল্লাহি আস-সালামু আলাইকা আয়্যুহান নবীয়ু ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহ। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস স্বালিহিন। আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসুলুহু)। “সমস্ত বরকতময় সম্মান, ইবাদত ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও করুণা বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দেই যে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, আমি, আরও সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দাহ ও রাসুল”। [৮৯৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৮৯৮] মুসলিম ৪০১-২, তিরমিযী ২৯০, নাসায়ী ১১৭৪, আহমাদ,বুখারী ৯৭৪, আহমাদ ২৬৬০, ২৮৮৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৮৯৫।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৯০১

حَدَّثَنَا جَمِيلُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ قَتَادَةَ، ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ خَطَبَنَا وَبَيَّنَ لَنَا سُنَّتَنَا وَعَلَّمَنَا صَلاَتَنَا فَقَالَ ‏ “‏ إِذَا صَلَّيْتُمْ فَكَانَ عِنْدَ الْقَعْدَةِ فَلْيَكُنْ مِنْ أَوَّلِ قَوْلِ أَحَدِكُمُ التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ سَبْعُ كَلِمَاتٍ هُنَّ تَحِيَّةُ الصَّلاَةِ ‏”‏ ‏.‏

আবু মুসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের উদ্দ্যেশ্যে ভাষণ দেন, আমাদের জন্য আমাদের পালনীয় সুন্নাতসমুহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন এবং আমাদেরকে আমাদের সালাত শিক্ষা দেন। তিনি বলেন, তোমরা যখন সালাত পড়বে, এবং বৈঠকে বসবে তখন তোমাদের প্রথম কথা হবেঃ “আত্তাহিয়্যাতুত তায়্যিবাতুস সলাওয়াতু………ওয়া রসূলুহু”। (“সমস্ত প্রশংসা,পবিত্রতা ও, ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক,আল্লাহর রহমত ও বরকতও। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আমি আরও সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রসূল”)। এই সাতটি বাক্যই সলাতের আত্তাহিয়াতু। [৯০০]

তাহকীক আলবানী: (ছাবউ কালিমাতিন) কথাটি ছাড়া সহীহ।

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯০০] মুসলিম ৪০৪, ৮৩০, ১০৬৪, ১১৭২, ১১৭৩, ১২৮০; আবূ দাঊদ ৯৭২, আহমাদ ১৯০১০, ১৯০৫৮, ১৯১৩০, ১৯১৬৬; দারিমী ১৩১২, মাজাহ ৮৪৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: سَبْعُ كَلِمَاتٍ তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবী দাউদ ৮৯৩, ইরওয়াহ ৩৩২।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৯০২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَيْمَنُ بْنُ نَابِلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُعَلِّمُنَا التَّشَهُّدَ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ ‏ “‏ بِاسْمِ اللَّهِ وَبِاللَّهِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ لِلَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أَسْأَلُ اللَّهَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ ‏”‏ ‏.‏

জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের তাশাহুদ শিক্ষা দিতেন, যেমন তিনি আমাদেরকে কুরআনের সুরা শিক্ষা দিতেন। (বিসমিল্লাহি ওয়া বিল্লাহি…….আউযুবিল্লাহি মিনান নার। (আল্লাহর নামে ও আল্লাহর তাওফিকে শুরু করছি। সমস্ত সম্মান, ইবাদত ও পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আল্লাহর রাহমত ও বারকাতও। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দেই যে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই।আমি আরও সাক্ষ্য দেই যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দাহ্‌ ও তাঁর রসূল। আমি আল্লাহর নিকট জান্নাতের প্রার্থনা করি ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই)। [৯০১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯০১] নাসায়ী ১১৭৫ তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: ইবনু মাজাহ ৯০০ সহীহ, নাসায়ী ১১৭১ সহীহ, ১১৭৫ যঈফ, ১২৭৮ সহীহ, ১২৮১ যঈফ, মিশকাত ৯১০ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও অন্যত্রে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইবনু মিনদাহ তাকে দুর্বল বলেছেন।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৫/২৫. অধ্যায়ঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর প্রতি দরূদ পাঠ।

৯০৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا السَّلاَمُ عَلَيْكَ قَدْ عَرَفْنَاهُ فَكَيْفَ الصَّلاَةُ قَالَ ‏ “‏ قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ ‏”‏ ‏.‏

