ইবনে মাজাহ ভূমিকা ২য় ভাগ হাদিস নং ৯৩ – ১৭৬

১১. অধ্যায়ঃ

আবু বাক্‌র সিদ্দীক (রাঃ)- এর সম্মান

৯৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ أَلاَ إِنِّي أَبْرَأُ إِلَى كُلِّ خَلِيلٍ مِنْ خُلَّتِهِ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلاً لاَتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلاً إِنَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيلُ اللَّهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَكِيعٌ يَعْنِي نَفْسَهُ ‏.‏

আবদুল্লাহ্‌ (বিন মাসঊদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, জেনে রাখো! আমি প্রত্যেক বন্ধুর বন্ধুত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। যদি আমি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করতাম তবে আবু বাক্‌রকেই অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। নিশ্চয় তোমাদের এই সাথী আল্লাহ্‌র অন্তরঙ্গ বন্ধু। ওয়াকী’ (রাঃ) বলেন, অর্থাৎ তিনি নিজে। [৯১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯১] মুসলিম ২৩৮৩/১-৩, তিরমিযী ৩৬৫৫, আহমাদ ৩৫৭০, ৩৬৮১, ৩৮৬৮, ৪১১০, ৪১২৫, ৪১৫০, ৪১৭১, ৪৩৪১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী:

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৯৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ مَا نَفَعَنِي مَالٌ قَطُّ مَا نَفَعَنِي مَالُ أَبِي بَكْرٍ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ وَقَالَ هَلْ أَنَا وَمَالِي إِلاَّ لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আবু বাক্‌রের ধন-সম্পদ আমার যতটুকু উপকারে এসেছে অন্য কারো ধন-সম্পদ আমার তত উপকারে আসেনি। রাবী বলেন, এ কথায় আবু বাক্‌র (রাঃ) কেঁদে ফেলেন এবং বলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি ও আমার ধন-সম্পদ আপনারই। [৯২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯২] তিরমিযী ৩৬৬১ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ২৭১৮।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৯৫

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ فِرَاسٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ سَيِّدَا كُهُولِ أَهْلِ الْجَنَّةِ مِنَ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ إِلاَّ النَّبِيِّينَ وَالْمُرْسَلِينَ لاَ تُخْبِرْهُمَا يَا عَلِيُّ مَا دَامَا حَيَّيْنِ ‏”‏ ‏.‏

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আবু বাকর ও উমার নবী-রসূলগণ ব্যতীত পূর্বাপর (সর্বকালের) সকল বয়স্ক জান্নাতীর নেতা হবে। হে আলী! তাদের জীবদ্দশায় তুমি তা তাদেরকে অবহিত করো না। [৯৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯৩] তিরমিযী ৩৬৬৫-৬৬, আহমাদ ৬০৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৮২৪। উক্ত হাদিসের রাবী ১. হাসান বিন উমারাহ সম্পর্কে শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ বলেন, তিনি মিথ্যা কথা বলেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও আবু হাতীম আর-রাযী এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ২. ফিরাস সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আহমাদ বিন হাম্বল ও ইমাম নাসাঈ বলেন তিনি সিকাহ। ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তিনি সিকাহ কিন্তু তার হাদিসে দুর্বলতা রয়েছে। ইবনু হিব্বান বলেন তিনি মুতকিন। ৩. হারিস (বিন আব্দুল্লাহ) সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আহমাদ বিন সালিহ আল মিসরী বলেন, তিনি সিকাহ। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী তাকে মিথ্যুক বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার হাদীস থেকে দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। হাদিসটির শতাধিক শাহিদ হাদিস রয়েছে। তন্মধ্যে তিরমিযিতে ৩ টি, ইবনু মাজাহ ২ টি, আহাদীসুল মুখতার ৫ টি ও বাকীগুলো অন্যান্য কিতাবে রয়েছে। সুতরাং সহীহ শাহিদ এর ভিত্তিতে হাদিসটি সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৯৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عَطِيَّةَ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِنَّ أَهْلَ الدَّرَجَاتِ الْعُلَى يَرَاهُمْ مَنْ أَسْفَلَ مِنْهُمْ كَمَا يُرَى الْكَوْكَبُ الطَّالِعُ فِي الأُفُقِ مِنْ آفَاقِ السَّمَاءِ وَإِنَّ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ مِنْهُمْ وَأَنْعَمَا ‏”‏ ‏.‏

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, (জান্নাতে) উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে, তাদের তুলনায় নিম্ন মর্যাদার লোকেরা দেখতে পাবে, যেমন আকাশের দিগন্তে আলোকোজ্জ্বল তারকারাজি দেখা যায়। আবু বাক্‌র ও উমার (রাঃ) তাদের অন্তর্ভুক্ত, বরং তাদের মাঝে অধিক মর্যাদাবান। [৯৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯৪] তিরমিযী ৩৬৫৮, ৩৬৬২; আবূ দাঊদ ৩৯২৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: রওম ৯৭০। উক্ত হাদিসের রাবী আতিয়্যাহ বিন সা’দ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ বলেন তিনি লায়্যিন। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার উপর নির্ভর করা যায় না।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৯৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ مَوْلًى، لِرِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِنِّي لاَ أَدْرِي قَدْرَ بَقَائِي فِيكُمْ فَاقْتَدُوا بِاللَّذَيْنِ مِنْ بَعْدِي ‏”‏ ‏.‏ وَأَشَارَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ ‏.‏

হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি জানি না আমি তোমাদের মাঝে আর কতকাল জীবিত থাকবো। অতএব আমার অবর্তমানে তোমরা আমর পরে অবশিষ্ট লোকের অনুসরণ করবে এবং (এ কথা বলে) তিনি আবু বাক্‌র ও উমার (রাঃ)-এর প্রতি ইঙ্গিত করেন। [৯৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯৫] তিরমিযী ৩৬৬৩, আহমাদ ২২৭৩৪, ২২৭৬৫, ২২৮৭৭, ২২৯১০। তাহক্বীক্ব আলবানী: তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬০৫২, সহীহাহ ১২৩৩। উক্ত হাদিসের রাবী মুয়াম্মাল (বিন ইসমাঈল) সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইসহাক বিন রাহওয়ায় বলেন, তিনি সিকাহ। মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন তিনি সিকাহ কিন্তু হাদীস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ইবনু হিব্বান বলেন তিনি সিকাহ কিন্তু হাদিসের বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল ও সন্দেহ করেন। ইবনু কানি’ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৯৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ لَمَّا وُضِعَ عُمَرُ عَلَى سَرِيرِهِ اكْتَنَفَهُ النَّاسُ يَدْعُونَ وَيُصَلُّونَ – أَوْ قَالَ يُثْنُونَ وَيُصَلُّونَ – عَلَيْهِ قَبْلَ أَنْ يُرْفَعَ وَأَنَا فِيهِمْ فَلَمْ يَرُعْنِي إِلاَّ رَجُلٌ قَدْ زَحَمَنِي وَأَخَذَ بِمَنْكِبِي فَالْتَفَتُّ فَإِذَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَتَرَحَّمَ عَلَى عُمَرَ ثُمَّ قَالَ مَا خَلَّفْتُ أَحَدًا أَحَبَّ إِلَىَّ أَنْ أَلْقَى اللَّهَ بِمِثْلِ عَمَلِهِ مِنْكَ وَايْمُ اللَّهِ إِنْ كُنْتُ لأَظُنُّ لَيَجْعَلَنَّكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مَعَ صَاحِبَيْكَ وَذَلِكَ أَنِّي كُنْتُ أَكْثَرُ أَنْ أَسْمَعَ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ “‏ ذَهَبْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَدَخَلْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَخَرَجْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ ‏”‏ ‏.‏ فَكُنْتُ أَظُنُّ لَيَجْعَلَنَّكَ اللَّهُ مَعَ صَاحِبَيْكَ ‏.‏

(আবদুল্লাহ বিন উবায়দুল্লাহ) বিন আবু মুলায়কাহ থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ উমার (রাঃ)-এর লাশ জানাযাহর খাটিয়ায় রাখা হলে উপস্থিত লোকজন, তার চারপাশে ভীড় করে দু’আ-কালাম ও সলাত শুরু করে দেয়, তখনো সলাত আদায়ের জন্য লাশ উঠানো হয়নি। আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। তখন এক ব্যক্তির সাথে আমার ধাক্কা লাগলো এবং তিনি আমার কাঁধ ধরলেন। আমি তাকিয়ে দেখি যে, তিনি আলী বিন আবু তালিব (রাঃ)। তিনি উমার (রাঃ)-এর প্রতি করুণা প্রকাশ করে আফসোস করলেন, অতঃপর বলেন, আমার নিকট আপনার চেয়ে অধিক প্রিয় আর কেউ নেই, আপনি যে নেক আমালসহ আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভ করেছেন তার তুলনা নেই। আল্লাহ্‌র শপথ! অবশ্যই আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ্‌ তাআলা আপনাকে আপনার দু’জন সাথীর সাথে মিলিত করবেন। কেননা আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রায়ই বলতে শুনতামঃ আমি, আবু বাকর ও উমার গিয়েছিলাম। আমি আবু বাকর ও উমার প্রবেশ করলাম। আমি, আবু বাকর ও উমার বের হলাম। তাই আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ্‌ আপনাকে আপনার দু’ মহান বন্ধুর সাথে একত্র করবেন। [৯৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯৬] বুখারী ৩৬৭৭, মুসলিম ২৩৮৯, আহমাদ ৯০০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৯৯

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بَيْنَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ فَقَالَ ‏ “‏ هَكَذَا نُبْعَثُ ‏”‏ ‏.‏

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বাকর ও উমার (রাঃ)-এর মাঝখান দিয়ে বের হয়ে চললেন, অতঃপর বললেনঃ এভাবেই আমরা (কিয়ামাতের দিন) উত্থিত হবো। [৯৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯৭] তিরমিযী ৩৬৬৯ তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬০৫৪, সহীহাহ ৮২৪, তাখরীজুল আহাদীসুল মুখতারাহ ৫১৯-৫২০। উক্ত হাদিসের রাবী সাঈদ বিন মাসলামাহ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ কিন্তু হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইমাম বুখারী বলেন মুনকারুল হাদীস। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তার হাদিসে দুর্বলতা রয়েছে। ইমাম নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু আদী বলেন, তাকে প্রত্যাখ্যান করাও যায়না আবার নির্ভরও করা যায় না।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১০০

حَدَّثَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، صَالِحُ بْنُ الْهَيْثَمِ الْوَاسِطِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْقُدُّوسِ بْنُ بَكْرِ بْنِ خُنَيْسٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ سَيِّدَا كُهُولِ أَهْلِ الْجَنَّةِ مِنَ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ إِلاَّ النَّبِيِّينَ وَالْمُرْسَلِينَ ‏”‏ ‏.‏

আবু জুহাইফাহ (ওয়াহব বিন আবদুল্লাহ) (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আবু বাক্‌র ও উমার নবী-রসূলগণ ব্যতীত পূর্বাপর সকল যুগের বয়স্ক জান্নাতীদের নেতা হবে। [৯৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، وَالْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ النَّاسِ أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ ‏”‏ عَائِشَةُ ‏”‏ ‏.‏ قِيلَ مِنَ الرِّجَالِ قَالَ ‏”‏ أَبُوهَا ‏”‏ ‏.‏

আনাস (বিন মালিক) (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

বলা হলো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কোন ব্যক্তি আপনার নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বলেন, আয়িশাহ। আবার বলা হলো, পুরুষদের মধ্যে? তিনি বলেন, তার পিতা। [৯৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯৯] তিরমিযী ৩৮৯০ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১২. অধ্যায়ঃ

উমার (রাঃ)-এর সম্মান

১০২

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، أَخْبَرَنِي الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ أَىُّ أَصْحَابِهِ كَانَ أَحَبَّ إِلَيْهِ قَالَتْ أَبُو بَكْرٍ ‏.‏ قُلْتُ ثُمَّ أَيُّهُمْ قَالَتْ عُمَرُ ‏.‏ قُلْتُ ثُمَّ أَيُّهُمْ قَالَتْ أَبُو عُبَيْدَةَ ‏.‏

আবদুল্লাহ বিন শাকীক থেকে বর্ণিতঃ

আমি আয়িশাহ (রাঃ)-কে বললাম, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তাঁর কোন সাহাবী সর্বাধিক প্রিয় ছিলেন? তিনি বলেন, আবু বাকর (রাঃ)। আমি আবার বললাম, তারপর তাদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, উমার (রাঃ)। আমি আবার বললাম, অতঃপর তাদের মধ্যে কে? তিনি বলেন, আবু উবায়দাহ (রাঃ)। [১০০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০০] সহীহ। হাদিসটি ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৩

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الطَّلْحِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ خِرَاشٍ الْحَوْشَبِيُّ، عَنِ الْعَوَّامِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا أَسْلَمَ عُمَرُ نَزَلَ جِبْرِيلُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ لَقَدِ اسْتَبْشَرَ أَهْلُ السَّمَاءِ بِإِسْلاَمِ عُمَرَ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

উমার (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করলে জিবরীল (আঃ) অবতরণ করে বলেন, হে মুহাম্মাদ! ‘উমারের ইসলাম কবূল করার সুসংবাদে ঊর্ধ্ব জগতের বাসিন্দারা আনন্দিত হয়েছে। [১০১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০১] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। খুবই দুর্বল। ইমাম ইবনু মাজাহ হাদিসটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। উক্ত হাদিসের রাবী আব্দুল্লাহ বিন খিরাশ হাওশাবী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ কিন্তু হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইমাম বুখারী ও আবু যুর’আহ আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইমাম নাসাঈ বলেন তিনি সিকাহ নয়। ইবনু আম্মার বলেন তিনি মিথ্যুক।

