You are here

মুসলিম হায়েজ (ঋতুস্রাব) অধ্যায় ২য় ভাগ হাদিস নং ৬৫১ – ৭২২

১৬. অধ্যায়ঃ

গোসল করার সময় কাপড় কিংবা অনুরূপ কিছু দিয়ে পর্দা করে নেবে

৬৫১

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ أَبِي النَّضْرِ، أَنَّ أَبَا مُرَّةَ، مَوْلَى أُمِّ هَانِئٍ بِنْتِ أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أُمَّ هَانِئٍ بِنْتَ أَبِي طَالِبٍ، تَقُولُ ذَهَبْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفَتْحِ فَوَجَدْتُهُ يَغْتَسِلُ ‏.‏ وَفَاطِمَةُ ابْنَتُهُ تَسْتُرُهُ بِثَوْبٍ ‏.

উম্মু হানী বিনতু আবূ তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মাক্কাহ বিজয়ের বছর আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গেলাম। তখন আমি তাকে এ অবস্থায় পেলাম যে, তিনি গোসল করছিলেন, আর তার কন্যা ফাতিমাহ্‌ একটি কাপড় দিয়ে তাকে আড়াল করে রেখেছিল।৯২ (ই.ফা. ৬৫৫, ই.সে. ৬৭০)

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯২] ইমাম নাবাবী(রহঃ) বলেনঃ প্রয়োজনের সময় গুপ্তাঙ্গ খোলা জায়িয, যেমন নির্জনে গোসল করার সময়, প্রসাব করার সময়, স্ত্রী সহবাসের সময় । কিন্তু লোক সম্মুখে গুপ্তাঙ্গ খোলা কখনও বৈধ নয় । অন্যান্য উলামায়ে কিরাম বলেন, নির্জনে গোসলের সময়ও লুঙ্গি পড়ে থাকা মুস্তাহাব । তাই প্রয়োজনে উলঙ্গ হয়ে গোসল করাও বৈধ আছে । (নাবাবী)

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৫২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحِ بْنِ الْمُهَاجِرِ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، أَنَّ أَبَا مُرَّةَ، مَوْلَى عَقِيلٍ حَدَّثَهُ أَنَّ أُمَّ هَانِئٍ بِنْتَ أَبِي طَالِبٍ حَدَّثَتْهُ أَنَّهُ، لَمَّا كَانَ عَامُ الْفَتْحِ أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بِأَعْلَى مَكَّةَ ‏.‏ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى غُسْلِهِ فَسَتَرَتْ عَلَيْهِ فَاطِمَةُ ثُمَّ أَخَذَ ثَوْبَهُ فَالْتَحَفَ بِهِ ثُمَّ صَلَّى ثَمَانَ رَكَعَاتٍ سُبْحَةَ الضُّحَى ‏.

উম্মু হানী বিনতু আবূ তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ

মক্কা বিজয়ের বছর তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এলেন। তিনি তখন মাক্কার উঁচু এলাকায় অবস্থান করছিলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গোসল করতে গেলে ফাতিমাহ্‌ তাঁকে আড়াল করেন। এরপর তিনি নিজের কাপড় নিয়ে পরিধান করলেন। তারপর আট রাক’আত চাশতের সলাত আদায় করলেন। (ই.ফা. ৬৫৬, ই.সে. ৬৭১)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৫৩

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ فَسَتَرَتْهُ ابْنَتُهُ فَاطِمَةُ بِثَوْبِهِ فَلَمَّا اغْتَسَلَ أَخَذَهُ فَالْتَحَفَ بِهِ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى ثَمَانَ سَجَدَاتٍ وَذَلِكَ ضُحًى ‏.

সা’ঈদ ইবনু আবূ হিন্‌দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

অতঃপর তিনি বলেন, এরপর তাঁর কন্যা ফাতিমাহ্‌ তাঁর কাপড় দিয়ে তাঁকে আড়াল করে রেখেছিল। গোসল শেষে তিনি ঐ কাপড় নিয়ে পরিধান করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে আট রাক’আত সলাত আদায় করলেন। আর সেটা ছিল চাশতের সময়। (ই.ফা. ৬৫৭, ই.সে. ৬৭২)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৫৪

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا مُوسَى الْقَارِئُ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ، قَالَتْ وَضَعْتُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَاءً وَسَتَرْتُهُ فَاغْتَسَلَ ‏.

মাইমুনাহ্‌ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্যে পানি রাখলাম এবং তাঁকে আড়াল করলাম। এরপর তিনি গোসল করলেন। (ই.ফা. ৬৫৮, ই.সে. ৬৭৩)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৭. অধ্যায়ঃ

লজ্জাস্থানের দিকে তাকানো হারাম

৬৫৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ، قَالَ أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ لاَ يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ وَلاَ الْمَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ الْمَرْأَةِ وَلاَ يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ وَلاَ تُفْضِي الْمَرْأَةُ إِلَى الْمَرْأَةِ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ ‏”‏ ‏.

আবূ সা’ঈদ আল খুদরী(রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসুলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোন পুরুষ অপর পুরুষের লজ্জাস্থানের দিকে তাকাবে না এবং কোন মহিলা অপর মহিলা লজ্জাস্থানের দিকে তাকাবে না; কোন পুরুষ অপর পুরুষের সাথে এক কাপড়ের নীচে (উলঙ্গ অবস্থায়) ঘুমাবে না এবং কোন মহিলা অপর মহিলার সাথে একই কাপড়ের নীচে ঘুমাবে না।৯৩

(ই.ফা. ৬৫৯, ই.সে. ৬৭৪)

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯৩] “কোন পুরুষ অপর পুরুষের সাথে এক কাপড়ের নীচে ঘুমাবে না এবং কোন মহিলা অপর মহিলার সাথে একই কাপড়ের নীচে ঘুমাবে না ।” এর দ্বারা উদ্দেশ্য উভয়ের উলঙ্গ অবস্থায় যখন কোন প্রকার কাপড় থাকবে না । (নাবাবী)

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৫৬

وَحَدَّثَنِيهِ هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، أَخْبَرَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ عُثْمَانَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالاَ – مَكَانَ عَوْرَةِ – عُرْيَةِ الرَّجُلِ وَعُرْيَةِ الْمَرْأَةِ ‏.

যাহ্‌হাক ইবনু ‘উসমান (রহঃ)-এর সূত্রে থেকে বর্ণিতঃ

উক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়েই (আরবি) এর স্থলে (আরবি) এর উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ- উলঙ্গ অবস্থায় পুরুষ পুরুষের দিকে এবং নারী নারীর দিকে তাকাতে পারবেনা এবং একই বিছানায় ঘুমাবে না। (ই.ফা. ৬৬০, ই.সে. ৬৭৫)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৮. অধ্যায়ঃ

নির্জনে উলঙ্গ হয়ে গোসল করা জায়িয

৬৫৭

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ كَانَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ يَغْتَسِلُونَ عُرَاةً يَنْظُرُ بَعْضُهُمْ إِلَى سَوْأَةِ بَعْضٍ وَكَانَ مُوسَى – عَلَيْهِ السَّلاَمُ – يَغْتَسِلُ وَحْدَهُ فَقَالُوا وَاللَّهِ مَا يَمْنَعُ مُوسَى أَنْ يَغْتَسِلَ مَعَنَا إِلاَّ أَنَّهُ آدَرُ – قَالَ – فَذَهَبَ مَرَّةً يَغْتَسِلُ فَوَضَعَ ثَوْبَهُ عَلَى حَجَرٍ فَفَرَّ الْحَجَرُ بِثَوْبِهِ – قَالَ – فَجَمَحَ مُوسَى بِإِثْرِهِ يَقُولُ ثَوْبِي حَجَرُ ثَوْبِي حَجَرُ ‏.‏ حَتَّى نَظَرَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ إِلَى سَوْأَةِ مُوسَى قَالُوا وَاللَّهِ مَا بِمُوسَى مِنْ بَأْسٍ ‏.‏ فَقَامَ الْحَجَرُ حَتَّى نُظِرَ إِلَيْهِ – قَالَ – فَأَخَذَ ثَوْبَهُ فَطَفِقَ بِالْحَجَرِ ضَرْبًا ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَاللَّهِ إِنَّهُ بِالْحَجَرِ نَدَبٌ سِتَّةٌ أَوْ سَبْعَةٌ ضَرْبُ مُوسَى بِالْحَجَرِ ‏.

হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ্‌ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করে বলেন, এগুলো আবূ হুরায়রা (রাঃ) মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হল, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, বানী ইসরাঈলগণ উলঙ্গ হয়ে গোসল করত, একে ওপরের লজ্জাস্থানের দিকে দেখত। আর মূসা (‘আঃ) গোসল করতেন একাকী। তাই তারা বলাবলি করত, আল্লাহর কসম মূসা আমাদের সাথে গোসল করে না কারণ তার একশিরা রোগ হয়েছে। একবার তিনি গোসল করতে গিয়ে একটি পাথরের উপর তাঁর কাপড় রাখলেন। এরপর পাথরটি তাঁর কাপড় নিয়ে দৌড়াতে লাগল। রাবী বলেন, মূসা (‘আঃ) তার পিছু পিছু ছুটলেন আর বলতে লাগলেন, পাথর! আমার কাপড়, পাথর! আমার কাপড়। এমনিভাবে বনী ইসরাঈলগণ মূসা (‘আঃ)-এর লজ্জাস্থান দেখে ফেলল এবং তারা বলল, আল্লাহর কসম মুসার তো কোন খুত নেই। এরপর পাথর দাঁড়িয়ে গেল এবং তাঁকে দেখে নিল। রাবী বলেন, এরপর তিনি তাঁর কাপড় তুলে নিলেন এবং (রাগে) পাথরকে মারতে শুরু করে দিলেন।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! পাথরের ওপর মূসা (আঃ)- এর আঘাতের ছয়টি কি সাতটি চিহ্ন রয়েছে। (ই.ফা. ৬৬১, ই.সে. ৬৭৬)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

১৯. অধ্যায়ঃ

লজ্জাস্থান ঢাকার ব্যাপারে বিশেষভাবে সাবধানতা অবলম্বনের বর্ণনা

৬৫৮

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ مَيْمُونٍ، جَمِيعًا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ بَكْرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، ح وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَاللَّفْظُ، لَهُمَا – قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، – أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ لَمَّا بُنِيَتِ الْكَعْبَةُ ذَهَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَعَبَّاسٌ يَنْقُلاَنِ حِجَارَةً فَقَالَ الْعَبَّاسُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم اجْعَلْ إِزَارَكَ عَلَى عَاتِقِكَ مِنَ الْحِجَارَةِ ‏.‏ فَفَعَلَ فَخَرَّ إِلَى الأَرْضِ وَطَمَحَتْ عَيْنَاهُ إِلَى السَّمَاءِ ثُمَّ قَامَ فَقَالَ ‏ “‏ إِزَارِي إِزَارِي ‏”‏ ‏.‏ فَشَدَّ عَلَيْهِ إِزَارَهُ ‏.‏ قَالَ ابْنُ رَافِعٍ فِي رِوَايَتِهِ عَلَى رَقَبَتِكَ ‏.‏ وَلَمْ يَقُلْ عَلَى عَاتِقِكَ ‏.

