তিরমিজি পবিত্রতা অধ্যায় ১ম ভাগ হাদিস নং ১ – ৭৩

Table of Contents - সূচিপত্র

১. অনুচ্ছেদঃ

পবিত্রতা ছাড়া নামায ক্ববূল হয় না

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، ح وَحَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ لاَ تُقْبَلُ صَلاَةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ وَلاَ صَدَقَةٌ مِنْ غُلُولٍ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ هَنَّادٌ فِي حَدِيثِهِ ‏”‏ إِلاَّ بِطُهُورٍ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا الْحَدِيثُ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَحْسَنُ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ عَنْ أَبِيهِ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسٍ ‏.‏ وَأَبُو الْمَلِيحِ بْنُ أُسَامَةَ اسْمُهُ عَامِرٌ وَيُقَالُ زَيْدُ بْنُ أُسَامَةَ بْنِ عُمَيْرٍ الْهُذَلِيُّ ‏.‏

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ পবিত্রতা ছাড়া নামায ক্ববূল হয় না। আর হারাম উপায়ে প্রাপ্ত মালের সাদকাও ক্ববূল হয় না। হান্নাদ ‘বিগাইরি তুহূর’ –এর স্থলে ‘ইল্লা বিতুহূর’ উল্লেখ করেছেন।

সহীহ। ইবনু মাজাহ- (২৭২)

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেন, এই অনুচ্ছেদে এ হাদীসটিই সবচাইতে সহীহ এবং উত্তম। এ অনুচ্ছেদে আবুল মালীহ, আবূ হুরাইরা ও আনাস (রাঃ) হতেও বর্ণিত হাদীস রয়েছে।

উসামা পুত্র আবুল মালীহ’র নাম আ‘মির। এও বলা হয় যে, তার নাম যাইদ ইবনু উসামা ইবনু উমাইর আল-হুযালী।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২. অনুচ্ছেদঃ

পবিত্রতা অর্জনের ফাযীলাত

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى الْقَزَّازُ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ أَوِ الْمُؤْمِنُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَتْ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ أَوْ نَحْوِ هَذَا وَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتْ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنَ الذُّنُوبِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهُوَ حَدِيثُ مَالِكٍ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏ وَأَبُو صَالِحٍ وَالِدُ سُهَيْلٍ هُوَ أَبُو صَالِحٍ السَّمَّانُ وَاسْمُهُ ذَكْوَانُ ‏.‏ وَأَبُو هُرَيْرَةَ اخْتُلِفَ فِي اسْمِهِ فَقَالُوا عَبْدُ شَمْسٍ وَقَالُوا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو وَهَكَذَا قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ وَهُوَ الأَصَحُّ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ وَثَوْبَانَ وَالصُّنَابِحِيِّ وَعَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ وَسَلْمَانَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو ‏.‏ وَالصُّنَابِحِيُّ الَّذِي رَوَى عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ لَيْسَ لَهُ سَمَاعٌ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُسَيْلَةَ وَيُكْنَى أَبَا عَبْدِ اللَّهِ رَحَلَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقُبِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الطَّرِيقِ وَقَدْ رَوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَادِيثَ ‏.‏ وَالصُّنَابِحُ بْنُ الأَعْسَرِ الأَحْمَسِيُّ صَاحِبُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُقَالُ لَهُ الصُّنَابِحِيُّ أَيْضًا وَإِنَّمَا حَدِيثُهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏”‏ إِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ فَلاَ تَقْتَتِلُنَّ بَعْدِي ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কোন মু’মিন অথবা মুসলিম বান্দা ওযূ করে এবং মুখমণ্ডল ধোয়, তার মুখমণ্ডল হতে তার চোখের দ্বারা কৃত সকল গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে দূর হয়ে যায়। যখন সে তার দু’হাত ধোয়, তার দু’হাতে কৃত সকল গুনাহ তার হাত হতে পানির সাথে অথবা পানির অবশিষ্ট বিন্দুর সাথে দূরীভূত হয়ে যায়। অতঃপর সে সকল গুনাহ হতে পবিত্র হয়ে যায়।

সহীহ। আত্তা‘লীকুর রাগীব- (১/৯৫)

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি মালিক সুহাইল হতে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে এবং তিনি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবূ সালিহ হচ্ছেন সুহাইলের পিতা। তাঁর নাম যাকওয়ান। আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর আসল নাম নিয়ে মতবিরোধ আছে। কেউ বলেছেন, তাঁর নাম আবদুশ শামস, আবার কেউ বলেছেন তাঁর নাম আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর। মুহাম্মাদ ইবনু ইসমা‘ঈল (ইমাম বুখারী) এ ধরনের কথাই বলেছেন এবং এটাই সবচাইতে সহীহ।

এ অনুচ্ছেদে উসমান, সাওবান, সুনাবিহী, ‘আমর ইবনু ‘আবাসা, সালমান ও আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) প্রমুখ সাহাবীদের বর্ণিত হাদীস রয়েছে।

সুনাবিহী যিনি আবূ বাক্‌র (রাঃ)-এর নিকট হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছ থেকে কোন হাদীস শুনেননি। তাঁর নাম আবদুর রাহমান ইবনু উসাইলা এবং ডাকনাম ছিল আবূ আবদুল্লাহ। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে দেখা করার জন্য বের হয়েছিলেন, কিন্তু রাস্তায় থাকাকালীন সময়েই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মারা যান। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। আরেক সুনাবিহী ইবনুল আ‘সার আল-আহমাসী নামে পরিচিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবী। তাঁর বর্ণিত হাদীস হলঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ ‘পূর্ববর্তী উম্মাতদের নিকট আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্যের গৌরব করব। অতএব আমি মারা যাবার পর তোমরা যেন একে অপরের সাথে ফিতনা-ফ্যাসাদে জড়িয়ে না পড়’।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩. অনুচ্ছেদঃ

পবিত্রতা নামাযের চাবি

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَهَنَّادٌ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ مِفْتَاحُ الصَّلاَةِ الطُّهُورُ وَتَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا الْحَدِيثُ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَحْسَنُ ‏.‏ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ هُوَ صَدُوقٌ وَقَدْ تَكَلَّمَ فِيهِ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ كَانَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَالْحُمَيْدِيُّ يَحْتَجُّونَ بِحَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدٌ وَهُوَ مُقَارِبُ الْحَدِيثِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَأَبِي سَعِيدٍ ‏.‏

‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ পবিত্রতা নামাযের চাবি; তাকবীর তার (নামাযের বাইরের সকল হালাল কাজ) হারামকারী এবং সালাম তার (নামাযের বাইরের সকল হালাল কাজ) হালালকারী।

হাসান সহীহ। ইবনু মাজাহ- (২৭৫)

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে এ হাদীসটি সবচাইতে সহীহ এবং উত্তম। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ‘আকীল অতিশয় সত্যবাদী লোক। কিন্তু কিছু সংখ্যক বিশেষজ্ঞ তাঁর স্মরণশক্তির ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন।

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে (বুখারীকে) বলতে শুনেছি, আহমাদ ইবনু হাম্বল, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম এবং হুমাইদী (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ‘আকীলের হাদীসকে প্রমাণ হিসেবে নিয়েছেন। মুহাম্মাদ বলেন, তাঁর হাদীস বলতে গেলে গ্রহণযোগ্যই।

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে জাবির এবং আবূ সাঈদ (রাঃ)-এর হাদীসও রয়েছে।

হাদিসের মানঃ হাসান সহিহ

  •  সরাসরি

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ زَنْجَوَيْهِ الْبَغْدَادِيُّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ قَالَ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ قَرْمٍ، عَنْ أَبِي يَحْيَى الْقَتَّاتِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، رضى الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مِفْتَاحُ الْجَنَّةِ الصَّلاَةُ وَمِفْتَاحُ الصَّلاَةِ الْوُضُوءُ ‏”‏ ‏.‏

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ জান্নাতের চাবি হচ্ছে নামায, আর নামাযের চাবি হচ্ছে ওযূ।

হাদীসটির প্রথম অংশ যঈফ। ২য় অংশ সহীহ, পূর্বের সহীহ হাদীসের অংশ হওয়ার কারণে। –মিশকাত (২৯৪)।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

৪. অনুচ্ছেদঃ

মলত্যাগ করতে যাওয়ার সময় যা বলবে

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَهَنَّادٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْخَلاَءَ قَالَ ‏ “‏ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ قَالَ شُعْبَةُ وَقَدْ قَالَ مَرَّةً أُخْرَى أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبِيثِ أَوِ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَزَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ وَجَابِرٍ وَابْنِ مَسْعُودٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَحْسَنُ ‏.‏ وَحَدِيثُ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ فِي إِسْنَادِهِ اضْطِرَابٌ رَوَى هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ وَسَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ فَقَالَ سَعِيدٌ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَوْفٍ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ ‏.‏ وَقَالَ هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ ‏.‏ وَرَوَاهُ شُعْبَةُ وَمَعْمَرٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ فَقَالَ شُعْبَةُ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ ‏.‏ وَقَالَ مَعْمَرٌ عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى سَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا فَقَالَ يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ قَتَادَةُ رَوَى عَنْهُمَا جَمِيعًا ‏.‏

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় প্রবেশের কালে বলতেনঃ

اللهم إني اعوذبك من الخبث والخبيث

হে আল্লাহ! শয়তান,জ্বিন ও সকল কষ্টদায়ক প্রাণী থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি।

الخبث والبيث এর স্থলে الخبث والخبا ئث ও বর্ণিত আছে। এই হাদীছটির অন্যমত রাবী শু‘বা বলেন, তাঁর উস্তাদ আবদুল আযীয ইবনু সুহাইাব اعوذبك এর স্থলে এক সময় اعوذ بالله ও রিওয়ায়াত করেছেন। – ইবনু মাজাহ ২৯৮, বুখারি ও মুসলিম

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে ‘আলী, যাইদ ইবনু আরক্বাম, জাবির ও ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর হাদীস রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আনাসের হাদীস সর্বাধিক সহীহ এবং সর্বোত্তম। যাইদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের সনদে অমিল রয়েছে। হিশাম দাস্‌তোয়াঈ এবং সা‘ঈদ ইবনু আবী ‘আরুবাহ কাতাদাহ হতে বর্ণনা করেছেন। সাঈদ বর্ণনা করেছেন কাসিম ইবনু আউফ শাইবানী হতে তিনি যাইদ ইবনু আরক্বাম হতে। হিশাম দাস্‌তোয়াই কাতাদাহ হতে তিনি যাইদ ইবনু আরক্বাম হতে বর্ণনা করেছেন শু‘বা এবং মা‘মার বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ হতে তিনি নাযার ইবনু আনাস হতে। শু‘বা বলেন, যাইদ ইবনু আরক্বাম হতে। মা‘মার বলেন, নাযার ইবনু আনাস হতে তিনি তার পিতা হতে তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আমি ইমাম বুখারীকে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, কাতাদা সম্ভবতঃ কাসিম এবং নাযার উভয়ের সুত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا دَخَلَ الْخَلاَءَ قَالَ ‏ “‏ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মলত্যাগ করতে যাওয়ার সময় বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জঘন্য পুরুষ ও স্ত্রী জ্বিন শাঈতানের ক্ষতি হতে আশ্রয় চাই।

সহীহ। দেখুন পূর্বের হাদীস।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ্‌।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫. অনুচ্ছেদঃ

পায়খানা থেকে বের হবার পর যা বলবে

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ بْنِ يُونُسَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلاَءِ قَالَ ‏ “‏ غُفْرَانَكَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ إِسْرَائِيلَ عَنْ يُوسُفَ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ ‏.‏ وَأَبُو بُرْدَةَ بْنُ أَبِي مُوسَى اسْمُهُ عَامِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ الأَشْعَرِيُّ ‏.‏ وَلاَ نَعْرِفُ فِي هَذَا الْبَابِ إِلاَّ حَدِيثَ عَائِشَةَ رضى الله عنها عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন পায়খানা হতে বের হতেন তখন বলতেনঃ “(হে আল্লাহ!) আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি”।

সহীহ। ইবনু মজাহ-(৩০০)

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ইসা বলেন হাদিসটি হাসান গরীব। আমি শুধু ইউসুফ ইবনু আবূ বুরদার সুত্রে ইসরাইলের বর্ণনার মাধ্যমেই এ হাদিস জানতে পেরেছি। আবূ বুরদা ইবনু আবূ মুসার নাম হল ‘আমির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনু কাইস আল-আশ’আরী। এ অনুচ্ছেদ শুধু আয়েশা (রাঃ)-এর সুত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত এ হাদিস ব্যতীত অন্য কোন হাদিস আমরা জানি না।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬. অনুচ্ছেদঃ

কিবলামুখী হয়ে পায়খানা বা পেশাবে বসা নিষেধ

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ إِذَا أَتَيْتُمُ الْغَائِطَ فَلاَ تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ وَلاَ بَوْلٍ وَلاَ تَسْتَدْبِرُوهَا وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ أَبُو أَيُّوبَ فَقَدِمْنَا الشَّأْمَ فَوَجَدْنَا مَرَاحِيضَ قَدْ بُنِيَتْ مُسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةِ فَنَنْحَرِفُ عَنْهَا وَنَسْتَغْفِرُ اللَّهَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ الزُّبَيْدِيِّ وَمَعْقِلِ بْنِ أَبِي الْهَيْثَمِ وَيُقَالُ مَعْقِلُ بْنُ أَبِي مَعْقِلٍ وَأَبِي أُمَامَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَسَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي أَيُّوبَ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَصَحُّ ‏.‏ وَأَبُو أَيُّوبَ اسْمُهُ خَالِدُ بْنُ زَيْدٍ ‏.‏ وَالزُّهْرِيُّ اسْمُهُ مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيُّ وَكُنْيَتُهُ أَبُو بَكْرٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو الْوَلِيدِ الْمَكِّيُّ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ إِنَّمَا مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ لاَ تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ وَلاَ بِبَوْلٍ وَلاَ تَسْتَدْبِرُوهَا ‏”‏ ‏.‏ إِنَّمَا هَذَا فِي الْفَيَافِي وَأَمَّا فِي الْكُنُفِ الْمَبْنِيَّةِ لَهُ رُخْصَةٌ فِي أَنْ يَسْتَقْبِلَهَا ‏.‏ وَهَكَذَا قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ‏.‏ وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ رَحِمَهُ اللَّهُ إِنَّمَا الرُّخْصَةُ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي اسْتِدْبَارِ الْقِبْلَةِ بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ وَأَمَّا اسْتِقْبَالُ الْقِبْلَةِ فَلاَ يَسْتَقْبِلُهَا ‏.‏ كَأَنَّهُ لَمْ يَرَ فِي الصَّحْرَاءِ وَلاَ فِي الْكُنُفِ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ ‏.‏

আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা যখন মলত্যাগ করতে যাও, তখন মলত্যাগ বা পেশাবের সময় কিবলাকে সামনে বা পেছনে রেখে বসো না, বরং পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে ফিরে বস। আবূ আইয়ুব (রাঃ) বলেন, আমরা সিরিয়াতে এসে দেখতে পেলাম এখানকার পায়খানাগুলো কিবলার দিকে করে স্থাপিত। অতএব আমরা কিবলার দিকে ঘুরে যেতাম এবং আল্লাহ তা’আলার কাছে ক্ষমা চাইতাম।

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৩১৮),বুখারী ও মুসলিম।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু হারিস, মা’কিল ইবনু আবুল হাইসাম, আবূ উমামা,আবূ হুরাইরা ও সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ)-এর হাদিসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আবূ আইয়ূবের হাদিসটি বেশি সহীহ এবং সর্বোত্তম। আবূ আইয়ূবের নাম খালিদ ইবনু যাইদ এবং যুহরীর নাম মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ইবনু উবাইদুল্লাহ ইবনু শিহাব আয-যুহরী। তার উপনাম আবূ বাকর। আবুল ওলীদ আল-মাক্কী বলেন, আবূ ‘আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু ইদরীস শাফিঈ বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণীঃ “মলত্যাগ বা পেশাবের সময় কবলাকে সামনে বা পেছনে রেখে বসবে না”- এ নিষেধাজ্ঞা খোলা ময়দানের জন্য। কিন্তু ঘরের মধ্যে মলত্যাগের সময় ক্বীবলাকে সামনে রেখে বসার অনুমুতি রয়েছে। ইসহাক ইবনু ইবরাহীমও একই রকম মত দিয়েছেন। আহমাদ ইবনু হাম্বল বলেছেন, ক্বিবলাকে পেছনে রেখে মলত্যাগ – পেশাবে বসার ব্যাপারে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অনুমতি রয়েছে কিন্তু ক্বিবলাকে সামনে করে বসা যাবেনা। তাঁর মতে, খোলা জায়গায় অথবা ঘেরা জায়গায় ক্বিবলাকে সামনে রেখে বসা ঠিক নয়।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭. অনুচ্ছেদঃ