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এ হলো আপনার প্রতি সালাম যা আমরা জেনে নিয়েছি। অতএব দরূদ কীরূপ? তিনি বলেন তোমরা বলোঃ (অনুবাদ) – “হে আল্লাহ্! আপনার বান্দা ও রসূল মুহাম্মদের উপর আপনি রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ রহমত নাযিল করেছন ইবরাহীমের প্রতি। আপনি মুহাম্মদের উপর বরকত নাযিল করুন, যেরূপ নাযিল করেছেন ইবরাহিমের উপর। [৯০২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯০২] বুখারী ৪৭৯৮, ৬৩৫৮; নাসায়ী ১২৯৩, আহমাদ ১১০৪১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৯০৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي لَيْلَى، قَالَ لَقِيَنِي كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ فَقَالَ أَلاَ أُهْدِي لَكَ هَدِيَّةً خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقُلْنَا قَدْ عَرَفْنَا السَّلاَمَ عَلَيْكَ فَكَيْفَ الصَّلاَةُ عَلَيْكَ قَالَ ‏ “‏ قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ ‏”‏ ‏.‏

ইবনু আবূ লায়লা থেকে বর্ণিতঃ

কা’ব বিন উজরাহ (রাঃ) আমার সাথে সাক্ষাত করে বললেন, আমি কি তোমাকে একটি উপহার দিব না? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলে আমরা বললাম, আমরা আপনার প্রতি সালাম পেশের নিয়ম জেনে নিয়েছি। আপনার প্রতি দরূদ কীভাবে পড়তে হবে? তিনি বলেন, তোমরা বলোঃ (অনুবাদ) “হে আল্লাহ্! আপনি মুহাম্মাদ ও তার পরিবারবর্গের প্রতি রহমাত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহিম (আঃ) এর প্রতি রহমাত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয় আপনি অধিক প্রশংসিত, মহিমান্বিত। হে আল্লাহ্ আপনি মুহাম্মদ ও তার পরিবারবর্গের উপর বরকত দান করুন, যেমন আপনি বরকত দান করেছেন ইবরাহিম (আঃ) এর উপর। নিশ্চয় আপনি পরম প্রশংসিত মহিমান্বিত। [৯০৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯০৩] বুখারী ৩৩৭০, ৪৭৯৭, ৬৩৫৭; মুসলিম ৪০৬, তিরমিযী ৪৮৩, নাসায়ী ১২৮৭-৮৯, আবূ দাঊদ ৯৭৬, আহমাদ ১৭৬৩৮, ১৭৬৬১, ১৭৬৬৭; দারিমী ১৩৪২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩২০, সহীহ আবূ দাউদ ৮৯৬।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৯০৫

حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ طَالُوتَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمَاجِشُونُ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّهُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أُمِرْنَا بِالصَّلاَةِ عَلَيْكَ فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ فَقَالَ ‏ “‏ قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুমায়দ আস-সাইদী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তারা বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার প্রতি দরূদ পাঠের জন্য আমরা আদিষ্ট হয়েছি। অতএব আমরা আপনার প্রতি কিভাবে দরূদ পাঠ করবো? তিনি বলেন, তোমরা বলোঃ (আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদ, ওয়া আযওয়াজিহি ওয়া যুররিয়্যাতিহি কামা সল্লায়তা আলা ইবরাহীম। ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদ, ওয়া আযওয়াজিহি ওয়া যুররিয়্যাতিহি কামা বারাকতা আলা আলি ইবরাহীম ফীল আলামীনা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।) “হে আল্লাহ্! মুহাম্মাদ, তাঁর স্ত্রীগণ ও তাঁর বংশধরদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) – এর উপর এবং আপনি মুহাম্মাদ, তাঁর স্ত্রীগণ ও বংশধরদের প্রতি বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি এ বিশ্বজগতে বরকত নাযিল করেছেন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর বংশধরদের প্রতি। নিশ্চয়ই আপনি অধিক প্রশংসিত মহিমান্বিত”।[৯০৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯০৪] বুখারী ৩৩৬৯, ৬৩৬০; মুসলিম ৪০৭, নাসায়ী ১২৯৪, আবূ দাঊদ ৯৭৯, আহমাদ ২৩০৮৯, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩৯৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৯০৬