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন কা’বাহ্‌ তৈরি করা হচ্ছিল তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও ‘আব্বাস (রাঃ) পাথর বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ‘আব্বাস (রাঃ) রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন, পাথর বহনের সুবিধার্থে তোমার লুঙ্গি কাঁধের উপর তুলে নাও। এরপর তিনি এরুপ করলেন। সাথে সাথেই তিনি (বেহুশ হয়ে) মাটিতে পড়ে গেলেন। আর তাঁর উভয় চোখ আকাশের দিকে নিবদ্ধ হল। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে বললেন, আমার লুঙ্গি , আমার লুঙ্গি। এরপর তাঁর লুঙ্গি পরিয়ে দেয়া হল। ইবনু রাফি’ তার রিওয়াতে কাধের স্থলে ঘাড়ে উল্লেখ করেছেন। (ই.ফা. ৬৬২, ই.সে. ৬৭৭)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৫৯

وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَنْقُلُ مَعَهُمُ الْحِجَارَةَ لِلْكَعْبَةِ وَعَلَيْهِ إِزَارُهُ فَقَالَ لَهُ الْعَبَّاسُ عَمُّهُ يَا ابْنَ أَخِي لَوْ حَلَلْتَ إِزَارَكَ فَجَعَلْتَهُ عَلَى مَنْكِبِكَ دُونَ الْحِجَارَةِ – قَالَ – فَحَلَّهُ فَجَعَلَهُ عَلَى مَنْكِبِهِ فَسَقَطَ مَغْشِيًّا عَلَيْهِ – قَالَ – فَمَا رُؤِيَ بَعْدَ ذَلِكَ الْيَوْمِ عُرْيَانًا ‏.

জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সাথে কা’বাহ্‌ মেরামতের জন্যে পাথর বয়ে নিচ্ছিলেন। আর তাঁর পরনের ছিল লুঙ্গি। এরপর তাঁর চাচা ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁকে বললেন, ভাতিজা; তোমার লুঙ্গি খুলে যদি কাঁধের উপর পাথরের নীচে রেখে নিতে (তাহলে ভাল হত)। তিনি লুঙ্গি খুলে তাঁর কাঁধের উপর রাখলেন। সাথে সাথেই তিনি বেহুশ হয়ে পড়ে গেলেন। যাবির (রাঃ) বলেন, সেদিনের পর থেকে আর কখনো তাঁকে উলঙ্গ দেখা যায়নি। (ই.ফা. ৬৬৩, ই.সে.৬৭৮)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৬০

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى الأُمَوِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ حُنَيْفٍ الأَنْصَارِيُّ، أَخْبَرَنِي أَبُو أُمَامَةَ بْنُ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، قَالَ أَقْبَلْتُ بِحَجَرٍ أَحْمِلُهُ ثَقِيلٍ وَعَلَىَّ إِزَارٌ خَفِيفٌ – قَالَ – فَانْحَلَّ إِزَارِي وَمَعِيَ الْحَجَرُ لَمْ أَسْتَطِعْ أَنْ أَضَعَهُ حَتَّى بَلَغْتُ بِهِ إِلَى مَوْضِعِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ ارْجِعْ إِلَى ثَوْبِكَ فَخُذْهُ وَلاَ تَمْشُوا عُرَاةً ‏”‏ ‏.

মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি একটি ভারী পাথর বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। আর তখন আমার পরনে ছিল একটা পাতলা লুঙ্গি। তিনি বলেন, এরপর আমার লুঙ্গি খুলে গেল। পাথরটি তখন আমার কাছে ছিল। তাই আমি লুঙ্গি তুলে নিতে পারলাম না। এমনিভাবে আমি পাথরটি যথাস্থানে নিয়ে গেলাম। এরপর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার কাপড়ের কাছে ফিরে গিয়ে তা নিয়ে এসো। আর কখনো উলঙ্গ হয়ে চলবে না। (ই.ফা. ৬৬৪, ই.সে. ৬৭৯)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২০. অধ্যায়ঃ

প্রসাবের ও পায়খানার সময় পর্দা করা

৬৬১

حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ الضُّبَعِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَهْدِيٌّ، – وَهُوَ ابْنُ مَيْمُونٍ – حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ، مَوْلَى الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ أَرْدَفَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ خَلْفَهُ فَأَسَرَّ إِلَىَّ حَدِيثًا لاَ أُحَدِّثُ بِهِ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ وَكَانَ أَحَبَّ مَا اسْتَتَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِحَاجَتِهِ هَدَفٌ أَوْ حَائِشُ نَخْلٍ ‏.‏ قَالَ ابْنُ أَسْمَاءَ فِي حَدِيثِهِ يَعْنِي حَائِطَ نَخْلٍ ‏.

আব্দুল্লাহ ইবনু জা’ফার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, একদিন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে তাঁর সাওয়ারীর পিছন দিকে বসালেন এবং আমাকে চুপে চুপে এমন একটি কথা বললেন যা আমি কাউকে কখন বলব না। তবে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রাকৃতিক প্রয়োজন সমাধা করার সময় উচু ঢিলা অথবা ঘন গাছগাছালি দ্বারা ঢাকা স্থানকে সবচেয়ে বেশী পছন্দ করতেন। ইবনু আসমা তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেছেন, অর্থাৎ খেজুর বাগানের আড়ালে মানাবীয় প্রয়োজন সমাধান করাটাই বেশী পছন্দ করতেন। (ই.ফা. ৬৬৫, ই.সে. ৬৮০)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২১. অধ্যায়ঃ

একমাত্র বীর্যপাত থেকে গোসল ফার্‌য করণ [৯৪]

[৯৪] কিন্তু পরবর্তীতে এ হুকুম মানসুখ (রহিত) হয়ে যায় এবং শুধু সহবাসের দ্বারাই গোসল ফারয হয়।

৬৬২

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ – قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، – وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ – عَنْ شَرِيكٍ، – يَعْنِي ابْنَ أَبِي نَمِرٍ – عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الاِثْنَيْنِ إِلَى قُبَاءٍ حَتَّى إِذَا كُنَّا فِي بَنِي سَالِمٍ وَقَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى بَابِ عِتْبَانَ فَصَرَخَ بِهِ فَخَرَجَ يَجُرُّ إِزَارَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ أَعْجَلْنَا الرَّجُلَ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ عِتْبَانُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ الرَّجُلَ يُعْجَلُ عَنِ امْرَأَتِهِ وَلَمْ يُمْنِ مَاذَا عَلَيْهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ إِنَّمَا الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ ‏”‏ ‏.

আব্দুর রহমান ইবনু আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) তাঁর পিতা আবূ সা’ঈদ আল খুদরী থেকে বর্ণিতঃ

কোন এক সোমবারে আমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে কুবা এলাকার দিকে গেলাম। আমরা বানু সালিম গোত্রের মহল্লায় পৌঁছালে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘ইত্‌বান এর গেইটে দাঁড়ালেন এবং তাকে উচ্চঃস্বরে ডাকলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি পরনের লুঙ্গি হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বের হয়ে আসলেন। এ অবস্থা দেখে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমরা কি লোকটিকে তাড়াহুড়োয় ফেলে দিলাম? তখন ‘ইতবান বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যদি কোন ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর সাথে সহবাসের সময় তাড়াহুড়ো করে এবং তাতে বীর্যপাত না হয় তখন তাকে কি করতে হবে? (অর্থাৎ তাকে গোসল করতে হবে কিনা?) জবাবে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, বস্তুত বীর্যপাত ঘটলেই গোসল করতে হবে। [৯৫] (ই.ফা. ৬৬৬, ই.সে. ৬৮১)

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯৪] কিন্তু পরবর্তীতে এ হুকুম মানসুখ (রহিত) হয়ে যায় এবং শুধু সহবাসের দ্বারাই গোসল ফারয হয়।

[৯৫] “বস্তুতঃ বীর্যপাত ঘটলেই গোসল করতে হবে।” এ কথার ব্যাখ্যায় ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, সহবাস করলেই গোসল ফরয হয়ে যায়। এ ব্যাপারে উম্মাতের ইজমা (ঐকমত্য) হয়েছে। সহবাস দ্বারা বীর্যপাত হোক বা না হোক শুদুমাত্র পুরুষদের যৌনাঙ্গের অগ্রভাগ মহিলার গুপাতাঙ্গে প্রবেশ করলেই গোসল করতে হবে। “বীর্যপাত ঘটলেই গোসল করতে হবে” এ হাদীস মানসুখ (রহিত) হয়েছে। অর্থাৎ ইসলামের প্রথম যুগে এ হুকুম ছিল যে, সহবাসে বীর্যপাত না ঘটলে গোসল করা অপরিহার্য নয়। কিন্তু পরবর্তীতে তা রহিত হয়ে গেছে। এ অধ্যায়ে (৮৭-৩৪৮) নম্বর হাদীসটি নাসিখ (রহিতকারী)

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৬৩

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏ “‏ إِنَّمَا الْمَاءُ مِنَ الْمَاءِ ‏”‏ ‏.

আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, পানির (ধাতু বের হলে) দ্বারা (গোসল) ফারয হয়। (ই.ফা. ৬৬৭, ই.সে. ৬৮২)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৬৪

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا أَبُو الْعَلاَءِ بْنُ الشِّخِّيرِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْسَخُ حَدِيثُهُ بَعْضُهُ بَعْضًا كَمَا يَنْسَخُ الْقُرْآنُ بَعْضُهُ بَعْضًا ‏.

আবূল ‘আলা ইবনু শিখ্‌খীর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর এক হাদীস অপর হাদীসকে মানসুখ (রহিত) করে দিতে যেমনিভাবে কুরআনের এক আয়াত অপর আয়াতকে মানসুখ করে। (ই.ফা. ৬৬৮, ই.সে. ৬৮৩)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৬৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ ذَكْوَانَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَخَرَجَ وَرَأْسُهُ يَقْطُرُ فَقَالَ ‏”‏ لَعَلَّنَا أَعْجَلْنَاكَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ إِذَا أُعْجِلْتَ أَوْ أَقْحَطْتَ فَلاَ غُسْلَ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ الْوُضُوءُ ‏”‏ ‏.‏ وَقَالَ ابْنُ بَشَّارٍ ‏”‏ إِذَا أُعْجِلْتَ أَوْ أُقْحِطْتَ ‏”‏ ‏.

আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক আনসারীর (বাড়ির) সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে সংবাদ পাঠালেন। সে বেরিয়ে এলো আর তার মাথা থেকে তখন ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝরছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সম্ভবত আমরা তোমাকে তাড়াহুড়োর মধ্যে ফেলেছি। সে বলল হ্যাঁ, ইয়া রসূলুল্লাহ্‌! তিনি বললেন, যখন (কোন কারণে) তোমাকে তাড়াতাড়ি (বীর্য বের হবার আগেই উঠে পড়তে হয়) অথবা বীর্য বের হতে বাধাপ্রাপ্ত হও তখন তোমার উপর গোসল করা (ফারয) নয় বরং তোমার উপর শুধু ওযূ করা জরুরী। আর ইবনু বাশশার বলেন, যখন তোমাকে তাড়াহুড়ার মধ্যে ফেলা হয়েছে বা তোমাকে বীর্যপাত করতে বাধা দেয়া হয়েছে। (ই.ফা. ৬৬৯, ই.সে. ৬৬৮)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৬৬

حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ – وَاللَّفْظُ لَهُ – حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّجُلِ يُصِيبُ مِنَ الْمَرْأَةِ ثُمَّ يُكْسِلُ فَقَالَ ‏ “‏ يَغْسِلُ مَا أَصَابَهُ مِنَ الْمَرْأَةِ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وَيُصَلِّي ‏”

উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করলাম সে ব্যক্তি সম্পর্কে যে স্ত্রী সহবাস করে (অথচ) তারপর বীর্যপাত হল না। তিনি বললেন, স্ত্রীর (লজ্জাস্থান) থেকে তার (লজ্জাস্থানে) যা লেগেছে তা ধুয়ে ফেলবে। তারপর ওযূ করবে এবং সলাত আদায় করবে। (ই.ফা. ৬৭০, ই.সে. ৬৮৫)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৬৭

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ الْمَلِيِّ، عَنِ الْمَلِيِّ، – يَعْنِي بِقَوْلِهِ الْمَلِيِّ عَنِ الْمَلِيِّ أَبُو أَيُّوبَ، – عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ فِي الرَّجُلِ يَأْتِي أَهْلَهُ ثُمَّ لاَ يُنْزِلُ قَالَ ‏ “‏ يَغْسِلُ ذَكَرَهُ وَيَتَوَضَّأُ ‏”‏ ‏.

উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তারপর বীর্যপাত হয় না- তাঁর সম্পর্কে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সে তার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে এবং ওযূ করবে। (ই.ফা. ৬৭১, ই.সে. ৬৮৬)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৬৮

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ، – وَاللَّفْظُ لَهُ – حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ ذَكْوَانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ الْجُهَنِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَأَلَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ قَالَ قُلْتُ أَرَأَيْتَ إِذَا جَامَعَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَلَمْ يُمْنِ قَالَ عُثْمَانُ ‏ “‏ يَتَوَضَّأُ كَمَا يَتَوَضَّأُ لِلصَّلاَةِ وَيَغْسِلُ ذَكَرَهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ عُثْمَانُ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.

যায়দ ইবনু খালিদ আল জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা তিনি ‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেন, কোন লোক যদি তাঁর স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করে এবং বীর্যপাত না হয় তাহলে তাঁর হুকুম কি? ‘উসমান (রাঃ) বললেন, সে সালাতের ওযূ করে নিবে। এবং তার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে। ‘উসমান (রাঃ) বলেন, আমি এটা রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছি। (ই.ফা. ৬৭২, ই.সে. ৬৮৭)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৬৯

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، عَنِ الْحُسَيْنِ، قَالَ يَحْيَى وَأَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا أَيُّوبَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ ذَلِكَ، مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.

আবূ আইয়ুব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এমন শুনেছেন। (ই.ফা. ৬৭৩, ই.সে. ৬৮৮)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২২. অধ্যায়ঃ

কেবল বীর্যপাত হলেই গোসল করতে হবে, এ হুকুম রহিতকরণ

৬৭০

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ ح وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالُوا حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، وَمَطَرٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ إِذَا جَلَسَ بَيْنَ شُعَبِهَا الأَرْبَعِ ثُمَّ جَهَدَهَا فَقَدْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْغُسْلُ ‏”‏ ‏.‏ وَفِي حَدِيثِ مَطَرٍ ‏”‏ وَإِنْ لَمْ يُنْزِلْ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ زُهَيْرٌ مِنْ بَيْنِهِمْ ‏”‏ بَيْنَ أَشْعُبِهَا الأَرْبَعِ ‏”‏ ‏.

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যখন কেউ তার স্ত্রীর চার-হাত পায়ের মাঝখানে বসবে এবং তার সাথে মিলবে তখন তার উপর গোসল ফারয হবে।

মাতার-এর হাদীসে ‘যদিও বীর্য বের না করে’- বাক্যটি অতিরিক্ত রয়েছে।

যুহায়র বলেছেন, তাদের মধ্য হতে কেউ যদি নারীর চার শাখার মধ্যে বসে। [৯৬] (ই.ফা. ৬৭৪, ই.সে. ৬৮৯)

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯৬] নারীর চার শাখা বলতে তার দু’হাত ও দু’পা বুঝানো হয়েছে। তবে কেউ কেউ বলেন, নারীর যোনীর চার পাশ। ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, নারীর যোনীর মধ্যে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করলে, উভয়ের গোসল ফারয হয়। এক সময় এ সম্বন্ধে সাহাবাদের মাঝে মতানৈক্য থাকলেও পরবর্তী সময়ে গোসল ফরয হওয়ার উপর ইজমা বা ঐকমত্য স্থাপন হয়ে গেছে।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৭১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَبَلَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَدِيٍّ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، كِلاَهُمَا عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ غَيْرَ أَنَّ فِي حَدِيثِ شُعْبَةَ ‏”‏ ثُمَّ اجْتَهَدَ ‏”‏ وَلَمْ يَقُلْ ‏”‏ وَإِنْ لَمْ يُنْزِلْ ‏”‏ ‏.

কাতাদাহ্‌ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

অবিকল বর্ণিত রয়েছে। তবে শু’বার হাদীসে ‘এরপর মিলিত হয়’ কথাটির উল্লেখ আছে। কিন্তু ‘যদিও বীর্য বের না হয়’- কথাটি বর্ণনা নেই। (ই.ফা. ৬৭৫, ই.সে. ৬৯০)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৭২

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، – وَهَذَا حَدِيثُهُ – حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، قَالَ – وَلاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، – عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ اخْتَلَفَ فِي ذَلِكَ رَهْطٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ فَقَالَ الأَنْصَارِيُّونَ لاَ يَجِبُ الْغُسْلُ إِلاَّ مِنَ الدَّفْقِ أَوْ مِنَ الْمَاءِ ‏.‏ وَقَالَ الْمُهَاجِرُونَ بَلْ إِذَا خَالَطَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ ‏.‏ قَالَ قَالَ أَبُو مُوسَى فَأَنَا أَشْفِيكُمْ مِنْ ذَلِكَ ‏.‏ فَقُمْتُ فَاسْتَأْذَنْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَأُذِنَ لِي فَقُلْتُ لَهَا يَا أُمَّاهْ – أَوْ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ – إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَكِ عَنْ شَىْءٍ وَإِنِّي أَسْتَحْيِيكِ ‏.‏ فَقَالَتْ لاَ تَسْتَحْيِي أَنْ تَسْأَلَنِي عَمَّا كُنْتَ سَائِلاً عَنْهُ أُمَّكَ الَّتِي وَلَدَتْكَ فَإِنَّمَا أَنَا أُمُّكَ ‏.‏ قُلْتُ فَمَا يُوجِبُ الْغُسْلَ قَالَتْ عَلَى الْخَبِيرِ سَقَطْتَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِذَا جَلَسَ بَيْنَ شُعَبِهَا الأَرْبَعِ وَمَسَّ الْخِتَانُ الْخِتَانَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ ‏”‏ ‏.

আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মুহাজির ও আনসারদের একটি দল এ ব্যাপারে মতবিরোধ করল। আনসারগণ বলল, জোরে অথবা স্বাভাবিক গতিতে পানি (বীর্য) বের না হলে গোসল ফারয হয় না। আর মুহাজিরগণ বলল, স্ত্রী সঙ্গে শুধু মিললেই গোসল ফারয (বীর্য বের হোক বা না হোক) আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, আমি এ ব্যপারে তোমাদেরকে শান্ত করছি। এরপর আমি উঠে গিয়ে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলাম। আমাকে অনুমতি দেয়া হল। আমি তাকে বললাম, মা ! অথবা (তিনি বলছিলেন) হে মু’মিনদের মা! আমি আপনার কাছে একটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে চাই কিন্তু আমি লজ্জাবোধ করছি। তুমি তোমার গর্ভধারিণী মাকে যে ব্যপারে প্রশ্ন করতে পারতে সে ব্যপারে আমাকে প্রশ্ন করতে লজ্জাবোধ করো না। আমি তো তোমার মা। আমি বললাম, গোসল কিসে ফারয হয়? তিনি বললেন, জানা-কোন লোকের কাছেই তুমি প্রশ্ন করেছ। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন কোন পুরুষ স্ত্রীর চার হাত-পায়ের মাঝখানে বসবে এবং একের লজ্জাস্থান অপরের লজ্জাস্থানের সাথে লাগবে তখন গোসল ফারয হবে। (ই.ফা. ৬৭৬, ই.সে. ৬৯১)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৭৩

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، وَهَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عِيَاضُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أُمِّ كُلْثُومٍ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ إِنَّ رَجُلاً سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّجُلِ يُجَامِعُ أَهْلَهُ ثُمَّ يُكْسِلُ هَلْ عَلَيْهِمَا الْغُسْلُ وَعَائِشَةُ جَالِسَةٌ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِنِّي لأَفْعَلُ ذَلِكَ أَنَا وَهَذِهِ ثُمَّ نَغْتَسِلُ ‏”‏ ‏.

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা এক লোক রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রশ্ন করল-যদি কেউ তার স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করে, অতঃপর বীর্য বের হবার আগেই তার পুরুষাঙ্গ বের করে ফেলে তাহলে কি তাদের উভয়ের গোসল ফারয হবে? এ সময়ে ‘আয়িশাহ (রাঃ) সেখানে উপবিষ্ট ছিলেন। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি এবং আয়িশাহ্‌ (রাঃ) ঐরূপ করি, এরপর আমরা গোসল করে ফেলি। (ই.ফা. ৬৭৭, ই.সে. ৬৯২)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৩. অধ্যায়ঃ

অগ্নি স্পৃষ্ট দ্রব্যাদি থেকে (খাবার পর) ওযূ করা সম্পর্কে [৯৭]

[৯৭] অগ্নি স্পৃষ্ট দ্রব্যাদি খাবার পর ওযূ করা। ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, ইমাম মুসলিম (রহঃ) এ অধ্যায়ে প্রথমে এ সকল হাদীসের উল্লেখ করেছেন, যেগুলোর দ্বারা সাব্যস্ত হয় যে, আগুনের দ্বারা পাকানো খাদ্যবস্তু খেলে ওযূ নষ্ট হয়ে যায়। অতঃপর ঐ সকল হাদীসের বর্ণনা পেশ করেছেন, যেগুলোর দ্বারা প্রমানিত হয়েছে যে, এ ধরনের খাবার খেলে ওযূ নষ্ট হয় না। সুতরাং প্রথমে উল্লেখিত হাদীসসমুহ মানসুখ (রহিত)। এ ব্যাপারে পূর্ববর্তী জমহুর উলামায়ে কিরাম, সাহাবায়ি কিরাম ও তাবি’ঈনে প্রায় ঐকমত্য ঘোষণা করেছেন। তবে যে কোন জিনিস খাওয়ার পর কুলি করা এবং হাত-মুখ ভাল করে ধুয়ে ফেলা মুস্তাহাব (নাবাবী)

৬৭৪

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، حَدَّثَنِي عُقَيْلُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، أَنَّ خَارِجَةَ بْنَ زَيْدٍ الأَنْصَارِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ الْوُضُوءُ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ ‏

যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন, আগুনে পাকানো খাবার খেয়ে ওযূ করতে হবে। (ই.ফা. ৬৭৮, ই.সে. ৬৯৩)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৭৫

قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ قَارِظٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، وَجَدَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَتَوَضَّأُ عَلَى الْمَسْجِدِ فَقَالَ إِنَّمَا أَتَوَضَّأُ مِنْ أَثْوَارِ أَقِطٍ أَكَلْتُهَا لأَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ تَوَضَّئُوا مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ ‏”‏ ‏.