হাদিসের মানঃ খুবই দুর্বল

  •  সরাসরি

১০৪

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الطَّلْحِيُّ، أَنْبَأَنَا دَاوُدُ بْنُ عَطَاءٍ الْمَدِينِيُّ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ أَوَّلُ مَنْ يُصَافِحُهُ الْحَقُّ عُمَرُ وَأَوَّلُ مَنْ يُسَلِّمُ عَلَيْهِ وَأَوَّلُ مَنْ يَأْخُذُ بِيَدِهِ فَيُدْخِلُهُ الْجَنَّةَ ‏”‏ ‏.‏

উবাই বিন কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মহাসত্যবাদী সত্তা (আল্লাহ্‌) সর্বপ্রথম উমারের সাথে মুসাফাহা করবেন, তাকে সর্বপ্রথম সালাম করবেন এবং তার হাত ধরে সর্বপ্রথম তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। [১০২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০২] মুনকার। তাখরীজ আলবানী: যঈফাহ ২৪৮৫। উক্ত হাদিসের রাবী দাউদ বিন আতা আল-মাদীনী সম্পর্কে ইমাম বুখারী তাকে মুনকার বলেছেন। আবু হাতীম বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইমাম নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস।

হাদিসের মানঃ মুনকার

  •  সরাসরি

১০৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ أَبُو عُبَيْدٍ الْمَدِينِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الْمَاجِشُونِ، حَدَّثَنِي الزَّنْجِيُّ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ اللَّهُمَّ أَعِزَّ الإِسْلاَمَ بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ خَاصَّةً ‏”‏ ‏.‏

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, হে আল্লাহ্‌ বিশেষভাবে উমার ইবনুল খাত্তাবের দ্বারা ইসলামকে সম্মানিত করেন। [১০৩]

 

তাহকীকঃ খাসসাহ শব্দটি ছাড়া সহীহ।

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৩] খাস্‌সাহ শব্দটি ছাড়া সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬০৩৬। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন উবায়দ আবু উবায়দুল্লাহ আল মাদীনী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। ২. আবদুল মালিক ইবনুল মাজিশুন সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ। ইমাম যাহাবী বলেন তিনি সত্যবাদী। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার হাদিসের উপর নির্ভর করা যায় না। আস-সাজী বলেন, তার হাদীস দুর্বল।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا، يَقُولُ خَيْرُ النَّاسِ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَبُو بَكْرٍ وَخَيْرُ النَّاسِ بَعْدَ أَبِي بَكْرٍ عُمَرُ ‏.‏

আবদুল্লাহ বিন সালামাহ (তিনি সত্যবাদী কিন্তু শেষ বয়সে স্মৃতি শক্তি পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আলী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরে সর্বোৎকৃষ্ট মানুষ হলেন আবু বাক্‌র (রাঃ) এবং আবু বাকর (রাঃ)-এর পরে উত্তম লোক হলেন উমার (রাঃ)। [১০৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৪] বুখারী ৩৬৭১, আবূ দাঊদ ৪৬২৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَارِثِ الْمِصْرِيُّ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُنِي فِي الْجَنَّةِ فَإِذَا أَنَا بِامْرَأَةٍ تَتَوَضَّأُ إِلَى جَانِبِ قَصْرٍ فَقُلْتُ لِمَنْ هَذَا الْقَصْرُ فَقَالَتْ لِعُمَرَ ‏.‏ فَذَكَرْتَ غَيْرَتَهُ فَوَلَّيْتُ مُدْبِرًا ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَبَكَى عُمَرُ فَقَالَ أَعَلَيْكَ بِأَبِي وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغَارُ

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে বসা ছিলাম। তিনি বলেন, একদা আমি স্বপ্নে নিজেকে জান্নাতের মধ্যে দেখলাম। আমি লক্ষ্য করলাম, এক মহিলা একটি প্রাসাদের নিকট বসে উদূ করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, প্রাসাদটি কার? মহিলা বললো, উমার (রাঃ)-এর। তখন উমারের আত্মমর্যাদাবোধের কথা আমার স্মরণ হলো এবং আমি সেখান থেকে পেছনে ফিরে এলাম। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, (এ কথা শুনে) উমার (রাঃ) কেঁদে দিলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আমি আপনার উপর কীভাবে আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ করতে পারি। [১০৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৫] বুখারী ৩২৪২, মুসলিম ৪৩৯৫, আহমাদ ৮২৬৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০৮

حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ غُضَيْفِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ “‏ إِنَّ اللَّهَ وَضَعَ الْحَقَّ عَلَى لِسَانِ عُمَرَ يَقُولُ بِهِ ‏”‏ ‏.‏

আবু যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তা’আলা ‘উমারের মুখে সত্যকে স্থাপন করেছেন এবং সেই সত্যের সাহায্যে সে কথা বলে। [১০৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৬] আহমাদ ২৯৬২ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬০৩৪। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইবনু মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনু নুমায়র তাকে হাসান বলেছেন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৩. অধ্যায়ঃ

উসমান (রাঃ)-এর সম্মান

১০৯

‏حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا أَبِي عُثْمَانُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ لِكُلِّ نَبِيٍّ رَفِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَرَفِيقِي فِيهَا عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ ‏”‏ ‏.‏

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, জান্নাতে প্রত্যেক নবীর একজন অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে। সেখানে আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু হবে উসমান বিন আফফান। [১০৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৭] যঈফ। তাখরীজ আলবানী: জামি সগীর যঈফ, যঈফা ২২৯২ যঈফ, যিলালিল জান্নাহ ১২৮৯। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আবু উসমান বিন খালিদ সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলে তিনি দুর্বল। তার অনেক মুনকার হাদিস রয়েছে। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইমাম নাসাঈ বলেন তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আস সাজী বলেন, তার নিকট তার বর্ণিত একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। ইবনু আদী বলেন তার হাদিস সংরক্ষিত নয়। আল উকাইলী বলেন, হাদিস বর্ণনায় অধিক সন্দেহ করেন। হাকীম আবু আব্দুল্লাহ ও আবু নুয়াইম আল-আসবাহানী বলেন, তিনি মালিক ও অন্যদের সুত্রে বানোয়াট হাদিস বর্ণনা করে থাকেন। ইবনু হিব্বান বলেন তার দ্বারা দলীল গ্রহন করা যাবে না। হাফিয বলেন সে হাদিস বর্ণনায় মাতরুক। ২. আব্দুর রহমান বিন আবু যিনাদ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আল আজালী বলেন তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুদতারাবুল হাদীস।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১১০

حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا أَبِي عُثْمَانُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لَقِيَ عُثْمَانَ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ فَقَالَ ‏ “‏ يَا عُثْمَانُ هَذَا جِبْرِيلُ أَخْبَرَنِي أَنَّ اللَّهَ قَدْ زَوَّجَكَ أُمَّ كُلْثُومٍ بِمِثْلِ صَدَاقِ رُقَيَّةَ عَلَى مِثْلِ صُحْبَتِهَا ‏”‏ ‏.‏

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাসজিদের দরজায় উসমান (রাঃ)-এর সাক্ষাৎ পেয়ে বলেন, হে উসমান! এই যে, জিবরীল (আঃ)। তিনি আমাকে অবহিত করেন যে, আল্লাহ্‌ তা’আলা তোমার সাথে উম্মু কুলসুমের বিবাহ দিয়েছেন এবং তার মোহরও রুকাইয়ার মোহরের সমান। [১০৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৮] যঈফ। তাখরীজ আলবানী: তিরমিযী ৩৩৭৯ সহীহ, যঈফাহ ৪৮২৪। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আবু উসমান বিন খালীদ সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, তিনি দুর্বল, তার অনেক মুনকার হাদিস বর্ণনা আছে। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন মুনকারুল হাদীস। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। আস-সাজী বলেন, তার নিকট তার বর্ণিত একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। ইবনু আদী বলেন, তার হাদিস সংরক্ষিত নয়। আল-উকায়লী বলেন, হাদিস বর্ণনায় অধিক সন্দেহ করেন। হাকীম আবু আব্দুল্লাহ ও আবু নুয়াইম আল-আসবাহানী বলেন, তিনি মালিক ও অন্যদের সুত্রে বানোয়াট হাদিস বর্ণনা করে থাকেন। ইবনু হিব্বান বলেন তার দ্বারা দলীল গ্রহন করা যাবে না। হাফিয বলেন সে হাদিস বর্ণনায় মাতরুক। ২. আব্দুর রহমান বিন আবু যিনাদ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আল আজালী বলেন তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুদতারাবুল হাদীস।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১১১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِتْنَةً فَقَرَّبَهَا فَمَرَّ رَجُلٌ مُقَنَّعٌ رَأْسُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏”‏ هَذَا يَوْمَئِذٍ عَلَى الْهُدَى ‏”‏ ‏.‏ فَوَثَبْتُ فَأَخَذْتُ بِضَبْعَىْ عُثْمَانَ ثُمَّ اسْتَقْبَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقُلْتُ هَذَا قَالَ ‏”‏ هَذَا ‏”‏ ‏.‏

কা’ব বিন উজরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অচিরেই সংঘটিতব্য একটি বিপর্যয়ের উল্লেখ করেন। ইত্যবসরে এক ব্যক্তি মাথা নিচু করে চলে গেল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তখন এ ব্যক্তি সৎপথে প্রতিষ্ঠিত থাকবে। আমি দ্রুত হেঁটে গিয়ে তার দু কাঁধে হাত রাখতেই দেখলাম যে, তিনি উসমান (রাঃ)। অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ফিরে এসে বললাম, ইনি কি সেই ব্যক্তি? তিনি বলেন, ইনিই সেই ব্যক্তি। [১০৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০৯] তিরমিযী ৩৭০৪ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬০৬৭।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১২

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الْفَرَجُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ الدِّمَشْقِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ يَا عُثْمَانُ إِنْ وَلاَّكَ اللَّهُ هَذَا الأَمْرَ يَوْمًا فَأَرَادَكَ الْمُنَافِقُونَ أَنْ تَخْلَعَ قَمِيصَكَ الَّذِي قَمَّصَكَ اللَّهُ فَلاَ تَخْلَعْهُ ‏”‏ ‏.‏ يَقُولُ ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ‏.‏ قَالَ النُّعْمَانُ فَقُلْتُ لِعَائِشَةَ مَا مَنَعَكِ أَنْ تُعْلِمِي النَّاسَ بِهَذَا قَالَتْ أُنْسِيتُهُ وَاللَّهِ ‏.‏

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, হে উসমান! তোমাকে আল্লাহ্‌ তা’আলা একদিন এক কাজের (খিলাফতের) দায়িত্বশীল করবেন। মুনাফিকরা ষড়যন্ত্র করে আল্লাহ্‌ প্রদত্ত তোমার এই জামা (খিলাফতের দায়িত্ব) তোমার থেকে খুলে ফেলতে চাইবে। তুমি কখনও তা খুলবে না। তিনি এ কথা তিনবার বলেন। নুমান (রহঃ) বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞাস করলাম, (বিদ্রোহ চলাকালে) জনসম্মুখে এ হাদীস বর্ণনা করতে আপনাকে কিসে বিরত রেখেছে? তিনি বলেন, আমি ভুলে গিয়েছিলাম। [১১০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১০] তিরমিযী ৩৭০৫ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬০৬৮। উক্ত হাদিসের রাবী ফারাজ বিন ফাদালাহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, হাদিস বর্ণনায় তিনি দুর্বল। আলী ইবনুল মাদিনী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বলেন, মুনকারুল হাদীস। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي مَرَضِهِ ‏”‏ وَدِدْتُ أَنَّ عِنْدِي بَعْضَ أَصْحَابِي ‏”‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ نَدْعُو لَكَ أَبَا بَكْرٍ فَسَكَتَ قُلْنَا أَلاَ نَدْعُو لَكَ عُمَرَ فَسَكَتَ قُلْنَا أَلاَ نَدْعُو لَكَ عُثْمَانَ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ ‏”‏ ‏.‏ فَجَاءَ عُثْمَانُ فَخَلاَ بِهِ فَجَعَلَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُكَلِّمُهُ وَوَجْهُ عُثْمَانَ يَتَغَيَّرُ ‏.‏ قَالَ قَيْسٌ فَحَدَّثَنِي أَبُو سَهْلَةَ مَوْلَى عُثْمَانَ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ قَالَ يَوْمَ الدَّارِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَهِدَ إِلَىَّ عَهْدًا وَأَنَا صَائِرٌ إِلَيْهِ ‏.‏ وَقَالَ عَلِيٌّ فِي حَدِيثِهِ وَأَنَا صَابِرٌ عَلَيْهِ ‏.‏ قَالَ قَيْسٌ فَكَانُوا يُرَوْنَهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ ‏.‏