উল্লিখিত ব্যাপারে অনুমিত সম্পর্কে

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ بِبَوْلٍ فَرَأَيْتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْبَضَ بِعَامٍ يَسْتَقْبِلُهَا ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ وَعَائِشَةَ وَعَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏

জাবির ইবনু আবদিল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিবলাকে সামনে রেখে মলত্যাগ বা পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। আমি তাঁর মৃত্যুর এক বছর আগে তাঁকে ক্বিবলার দিকে মুখ করে মলত্যাগ বা পেশাব করতে দেখেছি।

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৩২৫)

  •  
  •  
  •  
  •  

এ অনুচ্ছেদ আবূ কাতাদা, আয়েশা ও আম্মার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে জাবিরের হাদিসটি হাসান গারীব।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০

وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَبُولُ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ ‏.‏ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ ‏.‏ وَحَدِيثُ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ لَهِيعَةَ ‏.‏ وَابْنُ لَهِيعَةَ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ ضَعَّفَهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ وَغَيْرُهُ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ ‏.‏

ইবনু লাহীআ থেকে বর্ণিতঃ

ইবনু লাহীআ আবু যুবাইরের সূত্রে, তিনি জাবিরের সুত্রে এবং আবূ কাতাদার সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করছেন। তিনি (কাতাদা) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কিবলার দিকে ফিরে পেশাব করতে দেখেছেন।

সনদ দুর্বল।

কুতাইবা আমাদের কাছে এ তথ্য পরিবেশন করেছেন। ইবনু লাহীআর হাদীসের চেয়ে জাবিরের হাদীস অধিকতর সহীহ। হাদীস বিশারদদের মতে, ইবনু লাহীআ দুর্বল রাবী। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল-কাত্তান ও অন্যরা তাঁকে স্মরণশক্তিতে দুর্বল বলে সাব্যস্ত করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

১১

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَمِّهِ، وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ رَقِيتُ يَوْمًا عَلَى بَيْتِ حَفْصَةَ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى حَاجَتِهِ مُسْتَقْبِلَ الشَّأْمِ مُسْتَدْبِرَ الْكَعْبَةِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি একদিন উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রাঃ)-এর ঘরের ছাদে উঠি। অতঃপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সিরিয়ার দিকে মুখ করে এবং কা’বাকে পেছনে রেখে মলত্যাগ করতে দেখি।

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৩২২),বুখারী ও মুসলিম।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৮. অনুচ্ছেদঃ

দাড়িয়ে পেশাব করা নিষেধ

১২

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَنْ حَدَّثَكُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَبُولُ قَائِمًا فَلاَ تُصَدِّقُوهُ مَا كَانَ يَبُولُ إِلاَّ قَاعِدًا ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَبُرَيْدَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَسَنَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَصَحُّ ‏.‏ وَحَدِيثُ عُمَرَ إِنَّمَا رُوِيَ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ أَبِي الْمُخَارِقِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ قَالَ رَآنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَبُولُ قَائِمًا فَقَالَ ‏ “‏ يَا عُمَرُ لاَ تَبُلْ قَائِمًا ‏”‏ ‏.‏ فَمَا بُلْتُ قَائِمًا بَعْدُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا رَفَعَ هَذَا الْحَدِيثَ عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ أَبِي الْمُخَارِقِ وَهُوَ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ ضَعَّفَهُ أَيُّوبُ السَّخْتِيَانِيُّ وَتَكَلَّمَ فِيهِ ‏.‏ وَرَوَى عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ عُمَرُ رضى الله عنه مَا بُلْتُ قَائِمًا مُنْذُ أَسْلَمْتُ ‏.‏ وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْكَرِيمِ وَحَدِيثُ بُرَيْدَةَ فِي هَذَا غَيْرُ مَحْفُوظٍ ‏.‏ وَمَعْنَى النَّهْىِ عَنِ الْبَوْلِ قَائِمًا عَلَى التَّأْدِيبِ لاَ عَلَى التَّحْرِيمِ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ إِنَّ مِنَ الْجَفَاءِ أَنْ تَبُولَ وَأَنْتَ قَائِمٌ ‏.‏

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন,যে লোক তোমাদেরকে বলে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাড়িয়ে পেশাব করেছেন, তার কথা তোমরা বিশ্বাস কর না। তিনি সব সময় বসেই পেশাব করতেন।

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৩০৭)

এ অনুচ্ছেদে উমার ও বুরাইদা (রাঃ)-এর হাদীস রয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, এ অনুচ্ছেদে আইশার হাদীস অধিকতর হাসান ও সবচাইতে সহীহ। উমারের বর্ণিত হাদীস হলঃ

—————–

১২/১. উমার (রাঃ) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দাঁড়িয়ে পেশাব করতে দেখেন। তিনি বলেন হে উমার! দাঁড়িয়ে পেশাব কর না। (উমার বলেন,) তারপর আমি আর কখনও দাঁড়িয়ে পেশাব করিনি।”

যঈফ, ইবনু মাজাহ (৩০৮) সিলসিলাহ আহাদীস যঈফাহ(৯৩৪)

আবূ ঈসা বলেনঃ শুধুমাত্র আব্দুল কারীম ইবনুল মুখারিক এই হাদীসটিকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি মুহাদ্দিসদের মতে যঈফ। আইয়ুব সাখতিয়ানী তাঁকে যঈফ বলেছেন এবং তাঁর সমালোচনা করেছেন। অপর এক বর্ণনায় ইবনু উমার হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উমার (রাঃ) বলেছেন, “আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর কখনও দাঁড়িয়ে পেশাব করিনি”।

এ হাদীসটি আবদুল কারীমের বর্ণিত হাদীস হতে অধিক সহীহ। এ অনুচ্ছেদে বুরাইদার হাদীস অরক্ষিত। দাঁড়িয়ে পেশাব করা নিষিদ্ধ হওয়ার তাৎপর্য হল, এটা প্রচলিত নিয়ম বিরোধী, তবে হারাম নয়।

“আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেনঃ তোমার দাঁড়িয়ে পেশাব করাটা একটা যুলুম ও বেয়াদবী।”

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৯. অনুচ্ছেদঃ

দাড়িয়ে পেশাব করার অনুমতি সম্পর্কে

১৩

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَتَى سُبَاطَةَ قَوْمٍ فَبَالَ عَلَيْهَا قَائِمًا فَأَتَيْتُهُ بِوَضُوءٍ فَذَهَبْتُ لأَتَأَخَّرَ عَنْهُ فَدَعَانِي حَتَّى كُنْتُ عِنْدَ عَقِبَيْهِ فَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَمِعْتُ الْجَارُودَ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا يُحَدِّثُ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنِ الأَعْمَشِ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ وَكِيعٌ هَذَا أَصَحُّ حَدِيثٍ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْحِ ‏.‏ وَسَمِعْتُ أَبَا عَمَّارٍ الْحُسَيْنَ بْنَ حُرَيْثٍ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا فَذَكَرَ نَحْوَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَكَذَا رَوَى مَنْصُورٌ وَعُبَيْدَةُ الضَّبِّيُّ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ حُذَيْفَةَ مِثْلَ رِوَايَةِ الأَعْمَشِ ‏.‏ وَرَوَى حَمَّادُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ وَعَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَحَدِيثُ أَبِي وَائِلٍ عَنْ حُذَيْفَةَ أَصَحُّ ‏.‏ وَقَدْ رَخَّصَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْبَوْلِ قَائِمًا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَعَبِيدَةُ بْنُ عَمْرٍو السَّلْمَانِيُّ رَوَى عَنْهُ إِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ ‏.‏ وَعَبِيدَةُ مِنْ كِبَارِ التَّابِعِينَ يُرْوَى عَنْ عَبِيدَةَ أَنَّهُ قَالَ أَسْلَمْتُ قَبْلَ وَفَاةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِسَنَتَيْنِ ‏.‏ وَعُبَيْدَةُ الضَّبِّيُّ صَاحِبُ إِبْرَاهِيمَ هُوَ عُبَيْدَةُ بْنُ مُعَتِّبٍ الضَّبِّيُّ وَيُكْنَى أَبَا عَبْدِ الْكَرِيمِ ‏.‏

হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন এক সম্প্রদায়ের আবর্জনা রাখার স্থানে আসেন এবং সেখানে দাঁড়িয়ে পেশাব করেন। অতঃপর আমি তাঁর জন্য পানি আনি। আমি অপেক্ষা করার জন্য একটু দূরে সরে দাঁড়াই। তিনি আমাকে ডাকলেন এবং আমি এসে তাঁর পায়ের সামনে দাঁড়ালাম। তিনি অজু করলেন এবং মোজার উপর মাসিহ করলেন।

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৩০৫)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১০. অনুচ্ছেদঃ

মলত্যাগ বা পেশাবের সময় গোপনীয়তা (পর্দা) অবলম্বন করা

১৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ حَرْبٍ الْمُلاَئِيُّ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ الْحَاجَةَ لَمْ يَرْفَعْ ثَوْبَهُ حَتَّى يَدْنُوَ مِنَ الأَرْضِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رَوَى مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَنَسٍ هَذَا الْحَدِيثَ ‏.‏ وَرَوَى وَكِيعٌ وَأَبُو يَحْيَى الْحِمَّانِيُّ عَنِ الأَعْمَشِ قَالَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ الْحَاجَةَ لَمْ يَرْفَعْ ثَوْبَهُ حَتَّى يَدْنُوَ مِنَ الأَرْضِ ‏.‏ وَكِلاَ الْحَدِيثَيْنِ مُرْسَلٌ ‏.‏ وَيُقَالُ لَمْ يَسْمَعِ الأَعْمَشُ مِنْ أَنَسٍ وَلاَ مِنْ أَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ نَظَرَ إِلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ رَأَيْتُهُ يُصَلِّي ‏.‏ فَذَكَرَ عَنْهُ حِكَايَةً فِي الصَّلاَةِ ‏.‏ وَالأَعْمَشُ اسْمُهُ سُلَيْمَانُ بْنُ مِهْرَانَ أَبُو مُحَمَّدٍ الْكَاهِلِيُّ وَهُوَ مَوْلًى لَهُمْ ‏.‏ قَالَ الأَعْمَشُ كَانَ أَبِي حَمِيلاً فَوَرَّثَهُ مَسْرُوقٌ ‏.‏

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মলত্যাগ করার প্রয়োজন মনে করতেন, তিনি মাটির কাছাকাছি না হওয়া পর্যন্ত বস্ত্র তুলতেন না।

সহীহ। সহীহ আবূ দাঊদ-(১১), সহীহাহ-(১০৭১)

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ঈসা বলেন, অনুরূপ একটি হাদিস মুহাম্মদ ইবনু রাবীআ- আ’মাশের সূত্রে আনাস (রাঃ) –এর নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। ওয়াকী’ এবং আবূ ইয়াহ ইয়া আল-হিম্মানী আ’মাশের সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আ’মাশ আনাসের জায়গায় ইবনু ‘উমারের নাম উল্লেখ করেছেন। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাটির কাছাকাছি না হওয়া পর্যন্ত পরিধানের বস্ত্র তুলতেন না। ’

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১১. অনুচ্ছেদঃ

ডান হাতে ইস্তিনজা করা মাকরূহ

১৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَمَسَّ الرَّجُلُ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ ‏.‏ وَفِي هَذَا الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَسَلْمَانَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَسَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَأَبُو قَتَادَةَ الأَنْصَارِيُّ اسْمُهُ الْحَارِثُ بْنُ رِبْعِيٍّ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا الاِسْتِنْجَاءَ بِالْيَمِينِ ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু আবী কাতাদা (রাঃ) হতে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে কোন ব্যক্তিকে ডান হাত দিয়ে নিজের লজ্জাস্থান স্পর্শ করতে নিষেধ করেছেন।

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৩১০), বুখারী ও মুসলিম।

  •  
  •  
  •  
  •  

এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ, সালমান, আবূ হুরাইবা ও সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, হাদিসটি হাসান সহীহ। আবূ কাতাদাহ আনসারী তার নাম হারিস ইবনু রিব’য়ী। বিদ্বান বা পণ্ডিত ব্যক্তিগণ ডান হাত দিয়ে শৌচ করা মাকরূহ বলেছেন।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১২. অনুচ্ছেদঃ

পাথর বা ঢিলা দিয়ে ইস্তিনজা করা

১৬

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ قِيلَ لِسَلْمَانَ قَدْ عَلَّمَكُمْ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم كُلَّ شَيْءٍ حَتَّى الْخِرَاءَةَ فَقَالَ سَلْمَانُ أَجَلْ نَهَانَا أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ وَأَنْ نَسْتَنْجِيَ بِالْيَمِينِ أَوْ أَنْ يَسْتَنْجِيَ أَحَدُنَا بِأَقَلَّ مِنْ ثَلاَثَةِ أَحْجَارٍ أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِرَجِيعٍ أَوْ بِعَظْمٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَخُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ وَجَابِرٍ وَخَلاَّدِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِيهِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ سَلْمَانَ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ رَأَوْا أَنَّ الاِسْتِنْجَاءَ بِالْحِجَارَةِ يُجْزِئُ وَإِنْ لَمْ يَسْتَنْجِ بِالْمَاءِ إِذَا أَنْقَى أَثَرَ الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ وَبِهِ يَقُولُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ ‏.‏

‘আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, সালমান (রাঃ)-কে বলা হল, আপনাদের নবী প্রতিটি বিষয় আপনাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন; এমনকি পায়খানা-পেশাবের শিষ্টাচারও? সালমান (রাঃ) বলেন, হ্যাঁ, তিনি আমাদের কিবলামুখী হয়ে পায়খানা-পেশাব করতে, ডান হাত দিয়ে ইস্তিনজা করতে, আমাদের কাউকে তিনটি ঢিলার কম দিয়ে ইস্তিনজা করতে, এবং শুকনা গোবর অথবা হাড় দিয়ে ইস্তিনজা করতে নিষেধ করেছেন।

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৩১৬), বুখারী ও মুসলিম।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদ ‘আয়িশাহ, খুযাইমা ইবনু সাবিত, জাবির ও সায়িব (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদিসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, সালমান (রাঃ)- এর বর্ণিত হাদিস হাসান সহীহ। বেশির ভাগ সাহাবা ও তাবিঈর মতে ইস্তিনজায় ঢিলা দ্বারা সুন্দরভাবে পরিষ্কার হয়ে যায় তবে তাই যথেষ্ট, পানির দরকার নেই। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারক, ইমাম শাফিঈ, আহমেদ ও ইসহাকের এটাই মত।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৩. অনুচ্ছেদঃ

দুটি ঢিলা দিয়ে ইস্তিনজা করা

১৭

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَقُتَيْبَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِحَاجَتِهِ فَقَالَ ‏”‏ الْتَمِسْ لِي ثَلاَثَةَ أَحْجَارٍ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَأَتَيْتُهُ بِحَجَرَيْنِ وَرَوْثَةٍ فَأَخَذَ الْحَجَرَيْنِ وَأَلْقَى الرَّوْثَةَ وَقَالَ ‏”‏ إِنَّهَا رِكْسٌ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَكَذَا رَوَى قَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ نَحْوَ حَدِيثِ إِسْرَائِيلَ ‏.‏ وَرَوَى مَعْمَرٌ وَعَمَّارُ بْنُ رُزَيْقٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ‏.‏ وَرَوَى زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ عَنْ أَبِيهِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ‏.‏ وَرَوَى زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ فِيهِ اضْطِرَابٌ ‏.‏ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ الْعَبْدِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ قَالَ سَأَلْتُ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ هَلْ تَذْكُرُ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ شَيْئًا قَالَ لاَ ‏.‏

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মলত্যাগ করতে যাওয়ার সময় (আমাকে) বললেনঃ আমার জন্য তিন টুকরা পাথর নিয়ে আস। রাবী বলেন, আমি দুটি পাথরের টুকরা এবং একটি শুকনা গোবরের টুকরা নিয়ে আসলাম। তিনি পাথরের টুকরা দু’টো রাখলেন এবং গোবরের টুকরাটা ফেলে দিলেন। তিনি বললেনঃ “এটা নাপাক জিনিস”।

সহীহ। বুখারী – (১৫৬)।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেন, কাইস ইবনু রাবী‘ এ হাদীসটি আবূ ইসহাক হতে, তিনি আবূ উবাইদা হতে, তিনি ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে ইসরাঈল বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। মা’মার এবং ‘আম্মার ইবনু যুরাইক আবূ ইসহাক হতে, তিনি আলক্বামা হতে, তিনি ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। যুহাইর আবূ ইসহাক হতে, তিনি ‘আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ হতে, তিনি নিজ পিতা আসওয়াদ ইবনু ইয়াযীদ হতে তিনি ‘আবদু্‌ল্লাহ (রাঃ) হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। যাকারিয়া ইবনু আবূ যায়িদাহ আবূ ইসহাকের সূত্রে, তিনি ‘আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযীদের সূত্রে, তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির সনদে অমিল রয়েছে।