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ بَيَانٍ، حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي فَاخِتَةَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ إِذَا صَلَّيْتُمْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَأَحْسِنُوا الصَّلاَةَ عَلَيْهِ فَإِنَّكُمْ لاَ تَدْرُونَ لَعَلَّ ذَلِكَ يُعْرَضُ عَلَيْهِ ‏.‏ قَالَ فَقَالُوا لَهُ فَعَلِّمْنَا ‏.‏ قَالَ قُولُوا اللَّهُمَّ اجْعَلْ صَلاَتَكَ وَرَحْمَتَكَ وَبَرَكَاتِكَ عَلَى سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ وَإِمَامِ الْمُتَّقِينَ وَخَاتَمِ النَّبِيِّينَ مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ إِمَامِ الْخَيْرِ وَقَائِدِ الْخَيْرِ وَرَسُولِ الرَّحْمَةِ اللَّهُمَّ ابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا يَغْبِطُهُ بِهِ الأَوَّلُونَ وَالآخِرُونَ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ ‏.‏

আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তোমরা যখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি দরূদ পেশ করবে, তখন তোমরা তাঁর প্রতি উত্তমরূপে দরূদ পেশ করবে। কেননা তোমাদের জানা নেই যে, নিশ্চয় তা তাঁর সামনে পেশ করা হয়। রাবী বলেন, সাহাবীগণ তাঁকে বললেন, আপনি আমাদের শিখিয়ে দিন। তিনি বলেন, তোমরা বলোঃ (আল্লাহুম্মাজআল সলাতাকা ওয়া রহমাতাকা ওয়া বারাকাতিক আলা সায়্যিদিল মুরসালীন, ওয়া ইমামিল মুত্তাকীন, ওয়া খাতামিন নবীয়্যীনা মুহাম্মাদ, আবদিকা ওয়া রাসূলিকা ইমামিল খায়রি ওয়া কায়িদল খায়র, ওয়া রসূলির রহমাহ। আল্লাহুম্মাবআস মাকামাম মাহমূদা ইয়াগবিতুহু বিহিল আওওয়ালূনা ওয়াল আখারূন। আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা সল্লায়তা আলা ইবরাহীম ওয়া আলা আলি ইবরাহীম ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা বারাকতা আলা ইবরাহীম ওয়া আলা আলি ইবরাহীম ইন্নাকা হামিদুম মাজীদ।) “হে আল্লাহ্! আপনার বান্দা ও আপনার রসূল, প্রেরিত রসূলগণের নেতা, মুত্তাকীগণের ইমাম, সর্বশেষ নবী, কল্যাণের উৎস, কল্যাণের দিকে পরিচালনাকারী ও দয়ার নবী মুহাম্মাদের উপর আপনার রহমাত, আপনার দয়া ও আপনার প্রাচুর্য নাযিল করুন। হে আল্লাহ্! তাঁকে সেই সুপ্রশংসিত স্থানে পৌঁছিয়ে দিন, যার প্রতি পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ ঈর্ষান্বিত। হে আল্লাহ্! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর বংশধরদের উপর রহমাত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি রহমাত বর্ষণ করেছেন ইবরাহীম ও তাঁর বংশধরদের উপর। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত। হে আল্লাহ্! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর বংশধরদের বরকত দান করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম ও তাঁর বংশধরদের বরকত দান করেছেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত”।[৯০৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯০৫] যঈফ। তাখরীজ আলবানী: যঈফ তারগীব ১০৩৯ আসার যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আল মাসউদী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু নুমায়র বলেন, তিনি সিকাহ তবে শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সিকাহ তবে বাগদাদে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেছেন। মুহাম্মাদ বিন সা’দ বলেন, তিনি সিকাহ তবে মৃত্যুর পূর্বে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেছেন। আলী ইবনুল মাদীনী তাকে সিকাহ বলেছেন।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৯০৭

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ أَبُو بِشْرٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصَلِّي عَلَىَّ إِلاَّ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلاَئِكَةُ مَا صَلَّى عَلَىَّ فَلْيُقِلَّ الْعَبْدُ مِنْ ذَلِكَ أَوْ لِيُكْثِرْ ‏”‏ ‏.‏