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রোগশয্যায় বললেনঃ আমি আশা করি যে, এ সময় আমার কোন সহাবী আমার নিকট উপস্থিত থাকুক। আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমরা কি আপনার কাছে আবু বাক্‌রকে ডেকে আনবো? তিনি নীরব থাকলেন। আমরা বললাম, আমরা কি আপনার কাছে উমারকে ডেকে আনবো? তিনি এবারও নীরব থাকলেন। আমরা বললাম, আমরা কি আপনার নিকট উসমানকে ডেকে আনবো? তিনি বলেন, হ্যাঁ। অতঃপর উসমান (রাঃ) এলেন। তিনি তার সাথে একান্তে আলাপ-আলোচনা করেন। উসমান (রাঃ)-এর চেহারায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল। কায়স (রহঃ) বলেন, আমার নিকট উসমানের মুক্ত দাস আবু সাহলাহ (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, উসমান বিন আফফান (রাঃ) নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকাকালে বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার থেকে একটি অঙ্গীকার নিয়েছেন, আমি তাতে ধৈর্য ধারণ করবো। আলী বিন মুহাম্মাদ (রহঃ) তার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন, উসমান (রাঃ) বলেছেন, আমি তাতে ধৈর্য ধারণ করবো। কায়স (রহঃ) বলেন, সহাবীদের মতে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে এটাই ছিল তাঁর একান্ত আলাপ। [১১১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১১] আহমাদ ২৫২৬৯ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬০৭০।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৪. অধ্যায়ঃ

আলী বিন আবী তালিব (রাঃ)-এর সম্মান

১১৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ عَهِدَ إِلَىَّ النَّبِيُّ الأُمِّيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ لاَ يُحِبُّنِي إِلاَّ مُؤْمِنٌ وَلاَ يُبْغِضُنِي إِلاَّ مُنَافِقٌ ‏.‏

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

উম্মী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে অবগত করলেন যে, মু’মিন ব্যক্তিরাই আমাকে ভালবাসবে এবং মুনাফিকরাই আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে। [১১২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১২] মুসলিম ৭৮, তিরমিযী ৩৭৩৬, নাসায়ী ৫০১৮, ৫০২২, আহমাদ ৬৪৩, ৭৩৩, ১০৬৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ১৮২০।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ بْنَ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ قَالَ لِعَلِيٍّ ‏ “‏ أَلاَ تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى ‏”‏ ‏.‏

সা’দ বিন আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলী (রাঃ)-কে বলেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আমার নিকট তুমি এরুপ স্থানের অধিকারী মূসা (আঃ)-এর নিকট হারুন (আঃ)-এর স্থান (মর্যাদা)? [১১৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১৩] বুখারী ৩৭০৬, মুসলিম ৩৪০৪/১-২, তিরমিযী ৩৭৩১, আহমাদ ১৪৬৬, ১৪৯৩, ১৫০৮, ১৫১২, ১৫৩৫, ১৫৫০, ১৫৮৭, ১৬০৩, ১৬১১; ইবনু মাজাহ ১২১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী:

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ، أَخَبَرَنِي حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ أَقْبَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي حَجَّتِهِ الَّتِي حَجَّ فَنَزَلَ فِي الطَّرِيقِ فَأَمَرَ الصَّلاَةَ جَامِعَةً فَأَخَذَ بِيَدِ عَلِيٍّ فَقَالَ ‏”‏ أَلَسْتُ أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا بَلَى ‏.‏ قَالَ ‏”‏ أَلَسْتُ أَوْلَى بِكُلِّ مُؤْمِنٍ مِنْ نَفْسِهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا بَلَى ‏.‏ قَالَ ‏”‏ فَهَذَا وَلِيُّ مَنْ أَنَا مَوْلاَهُ اللَّهُمَّ وَالِ مَنْ وَالاَهُ اللَّهُمَّ عَادِ مَنْ عَادَاهُ ‏”‏ ‏.‏

আল-বারা বিন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বিদায় হাজ্জে উপস্থিত ছিলাম। তিনি পথিমধ্যে এক স্থানে অবতরণ করেন, অতঃপর সলাতের জামা’আতে একত্র হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি আলী (রাঃ)-এর হাত ধরে বলেন, আমি কি মু’মিনদের নিকট তাদের নিজেদের চাইতে অধিক ঘনিষ্টতর নই? তারা বলেন, হাঁ অবশ্যই। তিনি আবার বলেন, আমি কি প্রত্যেক মু’মিনের নিকট তার নিজের চাইতে অধিক ঘনিষ্টতর নই? তারা বলেন, হাঁ অবশ্যই। তিনি বলেন, আমি যার বন্ধু আলীও তার বন্ধু। হে আল্লাহ্‌! যে তাকে ভালোবাসে আপনি তাকে ভালোবাসুন। হে আল্লাহ্‌! যে তার সাথে শত্রুতা করে আপনিও তার সাথে শত্রুতা করুন। [১১৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১৪] আহমাদ ১৮০১১ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ১৭৫০। উক্ত হাদিসের রাবী আলী বিন যায়দ বিন জুদআন সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তিনি সিকাহ সালিহ। আল আজালী বলেন, কোন সমস্যা নাই।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي لَيْلَى، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ كَانَ أَبُو لَيْلَى يَسْمُرُ مَعَ عَلِيٍّ فَكَانَ يَلْبَسُ ثِيَابَ الصَّيْفِ فِي الشِّتَاءِ وَثِيَابَ الشِّتَاءِ فِي الصَّيْفِ فَقُلْنَا لَوْ سَأَلْتَهُ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بَعَثَ إِلَىَّ وَأَنَا أَرْمَدُ الْعَيْنِ يَوْمَ خَيْبَرَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَرْمَدُ الْعَيْنِ ‏.‏ فَتَفَلَ فِي عَيْنِي ثُمَّ قَالَ ‏”‏ اللَّهُمَّ أَذْهِبْ عَنْهُ الْحَرَّ وَالْبَرْدَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَمَا وَجَدْتُ حَرًّا وَلاَ بَرْدًا بَعْدَ يَوْمِئِذٍ ‏.‏ وَقَالَ ‏”‏ لأَبْعَثَنَّ رَجُلاً يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ لَيْسَ بِفَرَّارٍ ‏”‏ ‏.‏ فَتَشَوَّفَ لَهَا النَّاسُ فَبَعَثَ إِلَى عَلِيٍّ فَأَعْطَاهَا إِيَّاهُ ‏.‏

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আবূ লাইলা (রাঃ) আলী (রাঃ)-এর সাথে নৈশ আলাপ করতেন। আলী (রাঃ) শীতকালে গ্রীস্মকালীন পোশাক এবং গরমকালে শীতকালীন পোশাক পরিধান করতেন। আমরা বললাম, আপনি যদি তাকে জিজ্ঞেস করতেন! তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বারের যুদ্ধ চলাকালে আমাকে ডেকে পাঠান। তখন আমি চক্ষুপীড়ায় আক্রান্ত ছিলাম। আমি বললাম হে আল্লাহর রসূল! আমি চক্ষুপীড়ায় আক্রান্ত। তিনি তাঁর মুখের লালা আমার চোখে লাগিয়ে দিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! তার থেকে গরম ও ঠান্ডা দূরীভূত করে দাও। তিনি বললেন, সেদিন থেকে আমি না গরম অনুভব করছি না ঠান্ডা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ নিশ্চয় আমি এমন এক ব্যক্তিকে অভিযানে পাঠাবো যে আল্লাহ ও তার রসূলকে ভালোবাসে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলও তাকে ভালোবাসেন এবং সে পৃষ্ঠপ্রদর্শনকারীও নয়। লোকদের এই মর্যাদা লাভের আকাঙ্ক্ষা হলো। তিনি আলী (রাঃ)-কে ডেকে পাঠান এবং তাকেই (সেনাবাহিনীর) পতাকা দান করেন। [১১৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১৫] আহমাদ ৭৮০ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবনু আবু লায়লা সম্পর্কে আল আজালী বলেন, তিনি সত্যবাদী। শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ বলেন, আমি তার চেয়ে অধিক দুর্বল স্মৃতিসম্পন্ন আর কাউকে দেখি নি। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান তাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বোন হাম্বল বলেন তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

১১৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعَلَّى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ سَيِّدَا شَبَابِ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَأَبُوهُمَا خَيْرٌ مِنْهُمَا ‏”‏ ‏.‏

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, হাসান ও হুসায়ন জান্নাতী যুবকদের নেতা এবং তাদের পিতা তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হবে। [১১৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১৬] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৯৭৯। উক্ত হাদিসের রাবী মুআল্লা বিন আব্দুর রহমান সম্পর্কে আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তার হাদিস দুর্বল এবং তার ব্যাপারে হাদিস বানিয়ে বর্ণনার অভিযোগ রয়েছে। ইবনু আদী বলেন, আশা করি তেমন কোন সমস্যা নেই। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস দুর্বল। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি দুর্বল ও মিথ্যুক। উক্ত হাদিস শাহিদ এর ভিত্তিতে সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، قَالُوا حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ حُبْشِيِّ بْنِ جُنَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ “‏ عَلِيٌّ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ وَلاَ يُؤَدِّي عَنِّي إِلاَّ عَلِيٌّ ‏”‏ ‏.‏

আবূ ইসাহাক (আমর বিন আবদুল্লাহ) হুবশী বিন জুনাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি আলী আমার থেকে এবং তার থেকে। আলীই আমার পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারে। [১১৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১৭] তিরমিযী ৩৭১৯ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬০৮৩। সহীহাহ ১৭৮০। উক্ত হাদিসের রাবী ইসমাইল বিন মুসা সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু শিয়া মতাবলম্বী। আবু হাতীম ও মুতায়্যান তাকে সত্যবাদী বলেছেন। ইমাম নাসাঈ বলেন কোন সমস্যা নেই। ইবনু হিব্বান বলেন তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

১২০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَنْبَأَنَا الْعَلاَءُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ الْمِنْهَالِ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ عَلِيٌّ أَنَا عَبْدُ اللَّهِ، وَأَخُو، رَسُولِهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَنَا الصِّدِّيقُ الأَكْبَرُ، لاَ يَقُولُهَا بَعْدِي إِلاَّ كَذَّابٌ صَلَّيْتُ قَبْلَ النَّاسِ بِسَبْعِ سِنِينَ ‏.‏

আব্বাদ বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিতঃ

আলী (রাঃ) বলেছেন, আমি আল্লাহর বান্দা এবং তার রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ভাই। আমি পরম সত্যবাদী। আমার পরে কেবল মিথ্যাবাদীই এই (খেতাব) দাবি করে। আমি লোকদের সাত বছর পূর্বেই সালাত আদায় করেছি। [১১৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১৮] বাতিল। তাখরীজ আলবানী: যঈফা ৪৯৪৭ মাওযু, যিলাযিল জান্নাহ ১৩২৪। উক্ত হাদিসের রাবী মিনহাল সম্পর্কে ইবনু মাঈন, ইমাম নাসাঈ ও আল আজালী বলেন, তিনি সিকাহ। ইমাম দারাকুতনী বলেন তিনি সত্যবাদী। জাওযুজানী বলেন, তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। আরেক রাবী আব্বাদ বিন আবদিল্লাহ যঈফ, এটা ইমাম যাহাবী তালখীসে বলেছেন।

হাদিসের মানঃ বাতিল

  •  সরাসরি

১২১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ ابْنِ سَابِطٍ، – وَهُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ – عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ قَدِمَ مُعَاوِيَةُ فِي بَعْضِ حَجَّاتِهِ فَدَخَلَ عَلَيْهِ سَعْدٌ فَذَكَرُوا عَلِيًّا فَنَالَ مِنْهُ فَغَضِبَ سَعْدٌ وَقَالَ تَقُولُ هَذَا لِرَجُلٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏”‏ مَنْ كُنْتُ مَوْلاَهُ فَعَلِيٌّ مَوْلاَهُ ‏”‏ ‏.‏ وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ ‏”‏ أَنْتَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلاَّ أَنَّهُ لاَ نَبِيَّ بَعْدِي ‏”‏ ‏.‏ وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ ‏”‏ لأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ الْيَوْمَ رَجُلاً يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ‏”‏ ‏.‏

সা‘দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মুআবিয়া (রাঃ) একবার হাজ্জ করতে আসেন। সা‘দ (রাঃ) তার নিকটে উপস্থিত হলে লোকেরা আলী (রাঃ) সম্পর্কে (অশোভন) উক্তি করে। এতে সা‘দ (রাঃ) অসন্তুষ্ট হন এবং বলেন, তোমরা এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে কটুক্তি করলে যার সম্পর্কে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ আমি যার বন্ধু, আলী তার বন্ধু। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আরো বলতে শুনেছিঃ তুমি আমার কছে ঐরূপ যেরূপ ছিলেন হারূন (আ.) মূসা (আ.)-এর নিকট। তবে আমার পরে কোন নবী নেই। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আরো বলতে শুনেছিঃ আজ (খায়বার যুদ্ধের দিন) আমি অবশ্যই এমন ব্যক্তির হাতে (যুদ্ধের) পতাকা অর্পন করবো, যে আল্লাহ ও তার রসূলকে ভালোবাসে। [১১৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১১৯] বুখারী ৩৭০৬, মুসলিম ৩৪০৪/১-২, তিরমিযী ৩৭৩১, আহমাদ ১৪৬৬, ১৪৯৩, ১৫০৮, ১৫১২, ১৫৩৫, ১৫৫০, ১৫৮৭, ১৬০৩, ১৬১১; ইবনু মাজাহ ১১৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৪/৩৩৫।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৫. অধ্যায়ঃ

যুবায়র (রাঃ)-এর সম্মান

১২২

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَوْمَ قُرَيْظَةَ ‏”‏ مَنْ يَأْتِينَا بِخَبَرِ الْقَوْمِ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ الزُّبَيْرُ أَنَا ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ مَنْ يَأْتِينَا بِخَبَرِ الْقَوْمِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ الزُّبَيْرُ أَنَا ‏.‏ ثَلاَثًا فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏”‏ لِكُلِّ نَبِيٍّ حَوَارِيٌّ وَإِنَّ حَوَارِيَّ الزُّبَيْرُ ‏”‏ ‏.‏