‘আমর ইবনু মুররা বলেন, আমি আবূ উবাইদা ইবনু ‘আবদুল্লাহকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কি ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে কোন হাদীস বর্ণনা করেছে? তিনি বললেন, না।

আবূ ‘ঈসা বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদূর রাহমান দারিমীকে প্রশ্ন করলাম, আবূ ইসহাকের সূত্রে বর্ণিত এসব রিওয়াতের মধ্যে কোনটি সবার্ধিক সহীহ্‌ ? তিনি এর কোন জবাব দিতে পারেননি। আমি এ সম্পর্কে মুহাম্মদকে (বুখারী) প্রশ্ন করলাম। তিনিও এর কোন জবাব দেননি। আবূ ইসহাকের সূত্রে যুহাইর হতে বর্ণিত হাদীসকে তিনি বেশি সহীহ বলে গ্রহণ করেছেন এবং সহীহ বুখারীতে তা সংকলন করেছেন। আবূ ঈসা বলেনঃ আমার মতে ইসহাকের সূত্রে ইসরাঈর ও কাইস হতে বর্ণিত হাদীস সবচাইতে সহীহ। কেননা আবূ ইসহাক হতে বর্ণিত হাদীসসমূহ স্মরণ রাখার ব্যাপারে ইসরাঈল অন্যদের তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সুপরিচিত রাবী। তাছাড়া কাইস ইবনু রাবী‘ ও তাঁর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আমি আবূ মূসা মুহাম্মদ ইবনু মুসান্নাকে বলতে শুনেছি; তিনি বলেন, আমি ‘আব্দুর রহমান ইবনু মাহদীকে বলতে শুনেছি, আবূ ইসহাক হতে সুফিয়ানের যে সমস্ত হাদীসের ক্ষেত্রে আমি ইসরাঈলের উপর নির্ভর করেছি সেক্ষেত্রে আমি অনেক হাদীস হারিয়ে ফেলেছি। কেননা সুফিয়ানের বর্ণনা অধিক পরিপূর্ণ।

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ ইসহাকের সূত্রে যুহাইরের বর্ণনা খুব বেশি শক্তিশালী নয়। কেননা তিনি তাঁর নিকট শেষ বয়সে হাদীস শুনেছেন। ইবনু হাম্বল বলেন, তুমি যদি যায়িদা ও যুহাইরের নিকট হাদীস শুনে থাক তাহলে অন্যের নিকট তা শুনার প্রয়োজন নেই। কিন্তু তুমি যদি যুহাইরকে আবূ ইসহাকের হাদীস বর্ণনা করতে শুন তাহলে তা অন্যের নিকট জিজ্ঞেস করে নিও। আবূ ইসহাকের নাম ‘আমর ইবনু ‘আবদিল্লাহ সাবিয়ী‘ হামদানী। আবূ উবাইদা বিনু ‘আবদিল্লাহ ইবনি মাসঊদ তাঁর পিতার নিকটে কোন হাদীস শুনেননি। তার আসল নামও জানা যায়নি।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৪. অনুচ্ছেদঃ

যেসব বস্তু দিয়ে ইস্তিনজা করা মাকরূহ

১৮

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ لاَ تَسْتَنْجُوا بِالرَّوْثِ وَلاَ بِالْعِظَامِ فَإِنَّهُ زَادُ إِخْوَانِكُمْ مِنَ الْجِنِّ ‏”‏ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَسَلْمَانَ وَجَابِرٍ وَابْنِ عُمَرَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَغَيْرُهُ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ كَانَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ الْجِنِّ – الْحَدِيثَ بِطُولِهِ – فَقَالَ الشَّعْبِيُّ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ لاَ تَسْتَنْجُوا بِالرَّوْثِ وَلاَ بِالْعِظَامِ فَإِنَّهُ زَادُ إِخْوَانِكُمْ مِنَ الْجِنِّ ‏”‏ ‏.‏ وَكَأَنَّ رِوَايَةَ إِسْمَاعِيلَ أَصَحُّ مِنْ رِوَايَةِ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَابْنِ عُمَرَ رضى الله عنهما ‏.‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা শুকনা গোবর দিয়ে আর হাড় দিয়ে ইস্তিনজা করবে না। কেননা এগুলো তোমাদের ভাই জ্বিনদের খাদ্য।

সহীহ। আল-ইরওয়া- (৪৬), মিশকাত-(৩৫০), যাঈফাহ-(১০৩৮) এর অধীনে।

  •  
  •  
  •  
  •  

এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা, সালমান, জাবির ও ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি ইসমাঈল ইবনু ইবরাহীম ও অন্যরা দাঊদ ইবনু আবী হিনদের সূত্রে, তিনি শাবী হতে, তিনি আলক্বামা হতে, তিনি আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আবদুল্লাহ) জ্বিনদের রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। হাদীসটি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। শা‘বী বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘‘তোমরা শুকনা গোবর অথবা হাড় দিয়ে ইস্তিনজা কর না। কেননা এটা তোমাদের ভাই জ্বিনদের খাদ্য। ’’

হাফস ইবনু গিয়াসের বর্ণনা হতে ইসমাঈলের বর্ণনা বেশি সহীহ। এ হাদীসের উপরই মনীষীরা আমল করেন (গোবর ও হাড় দিয়ে শৌচ করেন না)। এ অনুচ্ছেদে জাবির ও ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৫. অনুচ্ছেদঃ

পানি দিয়ে ইস্তিনজা করা

১৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ الْبَصْرِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُعَاذَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مُرْنَ أَزْوَاجَكُنَّ أَنْ يَسْتَطِيبُوا، بِالْمَاءِ فَإِنِّي أَسْتَحْيِيهِمْ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَفْعَلُهُ ‏”‏ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيِّ وَأَنَسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَعَلَيْهِ الْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَخْتَارُونَ الاِسْتِنْجَاءَ بِالْمَاءِ وَإِنْ كَانَ الاِسْتِنْجَاءُ بِالْحِجَارَةِ يُجْزِئُ عِنْدَهُمْ فَإِنَّهُمُ اسْتَحَبُّوا الاِسْتِنْجَاءَ بِالْمَاءِ وَرَأَوْهُ أَفْضَلَ ‏.‏ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ ‏.‏

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি (মহিলাদের) বললেন, তোমরা তোমাদের স্বামীদের পানি দ্বারা ইস্তিনজা করার নির্দেশ দাও। আমি (স্ত্রীলোক হিসাবে) তাদের (এ নির্দেশ দিতে) লজ্জাবোধ করছি। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও পানি দিয়ে ইস্তিনজা করতেন।

সহীহ। ইরওয়া- (৪২)।

  •  
  •  
  •  
  •  

এ অনুচ্ছেদে জারীর ইবনু আবদিল্লাহ আল-বাজালী, আনাস ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মনীষীগণ এ হাদীসের উপরই আমল করেন। তাঁরা পানি দিযে ইস্তিনজা করা পছন্দ করেন, যদিও তাদের মতে ঢিলা দ্বারা ইস্তিনজা করলেই যথেষ্ট। তাঁরা সবাই পানি দ্বারা ইস্তিনজা করা উত্তম বলেছেন। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ইবনু হাম্বল ও ইসহাক এ মতই সঠিক মনে করেন।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৬. অনুচ্ছেদঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পায়খানার বেগ হলে তিনি দূরে চলে যেতেন

২০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَأَتَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَاجَتَهُ فَأَبْعَدَ فِي الْمَذْهَبِ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي قُرَادٍ وَأَبِي قَتَادَةَ وَجَابِرٍ وَيَحْيَى بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ أَبِيهِ وَأَبِي مُوسَى وَابْنِ عَبَّاسٍ وَبِلاَلِ بْنِ الْحَارِثِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَيُرْوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَرْتَادُ لِبَوْلِهِ مَكَانًا كَمَا يَرْتَادُ مَنْزِلاً ‏.‏ وَأَبُو سَلَمَةَ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ الزُّهْرِيُّ ‏.‏

মুগীরা ইবনু শু‘বা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি কোন এক সফরে নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মলত্যাগের প্রয়োজন হলে তিনি অনেক দূরে চলে গেলেন।

সহীহ। ইবনু মাজাহ- (৩৩০১)।

  •  
  •  
  •  
  •  

এ অনুচ্ছেদে ‘আবদুর রহমান ইবনু আবী কুরাদ, আবূ ক্বাতাদা, জাবির, উবাইদ, আবূ মূসা, ইবনু ‘আব্বাস ও বিলাল ইবনুল হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। নাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে আরো বর্ণিত আছেঃ ‘তিনি সফরে থাকার সময় যেমন আশ্রয়স্থল খুঁজতেন তেমনি পেশাবের জন্য নরম জায়গা খুঁজতেন’। আবূ সালামর নাম ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্দর রহমান ইবনি আউফ আয্‌-যুহরী।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৭. অনুচ্ছেদঃ

গোসলখানায় পেশাব করা মাকরূহ

২১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى، مَرْدَوَيْهِ قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَبُولَ الرَّجُلُ فِي مُسْتَحَمِّهِ ‏.‏ وَقَالَ ‏ “‏ إِنَّ عَامَّةَ الْوَسْوَاسِ مِنْهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَشْعَثَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَيُقَالُ لَهُ أَشْعَثُ الأَعْمَى ‏.‏ وَقَدْ كَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ الْبَوْلَ فِي الْمُغْتَسَلِ وَقَالُوا عَامَّةُ الْوَسْوَاسِ مِنْهُ ‏.‏ وَرَخَّصَ فِيهِ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمُ ابْنُ سِيرِينَ وَقِيلَ لَهُ إِنَّهُ يُقَالُ إِنَّ عَامَّةَ الْوَسْوَاسِ مِنْهُ فَقَالَ رَبُّنَا اللَّهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ ‏.‏ وَقَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ قَدْ وُسِّعَ فِي الْبَوْلِ فِي الْمُغْتَسَلِ إِذَا جَرَى فِيهِ الْمَاءُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدَّثَنَا بِذَلِكَ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الآمُلِيُّ عَنْ حِبَّانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ ‏.‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন ব্যক্তিকে নিজের গোসলখানায় পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরো বলেছেনঃ (মানুষের মনে) বেশিরভাগ ওয়াসওয়াসা তা হতেই সৃষ্টি হয়।

প্রথম অংশ সহীহ, দ্বিতীয় অংশ যঈফ। ইবনু মাজাহ- (৩০৪)।

  •  
  •  
  •  
  •  

এ অনুচ্ছেদে নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবী হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, এটা গারীব হাদীস। শুধু আশ‘আস ইবনু আবদিল্লাহ এটাকে সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বলে বর্ণনা করেছেন এবং তাকে অন্ধ আশ‘আস বলা হয়। এক দল মনীষী গোসলখানায় পেশাব করা মাকরূহ বলেছেন। তাদের মতে, এর দ্বারা মানুষের সন্দেহপ্রবণতা সৃষ্টি হয়। অপর দলের মতে, তার অনুমতি আছে। এদরে মধ্যে ইবুন সীরীন অন্যতম। কেউ তাঁকে প্রশ্ন করল, লোকেরা বলাবলি করছে, ‘বেশিভাগ সন্দেহপ্রবণতা এখান হতেই সৃষ্টি হয়’ এটা কেমন করে? তিনি উত্তরে বলেছেনঃ আল্লাহ আমাদের প্রভু, তাঁর কোন শারীক নেই। ইবনুল মুবারাকের মতে, যদি গোসলখানার পানি গড়িয়ে যায় তাহলে সেখানে পেশাব করার অনুমতি আছে।

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আহমাদ ইবনু ‘আবদাহ আল-আমুলী হিব্বান হতে, তিনি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

হাদিসের মানঃ অন্যান্য

  •  সরাসরি

১৮. অনুচ্ছেদঃ

মিসওয়াক করা বা দাঁত মাজা

২২

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وَحَدِيثُ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كِلاَهُمَا عِنْدِي صَحِيحٌ لأَنَّهُ قَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَذَا الْحَدِيثُ ‏.‏ وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ إِنَّمَا صَحَّ لأَنَّهُ قَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ ‏.‏ وَأَمَّا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ فَزَعَمَ أَنَّ حَدِيثَ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ أَصَحُّ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ وَعَلِيٍّ وَعَائِشَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَحُذَيْفَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ وَأَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَابْنِ عُمَرَ وَأُمِّ حَبِيبَةَ وَأَبِي أُمَامَةَ وَأَبِي أَيُّوبَ وَتَمَّامِ بْنِ عَبَّاسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْظَلَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَوَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ وَأَبِي مُوسَى ‏.‏

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টদায়ক হবে মনে না করলে তাদেরকে প্রত্যেক নামাযের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।

সহীহ। ইবনু মাজাহ- (২৮৭), বুখারী ও মুসলিম।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক, তিনি মুহাম্মদ ইবনু ইবরাহীম হতে তিনি আবূ সালামহ, হতে তিনি যাইদ ইবনু খালিদ হতে তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেছেন।

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ হুরাইরা ও যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ)-এর নিকট হতে আবূ সালাম হতে বর্ণিত উভয় হাদীসই সহীহ। কেননা এ হাদীসটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। মতে যাইদ ইবনু খালিদের নিকট হতে আবূ সালাম হতে বর্ণিত হাদীসটি বেশি সহীহ। এ অনুচ্ছেদে আবূ বাকার সিদ্দীক, ‘আলী, ‘আয়িশাহ্‌, ইবনু ‘আব্বাস, হুযাইফা, যায়িদ ইবনু খালিদ, আনাস, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর, উম্মি হাবীবা, ইবনু উমার, আবূ উমামা, আবূ আইয়ূব, তাম্মাম ইবনু ‘আব্বাস, ‘আবদুল্লাহ ইবনু হানযালা, উম্মি সালামা, ওয়াসিলা ও আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৩

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏”‏ لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ وَلأَخَّرْتُ صَلاَةَ الْعِشَاءِ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَكَانَ زَيْدُ بْنُ خَالِدٍ يَشْهَدُ الصَّلَوَاتِ فِي الْمَسْجِدِ وَسِوَاكُهُ عَلَى أُذُنِهِ مَوْضِعَ الْقَلَمِ مِنْ أُذُنِ الْكَاتِبِ لاَ يَقُومُ إِلَى الصَّلاَةِ إِلاَّ اسْتَنَّ ثُمَّ رَدَّهُ إِلَى مَوْضِعِهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টদায়ক হবে মনে না করলে তাদেরকে সকল নামাযের সময় দাঁত মাজার নির্দেশ দিতাম এবং এশার নামাযের জামা’আত এক-তৃতীয়াংশ রাত পর্যন্ত দেরি করতাম।

অধঃস্তন রাবী আবূ সালামা বলেন, যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ) নামাযে আসতেন আর তাঁর কানের গোড়ার ঠিক সেখানে মিসওয়াক থাকত যেখানে লেখকের কলম থাকে। যখনই তিনি নামাযে দাঁড়াতেন মিসওয়াক করতেন, অতঃপর তা আবার সেখানে রাখতেন।

সহীহ। সহীহ্‌ আবু দাঊদ- (৩৭)।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৯. অনুচ্ছেদঃ

তোমাদের কেউ ঘুম হতে জেগে হাত না ধোয়া পযর্ন্ত যেন তা পানির পাত্রে না ডুবায়

২৪

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، أَحْمَدُ بْنُ بَكَّارٍ الدِّمَشْقِيُّ – يُقَالُ هُوَ مِنْ وَلَدِ بُسْرِ بْنِ أَرْطَاةَ صَاحِبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ فَلاَ يُدْخِلْ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ حَتَّى يُفْرِغَ عَلَيْهَا مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ ‏”‏ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَجَابِرٍ وَعَائِشَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ قَالَ الشَّافِعِيُّ وَأُحِبُّ لِكُلِّ مَنِ اسْتَيْقَظَ مِنَ النَّوْمِ قَائِلَةً كَانَتْ أَوْ غَيْرَهَا أَنْ لاَ يُدْخِلَ يَدَهُ فِي وَضُوئِهِ حَتَّى يَغْسِلَهَا فَإِنْ أَدْخَلَ يَدَهُ قَبْلَ أَنْ يَغْسِلَهَا كَرِهْتُ ذَلِكَ لَهُ وَلَمْ يُفْسِدْ ذَلِكَ الْمَاءَ إِذَا لَمْ يَكُنْ عَلَى يَدِهِ نَجَاسَةٌ ‏.‏ وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ إِذَا اسْتَيْقَظَ مِنَ النَّوْمِ مِنَ اللَّيْلِ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِي وَضُوئِهِ قَبْلَ أَنْ يَغْسِلَهَا فَأَعْجَبُ إِلَىَّ أَنْ يُهَرِيقَ الْمَاءَ ‏.‏ وَقَالَ إِسْحَاقُ إِذَا اسْتَيْقَظَ مِنَ النَّوْمِ بِاللَّيْلِ أَوْ بِالنَّهَارِ فَلاَ يُدْخِلْ يَدَهُ فِي وَضُوئِهِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ‏.‏