ইবনু শিহাব বলেন, ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ) তাঁকে বলেছেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ইব্‌রাহীম ইবনু কারিয (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি একদিন আবূ হুরায়রা (রাঃ)- কে মাসজিদের সামনে ওযূ করতে দেখেছেন। আবূ হুরায়রা(রাঃ) বলেন, আমি কয়েক টুকরো পনির খেয়েছি, তাই ওযূ করছি। কেননা, আমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি। তোমরা আগুনের রান্না করা খাবার খেলে ওযূ করবে। (ই.ফা. ৬৭৮, ই.সে. ৬৯৩)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৭৬

قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ، وَأَنَا أُحَدِّثُهُ، هَذَا الْحَدِيثَ ‏.‏ أَنَّهُ سَأَلَ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ عَنِ الْوُضُوءِ، مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ فَقَالَ عُرْوَةُ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ تَوَضَّئُوا مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ ‏”‏ ‏.

ইবনু শিহাব থেকে বর্ণিতঃ

আমি সা’ঈদ ইবনু খালিদ ইবনু ‘আম্‌র ইবনু ‘উসমান –এর কাছে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন যে, তিনি আগুনে পাকানো খাবার খেয়ে ওযূ করা সম্পর্কে ‘উরওয়াহ্‌ন ইবনু যুবায়রকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি বললেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ)- কে বলতে শুনেছি তিনি বলেছেন, তোমরা আগুনে রান্না করা খাবার খেয়ে ওযূ করবে। (ই.ফা. ৬৭৮, ই.সে. ৬৯৩)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৪. অধ্যায়ঃ

আগুনে রান্না খাবার খেয়ে ওযূ করার বিধান মানসুখ (রহিত) হওয়া সম্পর্কে

৬৭৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكَلَ كَتِفَ شَاةٍ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ ‏.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদা রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি বকরীর কাঁধের গোশ্‌ত খেলেন তারপর সলাত আদায় করলেন কিন্তু ওযূ করলেন না। (ই.ফা. ৬৭৯, ই.সে. ৬৯৪)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৭৮

وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَخْبَرَنِي وَهْبُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، ح وَحَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَكَلَ عَرْقًا – أَوْ لَحْمًا – ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَلَمْ يَمَسَّ مَاءً ‏.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার হাড়ে লাগানো গোশ্‌ত অথবা গোশ্‌ত খেলেন। তারপর সলাত আদায় করলেন; কিন্ত ওযূ করলেন না এবং পানিও স্পর্শ করলেন না। (ই.ফা. ৬৮০, ই.সে. ৬৯৫)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৭৯

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحْتَزُّ مِنْ كَتِفٍ يَأْكُلُ مِنْهَا ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ ‏.

‘আম্‌র ইবনু উমাইয়্যাহ্‌ আয্‌ যামরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি একবার দেখলেন যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটী বকরীর কাঁধের গোশ্‌ত কেটে খাচ্ছেন। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করলেন আর ওযূ করলেন না। (ই.ফা. ৬৮১, ই.সে. ৬৯৬)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৮০

حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحْتَزُّ مِنْ كَتِفِ شَاةٍ فَأَكَلَ مِنْهَا فَدُعِيَ إِلَى الصَّلاَةِ فَقَامَ وَطَرَحَ السِّكِّينَ وَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ ‏.‏ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ ‏.

‘আম্‌র ইবনু উমাইয়্যাহ আয্‌ যামরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি একবার রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখলাম তিনি একটী বকরীর কাঁধের গোশ্‌ত (ছুরি দিয়ে) কাটছেন। এরপর তিনি তা খেলেন। ইতিমধ্যেই সলাতের জন্যে ডাকা হল। তিনি তখন দাঁড়িয়ে গেলেন এবং ছুরিটি ফেলে দিলেন এবং সলাত আদায় করলেন; কিন্তু ওযূ করলেন না। (ই.ফা. ৬৮২, ই.সে. ৬৯৭)

ইবনু শিহাব বলেন, ‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস তাঁর পিতা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস-এর মাধ্যমে রসূলুল্লাহ্‌(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৮২, ই.সে. ৬৯৭)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৮১

قَالَ عَمْرٌو وَحَدَّثَنِي بُكَيْرُ بْنُ الأَشَجِّ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ مَيْمُونَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَكَلَ عِنْدَهَا كَتِفًا ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ ‏.

‘আম্‌র বলেন, বুকায়র ইবনু আল আশাজ্জ কুরায়ব-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী মাইমূনাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার তাঁর কাছে বসে কাঁধের গোশ্‌ত খেলেন, তারপর সলাত আদায় করলেন কিন্তু ওযূ করলেন না। (ই.ফা. ৬৮২, ই.সে. ৬৯৭)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৮২

قَالَ عَمْرٌو حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ مَيْمُونَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ ‏.

ইয়া’কূব ইবনু আল আশাজ্জ কুরায়ব-এর সূত্রে থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী মায়মুনাহ্‌ (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৮২, ই.সে. ৬৯৭)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৮৩

قَالَ عَمْرٌو حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي غَطَفَانَ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ أَشْهَدُ لَكُنْتُ أَشْوِي لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَطْنَ الشَّاةِ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ ‏.

আবূ রাফি’ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রসূলুল্লাহ্‌(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য বকরীর পেটের গোশ্‌ত ভুনা করতাম (তিনি তা খেতেন) তারপর পুনরায় ওযূ না করেই সলাত আদায় করতেন। (ই.ফা. ৬৮২, ই.সে. ৬৯৭)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৮৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم شَرِبَ لَبَنًا ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَتَمَضْمَضَ وَقَالَ ‏ “‏ إِنَّ لَهُ دَسَمًا ‏”‏ ‏.

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার দুধ পান করলেন। তারপর পানি আনালেন। এরপর কুলি করলেন এবং বললেন, এতে তৈলাক্ত পদার্থ রয়েছে। (ই.ফা. ৬৮৩, ই.সে. ৬৯৮)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৮৫

وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، وَأَخْبَرَنِي عَمْرٌو، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، ح وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي يُونُسُ، كُلُّهُمْ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِإِسْنَادِ عُقَيْلٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ، مِثْلَهُ ‏.

আহমাদ ইবনু ‘ঈসা (রহঃ), যুহায়র ইবনু হার্‌ব, হারমালাহ্‌ ইবনু ইয়াহ্‌ইয়া প্রত্যেকেই থেকে বর্ণিতঃ

ইবনু শিহাব থেকে ‘উকায়ল-এর সানাদে যুহরী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৮৪, ই.সে. ৬৯৯)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৮৬

وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَمَعَ عَلَيْهِ ثِيَابَهُ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ فَأُتِيَ بِهَدِيَّةٍ خُبْزٍ وَلَحْمٍ فَأَكَلَ ثَلاَثَ لُقَمٍ ثُمَّ صَلَّى بِالنَّاسِ وَمَا مَسَّ مَاءً ‏.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার কাপড় পরে সলাতের জন্য বের হলেন। এমন সময় কিছু রুটি ও গোশ্‌ত উপঢৌকন এলো। এরপর তিনি (সেখান থেকে) তিনি লুকমা খেলেন। তারপর লোকদেরকে নিয়ে সলাত আদায় করলেন এবং পানি স্পর্শও করলেন না। (ই.ফা. ৬৮৫, ই.সে. ৭০০)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৮৭

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، قَالَ كُنْتُ مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ ‏.‏ وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ ابْنِ حَلْحَلَةَ وَفِيهِ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، شَهِدَ ذَلِكَ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وَقَالَ صَلَّى وَلَمَ يَقُلْ بِالنَّاسِ ‏.

মুহাম্মাদ ইবনু ‘আম্‌র ইবনু ‘আতা (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি একদিন ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। তারপর তিনি ইবনু হাল্‌হালাহ্‌-এর হাদীস (উপরোক্ত হাদীস)-এর অনুরূপ বর্ণনা করেন। সেখানে উল্লেখ আছে যে, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে এমন করতে দেখেছেন। আর এ হাদীসের রাবী শুধু সলাত আদায়ের কথা উল্লেখ করেছেন। লোকদেরকে নিয়ে কথাটির উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ৬৮৬, ই.সে. ৭০১)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৫. অধ্যায়ঃ

উটের গোশ্‌ত খেয়ে ওযূ করা সম্পর্কে

৬৮৮

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ الْجَحْدَرِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي ثَوْرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَأَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الْغَنَمِ قَالَ ‏”‏ إِنْ شِئْتَ فَتَوَضَّأْ وَإِنْ شِئْتَ فَلاَ تَوَضَّأْ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَتَوَضَّأُ مِنْ لُحُومِ الإِبِلِ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ فَتَوَضَّأْ مِنْ لُحُومِ الإِبِلِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أُصَلِّي فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أُصَلِّي فِي مَبَارِكِ الإِبِلِ قَالَ ‏”‏ لاَ ‏”‏ ‏.

জাবির ইবনু সামুরাহ্‌ (রাযি:) থেকে বর্ণিতঃ

এক লোক রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, আমি কি বকরীর গোশ্‌ত খেয়ে ওযূ করব? তিনি বললেন, তোমার ইচ্ছা ওযূ করতে পার আর নাও করতে পার। সে বলল,আমি কি উটের গোশ্‌ত খেয়ে ওযূ করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, উটের গোশ্‌ত খেয়ে তুমি ওযূ করবে। সে বলল, আমি কি বকরীর ঘরে সলাত আদায় করতে পারি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে বলল, আমি কি উটের ঘরে সলাত আদায় করতে পারি? তিনি বললেন, না। [৯৮] (ই.ফা. ৬৮৭, ই.সে. ৭০২)

  •  
  •  
  •  
  •  

[৯৮] যেহেতু অত্র হাদীসে স্পষ্ট প্রমাণ করছে যে, উটের গোশ্‌ত খেলে ওযূ নষ্ট হয়ে যাবে। সেহেতু কোন প্রকার মন্তব্য ছাড়াই এ নির্দেশ মেনে নিতে হবে। ওযূ অবস্থায় উটের গোশ্‌ত খেয়ে সলাত আদায়ের ইচ্ছা করলে অবশ্যই পুনরায় ওযূ করতে হবে। উটের আস্তাবলে সলাত আদায়ের নিষেধের কারণ হচ্ছে, উট দুষ্ট প্রকৃতির বিরাট পশু। সলাত আদায়কারীর ক্ষতিসাধন করতে পারে। পক্ষান্তরে বকরীর ঘরে সলাত আদায় করলে ক্ষতি সাধনের আশঙ্কা নেই। (নাবাবী)

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৮৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ سِمَاكٍ، ح وَحَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ، وَأَشْعَثَ بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ، كُلُّهُمْ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي ثَوْرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِ أَبِي كَامِلٍ عَنْ أَبِي عَوَانَةَ ‏.