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, বনূ কুরায়যার যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কে আমাদের নিকট (কাফির) সম্প্রদায়ের তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে আসবে? যুবয়র (রাঃ) বলেন, আমি। তিনি পুনরায় বলেন, কে আমাদের নিকট (কাফির) সম্প্রদায়ের তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে আসবে? যুবয়র (রাঃ) বলেন, আমি। এভাবে তিনবার এ কথার পুনরাবৃত্তি হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, প্রত্যেক নাবীর হাওয়ারী (জানবাজ সহচর) ছিল, আমার হাওয়ারী হলো যুবায়র। [১২০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১২০] বুখারী ২৮৪৬, মুসলিম ২৪১৫, তিরমিযী ৩৭৪৫, আহমাদ ১৩৮৮৫, ১৩৯৬৫, ১৪২২৩, ১৪৫১৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১২৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ لَقَدْ جَمَعَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَبَوَيْهِ يَوْمَ أُحُدٍ ‏.‏

যুবায়র (ইবনুল আওওয়াম) (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহূদের যুদ্ধের দিন তাঁর পিতামাতাকে আমার জন্য একত্র (উল্লেখ) করেন। [১২১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১২১] বুখারী ৩৭২০, মুসলিম ২৪১৬, তিরমিযী ৩৭৪৩, আহমাদ ১৪১১, ১৪২৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১২৪

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَهَدِيَّةُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَتْ لِي عَائِشَةُ يَا عُرْوَةُ كَانَ أَبَوَاكَ مِنَ الَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِلَّهِ وَالرَّسُولِ مِنْ بَعْدِ مَا أَصَابَهُمُ الْقَرْحُ أَبُو بَكْرٍ وَالزُّبَيْرُ ‏.‏

হিসাম বিন উরওয়াহ, তার পিতা (উরওয়াহ ইবনুয-যুবায়র) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আয়িশাহ (রাঃ), আমাকে বললেন, হে উরওয়াহ! তোমরা দু’জন পিতৃপুরুষ সেই লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদের সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল হয়েছে (অনুবাদ): “যারা ক্ষত-বিক্ষত হওয়ার পরও আল্লাহ ও তার রসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছে” (সূরাহ আল ইমরানঃ ১৭২)। আবূ বাকর ও যুবায়র (রাঃ)। [১২২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১২২] বুখারী ৪০৭৭, মুসলিম ২৪১৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী হাদীইয়্যাহ বিন আবদুল ওয়াহহাব সম্পর্কে আবু বাকর বিন আবু আসিম ও ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি সিকাহ তবে ইবনু হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্র তিনি তার ব্যাপারে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৬. অধ্যায়ঃ

তালহাহ বিন উবাইদুল্লাহ (রাঃ)-এর সম্মান

১২৫

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَوْدِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الصَّلْتُ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو نَضْرَةَ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ طَلْحَةَ، مَرَّ عَلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏ “‏ شَهِيدٌ يَمْشِي عَلَى وَجْهِ الأَرْضِ ‏”‏ ‏.‏

জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তালহাহ (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে তিনি বলেন, একজন শহীদ যমীনের বুকে বিচরন করেছে। [১২৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১২৩] তিরমিযী ৩৭৩৯ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ১২৬। উক্ত হাদিসের রাবী সালত বিন দীনার সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য এবং মানুষেরা তার হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইমাম বুখারী বলেন তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। ইয়া’কুব বিন সুফইয়ান ও আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি দুর্বল। হাদিসটির ৭৪ টি শাহিদ রয়েছে তন্মধ্যে তিরমিযিতে ৫ টি ইবনু মাজায় ৩ টি ও বাকীগুলো অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত রয়েছে।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১২৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الأَزْهَرِ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، قَالَ نَظَرَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِلَى طَلْحَةَ فَقَالَ ‏ “‏ هَذَا مِمَّنْ قَضَى نَحْبَهُ ‏”‏ ‏.‏

মুআবিয়াহ বিন আবূ সুফাইয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তালহা (রাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে বলেন, যারা নিজেদের মানৎ পূর্ণ করেছে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত। [১২৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১২৪] তিরমিযী ৩২০২ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ১২৫। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আমর বিন উসমান সম্পর্কে আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। ইবনু আদী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায়। ইমাম নাসাঈ বলেন তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আল উকাইলী বলেন, তিনি দুর্বল। আল আযদী বলেন তার হাদিস দুর্বল। ২. ইসহাক বিন ইয়াহইয়া বিন তালহাহ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনু মাদীনী বলেন মুনকারুল হাদীস ও তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইমাম বুখারী বলেন তিনি সত্যবাদী কিন্তু তিনি হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। হাদিসটির ৭৪ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে তন্মধ্যে তিরমিযিতে ৫ টি, ইবনু মাজায় ৩ টি ও বাকীগুলো অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত রয়েছে।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

১২৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا إِسْحَاقُ، عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ مُعَاوِيَةَ فَقَالَ أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ “‏ طَلْحَةُ مِمَّنْ قَضَى نَحْبَهُ ‏”‏ ‏.‏

মূসা বিন তালহা থেকে বর্ণিতঃ

আমরা মুআবিয়া (রাঃ)-এর নিকটে উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যারা নিজেদের মানৎ পূর্ণ করেছে, তালহাহ তাদের অন্তর্ভুক্ত। [১২৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১২৫] তিরমিযী ৩২০২ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী ইসহাক (বিন ইয়াহইয়া) সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার থেকে আমরা কেউ হাদিস বর্ণনা করি নি। আলী ইবনু মাদীনী বলেন মুনকারুল হাদীস ও তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য।ইমাম বুখারী বলেন তিনি সত্যবাদী কিন্তু তিনি হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। হাদিসটির ৭৪ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে তন্মধ্যে তিরমিযিতে ৫ টি, ইবনু মাজায় ৩ টি ও বাকীগুলো অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত রয়েছে।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

১২৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، قَالَ رَأَيْتُ يَدَ طَلْحَةَ شَلاَّءَ وَقَى بِهَا رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَوْمَ أُحُدٍ ‏.‏

কায়স (বিন আবূ হাসিম) থেকে বর্ণিতঃ

আমি তালহাহহ (রাঃ)-এর কর্তিত হাত দেখেছি, যা দ্বারা তিনি উহূদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর (প্রতি আক্রমন) প্রতিহত করেছিলেন। [১২৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১২৬] বুখারী ৩৭২৪, আহমাদ ১৩৮৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৭. অধ্যায়ঃ

সা‘দ বিন আবী ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর সম্মান

১২৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ جَمَعَ أَبَوَيْهِ لأَحَدٍ غَيْرِ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ فَإِنَّهُ قَالَ لَهُ يَوْمَ أُحُدٍ ‏ “‏ ارْمِ سَعْدُ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي ‏”‏ ‏.‏

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সা‘দ বিন মালিক ব্যতীত অপর কারো জন্য তার পিতা-মাতাকে একত্রে উল্লেখ করতে দেখিনি। তিনি উহূদের যুদ্ধ চলাকালে তাকে বললেন, হে সা’দ! তীর নিক্ষেপ করো, আমার পিতা তোমার জন্য উৎসর্গিত হোক। [১২৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১২৭] বুখারী ২৯০৫ মুসলিম ২৪১১, তিরমিযী ২৮২৮-২৯, ২৭৫৩, ৩৭৫৫; আহমাদ ৭১১, ১০২০, ১১৫১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৩০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، قَالَ سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، يَقُولُ لَقَدْ جَمَعَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَوْمَ أُحُدٍ أَبَوَيْهِ فَقَالَ ‏ “‏ ارْمِ سَعْدُ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي ‏”‏ ‏.‏

সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি সা‘দ ইবনুল আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহূদের দিন যুদ্ধ চলাকালে আমার জন্য তাঁর পিতা-মাতাকে একত্র করেছেন। তিনি বলেন, হে সা‘দ! তীর নিক্ষেপ করো, আমার পিতা-মাতা তোমার জন্য উৎসর্গিত হোক। [১২৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১২৮] বুখারী ৩৭২৫, মুসলিম ২৪১২, তিরমিযী ২৮৩০, ৩৭৫৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী, ইবনু আবু শায়বাহ, আমর ইবনুল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৩১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، وَخَالِي، يَعْلَى وَوَكِيعٌ عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، قَالَ سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، يَقُولُ إِنِّي لأَوَّلُ الْعَرَبِ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ‏.‏

কায়স (বিন আবূ হাযিম) থেকে বর্ণিতঃ

আমি সা‘দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) বলতে শুনেছিঃ আমি আল্লাহর রাস্তার তীর বর্ষণকারী প্রথম আরব। [১২৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১২৯] বুখারী ৩৭২৮, ৬৪৫৩, মুসলিম ২৯৬৬, তিরমিযী ২৩৬৫-৬৬, আহমাদ ১৫৭০, ১৬২১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৩২

حَدَّثَنَا مَسْرُوقُ بْنُ الْمَرْزُبَانِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ هَاشِمِ بْنِ هَاشِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، يَقُولُ قَالَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ مَا أَسْلَمَ أَحَدٌ فِي الْيَوْمِ الَّذِي أَسْلَمْتُ فِيهِ وَلَقَدْ مَكَثْتُ سَبْعَةَ أَيَّامٍ وَإِنِّي لَثُلُثُ الإِسْلاَمِ ‏.‏

সা‘দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যেদিন আমি ইসলাম গ্রহণ করি, সেদিন আর কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। কিন্তু আমি আমার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি সাত দিন যাবৎ গোপন রাখি। আমি ইসলাম গ্রহণকারী তৃতীয় ব্যক্তি। [১৩০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৩০] বুখারী ৩৭২৬-২৭, ৩৭৫৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৮. অধ্যায়ঃ

জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবা (রাঃ)-দের সম্মান

১৩৩

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْمُثَنَّى أَبُو الْمُثَنَّى النَّخَعِيُّ، عَنْ جَدِّهِ، رِيَاحِ بْنِ الْحَارِثِ سَمِعَ جَدَّهُ، سَعِيدَ بْنَ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَاشِرَ عَشَرَةٍ فَقَالَ ‏ “‏ أَبُو بَكْرٍ فِي الْجَنَّةِ وَعُمَرُ فِي الْجَنَّةِ وَعُثْمَانُ فِي الْجَنَّةِ وَعَلِيٌّ فِي الْجَنَّةِ وَطَلْحَةُ فِي الْجَنَّةِ وَالزُّبَيْرُ فِي الْجَنَّةِ وَسَعْدٌ فِي الْجَنَّةِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ فِي الْجَنَّةِ ‏”‏ ‏.‏ فَقِيلَ لَهُ مَنِ التَّاسِعُ قَالَ أَنَا ‏.‏

সাঈদ বিন যায়দ বিন আমর বিন নুফাইল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দশ ব্যক্তির মধ্যে দশম জন। তিনি বলেন, আবূ বাকর জান্নাতী, উমার জান্নাতী, উসমান জান্নাতী, আলী জান্নাতী, তালহাহহ্‌ জান্নাতী, যুবায়র জান্নাতী, সা‘দ জান্নাতী ও আবদুর রহমান বিন আওফ জান্নাতী। সাঈদ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, নবম ব্যক্তি কে? তিনি বলেন, আমি। [১৩১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৩১] তিরমিযী ৩৭৪৮ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৩৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يَسَافٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ظَالِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ أَشْهَدُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنِّي سَمِعْتُهُ يَقُولُ ‏ “‏ اثْبُتْ حِرَاءُ فَمَا عَلَيْكَ إِلاَّ نَبِيٌّ أَوْ صِدِّيقٌ أَوْ شَهِيدٌ ‏”‏ ‏.‏ وَعَدَّهُمْ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ وَعَلِيٌّ وَطَلْحَةُ وَالزُّبَيْرُ وَسَعْدٌ وَابْنُ عَوْفٍ وَسَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ ‏.‏

সাঈদ বিন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে সাক্ষ্য দেই যে, আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ হে হেরা (পর্বত)! স্থির হও। কেননা তোমার উপর একজন নবী, একজন পরম সত্যবাদী ও একজন শহীদ রয়েছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নাম ধরে গণনা করেনঃ আবূ বাকর, উমার, উসমান, আলী, তালহাহহ, যুবায়র, সা‘দ, বিন আওফ ও সাঈদ বিন যায়দ। [১৩২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৩২] তিরমিযী ৩৭৫৭, আবূ দাঊদ ৪৬৪৮, আহমাদ ১৬৩৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৮৭৫। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন যালীম সম্পর্কে ইবনু হিব্বান ও আল আজালী বলেন, তিনি সিকাহ ইমাম বুখারী তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু আদী ও আল-আকালী তাকে দুর্বল বলেছেন।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৯. অধ্যায়ঃ

আবূ উবাইদাহ বিন জাররাহ (রাঃ)-এর সম্মান

১৩৫

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، جَمِيعًا عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ لأَهْلِ نَجْرَانَ ‏ “‏ سَأَبْعَثُ مَعَكُمْ رَجُلاً أَمِينًا حَقَّ أَمِينٍ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَتَشَوَّفَ لَهَا النَّاسُ فَبَعَثَ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ ‏.‏