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমাদের কেউ রাতের ঘুম হতে জেগে তার হাত দুই অথবা তিনবার না ধোয়া পর্যন্ত যেন তা পানির পাত্রে প্রবেশ না করায়। কেননা তার জানা নেই, রাতে তার হাত কোথায় ছিলো (ঘুমে থাকাবস্থায় লজ্জাস্থানে যেতে পারে)।

সহীহ। ইবনু মাজাহ- (৩৯৩), বুখারী ও মুসলিম, বুখারীতে সংখ্যার উল্লেখ নেই।

  •  
  •  
  •  
  •  

এ অনুচ্ছেদে ইবনু উমার, জাবির ও ‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ)-এর হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম শাফিঈ বলেন, দিনে অথবা রাতে ঘুম থেকে জেগে হাত না ধুয়ে তা ওযূর পানিতে ঢুকানোটা আমি মাকরূহ মনে করি। অবশ্য হাতে নাপাক না থাকা অবস্থায় যদি পাত্রে হাত ঢুকায় তবে পানি নাপাক হবে না। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল বলেন, যদি কেউ রাতের ঘুম থেকে জেগে হাত না ধুয়ে পানির পাত্রে ঢুকায় তাহলে এ পানি ফেলে দিতে হবে। ইমাম ইসহাক বলেন, কেউ যে রাতে অথবা দিনে ঘুম থেকে জেগে হাত ধোয়ার পূর্বে তা পানির পাত্রে না ঢুকায়।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২০. অনুচ্ছেদঃ

ওযূর শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা

২৫

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَبِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الْعَقَدِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ، عَنْ أَبِي ثِفَالٍ الْمُرِّيِّ، عَنْ رَبَاحِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ بْنِ حُوَيْطِبٍ، عَنْ جَدَّتِهِ، عَنْ أَبِيهَا، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ لاَ وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَسَهْلِ بْنِ سَعْدٍ وَأَنَسٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ لاَ أَعْلَمُ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثًا لَهُ إِسْنَادٌ جَيِّدٌ ‏.‏ وَقَالَ إِسْحَاقُ إِنْ تَرَكَ التَّسْمِيَةَ عَامِدًا أَعَادَ الْوُضُوءَ وَإِنْ كَانَ نَاسِيًا أَوْ مُتَأَوِّلاً أَجْزَأَهُ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ رَبَاحِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَبَاحُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ جَدَّتِهِ عَنْ أَبِيهَا ‏.‏ وَأَبُوهَا سَعِيدُ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ ‏.‏ وَأَبُو ثِفَالٍ الْمُرِّيُّ اسْمُهُ ثُمَامَةُ بْنُ حُصَيْنٍ ‏.‏ وَرَبَاحُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ هُوَ أَبُو بَكْرِ بْنُ حُوَيْطِبٍ ‏.‏ مِنْهُمْ مَنْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ فَقَالَ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حُوَيْطِبٍ فَنَسَبَهُ إِلَى جَدِّهِ ‏.‏

রাবাহ ইবনু ‘আবদির রহমান ইবনি আবী সুফিয়ান ইবনি হুআইত্বিব হতে তাঁর দাদী থেকে বর্ণিতঃ

তিনি তাঁর পিতার (সাঈদ ইবনু যায়িদ) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি (সাঈদ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি ওযূর শুরুতে বিলমিল্লাহ বলেনি তার ওযূ হয়নি।

হাসান। ইবনু মাজাহ- (৩৯৯)।

  •  
  •  
  •  
  •  

এ অনুচ্ছেদে ‘আয়িশাহ্‌, আবূ হুরাইরা, আবূ সা‘ঈদ খুদরী, সাহল ইবনু সাদ ও আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আহমাদ ইবনু হাম্বল বলেছেন, এ অনুচ্ছেদে এমন কোন হাদীস আমার জানা নেই যার সনদ শক্তিশালী। ইসহাক বলেন, যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বিসমিল্লাহ না বলে তবে আবার ওযূ করতে হবে। আর যদি ভুলে অথবা হাদীসের ভিন্ন ব্যাখ্যা করে বিসমিল্লাহ না বলে তাহলে প্রথম ওযূই যথেষ্ট। মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল (বুখারী) বলেন, এ অনুচ্ছেদে রাবাহ ইবনু ‘আবদির রহমানের বর্ণিত হাদীস সবচেয়ে উত্তম।

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ রাবাহ ইবনু আব্দির রহমান তার দাদী হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, তার পিতার নাম সা‘ঈদ ইবনু যাইদ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফাইল। আবূ সিফাল মুররী এর নাম সুমামাহ ইবনু হুসাইন। আর রাহবাহ বিনু আব্দির রহমান হলেন আবূ বাকার ইবনু হুআইত্বিব। কেউ কেউ এই হাদীস বর্ণনা করতে যেয়ে বলেছেন, আবূ বাকার ইবুন হুআইত্বিব হতে অর্থাৎ হাদীসটির সম্পর্ক তার দাদার সাথে জুড়ে দিয়েছেন।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

২৬

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عِيَاضٍ، عَنْ أَبِي ثِفَالٍ الْمُرِّيِّ، عَنْ رَبَاحِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ بْنِ حُوَيْطِبٍ، عَنْ جَدَّتِهِ بِنْتِ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِيهَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ ‏.‏

বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

পূর্বের হাদীসের অনুরূপ।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

২১. অনুচ্ছেদঃ

কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া

২৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، وَجَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِذَا تَوَضَّأْتَ فَانْتَثِرْ وَإِذَا اسْتَجْمَرْتَ فَأَوْتِرْ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ وَلَقِيطِ بْنِ صَبِرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَالْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ وَوَائِلِ بْنِ حُجْرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَلَمَةَ بْنِ قَيْسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِيمَنْ تَرَكَ الْمَضْمَضَةَ وَالاِسْتِنْشَاقَ فَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ إِذَا تَرَكَهُمَا فِي الْوُضُوءِ حَتَّى صَلَّى أَعَادَ الصَّلاَةَ وَرَأَوْا ذَلِكَ فِي الْوُضُوءِ وَالْجَنَابَةِ سَوَاءً ‏.‏ وَبِهِ يَقُولُ ابْنُ أَبِي لَيْلَى وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ ‏.‏ وَقَالَ أَحْمَدُ الاِسْتِنْشَاقُ أَوْكَدُ مِنَ الْمَضْمَضَةِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ يُعِيدُ فِي الْجَنَابَةِ وَلاَ يُعِيدُ فِي الْوُضُوءِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَبَعْضِ أَهْلِ الْكُوفَةِ ‏.‏ وَقَالَتْ طَائِفَةٌ لاَ يُعِيدُ فِي الْوُضُوءِ وَلاَ فِي الْجَنَابَةِ لأَنَّهُمَا سُنَّةٌ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلاَ تَجِبُ الإِعَادَةُ عَلَى مَنْ تَرَكَهُمَا فِي الْوُضُوءِ وَلاَ فِي الْجَنَابَةِ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ فِي آخِرَةٍ ‏.‏

সালামা ইবনু ক্বাইস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন তুমি ওযূ কর নাকে পানি দিয়ে ঝেড়ে ফেল এবং যখন (পায়খানায়) ঢিলা ব্যবহার কর বেজোড় সংখ্যায় ব্যবহার কর।

সহীহ। ইবনু মাজাহ- (৪০৬)।

  •  
  •  
  •  
  •  

এ অনুচ্ছেদে উসমান, লাকীত ইবনু সাবিরাহ, ইবনু ‘আব্বাস, মিকদাম ইবনু মাদিকারিব, ওয়াইল ইবনু হুজর ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ সালামা ইবুন কাইসের হাদীস হাসান সহীহ।

যে ব্যক্তি কুলি করেনি ও নাকে পানি দেয়নি তার ওযূর পূর্ণতা সম্পর্কে মনীষীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাদের মধ্যে এক দলের বক্তব্য হল, যে ব্যক্তি ওযূর সময় কুলি করেনি ও নাকে পানি দেয়নি এ অবস্থায় সে নামায আদায় করলে তাকে দ্বিতীয়বার তা আদায় করতে হবে। তাঁরা ওযূ এবং (ওয়াযিব) গোসলের সময় কুলি করা ও নাকে পানি দেয়া অত্যাবশ্যকীয় মনে করেছেন। এ দলে রয়েছেন ইবনু আবী লাইলা, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল ও ইসহাক। ইমাম আহমাদ আরো বলেছেন, নাক পরিষ্কার করা কুলি করার চেয়ে বেশি জরুরী।

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ অন্য এক দল বলেছেন, যদি নাপাকির গোসলে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া না হয় তবে আবার নামায আদায় করতে হবে; আর যদি ওযূর সময় এটা ছাড়া হয় তাহলে নতুন করে নামায আদায় করতে হবে না। এটা সুফিয়ান সাওরী ও কুফার কিছু লোকের (ইমাম আবূ হানীফা ও তাঁর মতানুসারী) বক্তব্য। অপর এক দলের মতে, গোসল অথবা ওযূর সময় এ দুটি কাজ বাদ দিলে নামায নতুন করে আদায় করতে হবে না। কেননা এটা নাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত। অতএব কেউ যদি ফরয গোসরে বা ওযূর সময় কুলি না করে এবং নাকে পানি না দেয় আর এই ওযূ দিয়ে নামায আদায় করে নেয় তাহলে পুনরায় নামায আদায় করতে হবে না। ইমাম মালিক ও শাফিঈ সর্বশেষ এই অভিমত প্রকাশ করেছেন।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২২. অনুচ্ছেদঃ

এক আঁজলা পানি দিয়ে কুলি করা নাক পরিষ্কার করা

২৮

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ كَفٍّ وَاحِدٍ فَعَلَ ذَلِكَ ثَلاَثًا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَقَدْ رَوَى مَالِكٌ وَابْنُ عُيَيْنَةَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى وَلَمْ يَذْكُرُوا هَذَا الْحَرْفَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ كَفٍّ وَاحِدٍ ‏.‏ وَإِنَّمَا ذَكَرَهُ خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ‏.‏ وَخَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثِقَةٌ حَافِظٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْمَضْمَضَةُ وَالاِسْتِنْشَاقُ مِنْ كَفٍّ وَاحِدٍ يُجْزِئُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ تَفْرِيقُهُمَا أَحَبُّ إِلَيْنَا ‏.‏ وَقَالَ الشَّافِعِيُّ إِنْ جَمَعَهُمَا فِي كَفٍّ وَاحِدٍ فَهُوَ جَائِزٌ وَإِنْ فَرَّقَهُمَا فَهُوَ أَحَبُّ إِلَيْنَا ‏.‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ) হত থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে এক আঁজলা পানি দিয়ে কুলি করতে ও নাক পরিষ্কার করতে দেখেছি। তিনি তিনবার এরকম করেছেন।

সহীহ। সহীহ্‌ আবূ দাঊদ-(১১০), বুখারী ও মুসলিম।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদ আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবনু যাইদের সূত্রে বর্ণিত হাদীস হাসান এবং গারীব। মালিক, ইবনু উআইনা ও অন্যরাও ‘আমর ইবনু ইয়াহইয়ার সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক আঁজলা পনি দিয়ে কুলি করেছেন ও নাকে দিয়েছেন এ কথা উল্লেখ করেননি। খালিদ ইবনু ‘আবদুল্লাহই একথা বর্ণনা করেছেন। হাদীস রিজালশাস্ত্র বিচারে তিনি সিকাহ রাবী এবং হাফিয।

কিছু বিদ্বান বলেছেন, এক আঁজলা পানির কিছুটা দিয়ে কুলি করলে ও কিছুটা নাকে দিলে তাতে যথেষ্ট হবে। কেউ কেউ বলেছেন, মুখে এবং নাকে দেওয়ার জন্য পৃথকভাবে পানি নেয়াই উত্তম। ইমাম শাফিঊ বলেছেন, যদিও এক আঁজলা পানি দিয়ে উভয় কাজ করা জায়িয তবুও আমার মতে মুখ ও নাকের জন্য পৃথকভাবে পানি লওয়াই উত্তম।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৩. অনুচ্ছেদঃ

দাড়ি খিলাল করা

২৯

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ أَبِي الْمُخَارِقِ أَبِي أُمَيَّةَ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ بِلاَلٍ، قَالَ رَأَيْتُ عَمَّارَ بْنَ يَاسِرٍ تَوَضَّأَ فَخَلَّلَ لِحْيَتَهُ فَقِيلَ لَهُ أَوْ قَالَ فَقُلْتُ لَهُ أَتُخَلِّلُ لِحْيَتَكَ قَالَ وَمَا يَمْنَعُنِي وَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُخَلِّلُ لِحْيَتَهُ ‏.‏

আবদুল কারীম ইবনু আবুল মুখারিক আবূ উমাইয়া হতে হাসসান ইবনু বিলালের থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আম্মার ইবনু ইয়াসির (রাঃ)-কে ওযূ করার সময় দাড়ি খিলাল করতে দেখলাম। তাঁকে বলা হল, অথবা তিনি (হাসসান) বলেছেন, আমি তাঁকে বললাম, আপনি দাড়ি খিলাল করছেন? তিনি (আম্মার) বললেনঃ (এ কাজে) কে আমাকে বাঁধা দিবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর দাড়ি খিলাল করতে দেখেছি।

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৪২৯)।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩০

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ بِلاَلٍ، عَنْ عَمَّارٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ وَعَائِشَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَأَنَسٍ وَابْنِ أَبِي أَوْفَى وَأَبِي أَيُّوبَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَمِعْتُ إِسْحَاقَ بْنَ مَنْصُورٍ يَقُولُ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ قَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ لَمْ يَسْمَعْ عَبْدُ الْكَرِيمِ مِنْ حَسَّانَ بْنِ بِلاَلٍ حَدِيثَ التَّخْلِيلِ ‏.‏ وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ عَامِرِ بْنِ شَقِيقٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عُثْمَانَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَالَ بِهَذَا أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ رَأَوْا تَخْلِيلَ اللِّحْيَةِ ‏.‏ وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ ‏.‏ وَقَالَ أَحْمَدُ إِنْ سَهَا عَنْ تَخْلِيلِ اللِّحْيَةِ فَهُوَ جَائِزٌ ‏.‏ وَقَالَ إِسْحَاقُ إِنْ تَرَكَهُ نَاسِيًا أَوْ مُتَأَوِّلاً أَجْزَأَهُ وَإِنْ تَرَكَهُ عَامِدًا أَعَادَ ‏.‏

‘আম্মার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘আম্মার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন……….. এ সূত্রেও উপরের হাদীসের মতই বর্ণিত হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে ‘আয়িশাহ্‌, উম্মি সালাম, আনাস, ইবনু আবী আওফা ও আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, আমি ইসহাক ইবনু মানসূরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ আমি আহমাদ ইবনু হাম্বলকে বলতে শুনেছিঃ ইবনু উআইনা বলেছেন, আবদুল কারীম ‘দাড়ি খিলাল করা’ সম্পর্কিত হাদীস হাসসান ইবনু বিলালের নিকট হতে শুনেননি।

মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল (বুখারী) বলেছেন, এ অনুচ্ছেদ ‘আমির ইবনু শাকীক হতে তিনি আবূ ওয়াইল হতে তিনি উসমান হতে বর্ণিত হাদীসটি সবচাইতে সহীহ। সাহাবাই কিরাম ও পরবর্তী পর্যায়ের বেশিভাগ মনীষীর মতে দাড়ি খিলাল করা উচিৎ। ইমামা শাখিঈরও এই মত। ইমাম আহমাদ বলেন, যে ব্যক্তি দাড়ি খিলাল করতে ভুলে গেছে তাতে তার ওযূর কোন লোকসান হয়নি। ইসহাক বলেন, যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দাড়ি খিলাল না করা হয় এবং এই ওযূ দিযে নামায আদায় করে থাকে তাহলে আবার নামায আদায় করতে হবে। আর যদি ভুলবশত অথবা হাদীসের ভিন্ন ব্যাখ্যা করে দাড়ি খিলাল করা ছেড়ে দেয় তবে নামায নতুন করে আদায় করতে হবে না।

হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

  •  সরাসরি

৩১

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ عَامِرِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُخَلِّلُ لِحْيَتَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাড়ি খিলাল করতেন।

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৪৩০)।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৪. অনুচ্ছেদঃ