আবূ বক্‌র ইবনু আবূ শায়বাহ্‌ ও কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) হতে আবূ কামিল-এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৮৮, ই.সে. ৭০৩)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৬. অধ্যায়ঃ

পবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত বিশ্বাস থাকার পর ওযূ ভঙ্গের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিলে সে ওযূ দিয়ে সলাত আদায় করা জায়িয হওয়ার দলীল

৬৯০

وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، قَالَ عَمْرٌو حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، وَعَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ، شُكِيَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الرَّجُلُ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهُ يَجِدُ الشَّىْءَ فِي الصَّلاَةِ قَالَ ‏ “‏ لاَ يَنْصَرِفُ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا ‏”‏ ‏.‏

قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ فِي رِوَايَتِهِمَا هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ ‏.

‘আব্বাদ ইবনু আত্‌ তামীম তার চাচা থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে সে ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলেন সলাতের মধ্যে যার এমন মনে হয় যেন কিছু (বায়ু) বের হল। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সে (সলাত ছেড়ে) যাবে না যতক্ষণ না (বায়ু বের হবার) শব্দ শুনবে অথবা (তার) গন্ধ পাবে।

আবূ বক্‌র ও যুহায়র ইবনু হার্‌ব তাদের বর্ণনায় উল্লেখ করেন যে, ঐ ব্যক্তি ছিলেন ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ। (ই.ফা. ৬৮৯, ই.সে. ৭০৪)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৯১

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ فِي بَطْنِهِ شَيْئًا فَأَشْكَلَ عَلَيْهِ أَخَرَجَ مِنْهُ شَىْءٌ أَمْ لاَ فَلاَ يَخْرُجَنَّ مِنَ الْمَسْجِدِ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا ‏”‏ ‏.

আবূ হুরাইয়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমাদের কেউ যখন তার পেটের মধ্যে কিছু অনুভব করে তারপর তার সন্দেহ দেখা দেয় যে, পেট থেকে কিছু বের হল কি না। তখন সে যেন মাসজিদ থেকে কখনও বের না হয় যতক্ষন না শব্দ শোনে অথবা গন্ধ পায়। (অর্থাৎ ওযূ ভঙ্গের পূর্ণ বিশ্বাস না হওয়া পর্যন্ত যেন বের না হয়।) (ই.ফা. ৬৯০, ই.সে. ৭০৫)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৭. অধ্যায়ঃ

মৃত জন্তুর চামড়া পাকা (দাবাগত) করার পর পবিত্র হয়ে যায়। [৯৯]

[৯৯] ইমাম নাববী (রহঃ) বলেনঃ যে সমস্ত বস্তুর দ্বারা ভিজা চামড়া শুকিয়ে যায় এবং তার দুর্গন্ধ দূর হয়ে যায়। অতঃপর আর চামড়া পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। এ জাতীয় জিনিসের দ্বারা চামড়া পাকা (দাবাগত) করা বৈধ আছে। যেমন- আনারের (ডালিমের) ছাল ফিটকিরী, লবণ ইত্যাদি। শুধুমাত্র রোদ্রে শুকালে চামড়া দাবাগত তথা পাকা হবে না। পাকা (দাবাগত দেয়া) চামড়া জীবিত পশুর হোক অথবা মৃত পশুরই হোক যে কোন কাজে ব্যবহার করা অথবা বিক্রি করা জায়িয আছে। (নাবাবী)

৬৯২

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَمْرٌو النَّاقِدُ وَابْنُ أَبِي عُمَرَ جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ تُصُدِّقَ عَلَى مَوْلاَةٍ لِمَيْمُونَةَ بِشَاةٍ فَمَاتَتْ فَمَرَّ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏”‏ هَلاَّ أَخَذْتُمْ إِهَابَهَا فَدَبَغْتُمُوهُ فَانْتَفَعْتُمْ بِهِ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالُوا إِنَّهَا مَيْتَةٌ ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ إِنَّمَا حَرُمَ أَكْلُهَا ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَابْنُ أَبِي عُمَرَ فِي حَدِيثِهِمَا عَنْ مَيْمُونَةَ رضى الله عنها ‏.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মাইমূনাহ্‌ (রাঃ)-এর দাসীকে কেউ একটি বকরী সদকাহ্‌ দিল। পরে সে বকরীটি মারা যায়। সে সময় রসূলুল্লাহ্‌(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মরে পড়ে থাকা বকরীটির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ অবস্থা দেখে তিনি বললেন, তোমরা কেন চামড়া খুলে নিয়ে তা পাকা করে তা দিয়ে উপকৃত হও না? সাহাবাগণ বললেন, এটা যে মৃত। তিনি বললেন, (তাতে কি) এটা খাওয়া হারাম (চামড়া ব্যবহার করা তো হারাম নয়)।

আবূ বাক্‌র ও ইবনু ‘উমার মাইমূনাহ্‌ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (অর্থাৎ রাবী মাইমূনাহ্‌ ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস নন) (ই.ফা. ৬৯১, ই.সে. ৭০৬)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৯৩

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَدَ شَاةً مَيْتَةً أُعْطِيَتْهَا مَوْلاَةٌ لِمَيْمُونَةَ مِنَ الصَّدَقَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ هَلاَّ انْتَفَعْتُمْ بِجِلْدِهَا ‏”‏ ‏.‏ قَالُوا إِنَّهَا مَيْتَةٌ ‏.‏ فَقَالَ ‏”‏ إِنَّمَا حَرُمَ أَكْلُهَا ‏”‏ ‏.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি মৃত বকরী দেখলেন যা মাইমূনাহ্‌ (রাঃ)-এর দাসীকে সদাকাহ্‌ হিসেবে দেয়া হয়েছিল। অতঃপর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা এর চামড়া দিয়ে উপকৃত হও না কেন? সাহাবাগণ বললেন, এটা তো মৃত। তিনি বললেন, এটা তো খাওয়া হারাম। (ই.ফা. ৬৯২, ই.সে. ৭০৭)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৯৪

حَدَّثَنَا حَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، جَمِيعًا عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ بِنَحْوِ رِوَايَةِ يُونُسَ ‏.

হাসান আল হুলওয়ানী ও ‘আব্‌দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

সানাদে ইউনুস-এর রিওয়াতের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছে। (ই.ফা. ৬৯৩, ই.সে. ৭০৮)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৯৫

وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، – وَاللَّفْظُ لاِبْنِ أَبِي عُمَرَ – قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِشَاةٍ مَطْرُوحَةٍ أُعْطِيَتْهَا مَوْلاَةٌ لِمَيْمُونَةَ مِنَ الصَّدَقَةِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ أَلاَّ أَخَذُوا إِهَابَهَا فَدَبَغُوهُ فَانْتَفَعُوا بِهِ ‏”‏ ‏.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফেলে দেয়া একটি মরা বকরীর সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন যা মাইমূনাহ্‌ (রাঃ)-এর দাসীকে সদকাহ হিসেবে দেয়া হয়েছিল। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তারা এর চামড়া কেন খুলে নিল না? চামড়াটি পাকা করে তা দিয়ে উপকৃত হত। (ই.ফা. ৬৯৪, ই.সে. ৭০৯)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৯৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ النَّوْفَلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، مُنْذُ حِينٍ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ، أَنَّ مَيْمُونَةَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ دَاجِنَةً كَانَتْ لِبَعْضِ نِسَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَاتَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ أَلاَّ أَخَذْتُمْ إِهَابَهَا فَاسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ ‏”‏ ‏.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

মাইমূনাহ্‌ (রাঃ) তাঁকে জানান যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন এক স্ত্রীর একটি পালিত বকরী ছিল। সেটি মারা গেল। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা কেন চামড়া খুলে নিচ্ছ না সেটা দিয়ে উপকৃত হতে! (ই.ফা. ৬৯৫, ই.সে. ৭১০)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৯৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِشَاةٍ لِمَوْلاَةٍ لِمَيْمُونَةَ فَقَالَ ‏ “‏ أَلاَّ انْتَفَعْتُمْ بِإِهَابِهَا ‏”‏ ‏.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাইমূনাহ্‌ (রাঃ)-এর দাসীর একটি মরা বকরীর সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বললেন, তোমরা এর চামড়া দিয়ে উপকৃত হও না কেন? (ই.ফা. ৬৯৬, ই.সে. ৭১১)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৯৮

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ وَعْلَةَ، أَخْبَرَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ إِذَا دُبِغَ الإِهَابُ فَقَدْ طَهُرَ ‏”‏ ‏.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, চামড়া যখন পাকা (দাবাগাত) করা হয় তখন তা পবিত্র হয়ে যায়। (ই.ফা. ৬৯৭, ই.সে. ৭১২)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৬৯৯

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، جَمِيعًا عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ سُفْيَانَ، كُلُّهُمْ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَعْلَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ يَعْنِي حَدِيثَ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى ‏.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু ইয়াহ্‌ইয়ার হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। (ই.ফা. ৬৯৮, ই.সে. ৭১৩)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭০০

حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا وَقَالَ ابْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ الرَّبِيعِ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، أَنَّ أَبَا الْخَيْرِ، حَدَّثَهُ قَالَ رَأَيْتُ عَلَى ابْنِ وَعْلَةَ السَّبَئِيِّ فَرْوًا فَمَسِسْتُهُ فَقَالَ مَا لَكَ تَمَسُّهُ قَدْ سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ قُلْتُ إِنَّا نَكُونُ بِالْمَغْرِبِ وَمَعَنَا الْبَرْبَرُ وَالْمَجُوسُ نُؤْتَى بِالْكَبْشِ قَدْ ذَبَحُوهُ وَنَحْنُ لاَ نَأْكُلُ ذَبَائِحَهُمْ وَيَأْتُونَا بِالسِّقَاءِ يَجْعَلُونَ فِيهِ الْوَدَكَ ‏.‏ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَدْ سَأَلْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ ‏ “‏ دِبَاغُهُ طَهُورُهُ ‏”‏ ‏.