হুযায়ফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাজরানবাসীদের বলেন, আমি অচিরেই তোমাদের সাথে একজন আমানতদার (বিশ্বস্ত) লোক পাঠাচ্ছি, যে সত্যিকারে আমানতদার (বিশ্বস্ত)। (রাবী বলেন), লোকেরা এই মর্যাদা লাভের আকাঙ্ক্ষা করছিল। অতঃপর তিনি আবূ উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ (রাঃ)-কে পাঠান। [১৩৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৩৩] বুখারী ৩৭৪৫, মুসলিম ২৪২০, তিরমিযী ৩৭৯৬, আহমাদ ২২৭৬১, ২২৮৬৮, ২২৮৮৮, ২২৮৯৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৩৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ لأَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ ‏ “‏ هَذَا أَمِينُ هَذِهِ الأُمَّةِ ‏”‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ উবায়দাহ ইবনুল জাররা (রাঃ)-কে বললেনঃ এ ব্যক্তি হলো এ উম্মাতেরর আমানতদার (পরম বিশ্বস্ত ব্যক্তি)। [১৩৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৩৪] আহমাদ ৩৯২০ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২০. অধ্যায়ঃ

আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসঊদ (রাঃ)- এর সম্মান

১৩৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ لَوْ كُنْتُ مُسْتَخْلِفًا أَحَدًا عَنْ غَيْرِ مَشُورَةٍ لاَسْتَخْلَفْتُ ابْنَ أُمِّ عَبْدٍ ‏”‏ ‏.‏

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি যদি পরামর্শ না করেই কাউকে খলীফা নিযুক্ত করতাম, তাহলে বিন উম্মে আব্‌দকেই খলীফা নিযুক্ত করতাম। [১৩৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৩৫] তিরমিযী ৩৮০৮, আহমাদ ৫৬৭, ৫৪৮, ৫৫৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬২২২, যঈফাহ ২৩২৭। উক্ত হাদিসের রাবী হারিস (আবদুল্লাহ) সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে সিকাহ বললেও আলী ইবনুল মাদীনী তাকে মিথ্যুক বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার থেকে দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১৩৮

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، ‏.‏ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، وَعُمَرَ، بَشَّرَاهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَقْرَأَ الْقُرْآنَ غَضًّا كَمَا أُنْزِلَ فَلْيَقْرَأْهُ عَلَى قِرَاءَةِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ ‏”‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আবু বাক্‌র ও উমার (রাঃ) তাকে সুসংবাদ দেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন মাজীদ উত্তমরূপে তিলাওয়াত করতে চায়, যেভাবে তা নাযিল হয়েছে, সে যেন ইবনু উম্মে আবদ-এর পাঠ মোতাবেক তিলাওয়াত করে। [১৩৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৩৬] আহমাদ ৩৬, ১৭৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ২৩০১।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৩৯

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِذْنُكَ عَلَىَّ أَنْ تَرْفَعَ الْحِجَابَ وَأَنْ تَسْمَعَ سِوَادِي حَتَّى أَنْهَاكَ ‏”‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তোমার জন্য পর্দা (বাধা) তুলে নেয়া হয়েছে। তাই তুমি আমার নিকট এসে আমার গোপন কথা শুনতে পারো, যাবত না আমি তোমাকে নিষেধ করি। [১৩৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৩৭] মুসলিম ২১৬৯, আহমাদ ৩৬৭৫, ৩৭২৪, ৩৮২৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ১৪২৭।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২১. অধ্যায়ঃ

আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ)-এর সম্মান

১৪০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي سَبْرَةَ النَّخَعِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، قَالَ كُنَّا نَلْقَى النَّفَرَ مِنْ قُرَيْشٍ وَهُمْ يَتَحَدَّثُونَ فَيَقْطَعُونَ حَدِيثَهُمْ فَذَكَرْنَا ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏ “‏ مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَتَحَدَّثُونَ فَإِذَا رَأَوُا الرَّجُلَ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي قَطَعُوا حَدِيثَهُمْ وَاللَّهِ لاَ يَدْخُلُ قَلْبَ رَجُلٍ الإِيمَانُ حَتَّى يُحِبَّهُمْ لِلَّهِ وَلِقَرَابَتِهِمْ مِنِّي ‏”‏ ‏.‏

আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমরা কুরায়শ গোত্রের লোকেদের সমাবেশে তাদের পারস্পরিক আলোচনাকালে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করলে তারা তাদের আলোচনা বন্ধ করে দিত। আমরা বিষয়টি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেন, লোকেদের কী হলো যে, তাদের পারস্পারিক আলোচনাকালে আমার আহ্‌লে বাইতের কোন লোককে দেখলে তারা তাদের কথাবার্তা বন্ধ করে দেয়? আল্লাহ্‌র শপথ! কোন ব্যক্তির অন্তরে ঈমান প্রবেশ করতে পারে না যতক্ষণ না সে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য এবং আমার সাথে তাদের আত্নীয় সম্পর্কের কারণে তাদেরকে ভালোবাসবে। [১৩৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৩৮] আহমাদ ১৭৭৫ তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: যঈফা ৪৪৩০ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন ফুদায়ল সম্পর্কে ইবনু মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন তিনি সত্যবাদী। ইমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন, তিনি শিয়া মতাবলম্বী।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১৪১

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الضَّحَّاكِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِنَّ اللَّهَ اتَّخَذَنِي خَلِيلاً كَمَا اتَّخَذَ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلاً فَمَنْزِلِي وَمَنْزِلُ إِبْرَاهِيمَ فِي الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تِجَاهَيْنِ وَالْعَبَّاسُ بَيْنَنَا مُؤْمِنٌ بَيْنَ خَلِيلَيْنِ ‏”‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ বিন আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ্‌ তাআলা আমাকে প্রিয় বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন, যেমন ইবরাহীম (আঃ)-কে তিনি বন্ধুরূপে গ্রহন করেছিলেন। কিয়ামাতের দিন জান্নাতে আমি ও ইবরাহীম (আঃ) সামনাসামনি আসনে উপবিষ্ট থাকবো এবং আব্বাস (রাঃ) আমাদের দু’জনের মাঝে একজন মু’মিন হিসাবে অবস্থান করবেন। [১৩৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৩৯] মউযূ। তাখরীজ আলবানী: জামি সগীর ১৫৩০, ১৫৩১, ২৪৪৫, ২৭৪৫; যঈফা ১৬০৫, ৩০৩৪। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আব্দুল ওয়াহহাব বিন দাহহাক সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, তার নিকট আশ্চর্য ধরনের হাদিস সমূহ পাওয়া যায়। আবু যুরআহ বলেন তিনি হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেছেন। সালিহ জাযারাহ বলেন, মুনকারুল হাদিস অন্যত্র বলেন, তিনি মিথ্যুক। ইমাম নাসাঈ বলেন তিনি সিকাহ নন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। মুহাম্মাদ বিন আওফ বলেন তিনি একাধিক হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেছেন। ইবনু আদী বলেন তার কিছু হাদিসের ব্যাপারে অনুসরণ করা যাবে না।

২. ইসমাঈল বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, আহলে শাম থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী, ইবনু আবু শায়বাহ, আমর ইবনুল ফাল্লাস ও দুহায়ম বলেন, শাম শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় তিনি সিকাহ কিন্তু অন্য শহর থেকে হাদিস বর্ণনায় দুর্বল।

হাদিসের মানঃ জাল হাদিস

  •  সরাসরি

২২. অধ্যায়ঃ

হাসান ও হুসায়ন (রাঃ)-এর সম্মান

১৪২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ لِلْحَسَنِ ‏ “‏ اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ فَأَحِبَّهُ وَأَحِبَّ مَنْ يُحِبُّهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَضَمَّهُ إِلَى صَدْرِهِ ‏.‏

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসান (রাঃ) সম্পর্কে বলেন, হে আল্লাহ্‌! আমি অবশ্যই হাসানকে ভালোবাসি। অতএব আপনিও তাকে ভালোবাসুন এবং যারা তাকে ভালোবাসে আপনি তাদেরও ভালোবাসুন। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি তাকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরেন। [১৪০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৪০] বুখারী ২১২২, ৫৮৮৪; মুসলিম ২৪২১, আহমাদ ৭৩৫০, ৮১৮০, ১০৫১০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ২৮০৭।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৪৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي عَوْفٍ أَبِي الْجَحَّافِ، – وَكَانَ مَرْضِيًّا – عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ مَنْ أَحَبَّ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ فَقَدْ أَحَبَّنِي وَمَنْ أَبْغَضَهُمَا فَقَدْ أَبْغَضَنِي ‏”‏ ‏.‏

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যাক্তি হাসান ও হুসায়নকে ভালোবাসে, সে আমাকেই ভালোবাসে এবং যে ব্যক্তি তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে সে আমার প্রতিই বিদ্বেষ পোষণ করে। [১৪১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৪১] আহমাদ ৭৮১৬, ১০৪৯১। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: আহকামুল জানায়িয ১০১। উক্ত হাদিসের রাবী দাউদ বিন আবু আউফ আবুল জাহহাফ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে সিকাহ বলেছেন। ইমাম নাসাঈ বলেন কোন সমস্যা নেই। ইবনু হিব্বান বলেন তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

১৪৪

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي رَاشِدٍ، أَنَّ يَعْلَى بْنَ مُرَّةَ، حَدَّثَهُمْ أَنَّهُمْ، خَرَجُوا مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِلَى طَعَامٍ دُعُوا لَهُ فَإِذَا حُسَيْنٌ يَلْعَبُ فِي السِّكَّةِ قَالَ فَتَقَدَّمَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَمَامَ الْقَوْمِ وَبَسَطَ يَدَيْهِ فَجَعَلَ الْغُلاَمُ يَفِرُّ هَا هُنَا وَهَا هُنَا وَيُضَاحِكُهُ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حَتَّى أَخَذَهُ فَجَعَلَ إِحْدَى يَدَيْهِ تَحْتَ ذَقَنِهِ وَالأُخْرَى فِي فَأْسِ رَأْسِهِ فَقَبَّلَهُ وَقَالَ ‏ “‏ حُسَيْنٌ مِنِّي وَأَنَا مِنْ حُسَيْنٍ أَحَبَّ اللَّهُ مَنْ أَحَبَّ حُسَيْنًا حُسَيْنٌ سِبْطٌ مِنَ الأَسْبَاطِ ‏”‏ ‏.‏ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ مِثْلَهُ ‏.‏

ইয়ালা বিন মু্‌র্‌রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে তাঁকে প্রদত্ত এক আহারের দাওয়াতে রওনা হন। তখন হুসায়ন (রাঃ) গলির মধ্যে খেলাধূলা করছিলেন। রাবী বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকেদের অগ্রভাগে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর দু’ হাত বিস্তার করে দিলেন। বালকটি এদিক ওদিক পালাতে থাকলো এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে হাসতে হাসতে ধরে ফেলেন। এরপর তিনি তাঁর এক হাত ছেলেটির চোয়ালের নিচে রাখলেন এবং অপর হাত তাঁর মাথার তালুতে রাখলেন, অতঃপর তাকে চুমা দিলেন এবং বললেনঃ হুসায়ন আমার থেকে এবং আমি হুসায়ন থেকে। যে ব্যক্তি হুসায়নকে ভালোবাসে, আল্লাহ্‌ তাআলা তাকে ভালোবাসেন। হুসায়ন আমার নাতিদের একজন।

 

১৪৪ (ক)। {[আলী বিন মুহাম্মদ] [ওয়াকী ] [সুফইয়ান (রাঃ)]} সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [১৪২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৪২] তিরমিযী ৩৭৭৫, আহমাদ ১৭১১১। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ১২১৮। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আসবাত বিন নাসর সম্পর্কে মুসা বিন হারুন বলেন, তেমন কোন সমস্যা নেই। ইমাম বুখারী বলেন তিনি সত্যবাদী। ২. সুদ্দী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাইদ আল কাত্তান বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল ও আল আজালী তাকে সিকাহ বললেও ইবনু আদী বলেন, হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন বলেন তার হাদিস দুর্বল। ৩. সুবায়হ সম্পর্কে অনেকে তাকে অপরিচিত বললেও ইমাম যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

১৪৫

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، وَعَلِيُّ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ نَصْرٍ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ صُبَيْحٍ، مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لِعَلِيٍّ وَفَاطِمَةَ وَالْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ ‏ “‏ أَنَا سِلْمٌ لِمَنْ سَالَمْتُمْ وَحَرْبٌ لِمَنْ حَارَبْتُمْ ‏”‏ ‏.‏

যায়দ বিন আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলী, ফাতিমাহ, হাসান ও হুসায়ন (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বলেন, যারা তোমাদের শান্তি ও স্বস্তিতে রাখবে, আমিও তাদের শান্তিতে রাখবো এবং যারা তোমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবে, আমিও তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবো। [১৪৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৪৩]তিরমিযী ৩৮৭০ তাহক্বীক্ব আলবানী: দুর্বল। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬১৪৫, যঈফাহ ৬০২৮। উক্ত হাদিসের রাবী ১. আসবাত বিন নাসর সম্পর্কে মুসা বিন হারুন বলেন, তেমন কোন সমস্যা নেই। ইমাম বুখারী বলেন তিনি সত্যবাদী। ২. সুদ্দী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাইদ আল কাত্তান বলেন, কোন সমস্যা নেই। আহমাদ বিন হাম্বল ও আল আজালী তাকে সিকাহ বললেও ইবনু আদী বলেন, হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন বলেন তার হাদিস দুর্বল। ৩. সুবায়হ সম্পর্কে অনেকে তাকে অপরিচিত বললেও ইমাম যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