আমির বিন রাবীআহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যখন কোন মুসলিম ব্যক্তি আমার প্রতি দুরূদ পাঠ করে এবং যতক্ষণ সে আমার প্রতি দুরূদ পাঠরত থাকে, ততক্ষণ ফেরেশতাগণ তার জন্য দুআ করতে থাকেন। অতএব বান্দা চাইলে তার পরিমাণ (দরূদ পাঠ) কমাতেও পারে বা বাড়াতেও পারে।[৯০৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আসিম বিন উবায়দুল্লাহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিস দলীলযোগ্য নয় এবং তিনি দুর্বল। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। মুহাম্মাদ বিন সা’দ বলেন, তার দ্বারা দলীল সাব্যস্ত করা যাবে না।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

৯০৮

حَدَّثَنَا جُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ مَنْ نَسِيَ الصَّلاَةَ عَلَىَّ خَطِئَ طَرِيقَ الْجَنَّةِ ‏”‏ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি দরূদ পাঠাতে ভুলে গেলো সে জান্নাতের পথই ভুলে গেলো। [৯০৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯০৭] হাসান সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ২৩২৭। উক্ত হাদিসের রাবী জুবারাহ ইবনুল মুগাল্লিস সম্পর্কে মুসলিম বিন কায়স বলেন, ইনশাআল্লাহ্‌ (আল্লাহ্‌ চায়তো) তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যুক ও হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি মুদতারাব ভাবে হাদিস বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে।

হাদিসের মানঃ হাসান সহিহ

  •  সরাসরি

৫/২৬. অধ্যায়ঃ

তাশাহ্হুদ এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর প্রতি দরূদের মধ্যে যা বলতে হবে।

৯০৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَائِشَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنَ التَّشَهُّدِ الأَخِيرِ فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْ أَرْبَعٍ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পড়ে অবসর হয়ে যেন চারটি বিষয়ে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেঃ জাহান্নামের শাস্তি থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের সৃষ্ট বিপর্যয় থেকে। [৯০৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯০৮] বুখারী ১৩৭৭, মুসলিম ৮৫১-৫, নাসায়ী ১৩১০, ৫৫০৫-৬, ৫৫০৮-১১, ৫৫১৩-১৮, ৫৫২০; আবূ দাঊদ ৭৯২, ৯৮৩; আহমাদ ৭১৯৬, ৭৮১০, ৭৯০৪, ৯০৯৩, ৯১৮৩, ২৭৫৯৬, ২৭৮৯০, ৯৮২৪, ২৭২৮০; দারিমী ১৩৪৪, মাজাহ ৯১০, ৩৮৪৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৩৫০, সহীহ আবূ দাউদ ৩।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৯১০

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لِرَجُلٍ ‏”‏ مَا تَقُولُ فِي الصَّلاَةِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَتَشَهَّدُ ثُمَّ أَسْأَلُ اللَّهَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِهِ مِنَ النَّارِ أَمَا وَاللَّهِ مَا أُحْسِنُ دَنْدَنَتَكَ وَلاَ دَنْدَنَةَ مُعَاذٍ ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ حَوْلَهُمَا نُدَنْدِنُ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি সলাতে কী পড়ো? সে বললো, আমি তাশাহুদ পড়ার পর আল্লাহর নিকট জান্নাত প্রার্থনা করি এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই। তবে আল্লাহর শপথ! আপনার ও মুআযের নীরব দুআ কতই না উত্তম। তিনি বললেন, আমরা নীরবে জান্নাতের পরিবেশ লাভের দুআ করি।[৯০৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯০৯] বুখারী ১৩৭৭, মুসলিম ৮৫১-৫, নাসায়ী ১৩১০, ৫৫০৫-৬, ৫৫০৮-১১, ৫৫১৩-১৮, ৫৫২০; আবূ দাঊদ ৭৯২, ৯৮৩; আহমাদ ৭১৯৬, ৭৮১০, ৭৯০৪, ৯০৯৩, ৯১৮৩, ২৭৫৯৬, ২৭৮৯০, ৯৮২৪, ২৭২৮০; দারিমী ১৩৪৪, মাজাহ ৯০৯, ৩৮৪৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৭০৭।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

 

Similar Posts