মাথা মাসিহ করার নিয়মঃ সামনের দিক হতে শুরু করে পিছনের দিকে নিতে হবে

৩২

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى الْقَزَّازُ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِهِ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِمَا إِلَى قَفَاهُ ثُمَّ رَدَّهُمَا حَتَّى رَجَعَ إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ مُعَاوِيَةَ وَالْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ وَعَائِشَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَحْسَنُ وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ ‏.‏

‘আবুদল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’হাতে মাথা মাসিহ করতেন। তিনি হাত দুটি সামনে আনতে এবং পিছনে নিতেন। তিনি মাথার সামনের দিক হতে শুরু করে উভয় হাত ঘাড়ের দিকে নিতেন; অতঃপর পেছন দিক হতে আবার সামনের দিকে এনে শুরু করার জায়গায় পৌঁছাতেন। অতঃপর তিনি উভয় পা ধুতেন।

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৪৩৪), বুখারী ও মুসলিম।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে মুআবিয়া, মিকদাম ইবনু মাদিকারিব ও ‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদ ‘আবুদলত্মাহ ইবনু যাইদের হাদীস সবচাইতে সহীহ এবং সর্বাধিক উত্তম। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক এভাবেই মাথা মাসিহ করার পক্ষে মত ব্যক্ত করেছেন।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৫. অনুচ্ছেদঃ

মাথার পেছন দিক হতে সামনের দিকে মাসিহ করা

৩৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنِ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ بِرَأْسِهِ مَرَّتَيْنِ بَدَأَ بِمُؤَخَّرِ رَأْسِهِ ثُمَّ بِمُقَدَّمِهِ وَبِأُذُنَيْهِ كِلْتَيْهِمَا ظُهُورِهِمَا وَبُطُونِهِمَا ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ وَحَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ أَصَحُّ مِنْ هَذَا وَأَجْوَدُ إِسْنَادًا ‏.‏ وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْكُوفَةِ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ مِنْهُمْ وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ ‏.‏

রুবাই‘ বিনতু মুআব্বিয ইবনি ‘আফরাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের মাথা দু’বার মাসিহ করলেন। তিনি প্রথমবার ঘাড়ের দিক হতে মাসেহ শুরু করলেন এবং দ্বিতীয়বার মাথার সামনের দিক হতে শুরু করলেন। তিনি উভয় কানের ভেতর ও বাহিরও মাসিহ করলেন।

হাসান ইবনু মাজাহ-(৩৯০)।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। তবে ‘আবদুল্লাহ ইবনু যাইদের হাদীস এ হাদীসের তুলনায় অধিকতর সহীহ ও নির্ভরযোগ্য। কুফার বিভিন্ন আলিম এ হাদীসের উপর আমল করেছেন্‌ তাদের মধ্যে ওয়াকী‘ ইবনুল জাররাহ অন্যতম।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

২৬. অনুচ্ছেদঃ

একবার মাথা মাসিহ করা

৩৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنِ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ، أَنَّهَا رَأَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ قَالَتْ مَسَحَ رَأْسَهُ وَمَسَحَ مَا أَقْبَلَ مِنْهُ وَمَا أَدْبَرَ وَصُدْغَيْهِ وَأُذُنَيْهِ مَرَّةً وَاحِدَةً ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَجَدِّ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفِ بْنِ عَمْرٍو ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ الرُّبَيِّعِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ مَسَحَ بِرَأْسِهِ مَرَّةً ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ ‏.‏ وَبِهِ يَقُولُ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ رَأَوْا مَسْحَ الرَّأْسِ مَرَّةً وَاحِدَةً ‏.‏ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْمَكِّيُّ قَالَ سَمِعْتُ سُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ يَقُولُ سَأَلْتُ جَعْفَرَ بْنَ مُحَمَّدٍ عَنْ مَسْحِ الرَّأْسِ أَيُجْزِئُ مَرَّةً فَقَالَ إِي وَاللَّهِ ‏.‏

রুবাই‘ বিনতু মু‘আব্বিয ইবনি ‘আফরাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ওযূ করতে দেখলেন। তিনি বলেন, তিনি (নাবী) মাথার সামনের দিক, পেছনের দিক (সমুদয় মাথা) এবং দুই কানের ভেতর ও বাহির একবার করে মাসিহ করলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

এ অনুচ্ছেদে ‘আলী (রাঃ) ও তালহা ইবনু মুসাররিফ ইবনি আমরের দাদার সূত্রে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ রুবাই হতে বর্ণিত হাদীস হাসান সহীহ । একাধিক বর্ণনায় আছে, নাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার মাথা মাসিহ করেছেন।

বেশিরভাগ সাহাবা ও তাবিঈন একবারই মাথা মাসিহ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। বেশিরভাগ ইমামের ও এই মত। যেমন জা‘ফর ইবনু মুহাম্মদ, সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ইবনু হাম্বল ও ইসহাক একবার মাথা মাসিহ করার কথা বলেছেন।

মুহাম্মদ ইবনু মানসূর মাক্কী বলেন, আমি সুফিয়ান ইবনু উআইনাকে বলতে শুনেছিঃ আমি জা‘ফর ইবনু মুহাম্মদকে প্রশ্ন করলাম, একবার মাথা মাসিহ করা যথেষ্ট কিনা? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহ তা‘আলার শপথ! একবারই যথেষ্ট।

হাদিসের মানঃ হাসান হাদিস

  •  সরাসরি

২৭. অনুচ্ছেদঃ

মাথা মাসিহ করার জন্য পৃথকভাবে পানি নেয়া

৩৫

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ حَبَّانَ بْنِ وَاسِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وَأَنَّهُ مَسَحَ رَأْسَهُ بِمَاءٍ غَيْرِ فَضْلِ يَدَيْهِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَرَوَى ابْنُ لَهِيعَةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ حَبَّانَ بْنِ وَاسِعٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وَأَنَّهُ مَسَحَ رَأْسَهُ بِمَاءٍ غَبَرَ مِنْ فَضْلِ يَدَيْهِ ‏”‏ ‏.‏ وَرِوَايَةُ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ حَبَّانَ أَصَحُّ لأَنَّهُ قَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ وَغَيْرِهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ لِرَأْسِهِ مَاءً جَدِيدًا ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ رَأَوْا أَنْ يَأْخُذَ لِرَأْسِهِ مَاءً جَدِيدًا ‏.‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ওযূ করতে দেখলেন। তিনি হাতে লেগে থাকা অতিরিক্ত পানি বাদে নতুন পানি নিয়ে মাথা মাসিহ করলেন।

সহীহ। সহীহ্‌ আবূ দাঊদ-(১১১), মুসলিম।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি ইবনু লাহীআ হাব্‌বানের সূত্রে, তিনি ওয়াসের সূত্রে, তিনি ‘আবুদল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, “ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘হাতের পানি ছাড়া নতুন পানি নিয়ে মাথা মাসিহ করেছেন’। ”

হাব্বানের সূত্রে বর্ণিত ‘আমর ইবনু হারিসের হাদীসটি অধিকতর সহীহ। কেননা তিনি বিভিন্ন সূত্রে ‘আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ) ও অন্য সাহাবীদের নিকট হতে বর্ণনা করেছেনঃ “ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাথা মাসিহ করার জন্য নতুন করে পানি নিয়েছেন। ” বেশিরভাগ বিদ্বানের মতে, নতুনকরে পানি নিয়ে মাথা মাসিহ করবে।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৮. অনুচ্ছেদঃ

কানের ভেতরে ও বাইরে মাসিহ করা

৩৬

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ بِرَأْسِهِ وَأُذُنَيْهِ ظَاهِرِهِمَا وَبَاطِنِهِمَا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنِ الرُّبَيِّعِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ يَرَوْنَ مَسْحَ الأُذُنَيْنِ ظُهُورِهِمَا وَبُطُونِهِمَا ‏.‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাথা মাসিহ করলেন এবং দুই কানের ভেতরে ও বাহিরে মাসিহ করলেন।

হাসান সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৪৩৯)

  •  
  •  
  •  
  •  

এ অনুচ্ছেদে রুবাই’র সূত্রে বর্ণিত হাদিসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)- এর হাদীস হাসান সহীহ। বেশিভাগ বিদ্বান কানের ভেতর ও বাহিরে মাসিহ করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

হাদিসের মানঃ হাসান সহিহ

  •  সরাসরি

২৯. অনুচ্ছেদঃ

দুই কান মাথার অন্তর্ভূক্ত

৩৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ سِنَانِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَيَدَيْهِ ثَلاَثًا وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَقَالَ ‏ “‏ الأُذُنَانِ مِنَ الرَّأْسِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى قَالَ قُتَيْبَةُ قَالَ حَمَّادٌ لاَ أَدْرِي هَذَا مِنْ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ مِنْ قَوْلِ أَبِي أُمَامَةَ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِذَاكَ الْقَائِمِ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ أَنَّ الأُذُنَيْنِ مِنَ الرَّأْسِ ‏.‏ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مَا أَقْبَلَ مِنَ الأُذُنَيْنِ فَمِنَ الْوَجْهِ وَمَا أَدْبَرَ فَمِنَ الرَّأْسِ ‏.‏ قَالَ إِسْحَاقُ وَأَخْتَارُ أَنْ يَمْسَحَ مُقَدَّمَهُمَا مَعَ الْوَجْهِ وَمُؤَخَّرَهُمَا مَعَ رَأْسِهِ ‏.‏ وَقَالَ الشَّافِعِيُّ هُمَا سُنَّةٌ عَلَى حِيَالِهِمَا يَمْسَحُهُمَا بِمَاءٍ جَدِيدٍ ‏.‏

আবূ উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওযূ করলেন। তিনি মুখমন্ডল ও উভয় হাত তিনবার করে ধুলেন এবং মাথা মাসিহ করলেন আর বললেনঃ উভয় কান মাথারই অংশ।

সহীহ। ইবনু মাজাহ- (৪৪৪)

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ কুতাইবা বলেন, হাম্মদ বলেছেন, ‘কানদুটো মাথারই অংশ’ কথাটা কি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের না আবূ উসামার- তা আমি জানি না। এ অনুচ্ছেদে আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে।

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসের সনদ খুব একটা মজবুত নয়। বেশিরভাগ সাহাবা ও মনীষীর মতে, কান মাথারই অংশ। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক, শাফিয়ী আহমাদ ও ইসহাকের এটাই মত। কিছু মনীষী বলেছেন, কানের অগ্রভাগ মুখমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত এবং গোড়ার দিক মাথার অন্তর্ভুক্ত। ইসহাক বলেন, আমি কানের অগ্রভাগ মুখমন্ডলের সাথে এবং গোড়ার ভাগ মাথার সাথে মাসিহ করা পছন্দ করি। ইমাম শাফিঈ বলেন, কানের অবস্থান অনুসারে এটা আলাদা সুন্নাত। নতুন করে পানি নিয়ে দুই কান মাসিহ করবে।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩০. অনুচ্ছেদঃ

আঙ্গুল খিলাল করা

৩৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَهَنَّادٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ لَقِيطِ بْنِ صَبِرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِذَا تَوَضَّأْتَ فَخَلِّلِ الأَصَابِعَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَالْمُسْتَوْرِدِ وَهُوَ ابْنُ شَدَّادٍ الْفِهْرِيُّ وَأَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُ يُخَلِّلُ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ فِي الْوُضُوءِ ‏.‏ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ ‏.‏ وَقَالَ إِسْحَاقُ يُخَلِّلُ أَصَابِعَ يَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ فِي الْوُضُوءِ ‏.‏ وَأَبُو هَاشِمٍ اسْمُهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ كَثِيرٍ الْمَكِّيُّ ‏.‏

আসিম ইবনু লাকীত ইবনু সাবিরা হতে তাঁর পিতার সূত্রে থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন তুমি ওযূ করবে, আঙ্গুলও খিলাল করবে।

সহীহ। ইবনু মাজাহ- (৪৪৮)।

  •  
  •  
  •  
  •  

এ অনুচ্ছেদে ইবনু ‘আব্বাস, মুসতাওরিদ ও আবূ আইয়ুব (রাঃ)-এর হাদীসও রয়েছে।

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। মনীষীদের মতে ওযূর সময় পায়ের আঙ্গুল খিলাল করতে হবে। ইমাম আহমাদ এবং ইসহাক এ মতের পক্ষপাতি। ইসহাক বলেন, হাত এবং পায়ের আঙ্গুল খিলাল করা উচিৎ। আবূ হাশিমের নাম ইসমাঈল ইবনু কাসীর আল-মাক্কী।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩৯

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ، هُوَ الْجَوْهَرِيُّ حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ صَالِحٍ، مَوْلَى التَّوْأَمَةِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِذَا تَوَضَّأْتَ فَخَلِّلْ بَيْنَ أَصَابِعِ يَدَيْكَ وَرِجْلَيْكَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যখন তুমি ওযূ করবে তখন দুই হাত ও দুই পায়ের আঙ্গুল খিলাল করবে।

হাসান সহীহ। ইবনু মাজাহ- (৪৪৭)।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান গারীব।

হাদিসের মানঃ হাসান সহিহ

  •  সরাসরি

৪০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ الْفِهْرِيِّ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِذَا تَوَضَّأَ دَلَكَ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ بِخِنْصَرِهِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ لَهِيعَةَ ‏.‏

মুসতাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ আল-ফিহরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি দেখেছি, নবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ওযূ করতেন, (বাঁ হাতের) ছোট আঙ্গুল দিয়ে দু’পায়ের আঙ্গুলগুলো মলতেন।

সহীহ। ইবনু মাজাহ- (৪৪৬)।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমি ইবনু লাহীআ ছাড়া আর কোন রাবীর নিকট এ হাদীসটি শুনিনি।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩১. অনুচ্ছেদঃ

পায়ের গোড়ালি ধোয়ার ব্যাপারে যারা সতর্কতা অবলম্বন করে না তাদেরকে আগুনের ভীতি প্রদর্শন করা সম্পর্কে

৪১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ وَيْلٌ لِلأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعَائِشَةَ وَجَابِرٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ هُوَ ابْنُ جَزْءٍ الزُّبَيْدِيُّ وَمُعَيْقِيبٍ وَخَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ وَشُرَحْبِيلَ بْنِ حَسَنَةَ وَعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَيَزِيدَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏”‏ وَيْلٌ لِلأَعْقَابِ وَبُطُونِ الأَقْدَامِ مِنَ النَّارِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَفِقْهُ هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّهُ لاَ يَجُوزُ الْمَسْحُ عَلَى الْقَدَمَيْنِ إِذَا لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِمَا خُفَّانِ أَوْ جَوْرَبَانِ ‏.‏

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, পায়ের গোড়ালির জন্য আগুনের শাস্তি।

সহীহ, বুখারী ও মুসলিম।

  •  
  •  
  •  
  •  

এ অনুচ্ছেদে ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর, ‘আয়িশাহ্‌, জাবির ইবনু ‘আবদিল্লাহ, ‘আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস, মু‘আইকীব, খালিদ ইবনু ওয়ালীদ, শুরাহবীল ইবনু হাসানা, ‘আমর ইবনুল আস ও ইয়াযীদ ইবনু আবী সুফিয়অনের সূত্রে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ হুরাইরার হাদীসটি হাসান সহীহ।

নাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ

“পায়ের গোড়ালি ও পায়ের পাতার জন্য ধ্বংস রয়েছে ”।

ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসের সার কথা হল, পায়ে যদি মোজা না থাকে তবে (ধোয়ার পরিবর্তে) পা মাসিহ করা জায়িয নেই।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩২. অনুচ্ছেদঃ

ওযূর সময় প্রত্যেক অংশ একবার করে ধোয়া

৪২

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَهَنَّادٌ، وَقُتَيْبَةُ، قَالُوا حَدَّثَنَا وِكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَجَابِرٍ وَبُرَيْدَةَ وَأَبِي رَافِعٍ وَابْنِ الْفَاكِهِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَصَحُّ ‏.‏ وَرَوَى رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ وَغَيْرُهُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ شُرَحْبِيلَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً ‏.‏ قَالَ وَلَيْسَ هَذَا بِشَيْءٍ وَالصَّحِيحُ مَا رَوَى ابْنُ عَجْلاَنَ وَهِشَامُ بْنُ سَعْدٍ وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওযূর প্রতিটি অংগ একবার করে ধুয়েছেন।

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৪১১), বুখারী।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে উমার, জাবির, বুরাইদা, আবূ রাফি‘ ও ইবনুল ফাকিহি (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে উমার, জাবির, বুরাইদা, আবূ রাফি‘ ও ইবনুল ফাকিহি (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে ইবনু আব্বাসের হাদীস বেশি সহীহ ও উত্তম। ইমাম তিরমিযী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ হাদীসটি অপর একটি সূত্রে ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এ বর্ণনা সূত্রটি তেমন সহীহ নয়। বরং ইবনু ‘আজলান, হিশাম ইবনু সাদ, সুফিয়ান সাওরী এবং আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মদ প্রমূখ যাইদ ইবনু আসলামের সূত্রে, তিনি আতা ইবনু ইয়াসারের সূত্রে, তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে হাদীস বর্ণনা করেছেন তা-ই বেশি সহীহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩৩. অনুচ্ছেদঃ