২৩. অধ্যায়ঃ

আম্মার বিন ইয়াসির (রাঃ)-এর সম্মান

১৪৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هَانِئِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَاسْتَأْذَنَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ ائْذَنُوا لَهُ مَرْحَبًا بِالطَّيِّبِ الْمُطَيَّبِ ‏”‏ ‏.‏

আলী বিন আবু তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম। আম্মার বিন ইয়াসির (রাঃ) প্রবেশানুমতি চাইলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তাকে অনুমতি দাও। এই পাক ও পবিত্র ব্যক্তিকে স্বাগতম। [১৪৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৪৪] তিরমিযী ৩৭৯৮, আহমাদ ৭৮১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬২২৬, সহীহা ২/৪৬৬। উক্ত হাদিসের রাবী হানী বিন হানী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও ইমাম শাফঈ বলেন তার পরিচয় জানা যায়নি। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি অপরিচিত। ইমাম নাসাঈ বলেন তার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৪৭

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَثَّامُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هَانِئِ بْنِ هَانِئٍ، قَالَ دَخَلَ عَمَّارٌ عَلَى عَلِيٍّ فَقَالَ مَرْحَبًا بِالطَّيِّبِ الْمُطَيَّبِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ “‏ مُلِئَ عَمَّارٌ إِيمَانًا إِلَى مُشَاشِهِ ‏”‏ ‏.‏

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

(হানী) বলেন, আম্মার (রাঃ) আলী (রাঃ) এর নিকট প্রবেশ করলে তিনি বলেন, এই পাক-পবিত্র ব্যক্তিকে স্বাগতম। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ আম্মার এমন একটি পাত্র যার গলা পর্যন্ত ঈমানে ভরপুর। [১৪৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৪৫] তিরমিযী ৩৭৯৮, আহমাদ ৭৮১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহা ৮০৭। উক্ত হাদিসের রাবী হানী বিন হানী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও ইমাম শাফঈ বলেন তার পরিচয় জানা যায়নি। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি অপরিচিত। ইমাম নাসাঈ বলেন তার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৪৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ جَمِيعًا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ سِيَاهٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ عَمَّارٌ مَا عُرِضَ عَلَيْهِ أَمْرَانِ إِلاَّ اخْتَارَ الأَرْشَدَ مِنْهُمَا ‏”‏ ‏.‏

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আম্মার এমন ব্যক্তি, যাকে দু’টি বিষয়ের মধ্যে এখতিয়ায় দেয়া হলে সে অধিকতর হিদায়াতপূর্ণ বিষয়টি গ্রহণ করে। [১৪৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৪৬] তিরমিযী ৩৭৯৯ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৮৩৫, মিশকাত ৬২২৭।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৪. অধ্যায়ঃ

সালমান, আবু যার ও মিকদাদ (রাঃ)-এর সম্মান

১৪৯

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي رَبِيعَةَ الإِيَادِيِّ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏”‏ إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي بِحُبِّ أَرْبَعَةٍ وَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ يُحِبُّهُمْ ‏”‏ ‏.‏ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ هُمْ قَالَ ‏”‏ عَلِيٌّ مِنْهُمْ ‏”‏ ‏.‏ يَقُولُ ذَلِكَ ثَلاَثًا ‏”‏ وَأَبُو ذَرٍّ وَسَلْمَانُ وَالْمِقْدَادُ ‏”‏ ‏.

বুরাইদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ্‌ তা’আলা চার ব্যক্তিকে ভালোবাসতে আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনিও তাদের ভালোবাসেন। বলা হলো, হে আল্লাহ্‌র রসূল! তারা কারা? তিনি বলেন, আলী তাদের অন্তর্ভুক্ত। এ কথাটি তিনি তিনবার বলেন। (অপর তিনজন) আবু যার, সালমান ও মিকদাদ। [১৪৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৪৭] তিরমিযী ৩৭১৮, আহমাদ ২২৪৫৯, ২২৫০৫; যঈফাহ ১৫৪৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: দুর্বল। তাখরীজ আলবানী: জামি সগীর ১৫৬৬, তিরমিযী ৩৭১৮ যঈফ, মিশকাত ৬২৪৯, যঈফা ৪/১৫৪৯, ৭/৩১২৮। উক্ত হাদিসের রাবী ১. ইসমাইল বিন মুসা সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী, আবু হাতীম আর-রাযী ও মুতায়্যান বলেন, তিনি সত্যবাদী। ২. শারীক সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন তিনি সত্যবাদী কিন্তু যখন তার হাদিস সিকাহ রাবীর বিপরীত হয় তখন তিনি তার মত পরিবর্তন করে নেন এটা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আবু হাতীম আর-রাযী বলেন তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, আমি তাকে হাদিসে সংমিশ্রণ করতে দেখেছি। ৩. আবু রাবীআহ সম্পর্কে ইমাম যাহাবী তাকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১৫০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ كَانَ أَوَّلَ مَنْ أَظْهَرَ إِسْلاَمَهُ سَبْعَةٌ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَبُو بَكْرٍ وَعَمَّارٌ وَأُمُّهُ سُمَيَّةُ وَصُهَيْبٌ وَبِلاَلٌ وَالْمِقْدَادُ فَأَمَّا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَمَنَعَهُ اللَّهُ بِعَمِّهِ أَبِي طَالِبٍ وَأَمَّا أَبُو بَكْرٍ فَمَنَعَهُ اللَّهُ بِقَوْمِهِ وَأَمَّا سَائِرُهُمْ فَأَخَذَهُمُ الْمُشْرِكُونَ وَأَلْبَسُوهُمْ أَدْرَاعَ الْحَدِيدِ وَصَهَرُوهُمْ فِي الشَّمْسِ فَمَا مِنْهُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ وَقَدْ وَاتَاهُمْ عَلَى مَا أَرَادُوا إِلاَّ بِلاَلاً فَإِنَّهُ قَدْ هَانَتْ عَلَيْهِ نَفْسُهُ فِي اللَّهِ وَهَانَ عَلَى قَوْمِهِ فَأَخَذُوهُ فَأَعْطَوْهُ الْوِلْدَانَ فَجَعَلُوا يَطُوفُونَ بِهِ فِي شِعَابِ مَكَّةَ وَهُوَ يَقُولُ أَحَدٌ أَحَدٌ ‏.‏

আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

সর্বপ্রথম সাত ব্যক্তি তাদের ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করেন। তারা হলেনঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবু বাক্‌র (রাঃ), আম্মার (রাঃ), তাঁর মাতা সুমাইয়্যাহ (রাঃ), সুহায়ব (রাঃ), বিলাল (রাঃ) ও মিকদাদ (রাঃ)। অতঃপর আল্লাহ্‌ তা’আলা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চাচা আবু তালিবের মাধ্যমে তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ্‌ তা’আলা আবু বাকর (রাঃ)-এর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন তার স্বগোত্রীয়দের দ্বারা। অবশিষ্ট সকলকে মুশরিকরা আটক করে। তারা তাদেরকে লৌহবর্ম পরিধান করিয়ে প্রখর রোদের মাঝে চিৎ করে শুইয়ে দিত। তাদের মাঝে এমন কেউ ছিল না, যাকে দিয়ে তারা তাদের ইচ্ছানুসারে স্বীকারোক্তি করায়নি। কেবল বিলাল (রাঃ) নিজেকে আল্লাহ্‌র রাস্তায় অপমানিত করেন এবং লোকেরাও তাকে অপমানিত করে। তারা তাকে আটক করে বালকদের হাতে তুলে দেয়। তারা তাকে নিয়ে মাক্কাহর অলিতে-গলিতে ঘুরে বেড়াতো এবং তিনি শুধু আহাদ আহাদ (আল্লাহ্‌ এক, আল্লাহ্‌ এক) বলতেন। [১৪৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৪৮] আহমাদ ৩৮২২ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী আসিম বিন আবুন নাজদ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সা’দ বলেন, তিনি সিকাহ তবে অধিক ভুল করেন। ইয়া’কুব বিন সুফইয়ান তাকে সিকাহ বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

১৫১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ لَقَدْ أُوذِيتُ فِي اللَّهِ وَمَا يُؤْذَى أَحَدٌ وَلَقَدْ أُخِفْتُ فِي اللَّهِ وَمَا يُخَافُ أَحَدٌ وَلَقَدْ أَتَتْ عَلَىَّ ثَالِثَةٌ وَمَا لِيَ وَلِبِلاَلٍ طَعَامٌ يَأْكُلُهُ ذُو كَبِدٍ إِلاَّ مَا وَارَى إِبِطُ بِلاَلٍ ‏”‏ ‏.‏

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, অবশ্যই আল্লাহ্‌র পথে আমাকে যতটা নির্যাতন করা হয়েছে, অপর কাউকে সেরূপ নির্যাতন করা হয়নি এবং আমাকে আল্লাহ্‌র পথে যতটা ভীতসন্ত্রস্ত করা হয়েছে, অপর কাউকে সেরূপ ভীতসন্ত্রস্ত করা হয়নি। আমার ও বিলালের উপর দিয়ে তিন তিনটি রাত এমনভাবে অতিবাহিত হয়েছে যে, বিলালের বগলের নিচে দাবিয়ে রাখা সামান্য খাদ্য ছাড়া এমন কোন খাদ্য ছিল না যা কোন প্রাণী খেতে পারে। [১৪৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৪৯] তিরমিযী ২৪৭২ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৫২৫৩, সহীহাহ ২২২২।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৫. অধ্যায়ঃ

বিলাল (রাঃ)-এর সম্মান

১৫২

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ حَمْزَةَ، عَنْ سَالِمٍ، أَنَّ شَاعِرًا، مَدَحَ بِلاَلَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ بِلاَلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ خَيْرُ بِلاَلٍ ‏.‏ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ كَذَبْتَ لاَ بَلْ بِلاَلُ رَسُولِ اللَّهِ خَيْرُ بِلاَلٍ ‏.‏

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

(সালিম) বলেন, জনৈক কবি বিলাল বিন আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর প্রশংসা করে বলেন, বিলাল বিন আবদুল্লাহ হলেন সর্বোত্তম বিলাল। তখন ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, তুমি মিথ্যা বলছো। না, বরং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিলালই হলেন সর্বোত্তম বিলাল। [১৫০]

  •  
  •  
  •  
  •  

নাই তাহক্বীক্ব আলবানী: দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবী উমার বিন হামযাহ সম্পর্কে ইবনু হিব্বান সিকাহ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইমাম নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু আদী তার থেকে হাদিস গ্রহন করেছেন।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

২৬. অধ্যায়ঃ

খাব্‌বাব (রাঃ)-এর সম্মান

১৫৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي لَيْلَى الْكِنْدِيِّ، قَالَ جَاءَ خَبَّابٌ إِلَى عُمَرَ فَقَالَ ادْنُ فَمَا أَحَدٌ أَحَقَّ بِهَذَا الْمَجْلِسِ مِنْكَ إِلاَّ عَمَّارٌ ‏.‏ فَجَعَلَ خَبَّابٌ يُرِيهِ آثَارًا بِظَهْرِهِ مِمَّا عَذَّبَهُ الْمُشْرِكُونَ ‏.‏

আবু লায়লা আল-কিন্দী (সালামাহ বিন মুআবিয়াহ) থেকে বর্ণিতঃ

খাব্বাব (ইবনুল আরাত (রাঃ)) উমার (রাঃ)-এর নিকট এলে তিনি বলেন, কাছে এসো। তোমার চেয়ে উপযুক্ত এই মজলিসে যোগদানকারী আর কেউ নেই, আম্মার (রাঃ) ব্যতীত। খাব্বাব (রাঃ) তাঁর পিঠে মুশরিকদের বীভৎস শাস্তির দাগসমূহ তাকে দেখাতে লাগলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৫৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ أَرْحَمُ أُمَّتِي بِأُمَّتِي أَبُو بَكْرٍ وَأَشَدُّهُمْ فِي دِينِ اللَّهِ عُمَرُ وَأَصْدَقُهُمْ حَيَاءً عُثْمَانُ وَأَقْضَاهُمْ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَأَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ أُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ وَأَعْلَمُهُمْ بِالْحَلاَلِ وَالْحَرَامِ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَأَفْرَضُهُمْ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ أَلاَ وَإِنَّ لِكُلِّ أُمَّةٍ أَمِينًا وَأَمِينُ هَذِهِ الأُمَّةِ أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ ‏”‏ ‏.‏

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমার উম্মাতের মধ্যে আমার উম্মাতের প্রতি সর্বাপেক্ষা দয়ার্দ্র ব্যক্তি আবু বাক্‌র। তাদের মধ্যে আল্লাহ্‌র দ্বীনের ব্যাপারে সর্বাপেক্ষা কঠোর মনোভাবাপন্ন ব্যক্তি উমার। তাদের মধ্যে সর্বাধিক সত্যিকার লজ্জাশীল ব্যক্তি উসমান। তাদের মধ্যে সর্বাধিক বিচক্ষণ বিচারক আলী বিন আবু তালিব। তাদের মধ্যে আল্লাহ্‌র কিতাবের সর্বোত্তম পাঠকারী উবাই বিন কা’ব। তাদের মধ্যে হালাল ও হারাম সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত ব্যক্তি মু’আয বিন জাবাল। তাদের মধ্যে ফারায়িয (দায়ভাগ) সম্পর্কিত বিষয়ে সর্বাধিক জ্ঞানী যায়দ বিন সাবিত। শোন! প্রত্যেক উম্মাতের একজন আমীন (বিশ্বস্ত ব্যক্তি) থাকে। আর এ উম্মাতের আমীন হলো আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ। [১৫২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৫২] বুখারী ৩৭৪৪, মুসলিম ২৪১৯, তিরমিযী ৩৭৯০-৯১, আহমাদ ১১৮৫২, ১১৯৪৯, ১২০৭২, ১২৩৭৮, ১২৪৯৩, ১২৫৫৪, ১২৮০৫, ১৩১৫১, ১৩৫৭৮, ১৩৬৩৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ১২২৪।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৫৫