আবূল খায়র (রহঃ) (মারসাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল ইয়াযানী) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, একদিন আমি ইবনু ওয়া’লাহ্‌ আস্‌ সাবায়ীর গায়ে একটা নরম পশমের তৈরী জামা দেখে তা স্পর্শ করে দেখলাম। তখন তিনি বললেন, কি ব্যাপার স্পর্শ করে দেখছো যে? (নাপাক মনে করেছো নাকি!) আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাসকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। বলেছিলাম, আমরা মাগরিবে (মরক্কো) বাস করি। আমাদের সাথে বার্বার এবং অগ্নিপূজকরাও বাস করে। তাদের যাবাহ করে মেষের পোশাক আমাদের কাছে আসে। অথচ আমরা তাদের যাবাহ করা পশুর গোশ্‌ত খাই না। তারা আমাদের জন্য চর্বি ভর্তি মশকও নিয়ে আসে। এ কথা শুনে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস বললেন, আমরা এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ্‌ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, চামড়া পাকা করলে পবিত্র হয়ে যায়। (ই.ফা. ৬৯৯, ই.সে. ৭১৪)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭০১

وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ عَمْرِو بْنِ الرَّبِيعِ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، حَدَّثَهُ قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ وَعْلَةَ السَّبَئِيُّ، قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ قُلْتُ إِنَّا نَكُونُ بِالْمَغْرِبِ فَيَأْتِينَا الْمَجُوسُ بِالأَسْقِيَةِ فِيهَا الْمَاءُ وَالْوَدَكُ فَقَالَ اشْرَبْ ‏.‏ فَقُلْتُ أَرَأْىٌ تَرَاهُ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ دِبَاغُهُ طَهُورُهُ ‏”‏ ‏.

ইবনু ওয়া’লাহ্‌ আস্‌ সাবায়ী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, আমরা পশ্চিম দেশে থাকি। সেখানে আমাদের কাছে অগ্নিপূজকরা মশক নিয়ে আসে, সেটাতে পানি এবং চর্বি জাতীয় পদার্থ থাকে (আমরা সেগুলো ব্যবহার করব কি?)। তিনি বললেন, তা পান করে নাও। আমি বললাম, এটা কি আপনার নিজের অভিমত? ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, চামড়া পাকা (দাবাগাত) করলেই তা পবিত্র হয়ে যায়। (ই.ফা. ৭০০, ই.সে. ৭১৫)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৮. অধ্যায়ঃ

তায়াম্মুম-এর বিবরণ [১০০]

[১০০] ‘তায়াম্মুম’ শব্দের অর্থ সংকল্প করা, ইচ্ছা করা। শরী’আতের দৃষ্টিতে পবিত্রতা অর্জনের সংকল্পে পবিত্র মাটিতে হাত মেরে মুখমন্ডল এবং কব্জির উপরিভাগ মাসাহ করাই ‘তায়াম্মুম’। তবে তায়াম্মুমের নিয়্যাত করবে এবং ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে।

৭০২

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ – أَوْ بِذَاتِ الْجَيْشِ – انْقَطَعَ عِقْدٌ لِي فَأَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْتِمَاسِهِ وَأَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ فَأَتَى النَّاسُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَقَالُوا أَلاَ تَرَى إِلَى مَا صَنَعَتْ عَائِشَةُ أَقَامَتْ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبِالنَّاسِ مَعَهُ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ ‏.‏ فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاضِعٌ رَأْسَهُ عَلَى فَخِذِي قَدْ نَامَ فَقَالَ حَبَسْتِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسَ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ ‏.‏ قَالَتْ فَعَاتَبَنِي أَبُو بَكْرٍ وَقَالَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ وَجَعَلَ يَطْعُنُ بِيَدِهِ فِي خَاصِرَتِي فَلاَ يَمْنَعُنِي مِنَ التَّحَرُّكِ إِلاَّ مَكَانُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى فَخِذِي فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَصْبَحَ عَلَى غَيْرِ مَاءٍ فَأَنْزَلَ اللَّهُ آيَةَ التَّيَمُّمِ فَتَيَمَّمُوا ‏.‏ فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ الْحُضَيْرِ – وَهُوَ أَحَدُ النُّقَبَاءِ – مَا هِيَ بِأَوَّلِ بَرَكَتِكُمْ يَا آلَ أَبِي بَكْرٍ ‏.‏ فَقَالَتْ عَائِشَةُ فَبَعَثْنَا الْبَعِيرَ الَّذِي كُنْتُ عَلَيْهِ فَوَجَدْنَا الْعِقْدَ تَحْتَهُ ‏.

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন এক সফরে আমরা তাঁর সাথে বের হলাম। আমরা যখন বাইদা অথবা যাতুল জায়শ নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন আমার হার খুলে পড়ে গেল। রসূলুল্লাহ্‌(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা খোঁজ করতে সেখানে থামলেন। আর লোকজনও তাঁর সাথে সাথে থামালেন। তাদের কাছাকাছি কোথাও পানি ছিল না এবং তাদের নিজেদের কাছেও পানি ছিল না। অতঃপর লোকজন আবূ বক্‌র(রাঃ)-এর কাছে এসে বলতে লাগল, আপনি দেখছেন না আয়িশাহ্‌ (রাঃ) কি করলো? রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আটকে দিয়েছে এবং সে সাথে সমস্ত লোককে আটকে রেখেছে। অথচ তাদের কাছাকাছি কোথাও পানি নেই আর না তাদের নিজেদের কাছে পানি আছে। অতঃপর আবূ বক্‌র(রাঃ) আমার কাছে এলেন। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার উরুর উপর মাথা রেখে ঘুমিয়েছিলেন। তিনি এসে বললেন, তুমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং সমস্ত লোকজনকে আটকে রেখেছ। অথচ না তারা পানির কাছাকাছি রয়েছে, আর না তদের নিজেদের কাছে পানি আছে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) আমাকে ভৎসনা করলেন এবং যতদূর বলার বললেন। তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার পাঁজরে আঘাত করলেন। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার উরুর উপর থাকার কারণে আমি নড়তেও পারলাম না। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমিয়েই রইলেন। এমনি করে পানি বিহীনভাবে সকাল হয়। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করলেন। অতঃপর তারা তায়াম্মুম করলেন। তখন উসায়দ ইবনু হুযায়র যিনি ছিলেন নকীব (দলপতি)-দের অন্যতম বললেন, হে আবূ বাক্‌র পরিবার। এটাই আপনার প্রথম বারাকাত নয়।” ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি যে উটের ওপর ছিলাম সেটিকে চলার জন্যে উঠালাম। তখন উক্ত হারটি তার নীচে পাওয়া গেল। (ই.ফা. ৭০১, ই.সে. ৭১৬)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭০৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، وَابْنُ، بِشْرٍ عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا اسْتَعَارَتْ مِنْ أَسْمَاءَ قِلاَدَةً فَهَلَكَتْ فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَاسًا مِنْ أَصْحَابِهِ فِي طَلَبِهَا فَأَدْرَكَتْهُمُ الصَّلاَةُ فَصَلَّوْا بِغَيْرِ وُضُوءٍ فَلَمَّا أَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم شَكَوْا ذَلِكَ إِلَيْهِ فَنَزَلَتْ آيَةُ التَّيَمُّمِ ‏.‏ فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ جَزَاكِ اللَّهُ خَيْرًا فَوَاللَّهِ مَا نَزَلَ بِكِ أَمْرٌ قَطُّ إِلاَّ جَعَلَ اللَّهُ لَكِ مِنْهُ مَخْرَجًا وَجَعَلَ لِلْمُسْلِمِينَ فِيهِ بَرَكَةً ‏.

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি আসমা (রাঃ) থেকে একটি হার ধার নিয়েছিলেন। অতঃপর তা হারিয়ে গেল। তখন রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবাদের মধ্যে কিছু লোককে খুঁজতে পাঠালেন। (পথে) তাদের সলাতের সময় হয়ে গেল। তখন তারা ওযূ ছাড়াই সলাত আদায় করলেন। এরপর তারা রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে এ ঘটনা জানালেন। তখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হল। এ সময় উসায়দ ইবনু হুযায়র বললেন, আল্লাহ তা’আলা আপনাকে (আয়িশাহ্‌) উত্তম বদলা দান করুন। আল্লাহর কসম! আপনার ওপর যখনই কোন সমস্যা এসেছে তখন আল্লাহ তা’আলা আপনার জন্যে এর সমাধানের পথ করে দিয়েছেন এবং মুসলিমদের জন্য তাতে বারাকাত রেখেছেন। [১০১] (ই.ফা. ৭০২, ই.সে. ৭১৭)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০১] কুরআন মাজীদ ও সহীহ হাদীসের দ্বারা ওযূ ও গোসলের বিকল্প হিসেবে তায়াম্মুম সাব্যস্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রয়োজনের সময় পানি না পাওয়া গেলে অথবা অসুস্থতা বা অন্য কোন অপ্রতিরোধ্য কারণে পানি ব্যবহার অসমর্থ হয়ে পড়লে পবিত্রতা অর্জনের জন্য তায়াম্মুম জায়িয। এ অধ্যায়ের ১১০ ও ১১১ নং হাদীসের দ্বারা তায়াম্মুমের পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে যে, “পবিত্র মাটিতে একবার হাত মেরে তা একবার ঝেড়ে ফেলে মুখমন্ডল এবং উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত মাসাহ করতে হবে। মাটিতে দু’বার হাত মারা বা হাতের কনুই পর্যন্ত মাসাহ করার কোন দলীল নেই। (নাবাবী)

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭০৪

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَابْنُ نُمَيْرٍ جَمِيعًا عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ وَأَبِي مُوسَى فَقَالَ أَبُو مُوسَى يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ رَجُلاً أَجْنَبَ فَلَمْ يَجِدِ الْمَاءَ شَهْرًا كَيْفَ يَصْنَعُ بِالصَّلاَةِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ لاَ يَتَيَمَّمُ وَإِنْ لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ شَهْرًا ‏.‏ فَقَالَ أَبُو مُوسَى فَكَيْفَ بِهَذِهِ الآيَةِ فِي سُورَةِ الْمَائِدَةِ ‏{‏ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا‏}‏ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ لَوْ رُخِّصَ لَهُمْ فِي هَذِهِ الآيَةِ – لأَوْشَكَ إِذَا بَرَدَ عَلَيْهِمُ الْمَاءُ أَنْ يَتَيَمَّمُوا بِالصَّعِيدِ ‏.‏ فَقَالَ أَبُو مُوسَى لِعَبْدِ اللَّهِ أَلَمْ تَسْمَعْ قَوْلَ عَمَّارٍ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَاجَةٍ فَأَجْنَبْتُ فَلَمْ أَجِدِ الْمَاءَ فَتَمَرَّغْتُ فِي الصَّعِيدِ كَمَا تَمَرَّغُ الدَّابَّةُ ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ ‏”‏ إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ أَنْ تَقُولَ بِيَدَيْكَ هَكَذَا ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ ضَرَبَ بِيَدَيْهِ الأَرْضَ ضَرْبَةً وَاحِدَةً ثُمَّ مَسَحَ الشِّمَالَ عَلَى الْيَمِينِ وَظَاهِرَ كَفَّيْهِ وَوَجْهَهُ ‏.‏ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ أَوَلَمْ تَرَ عُمَرَ لَمْ يَقْنَعْ بِقَوْلِ عَمَّارٍ

শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি একবার ‘আবদুল্লাহ (ইবনু মাস’ঊদ) ও আবূ মূসা (রাঃ)-এর কাছে বসেছিলাম। তখন আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, হে আবূ ‘আবদুর রহমান! কোন্‌ লোক যদি জুনুবী হয় (যার ফলে তার গোসল ফরয হয়) এবং সে এক মাস যাবৎ পানি না পায় তাহলে সে কিভাবে সলাত আদায় করবে? ‘আবদুল্লাহ বললেন, সে তায়ম্মুম করবে না যদিও একমাস পানি না পায়। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, তাহলে সূরাহ্‌ মায়িদাহ্‌ এর এ আয়াত-……… “যদি তোমরা পানি না পাও তাহলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম কর”- (সূরাহ আল মায়িদাহ্‌ ৫ : ৬) এর কি হবে? ‘আবদুল্লাহ বললেন, এ আয়াতের দ্বারা তাদেরকে যদি তায়াম্মুমের অনুমতি দেয়া হয় তাহলে (ধীরে ধীরে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছবে যে) পানি ঠান্ডাবোধ হলে তারা মাটি দিয়ে তায়াম্মুম শুরু করবে। আবূ মূসা (রাঃ) তখন ‘আবদুল্লাহ-কে বললেন, আপনি কি ‘আম্মার-এর বর্ণনা শোনেননি (তিনি বলেন) যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে কোন এক প্রয়োজনে পাঠালেন। (পথিমধ্যে) আমি অপবিত্র হয়ে গেলাম এবং পানি পেলাম না। তখন আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম চতুস্পদ জন্তু যেভাবে মাটিতে গড়াগড়ি দেয়। তারপর আমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে এ ঘটনা বললাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার জন্যে দু’হাত দিয়ে এরূপ করাই যথেষ্ট ছিল-এ বলে তিনি তাঁর দু’হাত একবার মাটিতে মারলেন। তারপর বামহাত দিয়ে ডানহাত মাসাহ করলেন এবং উভয় হাতের কব্জির উপরিভাগ ও মুখমন্ডল মাসাহ করলেন। ‘আবদুল্লাহ বললেন, তুমি কি দেখোনি যে, ‘উমার (রাঃ) ‘আম্মার (রাঃ)-এর কথা যথেষ্ট মনে করেননি? (ই.ফা. ৭০৩, ই.সে. ৭১৮)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭০৫

وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، قَالَ قَالَ أَبُو مُوسَى لِعَبْدِ اللَّهِ وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِقِصَّتِهِ نَحْوَ حَدِيثِ أَبِي مُعَاوِيَةَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ أَنْ تَقُولَ هَكَذَا ‏”‏ ‏.‏ وَضَرَبَ بِيَدَيْهِ إِلَى الأَرْضِ فَنَفَضَ يَدَيْهِ فَمَسَحَ وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ ‏.

শাকীক (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আবূ মূসা ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বললেন, এরপর আবূ মু’আবিয়ার হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার জন্যে এরূপ করাই যথেষ্ট ছিল-এ বলে তিনি তাঁর উভয় হাত মাটিতে মারলেন। অতঃপর ঝেড়ে মুখমন্ডল এবং উভয় কব্জি মাসাহ করলেন। (ই.ফা. ৭০৪, ই.সে. ৭১৯)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭০৬

حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ هَاشِمٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، – يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ الْقَطَّانَ – عَنْ شُعْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي الْحَكَمُ، عَنْ ذَرٍّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى عُمَرَ فَقَالَ إِنِّي أَجْنَبْتُ فَلَمْ أَجِدْ مَاءً ‏.‏ فَقَالَ لاَ تُصَلِّ ‏.‏ فَقَالَ عَمَّارٌ أَمَا تَذْكُرُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ أَنَا وَأَنْتَ فِي سَرِيَّةٍ فَأَجْنَبْنَا فَلَمْ نَجِدْ مَاءً فَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ وَأَمَّا أَنَا فَتَمَعَّكْتُ فِي التُّرَابِ وَصَلَّيْتُ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ أَنْ تَضْرِبَ بِيَدَيْكَ الأَرْضَ ثُمَّ تَنْفُخَ ثُمَّ تَمْسَحَ بِهِمَا وَجْهَكَ وَكَفَّيْكَ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ اتَّقِ اللَّهَ يَا عَمَّارُ ‏.‏ قَالَ إِنْ شِئْتَ لَمْ أُحَدِّثْ بِهِ ‏.‏ قَالَ الْحَكَمُ وَحَدَّثَنِيهِ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى عَنْ أَبِيهِ مِثْلَ حَدِيثِ ذَرٍّ قَالَ وَحَدَّثَنِي سَلَمَةُ عَنْ ذَرٍّ فِي هَذَا الإِسْنَادِ الَّذِي ذَكَرَ الْحَكَمُ فَقَالَ عُمَرُ نُوَلِّيكَ مَا تَوَلَّيْتَ ‏.

‘আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক লোক ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে এসে বলল, আমি অপবিত্র হয়েছি কিন্তু পানি পাইনি (তখন কি করব?)। তিনি বললেন, তুমি সলাত আদায় করো না। তখন ‘আম্মার (রাঃ) বললেন, আমীরুল মু’মিনীন! আপনার কি স্মরণ নেই যে, আমি ও আপনি কোন এক অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলাম। অতঃপর আমরা উভয়েই অপবিত্র হয়ে পড়লাম। আর কোথাও পানি পেলাম না তখন আপনি সলাত আদায় করলেন না কিন্তু আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম এবং সলাত আদায় করলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ ঘটনা জানালে তিনি বললেন, তোমার জন্যে এটাই যথেষ্ট ছিল যে, তুমি দু’হাত জমিনে মারতে তারপর ফুঁক দিয়ে আলগা ধুলা ফেলে দিতে তারপর উভয় হাতের কব্জি দ্বারা মাসাহ করতে তোমার দু’হাতে ও চেহারা”। ‘উমার (রাঃ) বললেন, “আম্মার! আল্লাহকে ভয় কর”। তিনি [‘আম্মার (রাঃ)] বললেন, “আপনি চাইলে আমি এটা আর বর্ণনা করব না”।

হাকাম বলেন, ‘আবদুর রহমান ইবনু আবযার পুত্র তার পিতা ‘আবদুর রহমান থেকে আমার কাছে যার্‌-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন, অতঃপর ‘উমার (রাঃ) বললেন, তোমার বর্ণনায় দায়-দায়িত্ব তোমার উপর। (ই.ফা. ৭০৫, ই.সে.৭২০)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭০৭

وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، قَالَ سَمِعْتُ ذَرًّا، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، قَالَ قَالَ الْحَكَمُ وَقَدْ سَمِعْتُهُ مِنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى عُمَرَ فَقَالَ إِنِّي أَجْنَبْتُ فَلَمْ أَجِدْ مَاءً ‏.‏ وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَزَادَ فِيهِ قَالَ عَمَّارٌ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنْ شِئْتَ لِمَا جَعَلَ اللَّهُ عَلَىَّ مِنْ حَقِّكَ لاَ أُحَدِّثُ بِهِ أَحَدًا وَلَمْ يَذْكُرْ حَدَّثَنِي سَلَمَةُ عَنْ ذَرٍّ ‏.

‘আবদুর রহমান ইবনু আবযা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক লোক ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে এসে বলল, আমি অপবিত্র হয়েছি এবং পানি পাইনি (তখন ক করব?)-(এরপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাতে অতিরিক্ত আছে যে, ‘আম্মার (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন আল্লাহ তা’আলার আমার ওপর আপনার যে হক রেখেছেন (অর্থাৎ আপনাকে খলীফা বানিয়েছেন) তার প্রতি লক্ষ্য রেখে বলছিঃ আপনি চাইলে আমি আর কারও কাছে এটা বর্ণনা করব না এবং সালামাহ্‌ আমার কাছে যার্‌ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন কথাটি উল্লেখ করেনি। (ই.ফা. ৭০৬, ই.সে. ৭২১)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭০৮

قَالَ مُسْلِمٌ وَرَوَى اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ، عَنْ عُمَيْرٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ أَقْبَلْتُ أَنَا وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَسَارٍ، مَوْلَى مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى أَبِي الْجَهْمِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ الصِّمَّةِ الأَنْصَارِيِّ فَقَالَ أَبُو الْجَهْمِ أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ نَحْوِ بِئْرِ جَمَلٍ فَلَقِيَهُ رَجُلٌ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِ حَتَّى أَقْبَلَ عَلَى الْجِدَارِ فَمَسَحَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ ثُمَّ رَدَّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ ‏.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর মুক্তকৃত দাস ‘উমায়র থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, আমি এবং উম্মুল মু’মিনীন মাইমূনাহ্‌ (রাঃ)-এর মুক্তকৃত দাস ‘আবদুর রহমান ইবনু ইয়াসার একবার আবূল জাহ্‌ম ইবনুল হারিস ইবনুস্‌ সিম্মা আল-আনাসারীর কাছে গেলাম। তখন আবূল জাহম (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার বি’রি জামাল (মাদীনার নিকটবর্তী একটি স্থান)-এর দিক থেকে আসছিলেন, অতঃপর পথিমধ্যে এক ব্যক্তি তার সাথে সাক্ষাত করে সালাম দিল কিন্তু তিনি তার উত্তর দিলেন না বরং একটি দেয়ালের কাছে গিয়ে তাঁর মুখমন্ডল এবং উভয় হাত মাসাহ করলেন। তারপর তার সালামের জবাব দিলেন। (ই.ফা. ৭০৬, ই.সে. ৭২১)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭০৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، مَرَّ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَبُولُ فَسَلَّمَ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ ‏.

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি পথ দিয়ে যাচ্ছিল। আর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন প্রস্রাব করছিলেন। সে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাম করল। কিন্তু তিনি তার জবাব দিলান না। (ই.ফা. ৭০৭, ই.সে. ৭২২)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

২৯. অধ্যায়ঃ

মুসলিম অপবিত্র (নাপাক) হয় না

৭১০

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، – يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ – قَالَ حُمَيْدٌ حَدَّثَنَا ح، وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، – وَاللَّفْظُ لَهُ – حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ لَقِيَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي طَرِيقٍ مِنْ طُرُقِ الْمَدِينَةِ وَهُوَ جُنُبٌ فَانْسَلَّ فَذَهَبَ فَاغْتَسَلَ فَتَفَقَّدَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا جَاءَهُ قَالَ ‏”‏ أَيْنَ كُنْتَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقِيتَنِي وَأَنَا جُنُبٌ فَكَرِهْتُ أَنْ أُجَالِسَكَ حَتَّى أَغْتَسِلَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ سُبْحَانَ اللَّهِ إِنَّ الْمُؤْمِنَ لاَ يَنْجُسُ ‏”‏ ‏.