ওযূর সময় প্রত্যেক অঙ্গ দুইবার করে ধোয়া

৪৩

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ ثَوْبَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْفَضْلِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ، هُوَ الأَعْرَجُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ ثَوْبَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ وَهُوَ إِسْنَادٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى هَمَّامٌ عَنْ عَامِرٍ الأَحْوَلِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ ثَلاَثًا ثَلاَثًا ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (ওযূর সময়) প্রতিটি অঙ্গ দু’বার করে ধুয়েছেন।

হাসান সহীহ। সহীহ্‌ আবূ দাঊদ- (১২৫)।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। আমি এটা শুধু ইবনু সাওবানের নিকট হতে জেনেছি, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু ফাযলের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এ সনদটি হাসান সহীহ।

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে জাবির (রাঃ)-এর হাদীসও রয়েছে।

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাম্মাম, ‘আমির আল-আহওয়াল হতে, তিনি ‘আতা হতে, তিনি আবূ হুরাইরা হতে বর্ণনা করেনঃ “নাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওযূর প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধুয়েছেন। ”

হাদিসের মানঃ হাসান সহিহ

  •  সরাসরি

৩৪. অনুচ্ছেদঃ

ওযূর সময় প্রত্যেক অঙ্গ তিনবার করে ধোয়া

৪৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي حَيَّةَ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ ثَلاَثًا ثَلاَثًا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ وَعَائِشَةَ وَالرُّبَيِّعِ وَابْنِ عُمَرَ وَأَبِي أُمَامَةَ وَأَبِي رَافِعٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَمُعَاوِيَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَجَابِرٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ وَأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَلِيٍّ أَحْسَنُ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَصَحُّ لأَنَّهُ قَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عَلِيٍّ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الْوُضُوءَ يُجْزِئُ مَرَّةً مَرَّةً وَمَرَّتَيْنِ أَفْضَلُ وَأَفْضَلُهُ ثَلاَثٌ وَلَيْسَ بَعْدَهُ شَيْءٌ ‏.‏ وَقَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ لاَ آمَنُ إِذَا زَادَ فِي الْوُضُوءِ عَلَى الثَّلاَثِ أَنْ يَأْثَمَ ‏.‏ وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ لاَ يَزِيدُ عَلَى الثَّلاَثِ إِلاَّ رَجُلٌ مُبْتَلًى ‏.‏

‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওযূর প্রত্যেক অঙ্গ তিনবার করে ধুয়েছেন।

সহীহ। সহীহ্‌ আবূ দাঊদ- (১০০)।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে উসমান, রুবাঈ‘, ইবনু উমার, ‘আয়িশাহ্‌, আবূ উমামা, আবূ রাফি‘,‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর, মু‘আবিয়া, আবূ হুরাইরা, জাবির, ‘আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ ও উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-এর হাদীসটি বেশি সহীহ ও অধিক উত্তম। কেননা হাদীসটি ‘আলী (রাঃ) হতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হযেছে। মনীষীদের মতামত হল, ওযূর অঙ্গগুলো একবার ধুলেও ওযূ হবে, কিন্তু দু’বার করে ধোয়া ভাল এবং তিনবার করে ধোয়া অধিকতর উত্তম। এর বেশি ধোয়াতে কোন উপকার নেই। ইবনুল মুবারাক বলেনঃ যে ব্যক্তি তিনবারের বেশি ধোয়, আমার ধারণামতে তার গুনাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আহমাদ ও ইসহাক বলেনঃ যে ব্যক্তি অনিশ্চয়তার পরে যায় সে তিনবারের বেশি ধুতে পারে।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩৫. অনুচ্ছেদঃ

ওযূর অঙ্গগুলো এক, দুই অথবা তিনবার ধোয়া সম্পর্কে

৪৫

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى الْفَزَارِيُّ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ أَبِي صَفِيَّةَ، قَالَ قُلْتُ لأَبِي جَعْفَرٍ حَدَّثَكَ جَابِرٌ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً وَمَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ وَثَلاَثًا ثَلاَثًا قَالَ نَعَمْ ‏.‏

সাবিত ইবনু আবূ সাফিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আবূ জা’ফরকে বললাম, জাবির (রাঃ) কি আপনাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওযূর অঙ্গগুলো একবার, দুইবার বা তিনবার করে ধুয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

যঈফ, ইবনু মাজাহ (৪১০)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৪৬

قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى وَكِيعٌ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ ثَابِتِ بْنِ أَبِي صَفِيَّةَ، قَالَ قُلْتُ لأَبِي جَعْفَرٍ حَدَّثَكَ جَابِرٌ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً قَالَ نَعَمْ ‏.‏ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ هَنَّادٌ وَقُتَيْبَةُ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ ثَابِتِ بْنِ أَبِي صَفِيَّةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ شَرِيكٍ لأَنَّهُ قَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ هَذَا عَنْ ثَابِتٍ نَحْوَ رِوَايَةِ وَكِيعٍ ‏.‏ وَشَرِيكٌ كَثِيرُ الْغَلَطِ وَثَابِتُ بْنُ أَبِي صَفِيَّةَ هُوَ أَبُو حَمْزَةَ الثُّمَالِيُّ ‏.‏

সাবিত ইবনু আবূ সাফিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি আবূ জা‘ফরকে বললাম, জাবির (রাঃ) কি আপনাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওযূর অঙ্গগুলো একবার করে ধুয়েছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। হাদীসটি হান্নাদ ও কুতাইবা বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়েই বলেন, ওয়াকী সাবিত ইবনু সাফিয়্যা হতে বর্ণনা করেছেন।

সহীহ। এই হাদীসটি ইবনু ‘আব্বাস কর্তৃক বর্ণিত ৪২ নং এর অনুরূপ তাই সহীহ্‌।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ বর্ণনাটি শরীকের বর্ণনাটির চেয়ে বেশি সহীহ। কেননা এটি বিভিন্ন সূত্রে সাবিত হতে বর্ণিত হয়েছে। আর শরীক অনেক ক্রটির শিকার হন। সাবিত আবী সাফিয়্যা তিনি হলেন, আবূ হামযা আস-সুমালী।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩৬. অনুচ্ছেদঃ

যে ব্যক্তি কোন অঙ্গ দু’বার এবং কোন অঙ্গ তিনবার ধোয়

৪৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ مَرَّتَيْنِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ ذُكِرَ فِي غَيْرِ حَدِيثٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ بَعْضَ وُضُوئِهِ مَرَّةً وَبَعْضَهُ ثَلاَثًا ‏.‏ وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي ذَلِكَ لَمْ يَرَوْا بَأْسًا أَنْ يَتَوَضَّأَ الرَّجْلُ بَعْضَ وُضُوئِهِ ثَلاَثًا وَبَعْضَهُ مَرَّتَيْنِ أَوْ مَرَّةً ‏.‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার ওযূ করলেন। তিনি তিনবার মুখমন্ডল ধুলেন, দুই হাত দু’বার করে ধুলেন, মাথা মাসিহ করলেন এবং উভয় পা দু’বার ধুলেন। সহীহ, তবে দু’বার ধুলেন, অংশটি শাজ।

সহীহ্‌। আবূ দাঊদ- (১০৯)।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ ছাড়াও কায়েকটি হাদীসে উল্লেখ আছেঃ “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন অঙ্গ একবার এবং কোন অঙ্গ তিনবার ধুয়েছেন। ”

এর পরিপ্রেক্ষিতে কিছু আলিম অনুমতি দিয়েছেন যে, কেউ যদি ওযূর সময় কোন অঙ্গ দু’বার, কোন অঙ্গ তিনবার এবং কোন অঙ্গ একবার ধোয় তবে তাতে কোন অপরাধ নেই।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩৭. অনুচ্ছেদঃ

নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযূ কেমন ছিল

৪৮

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَقُتَيْبَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي حَيَّةَ، قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا تَوَضَّأَ فَغَسَلَ كَفَّيْهِ حَتَّى أَنْقَاهُمَا ثُمَّ مَضْمَضَ ثَلاَثًا وَاسْتَنْشَقَ ثَلاَثًا وَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَذِرَاعَيْهِ ثَلاَثًا وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ مَرَّةً ثُمَّ غَسَلَ قَدَمَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَأَخَذَ فَضْلَ طَهُورِهِ فَشَرِبَهُ وَهُوَ قَائِمٌ ثُمَّ قَالَ أَحْبَبْتُ أَنْ أُرِيَكُمْ كَيْفَ كَانَ طُهُورُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُثْمَانَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَالرُّبَيِّعِ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ وَعَائِشَةَ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ ‏.‏

আবূ হাইআ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আলী (রাঃ) কে ওযূ করতে দেখেছি। তিনি উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত ধুলেন এবং ভাল ভাবে পরিষ্কার করলেন; তিনবার কুলি করলেন, তিনবার নাকে পানি দিলেন, তিনিবার মুখমন্ডল ধুলেন, তিনবার করে উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধুলেন, একবার মাথা মাসিহ করলেন এবং উভয় পা গোছা পর্যন্ত ধুলেন। এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং ওযূর অবশিষ্ট পানি তুলে নিয়ে তা দাঁড়ানো অবস্থায় পান করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযূ কিরূপ ছিল তা তোমাদের দেখানোর জন্যই আমি এরূপ করা পছন্দ করলাম।

সহীহ। সহীহ্‌ আবূ দাঊদ- (১০১-১০৫), বুখারী সংক্ষেপিত।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে উসমান, ‘আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ ইবনু ‘আব্বাস, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর, ‘আয়িশাহ্‌, রুবাই ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু উনাইস (রাঃ)-এর হাদীসও রয়েছে।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৪৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَهَنَّادٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ، ذَكَرَ عَنْ عَلِيٍّ، مِثْلَ حَدِيثِ أَبِي حَيَّةَ إِلاَّ أَنَّ عَبْدَ خَيْرٍ، قَالَ كَانَ إِذَا فَرَغَ مِنْ طُهُورِهِ أَخَذَ مِنْ فَضْلِ طَهُورِهِ بِكَفِّهِ فَشَرِبَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَلِيٍّ رَوَاهُ أَبُو إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ عَنْ أَبِي حَيَّةَ وَعَبْدِ خَيْرٍ وَالْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ وَقَدْ رَوَى زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ عَنْ عَلِيٍّ رضى الله عنه حَدِيثَ الْوُضُوءِ بِطُولِهِ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ قَالَ وَرَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَلْقَمَةَ فَأَخْطَأَ فِي اسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ فَقَالَ مَالِكُ بْنُ عُرْفُطَةَ عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ عَنْ عَلِيٍّ ‏.‏ قَالَ وَرُوِيَ عَنْ أَبِي عَوَانَةَ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ عَنْ عَلِيٍّ ‏.‏ قَالَ وَرُوِيَ عَنْهُ عَنْ مَالِكِ بْنِ عُرْفُطَةَ مِثْلَ رِوَايَةِ شُعْبَةَ وَالصَّحِيحُ خَالِدُ بْنُ عَلْقَمَةَ ‏.‏

আবদি খাইর ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আবদি খাইর ‘আলী (রাঃ)-এর সূত্রে আবূ হাইআ হতে বর্ণিত হাদীসের মত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আবদি খাইরের বর্ণিত হাদীসের শেষের অংশ নিম্নরূপঃ তিনি যখন ওযূ শেষ করতেন তখন অবশিষ্ট পানি হাতের আঁজলে নিয়ে পান করতেন।

সহীহ। দেখুন পূর্ববর্তী হাদীস।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ‘আলী (রাঃ)-এর হাদীসটি আবূ ইসহাক হামদানী বর্ণনা করেছেন আবূ হাইআ হতে, তিনি আবদু খাইর ও হারিস হতে, তিনি ‘আলী হতে।

যায়িদাহ ইবনু কুদামাহ এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনু ‘আলক্বামাহ হতে, তিনি আবদুখাইর হতে, তিনি ‘আলী (রাঃ) হতে ওযূর হাদীস বিস্তারিতভাবে। এই হাদীসটি হাসান সহীহ্‌।

শু‘বা এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনু ‘আলক্বামা হতে, তিনি ভুলক্রমে তার নাম ও তার পিতার নাম বলেছেন এভাবে মালিক ইবনু উরফুতাহ তিনি আবদু খাইর হতে, তিনি ‘আলী (রা) হতে।

আবূ আওয়ানাহ হতে বর্ণিত হয়েছে খালিদ ইবনু ‘আল-ক্বামাহ হতে, তিনি আবদু খাইর হতে। তিনি ‘আলী (রাঃ) হতে।

এবং তার কাছ থেকে এবাবেও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মালিক ইবনু উরফুতাহ হতে শুবা’র বর্ণনার মতো। অথচ সঠিক হচ্ছে খালিদ ইবনু ‘আলক্বামাহ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩৮. অনুচ্ছেদঃ

ওযূর শেষে পরিধানের কাপড়ে পানি ছিটানো

৫০

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدِ اللَّهِ السَّلِيمِيُّ الْبَصْرِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو قُتَيْبَةَ، سَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ الْهَاشِمِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ جَاءَنِي جِبْرِيلُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِذَا تَوَضَّأْتَ فَانْتَضِحْ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ ‏.‏ قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْهَاشِمِيُّ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي الْحَكَمِ بْنِ سُفْيَانَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَزَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ سُفْيَانُ بْنُ الْحَكَمِ أَوِ الْحَكَمُ بْنُ سُفْيَانَ وَاضْطَرَبُوا فِي هَذَا الْحَدِيثِ ‏.‏

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! যখন আপনি ওযূ করেন, (পরিধেয় বস্ত্রে) পানি ছিটিয়ে দেন।

যঈফ, ইবনু মাজাহ (৪৬৩)।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ঈসা বলেন এটা গারীব হাদীস। আমি মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি, হাসান ইবনু আলী একজন প্রত্যাখ্যাত (মুনকার) রাবী। এ অনুচ্ছেদে আবুল হাকাম ইবনু সুফিয়ান, ইবনু আব্বাস, যাইদ ইবনু হারিছা ও আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসও আছে। কিছু হাদীস বিশারদ বলেছেন, সুফিয়ান ইবনু হাকাম অথবা হাকাম ইবনু সুফিয়ান এ হাদীসের সনদে গরমিল (ইযতিবার) করেছেন।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

৩৯. অনুচ্ছেদঃ

সুন্দরভাবে ওযূ করা

৫১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ ‏”‏ ‏.‏

আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি কি তোমাদের বলব না, আল্লাহ তা‘আলা কি দিয়ে গুনাহ মুছে দেন এবং মর্যাদা বাড়িয়ে দেন? সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! হ্যাঁ (বলে দিন)। তিনি বললেনঃ কষ্ট থাকার পরেও ভালভাবে ওযূ করা, মাসজিদের দিকে বেশি বেশি যাতায়াত করা এবং এক নামায শেষ করে পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষায় থাকা। আর এটাই হল ‘রিবাত’ (প্রস্তুতি)।

সহীহ্‌। ইবনু মাজাহ-(৪২৮), মুসলিম।

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫২

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلاَءِ، نَحْوَهُ ‏.‏ وَقَالَ قُتَيْبَةُ فِي حَدِيثِهِ ‏ “‏ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ ‏”‏ ‏.‏ ثَلاَثًا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَبِيدَةَ وَيُقَالُ عُبَيْدَةُ بْنِ عَمْرٍو وَعَائِشَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَائِشٍ الْحَضْرَمِيِّ وَأَنَسٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَلاَءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ هُوَ ابْنُ يَعْقُوبَ الْجُهَنِيُّ الْحُرَقِيُّ وَهُوَ ثِقَةٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ ‏.‏

‘আলা (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

‘আলা (রহঃ) হতে এই সনদসূত্রে উপরের হাদীসের মতই বর্ণিত হয়েছে, কুতাইবা তাঁর সনদে বর্ণিত হাদীসে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথাটা এভাবে) উল্লেখ করেছেনঃ ‘এটাই তোমাদের জন্য রিবাত, এটাই তোমাদের জন্য রিবাত, এটাই তোমাদের জন্য রিবাত। ’ এ কথাটা (এ বর্ণনায়) তিনবার উল্লেখিত হয়েছে।

সহীহ্‌। দেখুন পূর্ববর্ণিত হাদীস।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদ ‘আলী ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আব্বাস, উবাইদা (ইবনু আমর), ‘আয়িশাহ্‌, আবদুর রহমান ইবনু ‘আয়িশাহ্‌ ও আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আবূ হুরাইরার হাদীস হাসান সহীহ। ‘আলা ইবনু ‘আবদুর রহমান, ইনি ইয়া‘কুব আল-জুহানীর পুত্র এবং হাদীস বিশারদদের মতে সিকাহ রাবী।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৪০. অনুচ্ছেদঃ