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ مِثْلَهُ عِنْدَ ابْنِ قُدَامَةَ غَيْرَ أَنَّهُ يَقُولُ فِي حَقِّ زَيْدٍ وَأَعْلَمُهُمْ بِالْفَرَائِضِ

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তবে এ সূত্রে আরো আছে যে, তিনি যায়দ বিন সাবিত (রাঃ) সম্পর্কে বলেন, তাদের মধ্যে তিনি ফারায়িদ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। [১৫৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৫৩] বুখারী ৩৭৪৪, মুসলিম ২৪১৯, তিরমিযী ৩৭৯০-৯১, আহমাদ ১১৮৫২, ১১৯৪৯, ১২০৭২, ১২৩৭৮, ১২৪৯৩, ১২৫৫৪, ১২৮০৫, ১৩১৫১, ১৩৫৭৮, ১৩৬৩৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৭. অধ্যায়ঃ

আবু যার (রাঃ)-এর সম্মান

১৫৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي حَرْبِ بْنِ أَبِي الأَسْوَدِ الدِّيلِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ “‏ مَا أَقَلَّتِ الْغَبْرَاءُ وَلاَ أَظَلَّتِ الْخَضْرَاءُ مِنْ رَجُلٍ أَصْدَقَ لَهْجَةً مِنْ أَبِي ذَرٍّ ‏”‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ বিন আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ বাচনিক সত্যবাদিতায় আবু যারের চেয়ে উত্তম কোন ব্যক্তিকে আসমান ছায়াদান করেনি এবং পৃথিবী তার বুকে ধারণ করেনি। [১৫৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৫৪] তিরমিযী ৩৮০১ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬২২৯, ৬২৩০, সইহাহ ২৩৪৩। উক্ত হাদিসের রাবী উসমান বিন উমায়র সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইবনু মাহদী তার হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস দুর্বল। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৮. অধ্যায়ঃ

সা‘দ বিন মুআয (রাঃ)-এর সম্মান

১৫৭

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ أُهْدِيَ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ سَرَقَةٌ مِنْ حَرِيرٍ فَجَعَلَ الْقَوْمُ يَتَدَاوَلُونَهَا بَيْنَهُمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏”‏ أَتَعْجَبُونَ مِنْ هَذَا ‏”‏ ‏.‏ فَقَالُوا لَهُ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَمَنَادِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنْ هَذَا ‏”‏ ‏.‏

আল-বারা’ বিন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এক টুকরা সাদা রেশমী কাপড় উপহার দেয়া হল। উপস্থিত লোকজন একের পর এক তা হাতে নিয়ে দেখতে লাগলো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা কি এটি দেখে অবাক হচ্ছো! তারা তাঁকে বলেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহ্‌র রসূল! তিনি বলেন সেই মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! জান্নাতে সা‘দ বিন মুআয-এর রুমাল এর চাইতেও উত্তম হবে। [১৫৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৫৫] বুখারী ৩২৪৯, মুসলিম ২৪৬৮, তিরমিযী ৩৮৪৭, আহমাদ ১৭০৭৩, ১৮১২২, ১৮২১০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৫৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ اهْتَزَّ عَرْشُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لِمَوْتِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ ‏”‏ ‏.‏

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সা‘দ বিন মুআয-এর মৃত্যুতে মহান আল্লাহ্‌র আরশ কেঁপে উঠেছিল। [১৫৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৫৬] বুখারী ৩৮০৩, মুসলিম ২৪৬৬, তিরমিযী ৩৮৪৮, আহমাদ ২৭৫১৯, ১৩৯৯১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়া ৩/১৬৬-১৬৭।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৯. অধ্যায়ঃ

জারীর বিন আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রাঃ)-এর সম্মান

১৫৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيِّ، قَالَ مَا حَجَبَنِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مُنْذُ أَسْلَمْتُ وَلاَ رَآنِي إِلاَّ تَبَسَّمَ فِي وَجْهِي وَلَقَدْ شَكَوْتُ إِلَيْهِ أَنِّي لاَ أَثْبُتُ عَلَى الْخَيْلِ فَضَرَبَ بِيَدِهِ فِي صَدْرِي فَقَالَ ‏ “‏ اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا ‏”‏ ‏.‏

জারীর বিন আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি ইসলাম গ্রহণের দিন থেকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ঘরে প্রবেশে আমাকে কখনো বাধা দেননি এবং তিনি যখনই আমাকে দেখেছেন আমার সামনে হেসে দিয়েছেন। আমি তাঁর নিকট অভিযোগ করি যে, আমি ঘোড়ার পিঠে স্থির হয়ে থাকতে পারি না। তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার বুকে মৃদু আঘাত করে বলেন, হে আল্লাহ্‌! তাকে (ঘোড়ার পিঠে) স্থির রাখো এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত বানিয়ে দাও। [১৫৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৫৭] বুখারী ৩০২০, মুসলিম ২৪৭৫/১-২, ২৪৭৬; তিরমিযী ৩৮২০-২১, আহমাদ ১৮৬৯২, ১৯৬৯৭, ১৮৭২৬, ১৮৭৬৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩০. অধ্যায়ঃ

বাদ্‌র যুদ্ধ অংশগ্রহণকারী

১৬০

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ جَدِّهِ، رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ جَاءَ جِبْرِيلُ – أَوْ مَلَكٌ – إِلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏ “‏ مَا تَعُدُّونَ مَنْ شَهِدَ بَدْرًا فِيكُمْ قَالُوا خِيَارَنَا ‏.‏ قَالَ كَذَلِكَ هُمْ عِنْدَنَا خِيَارُ الْمَلاَئِكَةِ ‏”‏ ‏.

রাফি‘ বিন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

জিবরীল (আঃ) অথবা একজন ফেরেশ্‌তা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলেন, আপনাদের মধ্যে যারা বদর যুদ্ধ অংশগ্রহণ করেছে আপনারা তাদের কেমন গণ্য করেন? তাঁরা বলেন, তারা আমাদের মধ্যে উত্তম লোক। ফেরেশ্‌তা বলেন, অনুরূপভাবে তারাও আমাদের মধ্যে উত্তম ফেরেশ্‌তা (যারা বদর যুদ্ধ অংশগ্রহণ করেছিল)। [১৫৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৫৮] আহমাদ ১৫৩৯৩ সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৬১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، جَمِيعًا عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ لاَ تَسُبُّوا أَصْحَابِي فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا أَدْرَكَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلاَ نَصِيفَهُ ‏”‏ ‏.‏

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা আমার সহাবীদের গালি দিও না। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের কেউ যদি উহূদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও দান-খয়রাত করে তবে তা তাদের কারো এক মুদ্দ বা অর্ধ মুদ্দ দান-খয়রাত করার সমান মর্যাদাসম্পন্নও হবে না। [১৫৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৫৯] মুসলিম ২৫৪০ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৬২

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ نُسَيْرِ بْنِ ذُعْلُوقٍ، قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَقُولُ لاَ تَسُبُّوا أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَلَمَقَامُ أَحَدِهِمْ سَاعَةً خَيْرٌ مِنْ عَمَلِ أَحَدِكُمْ عُمْرَهُ ‏.‏

নুসায়র বিন যু‘লূক থেকে বর্ণিতঃ

ইবনু উমার (রাঃ) বলতেন, তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহাবীদের গালি দিও না। অবশ্যই তাদের কারো এক মুহূর্তের সৎকাজ তোমাদের কারো সারা জীবনের সৎকাজের চেয়েও উত্তম।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাসান।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

৩১. অধ্যায়ঃ

আনসারদের ফাদীলাত

১৬৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ مَنْ أَحَبَّ الأَنْصَارَ أَحَبَّهُ اللَّهُ وَمَنْ أَبْغَضَ الأَنْصَارَ أَبْغَضَهُ اللَّهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ شُعْبَةُ قُلْتُ لِعَدِيٍّ أَسَمِعْتَهُ مِنَ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ إِيَّاىَ حَدَّثَ ‏.‏

আল-বারা’ বিন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আনসারদের ভালোবাসে, আল্লাহ্‌ তাকে ভালোবাসেন এবং যে ব্যক্তি আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, আল্লাহ্‌ তাআলা তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন। শু‘বাহ (রহঃ) বলেন, আমি আদী (রহঃ)-কে বললাম, আপনি কি এটি বারা’ বিন আযিব (রাঃ)-এর নিকট শুনেছেন? তিনি বলেন, অবশ্যই তিনি বর্ণনা করেছেন। [১৬১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৬১] বুখারী ৩৭৮৩, মুসলিম ৭৫, তিরমিযী ৩৯০০, আহমাদ ১৮০৩০, ১৮১০৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৯৯১, ১৬৭২, ১৯৭৫।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৬৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ عَبْدِ الْمُهَيْمِنِ بْنِ عَبَّاسِ بْنِ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ “‏ الأَنْصَارُ شِعَارٌ وَالنَّاسُ دِثَارٌ وَلَوْ أَنَّ النَّاسَ اسْتَقْبَلُوا وَادِيًا – أَوْ شِعْبًا – وَاسْتَقْبَلَتِ الأَنْصَارُ وَادِيًا لَسَلَكْتُ وَادِيَ الأَنْصَارِ وَلَوْلاَ الْهِجْرَةُ لَكُنْتُ امْرَأً مِنَ الأَنْصَارِ ‏”‏ ‏.‏

সাহল বিন সা‘দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আনসারগণ যেন দেহের আভরণ এবং অন্যরা তার উপরিভাগের (শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন) আভরণ। আনসারগণ যদি কোন গিরি সংকটে বা গিরিখাদে প্রবেশ করে এবং অন্য লোকেরা অন্য গিরিখাদে বা গিরি সংকটে প্রবেশ করে, তবে আমি আনসারদের গিরি সংকটেই যাবো। হিজরতের ঘটনা না ঘটলে আমি আনসারদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। [১৬২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৬২]সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ১৭৬৮। উক্ত হাদিসের রাবী আব্দুল মুহায়মিন ইবনু আব্বাস সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইমাম নাসাঈ বলেন তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইবনুল জুনায়দ বলেন, তার হাদিস দুর্বল। আস-সাজী বলেন তার নিকট তার পিতা ও দাদার সুত্রে একটি নুসখা রয়েছে, যাতে একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। ইবনুল বুরাকী তাকে দুর্বল বলেছেন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৬৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ رَحِمَ اللَّهُ الأَنْصَارَ وَأَبْنَاءَ الأَنْصَارِ وَأَبْنَاءَ أَبْنَاءِ الأَنْصَارِ ‏”‏ ‏.‏

আম্‌র বিন আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ্‌ তাআলা আনসারদের প্রতি দয়াপরবশ হোন, তাদের সন্তানদের প্রতি দয়াপরবশ হোন, তাদের সন্তানদের প্রতি দয়াপরবশ হোন এবং তাদের সন্তানদের সন্তানগণের প্রতিও দয়াপরবশ হোন। [১৬৩]

 

তাহকীক আলবানীঃ হাদীসের শব্দগুলো খুব দুর্বল। সহীহ শব্দে আছে (আরবী)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৬৩] হাদীসের শব্দগুলো খুব দুর্বল। সহীহ শব্দে আছে اللهم اغفر للأنصار ، ولأبناء الأنصار ، وأبناء أبناء الأنصار। তাখরীজ আলবানী: জামি সগীর ৩০৯৯, নাসাঈ ৩৬৮৮ হাঃ, মিশকাত ৬২১৪ সহীহ, যঈফা ৮/৩৬৪০, সহীহা ১/৬৩। উক্ত হাদিসের রাবী কাসীর বিন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আওফ সম্পর্কে ইমাম শাফিঈ বলেন, তিনি মিথ্যুকদের একজন অথবা মিথ্যায় একটি রুকন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন তার হাদিস দুর্বল। আবু যুরআহ আর রাযী বলেন, তার হাদিস নির্ভরযোগ্য নয়। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি মিথ্যুকদের একজন। উক্ত হাদিস শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।

হাদিসের মানঃ খুবই দুর্বল

  •  সরাসরি

৩২. অধ্যায়ঃ

ইবনু আব্বাস (রাঃ) –এর সম্মান

১৬৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ضَمَّنِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِلَيْهِ وَقَالَ ‏ “‏ اللَّهُمَّ عَلِّمْهُ الْحِكْمَةَ وَتَأْوِيلَ الْكِتَابِ ‏”‏ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তাঁর বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বললেনঃ হে আল্লাহ্‌! তাকে প্রজ্ঞা ও কুরআনের তাৎপর্য জ্ঞান দান করুন। [১৬৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৬৪] বুখারী ৭৫, ১৪৩; মুসলিম ২৪৭৭, তিরমিযী ৩৮২৪, আহমাদ ২৩৯৩, ২৪১৮, ২৮৭৪, ৩০১৪, ৩০২৪, ৩০৯২, ৩৩৫৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩৩. অধ্যায়ঃ