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি একবার মাদীনার কোন এক রাস্তায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি (আবূ হুরায়রা) তখন (জানাবাত) অপবিত্র অবস্থায় ছিলেন। এ কারণে তিনি আস্তে করে পাশ দিয়ে চলে গেলেন এবং গোসল করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে খোঁজ করলেন। যখন তিনি আসলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “হে আবূ হুরায়রা! তুমি কোথায় ছিলে? তিনি বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনার সঙ্গে যখন আমার সাক্ষাৎ হয় তখন আমি অপবিত্রাবস্থায় ছিলাম। তাই আমি গোসল না করে আপনার মাজলিসে বসা ভাল মনে করিনি। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সুবহানাল্লাহ! মু’মিন তো অপবিত্র হয় না। [১০২] (ই.ফা. ৭০৮, ই.সে. ৭২৩)

  •  
  •  
  •  
  •  

[১০২] এ হাদীসের দ্বারা বুঝা গেল যে, জানাবাত বা অন্য কোন কারণে অপবিত্র অবস্থায় তাসবীহ-তাহলীল ও তাকবীর তথা সকল প্রকার যিক্‌র করা জায়িয আছে। তবে কুরআনুল মাজীদের একটি আয়াতও তিলাওয়াত করা এবং সলাত আদায় করা জায়িয নয়।

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭১১

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ وَاصِلٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقِيَهُ وَهُوَ جُنُبٌ فَحَادَ عَنْهُ فَاغْتَسَلَ ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ كُنْتُ جُنُبًا ‏.‏ قَالَ ‏ “‏ إِنَّ الْمُسْلِمَ لاَ يَنْجُسُ ‏”‏ ‏.

হুযাইফাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

একদিন অপবিত্র থাকা অবস্থায় রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তার সাক্ষাৎ হয়, ফলে তিনি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন এবং গোসল করে পরে এলেন এবং বললেন, আমি জানাবাত (গোসল ফারয হওয়ার কারণে নাপাক) অবস্থায় ছিলাম। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, মুসলিম তো নাপাক হয় না। (ই.ফা. ৭০৯, ই.সে. ৭২৪)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩০. অধ্যায়ঃ

জুনুবী বা অন্য কারণে অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহ তা’আলার যিক্‌র করা

৭১২

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنِ الْبَهِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ اللَّهَ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ ‏

‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বাবস্থায়ই আল্লাহর যিক্‌র করতেন। (ই.ফা. ৭১০, ই.সে. ৭২৫)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩১. অধ্যায়ঃ

বিনা ওযূতে খাবার খাওয়া জায়িয, এরূপ করা মাকরূহ নয়; আর ওযূ নষ্ট হলে তৎক্ষণাৎ ওযূ করাও অপরিহার্য নয়।

৭১৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، وَأَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، وَقَالَ أَبُو الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنَ الْخَلاَءِ فَأُتِيَ بِطَعَامٍ فَذَكَرُوا لَهُ الْوُضُوءَ فَقَالَ ‏ “‏ أُرِيدُ أَنْ أُصَلِّيَ فَأَتَوَضَّأَ ‏”‏ ‏.

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পায়খানা থেকে বের হলেন। ইতিমধ্যেই খাবার আনা হল। লোকজন তাঁকে ওযূর কথা আলোচনা করল। তিনি বললেন, আমি কি সলাত আদায়ের ইচ্ছা করছি যে, ওযূ করব? (ই.ফা. ৭১১, ই.সে. ৭২৬)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭১৪

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ مِنَ الْغَائِطِ وَأُتِيَ بِطَعَامٍ فَقِيلَ لَهُ أَلاَ تَوَضَّأُ فَقَالَ ‏ “‏ لِمَ أَأُصَلِّي فَأَتَوَضَّأَ ‏”‏ ‏.‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ছিলাম। তিনি পায়খানা থেকে এলেন। খাবার আনা হল। তাকে বলা হল, আপনি কি ওযূ করবেন না? তিনি বললেন, কেন? আমি কি সলাত আদায় করছি যে, ওযূ করব? (ই.ফা. ৭১২, ই.সে. ৭২৭)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭১৫

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ الطَّائِفِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، مَوْلَى آلِ السَّائِبِ أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ ذَهَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْغَائِطِ فَلَمَّا جَاءَ قُدِّمَ لَهُ طَعَامٌ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ تَوَضَّأُ ‏.‏ قَالَ ‏ “‏ لِمَ أَلِلصَّلاَةِ ‏”‏ ‏.

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার পায়খানায় গেলেন। পরে তিনি যখন (পায়খানা সেরে ফিরে) এলেন তখন তাঁর সামনে খাবার দেয়া হল। অতঃপর তাঁকে বলা হল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি ওযূ করবেন না? তিনি বললেন, কেন? সলাতের জন্য? (ই.ফা. ৭১৩, ই.সে. ৭২৮)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭১৬

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَبَلَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ حُوَيْرِثٍ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَضَى حَاجَتَهُ مِنَ الْخَلاَءِ فَقُرِّبَ إِلَيْهِ طَعَامٌ فَأَكَلَ وَلَمْ يَمَسَّ مَاءً ‏.‏ قَالَ وَزَادَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قِيلَ لَهُ إِنَّكَ لَمْ تَوَضَّأْ قَالَ ‏ “‏ مَا أَرَدْتُ صَلاَةً فَأَتَوَضَّأَ ‏”‏ ‏.‏ وَزَعَمَ عَمْرٌو أَنَّهُ سَمِعَ مِنْ سَعِيدِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ ‏.

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পায়খানা থেকে তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করে আসলে তাঁর সামনে খাবার এনে দেয়া হল। তিনি তা খেলেন, কিন্তু পায়খানা থেকে বের হয়ে পানি স্পর্শও করেননি (অর্থাৎ ওযূ করলেন না)। মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম বললেন, ‘আম্‌র ইবনু দীনার সা’ঈদ ইবনু হুওয়াইরিসের মাধ্যমে আমার কাছে এতটুকু বর্ণনা করেছেন যে, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলা হল, আপনি তো ওযূ করলেন না? জবাবে তিনি বলেছেনঃ আমি তো এখন সলাত আদায় করি না যে ওযূ করতে হবে? ‘আম্‌র ইবনু দীনার বলেছেন যে, তিনি হাদীসটি সা’ঈদ ইবনু হুওয়াইরিস-এর নিকট থেকে নিজে শুনেছেন। (ই.ফা. ৭১৪, ই.সে. ৭২৯)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩২. অধ্যায়ঃ

শৌচাগারে প্রবেশ করলে কি বলতে হবে

৭১৭

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، وَقَالَ، يَحْيَى أَيْضًا أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، كِلاَهُمَا عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ، – فِي حَدِيثِ حَمَّادٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْخَلاَءَ وَفِي حَدِيثِ هُشَيْمٍ – أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا دَخَلَ الْكَنِيفَ قَالَ ‏ “‏ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ ‏”‏ ‏.

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুলাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শৌচাগারে প্রবেশ করার সময় বলতেন, “আল্ল-হুম্মা আ’ঊযুবিকা মিনাল খুব্‌সি ওয়াল খবা-য়িস” অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুষ্ট পুরুষ ও জিন্‌ ও নারী জিন থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।”(ই.ফা. ৭১৫, ই.সে. ৭৩০)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭১৮

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، – وَهُوَ ابْنُ عُلَيَّةَ – عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ ‏ “‏ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ ‏”‏ ‏.

‘আবূল ‘আযীয (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

অবিকল বর্ণিত রয়েছে। এ বর্ণনায় “আ’ঊযু বিল্লা-হি মিনাল খুব্‌সি ওয়াল খবা-য়িস” এর উল্লেখ আছে। (ই.ফা. ৭১৬, ই.সে. ৭৩১)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৩৩. অধ্যায়ঃ

বসে ঘুমালে ওযূ নষ্ট হয় না।

৭১৯

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، ح وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، كِلاَهُمَا عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَجِيٌّ لِرَجُلٍ – وَفِي حَدِيثِ عَبْدِ الْوَارِثِ وَنَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُنَاجِي الرَّجُلَ – فَمَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ حَتَّى نَامَ الْقَوْمُ ‏.

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, একদা সলাতের ইকামাত দেয়া হয়ে গেল। কিন্তু রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখনও এক লোকের সঙ্গে চুপে চুপে আলাপ করছিলেন। লোকেরা বসে বসে ঘুমিয়ে না পড়া পর্যন্ত তিনি সলাতে এসে দাঁড়াননি। সলাতে দাঁড়াতে দাঁড়াতে তাঁর দেরি হওয়ায় লোকেরা (বসে বসে) ঘুমিয়ে পড়েছিল। (ই.ফা. ৭১৭, ই.সে. ৭৩২)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭২০

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُنَاجِي رَجُلاً فَلَمْ يَزَلْ يُنَاجِيهِ حَتَّى نَامَ أَصْحَابُهُ ثُمَّ جَاءَ فَصَلَّى بِهِمْ ‏.

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, একদিন সলাতের জন্য ইকামাত দেয়া হয়ে গেল। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখনও এক ব্যক্তির চুপে চুপে আলাপ করছিলেন। তিনি দীর্ঘক্ষণ আলাপ করলেন। এমনকি সহাবারা সবাই ঘুমিয়ে পড়লেন। এরপর তিনি আসলেন এবং তাদের সাথে করে সলাত আদায় করলেন (ই.ফা. ৭১৮, ই.সে. ৭৩৩)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭২১

وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، – وَهُوَ ابْنُ الْحَارِثِ – حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ كَانَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنَامُونَ ثُمَّ يُصَلُّونَ وَلاَ يَتَوَضَّئُونَ قَالَ قُلْتُ سَمِعْتَهُ مِنْ أَنَسٍ قَالَ إِي وَاللَّهِ ‏.

কাতাদাহ্‌ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আনাস (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহাবাগণ ঘুমিয়ে যেতেন তারপর সলাত আদায় করতেন কিন্তু ওযূ করতেন না। বর্ণনাকারী শু’বাহ্‌ (রাঃ) বলেন, আমি কাতাদাহ্‌কে বললাম “আপনি কি নিজে আনাস (রাঃ)-এর কাছ থেকে শুনেছেন”? তিনি বললেন, “হ্যাঁ, আল্লাহর কসম!” (ই.ফা. ৭১৯, ই.সে. ৭৩৪)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

  •  সরাসরি

৭২২

حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ صَخْرٍ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّهُ قَالَ أُقِيمَتْ صَلاَةُ الْعِشَاءِ فَقَالَ رَجُلٌ لِي حَاجَةٌ ‏.‏ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُنَاجِيهِ حَتَّى نَامَ الْقَوْمُ – أَوْ بَعْضُ الْقَوْمِ – ثُمَّ صَلَّوْا ‏.

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, (একদা) ‘ইশার জামা’আত দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। তখন এক লোক বলল, আমার কিছু প্রয়োজন আছে। পরে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে তাঁর সাথে আলাপ করতে লাগলেন। তিনি এতক্ষণ ধরে আলাপ করলেন যে, উপস্থিত সকলেই অথবা কিছু লোক ঘুমিয়ে পড়ল (বসে বসে)। তারপর তারা সলাত আদায় করল। (ই.ফা. ৭২০, ই.সে. ৭৩৫)

  •  
  •  
  •  
  •  

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

 

মন্তব্য করুন

Top
Don`t copy text!