ওযূর পর রুমাল ব্যবহার করা

৫৩

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعِ بْنِ الْجَرَّاحِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ حُبَابٍ، عَنْ أَبِي مُعَاذٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خِرْقَةٌ يُنَشِّفُ بِهَا بَعْدَ الْوُضُوءِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ لَيْسَ بِالْقَائِمِ وَلاَ يَصِحُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْبَابِ شَيْءٌ ‏.‏ وَأَبُو مُعَاذٍ يَقُولُونَ هُوَ سُلَيْمَانُ بْنُ أَرْقَمَ وَهُوَ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ ‏.‏

আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য একটি বস্ত্রখণ্ড ছিল। ওযূ করার পর এটা দিয়ে তিনি (ওযূর অঙ্গসমূহ) মুছে নিতেন।

সনদ দুর্বল।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ঈসা বলেনঃ আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি শক্তিশালী নয়। এ অনুচ্ছেদে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন হাদীস সহীহ সনদে বর্ণিত হয়নি। কেননা এ হাদীসের এক রাবী আবূ মুআয সম্পর্কে লোকেরা বলেন, ইনি হলেন সুলাইমান ইবনু আরকাম। ইনি মুহাদ্দিসদের বিচারে দুর্বল রাবী। এ অনুচ্ছেদে মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৫৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ حُمَيْدٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِذَا تَوَضَّأَ مَسَحَ وَجْهَهُ بِطَرَفِ ثَوْبِهِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَإِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ ‏.‏ وَرِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمٍ الإِفْرِيقِيُّ يُضَعَّفَانِ فِي الْحَدِيثِ ‏.‏ وَقَدْ رَخَّصَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ فِي التَّمَنْدُلِ بَعْدَ الْوُضُوءِ وَمَنْ كَرِهَهُ إِنَّمَا كَرِهَهُ مِنْ قِبَلِ أَنَّهُ قِيلَ إِنَّ الْوَضُوءَ يُوزَنُ ‏.‏ وَرُوِيَ ذَلِكَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَالزُّهْرِيِّ ‏.‏ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ الرَّازِيُّ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ قَالَ حَدَّثَنِيهِ عَلِيُّ بْنُ مُجَاهِدٍ عَنِّي وَهُوَ عِنْدِي ثِقَةٌ عَنْ ثَعْلَبَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ إِنَّمَا كُرِهَ الْمِنْدِيلُ بَعْدَ الْوُضُوءِ لأَنَّ الْوَضُوءَ يُوزَنُ ‏.‏

মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি- তিনি ওযূ করে তাঁর কাপড়ের কিনারা দিয়ে মুখমন্ডল মুছে ফেলতেন।

সনদ দুর্বল।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ঈসা বলেন, এটা গারীব হাদীস এবং এর সনদ দুর্বল। এ হাদীসের রাবী রিশদীন ইবনু সাদ ও আবদুর রহমান ইবনু যিয়াদ ইবনু আনউম হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল।

কিছু সাহাবী ও তাদের পরবর্তী কালের একদল বিদ্বান ওযূর পরে রুমাল ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন। যারা ওযূর অঙ্গ মোছা মাকরূহ মনে করেন তাদের মতে ওযূর পানি ওজন দেওয়া হয়। অতএব এটা মুছে ফেলা ঠিক নয়। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব ও যুহরী হতে এ মত বর্ণিত হয়েছে। ইমাম যুহরী বলেন, ওযূর পর রুমাল ব্যবহার করা মাকরূহ। কেননা ওযূর পানিকেও ওজন করা হবে।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৪১. অনুচ্ছেদঃ

ওযূর পর যা বলতে হবে

৫৫

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِمْرَانَ الثَّعْلَبِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ الدِّمَشْقِيِّ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، وَأَبِي، عُثْمَانَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ فُتِحَتْ لَهُ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَعُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عُمَرَ قَدْ خُولِفَ زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ ‏.‏ قَالَ وَرَوَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ وَغَيْرُهُ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ عَنْ عُمَرَ ‏.‏ وَعَنْ رَبِيعَةَ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ عُمَرَ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ فِي إِسْنَادِهِ اضْطِرَابٌ وَلاَ يَصِحُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْبَابِ كَبِيرُ شَيْءٍ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدٌ وَأَبُو إِدْرِيسَ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عُمَرَ شَيْئًا ‏.‏

উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযূ করার পর বলেঃ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ তা‘আলা ব্যতিত আর কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শারীক নেই; আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দাহ ও তাঁরই রাসূল; হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর”, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে। সে নিজ ইচ্ছামত যে কোন দরজা দিয়েই তাতে যেতে পারবে।

সহীহ্‌। ইবনু মাজাহ-(৪৭০)।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে আনাস ও উক্ববা ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসে যাইদ ইবনু হুবাবের কারণে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেনঃ ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সালিহ এবং অন্যরা মু‘য়াবিয়াহ ইবনু সালিহ হতে তিনি রাবিয়াহ্‌ ইবনু ইয়াযিদ হতে, তিনি আবূ ইদরিস হতে তিনি উক্ববা ইবনু ‘আমির হতে তিনি উমার হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং অন্য সূত্রে রাবিয়হ্‌ হতে তিনি আবূ উসমান হতে তিনি জুবাইর ইবনু নুফাইর হতে তিনি উমার হতে বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসের সনদে অসংলগ্নতা রয়েছে। এ অনুচ্ছেদে নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে কোন সূত্রেই খুব একটা সহীহ হাদীস বর্ণিত নেই। মুহাম্মদ (বুখারী) বলেন, আবূ ইদরীস উমারের কাছে কোন কিছুই শুনেননি।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৪২. অনুচ্ছেদঃ

এক মুদ্দ পানি দিয়ে ওযূ করা

৫৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَبِي رَيْحَانَةَ، عَنْ سَفِينَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ وَيَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَجَابِرٍ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَفِينَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَأَبُو رَيْحَانَةَ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَطَرٍ ‏.‏ وَهَكَذَا رَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْوُضُوءَ بِالْمُدِّ وَالْغُسْلَ بِالصَّاعِ ‏.‏ وَقَالَ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ لَيْسَ مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ عَلَى التَّوْقِيتِ أَنَّهُ لاَ يَجُوزُ أَكْثَرُ مِنْهُ وَلاَ أَقَلُّ مِنْهُ وَهُوَ قَدْرُ مَا يَكْفِي ‏.‏

সাফীনাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘এক মুদ্দ পানি দিয়ে ওযূ করতেন এবং এক সা পানি দিয়ে গোসল করতেন।

সহীহ্‌। ইবনু মাজাহ- (২৬৭)।

  •  
  •  
  •  
  •  

এ অনুচ্ছেদে ‘আয়িশাহ্‌, জাবির ও আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ সাফীনার হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ রায়হানার নাম ‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাতার। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, ওযূ এক মুদ্দ এবং এক সা পানি দিয়েই করতে হবে। কিন্তু ইমম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, হাদীসের তাৎপর্য এটা নয় যে, এক মুদ্দ বা এক সা-এর বেশি বা কম পানি ব্যবহার করা যাবে না, বরং এটা একটা পরিমাণ যা ওযূ ও গোসলের জন্য যথেষ্ট।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৪৩. অনুচ্ছেদঃ

ওযূর মধ্যে পানির অপচয় মাকরূহ

৫৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا خَارِجَةُ بْنُ مُصْعَبٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عُتَىِّ بْنِ ضَمْرَةَ السَّعْدِيِّ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ إِنَّ لِلْوُضُوءِ شَيْطَانًا يُقَالُ لَهُ الْوَلْهَانُ فَاتَّقُوا وَسْوَاسَ الْمَاءِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِالْقَوِيِّ وَالصَّحِيحِ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ لأَنَّا لاَ نَعْلَمُ أَحَدًا أَسْنَدَهُ غَيْرَ خَارِجَةَ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ الْحَسَنِ قَوْلَهُ وَلاَ يَصِحُّ فِي هَذَا الْبَابِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شَيْءٌ ‏.‏ وَخَارِجَةُ لَيْسَ بِالْقَوِيِّ عِنْدَ أَصْحَابِنَا وَضَعَّفَهُ ابْنُ الْمُبَارَكِ ‏.‏

উবাই ইবনু কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ওযূর সময় (সন্দেহপ্রবণতা সৃষ্টি করার জন্যই) একটি শাইতান রয়েছে। তার নাম ‘ওয়ালাহান’ বলে কথিত। অতএব ওযূর সময় পানি ব্যবহারে ওয়াসওয়াসা হতে সতর্ক থাক।

সনদ দুর্বল, ইবনু মাজাহ (৪২১)।

  •  
  •  
  •  
  •  

এ অনুচ্ছেদে আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ)-এর হাদীসও রয়েছে। আবূ ঈসা বলেন, উবাই ইবনু কাব (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি গারীব। হাদীস বিশারদদের মতে এর সনদ মজবুত নয়। কেননা খারিজাহ ছাড়া আর কেউ এ হাদীসকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। কিছু সূত্রে এটাকে (হাদীসটিকে) হাসান বাসরীর কথা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অনুচ্ছেদে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হতে কোন সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়নি। হাদীস বিশারদদের নিকট খারিজাহ তত সবল রাবী নন। ইবনুল মুবারাক তাঁকে দুর্বল রাবী মনে করেছেন।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৪৪. অনুচ্ছেদঃ

প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাজের জন্য নতুনভাবে ওযূ করা

৫৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ الْفَضْلِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ طَاهِرًا أَوْ غَيْرَ طَاهِرٍ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ لأَنَسٍ فَكَيْفَ كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ أَنْتُمْ قَالَ كُنَّا نَتَوَضَّأُ وُضُوءًا وَاحِدًا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَالْمَشْهُورُ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ حَدِيثُ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ الأَنْصَارِيِّ عَنْ أَنَسٍ ‏.‏ وَقَدْ كَانَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ يَرَى الْوُضُوءَ لِكُلِّ صَلاَةٍ اسْتِحْبَابًا لاَ عَلَى الْوُجُوبِ ‏.‏

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাজের জন্য নতুন ওযূ করতেন, তিনি পবিত্র (ওযূ) থাকলেও করতেন এবং অপবিত্র (ওযূহীন) থাকলেও করতেন। হুমাইদ বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, আপনারা কি করেন? তিনি বললেন, আমরা একই ওযূতে কাজ সারি।

যইফ, সহীহ আবূ দাঊদ (১৬৩)।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবু ঈসা বলেন, এই সূত্রে আনাসের বর্ণিত হাদীস হাসান গারীব। এ পর্যায়ে আমর ইবনু আমির হতে আনাসের সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি হাদীস বিশারদদের নিকট অতিপরিচিত। কিছু মনীষীর মতে, প্রত্যেক নামাজের জন্য নতুন করে ওযূ করা মুস্তাহাব, তবে ওয়াজিব নয়।

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৫৯

وَقَدْ رُوِيَ فِي، حَدِيثٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏ “‏ مَنْ تَوَضَّأَ عَلَى طُهْرٍ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهِ عَشْرَ حَسَنَاتٍ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ الإِفْرِيقِيُّ عَنْ أَبِي غُطَيْفٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ الْمَرْوَزِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْوَاسِطِيُّ عَنِ الإِفْرِيقِيِّ ‏.‏ وَهُوَ إِسْنَادٌ ضَعِيفٌ ‏.‏ قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ ذُكِرَ لِهِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ هَذَا الْحَدِيثُ فَقَالَ هَذَا إِسْنَادٌ مَشْرِقِيٌّ ‏.‏ قَالَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ الْحَسَنِ يَقُولُ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ مَا رَأَيْتُ بِعَيْنِي مِثْلَ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانِ ‏.‏

ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ওযূ থাকা সত্বেও ওযূ করবে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য ১০টি নেকি লিখবেন।

যঈফ, ইবনু মাজাহ (৫১২)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস

  •  সরাসরি

৬০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ، هُوَ ابْنُ مَهْدِيٍّ قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ عِنْدَ كُلِّ صَلاَةٍ ‏.‏ قُلْتُ فَأَنْتُمْ مَا كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ قَالَ كُنَّا نُصَلِّي الصَّلَوَاتِ كُلَّهَا بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ مَا لَمْ نُحْدِثْ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

‘আমর ইবনু ‘আমির আনসারী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক নামাযের ওয়াক্তে নতুন করে ওযূ করতেন। আমি আনাসকে প্রশ্ন করলাম, আপনারা কি করেন? তিনি বলেন, আমাদের ওযূ নষ্ট না হলে একই ওযূতে আমরা সব ওয়াক্তের নামায আদায় করে করে নেই।

সহীহ্‌। ইবনু মাজাহ – (৫০৯), বুখারী।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। হুমাইদের সূত্রে আনাস থেকে বর্ণিত আরেকটি উত্তম সনদের হাদীস রয়েছে। হাদীসটি হাসান গারীব।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৪৫. অনুচ্ছেদঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই ওযূতে সকল নামায আদায় করেছেন

৬১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ فَلَمَّا كَانَ عَامُ الْفَتْحِ صَلَّى الصَّلَوَاتِ كُلَّهَا بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ إِنَّكَ فَعَلْتَ شَيْئًا لَمْ تَكُنْ فَعَلْتَهُ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ عَمْدًا فَعَلْتُهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَلِيُّ بْنُ قَادِمٍ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَزَادَ فِيهِ ‏”‏ تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَرَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ أَيْضًا عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ ‏.‏ وَرَوَاهُ وَكِيعٌ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ ‏.‏ قَالَ وَرَوَاهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ وَغَيْرُهُ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ وَكِيعٍ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُ يُصَلِّي الصَّلَوَاتِ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ مَا لَمْ يُحْدِثْ وَكَانَ بَعْضُهُمْ يَتَوَضَّأُ لِكُلِّ صَلاَةٍ اسْتِحْبَابًا وَإِرَادَةَ الْفَضْلِ ‏.‏ وَيُرْوَى عَنِ الإِفْرِيقِيِّ عَنْ أَبِي غُطَيْفٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ مَنْ تَوَضَّأَ عَلَى طُهْرٍ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهِ عَشْرَ حَسَنَاتٍ ‏”‏ ‏.‏ وَهَذَا إِسْنَادٌ ضَعِيفٌ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ ‏.‏

সুলাইমান ইবনু বুরাইদা (রাঃ) হতে তাঁর পিতার সূত্রে থেকে বর্ণিতঃ

তিনি (বুরাইদা) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি ওয়াক্তের নামাযের জন্য নতুনভাবে ওযূ করতেন। তিনি মক্কা বিজয়ের দিন একই ওযূ দিয়ে সব ওয়াক্তের নামায আদায় করলেন এবং মোজার উপর মাসিহ করলেন। ‘উমার (রাঃ) বললেনঃ আপনি এমন একটি কাজ করলেন যা ইতোপূর্বে কখনও করেননি। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি ইচ্ছা করেই এটা করলাম।

সহীহ। ইবনু মাজাহ – (৫১০), মুসলিম।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেন : হাদীসটি হাসান সহীহ । এ হাদীসটি ‘আলী ইবনু কাদিম – সুফিয়ান সাওরীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন । তাতে এ কথাটুকুও আছে, “তিনি একবার একবার ওযূ করেছেন । ” সুফিয়ান সাওরী তাঁর সনদ পরম্পরায় বুরাইদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাযের জন্যই নতুনভাবে ওযূ করতেন । ওয়াকী‘ও তাঁর সনদ পরম্পরায় বুরাইদার এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন । আবদুর রহমান ইবনুল মাহদী ও অন্যরা অপর এক সনদ পরম্পরায় এ হাদীসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন । এ বর্ণনাটি ওয়াকী‘র বর্ণনার তুলনায় বেশি সহীহ ।

বিদ্বানদের মতামত হল ওযূ যে পর্যন্ত নষ্ট না হবে, সে পর্যন্ত একই ওযূতে একাধিক ওয়াক্তের নামায আদায় করা যাবে । তাদের কেউ কেউ ফযিলত লাভের আশায় প্রত্যেক নামাযের জন্য নতুনভাবে ওযূ করাটা মুস্তাহাব মনে করেছেন । আফরীকী হতে বর্ণিত আছে, তিনি গুতাইফ হতে তিনি ইবনু উমার হতে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : “যে ব্যক্তি ওযূ থাকা অবস্থায় ওযূ করে আল্লাহ তার জন্য দশটি সাওয়াব লিখেন । ” –এর সনদ যঈফ । এ অনুচ্ছেদে জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত একটি হাদীস রয়েছে : “নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই ওযূতে যুহর এবং আসরের নামায আদায় করেছেন । ”