খারিজীর আলোচনা

১৬৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ وَذَكَرَ الْخَوَارِجَ فَقَالَ فِيهِمْ رَجُلٌ مُخْدَجُ الْيَدِ أَوْ مُودَنُ الْيَدِ أَوْ مُثْدَنُ الْيَدِ وَلَوْلاَ أَنْ تَبْطَرُوا لَحَدَّثْتُكُمْ بِمَا وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ يَقْتُلُونَهُمْ عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏ قُلْتُ أَنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْ مُحَمَّدٍ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ إِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ ‏.‏ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ‏.‏

আলী বিন আবু তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি খারিজীদের উল্লেখ করে বলেন, তাদের মাঝে খাটো হাতবিশিষ্ট এক ব্যক্তির উদ্ভব হবে। যদি তোমরা স্বেচ্ছায় সৎকাজ ছেড়ে না দিতে, তবে আমি তোমাদের নিকট সেই হাদীস বর্ণনা করতাম যাতে আল্লাহ্‌ তাআলা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যবানিতে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারীদের সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। অধস্তন রাবী উবায়দুল্লাহ্‌ (রহঃ) বলেন, আমি বললাম, আপনি কি এ কথা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট শুনেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, কাবার প্রভুর শপথ! তিনি তিনবার এ কথা বলেন। [১৬৫]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৬৫] মুসলিম ১০৬৬, আবূ দাঊদ ৪৭৬৩, আহমাদ ৬৭৪, ৭৩৭, ৮৫০, ৯০৬, ৯৮৫, ১১৯২, ১২২৮, ১২৫৮, ১৩৮১। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৬৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ زُرَارَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ يَخْرُجُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ أَحْدَاثُ الأَسْنَانِ سُفَهَاءُ الأَحْلاَمِ يَقُولُونَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ النَّاسِ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلاَمِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ فَمَنْ لَقِيَهُمْ فَلْيَقْتُلْهُمْ فَإِنَّ قَتْلَهُمْ أَجْرٌ عِنْدَ اللَّهِ لِمَنْ قَتَلَهُمْ ‏”‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, শেষ যমানায় ক্ষুদ্র দাঁতবিশিষ্ট ও স্থুলবুদ্ধিসম্পন্ন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে। তারা মানুষকে ভালো ভালো কথা বলবে, কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে এত দ্রুত বেগে খারিজ হয়ে যাবে, যেমন ধনুক থেকে তীর দ্রুত বেগে শিকারের দিকে ছুটে যায়। অতএব যে ব্যক্তি তাদের সাক্ষাৎ পাবে সে যেন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ্‌র নিকট তাদের জন্য তার বিনিময় রয়েছে। [১৬৬]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৬৬] তিরমিযী ২১৮৮, আহমাদ ৩৮২১, দারিমী ২০৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৬৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ قُلْتُ لأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ هَلْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَذْكُرُ فِي الْحَرُورِيَّةِ شَيْئًا فَقَالَ سَمِعْتُهُ يَذْكُرُ قَوْمًا يَتَعَبَّدُونَ ‏”‏ يَحْقِرُ أَحَدُكُمْ صَلاَتَهُ مَعَ صَلاَتِهِمْ وَصَوْمَهُ مَعَ صَوْمِهِمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ ‏”‏ ‏.‏ أَخَذَ سَهْمَهُ فَنَظَرَ فِي نَصْلِهِ فَلَمْ يَرَ شَيْئًا فَنَظَرَ فِي رِصَافِهِ فَلَمْ يَرَ شَيْئًا فَنَظَرَ فِي قِدْحِهِ فَلَمْ يَرَ شَيْئًا فَنَظَرَ فِي الْقُذَذِ فَتَمَارَى هَلْ يَرَى شَيْئًا أَمْ لاَ ‏”‏ ‏.‏

আবু সালামাহ (আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন আওফ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ)-কে বললাম, আপনি কি (খারীজী) হারূরিয়াদের সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বলেন, আমি তাঁকে একটি সম্প্রদায়ের কথা আলোচনা করতে শুনেছি যারা হবে অত্যধিক ইবাদাতকারী এবং তাদের সলাত-সওমের তুলনায় তোমাদের নিকট তোমাদের সলাত-সওম খুবই নগণ্য মনে হবে। তারা দ্বীন থেকে দ্রুত গতিতে বের হয়ে যাবে, যেমন ধনুক থেকে তীর শিকারের দিকে দ্রুত গতিতে চলে যায়। সে তার তীর তুলে নিয়ে তার ফলার অগ্রভাগ পরখ করবে কিন্তু কিছুই দেখতে পাবে না, অতঃপর তার তীরের (ফলা সংলগ্ন) কাঠ পরখ করবে তাতেও কোন চিহ্ন দেখতে পাবে না। অতঃপর তীরের ফলা পরখ করে তাতেও কিছু দেখতে পাবে না, অতঃপর তীরের পালক পরখ করে তার সন্দেহ হবে যে, সে কিছু চিহ্ন দেখতে পাচ্ছে কিনা। [১৬৭]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৬৭] বুখারী ৩৬১০, ৪৩৫১, ৪৬৬৭, ৫০৫৮, ৬০৬৩, ৬৯৩১, ৬৯৩৩, ৭৪৩২, ৭৫৬২; মুসলিম ১০৬৪/১-৪, ১০৬৫/১-৫; নাসায়ী ২৫৭৮, ৪১০১; আবূ দাঊদ ৪৭৬৪, আহমাদ ১০৬২৫, ১১০৯৬, ১১১৮৫, ১১২৫৪, ১১২৯৮; মুওয়াত্ত্বা মালিক ৪৭৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী মুহাম্মাদ বিন আমর সম্পর্কে ইমাম নাসাঈ বলেন, তার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আবু হাতীম আর-রাযী তার থেকে হাদিস গ্রহন করেছেন। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৭০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ إِنَّ بَعْدِي مِنْ أُمَّتِي – أَوْ سَيَكُونُ بَعْدِي مِنْ أُمَّتِي – قَوْمًا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ حُلُوقَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ ثُمَّ لاَ يَعُودُونَ فِيهِ هُمْ شِرَارُ الْخَلْقِ وَالْخَلِيقَةِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الصَّامِتِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَافِعِ بْنِ عَمْرٍو أَخِي الْحَكَمِ بْنِ عَمْرٍو الْغِفَارِيِّ فَقَالَ وَأَنَا أَيْضًا قَدْ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏

আবু যার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমার পরে আমার উম্মাতের মধ্যে অচিরেই একটি দলের উদ্ভব হবে, যারা কুরআন পড়বে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা এত দ্রুতবেগে ধর্মচ্যুত হবে, যেমন তীর ধনুক থেকে শিকারের দিকে দ্রুত ছুটে যায়, অতঃপর তারা দ্বীনের পথে ফিরে আসবে না। এরা হলো সৃষ্টিকুলের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট। আবদুল্লাহ ইবনুস-সামিত (রহঃ) বলেন, আমি বিষয়টি হাকাম বিন আম্‌র আল-গিফারীর ভাই রাফি‘ বিন আম্‌র (রাঃ)-এর নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বলেন, আমিও হাদীসটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট শুনেছি। [১৬৮]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৬৮] মুসলিম ১০৬৭, আহমাদ ২১০২১, দারিমী ২৪৩৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৭১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ لَيَقْرَأَنَّ الْقُرْآنَ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي يَمْرُقُونَ مِنَ الإِسْلاَمِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ ‏”‏ ‏.‏

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, অবশ্যই আমার উম্মাতের একটি দল কুরআন পড়বে, কিন্তু তারা ইসলাম থেকে দ্রুত বিচ্যুত হয়ে যাবে, যেমন তীর ধনুক থেকে দ্রুত শিকারের দিকে বেরিয়ে যায়। [১৬৯]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৬৯] আহমাদ ২৭৭৭৪ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ২২০১।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৭২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِالْجِعِرَّانَةِ وَهُوَ يَقْسِمُ التِّبْرَ وَالْغَنَائِمَ وَهُوَ فِي حِجْرِ بِلاَلٍ فَقَالَ رَجُلٌ اعْدِلْ يَا مُحَمَّدُ فَإِنَّكَ لَمْ تَعْدِلْ ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ وَيْلَكَ وَمَنْ يَعْدِلُ بَعْدِي إِذَا لَمْ أَعْدِلْ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ دَعْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ حَتَّى أَضْرِبَ عُنُقَ هَذَا الْمُنَافِقِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏”‏ إِنَّ هَذَا فِي أَصْحَابٍ – أَوْ أُصَيْحَابٍ – لَهُ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ ‏”‏ ‏.‏

জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জি‘রানাহ নামক স্থানে গনীমাতের মাল ও সোনারূপা বণ্টন করছিলেন। এগুলো বিলাল (রাঃ)-এর কোলে ছিল। এক ব্যক্তি বললো, হে মুহাম্মাদ! ইনসাফ করুন। কেননা, আপনি ইনসাফ করছেন না। তিনি বলেন, তোমার জন্য দুঃখ হয়, আমিই যদি ইনসাফ না করি, তবে আমার পরে কে ইনসাফ করবে? উমার (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমাকে ছেড়ে দিন, আমি এই মুনাফিকের ঘাড় উড়িয়ে দেই। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তার সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি দলের উদ্ভব হবে, যারা কুরআন পড়বে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা এমনভাবে ধর্মচ্যুত হবে, যেমন ধনুক থেকে তীর শিকারের দিকে দ্রুত ছুটে যায়। [১৭০]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৭০] বুখারী ৩১৩৮, মুসলিম ১০৬৩, আহমাদ ১৪৩৯০, ১৪৪০৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ফিলাল ৯৪৩।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৭৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ الأَزْرَقُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ الْخَوَارِجُ كِلاَبُ النَّارِ ‏”‏ ‏.‏

ইবনু আবু আওফা (রাঃ) বলেন থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, খারিজীরা হলো জাহান্নামের কুকুর। [১৭১]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৭১] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৩৫৫৪।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৭৪

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏”‏ يَنْشَأُ نَشْءٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ كُلَّمَا خَرَجَ قَرْنٌ قُطِعَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ عُمَرَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏”‏ كُلَّمَا خَرَجَ قَرْنٌ قُطِعَ ‏”‏ ‏.‏ أَكْثَرَ مِنْ عِشْرِينَ مَرَّةً ‏”‏ حَتَّى يَخْرُجَ فِي عِرَاضِهِمُ الدَّجَّالُ ‏”‏ ‏.‏

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, একটি দল আবির্ভূত হবে, যারা কুরআন পড়বে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। যখনই তারা আবির্ভূত হবে, তখনই তাদের হত্যা করা হবে। ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ যখনই এক দল আবির্ভূত হবে তখনই তাদের ধ্বংস করা হবে। এভাবে বিশের অধিক বার তা ঘটবে, অতঃপর তাদের মধ্য থেকে দাজ্জাল আবির্ভূত হবে। [১৭২]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৭২] হাসান। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ২৪৫৫।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

১৭৫

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ أَبُو بِشْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ “‏ يَخْرُجُ قَوْمٌ فِي آخِرِ الزَّمَانِ – أَوْ فِي هَذِهِ الأُمَّةِ – يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ – أَوْ حُلْقُومَهُمْ سِيمَاهُمُ التَّحْلِيقُ إِذَا رَأَيْتُمُوهُمْ – أَوْ إِذَا لَقِيتُمُوهُمْ – فَاقْتُلُوهُمْ ‏”‏ ‏.‏

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, শেষ যমানায় এ উম্মাতের মধ্যে একটি সম্প্রদায় আবির্ভূত হবে, যারা কুরআন পড়বে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালীর নিচে যাবে না। তাদের চিহ্ন হবে মুণ্ডিত মাথা। তোমরা তাদের দেখতে পেলেই কিংবা তাদের সাক্ষাৎ পেলেই তাদের হত্যা করবে। [১৭৩]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৭৩] আবূ দাঊদ ৪৭৬৫ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৩৫৪৩।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৭৬

حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي غَالِبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، يَقُولُ شَرُّ قَتْلَى قُتِلُوا تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ وَخَيْرُ قَتْلَى مَنْ قَتَلُوا كِلاَبُ أَهْلِ النَّارِ قَدْ كَانَ هَؤُلاَءِ مُسْلِمِينَ فَصَارُوا كُفَّارًا ‏.‏ قُلْتُ يَا أَبَا أُمَامَةَ هَذَا شَىْءٌ تَقُولُهُ قَالَ بَلْ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.

আবু উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আসমা’নের নিচে সর্বাধিক নিকৃষ্ট নিহত ব্যক্তি তারা, যারা জাহান্নামের কুকুর (খারিজীরা) এবং সর্বোত্তম নিহত তারা যারা তাদের হত্যা করতে গিয়ে নিহত হয়েছে। এরা (খারিজীরা) ছিল মুসলিম, পরে কাফির হয়ে যায়। (আবু গালিব বলেন) আমি বললাম, হে আবু উমামাহ! এটা কি আপনার মন্তব্য? তিনি বলেন, বরং আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–কে তা বলতে শুনেছি। [১৭৪]

  •  
  •  
  •  
  •  

[১৭৪] তিরমিযী ৩০০০ তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৩৫৫৪। উক্ত হাদিসের রাবী আবু গালিব সম্পর্কে ইমাম দারাকুতনী তাকে সিকাহ বললেও মুহাম্মাদ বিন সাঈদ তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু আদী বলেন, কোন সমস্যা নেই। মুসা বিন হারুন তাকে সিকাহ বলেছেন।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

 

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।