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৪৬. অনুচ্ছেদঃ

একই পাত্রের পানি দিয়ে পুরুষ ও স্ত্রীলোকের ওযূ করা

৬২

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ، قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ مِنَ الْجَنَابَةِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ عَامَّةِ الْفُقَهَاءِ أَنْ لاَ بَأْسَ أَنْ يَغْتَسِلَ الرَّجُلُ وَالْمَرْأَةُ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعَائِشَةَ وَأَنَسٍ وَأُمِّ هَانِئٍ وَأُمِّ صُبَيَّةَ الْجُهَنِيَّةِ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَابْنِ عُمَرَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَأَبُو الشَّعْثَاءِ اسْمُهُ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ ‏.‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমাকে মাইমূনা (রাঃ) জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন, আমি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই পাত্র হতে পানি দিয়ে নাপাকির (ফরজ) গোসল করেছি।

সহীহ। বুখারী ও মুসলিম।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ । সকল ফিক্‌হবিদের এটাই অভিমত, পুরুষ ও স্ত্রীলোক (স্বামী-স্ত্রী) একই পাত্র হতে পানি নিয়ে গোসল করাতে কোন অপরাধ নেই । এ অনুচ্ছেদে ‘আলী, ‘আয়িশাহ্‌, আনাস, উম্মু হানী, উম্মু সুবাইয়া, উম্মু সালামা, ইবনু উমার ও আবূ শা’সা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে । আবূ শা’সার নাম জাবির ইবনু যাইদ ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৪৭. অনুচ্ছেদঃ

মহিলাদের পবিত্রতা অর্জনের পর বেঁচে যাওয়া পানির ব্যবহার মাকরুহ

৬৩

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي حَاجِبٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي غِفَارٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ فَضْلِ طَهُورِ الْمَرْأَةِ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَكَرِهَ بَعْضُ الْفُقَهَاءِ الْوُضُوءَ بِفَضْلِ طَهُورِ الْمَرْأَةِ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ كَرِهَا فَضْلَ طَهُورِهَا وَلَمْ يَرَيَا بِفَضْلِ سُؤْرِهَا بَأْسًا ‏.‏

বানী গিফার গোত্রের এক ব্যক্তির থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মহিলাদের (ওযূ বা গোসল হতে) বেঁচে যাওয়া পানি ব্যবহার করতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পুরুষদেরকে) মানা করেছেন।

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৩৭৩)

  •  
  •  
  •  
  •  

এ অনুচ্ছেদে ‘আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে । আবূ ‘ঈসা বলেন : কোন কোন ফিক্‌হবিদ মহিলাদের ওযূ-গোসলের পর বেঁচে যাওয়া পানি ব্যবহার করাকে মাকরূহ বলেছেন । ইমাম আহমাদ ও ইসহাকের এই মত । কিন্তু তাঁরা মহিলাদের ঝুটা খাদ্য-পানীয়ের ব্যবহারে কোনরূপ দোষ ধরেননি ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حَاجِبٍ، يُحَدِّثُ عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عَمْرٍو الْغِفَارِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَتَوَضَّأَ الرَّجُلُ بِفَضْلِ طَهُورِ الْمَرْأَةِ ‏.‏ أَوْ قَالَ ‏ “‏ بِسُؤْرِهَا ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ وَأَبُو حَاجِبٍ اسْمُهُ سَوَادَةُ بْنُ عَاصِمٍ ‏.‏ وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ فِي حَدِيثِهِ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَوَضَّأَ الرَّجُلُ بِفَضْلِ طَهُورِ الْمَرْأَةِ ‏.‏ وَلَمْ يَشُكَّ فِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ ‏.‏

হাকাম ইবনু ‘আমর আল-গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুরুষদেরকে স্ত্রীলোকদের ওযূ-গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওযূ করতে নিষেধ করেছেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি স্ত্রীলোকদের অবশিষ্ট পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।

সহীহ্‌। দেখুন পূর্বোক্ত হাদীস।

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেন, এটা হাসান হাদীস । বর্ণনাকারী আবূ হাজিবের নাম সাওয়াদা ইবনু ‘আসিম । মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার তাঁর হাদীসে বলেছেন : ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্ত্রীলোকদের ওযূ-গোসলের অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুরুষদের ওযূ করতে নিষেধ করেছেন । এ বর্ণনায় বাশশার সন্দেহ প্রকাশ করেননি। ’

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৪৮. অনুচ্ছেদঃ

মহিলাদের ঝুটা পানি ব্যবহারের অনুমতি প্রসঙ্গে

৬৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ اغْتَسَلَ بَعْضُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي جَفْنَةٍ فَأَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَوَضَّأَ مِنْهُ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ جُنُبًا ‏.‏ فَقَالَ ‏ “‏ إِنَّ الْمَاءَ لاَ يُجْنِبُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ ‏.‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন এক স্ত্রী একটি গামলাতে গোসল করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা থেকে ওযূ করতে চাইলেন। তিনি (স্ত্রী) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি নাপাক ছিলাম। তিনি বললেনঃ (নাপাক ব্যক্তির ছোঁয়ায়) পানি নাপাক হয় না (যদি তার হাতে ময়লা না থাকে)।

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৩৭০)

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ । সুফিয়ান সাওরী, মালিক ও শাফিঈর এটাই মত (স্ত্রীলোকদের ওযূর অবশিষ্ট পানি দিয়ে পুরুষেরা ওযূ করতে পারে) ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৪৯. অনুচ্ছেদঃ

পানিকে কোন জিনিস নাপাক করতে পারে না

৬৬

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَتَوَضَّأُ مِنْ بِئْرِ بُضَاعَةَ وَهِيَ بِئْرٌ يُلْقَى فِيهَا الْحِيَضُ وَلُحُومُ الْكِلاَبِ وَالنَّتْنُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ لاَ يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ وَقَدْ جَوَّدَ أَبُو أُسَامَةَ هَذَا الْحَدِيثَ فَلَمْ يَرْوِ أَحَدٌ حَدِيثَ أَبِي سَعِيدٍ فِي بِئْرِ بُضَاعَةَ أَحْسَنَ مِمَّا رَوَى أَبُو أُسَامَةَ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَعَائِشَةَ ‏.‏

আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি বীরে বুযা’আহ্‌ নামক কূপের পানি দিয়ে ওযূ করতে পারি? এটা এমন একটি কূপ যাতে হায়েবের ন্যাকড়া, (মরা কুকুর) ও আবর্জনা ফেলা হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “পানি পাক, কোন জিনিসই তাকে নাপাক করতে পারে না। ”

সহীহ। মিশকাত- (৪৭৮), সহীহ আবূ দাউদ- (৫৯)

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেন, এটা হাসান হাদীস । আবূ উসামা এটাকে উত্তম সনদে উল্লেখ করেছেন । কেউ এটাকে তার চেয়ে উত্তম সনদে বর্ণনা করেননি । হাদীসটি একাধিক সনদে আবূ সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে ।

এ অনুচ্ছেদে ইবনু ‘আব্বাস ও ‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসও রয়েছে ।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫০. অনুচ্ছেদঃ

ঐ সম্পর্কেই

৬৭

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُسْأَلُ عَنِ الْمَاءِ يَكُونُ فِي الْفَلاَةِ مِنَ الأَرْضِ وَمَا يَنُوبُهُ مِنَ السِّبَاعِ وَالدَّوَابِّ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلِ الْخَبَثَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ عَبْدَةُ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْقُلَّةُ هِيَ الْجِرَارُ وَالْقُلَّةُ الَّتِي يُسْتَقَى فِيهَا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يُنَجِّسْهُ شَيْءٌ مَا لَمْ يَتَغَيَّرْ رِيحُهُ أَوْ طَعْمُهُ وَقَالُوا يَكُونُ نَحْوًا مِنْ خَمْسِ قِرَبٍ ‏.‏

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এমন পানির বিধান সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুনেছি , যা জঙ্গল ও জনশূন্য এলাকায় জমা হয়ে থাকে এবং যা পান করার জন্য বিভিন্ন ধরনের হিংস্র জীব ও বন্য জন্তু এসে থাকে। তিনি বললেনঃ পানি যখন দুই কুল্লা পরিমাণ হয় তখন তা নাপাক হয়না।

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৫১৭)

  •  
  •  
  •  
  •  

মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক বলেন, পানির কলসী বাঁ মটকাকে কুল্লা বলা হয়। যাতে পানি রেখে তা পান করা হয়। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ইমাম শাফিই, আহমাদ ও ইসহাকের এটাই মত, পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হলে তা নাপাক হয় না, যে পর্যন্ত তার গন্ধ অথবা স্বাদ পরিবর্তন না হয়। তারা এ কথাও বলেছেন, দুই মটকার অর্থ কম-বেশি পাঁচ মশকের সমান।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫১. অনুচ্ছেদঃ

বদ্ধ পানিতে পেশাব করা মাকরূহ

৬৮

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ لاَ يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ مِنْهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ ‏.‏

আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, এমন যেন না হয় যে, তোমাদের কেউ বদ্ধ পানিতে (কূপ, পুকুর, জলাশয়) পেশাব করে, অতঃপর তা দিয়েই ওযূ করে। –

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৩৩৪)

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ । এ অনুচ্ছেদে জাবির (রাঃ) – এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসও রয়েছে।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫২. অনুচ্ছেদঃ

সমুদ্রের পানি পবিত্র

৬৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَلَمَةَ، مِنْ آلِ ابْنِ الأَزْرَقِ أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ أَبِي بُرْدَةَ، وَهُوَ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَرْكَبُ الْبَحْرَ وَنَحْمِلُ مَعَنَا الْقَلِيلَ مِنَ الْمَاءِ فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا أَفَنَتَوَضَّأُ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَالْفِرَاسِيِّ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ الْفُقَهَاءِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَابْنُ عَبَّاسٍ لَمْ يَرَوْا بَأْسًا بِمَاءِ الْبَحْرِ ‏.‏ وَقَدْ كَرِهَ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْوُضُوءَ بِمَاءِ الْبَحْرِ مِنْهُمُ ابْنُ عُمَرَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو ‏.‏ وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو هُوَ نَارٌ ‏.‏

মুগীরা ইবনু আবী বুরদা থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আবু হুরাইরা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রশ্ন করল , হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সমুদ্র পথে আসা-যাওয়া করি এবং সাথে করে সামান্য মিঠা পানি নেই। যদি আমরা তা দ্বারা ওযূ করি তাহলে পিপাসার্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযূ করতে পারি? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “তার পানি পবিত্র এবং তার মৃত জীব হালাল”।

সহীহ। ইবনু মাজাহ (৩৮৬-৩৮৮)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫৩. অনুচ্ছেদঃ

পেশাবের ব্যাপারে কঠোরতা ও সতর্কতা

৭০

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَقُتَيْبَةُ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ سَمِعْتُ مُجَاهِدًا، يُحَدِّثُ عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَى قَبْرَيْنِ فَقَالَ ‏ “‏ إِنَّهُمَا يُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ أَمَّا هَذَا فَكَانَ لاَ يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ وَأَمَّا هَذَا فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي مُوسَى وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنِ حَسَنَةَ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَأَبِي بَكْرَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَرَوَى مَنْصُورٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ طَاوُسٍ ‏.‏ وَرِوَايَةُ الأَعْمَشِ أَصَحُّ ‏.‏ قَالَ وَسَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ أَبَانَ الْبَلْخِيَّ مُسْتَمْلِي وَكِيعٍ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ الأَعْمَشُ أَحْفَظُ لإِسْنَادِ إِبْرَاهِيمَ مِنْ مَنْصُورٍ ‏.‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’টি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেনঃ এদের উভয়কে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। , কিন্তু বড় কোন অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। এদের একজন পেশাবের সময় আড়াল (পর্দা) করত না, আর অপরজন একের কথা অন্যের নিকট বলে বেড়াত (চোগলখুরী করত)।

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৩৪৭), বুখারী ও মুসলিম

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫৪. অনুচ্ছেদঃ

দুগ্ধপোষ্য শিশুর পেশাবে পানি ছিটানো

৭১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ، قَالَتْ دَخَلْتُ بِابْنٍ لِي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَأْكُلِ الطَّعَامَ فَبَالَ عَلَيْهِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَرَشَّهُ عَلَيْهِ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعَائِشَةَ وَزَيْنَبَ وَلُبَابَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ وَهِيَ أُمُّ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَأَبِي السَّمْحِ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَبِي لَيْلَى وَابْنِ عَبَّاسٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِثْلِ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا يُنْضَحُ بَوْلُ الْغُلاَمِ وَيُغْسَلُ بَوْلُ الْجَارِيَةِ وَهَذَا مَا لَمْ يَطْعَمَا فَإِذَا طَعِمَا غُسِلاَ جَمِيعًا ‏.‏

উম্মু ক্বাইস বিনতু মিহসান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলাম। সে তখনও শক্ত খাবার ধরেনি। বাচ্চাটি তার কোলে পেশাব করে দিল। তিনি পানি নিয়ে আসতে বললেন, অতঃপর তা পেশাবের জায়গায় ছিটিয়ে দিলেন।

সহীহ। ইবনু মাজাহ-(৫২৪), বুখারী ও মুসলিম

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৫৫. অনুচ্ছেদঃ

হালাল জীবের পেশাব সম্পর্কে

৭২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، وَقَتَادَةُ، وَثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ نَاسًا، مِنْ عُرَيْنَةَ قَدِمُوا الْمَدِينَةَ فَاجْتَوَوْهَا فَبَعَثَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي إِبِلِ الصَّدَقَةِ وَقَالَ ‏ “‏ اشْرَبُوا مِنْ أَلْبَانِهَا وَأَبْوَالِهَا ‏”‏ ‏.‏ فَقَتَلُوا رَاعِيَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْتَاقُوا الإِبِلَ وَارْتَدُّوا عَنِ الإِسْلاَمِ فَأُتِيَ بِهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ مِنْ خِلاَفٍ وَسَمَرَ أَعْيُنَهُمْ وَأَلْقَاهُمْ بِالْحَرَّةِ ‏.‏ قَالَ أَنَسٌ فَكُنْتُ أَرَى أَحَدَهُمْ يَكُدُّ الأَرْضَ بِفِيهِ حَتَّى مَاتُوا ‏.‏ وَرُبَّمَا قَالَ حَمَّادٌ يَكْدُمُ الأَرْضَ بِفِيهِ حَتَّى مَاتُوا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَنَسٍ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا لاَ بَأْسَ بِبَوْلِ مَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ ‏.‏

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

উরাইনা গোত্রের লোকেরা মদীনায় আসল। কিন্তু এখানকার আবহাওয়া তাদের অনুকূল হল না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে সাদকার উটের নিকট পাঠিয়ে দিলেন এবং বললেনঃ “তোমরা এর দুধ ও পেশাব পান কর”। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাখালকে হত্যা করে উটগুলো লুন্ঠন করে নিয়ে গেল এবং ইসলাম ত্যাগ করল (মুরতাদ হয়ে গেল) তাদেরকে গ্রেফতার করে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আনা হল। তিনি তাদের এক দিকের হাত ও অন্যদিকের পা কাটলেন (কাটালেন), চোখ উপড়ে ফেললেন (ফেলালেন) এবং রোদের মধ্যে কাঁকরময় জমীনে ফেলে রাখলেন। আনাস (রাঃ) বলেনঃ আমি তাদের মধ্যে এক ব্যক্তিকে মুখ দিয়ে মাটি খুঁড়তে দেখলাম। অতঃপর সে মারা গেল। (অধঃস্তন রাবী) হাম্মাদ কখনো কখনো বলতেন, সে তার মুখ দিয়ে মাটি কামড়াচ্ছিল। পরিশেষে তারা মারা গেল।

সহীহ। ইরওয়া- (১৭৭),রাওয- (৪৩), বুখারী ও মুসলিমের অনুরূপ

  •  
  •  
  •  
  •  

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। হাদীসটি আরো কয়েকটি সূত্রে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের বক্তব্য হল, যে জীবের গোশত খাওয়া হালাল তার পেশাব নাপাক নয়।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭৩

حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ الأَعْرَجُ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ غَيْلاَنَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ إِنَّمَا سَمَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَعْيُنَهُمْ لأَنَّهُمْ سَمَلُوا أَعْيُنَ الرُّعَاةِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْلَمُ أَحَدًا ذَكَرَهُ غَيْرَ هَذَا الشَّيْخِ عَنْ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ ‏.‏ وَهُوَ مَعْنَى قَوْلِهِ ‏:‏ ‏(‏ وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ ‏)‏ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ قَالَ إِنَّمَا فَعَلَ بِهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم هَذَا قَبْلَ أَنْ تَنْزِلَ الْحُدُودُ ‏.‏

আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের চোখ উপড়ে ফেললেন (ফেলালেন)। কেননা তারা রাখালদের চোখ উপড়ে ফেলেছিল।

সহীহ, প্রাগুক্ত, মুসলিম

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।